বাউফলেত ১৫ বছর পর জামায়াতের প্রকাশ্যে সভা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দীর্ঘ ১৫ বছর পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পটুয়াখালীর বাউফলে প্রকাশ্যে একাধিক পথসভা, দোয়া-মোনাজাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান করা হয়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শফিকুল ইসলাম মাসুদ উপজেলার বগা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেয়। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

জানা যায়, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের আগমণ উপলক্ষে পথসভা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ছয় ব্যক্তির স্মরণে দোয়া-মোনাজাত, মন্দির পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

তিনি সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি বগা বন্দরে পথসভা করেন।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা স্বাধীন দেশে পরাধীন ছিলাম। অপরাধ না করেও কয়েক শ’ মামলার আসামি হয়েছি, অন্যায় ভাবে তড়িগড়ি করে ওই সব মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে। বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে হয়েছে। যাদের কারণে আপনারা ১৭ বছর কষ্ট করেছেন, আল্লাহর ওয়াস্তে আল্লাহর নিয়মানুযায়ী তাদের ক্ষমা করে দিবেন। আজকে আমাদের শপথ নিতে হবে আমরা প্রতিশোধ পরায়ণ হব না, কোনো মানুষকে কষ্ট দিব না।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা সদরের হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দিরে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন শফিকুল ইসলাম।
এ সময় তিনি বলেন, গোটা বাউফলবাসী একটি পরিবার। সেখানে কে হিন্দু? কে মুসলমান? কে কোন দলের? তা দেখার কোনো সুযোগ নাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। আমরা স্বাধীন হয়েছি। সেখানে কে সংখ্যালঘু, কে সংখ্যাগুরু এ জাতীয় কোনো বৈষম্যের ঠাই হবে না। হিন্দু সম্প্রদায়ের কারো সাথে কেউ অন্যায় করলে, জীবন দিয়ে হলেও তা প্রতিরোধ করব ইনশাল্লাহ।

বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত বাউফলের ছয় শহীদ ব্যক্তির স্মরণে দোয়ার অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন শফিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি নিহত ছয় ব্যক্তির প্রত্যেক পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

এ সময় শফিকুল ইসলাম বলেন, যা সব রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়েও করতে পারেনি, তা করে দেখিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্ররা। তাদের নেতৃত্বেই দুঃশাসন ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা, স্যালুট জানাই তাদের। তাদের এই ঋণ কোনোদিন শোধ হবে না। তবে তারা যদি এই নতুন বাংলাদেশে আবার অন্যায় দেখে তখনো প্রতিবাদ করবে এবং অন্যায়কারীদের পতন ঘটিয়ে ছাড়বে। তাই সাবধান, কেউ যেন বলতে না পারে, বর্তমানের চেয়ে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারই ভালো ছিল।

জামায়াত নেতা শফিকুল ইসলামের বাড়ি বাউফল উপজেলার মদনপুরা গ্রামে। ২০০৯ সালের পর বাউফলে জামায়াতের প্রকাশ্যে এভাবে সভা-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি।




আপিল বিভাগের ৪ বিচারপতির পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের পর পদত্যাগ করেছেন আপিল বিভাগের আরও চার বিচারপতি।

শনিবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল আজিজ আহমেদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তারা আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমি পদত্যাগপত্র আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তারা স্বেচ্ছায় তাদের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগ করা দুই বিচারপতি হলেন, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি কাশেফা হোসেন।

এর আগে, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর দেড়টার দিকে জানা যায়, প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দুপুর দুইটার দিকে আন্দোলনকারীরা হাইকোর্ট এলাকা ছেড়ে চলে যান।

 




পটুয়াখালীতে কোটা আন্দোলনে নিহত ২২ পরিবারকে খাদ্য সহায়তা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সম্প্রতি কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পটুয়াখালী জেলার ২২জন শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে আয়েশা হাফিজ ফাউন্ডেশন।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিহতদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কুশল বিনিময় ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

ফাউন্ডেশনের কর্ণধার ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানের সহধর্মিণী আয়েশা হুমায়রার এ উদ্যোগটি বাস্তবায়নে সহযোগীতা করছে পটুয়াখালী ইয়ুথ ফোরামের সদস্যরা।

