পটুয়াখালীতে ইজিবাইকে ওড়না পেঁচিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ইজিবাইকে ওড়না পেঁচিয়ে এইচএসসি এক পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে পটুয়াখালী জেলা শহরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাইভেট পড়ে যাওয়ার সময় শহরের টাউন কালিকাপুর মডেল মসজিদ মোড়ে ইজিবাইকে গলা ওড়না পেঁচিয়ে অধরা ইসলাম মোহনা নামে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। মোহনা শহরের শিমুল বাগ এলাকার রাসেল মুন্সর মেয়ে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর আবাসিক হোটেলে মিলল সাবেক বন কর্মকর্তার মরদেহ

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওই এলাকায় ইজিবাইকের মোটরের সঙ্গে মোহনার গলায় থানা ওড়নায় ফাঁস লাগে। তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামিমা নাসরিন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মেয়েটির মৃত্যু হয়।

পটুয়াথালী সদর থানার উপ-পরিদর্শক মো. হিরন জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে সুরাতহাল রিপোর্ট করেছেন। এতে গলায় দাগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




পটুয়াখালীর আবাসিক হোটেলে মিলল সাবেক বন কর্মকর্তার মরদেহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী আলীপুর ভাই-ভাই (আবাসিক) হোটেলের ১১নং কক্ষ থেকে সফিকুর রহমান (৬৬) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১২ জুন) সকাল ১১টায় মহিপুর থানা পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করে তুলাতলী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হোটেলের রেজিস্টার ও জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী দেখা যায়, নিহত মো. সফিকুর রহমান বান্দরবান সদরে কলেজ রোড ফরেস্ট কলোনির মতিউর রহমানের ছেলে।

আরো পড়ুন : বিয়ের দাওয়াত না দেওয়ায় প্রতিবেশীর হামলা – গৃহবধূ নিহত

হোটেল পরিচালক রাসেল মুসুল্লি বলেন, ২০২৩ (০১ ডিসেম্বর) সালে ব্যবসায়ীক কাজের একা থাকার জন্য আমার হোটেলের কক্ষটি ভাড়া নেন। কিছু দিন আগে অসুস্থতার কথা শুনেছি। পরে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক ছিলো সবকিছু। গত কাল থেকে রুম বন্ধ দেখি এবং তার কোন আলাপচারি পাইনি। সকালে জানালা দিয়ে দেখা যায় খাটের পাসে পরে আছে। দ্রুত মহিপুর থানা পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে রুমের দরজা ভেঙে বের করা করেন।

মইপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, হোটেল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে রুমের দরজা ভেঙে লোকটি উদ্ধার করে তুলাতলী ২০ শয্যা হাসপালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে। আমাদের ইনভেস্টিগেশনের পরে বোঝা যাবে এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যা।




ফের এশিয়ার শীর্ষ ধনী হলেন গৌতম আদানি




পটুয়াখালীতে নৌ বাহিনীকে যুগপযোগী ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে – নৌ বাহিনী প্রধান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:: নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের উত্তরোত্তর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যুগের সাথে তাল মিলিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নৌ বাহিনীকে যুগপযোগী ভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমুদ্র ভিত্তিক অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। বন্ধু-প্রতিম সকল রাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে বঙ্গোপসাগরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

১লা জুন শনিবার পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের ৪৩৮ জন নবীন নাবিকের বুটক্যাম্প প্রশিক্ষণ শেষে বর্ণাঢ্য শিক্ষা সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে চৌকশ ও প্রশিক্ষিত নাবিকের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি আরো বলেন, নৌবাহিনীর উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তুলবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও অগ্রগতির পথে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আজকের নবীন নাবিকেরা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষা করবেন।

আরো পড়ুন : বাউফলে সড়কের অভাবে ৬ সেতু অকেজো

কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ শেষে তিনি কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নৌবাহিনীর বি/২০২৪ ব্যাচের নবীন নাবিকদের মধ্যে মোঃ তাহাজ্জত হোসেন তপু পেশাগত ও সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ নাবিক হিসেবে ‘নৌপ্রধান পদক’ লাভ করেন। মোঃ ফারদিল হোসেন দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ‘কমখুল পদক’ এবং আশিফুর রহমান আসিফ তৃতীয় স্থান অধিকার করে ‘শের-ই-বাংলা পদক’ লাভ করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে সহকারী নৌ প্রধান (পার্সোনেল), খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার, বরিশাল জেলার জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার এবং পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।




সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে পড়ছে পটুয়াখালীর নদীগুলো

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী জেলা পটুয়াখালীর ওপর দিয়ে বয়ে গেছে অনেক নদী। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, জেলায় নদ-নদীর সংখ্যা ৩৭টি। ভাটিতে অবস্থানের কারণে এক-দেড় দশক আগেও এগুলো ছিল বেশ প্রশস্ত ও খরস্রোতা। কিন্তু গত কয়েক বছরে জেলাটির নদীগুলোর গভীরতা ও প্রশস্ততা হারিয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। দখল, অপরিকল্পিত নদী শাসন, অবকাঠামো নির্মাণ ও পলি পড়ে সংকীর্ণ ও অগভীর হয়ে পড়ছে নদীগুলো।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ৩৫ বছর আগে করা মানচিত্রের সঙ্গে নদীগুলোর বর্তমান মানচিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময় জেলার নদ-নদীগুলোর অনেক স্থানেই প্রশস্ততা নেমে এসেছে আগের তুলনায় অর্ধেকে। প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে নাব্য সংকটে ভোগা সংকীর্ণ এলাকার পরিমাণ।

পটুয়াখালীর অন্যতম প্রধান নদী গলাচিপা। নদীটির বিভিন্ন পয়েন্টে গত ৩৫ বছরে প্রশস্ততা ও গভীরতা কমে নেমে এসেছে এক-তৃতীয়াংশ থেকে এক-চতুর্থাংশে। বিআইডব্লিউটিএর তথ্য অনুযায়ী, এ সময় শেখাটি এলাকায় গভীরতা কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। ১৯৮৮ সালের জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে শেখাটি এলাকায় নদীর গভীরতা ছিল তিন থেকে নয় মিটার পর্যন্ত। বর্তমানে নদীর এ অংশে প্রায় আড়াই হাজার মিটারজুড়ে গভীরতা এক মিটার বা এরও কম। কলাগাছিয়া অংশে ১৯৮৮ সালে নাব্য ছিল চার থেকে ১১ মিটার পর্যন্ত। বর্তমানে তা নেমে এসেছে এক থেকে চার মিটারে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটে নদীটি দিয়ে ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল এক প্রকার অসম্ভব হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শেখাটি ও কলাগাছিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ কমে এ সংকট মারাত্মক হয়ে দেখা দেয়।

গলাচিপা পৌরসভার অভ্যন্তরে ও চিকনিকান্দি বাজারসংলগ্ন এলাকায় নদীটি এখন সংকীর্ণ হয়ে খালের আকার ধারণ করেছে। সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় এ এলাকায় ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে এক দশকের বেশি সময় ধরে। আবার নদীর গলাচিপা পৌর এলাকার মধ্যকার অংশটি এখন প্রায় পুরোপুরিই দখলদারদের আওতায়।

নদীর এসব এলাকা দখলমুক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

পটুয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা বলেন, ‘পৌর এলাকার মধ্যে নদী দখলমুক্ত করতে এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে কাজ করা হচ্ছে। নাব্য ও গভীরতার সংকটের বিষয়ে অভিযোগ পেলে আমরা ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেব।’

গলাচিপা নদীর মতোই জেলার আগুনমুখা, লোহালিয়া, কোরালিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে গভীরতা ও প্রশস্ততা কমে অর্ধেক থেকে এক-তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। নদীগুলোর এমন পরিস্থিতির জন্য বিআইডব্লিউটিএ দখলের পাশাপাশি দায়ী করছে উজান থেকে পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলিপ্রবাহ বেড়ে যাওয়াকে। গভীরতা ও প্রশস্ততা ঠিক রাখতে পটুয়াখালীর নদ-নদীগুলোয় নিয়মিত ড্রেজিং করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

বিআইডব্লিউটিএর বন্দর ও পরিবহন বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী নদীবন্দরের আওতাভুক্ত জায়গাগুলোয় কেউ অবৈধভাবে দখল করলে তা যথাসম্ভব দ্রুত উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া নদীগুলোয় নিয়মিত ড্রেজিংও করা হয়। তবে যেহেতু উজান থেকে পানিপ্রবাহ কম এবং বন্যায় যে পানিপ্রবাহ হচ্ছে সেখানে পলি অনেক বেশি, তাই নদীগুলোর গভীরতা কমে যাচ্ছে।’

