রোববার থেকে শুরু হচ্ছে পবিপ্রবির ক্লাস ও পরীক্ষা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার খুলে দেয়া হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সমূহ আগামী রোববার শুরু হবে ক্লাস ও পরীক্ষা।

ছাত্রছাত্রীরা হলে ফিরতে শুরু করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, হল খুলে দেয়া হয়েছে আগামী রোববার থেকে যথানিয়মে ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হবে মর্মে নোটিশ দেয়া হয়েছে।

সট: ড. এস এম হেমায়েত জাহান, রেজিষ্ট্রার পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।




পটুয়াখালীতে ট্রাফিকের দায়িত্বে ইসলামী আন্দোলন প্রতিনিধি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা প্রধান মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি দেশ ছেড়েছেন। এই খবর পাওয়ার পরপরই দেশের বিভিন্ন স্থানে অগ্নি সংযোগ করেছে উত্তেজিত জনতা। এসময় বিভিন্ন থানায় পুলিশের উপর হামলা চালানো হয়েছে, এতে অনেক পুলিশ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন।

ফলে পটুয়াখালী শহর ঘুরে কোনো পুলিশের দেখা মেলেনি। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) শহরের চৌরাস্তা মোড়ে দেখা যায় ইসলামী আন্দোলনের কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী লাঠি হাতে রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছেন। ইসলামি আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবীদের এমন ভূমিকায় খুশি পটুয়াখালীবাসী।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম জানান, দেশের এই সংকটময় সময়ে ইসলামী আন্দোলন পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে জনদুর্ভোগ কমানোর জন্য সহযোগী সংগঠন ছাত্র আন্দোলন, যুব আন্দোলন ও শ্রমিক আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী পটুয়াখালী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীসহ নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কমিটি করে দেয়া হয়েছে। অসহায় মানুষের উপর যেন কোনো নির্যাতন না হয় আমরা সেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। যতদিন দেশের এই সংকট দূর না হবে ততদিন আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।




ঢেউটিন বিতরণের পর আত্মগোপনে চলে যান আ স ম ফিরোজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ এবং দুযোর্গ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য আ স ম ফিরোজ।

তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরের পর আ স ম ফিরোজ স্পিড বোটে তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে ভোলা জেলার নাজিরপুর দিয়ে লালমোহন চলে যান। সেখান থেকে হেলিকপ্টার যোগে নিরাপদ গন্তব্যে চলে যা তিনি।

তবে অপর একটি সূত্র জানায়, ঘটনার দিন আ স ম ফিরোজ তার গ্রামের বাড়ি কালাইয়ার ইউনিয়নে অবস্থান করেন এবং সন্ধ্যার দিকে বিকল্প পথে তিনি ঢাকার গুলশানের বাসভবনে পৌঁছান।

আ স ম ফিরোজ ৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত ২৮৮ পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও নগদ টাকা বিতরণ করেন। দুপুর ১টার দিকে ইউএনও’র কার্যালয়ে আপ্যায়ন শেষে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় জনতা ভবনে নেতাকর্মীদের সাথে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

শুধু আ স ম ফিরোজ নয়, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকশ শীর্ষ নেতা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।




পটুয়াখালীতে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন জেলা পুলিশ সদস্যরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন জেলা পুলিশ সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার (৬ জুলাই) দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ লাইনসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পুলিশ সদস্যদের হত্যাকারীদের বিচার, পুলিশ কোনো সরকার অথবা রাজনৈতিক দলের অধীনে নয়, নিরপেক্ষ পুলিশ গঠন, আট ঘণ্টার ডিউটি, অধস্তন কর্মচারীরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কোনো অবৈধ/মৌখিক আদেশ বাস্তবায়নে চাপ প্রয়োগ বন্ধ, পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরোধ, ২০ দিন ছুটি বৃদ্ধি করে ৬০ দিন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে অধস্তন কর্মচারীদের সোর্স মানি বরাদ্দ, পুলিশের প্রতিটি ইউনিটি প্রতি মাসের ১০ (দশ) তারিখের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের টিএ/ডিএ পরিশোধ, নতুন বেতন স্কেল প্রণয়ন পূর্বক মূল বেতন ও ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধি এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলা পুলিশ লাইন্স, থানা, ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্রের নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করে নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করতে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাফিউদ্দিন মোহাম্মদ যোবায়ের হোসেন পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দাবি মেনে নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

তাঁরা আরও জানান যৌক্তিক দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা পুলিশ কর্মবিরতি অব্যাহত রাখবে।




বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের জন্য পটুয়াখালীতে ছাত্র আন্দোলনের সহায়তার দাবী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারাদেশে নিহতদের মধ্যে পটুয়াখালী জেলায় নিহত ১১ জনের পরিবারের আর্থিকসহ সার্বিক সহায়তার দাবী করেছে পটুয়াখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কতিপর ছাত্র নেতৃবৃন্দ।

আজ (৬ আগস্ট) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের দরবার হলে জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলমের কাছে এ দাবী করেন পটুয়াখালীতে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কতিপয় সমন্বয়ক দাবী কারক ছাত্র নেতৃবৃন্দ।

এ সময় নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসককে ফুলদিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমন্বয়ক ছাত্রদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তোফাজ্জেল হোসেন, তানভীর, ফাহাদ, রিফাত, কাওসার, জিন্নাত, সজীব খাঁন, ইমতিয়াজ, ছালমান, তানজিলা শিমু, কামরুল ইসলাম, গোলাম কিবরিয়া, রাকিব হোসেন, মুজাহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল রাইয়ান ও জুবায়ের হোসেন।

বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের TC দেয়া থেকে বিরত থাকতেও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন সমন্বয়ক প্রতিনিধবৃন্দ। এ ব্যাপারে

জেলা প্রশাসক তাদেরসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।




আমরা কোন দলের নয় – যেখানে অন্যয় সেখানেই প্রতিবাদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটায় বৈষম্যবিরোধী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ‘ছাত্র ও শিক্ষক শান্তি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) ১১টায় পর্যটন হলিডে হোমস ও ইউথ ইনের হল রুমে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও কুয়াকাটার সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এতে আংশ নেয়।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইমরান বলেন, আমরা কোন দলের নয়, আমরা দেশের ছাত্র, যেখানে অন্যয় সেখানেই প্রতিবাদ, আমরা কোন রাজনৈতিক দলের ফায়দা নিতে আন্দোলন করিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক জিএম সবুজ বলেন, আমরা এই অরাজকতা ও সংহিতা করার জন্য রক্ত দেইনি। একটি মহল তারা ফায়দা নিচ্ছে। এটি মোটেই কাম্য নয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক খায়রুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমাদের অনেক ভাইয়ের জীবেনর বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারী সরকারের পতন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমরা সেই ভাইদের স্মরণ করছি।

অন্য সমন্বয়ক জিনিয়া গাজী বলেন, দেশ কারো বাপের না, কারো স্বামীর না। আপনারা বিজয়ের নামে যা করতেছেন এটি আমরা চাই না। আমরা চাই শান্তি।

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, সিএম সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জসিম উদ্দিন বাবুল, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, মো. খলিলুর রহমান, (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক, বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের, সাইদুর রহমান সোহেল, প্রধান শিক্ষক, আবু হানিফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলহাজ্ব মাঈনুল ইসলাম মন্নান, সহকারী শিক্ষক, জাহিরুল ইসলাম মিরন, প্রভাষক।

অনুষ্ঠানের নিহতদের স্বরনে এক মিনিট নিরবতা শেষে, দোয়া ও মিষ্টি বিতরন করা হয়।




পটুয়াখালীতে আনন্দ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে কারফিউ ভেঙ্গে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।

সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষুব্ধরা সদর রোডস্থ আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর করে অফিসের সামনে আগুন দেয়।




পটুয়াখালীতে দফায় দফায় ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়, দলীয় এমপি-মেয়র ও নেতাদের বাসায় দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভেঙে ফেলা হচ্ছে জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল।

সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পরলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে পড়েন। শহরের ঝাউতলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে আনন্দ মিছিল করেন। এসময় তারা হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায় এবং বন্ধ হয়ে যায় শহরের দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা সদর রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর করে আসবাবপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এরপর তারা শহরের চার লেনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্য ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট মো. আফজাল হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তানভীর হাসান আরিফ এবং দৈনিক পটুয়াখালী প্রতিদিনের প্রকাশক গোলাম সরোয়ার বাদলের ব্যবসায়ী কার্যালয়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রিফাত হাসান সজিবের কার্যালয়।

এছাড়া গলাচিপায় স্থানীয় এমপি এসএম শাহজাদার বাসা ও আওয়ামী লীগ কার্যালয়, রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুজ্জামান মামুন খানের বাসা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও পৌর মেয়র বিপুল হালদারের বাসায় হামলা ও লুটপাট করা হয়। এ ঘটনায় মেয়র বিপুল হালদার আহত হন। হামলা ও ভাঙচুর করা হয় উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অমি গাজীর ব্যবসায়ী কার্যালয়।

বাউফল উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়।

দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি স্বদেশ চন্দ্র সামন্তর বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।




হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ৬ ঘন্টা বন্ধ থাকবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিমান বন্দর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘন্টার জন্য বন্ধ থাকবে।
আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ কথা জানানো হয়েছে।




নিজের বক্তব্যই ‘কাল’ হলো শেখ হাসিনার: কোটা আন্দোলনের ঘটনা প্রবাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নিজের দেওয়া এক বক্তব্যই কাল হল শেখ হাসিনার। বক্তব্যের জেরেই বাড়লো আন্দোলনের গতি। সেই গতিতে সামনেই দাঁড়াতে পারলেন না তিনি। ছাড়তে হলো ক্ষমতা।

কোটাপ্রথা নিয়ে টানা আন্দোলন শুরু হয় ৫ জুলাই। শুরুতে এই আন্দোলন অহিংস হলেও তা সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে ১৫ জুলাই থেকে।

প্রথমে আন্দোলন প্রতিহত করতে নামেন ছাত্রলীগ ও দলীয় সমর্থকরা। পরে নামানো হয় পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীকে। নিহত হন ৩ শতাধিক মানুষ।

সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে গত ১৪ জুলাই সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কোটা পাবে না তো কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?

কোটা বিরোধী আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যে মর্মাহত ও অপমানিত বোধ করায় স্লোগানে স্লোগানে প্রতিক্রিয়া দেখান শিক্ষার্থীরা।

এদিন রাত ১০টার পর প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ভেতরে জড়ো হয়ে স্লোগান আর বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তারা। পরে রাত ১১টার পর থেকে ১টা পর্যন্ত বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে এসে জড়ো হন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে।

কোটার বিরোধিতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতায় তারা টিএসসি ও এর আশপাশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। মাঝেমধ্যেই স্লোগানে উচ্চকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ছাত্রদের সঙ্গে ছাত্রীরাও বিভিন্ন হল থেকে বেরিয়ে যোগ দেন মধ্যরাতের এ বিক্ষোভে।

শিক্ষার্থীদের একটি অংশ মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়েও অবস্থান নেন। ঘণ্টা দেড়েক অবস্থান করে রাত ১টার পর ফিরে যেতে দেখা যায় তাদের।

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘চেয়েছিলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’, ‘তুমি নও, আমি নই, রাজাকার, রাজাকার’, ‘লাখো শহীদের রক্তে কেনা, দেশটা কারও বাপের না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। তাদের ক্ষোভ কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে।

তবে পরদিন সকালে ওবায়দুল কাদের এক বক্তব্যে বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঔদ্ধত্বের জবাব দেবে ছাত্রলীগ’। সেদিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন ১৬ জুলাই সারা দেশের শিক্ষাঙ্গনে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। সেদিন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলিতে আবু সাঈদ নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়।

১৭ জুলাই জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার বিশ্বাস শিক্ষার্থীরা আদালতে ন্যায়বিচার পাবে।

তবে পরের দিন কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ডাক আসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে। সেদিন ঢাকার বাড্ডা ও উত্তরায় সংঘাতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

দুপুরের পর রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা হতে থাকে। পরের তিন চার দিন ধরে চলে সংঘর্ষ। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা ১৫০ জন হলেও বেসরকারি হিসেবে এ সংখ্যা ২৫০ এরও বেশি। কারফিউ জারি করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়। সরকার পতনের দাবিও সামনে আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেসময় আলোচনার জন্য ডাকলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

শনিবার (৩ আগস্ট) থেকে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হতে শুরু করে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সরকার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। জনসমুদ্রে পরিণত হয় এ বিক্ষোভ সমাবেশ।

এদিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনারে সমবেত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার মন্ত্রিসভাকে পদত্যাগ করতে হবে।

তাদের কর্মসূচিতে রোববার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘাত, সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বহু হতাহতের খবর পাওয়া যায়।

‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে মঙ্গলবারের পরিবর্তে সোমবার (৫ আগস্ট) পালনের ঘোষণা দেয় তারা। এতে সারা দেশ থেকে আন্দোলনকারীদের ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়।

এসব ঘটনায় রোববার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত ঢাকাসহ সব বিভাগীয় সদর, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, শিল্পাঞ্চল, জেলা ও উপজেলা সদরের জন্য কার্যকর হবে বলে জানায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে কারফিউ মানেনি শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ। বেরিয়ে আসেন রাস্তায়।

এরপর দিন আজ সোমবার (৫ আগস্ট) কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে সরকার পতনের সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশ ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুপুরে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে যাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করেন হাজারো ছাত্রজনতা।