বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রস্তুত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়েছে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। সেপ্টেম্বরে এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। আর ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে বাকি ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। সে লক্ষ্যে চলছে শেষ পর্যায়ের কাজ।

এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যোগ হওয়া বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের জন্য এটি মাইলফলক বলে মনে করছেন এই প্রকল্পের কর্মকর্তারা।

২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নোরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরএনপিএল) যৌথ বিনিয়োগে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করে।

জেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে ৯১৫ একর জমির উপর ২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ধরে এর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। করোনাসহ নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে টারবাইন, চুল্লি, কোল স্টোর, স্টিল স্ট্রাকচার, বয়লার, ওয়াটার ফিড ও জেনারেটর বসানোর কাজ। বর্তমানে দ্রুতগতিতে চলছে কনস্ট্রাকশন ও রঙের কাজ। ৪ হাজার বাঙালি ও দেড় হাজার চাইনিজ শ্রমিক এ নির্মাণ কাজ করছেন।

আরো পড়ুন : মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

ইতোমধ্যে বয়লারে ফায়ারিংও করা হয়েছে। মোট কথা বর্তমানে বিদুৎ উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত এ পাওয়ার প্লান্ট। এ কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ।

বর্তমানে শেষ পর্যায়ের টেস্টিং ও কমিশনিংয়ের কাজ চলমান। জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে চায় প্রকল্পটি।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (তড়িৎ) আসিফ আহমেদ জানান, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন, ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন ও পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন তৈরি করেছি। এ সুইচিং স্টেশনের কাজও ৯২ ভাগ শেষ হয়েছে।

অপর নির্বাহী প্রকৌশলী (মেকানিক্যাল) শওকত ওসমান বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের প্রথম ইউনিটের সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আমরা বয়লারে ফায়ারিংও করেছি। মোটকথা আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি, জুলাই মাসে ব্যাক ফিড পাওয়ার পাব। এ ব্যাক ফিড পাওয়ার পেলে সেপ্টেম্বরে ৬৬০ মেগাওয়াট ও ডিসেম্বরে আরও ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত করতে পারব বলে আশা করছি।




ডাকাত দলের সদস্য দ্বীপ্ত কর্মকার গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল থানায় করা একটি ডাকাতি মামলায় দ্বীপ্ত কর্মকার (২৮) নামে ডাকাত দলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরে তাকে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন, গত বছর অক্টোবর মাসে বাউফল থানায় দায়েরকৃত দুইটি পৃথক ডাকাতির মামলায় দীপ্তকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরো পড়ুন : মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

দীপ্ত কর্মকারের গৌরনদীর বাটাজোড়া গ্রামে একটি মুড়ির কারখানা রয়েছে। বাউফল থানার কনস্টেবল দুলাল তিন দিন আগে ছদ্মবেশে ওই কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেয়। এরপর তথ্য উপাত্ত যাচাই বাছাই করে নিশ্চিত হওয়ার পর ক্রেতা সেজে পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম ও এসআই নাসির অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেন।

ওই মামলায় এ পর্যন্ত ৮ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মহাসড়কে দুর্ঘটনায় ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: একের পর এক দুর্ঘটনা সড়ক পথে ঢাকা-বরিশাল-পটুয়াখালী রুটের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। তাই নিরাপত্তার খাতিরে অনেক যাত্রী আবার নৌ-পথে যাতায়াত শুরু করেছেন।

যার প্রমাণ মিলেছে বরিশাল ও পটুয়াখালীর নদী বন্দরে পবিত্র ঈদুল আযহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষগুলোর ভিড় দেখে।

লঞ্চের যাত্রী ওমর ফারুক বলেন, গত কয়েকদিনে শুধু সড়কে দুর্ঘটনার খবরই শুনছি। নিজেও পটুয়াখালী আসার পথে একটুর জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছি। তাই লঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বাসের থেকে অন্তত নিরাপদে তো যেতে পারবো।

যদিও পদ্মা সেতু চালুর পর সময় স্বল্পতার কারণে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সড়ক পথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিতের দাবি বেশিরভাগ যাত্রীর।