আরো পড়ুন : গ্রেপ্তারি পরোয়ানা: আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার আভাস যুক্তরাষ্ট্রের

একসময় জেলার অন্যতম খরস্রোতা নদী ছিল আগুনমুখা। পানিপ্রবাহ হ্রাস ও পলি পড়ে নদীটিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ডুবোচর। কঠিন হয়ে পড়েছে নৌ-চলাচলও। নদীটির উত্তরে গলাচিপা উপজেলা, দক্ষিণে রাঙ্গাবালী উপজেলা ও পশ্চিমে পায়রা সমুদ্রবন্দর। বিশেষত রাঙ্গাবালী উপজেলার মানুষের কোনো স্থানে যাতায়াত করতে হলেই এ নদী পাড়ি দিতে হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে নদীটিতে ডুবোচরের সংখ্যা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। ফলে এটিও এখন দিনে দিনে ভারী ও মাঝারি নৌযান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি নদী লোহালিয়া। এখানে ১৯৮৮ সালেও গভীরতা ছিল ৩ থেকে ১২ মিটার পর্যন্ত। কিন্তু বর্তমানে এখানে নদীর নাব্য হ্রাস পেয়েছে ব্যাপক মাত্রায়। বিশেষ করে গত দুই দশকে নদীটির প্রস্থ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড পটুয়াখালীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে পটুয়াখালী শহরে লোহালিয়া নদীর প্রস্থ ২ নং বাঁধঘাটে ছিল ১৬০ মিটার। এখন আছে ৯১ মিটার। উত্তর ধরান্দী লঞ্চঘাটে নদীর প্রস্থ ৩২৫ মিটার থেকে নেমে এসেছে ১১৫ মিটারে। ২০ বছরের ব্যবধানে কৌরাখালী খেয়াঘাটে নদীর প্রশস্ততা ৩২৫ থেকে ২৫৩ মিটারে নেমে এসেছে। এছাড়া এ সময় নদীর প্রশস্ততা সেয়াকাটি খেয়াঘাটে ৩৫৩ থেকে ২৯৬ মিটারে ও বগা ফেরিঘাটে ২৪৪ থেকে ১৯০ মিটারে নেমে এসেছে।

সরজমিনে দেখা গেছে, নদীটির এ অংশগুলোর অধিকাংশ স্থানেই নানা জায়গা বেদখল হয়ে পড়েছে। এমনকি কোনো কোনো স্থানে নদী-তীরবর্তী কম নাব্য অংশ ভরাট করে দোকান, আবাসিক ভবন ও বাজার গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ নদী রক্ষা কমিশনের ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী, জেলার নদীগুলোয় দখলদারের সংখ্যা ৯৯৯। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদরে ৩০১ আর গলাচিপা উপজেলায় ২৮৯ জন। এছাড়া কলাপাড়ায় ১৮৬ ও রাঙ্গাবালীতে আছে ৫৫ জন। বাকিরা অন্যান্য উপজেলার বাসিন্দা। বর্তমানে দখলদারের সংখ্যা অনেক বেশি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, পটুয়াখালীর নদীগুলোকে দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করি। এছাড়া নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতেও কাজ চলছে। বেশকিছু স্থানে ড্রেজিংয়ের জন্য নতুনভাবে বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।’

নদীগুলোর এমন পরিস্থিতির জন্য দখলের পাশাপাশি অপরিকল্পিত স্লুইস গেট ও সেতু নির্মাণও অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করছেন পানি বিশেষজ্ঞরা।




পটুয়াখালীতে হিফজ সমাপনী ছাত্রদের দস্তারবন্দী প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হিফজ সমাপনী হাফেজ ছাত্রদের দস্তারবন্দী বা পাগাড়ি প্রদান উপলক্ষে ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তাহিফজুল কুরআন মডেল মাদরাসার উদ্যোগে গত সোমবার রাত নয়টায় কলাপাড়া পৌরসভার বায়তুর রহমাত জামে মসজিদে এ দস্তারবন্দী ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

হুফফাজুল কুরআন মডেল ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মুহা. আল আমিন সরদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চলাভাঙ্গা দরবারের পীর হযরত মাওলানা সৈয়দ সা›য়াদ হোসাইন চিশতী।

প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন, বরগুনা তালতলীর মুফাচ্ছিরে কুরআন মাওলানা মুহা. আজিজুল হক মাদানী।