এসময় পটুয়াখালী সদরে তিন, দুমকিতে দুই, বাউফলে ছয়, দশমিনায় দুই, গলাচিপায় পাঁচ, রাঙ্গাবালীতে এক, কলাপাড়ায় এক ও মির্জাগঞ্জে একজনের পরিবারকে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিটি প্যাকেজে ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ২ লিটার তেল, এক কেজি করে পেয়াজ, ডাল, চিনি, আটা, লবণ ও দুইটি সাবান রয়েছে।

পরবর্তী সকল শহীদ পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্টরা।




সেনাবাহিনীর সহায়তায় বরিশালে ১৪ থানার কার্যক্রম শুরু

বরিশাল অফিস :: শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে দেশজুড়ে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। এ দাবি বাস্তবায়নে বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন পুলিশ সদস্যরা।

তবে সেনাবাহিনীর সহায়তায় বরিশালে স্বল্প পরিসরে মেট্রোপলিটন ও জেলা পুলিশের ১৪ থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, শুক্রবার (৯ আগস্ট) থেকে স্বল্প পরিসরে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মৃত্যু বা অপমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় মর্গে পাঠাচ্ছি। এছাড়া যেকোনো অভিযোগ এখন জমা নেওয়া হচ্ছে।

সেনাবাহিনীর সদস্যরা বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় অবস্থান করছেন। তাদের সহায়তায় জনগণকে যেকোনো সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বরিশাল পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, এ জেলায় ১০টি থানা রয়েছে। জনগণের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এরইমধ্যে সবকটি থানায় আমরা স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করেছি। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে।

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকার ৪ থানার পুলিশ সদস্যরা কোথাও যাননি। তারা থানাগুলোতেই অবস্থান করছেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা পুরোপুরি কাজ শুরু করবেন।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি অধ্যাপিকা শাহ সাজেদা বলেন, পুলিশ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। তারা যদি এমন চুপ থাকে তাহলে কোনোদিনই নিরাপদ দেশ গড়া সম্ভব হবে না। দেশের বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে শিক্ষার্থীরা যেভাবে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তবে এর স্থায়ী সমাধানে পুলিশকে দ্রুত কাজে ফেরাতে হবে।

 




সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে বরিশালে সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: দেশজুড়ে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, শিল্পীদের ওপর হামলা ও সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদে নগরীতে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টার দিকে নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ বরিশালের ব্যানারে অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বরিশালের বিভিন্ন মন্দিরের নেতৃবৃন্দরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর শাখার সভাপতি ভানু লাল দে’র সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা, সহ-সভাপতি বিশ্বজিত ঘোষ বিশু, জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী, প্রচার সম্পাদক গোবিন্দ্র সাহা প্রমুখ। শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, সরকার পতনের পর থেকে সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে, তাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হচ্ছে। বক্তারা অন্তর্বতীকালীন সরকারের কাছে যারা এধরনের কাজে জড়িত তাদের কঠোর বিচারের দাবি করেন।




অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে, লাইনচ্যুত হয়নি: সালেহউদ্দিন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অর্থনীতির গতি মন্থর হয়েছে, কিন্তু লাইনচ্যুত হয়নি বলে মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, অর্থনীতির সংস্কার প্রয়োজন।

শনিবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

আইনশৃঙ্খলা ঠিক করাই এখন প্রধান কাজ বলে মন্তব্য করে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, অর্থনীতি যদি থমকে যায়, মন্থর হতে পারে। থমকে গেলে কিন্তু অনেক সময় লাগে (একটা গাড়ি মতো)। তাদের ব্যাংকের ওপর চাপ পরে। তাই চাচ্ছি গতিটা যেন সচল করতে পারি।

