পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: চরমোন্তাজের দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া, নয়ারচর ও পশ্চিম চরমোন্তাজকে একত্রিত করেছে একটি সড়ক। সড়কটিতে ইটের সলিং (এইচবিবি) নষ্ট হয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে চার গ্রামের আট হাজার মানুষ। আর বর্ষা মৌসুমে এই ভোগান্তি বেড়ে যায় আরো দ্বিগুণ। রাস্তা নির্মাণের ১২ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ইটের রাস্তায় পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) ও উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের একপাশে দারভাঙ্গা, বাইলাবুনিয়া ও নয়ারচর গ্রাম, আর অন্য প্রান্তে রয়েছে পশ্চিম চরমোন্তাজ গ্রাম। এই চার গ্রামকে একত্রিত করেছে ১ কিলোমিটারের এই চরমোন্তাজ লঞ্চ ঘাট-বাইলাবুনিয়া সড়কটি। ১২ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কতৃক নির্মাণ করা হয় ১০ ফুট প্রশস্তের ইটের সলিংয়ের সড়কটি। কিন্তু দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিভিন্নস্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে শত শত ভ্যান, ইজিবাইক, মাল বোঝাই পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীসহ গর্ভবতী নারী ও রোগীদের। এছাড়া এসব এলাকার উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারে আনা, নেয়ায় বেগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। সড়কের বেহাল দশায় পরিবহন খরচ বেশিসহ ঠিক সময় মতো বাজার ধরতে পারছেন না কৃষকরা।
ভ্যানচালক ইমন গাজী বলেন, এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্ত থাকায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কের অধিকাংশ জায়গাই ভাঙা। বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এভাবেই পড়ে আছে। ফলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা চাই এই সড়কটি মেরামত করা হোক।
স্থানীয় কৃষক খলিল কাজী বলেন, নিজেদের খেতের উৎপাদিত সবজি বাজারে নিতে বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ভ্যান চালকরা যেতে চায় না। দ্রুতই সড়কটি পিচ ঢালাইয়ের দাবি আমাদের।
রাঙ্গাবালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান বলেন, রাস্তাটির টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হয়েছে, আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাজ করা যাচ্ছে না। আবহাওয়া অনুকুলে এলে এ সড়কসহ উপজেলার আরো কয়েকটি সড়ক পিচ ঢালাই (কার্পেটিং) কাজ শুরু হবে।