আরো পড়ুন : জনগণের সেবক হতে চান তরুণ প্রজন্মের আইডল “মেহেদী হাসান মিজান”

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হুফফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন কলাপাড়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আমিরুর ইসলাম, বায়তুর রহমাত জামে মসজিদের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সুজন মৃধা, বায়তুর রহমাত জামে মসজিদের উপদেষ্টা আলহাজ মো. আমানউল্লাহ, তাহ্ফিজুল কুরআন মডেল মাদরাসা›র প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক হাফেজ মুহা. মাঈনুদ্দীন, বায়তুর রহমাত জামে মসজিদের ইমাম রাশেদুল ইসলাম প্রমুখ।

ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল শেষে তাহ্ফিজুল কুরআন মডেল মাদরাসার আটজন হিফজ সমাপনী ছাত্রদের দস্তারবন্দী করেন মাওলানা সৈয়দ সায়াদ হোসাইন চিশতী।




জনগণের সেবক হতে চান তরুণ প্রজন্মের আইডল “মেহেদী হাসান মিজান”

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গণমানুষের নেতা অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার তুখোড় রাজনীতিবীদ। তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি (সোহাগ-নাজমুল কমিটি)।

উপজেলা উন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। পরিবেশবান্ধব অটোব্রিক কারখানা ‘পায়রা সিরামিক্স ইন্ডাস্ট্রিস লিমিটেড’-এর তিনি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি লেবুখালী ব্রিজের সন্নিকটে ‘পায়রা পয়েন্ট শপিং কমপ্লেক্স’-এর যৌথ উদ্যোক্তা। এছাড়া ঢাকার কেরানিগঞ্জে আবাসন প্রকল্পের অন্যতম রূপকার ‘নিউভিশন গ্রুপ’-এর সম্মানিত ডিরেক্টর। এভাবে বহুমুখী ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার ফলে উপজেলার মানুষের কর্মসংস্থানে দারুণ ভূমিকা রেখেছেন।

দুমকির গরীব ও মেহনতী মানুষের পাশে নিজেকে সবসময় নিয়োজিত রেখেছেন মেহেদী হাসান মিজান। তাছাড়া উপজেলার শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। যেসব পরিবারের সন্তানরা অর্থাভাবে লেখাপড়া চালাতে পারেন না, তাদের পাশে অবলীলায় দাঁড়ান তিনি। এছারা তিনি সামাজিক, ধর্মীয়, ও নাগরিক সংগঠনের সাথে নিজেকে সর্বদা জড়িয়ে রেখে গরীব, অসহায়, দুস্থ মানুষের পাশে থেকে সবধরনের মানবিক কাজে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান নিজের মেধা, যোগ্যতা, সততা, আন্তরিকতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে দুমকি উপজেলা বাসীর সকল স্তরের সাধারণ মানুষের ভালোবাসার আস্থা অর্জন করেছেন।

বর্তমানে তরুণ সমাজ পরিবর্তন চায় রাজনীতিতে, চায় শিক্ষিত ও নীতিবান সৎ যোগ্য ব্যক্তিদের, যাদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে সমাজ এবং প্রতিষ্ঠিত হবে মানবিক বাংলাদেশ। তারুণ্যের প্রতীক অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান। সাধারণ মানুষের কাঙ্খিত ব্যক্তিত্বদের একজন।  তিনি জনগনের প্রতিনিধি হলে এগিয়ে যাবে সমাজ, কাঙ্খিত উন্নয়ন হবে উপজেলার।

অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান আসন্ন দুমকি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আনারস মার্কার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী। ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক হিসেবে দুমকি উপজেলাবাসীর বেশ সমর্থন পাচ্ছেন। শিক্ষানুরাগী, ভদ্র, নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে সাধারণ নাগরিকদের পছন্দের নাম অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান ।

ক্লিন ইমেজের এই তরুণ স্বপ্ন দেখছেন সাধারণ মানুষের সেবা করার। সুযোগ পেলে শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে সবার পাশে দাঁড়াতে চান সাধ্যমতো। তিনি নির্বাচিত হলে সমাজের অসচ্ছল, বিধবা, অসহায়, গরীব, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করবেন। মাদক নির্মূল এবং শিক্ষা বান্ধব সমাজ উপহার দিবেন। সর্বোপরি মানুষের কাছে থেকে নাগরিক সেবা নিশ্চিতের সব চেষ্টা করবেন তিনি।