তিনি বলেন, ক্রান্তিলগ্নে আমাদের ওপর একটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। আমি বলি ছাত্র-জনতা সবার পক্ষ থেকে সেটি দেওয়া হয়েছে। এটি খুব কঠিন সময়। আমাদের কনসার্ন হলো দেশের ছাত্র-জনতার সংগ্রামে এটি আসছে। আমাদের এখন প্রধান কাজ আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা। এটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে কিন্তু সমস্যা তৈরি হবে। আইনশৃঙ্খলা শুধু রাস্তাঘাটের নয়, ব্যাংকগুলো চালু করাসহ যেগুলো আছে, সেগুলো আমরা চেষ্টা করছি ইমেডিয়েটলি ঠিক করতে। চ্যালেঞ্জ যেগুলো আছে তারমধ্যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তো আছেই। সামষ্টিক ক্ষেত্রে, মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে যে সমস্যা আছে আমরা ইমেডিয়েটলি চেষ্টা করবো।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে অফুরন্ত কর্মসংস্থান আছে। সুতরাং আমার মনে হয় নেতৃত্ব আর ব্যবস্থাপনা থাকলে সমস্যা হবে না। দ্রুত সবকিছু সমাধান করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা একটা মসৃণ পথ করে যাবো, খুব বেশিদিন তো আমাদের থাকার ইচ্ছা নেই, সেক্ষেত্রে পরে বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে।




রাঙ্গাবালীতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে সড়কে ছাত্রসমাজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছে ছাত্র সমাজ। শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে উপজেলা সদর থেকে এ কার্যক্রম শুরু করেন তারা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমাজের দেশজুড়ে চলা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ উপজেলায়ও সড়কের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কাজ করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকাল থেকে সদর রোডের চৌরাস্তাসহ আশপাশের সড়কে অবস্থান নিয়ে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে সচেতনতা মূলক প্রচার চালান। যেসব মোটরসাইকেল চালক-আরোহী হেলমেট ছাড়া সড়কে বের হয়েছিল, তাদেরকে হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশনা প্রদান করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, রাঙ্গাবালীর প্রধান যানবাহন মোটরসাইকেল। একারণে মোটরসাইকেল চালক এবং আরোহীদের সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঝুঁকি কমাতে হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে আমাদের এই কর্মসূচি।

ছাত্র সমাজের এই কাজে নিয়োজিত মোস্তাফিজুর রহমান শাহির জানান, “যেসব দোকানে মোটরসাইকেলের জন্য পেট্রোল বিক্রি করা হয়, সেসব দোকানগুলোতে হেলমেটবিহীন চালকের কাছে পেট্রোল বিক্রি না করার জন্য লিফলেট দেওয়া হয়। ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি।




আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুজন ছাত্র প্রতিনিধিও আছেন।

শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে একটি হেলিকপ্টারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রংপুরের পীরগঞ্জে যান। সেখানে তিনি আবু সাঈদের পরিবারের সাথে সাক্ষাতও তার কবর জিয়ারত করেন। তার পরিবারকে সান্তনা দেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ফ্রান্সের প্যারিস থেকে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘আজকে আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে। যে আবু সাঈদের ছবি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। কী অবিশ্বাস্য এক সাহসী যুবক! বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।’ এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ড. ইউনূস। তার গলার স্বর আটকে আসে।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে রংপুরের খামার মোড় থেকে শিক্ষার্থীরা বিশাল মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর ফটকের সামনে যান। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এতে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ গুলি ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশের গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন।

নিহত আবু সাঈদ রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের বাসিন্দা মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।




সর্বত্র শৃঙ্খলা ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমেছে স্থবিরতা। স্থানীয় সরকার বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সেবা কার্যক্রম দৃশ্যত বন্ধ রয়েছে। পাসপোর্টসহ অধিকাংশ সরকারি সেবা প্রায় অচল।

দূরপাল্লার বাস চলাচল করলেও ট্রেনের সেবা এখনো চালু হয়নি। প্রশাসনে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। চেয়ার হারাবে কে আর কে নতুন চেয়ার পাবে সেই হিসাব ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে। সরকারের পটপরিবর্তনে বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়েও দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে।

