বঙ্গোপসাগরে পাঁচ ট্রলার ডুবি – ৪৭ জেলে উদ্ধার – নিখোঁজ ২

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তোড়ে কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের ১নং বয়া হাইরের চর এলাকায় ৪৯ জেলে নিয়ে পাঁচটি মাছ ধরা ট্রলার ডুবে গেছে। এরমধ্যে একটি ট্রলারসহ ৪৭ জেলে উদ্ধার হলেও চারটি ট্রলারসহ নিখোঁজ দুই জেলের তিন দিনেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের জাকির প্যাদার ট্রলারের জেলে ফিরোজ তালুকদার ও মৌডুবির আবদুল করিমের ট্রলারের জেলে নাঈম চৌকিদার।

গত বৃহস্পতিবার রাতের পৃথক সময়ে এ ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

কলাপাড়ার লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন জানান, ২৩ জুলাই সাগরে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শেষে ১৪ জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যায় লালুয়ার জাকির প্যাদার ট্রলার। বৃহস্পতিবার রাতে ট্রলারের পিছনে বসা অবস্থায় প্রচণ্ড ঢেউয়ের তোড়ে ফিরোজ তালুকদার সাগরে পড়ে যায়।

শনিবার দুপুর পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে ট্রলার মালিক জাকির প্যাদা।

মৎস্য বন্দর আলীপুর আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল জলিল জানান, তার আড়তে মাছ বিক্রি করে আবদুল করিম, শাহীন মাতুব্বর, সোহরাব গাজী, রাজ্জাক মাতুব্বর ও মো. উজ্জলের পাঁচটি ট্রলার সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের তোড়ে ডুবে যায়। এরমধ্যে একটি ট্রলারসহ ৪৭ জেলে উদ্ধার হলেও বেল্লাল চৌকিদারের ট্রলারের জেলে নাঈম চৌকিদার নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কয়েকশ ট্রলার মাছ শিকার বন্ধ করে আলীপুর ও মহিপুর মৎস্য বন্দর ও বিভিন্ন মোহনায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করছে কলাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারেরও বেশি ট্রলার এমনটাই জানিয়েছেন সাগর থেকে ফিরে আসা ট্রলারের জেলেরা।




বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বন্দরে ৩ নম্বর সংকেত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুলাই) বিকেলে আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের ১০টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এতে বলা হয়েছে, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নৌবন্দরকে ১ নম্বর সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।




পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা, কর্মহীন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতা ও কারফিউর কারণে থমকে আছে দেশের পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এখন জনমানবশূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ধরা হলেও, পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে বছরজুড়েই পর্যটকে মুখর থাকে সমুদ্রকন্যা।

প্রাণোচ্ছ্বল সেই সৈকত এখন পর্যটক শূন্য। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। পর্যটক না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক।

গত কয়েকদিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার উপরে। আরও কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, তা নিয়ে শঙ্কায় হোটেল-মোটেল মালিকরা।

পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলমান পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবার আগমন ঘটবে পর্যটকদের, এমনটাই আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।




নিখোঁজের ৩৬ ঘণ্টা পর পায়রা নদী থেকে জেলের লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটার দিকে কুদবারচর এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় তাঁর লাশ উদ্ধার করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত জেলের নাম হারুন আকন (৬০)। তিনি উপজেলার কাঁকড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে ছেলে নান্নু আকন ও মাঝি নিখিল গোলদারের সঙ্গে নিয়ে পায়রা নদীতে ছোট নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরতে যান হারুন। রাত আটটার দিকে মাছ ধরা শেষে তীরে ফেরার সময় নৌকাটি তীব্র স্রোতে উল্টে যায়। এ সময় ছেলে নান্নু ও নিখিল সাঁতার কেটে তীরে ফিরলেও নিখোঁজ হন আকন।

স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে উদ্ধারে ব্যর্থ হন। ৩৬ ঘণ্টা পর পাশের মজিদবাড়িয়া ইউনিয়নের কুদবারচর এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, পরিবারের লোকজন হারুন আকনের লাশ শনাক্ত করেছেন।




পটুয়াখালীতে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে স্বামী ও স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া গ্রামের নিজেদের বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত আশ্রাব আলী (৭০) কলাপাড়ার খেপুপাড়া সরকারী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন ও স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৬০) গৃহিণী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশ্রাব আলীর বড় ছেলে হিমু চাকুরীর সুবাদে ঢাকায় থাকেন। গত তিনদিন যাবত বাবা মাকে মুঠোফোনে না পেয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বাড়ির প্রধান গেট ভিতর থেকে বন্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা দেয়াল টপকে ভিতরে প্রবেশ করে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। এসময় তাদের ঘরের দরজা খোলা ছিলো। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেনি পুলিশ।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার আবদুস সালাম জানান, এ দম্পতির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।




পটুয়াখালী থেকে চলছে ঢাকাগামী বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী থেকে ঢাকাগামী বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুলাই) সকালে জেলার সব বাসস্ট্যান্ড থেকে স্বল্প পরিসরে বাস চলাচল শুরু হয়। এছাড়া, অভ্যন্তরীণ রুটে বাস, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলছে।

এদিকে, পটুয়াখালীতে কারফিউ শিথিল করায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জীবনযাত্রা। সকাল থেকে খুলেছে দোকানপাট, হাট-বাজারে বেড়েছে মানুষের ভিড়। তবে এখনও জেলায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক হয়নি।

কলাপাড়া শ্যামলী বাস কাউন্টারের ইনচার্জ মহাসীন পারভেজ বলেন, সকাল থেকে ঢাকাগামী সাকুরা, নাবিলা, গ্রীনলাইন, এনা ও শ্যামলীসহ বেশ কিছু বাস ছেড়ে গেছে। তবে ছাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলক কম।

সোহাইব মিয়া নামের এক যাত্রী বলেন, আমি ঢাকাতেই থাকি। বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আটকা পড়েছিলাম। আজ বাস চলাচল শুরু করায় ঢাকা ফিরে যাচ্ছি।

ভ্যান চালক হোসেন শিকদার বলেন, কারফিউ চলাকালীন সময় রিকশা চালিয়েছি। তবে সে সময় সড়কে মানুষজন ছিল না। আজ কারফিউ শিথিল করার পর লোকজনের আনোগোনা বেড়েছে। এছাড়া সব দোকানপাটও খুলেছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, কলাপাড়ায় সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মাঠে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে।




পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী ২৫০ বেড মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি ৫শ বেডে উন্নীত করণের জন্য গ্রহণ করা প্রকল্পটি চলতি বছরের ৩০ জুন কাগজে কলমে সমাপ্ত হলেও বাস্তবে এখনও কাজ শেষ হয়নি।

আর প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে ছাত্রলীগের চাহিদার ৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনকে মারধর করে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়াসহ কাজ বন্ধ করারও অভিযোগ উঠেছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পৌর মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে চিঠি দিয়েছেন।

৯ জুলাই গণপূর্ত বিভাগের ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ, শের ই বাংলা নগর ঢাকা-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণপূর্ত ই/এম কাঠের কারখানা বিভাগ নিয়োগপ্রাপ্ত। উক্ত প্রকল্পের আওতাধীন হোস্টেলের জন্য নির্ধারিত আসবাবপত্র সরবরাহ পরবর্তীতে তার চাহিদার প্রেক্ষিতে পুরুষ ও মহিলা হোস্টেলে আসবাবপত্র সেটিং ও ফিটিং করানোর জন্য ঢাকা থেকে গত ১২ মে টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয়।

হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করার সময় কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি টেকনিশিয়ানদের কাজে বাধা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ গত ২০ মে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের আসবাবপত্র সেটিং করণের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন অধ্যক্ষসহ ২৫০ বেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। পরে ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করে কাজের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে বিস্তরিত আলাপ-আলোচনা করে সহযোগিতা চাওয়া হয়। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে পুনরায় টেকনিশিয়ান প্রেরণ করা হয় গত ২২ জুন।

নির্বাহী প্রকৌশলী ই/এম বিভাগ কে-০১৩১৬৬৬৪৩৪৩ নাম্বার থেকে আনুমানিক রাত ১১.৩০টায় ফোন করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং টেকনিশিয়ান যাতে প্রেরণ না করা হয় সে ব্যাপারে হুমকি প্রদান করেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনে অবহিত করা হয়। ঈদ-উল-আজহা পরবর্তীতে হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় টেকনিশিয়াদের পুনরায় পটুয়াখালী মেডিকেলের ছাত্রলীগ কর্মীরা সরকারি কাজে বাধা প্রদান করেন। এমনকি টেকনিশিয়ানরা যে হোটেলে রাতে অবস্থান করে সেখান থেকেও মারধর করে, মোবাইল কেড়ে নেওয়াসহ কলেজে ঢুকে যাতে কাজ না করে সে ব্যাপারে হুমকি প্রদর্শন করা হয়।

পরে টেকনিশিয়ানরা ভয়ে কাজ না করে তারা পটুয়াখালী ত্যাগ করেন। গত ১ জুলাই ঢাকা থেকে কর্তৃপক্ষের চাহিদার প্রেক্ষিতে পুনরায় নতুন (দশ) টেকনিশিয়ানদের হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং করণের জন্য প্রেরণ করা হলে মহিলা হোস্টেলের আসবাবপত্র ফিটিং এর সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ কতিপয় ছাত্রলীগ কর্মী সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান করেন এবং কাজ না করার জন্য হুমকি প্রদর্শন করায় তারা প্রাণ ভয়ে কাজ করতে এবং স্থানীয় হোটেলে অবস্থান করতে চাচ্ছে না।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘বৃহন্নলা’

এমতাবস্থায়, বারবার টেকনিশিয়ান পাঠানোর পরেও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের মারধরের হুমকি সহ কলেজে প্রবেশে নিষেধ করায় সরকারের কাজ যথাসময়ে বাস্তবায়ন হবে না মর্মে প্রতীয়মান। সুতরাং যথাসময়ে সরকারি কাজ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের সরকারি কাজে বাধা প্রদানে বিরত রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হল। অন্যথায় প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে সমাপ্ত হবেনা মর্মে আশংকা করা যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

এ বিষয় জানতে চাইলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। ছাত্রলীগের ওরাও তো আমাদের ছাত্র। ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এ ঘটনায় একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান হবে। তবে বর্তমানে পুলিশের পাহারায় কাজ চলছে।

রোববার (১৪ জুলাই) সকালে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বিভাগ ও হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের জন্য আনা বিভিন্ন আসবাবপত্র নতুন ভবনের বিভিন্ন কক্ষে মজুত করে রাখা হয়েছে। নির্ধারিত সময় কাজ করলে এসব আসবাবপত্র সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে সংযোজন করার কথা। কিন্তু ছাত্রলীগের বাধার কারণে তার অধিকাংশই মজুত অবস্থায় পড়ে আছে। এতে করে হোস্টেলে অবস্থান করা ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই মূলত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রাথমিক ভাবে তারা পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, এ নিয়ে শিক্ষকরা একাধিকবার কথা বললে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের সাথে অশোভন আচরণ করে। তবে এ বিষয় মেডিকেল কলেজ শিক্ষকরা সরাসরি কেউ কথা বলতে সাচ্ছন্দ বোধ করছেন না।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনিরুজ্জামান জানান, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি মো. সাদিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইফাদুল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তারা পুরো বিষয়ের সাথে ছাত্রলীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন। পাশাপাশি এটিকে বিএনপি জামায়াত ঘরানার শিক্ষকদের একটি কর্মকাণ্ড বলেও জানান তারা।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ঠিক রাখার পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শেষ করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন সবাই।




