দেশের প্রথম আলেম উপদেষ্টা খালিদ হোসেন যা বললেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে প্রতিনিধি হিসেবে জায়গা পেয়েছেন ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আলেম উপদেষ্টা।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় খালিদ হোসেন বলেন, আমরা একটি ক্রান্তিকাল পেরিয়ে দায়িত্ব নিয়েছি। এ সময় আমাদের মূল কাজ শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা ও বজায় রাখা। মানুষের মধ্যে যে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে তা নিরসন করা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের একটি সুস্থ পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেন আমরা সুস্থ প্রতিনিধিত্বশীল নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারি। মানুষের মধ্যে যেন স্বস্তি ফিরে আসে প্রথমে এ নিয়ে আমরা কাজ করব। বাকি কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে করব।

আ ফ ম খালিদ হোসেন ইসলামি অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয়। তার মূল নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন।

সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত খালিদ হোসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত তাওহিদের সম্পাদক, বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।

এ ছাড়া তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং নেজামে ইসলাম পার্টির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বিশ্ব মুসলীম লীগের মুখপাত্র দ্য ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ জার্নালসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার দুই শতাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে খালিদ হোসেনের শিক্ষাজীবন শুরু। এখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে সাতকানিয়া আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ১৯৭৩ সালে ফাজিল পাস করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম চন্দনপুরা দারুল উলুমে হাদিস অধ্যয়ন করেন।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে এমএ পাশ করেন। পরে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খুতবা : একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’র ওপর পিএইচডি করেন খালিদ হোসেন।




চেয়েছিলেন সরকারি চাকরি, হয়ে গেলেন সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই নেতা মো. নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। উপদেষ্টা হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারে জায়গা করে নিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই দুই সমন্বয়ক। দুজনেই বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। দেশের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে রেকর্ড গড়লেন তারা।

ইতিহাস বলছে, ৩০ বছর বয়সের কম কেউ কখনোই সরকারের উপদেষ্টা হতে পারেননি। সবসময় প্রবীণ এবং অভিজ্ঞদের জায়গা পেতে দেখা যায়। এবারই প্রথমবারের মতো দুই তরুণ তুর্কী জায়গা পান যাদের বয়স ৩০ বছরের কম। সার্টিফিকেট অনুযায়ী নাহিদ এবং আসিফ দুজনের বয়সেই ২৬ বছর। শুধু উপদেষ্টা নয় সংসদ সদস্যও এত কম বয়সে হওয়ার নজির নেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জলিল জন ছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য। ওই সময় তার বয়স ছিল ২৭ বছর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য হয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সাংসদ আজিজুল ইসলাম খন্দকার আজিজ। সেসময় তার বয়স ছিল ২৮ বছর। এছাড়া সদ্য সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক ২৯ বছর বয়সে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হয়ে সারা দেশে আলোচনায় এসেছিলেন।

আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া ও মো. নাহিদ ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারা। জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মো. বিল্লাল হোসেন ও মায়ের নাম রোকসানা বেগম। ২৬ বছর বয়সী এ উপদেষ্টা আদমজী ক্যান্টমেন্ট কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি কলেজের বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। আদমজী কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী।

এছাড়া আরেক উপদেষ্টা হলেন নাহিদ ইসলাম। তার বয়সও ২৬। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় নাহিদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিবাহিত। তার বাবা একজন শিক্ষক এবং মা গৃহিনী। নাহিদের ডাকনাম ‘ফাহিম’। তার এক ছোট ভাই রয়েছে। তিনি ঢাকার সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্সে পড়াশুনা করছেন তিনি।

আসিফ এবং নাহিদ আলোচনায় আসেন এবারের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। নাহিদ এক নম্বর সমন্বয়ক এবং আসিফ চার নম্বর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্বপালনকালে নির্যাতনেরও শিকার হোন তারা। তাদের দুজনকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। নাহিদের দাবি, ‘অপহরণকারীরা ছিলেন ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী’র সদস্য। যদিও তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা পরেছিলেন সাধারণ পোশাকে। নাহিদ দাবি করেছেন, তার হাত, চোখ বেঁধে অত্যাচার চালানো হয়েছিল। বার বার কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল তাকে। নাহিদের ‘অপহরণ’—এর খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল আন্দোলনকারীদের মধ্যে। রাতারাতি তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। একই ঘটনা ঘটে আসিফের ক্ষেত্রেও। পরে তাদের ফেরত দেওয়া হলেও চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থায় আবারও তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ডিবিতে। পরবর্তীতে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা হয় তাদের।

নির্যাতনের পরও দমে যাননি তারা। নাহিদ এবং আসিফসহ ৬ সমন্বয়ক ডিবি কার্যালয়ে ৩২ ঘণ্টা অনশনের পর সুশীল সমাজের চাপে তাদের পরিবারের জিম্মায় ছাড়া হয়। বের হয়েই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে এক দফা ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। যার ফলশ্রুতিতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হোন শেখ হাসিনা। আর তাদের নেতৃত্বে তৈরি হয় ইতিহাস, নিজেরাও হলেন ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।