ঢাকা-পটুয়াখালী সড়কপথে নিয়মিত চলাচলকারী বাস যাত্রী ফাহিম রহমান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর প্রতিনিয়ত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ঢাকা থেকে বরিশাল ও পটুয়াখালী রুটের মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত দীর্ঘ মহাসড়কের ধারণক্ষমতা আছে ২০২২ সালের আগের মতোই। যদিও কিছু কিছু বাঁকে সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে, তবে তা কার্যত তেমন উপকারে আসছে না এখনও। এই যাত্রীর মতে, প্রয়োজন অনুসারে মহাসড়ক প্রশস্ত না হওয়ায় গতির প্রতিযোগিতাই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

সম্প্রতি দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি থেকে বেঁচে যাওয়া যাত্রী মিজানুর রহমানের মতে, ঈদ-কোরবানির সময়টায় চালকরা একটানা বেশি ডিউটি করায় ক্লান্ত থাকেন। আর যেখান থেকে ঘুমের ভাব হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। যে কারণে তিনিও দুর্ঘটনার শিকার হয়ে এখন নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে গণমাধ্যমও বলছে, ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ছয়দিনে শুধু বরিশাল জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৯ জন। পক্ষান্তরে নৌ-পথে দুর্ঘটনার কোনো খবর পাওয়া যায়নি এ কয়দিনে।

বাস চালকরা বলছেন, শুধুই গতি নয়, অনভিজ্ঞ চালকসহ মহাসড়কে বৈধ-অবৈধ ও মিশ্র প্রযুক্তির গাড়িই দুর্ঘটনার মূল কারণ।

বাসের চালক নয়ন বলেন, ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত একমাত্র মহাসড়ক, যেখানে অবাধে দূরপাল্লার গাড়িগুলোর সাথে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, টমটম, নছিমন, করিমন, সিএনজি, আলফাসহ সকল ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল করে। অথচ বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া-না পাওয়া এসব যানবাহন মহাসড়কে চলার কথা না। সেই সাথে বাজার-ঘাটে ঘেরা মহাসড়কে অটো ও ম্যানুয়াল প্রযুক্তির গাড়ির পাশাপাশি, তেলের- ব্যাটারির, নতুন-পুরাতন বিভিন্ন গতির গাড়ি চলাচল করছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে চাচার মারধরে ভাতিজার মৃত্যু

তিনি আরো বলেন, সবমিলিয়ে দিনের বেলা যেমন তেমনভাবে গেলেও রাতে তো আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে ভাঙ্গা-বরিশাল- কুয়াকাটা মহাসড়ক। ব্যাটারিচালিত রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, টমটম, নছিমন, করিমনের মতো অবৈধ অনেক যানবাহনের তো কোনো ধরনের বাতিই থাকে না, আবার যাদের আছে তাদের গাড়ির সামনে পেছনের সবগুলো বাতি ঠিকভাবে জ্বলে না। ফলে গাড়িটা কতখানি প্রশস্ত কিংবা চালক ব্রেক কষল কিনা তা বোঝা যায় না। সবমিলিয়ে যে অবস্থা তাতে এ মহাসড়কে বাস চালনা করতে একজন চালককে কতটা বেগ পেতে হয় তা বলে বোঝানো যাবে না। আর হিসেবের গড়মিল হলেই দুর্ঘটনা ঘটে যায়, তখন দোষ হয় পরিবহন চালকদের।

পরিবহন চালকদের মতে দুর্ঘটনা রোধ করতে হলে মহাসড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি সর্বপ্রথমে শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, নয়তো বিমুখ হবেন বাস যাত্রীরা। একই কথা জানালেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারাও।

গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল মোল্লা মুঠো ফোনে বলেন, এ মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে সর্বপ্রথম মহাসড়ক প্রশস্ত করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ চলাচলে জায়গায় জেব্রা ক্রসিংসহ রাস্তা পারাপারের ব্যবস্থা রাখা এবং মহাসড়কের পাশ ধরে হাঁটার জায়গা প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, রাস্তা সরু হওয়ায় বর্তমান সময়ে ওভারটেক করতে গিয়ে যেমন দুর্ঘটনা ঘটছে, তেমনি রাস্তার পাশে চলাচলের জায়গা না থাকায় মানুষ যানবাহনে চাপা পড়ছে। গেল কোরবানির ঈদের আমরা গরুর গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি যাত্রীবাহী যানবাহনের ছাদে লোক না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক ছিলাম। সেইসাথে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল রোধ, থ্রি-হুইলারসহ আনফিট গাড়ির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়াও হয়েছে। আর এজন্য বিভিন্নভাবে মহাসড়কে আমাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছে। তবে নিজ নিজ পর্যায় থেকে সবাইকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ এই কর্মকর্তার।

এদিকে এবারের ঈদে পটুয়াখালী-ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ বিগত দিনগুলোর থেকে বেশি থাকায় খুশি সংশ্লিষ্টরা।




পটুয়াখালী, বরগুনায় বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপের আতঙ্ক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: মঙ্গলবার ভোরে ওজু করতে বাড়ির পুকুরঘাটে গিয়েছিলেন বরগুনার আমতলীর আঙ্গুলকাটা গ্রামের রেজিমন বিবি (৫০)। সে সময় কোনো একটি বিষধর সাপ দংশন করে তাকে। এতে ১০ মিনিটের মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। স্বজনরা দ্রুত তাকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রেজিমন বিবিকে ঠিক কোন সাপে কামড়েছিল তা ঘটনার আকস্মিকতা ও অল্প আলোর কারণে বুঝতে পারেননি তিনি। তবে কামড়ের পর দ্রুত মৃত্যুর কারণে তার স্বজন ও প্রতিবেশীদের ধারণা হয় যে সাপটি ছিল রাসেল ভাইপার।

পরে এমন ধারণাই আতঙ্ক হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে আঙ্গুলকাটা গ্রামসহ পুরো গুলিশখালী ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ভেতর। এখন এই ইউনিয়নে সন্ধ্যার পর রাস্তায় লোক চলাচল কমে গেছে। যারা বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তাদের হাতে থাকছে লাঠি ও টর্চ।

তীব্র বিষধর রাসেলস ভাইপার স্থানীয়ভাবে চন্দ্রবোড়া ও উলুবোড়া নামেও পরিচিতি। সাপটি দেখতে অনেকটা অজগরের বাচ্চার মতো। ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে কাজ করতে এসেছিলেন স্কটিস সার্জন প্যাট্রিক রাসেল। ১৭৯৬ সালে তিনি এই সাপ সম্পর্কে গবেষণা করেন। তার নাম অনুসারে এই সাপের নামকরণ করা হয়।

বাংলাদেশে ২০০২ সালে প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থাগুলোর আন্তর্জাতিক জোট আইইউসিএন রাসেলস ভাইপারকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। সাপটি মূলত শুষ্ক অঞ্চলের; বিশেষ করে বরেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা হলেও এখন উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি জেলাসহ অন্তত ৩৫টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা। আর প্রায়ই এসব এলাকা থেকে রাসেলস ভাইপারের কামড়ে মৃত্যুর খবর আসছে। ফলে সাপটি নিয়ে জনপরিসরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সেই পরিমাণ ভয় ও আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সাপের কামড়ে মারা যাওয়া রেজিমন বিবি আঙ্গুলকাটা গ্রামের আরশেদ আলীর স্ত্রী।

আরশেদ আলী বলেন, ‘কামড় দেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে মৃত্যু হওয়ায় আমরা ধারণা করছি সাপটি ছিল রাসেলস ভাইপার।’

এ সম্পর্কে এলাকাবাসীরও একইরকম ধারণা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই গ্রামের আরেক বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিনের ভাষ্য, সাপের কামড়ে রেজিমন বেগমের মৃত্যুর পর তাদের গ্রামসহ পুরো ইউনিয়নে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর গ্রামের লোকজন তেমন একটা ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।

আরো পড়ুন : ভূতুড়ে কৃষি ঋণের ফাঁদে পটুয়াখালীর মৃতরা

স্থানীয় বাসিন্দারা এমনও ধারণা করছেন যে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে এসে রাসেলস ভাইপার এই এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদেরও অভিমত, রাসেলস ভাইপার দক্ষ সাঁতারু এবং পদ্মা অববাহিকা ধরে কচুরিপানায় ভেসে এর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার রেকর্ড আছে।

বিষয়টি নিয়ে কথা হয় আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতেই বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব বাড়ে। তাই এ সময়টিতে সবাইকে সাবধানে চলাফেরা করতে পরামর্শ দেন তিনি।

রাসেলস ভাইপারের সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারী হয়ে আসা, পক্ষাঘাত এবং কিডনি ও ফুসফুসের ক্ষতিসহ বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দিতে পারে। সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না পেলে মৃত্যু হয়।

এই প্রজাতির সাপের কামড়ের কিছুক্ষণ পরই দংশিত স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। ব্যথার পাশাপাশি জায়গাটি দ্রুত ফুলে যায় এবং ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কাছাকাছি আরও কয়েকটি অংশ আলাদাভাবে ফুলে যায়। আবার সাপটিকে অনেকে অজগরের বাচ্চা ভেবেও ভুল করে। এমন ভুলেই রাসেলস ভাইপারের কামড়ে ফরিদপুরে এক সাপুড়ের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।

সাপের কামড়ে রেজিমন বেগমের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হবে।




ঘূর্ণিঝড় রিমাল গেলেও পটুয়াখালীর গ্রামীণ জনপদে রেখে গেছে ক্ষত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় রিমাল চলে গেলেও ক্ষত রেখে গেছে গেছে পটুয়াখালীর গ্রামীণ জনপদে। অনেক জায়গার রাস্তাঘাট চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। কোথাও রাস্তা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর এলজিইডি’র করা সড়কগুলোর ক্ষতি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। ঝুঁকির মুখে রয়েছে অনেক ইউনিয়ন সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।

মৌকরন ব্রিজের নীচ থেকে বাজার হয়ে কলেজ পর্যন্ত যাওয়ার সড়কটি ধসে পড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

লাউকাঠী স্লুইসগেট এলাকার সড়কটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হওয়ায় সাঁকো দিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়কগুলো সংস্কার করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বরাদ্দ চাওয়ার কথা জানিয়েছেন এলজিইডির এই কর্মকর্তা।

আরো পড়ুন : ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রাণ ফিরেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফ হোসেন বলেন, যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তারমধ্যে আমরা অনেকগুলোর সংস্কার করে ফেলেছি। যেগুলোর একটু বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য আমরা সদর দপ্তরে জানিয়েছি।

পটুয়াখালী এলজিইডির হিসাবে, ঘূর্ণিঝড় রিমালের জলোচ্ছ্বাস ও জলাবদ্ধতায় জেলার মোট ৪৪৯ দশমিক ১৩ কিলোমিটার পাকা ও ২৮৩ দশমিক ২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়কের ক্ষতি হয়েছে।




বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহর হংকং, কম খরচ পাকিস্তান-নাইজেরিয়ায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীনের হংকং শহর। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালেও এই তালিকার শীর্ষে ছিল চীনের বিশেষ প্রশাসনিক এই অঞ্চলটি।

সোমবার (১৭ জুন) প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকা প্রকাশ করে মার্সার কস্ট অব লিভিং সার্ভে। খবর সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, আবাসন খরচ বৃদ্ধি, স্থানীয় কর এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উচ্চ খরচের কারণে হংকং ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ডের চারটি শহর- জুরিখ, জেনেভা, বাসেল এবং বার্ন। অর্থাৎ শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে সুইজারল্যান্ডেই চারটি শহর রয়েছে।

ব্যয়বহুল শহরের তালিকা করতে বিশ্বের ২২৬টি শহরের অন্তত ২০০টি বিষয়কে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালী সামগ্রী ও বিনোদন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যয়বহুল আবাসন বাজার এবং পরিবহন ব্যবস্থা, পণ্য ও পরিষেবার জন্য শহরগুলোতে বসবাসের খরচ বিশেষভাবে বেশি।

এছাড়া মুদ্রাস্ফীতি, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং প্রবাসী কর্মীদের বেতন এবং সঞ্চয়ও এই তালিকা নির্ধারনের ক্ষেত্রে প্রভাবিত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের শহর নিউইয়র্ক রয়েছে সপ্তম স্থানে। গত বছর এই তালিকায় লন্ডন ছিল ১৭তম স্থানে কিন্তু এই বছর লন্ডন রয়েছে অষ্টম স্থানে। নবম স্থানে রয়েছে যৌথভাবে বাহামার রাজধানী শহর নাসাউ ও বাহামা শহর। সর্বশেষ দশম স্থানে রয়েছে লস এঞ্জেলেস।

অন্যদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল শহরের তালিকার সবশেষ অবস্থানে অর্থাৎ তুলনামূলক কম খরচের শহরের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ এবং নাইজেরিয়ার লাগোস এবং আবুজা।




দাম না পেয়ে কোরবানির পশুর চামড়া খেয়ে ফেলছেন দক্ষিণাঞ্চলের অনেকেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পাচ্ছেন না দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। দাম না পেয়ে চামড়া নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে খেয়ে ফেলছেন তারা। সরকার চামড়ার দাম বেঁধে দিলেও সে দামের প্রভাব নেই উপকূলীয় পটুয়াখালীসহ আশপাশের অঞ্চলে।

সোমবার (১৭ জুন) পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানি দিয়ে নিজেরাই পশুর চামড়া ছাড়িয়ে নিয়েছেন। যারা ভাগে কোরবানি দিয়েছেন তারা অংশীদারদের মধ্যে চামড়া ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নিয়েছেন। কেউ কেউ চামড়া ছাড়িয়ে মাদরাসা ও এতিমখানায় দান করে দেন।

স্থানীয়রা জানান, মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা আকারভেদে একটি গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম।

সোমবার দেশে মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানি ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাদের প্রিয় বস্তু অর্থাৎ পশু কোরবানি করে থাকেন।

পটুয়াখালীর দশমিনার মাছুয়াখালী গ্রামের দফাদার বাড়িতে দুটি গরু কোরবানি করা হয়েছে। প্রতিটি গরুতে সাতজন করে ভাগীদার রয়েছেন। দুটি গরুর ভাগীদাররাই চামড়ার দাম না পেয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন।

এক গরুর অংশীদার দফাদার বাড়ির মো. লিয়াকত মৃধা বলেন, চামড়ার দাম ওস্তারা (যারা চামড়া ছাড়ানোর কাজ করেন) দেড়শ টাকা বলেছেন। যে চামড়া ছাড়াবে তার মজুরি ৪০০ টাকা। তাই আমরা নিজেরাই চামড়া ছাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি। সবাই চামড়া রান্না করে খাবে।

আরো পড়ুন : বাউফলে বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা পুরুষের সন্ধ্যানে পুলিশ

আরেক কোরবানির গরুর অংশীদার মো. ইউসুফ মৃধা বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই আমরা কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পাই না। আগে সাধারণত যারা চামড়া কিনতেন তারা চামড়াটা নিজেরাই ছাড়িয়ে নিতেন। এবার ৮৭ হাজার টাকা দিয়ে কেনা গরুর চামড়ার দাম বলছেন ২০০ টাকা। অন্যদিকে চামড়া ছাড়ানোর মজুরি ৪০০ টাকা। তাই আমরা চামড়া বেচা-বিক্রির ঝামেলায় যাইনি। আমরা নিজেরাই চামড়া ছাড়িয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছি।

পার্শ্ববর্তী আলিপুরা, নেহালগঞ্জ, বড় গোপালদী, আদমপুরা, বেতাগী এলাকায়ও কোরবানির পশুর চামড়ার ক্ষেত্রে দেখা গেছে একই চিত্র।

মাছুয়াখালী গ্রামের মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, আগে দেখেছি কোরবানির আগে চামড়া নেওয়ার জন্য ব্যাপারীরা ঘোরাঘুরি করতেন। অগ্রিম টাকাও দিয়ে রাখতেন। এখন আর কেউই চামড়ার খোঁজ নেয় না। ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম দেড়শ টাকা দিতে চাইছিল একজন। আমরা দেইনি, যেভাবে পারছি নিজেরাই কষ্ট করে চামড়াটা ছাড়িয়ে নিয়েছি। যারা খায় তাদেরকে চামড়া দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেনও কোরবানি দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা ছয় ভাগে কোরবানি গিয়েছি। চামড়ার এত কম দাম কোনোদিন দেখিনি। চামড়াটা নিজেরা খাওয়ার জন্য ভাগ করে নিয়েছি। চামড়া গরিবের হক, তাই নিজে একটা দাম ধরে সেই টাকা গরিবদের দান করে দেবো।

দশমিনা এলাকায় প্রতি বছরই মৌসুমি ব্যবসায়ী হিসেবে চামড়া কেনেন নিজাম উদ্দিন। তিনি বলেন, চামড়ার দাম নেই। দেড়শ থেকে ৩০০ টাকায় চামড়া কিনছি। তবে বেশিরভাগ মানুষই এই দামে চামড়া দিচ্ছে না। চামড়া কিনে দাম পাওয়া যায় না, তাই বেশি দাম দিয়ে কেনার ঝুঁকি কেউ নেয় না।

আগে শত শত চামড়া কিনলেও এবার দশটা চামড়াও কিনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ৩ জুন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চামড়ার মূল্য ঠিক করে দেয়। এবার ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়ার দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সরকার নির্ধারিত দাম অনুযায়ী একটি গরুর চামড়ার দাম এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা হওয়ার কথা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




বাউফলে বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা পুরুষের সন্ধ্যানে পুলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা এক পুরুষকে খুঁজছে পুলিশ৷ এর আগে বোরকা পরে পৌর শহরের গোলাবাড়ি এলাকায় ঘোরাফেরা করার সময় তিনি স্থানীয়দের নজরে পড়েন।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে গোলাবাড়ি এলাকায় বাউফল থানা পুলিশের একটি টিম ওই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে পৌর শহরের ২নং ওয়ার্ড গোলাবাড়ি বেইলি ব্রিজের ঢালে বোরকা পরিহিত একজন পুরুষ ঘোরাফেরা করছিল। এসময় তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। তখন এই এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন স্থানীয়দের কাছ থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে চুরি ডাকাতি ছিনতাই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পরবর্তীতে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয় এবং তাকে পালাতে সহযোগিতা করা জাকির হোসেনের বাড়িতে যায়। বাড়ি ও আশপাশে কোথাও তাকে খুঁজে পায়নি পুলিশ। পরবর্তীতে এই জাকিরের পরিবারকে থানায় দেখা করা নির্দেশ দেয় পুলিশ। তবে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫ টা) জাকিরের পরিবারের কেউ থানায় যোগাযোগ করেনি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সোহান খান বলেন, সম্প্রতি বাউফলে অনেক চুরি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে একজন পুরুষ বোরকা পরে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অতি দ্রুত ওই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে সত্য ঘটনা উদঘাটন করা উচিত।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ঈদ আগের দিন বোরকা পরে ঘোরাফেরা করার বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। তাই ওই ব্যক্তির ব্যাপারে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার সম্পর্কে জানতে জাকিরের সন্ধান করে তাকেও আমরা বাসায় পাইনি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলেও জানান তিনি।’

অন্যদিকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোণিত কুমার গায়েন বলেন, ‘এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে কোনও শঙ্কা নেই। বোরকা পরে ঘোরাফেরা করা পুরুষ ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’




পটুয়াখালীর ৩৫ গ্রামে ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার বদরপুর গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষসহ জেলার ৩৫টি গ্রামে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্‌যাপন করছেন।

রোববার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ৮টায় বদরপুর দরবার শরীফে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরিফের খাদেম মো. নাজমুল হোসেন জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ১৯২৮ সাল থেকে এখানকার গ্রামবাসীরা একদিন আগে থেকে রোজা রাখা শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন আগে তারা ঈদ উদ্‌যাপন করছে।

আরো পড়ুন : নিখোঁজের তিন দিন পর পায়রা নদী থেকে বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার

জানা গেছে, জেলার গলাচিপার সেনের হাওলা, পশুরী বুনিয়া, নিজ হাওলা, কানকুনি পারা, মৌডুবি, বাউফলের মদনপুরা, রাজনগর, বগা, ধাউরাভাঙ্গা, সুরদি, চন্দ্রপাড়া, দ্বিপাশা, শাপলা খালী, কনকদিয়া, আমিরাবাদ, কলাপাড়ার নিশানবাড়িয়া, ইটবাড়ীয়া, শহরের নাঈয়া পট্টি, টিয়াখালী, তেগাছিয়া, দক্ষিণ দেবপুরসহ মোট ৩৫ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ ঈদুল আজহা পালন করেছে। এরপর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় পশু কোরবানি করেন।

এরা সবাই হানাফি মাজহাব কাদেরিয়া তরিকাভুক্ত। এদের বর্তমান পীর চট্টগ্রাম চন্দনাইশ উপজেলার হযরত শাহসুফি মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ মমতাজ আলী।




পটুয়াখালীতে শেষ দিকে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে জমে উঠেছে কোরবানী পশুর হাট। জেলার ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা শহরের হাট গুলোতেও এখন ক্রেতা বিক্রেতাদের উপচে পরা ভিড়। তবে গত কয়েকদিন হাটে বেচা বিক্রি কম হলেও শনিবার থেকেই মূলত কোরবানী পশুর মূল বিক্রি শুরু হবে বলে জানান হাট সংশ্লিষ্টরা।

পটুয়াখালী সহ দক্ষিণ অঞ্চলের কোরবানী উপযোগী করে যে সব গবাদী পশু লালন পালন করা হয় তার বড় একটি অংশ গৃরস্ত বাড়িতেই লালন পালন করা হয়। ফলে খামারে লালন পালন করা গরুর থেকে এই গরুর চাহিদা একটু বেশি থাকে। এ কারনে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে অনেকে সরাসরি মালিকের কাছ থেকে গরু ক্রয় করতে দেখা গেছে। তবে শুক্রবার থেকে অধিকাংশ গরুর মালিক তাদের পশুগুলো হাটে তুলতে শুরু করেন।

পটুয়াখালী হেতালিয়া এলাকার খামারি ও পটুয়াখালী সদর উপজেলা ডেইরি ফার্মাস এসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এবার আমি আমার খামারে মোট ৫টি গরু মোটাতাজা করণ করেছি। এগুলো সব আমার নিজস্ব খামারের গরু। তবে গরুর খাবারের যে দাম তাতে খরচ অনেক বেশি হয়। এর পরও যেহেতু খামারে উৎপাদিত বাছুর, সে কারনে সেগুলোকেই লালন পালন করে কোরবান তে বিক্রি উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বাজারে এখনও পুরোদমে বিক্রি শুরু হয়নি। অনেকেই গরুর দাম দর করছেন, যেহেতু এখনও কোরবানীর ১ দিন বাকী আছে,হয়তো আজ (শনি – রবিবার) অধিকাংশ গরু বিক্রি হবে। ’

পটুয়াখালী হেতালিয়া বাঁধঘাট পশুর হাটে গরু কিনতে আশা ক্রেতা বাদশা মৃধা জানান, কোরবানীর ১দিন বাকী থাকায় এখনও বিক্রেতারা গরুর দাম ছাড়ছে না। এ কারনে গরু কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বাজারে বিভিন্ন সাইজের গরু আছে। সমস্যা হচ্ছে দুই দিন আগে গরু কিনলে তা লালন পালন করা এবং রাখা একটা বড় সমস্যা, এই কারনে শেষ দিনে গরু কিনতে হবে।

এদিকে গত কয়েক মাস থেকেই তিব্র দাবদাহ এবং গরমের কারনে গবাদী পশু নিয়ে কিছুটা বিপাকে পরেন খামারিরা। এমন পরিস্থিতিতে এই আবহাওয়ায় হাঁটে গরুর প্রতি বাড়তি নজর দেয়ার কথা বলছেন প্রানী সম্পদ বিভাগ। তবে প্রতিটিন হাটেই প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিম কাজ করছে করছে বলে জানান তারা।

আরো পড়ুন : ঈদের লম্বা ছুটিতে পর্যটক বরনে প্রস্তুত কুয়াকাটা

বিগত বছর গুলোর মতো এ বছরেও পটুয়াখালী জেলায় উৎপাদিত গরু ছাগল দিয়ে জেলার স্থানীয়দের কোরবানীর চাহিদা মিটিয়ে বাহিরের জেলায় সরবরাহ করতে পারবেন বলে দাবী জেলা প্রাণী সম্পদ বিভাগের।

পটুয়াখালী জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ ফলজুল হক সরদার জানান, পটুয়াখালী জেলায় এবার কোরবানীর জন্য ১২৬৬৭৬ গবাদী প্রাণী লালন পালন করেছেন ৬০৯০ জন খামারি। তবে জেলার জেলায় কোরবানী উপযোগী পশুর চাহিদা রয়েছে ১২৩২১০ টি। এ ক্ষেত্রে ৩৪৬৬ টি গবাদী প্রাণী উদ্বৃত্ত রয়েছে ,যা দিয়ে অন্য জেলার চাহিদাও মেটানো সম্ভব হবে।

এবার পটুয়াখালী জেলায় মোট ২৭ টি পশুর হাটে গবাদী পশু বিক্রি হচ্ছে। হাট গুলোতে প্রাণী সম্পদ বিভাগের মেডিকেল টিমের পাশপাশি জেলা পুলিশের নির্দিষ্ট টিম কাজ করছে। এসব পুলিশ ক্যাম্পে জাল টাকা সনাক্ত করন সহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।