আসন্ন দুমকি উপজেলা নির্বাচন বিষয়ে অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান মিজান বলেন, “আমি যদি মহান আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হই, তাহলে আমার দেওয়া সকল প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পালন করব ইনশাআল্লাহ। সেই সাথে অন্যান্য উপজেলা থেকে পিছিয়ে পড়া দুমকি উপজেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাব এবং একটি স্মার্ট উপজেলা হিসাবে গড়তে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাব।”

পরিশেষে, দুমকি উপজেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে আনারস মার্কায় ভোট এবং দোয়া চেয়েছেন তিনি।




কলাপাড়ায শুরু হয়েছে মাসব্যাপী তাঁত শিল্প মেলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ম বারের মতো শুরু হয়েছে মাসব্যাপী তাঁত শিল্প মেলা।

সোমবার (২০ মে) দুপুরে বেলুন উড়িয়ে এ শিল্প মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম।

কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির আয়োজনে সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ মাঠে এ মেলার আয়োজন করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ইমারত শ্রমিকের মৃত্যু

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মেলা ঘিরে তাঁতের দোকান, খাবার দোকান ও কসমেটিক্সের দোকানসহ ৫৪টি স্টল বসেছে। বিভিন্ন বাহারী পণ্য পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

এ সময় কলাপাড়া পৌর শহর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি নাজমুল আহসান, প্রেসক্লাব সভাপতি হুমায়ুন কবির ও কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম রয়েল, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ উদ্দিন বিপু উপস্থিত ছিলেন।




সাগরে মাছ ধরায় ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা, দুর্দিন দেখছেন পটুয়াখালীর জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রতি বছরের ন্যায়ে এবারও দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজননে আজ মধ্যরাত থেকে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মৎস্য বিভাগ।

সোমবার ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই মঙ্গলবার পর্যন্ত সকল ধরনের মাছ শিকারে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞার ফলে সমুদ্রগামী জেলেদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

মৎস্য বিভাগের দেয়া প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের বংশ বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৬৫ দিন পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে।

পটুয়াখালীর মৎস্য বন্দর আলীপুর-মহিপুর সরেজমিনে জেলেরা জানান, বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে বিভিন্ন ধাপে ১৪৭ দিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ায় লাখো জেলে ও ব্যবসায়ীর মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। জেলেরা যে সরকারি প্রণোদনা পান তা অপ্রতুল। ফলে তাদের জীবন কাটে চরম দুর্দশা এবং হতাশায়। মা ইলিশ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, মার্চ-এপ্রিল ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ না হতেই আবার ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন উপকূলীয় জেলেরা। এই ১৪৭ দিন ছাড়াও ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা শিকারের উপরেও রয়েছে ৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা। ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞার ফলে বছরে অল্প যে সময় মাছ শিকারে পাচ্ছেন তা থেকে নিজেদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরছেই না, বরং ঋণগ্রস্ত রয়েছে অধিকাংশ জেলেরা বলে জানা যায়।

জেলে জালাল মাঝি বলেন, ট্রলারে কাজ করে গত বছর ৮০ হাজার টাকা ঋণ হয়েছে, তা এখনো পরিশোধ করতে পারিনি। আবার ৬৫ দিনের অবরোধ, এই ঋণ পরিশোধতো দূরের কথা ঋণের বোঝা আরো বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, অবরোধকালীন সময়ে প্রতিবছর ভারতীয় জেলেরা বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করলেও রোধকল্পে প্রশাসনের তৎপরতা দেখি না।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ২ জনকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাং ‘কমরেড’ বাহিনী

আরেক মাঝি গনি মুন্সী বলেন, ৬৫ দিনের অবরোধকালে আমরা মাছ ধরা বন্ধ রাখলেও পার্শ্ববর্তী ভারতীয় জেলেরা আমাদের দেশের জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করে। কিন্তু সরকার এখনো এর কোনো প্রতিকার করতে পারলো না। আমাদের দাবি, এই সময়ে আমাদেরও মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করত: নয়তো অবৈধভাবে ভারতীয় জেলে ট্রলারগুলো বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ বন্ধ করা হোক।
ভাইভাই ফিসের পরিচালক শাহআলম হাওলাদার জানান, পটুয়াখালী জেলার সবচেয়ে বড় দুটি মৎস্য বন্দর মহিপুর-আলীপুর। এখান থেকে কোটি কোটি টাকার মাছ চালান হয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে গত কয়েক বছর যাবৎ বছরে দুবার নিষেধাজ্ঞা, বৈরী আবহাওয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি। সব মিলিয়ে এই পেশা এখন হুমকির মুখে।