পটুয়াখালীতে সালিশে এক কামড়ে আঙুল নিয়ে পলায়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় সালিশ বৈঠকে বিমল মালাকার ওরফে বিট্রিশ নামে এক যুবক কামড় দিয়ে আঙুল বিচ্চিন্ন করেছেন এক দর্জির। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বাউফল পৌর শহরের কুন্ডুপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অরুন মালাকার উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তিনি পৌর শহরের বরিশাল টেইলার্সের মালিক।

জানা গেছে, সম্প্রতি স্ত্রী হত্যার অভিযোগে কারাভোগ করে বের হয়ে আসেন বিট্রিশ। বৃহস্পতিবার রাতে এ নিয়ে সালিশ বৈঠক বসলে অরুন মালাকার বিট্রিশের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। এ নিয়ে বিট্রিশ ক্ষিপ্ত হয়ে অরুনের ডান হাতের তর্জনীর মাথা কামড়ে নিয়ে পালিয়ে যান। উপস্থিত লোকজন অরুনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, ‘অরুণের আঙুলের মাথা একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে মাথাটা সেলাই দিয়ে দিয়েছি। যদি কোনো ইনফেকশন হয় তাহলে উন্নত চিকিসা নিতে হবে।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




হিজাব আইন লঙ্ঘন, তেহরানে তার্কিশ এয়ারলাইনস বন্ধ করল ইরান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : হিজাব আইন লঙ্ঘন করায় তুরস্কের পতাকাবাহী তার্কিশ এয়ারলাইনসের অফিস বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজ এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৯ জুলাই) অভিযান চালিয়ে অফিসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিক প্রচার না পেলেও গতকাল বুধবার (১০ জুলাই) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজও পুলিশের বরাতে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

জানা যায়, পুলিশ সোমবার তার্কিশ এয়ারলাইনসের ওই অফিসে যায়। সেখানকার নারী কর্মীদের হিজাব পরতে না দেখে সতর্ক করে পুলিশ। তখন তাৎক্ষণিক হিজাব পরতে হুমকিও দেওয়া হয়। বলা হয়, নারীদের মাথা ঢাকতে অস্বীকৃতি ইরানের আইনের লঙ্ঘন। ওই সময় নারী কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে উচ্চবাচ্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয় পুলিশ।

পরের দিন পুলিশ আবারও সেখানে যায়। এবার তাঁরা অফিসটি বন্ধ করে দেয়। তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, বুধবারও অফিসটি খোলার ব্যাপারে কিছু জানায়নি পুলিশ। এ ব্যাপারে তার্কিশ এয়ারলাইনসও কোনো বিবৃতি দেয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।




শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালীর জেল সুপার মাহাবুবুল আলম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশালের বিভাগে শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মাহাবুবুল আলম। বন্দি কল্যাণ, কারাবন্দিদের সংশোধন ও পূনর্বাসন এবং কারা কর্মচারীদের কল্যাণে অবদান রাখায় তিনি গত ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের জন্য এ পুরস্কার লাভ করেন।

ইতোপূর্বে তিনি নারায়নগঞ্জ জেলা কারাগার, গাইবান্ধা জেলা কারাগারেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গাজীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী-বাউফল সড়ক অবরোধ পবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের

তিনি ১৯৯৯ সালে ডেপুটি জেলার পদে কারা বিভাগে যোগদান করেন। আজ এক অনাড়ম্বর আনুষ্ঠানিকতায় বরিশাল বিভাগের ডিআইজি (প্রিজন্স) মো. জাহাঙ্গীর কবির তাকে ক্রেষ্ট, সনদপত্র এবং এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পুরস্কার প্রদান করেন।