পটুয়াখালীতে লুটপাট-ভাংচুরকারীরা ছাত্রদলের কেউ না – শামীম, জাকারিয়া

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গনতন্ত্র হত্যাকারী ফ্যাসিষ্ট ভোট ডাকাত শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালানোর পর পটুয়াখালীতে যে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে তাতে জেলা ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেন জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব মোঃ জাকারিয়া।

বৃহস্পতিবার (৮আগষ্ট) সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হেতালিয়া বাঁধঘাট বাজার এলাকায় উপস্থিত জনসাধারণের সামনে এমনটাই বলেন তারা।

এসময় জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ শামীম চৌধুরী বলেন, হেতালিয়া বাঁধঘাটসহ পটুয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসা বাড়িতে হামলা ভাংচুর হয়েছে তাতে ছাত্রদলের কেউ জড়িত নয়। আসলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু সন্ত্রাসীরাই এই ভাংচুর ও লুটপাটকরে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে ছড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর আপন ভাই, ভাইয়ের মধ্যে যদি কোন কিছু নিয়ে শত্রুতা থাকে এবং তাতে যদি মারামারি হয় তাও এখন ছাত্রদল তথা বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করেছে বলে চালিয়ে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা। তাই জনসম্মুখে আমরা বলতে চাই ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মী কোন ধরনের হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের সাথে জড়িত না। আর যদি কোন ছাত্রদলের নেতাকর্মী এরকম খারাপ কাজে জড়িত থাকে তবে আপনার আমাদের সঙ্গে সঙ্গে জানাবেন আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিবো।

সদস্য সচিব মোঃ জাকারিয়া বলেন, আওয়ামী লীগের কিছু গুপ্ত সন্ত্রাসীরা এমন হামলা ভাংচুর ও লুটপাট চালাচ্ছে। ছাত্র জনতাসহ সবাই মিলে এই ফ্যাসিষ্ট শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছে। তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস না করে সকলে মিলে রাষ্ট্র বিনির্মানে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই ঘুরে দাড়াবে আগামীর বাংলাদেশ।

এসময় পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ছাত্ররা উপস্থিত ছিলেন।




দুমকিতে ভাইকে বাঁচাতে যেয়ে বোনেরও মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দুমকিতে পুকুরে পড়ে হালিমা (৯) ও আবুবকর (৭) নামের দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হালিমা ও আবুবকর দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার আব্দুর রহমান মৃধার ছেলে-মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু আবুবকর ও হালিমা বাসা থেকে খেলতে বের হয়, আবুবকর পানিতে পড়লে বোন হালিমা তুলতে যায়। এ সময় সেও পানিতে ডুবে যায়। পরে তার মা বাসায় এসে খোঁজাখুঁজির একপর্যায় ছেলে-মেয়েকে পানিতে ভাসতে দেখেন। তাদের উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুবর রহমান দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল হান্নান বলেন, লোকমুখে খবর শুনেছি পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।




কুয়াকাটায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সৈকত এখন সুনসান-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। মাসখানেক ধরে চলা সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে সব কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করছেন পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ীরা। পুরো সৈকতে চলছে নীরবতা। এ নিয়ে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫শ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান আন্দোলনে পর্যটক না থাকায় অলস সময় পার করছে তারা। অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না হোটেল ব্যবসায়ী।

সি গোল্ড রিসোর্টের কর্মচারী মো. জিসান বলেন, অবসর সময় কাটাচ্ছি। মাসখানেক ধরেই কোনো পর্যটকদের আনাগোনা নেই। ফলে অলস সময় পার করছি।

আবাসিক হোটেল কানসাই ইন’র ব্যবস্থাপক ফরাজি মো. জুয়েল বলেন, কোনো পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় অনেক আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ হয়েছে। সামনে এমন হলে বাকিরাও বন্ধ করে দেবে। ফলে এরইমধ্যে অনেকে ছুটিতে আছে বাকিরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।

ক্যামেরা পারসন মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। গত কয়েকদিনে ডেইলি ১০০ টাকাও রোজগার হয় না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো, মাস গেলে বাড়ি ভাড়া দিয়া টিকে থাকা এখন কষ্ট হচ্ছে। এটা থেকে মুক্তি চাই, না হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে।

সৈকতে চা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, মানুষ এমন দূরাবস্থা দেখে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এমন সংকট আমরা চাই না।

হোটেল গোল্ডেন ইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম জহির জানান, আমরা সবার আগে ধাক্কা খাই। এটাতে কাটতে সময় লাগে অনেকদিন। এখন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান না হলে এ সংকট কবে কাটবে তা বলা মুসকিল। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লোয়ি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, আমাদের দিনগুলো কষ্টে কাটছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। এমন চলতে থাকলে বাকি কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকবে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরিফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।




পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সচল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলমান রয়েছে। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও পিপিএফটি এলাকায় নিরাপত্তাকর্মী ও আনসারের পাশাপাশি ৪২ নৌ কনটিনজেন্ট সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করছে। পাবকের প্রশাসনিক, আবাসিক ও প্রকল্প এলাকায় অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তাদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

পায়রা বন্দরের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আজিজুর রহমান জানান, গতকাল কয়লাবাহী একটি মাদার ভ্যাসেল ২৪ হাজার মে টন কয়লা নিয়ে পায়রা বন্দরের বিসিপিসিএল জেটিতে ভিড়েছে ও এর খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বন্দরের ইনার অ্যাংকোরেজে অবস্থান করছে। একটি জাহাজ কয়লা খালাস শেষ করে গতকাল বন্দর ত্যাগ করেছে। এ ছাড়া একটি মাদার ভ্যাসেল ৮ আগস্ট ১৯ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন লাইমস্টোন নিয়ে পায়রা বন্দরে আসবে।

এ ছাড়াও তিনি আরো জানান, আমদানি-রফতানি পণ্য লোডিং-আনলোডিং-সহ সব কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়েছে এবং বন্দরের জেটি, ইয়ার্ড, রাস্তা ও ব্রিজ ইত্যাদি প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে চলমান রয়েছে।




পটুয়াখালী সদর উপজেলা বিএনপির আইনশৃংঙ্খলা রক্ষায় গনসংযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব আলমের নেতৃত্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাট বাজার সহ গুরুত্বপূর্ন স্থানে সদর উপজেলার নেতৃবৃন্দ দলের নেতা-কর্মীদের দেশের শান্তিপূর্ন শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সংখ্যালঘুদের মন্দিরসহ বিভিন্ন উপাসনালয় পাহারা দেয়া ,দেশের জান-মাল রক্ষা করা এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাওলানা আবু সালেহ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাধারন সম্পাদক আবু জাফর তালুকদার।সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মাহবুব আলম বলেন ,আগামীদিনের বাংলাদেশ নির্মানে জাতীয়তাবাদী দল ধর্ম,বর্ন নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে কাজ করতে বদ্ধ পরিকর।আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।




সহায়তা নিয়ে নিহত রায়হানের বাড়িতে বসুন্ধরা শুভসংঘ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে নিহত রায়হান আকনের বাড়িতে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।

বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া এলাকার বাড়িতে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের মানবিক সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের জেলা শাখার আহ্বায়ক ও তরুণ সংগঠন জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মারুফ ইসলাম, কর্মসূচি সম্পাদক মো. লিমন হোসেনসহ অন্যরা।

রায়হানের মা রেহেনা আক্তারের সঙ্গে কথা বলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। সন্তানের শোকে নির্বাক তিনি। রায়হান পিতা-মাতার বড় সন্তান, তার এক বোন আছে। বাবা কালাম আকন বলেন, ‘শেখ হাসিনা আমার পোলাডারে বড় হতে দিল না।

আমার বাবার কী দোষ ছিল। কেন আমাকে সন্তানহারা করা হলো? কার মুখে বাবা ডাক শুনব। ভালো পড়াশোনা করতে ঢাকা গেছিল।’
৫ আগস্ট সকালে অসহযোগ আন্দোলনে ঢাকার বাড্ডায় গণমিছিলে যোগ দেয় ১৭ বছরের রায়হান।

তখন সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।




চাকরিতে পুনর্বহালের আবেদন দুদকের সেই কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আলোচিত, অপসারিত উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন চাকরি ফিরে চেয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছেন। বুধবার (৭ আগস্ট) তিনি এই আবেদন করেন।

শরীফ উদ্দিন দীর্ঘ সময় চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি কক্সবাজারে ৭২টি প্রকল্পে সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, কিছু রোহিঙ্গার এনআইডি ও পাসপোর্ট জালিয়াতি, কর্ণফুলী গ্যাসে অনিয়মসহ বেশ কিছু দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি মামলা করেন। এতে তিনি অনেকের ‘চক্ষুশূল’ হয়ে উঠেছিলেন।

২০২১ সালের ১৬ জুন শরীফ উদ্দিনকে চট্টগ্রাম থেকে পটুয়াখালীতে বদলি করা হয়। এরপর তাকে ‘অজ্ঞাত’ কারণে চাকরিচ্যুত করা হয়।




পটুয়াখালীতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন রয়েছে। যেকোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড, হানাহানি এবং প্রাণনাশের হুমকির সম্মুখীন হলে নিকটস্থ সেনাবাহিনী ক্যাম্পে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

এক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান ও গুজবে আতঙ্কিত হয়ে সেনাবাহিনীকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সহায়তা প্রাপ্তির লক্ষ্যে নিম্ন নম্বরসমূহে যোগাযোগ করুন: ০১৭৬৯০৭৩১২০ এবং ০১৭৬৯০৭৩১২২