একপক্ষকে হটিয়ে আরেকপক্ষ দখল নেওয়ারও ঘটনা ঘটছে। পুরনো মুখ সরিয়ে পরিবহন খাতসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে নতুন মুখ। চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকে। অস্থিরতা চলছে পুলিশ বিভাগে। একই অবস্থা বিচার অঙ্গনে। নিম্ন আদালত চালু থাকলেও উচ্চ আদালত বন্ধ রয়েছে। আছে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা। কারাগারে একের পর এক বিদ্রোহ ও বন্দি পালানোরও ঘটনা ঘটছে।

এই অবস্থায় সারাদেশে বিভিন্ন খাতে এখন শৃঙ্খলা ফেরানোই অন্তর্বর্তী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এখন বর্তমান সরকারের এখন প্রথম অগ্রাধিকার হতে হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে মানুষের মধ্যে যে ভীতি রয়েছে তা দূর করা। তাদের মতে, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা; সব সরকারি সেবা, প্রশাসনিক ও পুলিশি কার্যক্রম চালু; যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন; প্রশাসন, বিচারালয় ও পুলিশ বিভাগের সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা সরকারের অসংখ্য গুম-খুনের বিচারও এ সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

গতকাল শুক্রবার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের যে প্রথম বৈঠক হয়েছে, সেখানেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের সামনে এগিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিটি মানুষ আমাদের ভাই, আমাদের বোন। তাদের রক্ষা করা এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা আমাদের প্রথম কাজ। আমার ওপরে যদি ভরসা রাখেন, আশা করি দেশের কোথাও হামলা হবে না। সরকার মানুষকে রক্ষা করবে, মানুষের আস্থাভাজন হবে। সরকারি লোক দেখলে বলবে আমার লোক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনীতির চাকা সচল করতে পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ছাড়া সরকারি সেবাগুলো দ্রুত চালু করে প্রশাসনে চলা অস্থিরতা দ্রুত দূর করতে হবে। না হলে সরকার বিপাকে পড়বে। বিশেষ করে পুলিশ ও আমলাদের মধ্যে সৃষ্ট অস্থিরতা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে লেগে যেতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো সরকারকে নিরপেক্ষভাবে সহযোগিতা করলেই কেবল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের

ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, সরকারের প্রথম কাজ হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। দেশে এখন যে হামলা, লুটতরাজ হচ্ছে, সেগুলো যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ করা। মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অর্থনীতি ঠিক করা। অর্থনীতিতে ঠিক করতে হলে সম্পদ পাচার থামাতে হবে। সম্পদ পাচার থামানো এখন বড় রকমের চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া একটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করেছিল আগের সরকার। সেটা দূর করতে হবে। মানুষকে মুক্তভাবে কথা বলতে দেওয়া এবং স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দেওয়া। মানুষ হিসেবে মানুষের সম্মান ফিরিয়ে আনা।

প্রশাসনে যে দুর্নীতি ঢুকেছে, সেই দুর্নীতির তদন্ত করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বই হবে যত দ্রুত সম্ভব সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এত যে মানুষ মারা গেল সেই মানুষগুলো কেন মারা গেল, কারা তাদের হত্যা করল সেটা তদন্তের মাধ্যমে বের করে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। সবকিছুই একটি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। শুধু এই আন্দোলনের সময় মৃত্যু নয়, এর আগে যে মানুষ গুম-খুন হয়েছে সেগুলোরও তদন্ত হওয়া দরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্প সময়ের মধ্যে গুম-খুনের বিষয়ে তদন্ত করে বিচারে মুখোমুখি করতে পারবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ তো নিতে হবে। কতটা শেষ করে যেতে পারে সেটা সময় বলে দেবে।

