কলাপাড়ায় হিন্দুরা আওয়ামী লীগের আমলেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছিল – বিকাশ সাহা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় হিন্দুরা (সনাতন ধর্মাবলম্বী) আওয়ামী লীগের আমলেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে আমরা ভালো থাকি। পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের শ্রী শ্রী জগন্নাথ নাঠ মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কলাপাড়া বিএনপি নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভায় একথা বলেন মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি বিকাশ সাহা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি হওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে, যার কারণে আমরা আতঙ্কিত। তাই আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাচ্ছি, যাতে এই পরিস্থিতিতে আপনারা আমাদের সঙ্গে থেকে আমাদের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব নিবেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী রতন কৃষন সাহা গোসাইয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাজী হুমায়ুন সিকদার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু, কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো. ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন সিকদার, তারেক আনাম সুমন, মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাংঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, নাসির উদ্দীন রতন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি গাজী মো. হারুন। উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হারুন-অর রশিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক কবির মৃধা, জুয়েল সিকদার, সজল বিশ্বাস, রাসেল কবির মুরাদ, ৬নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিশ্বাস রাশেদ মোশাররফ কল্লোল, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ঢালী রুহুল আমিন অভিসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রী শ্রী জগন্নাথ আখড়া নাঠ মন্দির কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং ৬নং ওয়ার্ডের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সি বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু বলতে কিছু নেই। এটা আওয়ামী লীগের দেয়া টোপ মাত্র। আপনারা নিজেকে কখনো ছোট ভাববেন না।

কলাপাড়া পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো. ফারুক বলেন, এই কলাপাড়ায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ নষ্ট করতে চাইলে কলাপাড়া বিএনপি যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করবে। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে কলাপাড়া বিএনপি আপনাদের সঙ্গে আছে।

উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে আমাদের সমাজ। কোনো ধর্মীয় অসহায় মানুষ বা তার সম্পদের উপর হামলা করতে কেউ আসলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত বছর আপনারা যেভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেছেন তার চেয়ে অনেক বড় অনুষ্ঠান করবেন, আমরা আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।




গলাচিপায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপা উপজেলা সদরের বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, মসজিদ-মন্দিরের সভাপতি, বণিক সমিতির প্রতিনিধি ও বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) বেলা ৩ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসের দরবার হলে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জন-জীবন স্বাভাবিক, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, নাশকতা সৃষ্টিকারী, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং গুজবকারীদের প্রতিরোধকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জিওসি-৭ পদাতিক ডিভিশন এবং বরিশাল এরিয়া কমান্ডার জনাব মেজর জেনারেল আঃ কাইয়ুম মোল্লা প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলম।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিগ্রেড কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আশিকুর রহমান, উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়ানা মার্জিয়া নিতু সহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাছিম রেজা। মত বিনিময় সভায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রস্তাবনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন গলাচিপা প্রেসক্লাব সভাপতি ও কলামিস্ট

সাংবাদিক মু. খালিদ হোসেন মিল্টন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর লাল দাস, পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র সাহা, ডা. এস. বিমল, সমিত কুমার দত্ত মলয়, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি ও বরিশাল বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র মো. সাহেদ হোসেন প্রমুখ।

সভা শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জিওসি-৭ পদাতিক ডিভিশন এবং বরিশাল এরিয়া কমান্ডার সকলের মতামতের ভিত্তিতে জন-জীবনের শান্তি শৃঙ্খলায় সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সন্তোষ প্রকাশ করে ধন্যবাদ জানিয়ে সভা শেষ করেন।




সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপি কমিশনার মো. মাইনুল হাসান।

তিনি জানান, ঢাকার নিউমার্কেট থানায় করা একটি মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। এরপরই সরকারের অনেক মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালীরা গা ঢাকা দেন। তাদের কেউ কেউ দেশ ছাড়েন বলেও খবর পাওয়া যায়।




বাউফলে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকার পরিবর্তনের পর সার্বিক বিষয় নিয়ে সুশীল সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন দেশের জিওসি ৭ পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সোয়া ১১ টায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কনফারেন্স রুমে ওই মতবিনিময় করা হয়।

