কলাপাড়ায় লাখ টাকায় ভাড়া হয় সার ডিলার লাইসেন্স

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স লাখ টাকায় ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলাল খলিফার ব্যক্তির নামে সার ডিলার লাইসেন্সটি অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। আর ঐ লাইসেন্স মনির হোসেনের কাছে ভাড়া দেয়। বেশি লাভের আশায় আবার অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে নিজে লাভবান হন দুলাল খলিফা। দুলাল খলিফা ব্যক্তির নামে অনুমতিপত্র দেওয়া লাইসেন্সটি। এভাবে ব্যক্তির অনুমতিপত্র চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন অন্য ব্যক্তি।

ধুলাসার ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের খলিফা টেডার্স নামের অনুমতিপত্রটির সত্বাধিকারী দুলাল খলিফা। এই অনুমতিপত্র ভাড়ার দেওয়ায় বিরূপ প্রভাব পড়ে সরাসরি কৃষকদের ওপর। এতে সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার কিনতে হয় কৃষকদের। যার ফলে কৃষকের দুর্ভোগের শেষ নেই।

কৃষকদের অভিযোগ, অসাধু ব্যক্তিদের সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে বছরে হাজার হাজার টাকা লোকসান গুনছেন তারা। এমনকি কৃষি বিভাগকে অবহিত করেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না তারা। কৃষক ও খুচরা সার বিক্রেতাদের এমন অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার ধুলাসার ইউনিয়নে ৪নং ওয়ার্ডের সার বিক্রেতা মনির হোসেন হাওলাদার অনুমতিপত্র মাস চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে বছরের পর বছর ধরে সার বিক্রি করে যাচ্ছেন। এখন আবার অন্য ব্যক্তির কাছে ভাড়া দিয়ে নিজে লাভবান হন দুলাল খলিফা। এ ব্যাপারে সার বিক্রেতা মনির হোসেন হাওলাদার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন।

ধুলাসার ইউনিয়নে তারিকাটার কৃষক মহিউদ্দিন খা জানান, সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার কিনতে হয় আমাদের। এতে আমরা কৃষকরা চরম ভোগান্তির স্বীকার। আমরা তার ডিলার লাইসেন্স বাতিল চাই। প্রকৃত ডিলারকে লাইসেন্স দেওয়া হোক।

খলিফা টেডার্স সত্বাধিকারী দুলাল খলিফার তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার মেয়ে বিসিভ করে বলেন, বাবা বিলে গেছেন।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, এ নিয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হলে তার লাইসেন্স বাতিল করা হবে। কৃষি অফিস থেকে মাঠে গিয়ে ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া হয় কিনা তা খুঁজে দেখা হবে। সত্যতা প্রমাণিত হলে বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স বাতিল বলে গণ্য হবে।

কলাপাড়া নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি আপনাদের কাছে শুনলাম। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিনে দেখার জন্য আমি বলব। বিসিআইসির সার-ডিলার লাইসেন্স ভাড়া দেওয়া যায় না। সত্যতা প্রমাণ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




গুলিবিদ্ধ হয়েও মাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বাকি বিল্লাহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘আমার সামনেই পুলিশ-বিজিবির গুলিতে কয়েকটি তাজা প্রাণ ঝরে যায় চোখের পলকে। তখন আমিও গুলিবিদ্ধ। বাম হাত নাড়াতে পারছি না, এর মধ্যে আরেকজন গুলি খেয়ে আমার সামনেই লুটিয়ে পড়ে। ডান হাত দিয়ে কোনো রকম তাকে আগলে সামনে অগ্রসর হতেই আমার বাম পায়ের রানে পেছন দিক থেকে আরেকটি গুলি এসে লাগতেই মাটিতে পড়ে যাই। তখন আশপাশ থেকে কয়েকজন এগিয়ে এসে আমাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যায়। আমি ততক্ষণে অচেতন হয়ে পড়ি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এমনই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র মো. বাকি বিল্লাহ (২৪)।

তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেনের বড় ছেলে।

গত ১৮ জুলাই দেশব্যাপী যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পুরো চাঙা হয়ে ওঠে তখন বাকি বিল্লাহ ঢাকার রামপুরায় অবস্থান করছিলেন। সহপাঠীদের সঙ্গে তিনিও নেমে পড়েন সেই আন্দোলনে।

শেখ হাসিনার নামফলক ঢাকা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবি দিয়ে
ছাত্র-প্রশাসন মুখোমুখি, থমথমে অবস্থা। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল রাজধানীর অলিগলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ-বিজিবি এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। তবুও ছাত্ররা পিছু না হটে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, ঘড়ির কাঁটায় ৭টা ছুঁই ছুঁই। স্লোগানে স্লোগানে এগিয়ে যেতেই বাকি বিল্লাহর বাম হাতে একটি গুলি এসে লাগে। হাত ছিদ্র হয়ে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তবুও মরণপণ এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন সময় তার সামনে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। তাকে ডান হাত দিয়ে কাঁধে তুলে সামনে অগ্রসর হওয়ার সময় আরেকটি গুলি লাগে তার পায়ে।

বাকি বিল্লাহ বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মৃত্যু আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে, খুব কাঁদিয়েছে। আমার সামনেই একটি পথশিশুকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেটা আমাদের মিছিলের সঙ্গেই ছিলো। ওর বাহুতে একটি গুলি লেগে ওর বাম হাতটা প্রায় ৪-৫ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে, ছেলেটা ওখানেই মারা যায়। চোখ বুজলেই আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। এখনও গা শিউরে ওঠে, কান্না আসে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রাজধানীর নাগরিক হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পরিচিত এক আইনজীবী অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তার বাসায় রেখে সেবাযত্ন করেন। পরে মা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি নিয়ে আসেন।

এরই মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, বাকি বিল্লাহ তার মাকে আসল ঘটনা আড়াল করে অ্যাজমা সমস্যার কথা বলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মা হার্টের রোগী। আমি চাইনি মা-বাবা টেনশন করুক, কিংবা আমার এমন অবস্থার কথা শুনে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ুক। তাই বিষয়টা গোপন রেখেছিলাম।

বাকি বিল্লাহ বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে যেন এভাবে আর কারও ওপর গুলি ছোঁড়া না হয়। অধিকার আদায়ের জন্য যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। আমি মনে করি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা হবে বৈষম্যহীন।




আজ সকাল ১০টায় শাহবাগে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: খুনি শেখ হাসিনার বিচারসহ’ চার দফা দাবিতে ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। কেন্দ্রীয়ভাবে সকাল ১০টায় রাজধানী শাহবাগে মোড়ে জমায়েত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়করা।

বুধবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার প্রেরিত এক বার্তায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট ঘিরে ‘ক্যু’ হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রেরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তারা পিলখানা হত্যা, ২৮ অক্টোবর লগি বৈঠার তাণ্ডব, শাপলা চত্বরে রাতের অন্ধকারে আলেম ও মাদরাসা ছাত্র হত্যা, গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করাসহ কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হাসিনার বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেটে সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালিত হবে। রাজশাহীর তিনটি পয়েন্টে তালাইমারী, রেলগেট এবং সিএন্ডবি মোড়ে জড়ো হবেন ছাত্রজনতা। সেখান থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি পালিত হবে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অ্যালায়েন্স জানিয়েছে, তারা বুধবার রাত থেকে ধানমন্ডি ৩২ ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীল পরিবেশ অস্বাভাবিক গতিবিধি যেন না হয়, সেজন্য পাহারায় থাকবেন। ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোটিল ইনস্টিটিউট অব আইটিসহ ধানমন্ডির আশেপাশের সকল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের তারা ধানমন্ডি ৩২ এলাকায় জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আওয়ামী সরকারের সময়ে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালিত হত, দিনটি সরকারি ছুটি ছিল। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মন্ত্রীসভা এই ছুটি বাতিল করেছে।

কোটা সংস্কার থেকে সরকার পতনের আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। তবে এখনও প্রতিবিপ্লবের আশঙ্কায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এজন্য গত তিনদিন থেকে মাঠে রয়েছেন তারা। গত সোমবার তারা ‘রেজিস্ট্যান্স উইক’ ঘোষণা করেছেন। প্রতিদিনই তারা সারা দেশে নানা কর্মসূচি পালন করছেন।




পটুয়াখালী সদর উপজেলার আইনশৃংঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সর্ম্পকে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার আইন-শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যার ফলশ্রতিতে এখন অবদি জেলার কোথাও কোন ধরনের বিশৃংখলার খবর পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগনের বন্ধু সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা জনগনের সেবায় সেনাবাহিনী মাঠে আছে।

পটুয়াখালীতে আইন-শৃংখলা ও নিরাপত্তা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেবুখালী সেনানিবাসের কমান্ডিং অফিসার কর্নেল মোহসীন এসব কথা বলেন।

আজ পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে সদর উপজেলার আইন শৃংখলা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ নূর কুতুবুল আলম এর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেজর সাব্বির, পুলিশ সুপার আবদুস সালাম, জেলা জামাতের নায়েবে আমির এডভোকেট নাজমুল আহসান, পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র অন্দোলনের তোফাজ্জেল হোসেন, জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোঃ শামিম চৌধুরী, সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া আহম্মেদ প্রমুখ ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহবায়ক আবদুল রশিদ চুন্নু মিয়া, সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা জামাতের আমির অধ্যক্ষ মোঃ শাহআলম, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাফর উল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক আঃ রাজ্জাক, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রীষ্ট্রান ঐক্যপরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস, জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক ফারজানা রুমা, জেলা সেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন ,জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া হ্রদয় , সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, মো: জাকির হোসেন সহ ১৪টি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সহ সুশীল সমাজের নেতৃবুন্দ।

তিনি বলেন, আমরা সকলে মিলে ভাল থাকতে চাই, এ দেশে জনসাধারন যখন যেভাবে চেয়েছে সেভাবে দেশ পরিচালিত হয়েছে। যদি কখনো সেভাবে দেশ পারিচালিত না হয়, সেক্ষেত্রে জনসাধারন তাদের ভবিষৎ এর গতি প্রকৃতি নির্ধারন করে নিয়েছে। ইতিহাস বলে শাসকগোষ্টি যখন গনমানুষের কথা বুঝতে পারে নাই, তখন গনমানুষ নতুন করে নতুন দিক নিয়ে এসেছে। দেশের ৯০ ভাগ মানুষ একরকম চাচ্ছে, ১০ভাগ অন্য ভাবে চাচ্ছে-এ ক্ষেত্রে ৯০ ভাগ মানুষের কথাই শুনতে হবে। আমরা সকলে ভাল থাকতে চাই, শান্তিতে থাকতে চাই-এটাই আমাদের উদ্দেশ্য।

ছাত্র সমাজের উদ্দেশ্যে কর্নেল মোহসীন হোসেন বলেন, এদেশের ছাত্র ও যুব সমাজ একটি ভালো ভূমিকা রেখেছে-তারাই নেতৃত্বে ছিল শুরুতে, তাদের সাথে দেশের জনসাধারন মিশে গেছে যখন দেখেছে তাদের দাবী গুলি যৌক্তিক।

সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এ দেশ সবার, এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে আলাদা করা ঠিক না, তারা আমাদের ভাই সবার অধিকার সমান। পটুয়াখালীতে সংখ্যালঘু হিসেবে কারও উপর কোন হামলা হয়েছে-এ ধরনের কোন অভিযোগ সেনা ক্যাম্পে আসে নাই। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই আপনারা কেন বিক্ষোভ মিছিল করছেন, মানববন্ধন করছেন, কেন করছেন? আক্রমন না হয়ে থাকলেও প্রতিদিন মিছিল করার পরিকল্পনা, একত্রিত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন কারনটা কি? আপনাদের কোন ধরনের নিরাপত্তার হুমকী থেকে থাকলে আমাদের সেনাবাহিনীকে
জানান, আপনাদের নিরাপত্তার পুরোদায়িত্ব আমরা নেব। কিন্তু কোন কারন ছাড়াই কিসের উস্কানীতে এগুলি আপনারা করছেন? কারা আপনাদের এগুলি করাচ্ছেন? আপনারা কোন খেলার গুটি হবেন না। এ এলাকার মানুষ অসম্প্রদায়িক, এখানে একজন আরেক জনকে দেখে রাখেন। এখানে সাধারন ছাত্রদের সাথে মাদরাসার ছাত্ররাও রয়েছে। আমি ছবি দেখেছি বেড়া দিয়ে রেখে নামাজের সময় হয়ে গিয়েছে-
মন্দিরের পাশে জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়ছেন। আমরা যে অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বলি, এর চেয়ে ভালো দৃশ্য আর কি হতে পারে।

তিনি আরো বলেন, একটি অশুভ গোষ্টি ১৪ ও ১৫ তারিখকে সামনে রেখে যদি কোন নিরাপত্তা বিঘিœত করতে চেষ্টা করে তাদেরকে কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমরা সকলে মিলে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্ঠান সম্প্রদায়সহ সকল উপসানালয় নিরাপত্তার চাদরে রাখবো। আমরা সকলে মিলে সব সময় নজরে রাখবো, যাতে এগুলি ভাংচুর করে বা নিরাপত্তা বিঘিœত করে কোন ই্যসু তৈরী করতে না পারে, সেদিকে আমরা খেয়ালরাখবো।

তিনি পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, পুলিশ বাহিনী একটি সংস্কারের সংস্কারের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সংস্কারে পরে যে পুলিশ বাহিনী আসবে তা জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবে। কোন সংস্থাকে ঘৃনা করবেন না, পাপকে ঘৃনা করি পাপিকে নয়। পুলিশের নেতৃত্বে সমস্যা ছিল, তারা এখন কেউ নেই কিন্তু এলাকায় যারা অফিসার বা কনষ্টেবল হিসেবে আছেন তাদের সহযোগীতা করেন।আমি সব কয়টি থানায় গিয়েছি তাদের মধ্যে অনুশোচনা হয়েছ, তারা আমাকে বলেছেন তারা বাধ্য হয়েছেন ঐ কাজ গুলি করতে। তাদেরকে সুযোগ দিতে হবে, তারা নিশ্চয়ই আপনাদের আস্থার জায়গায় ফিরে আসতে পারবেন, জনগনের বন্ধু হিসেবে কাজ করবেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের চালুকৃত কমিউনিটি পুলিশের সাথে ছাত্র সমন্বয়ক ও ভলান্টিায়রদের নিয়ে টিম গঠন করে কাজ শুরু করতে হবে।




বরিশাল সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরের বাসায় হামলা, ভাঙচুর

বরিশাল অফিস :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। আজ বুধবার সকালে নগরের কালুশাহ সড়কস্থ মেয়রের বাসায় বিএনপির একদল কর্মী এ হামলায় চালিয়ে ওই বাসার জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে এবং গেটে ধাক্কাধাক্কি করেন বলে অভিযোগ।

একই সময়ে পার্শ্ববর্তী ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুর বাসভবনেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে বিএনপি দাবি করেছে, দুটি বাসাতেই ১৫ আগস্ট উপলক্ষে গোপন বৈঠক হওয়ার খবরে তা প্রতিহত করা হয়েছে।

নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সামজিদুল কবির বাবু বলেন, সকাল সোয়া ১০টার দিকে ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে বিএনপির একদল কর্মী তাঁর কালুশাহ সড়কস্থ বাসভবনের গেটে পিটায়। পাশের টিনশেড কার্যালয় ভাঙচুর করে ক্ষতি করেন তাঁরা। একই ওয়ার্ডে সিটি মেয়র আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের ভাড়া বাসায় হামলা চালিয়ে চার-পাঁচটি জানালার গ্লাস ভাঙচুর করেন। তাঁরা ওই বাসার গেট ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করেন। যদিও ওই বাসায় বর্তমানে মেয়র খোকন ছিলেন না।

তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রী নাসরিনের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।

তবে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘১৫ আগস্টের কর্মসূচি করার জন্য কাউন্সিলর বাবু ও মেয়রের বাসায় কিছু লোক সভা করেছিল। তাদের কাছে তথ্য ছিল সেখানে নাশকতামূলক কিছু হতে পারে। এই খবর পেয়ে আমাদের নেতা–কর্মী ও ছাত্র–জনতা সেখানে গিয়ে ওই পরিকল্পনা পণ্ড করে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেয়র খোকনের বাসায় একদল যুবক ইটপাটকেল মেরেছে। একই এলাকায় ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাবুর বাসায়ও যুবকেরা জড়ো হয়েছিল। দুটি স্থানেই পুলিশ ফোর্স পাঠিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।




পটুয়াখালীতে শহীদ হৃদয় তারুয়ার বাড়িতে পবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হৃদয় তারুয়ার বাড়িতে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ।

বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সেখানে পৌঁছে হৃদয় পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তারা, এ-সময় নগত অর্থ এবং পরিবারের একজনকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, শিক্ষক বৃন্দু ও শিক্ষার্থী।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কার নিয়ে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলাকালে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন হৃদয় তারুয়ার। সেখানে তিনি ছিলেন এই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক। গত ১৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে দিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পুলিশ তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলতে তার মৃত্যু হয়। নিহত হৃদয় তারুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পটুয়াখালীর সদর উপজেলায় তার বাড়ি।




‘একটা গুলি করলে একটাই মরে…’ এই ভিডিও কী কাল হলো জননিরাপত্তা সচিব জাহাঙ্গীর আলমের?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্‌ উদ্দিন চৌধুরী গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জাহাঙ্গীর আলম এ বছরের ৭ জানুয়ারি বিতর্কিত সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এছাড়াও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে একটা ভিডিও ভাইরাল হয় যেখানে পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, একটা গুলি করলে একটাই মরে বাকীরা দাঁড়িয়ে থাকে, এটাই সবচে আতংকের কথা….।




মির্জাগঞ্জে পুকুরে জমে থাকা ৫ বছরের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করলেন শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে একটি পরিত্যক্ত পুকুর প্রায় পাঁচ বছর ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরে ছিল। তবে সেখান থেকে জঞ্জাল সরিয়ে স্বাভাবিক রূপে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কার্যক্রমে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অন্তত ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন।

তাঁরা বলছেন, ৪/৫ ঘণ্টার মধ্যে পুকুরটি পরিষ্কার জঞ্জালমুক্ত হয়েছে। তবে এটি পুরোপুরি পরিষ্কার করতে আরও এক-দুই দিন সময় লাগবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বাজার পর্যবেক্ষণ, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা পালন করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলা শহর পরিচ্ছন্ন করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে উপজেলা শহর সুবিদখালীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কচুরিপানা ও ময়লা-আবর্জনায় পূর্ণ পুকুরটি পরিবেশ বিনষ্টের পাশাপাশি জীবাণু ছড়াচ্ছিল। পাশের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, বাসাবাড়ি, দোকানপাটের পরিবেশ নষ্ট হলেও পুকুরের আবর্জনা পরিচ্ছন্নতায় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শিক্ষার্থীদের এই সামাজিক কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুকুর পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত শিক্ষার্থীরা জানান, পুকুর পরিষ্কারের পাশাপাশি গত সাত দিনে শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও বিভিন্ন পয়েন্টের ট্রাফিকের দায়িত্বও পালন, বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন শিক্ষার্থীরা।

পুকুরটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র গোলাম রাব্বানী, সাইফুল ইসলাম সিয়াম, অর্জুন ঋষি, মিজান সজল, মাসুম, জাহিদুল ইসলাম, বান্না, শাওন, হৃদয়, সাব্বিরসহ ৫০ জন অংশ নেন।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিএম কলেজের সমন্বয়ক মো. রাব্বানী বলেন, পুকুরটি ময়লা অবস্থায় দীর্ঘদিন পড়ে ছিল। গতকাল সকাল থেকে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী নিজ উদ্যোগে স্বেচ্ছায় পুকুরটি পরিষ্কার কাজে অংশ নেন। এটি সম্পূর্ণ পরিষ্কার করতে আরও দুই দিন সময় লাগবে। এ ধরনের সামাজিক কাজ অব্যাহত থাকবে।

শিক্ষার্থীদের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। আশা করি সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।’




পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি বন্ধ হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমবে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত

চন্দ্রদ্বীপ বিশেষ রিপোর্ট : পরিবহন ক্ষেত্রে সড়কে যে চাঁদাবাজি হয়, তার পরিমান বছরে এক হাজার কোটি টাকার উপরে। চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বেড়ে যায় দ্রব্যমূল্য।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হলে ব্যবসার ব্যয় খাত ভেদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে। আর শাক-সবজির মতো নিত্য পণ্যের দাম কমতে পারে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান নেয়ার প্রেক্ষিতে ভেঙে পড়ে চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট। নাগরিকরা এরই মধ্যে এর সুফল পেতে শুরু করেছেন।

ভূক্তভোগীদের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের কিছুদিন আগেও সারাদেশে পরিবহন খাতে অনেকটা প্রকাশ্যেই চলতো চাদাবাজি।

বাস, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের নিয়মিত চাঁদা দিতে হতো ঘাটে ঘাটে। এ ছাড়া বিভিন্ন লেগুনা স্ট্যান্ডেও দিতে হতো চাদা। তবে গত এক সপ্তাহে ট্রাফিক পুলিশের অবর্তমানে শিক্ষার্থীরা সড়কে যান চালাচল নিয়ন্ত্রণ করায় কমে এসেছে চাদাবাজি। শান্তিতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টরা।

দেশে বর্তমানে পরিবহন শ্রমিকদের সংগঠন রয়েছে ৯৩২ টি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী এর ৬৮৬ টি সংগঠন ই অবৈধ। এসকল সংগঠনের মাধ্যমে বছরে অবৈধভাবে আদায় হতো ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা।
পরিবহন মালিক শ্রমিকরা বলছেন শিক্ষার্থীদের তদারকির ফলে অনেক স্থানে চাদাবাজি কমলেও কিছু কিছু পয়েন্টে এখনো চাদাবাজি চলছে।

এ অবস্থা থেকে রেহাই পেতে এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




বরিশালে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করলেন বিএম কলেজ উপাধ্যক্ষ

বরিশাল অফিস :: শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পদত্যাগ করেছেন বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএস কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর লেখা পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাক্ষর করেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএস কাইয়ুম উদ্দিন আহমেদ কলেজে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পোষেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চলাকালীন তার রুমে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের আশ্রয় দিয়েছেন এবং পরে তাদের আন্দোলনে লেলিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বিএম কলেজের প্রভাষক জাহাঙ্গীর কবির বলেন, শিক্ষার্থীরা স্যারের বিরুদ্ধে অনেকগুলো অভিযোগ এনে পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন। প্রথমে তিনি পদত্যাগে অস্বীকৃতি জানালেও পরে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এএস কাইয়ুম উদ্দিন বলেন, কলেজের কিছু শিক্ষার্থী মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসে হট্টগোল শুরু করে। তারা আমার পদত্যাগ দাবি করে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলে। সম্মানের কথা ভেবে সে কাগজে স্বাক্ষর করে দিয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে আমাকে অন্যত্র বদলির বিষয়ে অনুরোধ করেছি।