সাবেক আইজিপি নূরুল হুদা গতকাল বলেন, সরকারি কাজের আইন ও নীতিমালা আছে। এখন আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেই শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। থানাসহ সর্বত্র পুলিশের উপস্থিতি দৃশ্যমান করতে হবে। পুলিশ আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখলে পুলিশের ওপর আস্থা রাখবে সাধারণ মানুষ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনের বছরখানেক আগে থেকে প্রশাসনের প্রায় সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। বিশেষ করে বলপ্রয়োগের ফলে পুলিশের প্রতি ‘চরম অনাস্থা’ তৈরি হয়। সেই বলপ্রয়োগের মাত্রা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে। অবশেষে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগ মাত্রা ছাড়ায়। কয়েকশ ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফলে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর প্রধান আক্রোশের শিকার হয় পুলিশ। দেশের ৪৫০টি থানা ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নিহত হন শতাধিক পুলিশ সদস্য। গতকাল সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় কয়েকটি থানার কার্যক্রম চালু হলেও দেশের অধিকাংশ অঞ্চলই নিরাপত্তাহীন। ফলে ডাকাতি, ছিনতাই ও লুটতরাজের মতো ঘটনা বাড়ছে। এখন পুলিশ সদস্যরা যতদ্রুত সম্ভব কাজে যোগ দিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটানো যায়, তত দ্রুত পুলিশের ওপর মানুষের আস্থা ফিরে আসবে।

রাজধানীসহ সারাদেশে আন্ডারওয়ার্ল্ডে এখন বিপুলসংখ্যক অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে রয়েছে। এ ছাড়া থানাগুলো থেকে কয়েক হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে। অস্ত্র লুট হয়েছে কারাগার থেকেও। বৈধ ও অবৈধ এসব অস্ত্র উদ্ধার করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারের জন্য।

পু?লিশ স্টাফ ক?লেজে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সো?হেল রানা গতকাল বলেন, পুলিশের কাজ হচ্ছে অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধ তদন্ত ও অপরাধ দমন, জনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা, শান্তিপূর্ণ অবস্থা বজায় রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যদি কোনো কারণে আমরা মনে করি, এই বিষয়গুলো মানুষ পাচ্ছে না বা এর কোয়ালিটি ভালো নয়, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই সিস্টেমে সমস্যা। সেখানে কাজ করতে হবে। অপরাধ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে থানায় থানায় কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নিরপেক্ষ, প্রতিনিধিত্বমূলক ও অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তা কার্যকর করা উচিত বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা মনে করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা প্রায় এক মাসের অস্থিরতায় দেশের সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে। ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবস্থা-বাণিজ্য অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে গার্মেন্টশিল্পকে। সহিংসতার মুখে গার্মেন্ট কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে। এখন যতদ্রুত সম্ভব এই সেক্টরে কাজের গতি স্বাভাবিক করতে হবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসে দ্রুত সমস্যার সমাধান করতে না পারলে মুখ থুবড়ে পড়বে দেশের অর্থনীতি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতি এখন গতিহারা হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির সব চাকা জরুরি ভিত্তিতে সচল করতে হবে। সামষ্টিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব পলিসি সংশোধন করা দরকার সেগুলো সংশোধন করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে হবে। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নতুন উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ গ্রহণ করা খুবই জরুরি। সাধারণ মানুষ খুবই কষ্ট আছে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের মধ্যে হাহাকার চলছে। তাদের কষ্ট দূর করতে যেসব উদ্যোগ দরকার, সেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত ১৫ বছরে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি দেশে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনর্গঠনে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা দ্রুত সময়ের মধ্যে হস্তান্তর করতে পারাটাই তাদের মূল সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে।




ঝালকাঠিতে যুবদলের ২ নেতাকে বহিষ্কার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামীম তালুকদার ও নলছিটি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন শাহীনকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আজ শুক্রবার রাতে যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি দপ্তর সম্পাদক এম এন ইসলাম সোহেল স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. শামীম তালুকদার ও নলছিটি উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক  মো. সালাউদ্দিন শাহীনকে প্রাথমিক সদস্য পদ সহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাড. শাহাদাত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, বিএনপি একটি শান্তিকামী দল। সর্বদাই মানুষের জানমাল রক্ষার্থে কাজ করে। কিন্তু ঝালকাঠি জেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামীম তালুকদার ইতিমধ্যে ঝালকাঠিতে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও লুটপাট করেছে। ইতিমধ্যে সে ২ কোটি টাকার অধিক অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এমন তথ্য আসার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি আমরা দলের হাইকমান্ডকে জানাই। পরবর্তীতে আজ তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।