এসময় জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম, পুলিশ সুপার মো. আবদুস ছালাম পিপিএম, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী এবং সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দসহ সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমসাময়িক বিষয়ের উপর বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অতুল চন্দ্র পাল, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সোহাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নাজমুল হক, বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মুনতাসির তাসরিফ ও সামিয়া আক্তার।

মতবিনিময়ে জিওসি পদাতিক ডিভিশন ও বরিশাল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকার পরিবর্তন হওয়ায় দেশের আইন- শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছ। পুলিশ বিভাগের কর্মবিরতির কারণে তারাও মাঠে থাকতে পারেনি। ধীরে ধীরে এখন সব ঠিক হয়ে আসছে। সংখ্যালঘু ও তাদের উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, জমিদখল নিয়ন্ত্রণে আসছে। চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হাট-ঘাট দখল করলে সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনী কিংবা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দেবেন। একাজে আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। হিন্দু সম্প্রদায়ের আসন্ন জন্মাষ্টমী ও দুর্গা পূজায় সকল ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।




পটুয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহয়তা প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরাম (পিজেএফ), ঢাকার সদস্য মোঃ রিপন হাওলাদার গত ১৮ জুলাই ২০২৪ ইং তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর রামপুরায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের সময় গুরুতর আহত হয়েছেন।

তাকে ১২ আগস্ট ২০২৪ইং সন্ধ্যায় ফোরামের অস্থায়ী কার্যালয়ে পিজেএফ এর পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা করা হয়েছে।




শেখ হাসিনা ভারতে বসে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন: মির্জা ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভারতে পালিয়ে গিয়ে শেখ হাসিনা দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে বর্তমানে যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। দেশের মানুষের বিজয় নস্যাৎ করার চক্রান্ত শুরু করেছে। যারা বাংলাদেশের মানুষের অধিকার হরণ করেছিল, তারা আবার এ দেশ থেকে পালিয়ে গিয়ে ভারতে অবস্থান করে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এতগুলো মানুষ-ছাত্রকে হত্যা করার পরও সেই দলটি (আওয়ামী লীগ) আবারও বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আমরা মনে করি এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনো কথা বলিনি। আমরা আপনাদেরকে আগেও বলেছি যে, নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে একটা নির্দিষ্ট সময় লাগবেই। আমরা তাদেরকে তো সেই সময় দিয়েছি। এ ছাড়া আমরা তাদের সব বিষয়গুলোতেই সমর্থন দিচ্ছি।’

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আমরা একটা কথা পরিষ্কার করে বলেছি, বর্তমানে যে পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং সাম্প্রদায়িকতার যে ধোঁয়া তোলা হচ্ছে—এগুলোতে যেন জনগণ বিভ্রান্ত না হয়। জনগণ যেন পূর্বের মতই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে অক্ষুণ্ন রেখে সরকারতে সহায়তা করে, আমরাও তাদেরকে পুরোপুরিভাবে সহায়তা করছি।




কোটা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জাকিরকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী, বাকরুদ্ধ মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার যুবক জাকির হোসেন (৩৫)। গত ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজধানীর শনির আখড়ায় গুলিবিদ্ধ হন। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান তিনি। জাকিরকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা। স্বামীর ছবি বুকে চেপে অনবরত কাঁদছেন স্ত্রী। বাবার জন্য আর্তনাদ ১৩ বছরের শিশু জিদনী জেবিনের। ছেলে হারানোর শোকে পাগলপ্রায় মা।

জাকির দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের আ. মন্নান ও আম্বিয়া বেগম দম্পতির ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবাকে হারান তিনি। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জাকির ছিলেন তৃতীয়। উপজেলা সদরের উত্তর লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নতুন বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ও মাকে রেখে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ থানায় একটি বোরকা কারখানায় কাজ করতেন।

জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মা আম্বিয়া বেগম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। স্বামীর ছবি বুকে জড়িয়ে কেঁদে কেঁদে অবিরত বিলাপ করছেন স্ত্রী সালমা বেগম। বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে একমাত্র মেয়ে জিদনী জেবিন। তাঁর মৃত্যুতে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জুলাই (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ চলাকালে শনির আখড়া রায়েরবাগ ওভার ব্রিজ এলাকায় রাস্তায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন জাকির। খবর পেয়ে জাকিরের ভগ্নিপতি তৌহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই (বুধবার) রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে জাকিরের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই রাতেই উত্তর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা হয়। পরে তাঁকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জাকিরের স্ত্রী সালমা বলেন, ‘আমার স্বামী ঢাকায় একটি বোরকা কারখানায় কাজ করত। একমাত্র তার উপার্জনেই চলত আমাদের সংসার। মায়ের ওষুধ ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে অভাব–অনটনের মধ্যে কোনো রকমে দিন চলত। এখন আমাদের কী হবে, একমাত্র সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে চালাব, বুঝতেছি না। আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন।’

একমাত্র মেয়ে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিদনী জেবিন বলে, ‘আমার বাবা অনেক ভালো ছিল। আমি যা চাইতাম তা–ই দিত। এখন আমার লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে? আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
সে আরও বলে, ‘বাবা কয়েক দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত ১৫ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় কর্মস্থল ঢাকার কালীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার সময় আমাকে বলে পরের বার তোমার জন্য সুন্দর থ্রিপিস ও স্কুলব্যাগ নিয়ে আসব।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকিরের মা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) কী শুনতে আসছেন। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলেকে যারা গুলি করে মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’




পটুয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকার পরিবর্তনের পরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমের স্থবির অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পটুয়াখালীতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শহরেরর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করছেন পটুয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মো: নুরু কুতুবুল আলম ও পুলিশ সুপার মো: আব্দুস সালাম সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ¯স্নেহাংশু সরকার কুট্রি সহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট,মন্দির,লঞ্চঘাট,বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণ সহ সনাতন ধর্মীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা চালু করতে সবধরনের সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক মো: নুর কুতুবুল আলম বলেন,পটুয়াখালী শহরের অনেকগুলি মন্দির ইতোমধ্যে আমরা পরিদর্শন করেছি,আমার সাথে পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে গুজব রয়েছে, গুজবের কারনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তাদের মনে একটা আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এইগুলি যে আসলে পটুয়াখালী জেলায় কোনকিছু হয়নি ,এখানে ভয়ের কিছু নাই তারা নির্ভয়ে তাদের ধর্মচর্চা করতে পারেন, জীবন যাপন করতে পারেন। এই বিষয়টি তাদের জানান দেয়ার জন্য আমরা সবাই একসাথে এসেছি, তাদের সুখ-দু:খের ব্যাপারগুলি আমরা জানলাম। তাদের কে আমরা আশ্বস্থ করলাম যে আমরা মাঠে আছি, সেনাবাহিনী মাঠে আছে, পুলিশ বাহিনী কাজ করছে, সাংবাদিক ভাইরা সচেতন রয়েছে। আমরা হিন্দু ধর্মবলাম্বী ভাইদের পাশে আছি, তারা এদেশের নাগরিক , আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই , তারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে যেন তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করে। এ বিষয়টি জানান দেয়ার জন্য আশ্বস্থ করার জন্য আমরা এসেছি। যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি সবখানে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি, কারোও কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি যে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপাসনলয়ে বা বাড়ীতে কোন রকম আক্রমণ বা হুমকি দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো: আব্দুস সালাম জানান, ৫ তারিখের পর থেকে পটুয়াখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ভাল থাকে তা এখানকার আপামর জনসাধারণ কাধেঁকাধঁ মিলিয়ে রক্ষা করেছেন। আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধতার কারনে আউট মুভমেন্ট কম ছিল গতকাল থেকে স্বাভাবিক মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। থানা পুলিশ তিন-চারদিন আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে।প্রত্যেকদিনই আমরা বিচ্ছিন্ন ভাবে বের হই,আজকে আমরা জেলা প্রশাসক ,আমাদের সহকর্মী সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ,সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ,সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা সম্মিলিত ভাবে বের হয়েছি।যাতে বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। আমরা আজ পটুয়াখালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সকল মন্দির সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,গুরুত্বপূর্ণ সব খেয়াঘাট,লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছি,কোথাও থেকে কোন দুর্ঘটনার খবর আসেনি।সবাই বলেছে,তারা শান্তিতে আছে এবং তাদের উপর কোন আক্রমণ বা ভয়ভীতির ঘটনা ঘটেনি।সে ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ সকলে ভাল আছেন। তিন জানান পটুয়াখালীতে ৯টি থানা ,চারটি তদন্ত কেন্দ্র , ১টি ফাড়ী, রয়েছে , শুরু থেকে সকল জনবল আমাদের থানা ফাড়ি বা পুলিশ লাইনে রয়েছে। আমাদের কোন স্থাপনার কোন ক্ষতি হয়নি,গাড়ী,অস্ত্র,গুলি ,পুলিশের সকল স্থাপনা অক্ষত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ¯স্নেহাংশু সরকার কুট্রি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের ৬ দিন পর আজ রোববার পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসনের জেলা প্রশাসক ,পুলিশ সুপার , মিডিয়ার সদস্য গন সহ আমি সবাই মিলে একত্রে বের হয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক রয়েছে তা জনগনের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বের হয়েছি। আজ আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে সকল মন্দির ,খেয়াঘাট সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেছি। বিগত দিনে ভোটার বিহীন শেখ হাসিনার আমলে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারনে মালিকরা নি:স্ব হয়ে গেছে,রক্তপাত হয়েছে। ৫ তারিখের পরে এ গুলি বন্ধ হয়ে গেছে,আমাদের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছি। আজকে যখন জেলা প্রশাসন ,পুলিশ প্রশাসন নেমেছে পাশাপাশি সেনাবাহিনীতো রয়েছেন ,আমার মনে হয় আমাদের আর রাত জেগে পাহারা দিতে হবে না।




শেখ হাসিনার বিবৃতিটি ভুয়া, দাবি জয়ের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার চেতনা ও নিজের পরিবারের জন্য দেশের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আগামী ‘১৫ আগস্ট’ শান্তিপূর্ণভাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে ফুল দিয়ে আসবেন। দোয়া করবেন- বঙ্গবন্ধুর জন্য, স্বাধীনতার চেতনার জন্য, আমার পরিবারের জন্য, এই হলো আপনাদের প্রতি আমার আহ্বান।’

রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

ভিডিও বার্তায় জয় বলেন, ‘আপনারা জানেন, আপনারা দেখেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসা পুড়িয়ে ফেলেছে। যে বাসায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়। যে বাসায় ৭৫ খুনিরাও ধ্বংস করার সাহস পায়নি। যে বাসা এতো দিন উনার (বঙ্গবন্ধুর) মিউজিয়াম ছিল। সেই বাসাকে তারা পুড়িয়ে ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি দলীয় বিষয় না। বঙ্গবন্ধু হলেন জাতির পিতা৷ বঙ্গবন্ধু না হলে আজ আমরা বাংলাদেশ পেতাম না। আজকে পাকিস্তান হয়ে থাকতাম। সামনে ১৫ আগস্ট। সেই কালরাত, যে রাতে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যা করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি স্বাধীনতার চেতনা বিশ্বাস করেন। আপনারা যদি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন। এই যে বাংলাদেশে বাস করছেন এবং যদি মেনে নেন যে বঙ্গবন্ধু আপনাকে স্বাধীনতা দিয়েছে, আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছে। ১৫ আগস্ট আপনাদের প্রতি আহবান, শান্তিপূর্ণভাবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে গিয়ে ফুল দিয়ে আসবেন। দোয়া করবেন, বঙ্গবন্ধুর জন্য, স্বাধীনতার চেতার জন্য, আমার পরিবারের জন্য।




প্রথম দিন অফিসে এসে যে ৩ সিদ্ধান্ত নিলেন আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া ডেস্ক :: গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালান শেখ হাসিনা। এরপর গত ৮ আগস্ট ড. মোহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে গঠিত হয় ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকার। যেখানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আজ রবিবার প্রথমবারের মতো সচিবালয়ে অফিস করেন আসিফ মাহমুদ। অফিসে এসেই ৩টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি।

ক্রীড়া উপদেষ্টার নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে-

১. যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আছে, এটার নাম পরিবর্তন করতে চাই।

২. নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আমরা বিসিবির সঙ্গে কথা বলেছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই বিষয়ে আজকেই প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলব।

৩. বিসিবির সভাপতি যেহেতু অনুপস্থিত আছেন, তাই আমরা বিসিবির যারা পরিচালক আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা আইসিসির আইন মেনে যেটা করার সেটাই করবেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়া যায় কিনা সেই বিষয়টিও দেখতে বলেছি।