ট্রলার মালিক ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, কোম্পানির কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা দাদন নিয়ে দুইটা ট্রলার তৈরি করেছি। ২ বছরে এখন পর্যন্ত লাভের মুখ দেখিনি। এর উপর আবার অবরোধ, এখন এই পেশায় টিকে থাকা আমাদের মতো মানুষের পক্ষে সম্ভব না।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জেলেদের দাবি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পেশ করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলেদের ঋণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও চলছে।

তিনি আরো বলেন, মূলত দুটি কারণে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। প্রজনন সুবিধায় যাতে মাছ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারে। আর অপরটি হলো-ছোট মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। যার জন্য বর্তমানে বড় আকারের ইলিশ জেলেদের জালে বেশি ধরা পড়ছে। বরাবরের মতো মৎস্য বিভাগের দেয়া অবরোধ ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করছি বলে জানান এই কর্মকর্তা।




দশমিনায় হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দশমিনা উপজেলায় আলোচিত মৌসুমী আক্তার দুলুর হত্যার প্রধান আসামী চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহাগ ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার দুপুর ২ টায় দশমিনা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে মৌসুমী আক্তার দুলুর হত্যাকারি প্রধান আসামীকে গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের পক্ষ থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে মৌসুমী আক্তার দুলুর বড় ভাই বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন গত ৪ নভেম্বর রাত ১২ থেকে ৫ নভেম্বর দুপুর ১২ ঘটিকার মধ্যবর্তী সময় আমার বোনের স্বামী ও উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান সোহাগসহ তার ভাই দিপু, কামরুল, রবিউল, জসিম, রকিব আমার বোনকে খুন করে উপজেলার নলখোলা বন্দরের ভাড়া বাসার বাথরুমে ঝুলিয়ে রাখেন। এ ঘটনায় দশমিনা থানায় হত্যা মামলা আনায়ন করলে দশমিনা থানা পুলিশ মামলা নেয়নি।

আরো পড়ুন : দুমকি উপজেলা নির্বাচন: মাল্টা কাওসার ও তার কর্মীদের হামলার শিকার ৩ আনারস কর্মী

আমি বাদী হয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্য্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা দাখিল করলে বিজ্ঞ আদালত ওসি দশমিনা থানাকে এজাহার গ্রহনপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করেন। উক্ত মামলায় দিপু, রবিউল, কামরুল. জুসিম ও রকিব মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসলে পরবর্তীতে পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্য্যাতন দমন ট্রাইবুনালে তাদের জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। পরে তারা আবার মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিনে আসেন।

বর্তমানে মামলার ৬-৭ মাস অতিবাহীত হলেও দশমিনা থানা পুলিশ প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রধান আসমী প্রকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ৬ষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনে তার চাচা আাবদুল আজিজ(দোয়াতকলম) এর সমর্থনে ইউডিনয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পথসভা ও উঠান বৈঠকে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে কাজ করছেন। আমরা দশমিনা থানা পুলিশকে জানালে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনা। আমি এবং আমার পরিবার তার ভয়ে সবসময় আতংকে থাকি।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাছে আমার বোনের হত্যাকারি প্রধান আসামী আসাদুজ্জামান সোহাগকে দ্রত গ্রেফতারের দাবি জানাই।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ২ জনকে কুপিয়েছে কিশোর গ্যাং ‘কমরেড’ বাহিনী

সংবাদ সম্মলনে উপস্থিত ছিলে মৌসুমী আক্তার দুলুর মা মোসঃ পারুল বেগম, বোন বুলবুল, আনোয়ারকলি কন্যা সন্তান মেহেরিন, পুত্র সন্তান নাফিস এবং আব্দুল্লাহ।

উল্লেখ্য (৫ নভেম্বর ২০২৩ ) রবিবার দুপুরে উপজেলা সদর ইউনিয়নের নলখোলা বন্দর এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে মৌসুমী আক্তারের ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তার স্বামী।

পরে সোমবার পটুয়াখালী বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে নিহতর ভাই মনিরুজ্জামান বিপ্লব রাড়ি ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।

দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, মৌসুমী আক্তার দুলু হত্যা মামলার প্রধান আসামী আসাদুজ্জামান সোহাগ কে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে। গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে।