সড়কের বেহাল দশা – পর্যটক হারাচ্ছে কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বেহালদশায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কুয়াকাটা ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকদের। কুয়াকাটা ভ্রমণ এখন অনেকের কাছে আনন্দের চেয়ে ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে বেশি।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কটির বেহাল দশায় এ ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্ট বড় বড় গর্তের এক একটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে থাকছেন কুয়াকাটাগামী পর্যটকরা।

শুক্রবার পাখিমারা বাজার এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা মহাসড়কের গর্তে পড়ে আটকা পড়ে ঢাকাগামী দুটি বাস। এ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকসহ ওই এলাকার মানুষ।

সরেজমিন দেখা গেছে, কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্যবন্দর পর্যন্ত সড়কটির সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশে বড় বড় গর্ত হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে গাড়ি। যে কোনো মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা।

স্থানীয়রা জানান, পর্যটনমুখী সড়ক হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের কারণে এবং দীর্ঘদিন সংস্কার কাজ না হওয়ায় সড়কটিতে অসংখ্য ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের অর্ধেকাংশের পিচ, বালু ও খোয়া উঠে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে সড়কটি। সংস্কারে উদ্যোগ না নেওয়ায় ভাঙা সড়ক দিয়েই যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে।

পাখিমারা বাজারের ব্যবসায়ী মো. সোহেল গাজী বলেন, এটা মনে হয় না মহাসড়ক। এটি এখন খালে পরিণত হয়েছে। ৩-৪ ফুট গর্ত হয়েছে। চলাচলকারী গাড়ি এসব গর্তে পড়লে বড় ধরনের বিপদ ঘটবে।

তার মতে, এটি এখনই সংস্কার না করলে যাতায়াত বন্ধ হয়ে যাবে। প্রভাব পড়বে পর্যটন খাতে।

হানিফ পরিবহনের ড্রাইভার মো. মঞ্জু হাওলাদার বলেন, অনেক ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারি।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিয়ার জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

কুয়াকাটা থেকে ঢাকাগামী পর্যটক অধরা হাওলাদার জানান, আমরা সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে কুয়াকাটা থেকে রওনা দিই। আমাদের বাসটি পাখিমারা বাজারে বড় গর্তে পড়ে আটকা পড়লে আড়াই ঘণ্টা আমাদেরকে সেখানে বসে থাকতে হয়। পরে ট্রলি গাড়ির সাহায্যে বাসটিকে টেনে উঠানো হয়। এরপর আরও একটি বাস এখানে আটকা পড়তে দেখেছি। দ্রুত এই সড়কের সংস্কার প্রয়োজন বলে জানান তিনি। সড়কের ভোগান্তি দূর করা না হলে অনেকেই কুয়াকাটা বেড়াতে আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কুয়াকাটার ব্যবসায়ীদের মতে, কুয়াকাটার প্রতি মানুষের অনীহার বড় একটি কারণ হলো সড়কটির চরম দুরবস্থা। সড়কটির কারণে অনেকে কুয়াকাটায় আসতে চায় না। বছরের পর বছর ধরে সড়কটি এভাবে পড়ে আছে। অথচ এর সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কুয়াকাটার স্বার্থে সড়কটি মেরামত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

কুয়াকাটার যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা দূর করা গেলে কুয়াকাটার প্রতি মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়বে, তেমনি কুয়াকাটার ব্যবসা-বাণিজ্যও আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৯-২০১৪ অর্থ বছরে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা বাজার থেকে মহিপুর মৎস্যবন্দরের শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১১ কিলোমিটার অংশের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করে খুলনার দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তখন এর নির্মাণ ব্যয় ছিল ২০ কোটি টাকা। কাজটি মানসম্মত না হওয়ায় তখন ঠিকাদারের বিল আটকে দেয় পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে দুটি দল সরেজমিন তদন্তও করে। তদন্তকারী দলের পক্ষ থেকেও কাজের গুণগত মান ভালো হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। নিম্নমানের কাজের কারণে তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৮ কোটি টাকার বিল আটকে দেয়। তবে এ কাজ বাবদ ১২ কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দি রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রাশেদুল ইসলাম চূড়ান্ত বিল দাবি করে ২০১৪ সালে আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলার কারণে ১১ কিলোমিটার সড়কের ওপর সংস্কার কাজে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেন। যার ফলে গত দশ বছর ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে পাখিমারা বাজার থেকে শেখ রাসেল সেতু পর্যন্ত এ অংশের সড়কটি।

পটুয়াখালী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেন, ‘কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কের সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়কটি নিয়ে আদালতে মামলা থাকায় এতদিন এর সংস্কার কাজ করা যায়নি। গত বছরের ২৭ মার্চ উচ্চ আদালত মামলার শুনানি শেষে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় এ সড়কের নির্মাণ বা মেরামতের জন্য আর কোনো বাধা নাই। ইতিমধ্যে সাড়ে ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ১৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে দরপত্র আহ্বান করে ঠিকাদার নিযুক্ত করা হয়েছে। আমরা আশা করছি মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী মাসের মধ্যে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দিতে পারব। এরপর দ্রুত ওই সড়কের সংস্কার কাজ শুরু হবে।




পায়রার ১ ইউনিট বন্ধ – দক্ষিণে দৈনিক ৭ ঘণ্টা লোডশেডিং

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ৪ দিন ধরে বন্ধ পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ফলে দক্ষিণাঞ্চলসহ গোটা দেশে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে চরমে। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

বিদুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিডিউল মেইনটেনেন্সের জন্য সাময়িকভাবে এক ইউনিট বন্ধ রয়েছে। তবে অপর ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে বন্ধ হয় পটুয়াখালীর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিট। ১৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুই ইউনিটের একটি বন্ধ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেয় লোডশেডিং। দৈনিক ছয়-সাত ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে না। তাই গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন।

আরো পড়ুন : বাউফলে কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্বাবাধায়ক প্রকৌশলী শাহ আব্দুল হাসিব জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রে নিয়মিত যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণের আওতায় এক ইউনিটের উৎপাদন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ হয়। তবে ৪ জুলাই ইউনিটটির রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে ফের উৎপাদন শুরু হবে।

জাতীয় গ্রিডে কর্মরত একজন সহকারী প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পটুয়াখালী জেলায় মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট। সেখানে বুধবার থেকে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। এ অবস্থায় বেশি মাত্রায় লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে ন্যাশনাল ক্রাইসিসের কারণে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ বেশি হচ্ছে। তার ওপর পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ না হওয়ায় পটুয়াখালী জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে। তবে সম্মিলিতভাবে বিদ্যুৎ বিভাগ চেষ্টা চালাচ্ছে এই ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস’ থেকে মুক্ত হওয়ার।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী দীন মোহাম্মদ মুহিম জানান, এ জেলায় মোট ৩২ হাজার গ্রাহকের জন্য ১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১০-১২ মেগাওয়াট পাওয়া যাচ্ছে। ফলে পৌর এলাকায়ও মাঝে মধ্যে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পায়রা। কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চীন ও বাংলাদেশের যৌথ বিনিয়োগে নির্মিত হয়েছে। ২০২০ সালের ১৫ মে প্রথম কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনে আসে।

এরপর ২০২৩ সালের ২৫ মে ডলার সংকটে কয়লার দাম পরিশোধ করতে না পারায় গত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। একই কারণে ৫ জুন দুপুরে কেন্দ্রটির ইউনিটটিও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।




পটুয়াখালীতে সাপের খামার করে বিপাকে রাজ্জাক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সাপের খামার করে বিপাকে পটুয়াখালীর রাজ্জাক। ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে পটুয়াখালীর আব্দুল রাজ্জাকের বাংলাদেশ স্নেকস ভেনম (Bangladesh snakes venom) নামের বিষধর সাপের খামারটি।

এই খামারের প্রায় ২৫০টি বিষধর সাপের মৃত্যু হয়েছে। তবে খামারটির সরকারি অনুমোদন না থাকায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতার সুযোগ নেই বলে জানা গেছে।

আব্দুল রাজ্জাক বিশ্বাস ২০০০ সালে পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের নন্দিপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ির পাশে একটি কিং কোবরা সাপ এবং ২৪টি ডিম নিয়ে গড়ে তোলেন বিষধর সাপের খামার। পরিকল্পনা ছিল সরকারি অনুমোদন পেলে সাপের বিষ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে হবেন দেশ সেরা উদ্যোক্তা। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন অধরাই রয়ে গেল।

বর্তমানে কিং কোবরা, পাইথন, পঙ্খীরাজ, কালকুলিন, সাদা গোমা, কেউটে, দাঁড়াশ, বাসুয়া, পদ্ম গোমা, বিষঝুড়ি ও গোঁড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড় শতাধিক বিষধর সাপ রয়েছে রাজ্জাক বিশ্বাসের খামারে।

আরো পড়ুন : দুমকী জনতা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ – আহত-৫

নন্দিপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজ্জাক বিশ্বাস ভাই ২৩ থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত সাপের খামার লইয়া কষ্ট করতে আছে। এই বইন্নায় আমাগো এলাকায় কোমর পর্যন্ত পানি উঠছিল, আর এই পানিতে ভাইয়ের কয়েকশ সাপ মারা গেছে। ভাই খুব কষ্ট পাইছে।

একই এলাকার হায়দার বিশ্বাস বলেন, রাজ্জাক ভাই এই সাপের খামার কইরা নিজের আর বাপের টাহা পয়সা সব শেষ করছে। এহন বাপের থুইয়া যাওয়া জমি বন্ধক দিছে। সরকার যদি এই মুহূর্তে তারে একটু সাহায্য করতো তাহলে হয়তো রাজ্জাক বিশ্বাস আবারও ঘুইরা দাঁড়াইতে পারতো।

এ বিষয়ে রাজ্জাক বিশ্বাস বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে এই সাপের খামারটি এই পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। সাপের খামারটি টিকিয়ে রাখতে গিয়ে আজ আমি নিঃস্ব। কিছুদিন আগে আমার একমাত্র ছেলেটা মারা যায়, ছেলের মৃত্যু কথা শুনে আমার আব্বাও মৃত্যুবরণ করলেন। ছেলে আর বাবার মৃত্যুর এক মাস পর আমার মা মারা গেলেন। স্বজনদের হারানো শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই রেমালের কারণে পানি উঠে আমার খামারের প্রায় আড়াইশ সাপ মরে গেল। আমি শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখেছি, কিছুই করতে পারিনি।

পটুয়াখালী উপকূলীয় বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক তারিকুল ইসলাম বলেন, যেহেতু রাজ্জাক বিশ্বাস অবৈধভাবে সাপের খামারটি পরিচালনা করছে, তাই তাকে সরকারি সহযোগিতার কোনো সুযোগ নেই। গত বছরের ১১ এপ্রিল বন্যপ্রাণি অপরাধ দমন ইউনিট ও উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত হয়ে খামারটি বন্ধ করে সাপ বনে ছেড়ে দেওয়ার জন্য একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। যেহেতু খামারটি এখনও চলমান আছে তাই এটিকে বন্ধের জন্য আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।




পটুয়াখালীতে জিংক সমৃদ্ধ ধান-চাল সংগ্রহ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকাল ১০ টায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খামার বাড়ি উপ-পরিচালকের সম্মেলন কক্ষে গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ইম্প্রোভড নিউট্রিশন (গেইন) এর সহায়তায় জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের আয়োজিত বায়োফর্টিফাইড ধান সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব মসুর ডাল ও চালের ভূমিকা বিষয়ক কর্মশালায় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বায়োফর্টিফাইড ধান-চাল সংগ্রহ এবং সামাজিক সুরক্ষায় জলবায়ুবান্ধব ধান ও মসুর ডাল উৎপাদন বিষয় প্রজেক্টরের মাধ্যমে বিস্তারিত আলোচনা করেন গেইন এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আহমেদ শিহাব জামান।

আরো পড়ুন : ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কলাপাড়ায় ফের ধরা পড়ল রাসেলস ভাইপার

জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার এসএম নুরুল আখতার নিলয়, মেডিকেল অফিসার ডা. মো. তৌফিকুর রহমান, ব্রি- বরিশালের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রিয় লাল বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহজাহান খান, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি কমরেড মোতালেব মোল্লা, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জাফর খান, সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা এইচ এম রেজাউল করিম, গলাচিপা উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল আল মামুন, এসডিএ নির্বাহী পরিচালক কেএম এনায়েত হোসেন, ব্র্যাক জেলা সমন্বয়কারী মো. নেফাজ উদ্দিন, কারিগরি পরিদর্শক মো. নাঈম হোসেন, কৃষক সুমন চন্দ্র মিস্ত্রী, কৃষানি মাকসুদা প্রমুখ।

কর্মশালায় জেলা খাদ্য ও কৃষি বিভাগের উপজেলা সমূহের কর্মকর্তা, কৃষক, কৃষানি, মিলারসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার ৬০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহন করেন।




২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কলাপাড়ায় ফের ধরা পড়ল রাসেলস ভাইপার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পৃথক এলাকায় ঘরের দরজায় ও জালে আটকে পড়া দুটি ৫ ফুট লম্বা বিষধর রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) সকালে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নে ও ধুলাসার ইউনিয়নের নলাপাড়া গ্রামে ওই সাপ দুটি দেখে স্থানীয়রা জরুরি কল সেন্টারে ফোন দিলে বন বিভাগ অ্যানিমেল লাভার্সের সহযোগিতায় সাপ দুটিকে উদ্ধার করা হয়।

জানা যায়, ধুলাসার ইউনিয়নের নলাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল বারেকের বাড়ির জালে আটকা পড়ে রাসেল ভাইপার‍। ওই বাড়ির এক নারী লাকরি আনতে গিয়ে দরজার সামনে জালে আটকে পড়া ওই সাপটি দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। এ সময় সাপটিকে এক নজর দেখতে ভিড় জমান ওই এলাকার উৎসুক জনতা। পরে সাপটি উদ্ধার করে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্যরা।

আরো পড়ুন : দেয়ালে পানি দিতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে কৃষকের মৃত্যু

একই বাড়ির বাসিন্দা মো. সবুজ বলেন, বাড়ি থেকে রাস্তায় ওঠার পথে সোমবার (২৪ জুন) রাতে জালে আটকা পড়ে সাপটি। সকালে মা সাপটি দেখতে পেয়ে আমাকে ডাক দেন। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে অনেক লোক একনজরে সাপটি দেখতে ভিড় জমান। সাপটি এখনো জীবিত আছে। আমরা এটাকে আঘাত করিনি। এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া টিমের সদস্যদের সংবাদ দেয়া হয়েছে।

অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর কুয়াকাটা টিমের সদস্য আরিফুর রহমান শাওন জানান, বন বিভাগের কাছে তথ্য পেয়ে আমরা নলাপাড়া গ্রাম থেকে একটি রাসেলস ভাইপার সাপ উদ্ধার করি। বালিয়াতলীতেও আমাদের সদস্যরা পৌঁছেছে। সাপ দুটি উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ফোন পেয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে সদস্য পাঠিয়েছি। অ্যানিমেল লাভার্সের সহযোগিতায় সাপ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব বলে জানান তিনি।




তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনকবলে দেশের বৃহৎ বীজবর্ধন খামার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :; স্থাপনের পূর্ব থেকেই তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনের কবলে দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলের (বরিশাল ও পটুয়াখালী) বীজ বর্ধন খামার প্রকল্প। বালাম ধানের জন্য বিখ্যাত বরিশালের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার চরবাঁশবাড়িয়ায় উদ্বোধন করেন এই মেগা প্রকল্প।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ২৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বীজবর্ধন খামার স্থাপনে চর-বাঁশবাড়িয়া, চরসাইমুন ও চরবোথামের ১ হাজার ৪৪ দশমিক ৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে। সুগন্ধি কালিজিরা আর বাঁশফুল বালাম প্রজাতির ধানবীজসহ স্থানীয় জাতের ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন করে কৃষকের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। ওই খামারকে ঘিরে কৃষক এবং বিএডিসি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু সেই স্বপ্ন চুরমার করে দিচ্ছে রাক্ষুসে তেঁতুলিয়া নদী। খামার প্রকল্পে বীজ উৎপাদনে আসার আগে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় ২৬ একর জমি। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে প্রায় এক’শ ৩০ একর জমি হারিয়ে যায় প্রকল্প এলাকা থেকে।
পর্যায়ক্রমে সেখানে নির্মাণ করা হয় বীজ সংরক্ষণের গুদামঘর এবং প্রকল্পে কর্মরতদের জন্য বহুতল বিশিষ্ট কার্যালয় ভবন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ব্যবস্থাপনাও রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই জমি চাষ করে বীজ উৎপাদন এবং পরিবহনের জন্য শত শত কোটি টাকার বিভিন্ন সামগ্রী কেনা হয়েছে। কিন্তু তেঁতুলিয়ার ভাঙনে সবই বিলীন হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর অস্থায়ী বিশ্রামাগারের দ্বিতল ভবনটি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে।

তেঁতুলিয়ার অব্যাহত ভাঙনের আড়ালে পরিচালক মিজানুর রহমান ভূমি উন্নয়ন, বালু ভরাট, বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদী খনন নামক একই কাজ ভিন্ন ভিন্ন নামে দেখিয়ে ৩৪কোটি টাকাসহ নদীতে ব্লক নির্মাণ না করে অর্থ লোপাটের ঘটনায় তার কর্ম স্থগিতাদেশ দেন বিএডিসি চেয়ারম্যান।

স্থানীয় কৃষক মনির হোসেন হাওলাদার জানায়, যেহেতু ভাঙনকবলিত নদীর পাড়ে প্রকল্পটি গড়া হয়েছে, তাই আগে থেকে ভাঙন রোধে ব্লক দ্বারা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে জমি নদীগর্ভে বিলীন হতো না। পরিকল্পনায় ভুল থাকায় এমনটি হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া না হলে বীজ গুদাম ও অফিস ভবন নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বীজ বর্ধন খামারের ডিডি শেখ ইকবাল হোসেন বলেন, ২০১৪ সালে ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে ভাঙন রোধের পরিকল্পনা ভুল ছিল। তার চেয়ে তেঁতুলিয়া নদীর মাঝখানে যে ডুবো চরটি রয়েছে সেটি গভীর করে খনন করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব। এ ছাড়া ব্লক কিংবা আরসিসি শিটের মাধ্যমে বেড়িবাঁধ তৈরি করা হলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব।




ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকীতে সরকারি জনতা কলেজে সদ্যঘোষিত ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে পাল্টাপাল্টি আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে সদ্যঘোষিত কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অস্বীকৃতি জানিয়ে সহ সভাপতি মোঃ আবু সাইদ হাওলাদার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান সুধা’র নেতৃত্বে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

অপরদিকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ কমিটির সভাপতি সানাউল্লাহ হিরা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মঈন সিকদারের নেতৃত্বে আরেকটি আনন্দ মিছিল উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ক্যাম্পাসে এসে মিষ্টি বিতরণ করে।

এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাধারন সম্পাদক শাহ জাহান আকন সেলিম, শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মোঃ নাসির উদ্দিন মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান খান, দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সহিদুল আলম হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক রাকিব হোসেন মৃধা প্রমুখ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে কৃষকের জালে আটকা পড়লো রাসেলস ভাইপার

জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ তানভীর হাসান আরিফ বলেন, স্বঘোষিত পরিষদের কোন ভিত্তি নেই। যেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ কমিটিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, গভীর যাচাই বাছাই করে এ কমিটি দেয়া হয়েছে। সংগঠন বিরোধী কর্মকাণ্ডে যদি কেউ লিপ্ত হয় তবে সে দায় তাকেই নিতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুন সানাউল্লাহ হিরাকে সভাপতি ও মো: মঈন সিকদারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আগামী ১ বছরের জন্য সরকারি জনতা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করে পটুয়াখালী জেলা শাখা ছাত্রলীগ।




ভোট চেয়ে দলীয় পদ হারালেন  ইসলামী আন্দোলন এর জয়েন্ট সেক্রেটারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে দলীয় পদ হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) প্রেরিত ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত এক অব্যাহতিপত্রের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।

এর আগে ৪ জুন কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল তাকে।

অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী ইসলামী আন্দোলন পটুয়াখালী জেলা শাখার ২০২৩-২৪ সেশনের জয়েন্ট সেক্রেটারিসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এ সত্ত্বেও সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের আমীরের কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন তিনি। এ ব্যাপারে জেলা কমিটি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তার জবাবে তিনি মিথ্যার আশ্রয় নেন এবং সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হয়েছেন।

আরো পড়ুন : বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয় জানতে চাইলে হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জনগণকে নির্দিষ্ট একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে বলেছি। তবে ষড়যন্ত্র করে আমাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয় ইসলামী আন্দোলনের পটুয়াখালী জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নজরুল ইসলাম বলেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে নির্বাচনে প্রচারণা ও ভোট চাওয়ার বিষয়ে সত্যতার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ জিহাদী গত বছরের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দলের জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন।




বসত ঘরে দেখা মিলল রাসেলস ভাইপার – আতঙ্কে গলাচিপাবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বসত ঘরে ভয়ংকর বিষধর রাসেলস ভাইপার দেখে আতঙ্কে প্রহর গুণছে এলাকাবাসী। আর এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায়। ফলে সবার মুখে এখন একটাই কথা রাসেলস ভাইপার থেকে কীভাবে বাঁচা যায়।

গত শুক্রবার গলাচিপা পৌর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ড গার্লস স্কুল রোডে মন্টু বালার বাসায় রাসেলস ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে ভয়ে ডাক চিৎকার দিলে এলাকাবাসী সাপটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। এ সময় স্থানীয়রা সাপটিকে মাটিচাপা দেন। এতে আতঙ্কিত হয়ে ঘরের বাহিরে অবস্থান করছেন এলাকার লোকজন। পরে স্থানীয়রা সাপটির ছবি তুলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে শনাক্ত করে যে সাপটি বিষাক্ত রাসেলস ভাইপার। বিশ্বের ভয়ংকর সাপের মধ্যে রাসেলস ভাইপার অন্যতম। আগে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাই, ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে দেখে গেলেও বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বত্র এর বিস্তার লাভ করে। এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত ও কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যার ফলে এই সাপে কামড়ালে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ মারা যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

এ বিষয়ে গলাচিপা বনবিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাসেলস ভাইপার সাপ লোকালয়ে সাধারণত খুব কমই দেখা যায়। বন্যার পানিতে ভেসে আসতে পারে এই সাপ। বাচ্চা দেওয়ার কারণে হয়তো ওই সাপটি লোকালয়ে চলে এসেছে। তবে সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।




বাঁধের ভাঙন ঠেকাতে পারছে না জিও ব্যাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপার তেঁতুলতলা গ্রামের পাশে ভাঙছে রাবনাবাদ নদীর তীর। সেখানে ফেলা জিও ব্যাগও ধসে পড়ছে।

ফলে রাবনাবাদ নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে পড়ছে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধের একটি অংশ। এতে উপজেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ ও এর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সড়ক রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এতেও ভাঙন থামছে না। উল্টো বেশকিছু জিও ব্যাগ ধসে পড়ছে নদীতে।

এলাকাবাসী জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার পর বাঁধের একটি অংশ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। এ সময় প্লাবিত হয় ইউনিয়নের আটখালী, ডাকুয়া ও হোগলবুনিয়া গ্রাম।

আটখালীর কৃষক বাদল মৃধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে লবণপানি ঢুকে পড়েছিল। এতে তাঁর ৫ কুড়ি পানের বরজ নষ্ট হয়ে যায়।

ডাকুয়ার তাজুল ইসলামের ভাষ্য, জোয়ারের নোনাপানি বাঁধ উপচে বাড়িঘর ও ফসলি জমিতে ঢুকে পড়ছে। ফলে আগামী মৌসুমে চাষবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।
জোয়ারে রাবনাবাদ নদীর তীব্র ঢেউ বাঁধে আছড়ে পড়ে। এতে ভেঙে যাওয়া অংশ পুরো ধসে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মন্তব্য করেন আটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক দীপক নারায়ণ ভূঁইয়া।
তাঁর ভাষ্য, বিশেষ করে অমাবশ্যা-পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারের প্রবল চাপ থাকে। ভাঙন ঠেকাতে বালুর বস্তা ফেলা হলেও এ সময়কে ঝুঁকিমুক্ত বলা যাবে না। ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতেও সম্প্রতি ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী পাউবো ও এলজিইডি সূত্র জানায়, ১৯৭৬-১৯৭৭ অর্থবছরে গলাচিপায় ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে পাউবো। ৫৫/১ পোল্ডারের বাঁধটি গলাচিপা পৌর এলাকা থেকে শুরু হয়েছে গলাচিপা সদর ইউনিয়ন, পানপট্টি, রতনদী-তালতলী ইউনিয়ন, ডাকুয়া পর্যন্ত গেছে। ১৯৯৫-১৯৯৬ অর্থবছরে ওই বেড়িবাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণ করে এলজিইডি। গলাচিপা থেকে বকুলবাড়িয়া ­ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া পর্যন্ত ২১ কিলোমিটার অংশে কার্পেটিং করা হয়। এ সড়কটি গলাচিপা উপজেলা সদরের সঙ্গে ডাকুয়া, কলাগাছিয়া, চিকনিকান্দি, গজালিয়া ও বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ সহজ করে দেয়। এ ছাড়াও সড়কটি দিয়ে পটুয়াখালী জেলা সদর, দশমিনা ও বাউফল উপজেলায় সহজে যাতায়াত করা হয়। ফলে এটি এখন জেলার ব্যস্ততম একটি সড়ক।

আরো পড়ুন : পরকীয়ার অপবাদে আ. লীগ নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন

ডাকুয়া এলাকার বাসিন্দা গাজী গোলাম মোস্তফা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা। তাঁর আশঙ্কা, যেভাবে বাঁধের পাশাপাশি সড়কের অংশ নদীতে ভেঙে পড়ছে, এতে তাদের এলাকা সদর থেকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন তিনি।

ডাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটিও ভাঙনঝুঁকিতে আছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ রায়। তাঁর ভাষ্য, তেঁতুলতলা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ঘরবাড়ির পাশাপাশি মসজিদ-মন্দির, দুটি বিদ্যালয়, প্রাচীন একটি জমিদারবাড়ি, সাংবাদিক নেতা আলতাফ মাহমুদের কবরস্থানটিও হুমকির মুখে। সড়কটি নদীতে ধসে পড়লে পাঁচ ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। তাই নদীশাসন ও খনন করে গতিপথ বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এলজিইডির গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, সম্প্রতি তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ভাঙনঝুঁকিতে থাকা সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। শুরুতে বাঁধ মেরামত করে পরে কার্পেটিং সড়ক নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এখন বাঁধের কাজ চলছে। তা শেষ হলেই সড়ক নির্মাণ শুরু করা যাবে।

রাবনাবাদের জোয়ারে তেঁতুলতলায় বাঁধের ১০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে জানিয়ে পটুয়াখালী পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মিরাজ গাজী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও পূর্ণিমার জোয়ারে ১০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। সঙ্গে সড়কও ভেঙেছে। ভাঙন রোধে তারা জিওব্যাগ ফেলছেন।

তাঁর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফ হোসেন জানান, ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার জিওব্যাগ ফেলে নদী সংরক্ষণকাজ শুরু হয়েছে। এতে এক কোটি ৭২ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে।