বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘তিন দিনের বৃষ্টির লইগ্যা ঘরের বাইরে যাইতে পারি না। বেইন্নাকালে কিছু খাই নাই। একটু আগে কোলা (বিল) দিয়া কিছু কচুর লতি টোহাইছি, হেইয়া কুড়ি টাহায় বেইচ্চা দিছি। আইজ এ কুড়ি টাহা দিয়াই পেট চালামু।

কয়েক দিন পেট ভইরা খাইতে পারি নাই। বসুন্ধরা আইজ আমার আহারের ব্যবস্থা কইররা দিছে। আল্লায় হেগো ভালো করবে। আমি আল্লার কাছে দুই হাত তুইল্লা মোনাজাতে দোয়া করমু।
’ কথাগুলো বলছিলেন গলাচিপা পৌর এলাকার রাজিয়া বেগম।

পেশায় তিনি একজন ভিক্ষুক। অন্যের বাড়ি থেকে যে খাবার দেয় তা দিয়েই দিন চলে। গলাচিপা পৌরসভার অন্যের ঘরের বারান্দায় থাকেন।

বিধবা রাজিয়ার কোনো সন্তান না থাকায় কষ্টে দিন কাটছিল তার।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নের দক্ষিণ চরখালী গ্রামের বিধবা রোকসনা বেগমের চার কন্যাসন্তান নিয়ে ভিক্ষা করে দিন চলে। ছোট একটি খুপরি ঘর তা-ও ঘূর্ণিঝড় রিমেলের আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। ভিক্ষা করে কোনো মতে পেট চললেও খুপরি ঘর আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি। টানা বর্ষণে কন্যাসন্তানদের নিয়ে অন্যের ঘরের বারান্দায় আশ্রয় নিয়েছেন।
আশ্রয় মিললেও খাবার জোটেনি তাদের।

রোকসানা বলেন, ‘আইজ আমার ময়নাগুলার (মেয়েদের) মুহে ( মুখে) ভাত দিতে পারি নাই। আইজ আল্লায় নিজে আমার ধারে বসুন্ধরার সাহায্য পাডাইছে। এইডা আমার লইগ্যা নেয়ামিত। আমি এই মালিকের লইগ্যা দোয়া করি।’

বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অসহায় দরিদ্রের চাল, ডাল, তেল, আলু, চিনি, মরিচ, হলুদ, লবণ ও নগদ দুই হাজার টাকা দেওয়া হয়। নগদ অর্থ সহায়তা করেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।

খাদ্য সহায়তা বিতরণের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা, প্রভাষক বাদল চন্দ্র মিতে, বসুন্ধরা শুভসংঘ গলাচিপা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রেদওয়ান তালাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম মলি, দপ্তর সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, সদস্য সাদিক মাহমুদ প্রমুখ।




সাংবাদিকদের সাথে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: “সকলের সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আল্লাহ সহায় থাকলে প্রতিপক্ষরা কিছুই করতে পারবে না। গরিব-ধনী উর্দ্ধে সেবা নিতে যে লোকই আসবে, সকলেই সেবা পাবে। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে প্রতীক না দেয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিপুল পরিমান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করতে পেরেছে। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে ধন্যবান জানাই। দল-মত সকলকে সাথে নিয়ে গলাচিপা উপজেলার উন্নয়নে বদ্ধ-পরিকর।”

মতবিনিময় সভায় গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত প্রথম নারী চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু এমনটি বলেছেন। বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে গলাচিপা উপজেলা নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদ্বয় উপজেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে একটি মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নব-নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ ফরিদ আহসান কচিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান মোসাঃ তহমিনা আক্তার, স্টার্ফ রিপোর্টার শংকর লাল দাস, সাংবাদিক খালিদ হোসেন মিল্টন, প্রেসক্লাবের সভাপতি সমিত কুমার দত্ত মলয়, মোঃ কাওসার, মোঃ হারুন অর রশিদ, সাজ্জাদ আহমেদ মাসুদ,সাইমুন রহমান এলিট, জাকির হোসেন, রুবেল আকন, মোনাজাতসির মামুন, মাসুদ রানা, রিয়াদ হোসেন, হাসান এলাহী, সঞ্জিব দাস, নাসির উদ্দিন, সোহাগ রহমান, মোঃ জিল্লুর রহমান জুয়েল, সোহেল আরমান, আহসান উদ্দিন জিকো, সাকিবুল হাসান সাকিব, মিঠুন চন্দ্র পাল, কমল সরকার ও আরেফিন লিমন ,পঙ্কজ গাঙ্গুল, সঞ্জীব সাহাসহ সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




পটুয়াখালীতে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হচ্ছে অক্টোবরে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটের প্রথমটি অক্টোবরে উৎপাদন শুরু করবে। এই ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। এছাড়া দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হবে ডিসেম্বরে।

এটি কলাপাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দ্বিতীয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এর কাছেই পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র অবস্থিত।

আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেড (আরএনপিএল) নামের যৌথ উদ্যোগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠান নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন লিমিটেড ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড।

২৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৫০ একর আয়তনের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৯ সালের আগস্টে।

এটি পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার উত্তরে রামনাবাদ নদীর তীরে অবস্থিত।

প্রকল্প পরিচালক তৌফিক ইসলাম বলেন, ভৌত কাঠামোসহ আনুষঙ্গিক সব কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পায়রা প্লান্টের বিদ্যমান সঞ্চালন লাইন ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ২০ কিলোমিটার ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘দেশের বার্ষিক চাহিদার ১০ শতাংশ মেটানোর জন্য এই কেন্দ্রটি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম।’

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৭ হাজার মেগাওয়াট এবং পিক আওয়ারের চাহিদা প্রায় ১৭ হাজার মেগাওয়াট।

মোট চাহিদার মধ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয় প্রায় ২৫ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) শওকত ওসমান বলেন, শক্ত কয়লা ব্যবহারের পরিবর্তে তারা গুঁড়ো কয়লা ব্যবহার করবেন, কারণ এটি বেশি কার্যকরী এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো ক্ষতিকারক পদার্থ নির্গমন কমায়।

জানতে চাইলে সহকারী প্রকৌশলী শাহরিয়ার হাসান বলেন, এটি একটি অত্যাধুনিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যেখানে কম কয়লা পুড়িয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে, ফলে পরিবেশ দূষণ কমবে।

আরপিসিএল-নরিনকো সূত্রে জানা গেছে, এই প্ল্যান্টে ফ্লাই অ্যাশ সাইলো, ফুয়েল-ওয়েল পাম্প, বৃষ্টির পানি ধরে রাখা, ফায়ার স্টেশন পরিষেবা এবং অগ্নিনির্বাপক পানির ট্যাঙ্ক ছাড়াও বয়লার, পাওয়ার হাউস, টারবাইন, জেনারেটর, চিমনি ইত্যাদি সাধারণ অবকাঠামো আছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্জ্য পানি সংরক্ষণাগার বেসিন, প্রশাসনিক ভবন, প্রকৌশল ভবন, মাল্টিপারপাস হল, ওয়ার্কশপসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে।

এছাড়া শ্রমিকদের ডরমেটরি, ক্যান্টিন ও মসজিদের পাশাপাশি আমদানি করা কয়লা খালাসের জন্য কনভেয়ার বেল্টসহ একটি আধুনিক জেটি নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে।

এছাড়া প্লান্টের মূল ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তারা জানান, বর্তমানে এই প্রকল্পে ৯ হাজার ৯৭২ জন বিদেশি এবং ৫ হাজার ৭ জন বাংলাদেশি কাজ করছেন।




পটুয়াখালীতে গোয়াল ঘর থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়নের পূর্ব নওমালা গ্রামের ল্যাড়া মুন্সী বাড়ির নাসির মুন্সীর খড়ের গাদা থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বাউফল থানার পুলিশ ওই আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, নাসির মুন্সী তার খড়ের গাদাটি জলিল মুন্সির কাছে বিক্রি করেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জলিল মুন্সি খড়ের গাদাটি ভেঙ্গে নেওয়ার সময় আগ্নেয়াস্ত্রটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করেন।

ওসি আরো জানান, ইংল্যান্ডের তৈরি ওই অস্ত্রটিকে রাইফেল টু টু বোর বলা হয়। এটিকে ব্যালেষ্টিক পরীক্ষা করে বিস্তারিত জানা যাবে কি ধরনের অস্ত্র। তবে এই ঘটনায় কেউ আটক হয়নি।




পটুয়াখালীতে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনে মতবিনিময় সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘ভরবো মাছে মোদের দেশ’, ‘গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ শ্লোগান নিয়ে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০জুলাই) বেলা ১২টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা আয়োজিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের। মতবিনিময় সভায় গনমাধ্যমকর্মী ও সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংরক্ষন, আবাসস্থলের সুরক্ষা, নাব্যতা বৃদ্ধি, সময়মত ভিজিএফ প্রদান সহ ভিভিন্ন বিষয় আলোচনা করা হয়।




পটুয়াখালীতে দু’শতাধিক নিম্ন আয়ের পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কারের আন্দোলন এবং পরবর্তী বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিপাকে পরা শ্রমজীবী ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুলাই) সকালে দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির উদ্যোগে প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রিক বিতরণ করেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

এসময় দি পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (বাপ্পি), দেলোয়ার হোসেন আকন, মোঃ ফারুক মৃধা, মোঃ জামাল হোসেনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় চেম্বার অব কমার্স সভাপতি আবুল কালাম আজাদ তার বক্তব্যে বলেন, দেশের কারফিউর চলাকালীন সময়ে সল্প আয়ের মানুষের আয়ের পথ বন্ধ হওয়ার কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ আমরা দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রিক বিতরণ করেছি এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই খাদ্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।




রাশিয়ান নৌবাহিনী দিবসের প্যারেডে অংশ নিচ্ছে প্রায় ২০০টি যুদ্ধ জাহাজ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাশিয়ান নৌবাহিনী দিবসের প্যারেডে ২০০টি যুদ্ধ জাহাজ এবং নৌযান প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো প্রদর্শন করে।

২৮ জুলাই নৌবাহিনী দিবসে সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি নৌ কুচকাওয়াজ এবং সামরিক ক্রীড়া উৎসব,ক্যাস্পিয়ান ফ্লোটিলার নিজ ঘাঁটিতে এবং ভূমধ্যসাগরে নৌ টাস্ক ফোর্সের ঘাঁটিতে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামগুলো প্রদর্শন করে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানায়, ‘২৮ জুলাই, ২০২৪-এ রাশিয়ান নৌবাহিনীর দিবস উপলক্ষে নৌ কুচকাওয়াজ এবং সামরিক ক্রীড়া উৎসব সেন্ট পিটার্সবার্গে, উত্তর বাল্টিক এবং প্যাসিফিক ফ্লিট,ক্যাস্পিয়ান ফ্লোটিলা এবং ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ান নৌবাহিনীর স্থায়ী টাস্ক ফোর্সের প্রধান ঘাঁটিগুলোর জলসীমায় অনুষ্ঠিত হয়।’

সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং রাশিয়ান নৌবাহিনীর প্রধান ঘাঁটিগুলিতে নৌবাহিনী দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানগুলোতে কনসার্ট, সামরিক ব্যান্ডের পারফরম্যান্স এবং উৎসব আতশবাজি প্রদর্শনের মধ্যে শেষ হয়।

মন্ত্রণালয় বলেছে,‘২০২৪ সালে নৌবাহিনীর উৎসবের অংশ হিসাবে প্রধান নৌ কুচকাওয়াজ এবং সামরিক ক্রীড়া উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণীর ২০০টি জাহাজ এবং নৌযান অংশ নেয়। ১০০ টিরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম এবং ১৫,০০০ সেনা সদস্যও এতে নিযুক্ত রয়েছে।’




কলাপাড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘূনিভূত হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় গত ৪ দিন ধরে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে বিভিন্ন নিচু স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার (২৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলায় ২৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস।

এদিকে, সুষ্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দর সমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সকল মাছ ধরার ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

কলাপাড়ার টিয়াখালীর পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামের হাসনাইন বলেন, চার দিন ধরে বৃষ্টি এখন ঘরের মধ্যেও পানি ঢুকেছে। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।

একই এলাকার শিহাব হোসেন জানান, বৃষ্টির পানি পুকুরে তলিয়ে সব মাছ ভেসে গেছে। উঠোনে হাটু সমান পানি। দুর্ভোগে আছি।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা উপকূলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।




সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি এবং ইন্টারনেটের ক্ষতিকর দিক

বরিশাল অফিস :: শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনের জের ধরে দেশে একরকম অস্থিতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে জানমালের। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই তার প্রভাব বেশ প্রকটভাবেই দৃশ্যমান।

বাস চলাচল, বাজারঘাট তো বন্ধ রয়েছেই, তার সাথে স্কুলকলেজ আর অফিস-আদালত কোনো কিছুই স্বাভাবিক নিয়মে চলছে না। সবচেয়ে বেশি নজরে পড়ার মতো ঘটনা হলো বেশ কয়েকদিন ধরে সারাদেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। ডেটা ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় সারাদেশে সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সংযোগ ফিরিয়ে আনার পূর্ণ চেষ্টা করছে। তবুও, এখনো অবধি ইন্টারনেট সংযোগ করতে নানারকম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু যোগাযোগ বা বিনোদন নয়. জরুরি যোগাযোগ এবং দেশের পরিস্থিতির তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম শিথিল হওয়ার এই ব্যাপার টায় আমাদের নেতিবাচকে নজর দেওয়ার চেয়ে ইতিবাচক দিকগুলোতে দৃষ্টিপাত করা উচিত। এই নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ফলে দুনিয়া আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। মুহূর্তেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত কোনোকিছুই ভালো নয়, এসবের অতিরিক্ত ব্যবহারও তাই বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। খুব সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, বর্তমান সময়ের অধিকাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর উপর নির্ভর হয়ে পড়েছে। অনেকের ক্ষেত্রে এটা আসক্তিও বলা যেতে পারে।

‘সিনেট’- এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার মানুষের উদ্বিগ্নতা বাড়িয়ে দেয়। এক মুহূর্তও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে মনে হতে থাকে, ‘হয়ত কোনো জরুরি খবর সময়মতো জানতে পারলাম না!’ তাই অকারণেই অনেকে জরুরি কাজ ছাড়াও সারাক্ষণ মোবাইল, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, কম্পিউটার, টিভির সামনে বসে থাকে। এর ফলে দেখা যায়, কোনো কাজে ভালোভাবে পরিপূর্ণ মনোযোগ ধরে রাখা যায় না। বারবার অবচেতন মন এইসব ডিভাইসের দিকেই ঝুঁকে পড়ে।

তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আমাদের নির্ভরতাকে অনুধাবন করে, এইসব অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেন আসক্তি তৈরি না হয়, সেই চেষ্টা করতে হবে। অবসর সময় কাটাতে বিকল্প অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।




একটি সেতুর অভাবে ৮ লাখ মানুষের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষ দেশের সার্বিক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফেরি ও ট্রলারে পারাপারে সময় নষ্টের পাশাপাশি নানামুখী ভোগান্তি পোহাচ্ছে বিভাগীয় শহর ও রাজধানী গামী যাত্রীরা। তিন উপজেলার প্রায় ৮ লাখ মানুষের বহু বছরের লালিত স্বপ্ন লোহালিয়া নদীর ওপরে বগা সেতু নির্মাণ হবে। রাজধানী ঢাকা যেতে বগা ছাড়া অন্যকোথাও ফেরি পারাপার হতে হয় না।

এ অঞ্চলের ভুক্তভোগী জনগণ ও সংশ্লিষ্টরা জানায়, পটুয়াখালী জেলা শহরের সাথে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলাকে বিভক্ত করেছে লোহালিয়া নদী। প্রতিদিন এই নদীর বাউফল উপজেলার বগা পয়েন্টের ফেরি পারাপার হয়ে জেলা, বিভাগ ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে হাজার হাজার যানবাহন। প্রতিনিয়ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফেরি ঘাটে আটকে থেকে ব্যাহত হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।

অন্যদিকে ট্রলারে করে এই নদী পাড় হতে নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছে মানুষ। জেলার ভিতর সবচেয়ে বৃহৎ এবং গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা বাউফল। এই উপজেলাতেই রয়েছে দেশের প্রাচীণতম বাণিজ্যিক এলাকা কালাইয়া ও কালিশুরি বন্দর। এই বাণিজ্যিক এলাকা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছেড়ে যায় শতশত ভাড়ি ও মাঝাড়ি আকৃতির ট্রাক। এছাড়াও বাউফল-ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে বগা ফেরি হয়ে রাজধানীতে চলাচল করে দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার বহু যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।

ঢাকা থেকে বাউফল আসা যাত্রী আরিফুর জানান, ঢাকা থেকে বাউফল আসতে সময লেগেছে ৪ঘন্টা অথচ ফেরি ঘাটে এসে ১ঘণ্টা বসে আছি এটা খুবই দুঃখজনক।

অপর যাত্রী বলেন, সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছি আমরা সাধারণ মানুষ।

পরিবহন চালক আব্দুর রহমান বলেন, পদ্মা সেতুর সুফল পাচ্ছি না আমরা। বগা ফেরিতে এসে ১/দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় এই দূর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে চাই।

এই অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ফেরি কারণে সবথেকে বেশি বিপাকে পড়ে ইমার্জেন্সি রোগী ও তাদের স্বজনরা। অনেক সময় ফেরিতে দেড়ির কারণে রোগীদের মৃত্যু ঝুঁকি থাকে বলেও জানান তারা।

বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, সেতু না থাকায় রোগীদের বেশি সমস্যা হচ্ছে। ফেরিতে দেড়ি হওয়ায় রোগীদের চিকিৎসা পেতে দেড়ি হয় এতে মৃত্যু ঝুকি বেড়ে যায়।

বাউফলের ৮ বারের এমপি দীর্ঘ ৪০ বছর বিভিন্ন সময়ে জনগণকে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে তা আজও বাস্তবায়ন না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ।

বাউফল পৌরসভার সরকার দলীয় মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, বগা সেতু নির্মাণ হলে এই অঞ্চল হবে শিল্পাঞ্চল এবং এই অঞ্চলের কৃষির অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই অঞ্চলের মানুষ। বদলাবে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান, কমবে বেকারত্ব। প্রধানমন্ত্রী বগা সেতু নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আ স ম ফিরোজ বলেন, সেতু নির্মানে বিলম্ব হওয়ার বিষয় সরকারের কোনো হাত নেই। চীনা সরকার বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করতেছে। তারা ইতিমধ্যে সেতুর সম্ভব্যতা নিশ্চিত হয়েছে। তাদের তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত সেতুটি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।