ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শহীদ ওসমান হাদির বোন

ঝালকাঠিতে শহীদ শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি-এর রাজনীতি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে তার বোন মাছুমা বিন হাদি ঢাকা-৮ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) নলছিটি পৌর শহরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা উল্লেখ করেন, শহীদ ওসমান বিন হাদি ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তার আকস্মিক প্রয়াণের পর এই আদর্শকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পরিবারের কাউকে নিতে হবে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, মাছুমা বিন হাদির মাধ্যমে শহীদ হাদির অসমাপ্ত রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ইনসাফের রাজনীতি চালু রাখা সম্ভব হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. নাজমুল হাসান টিটু, সাথী আক্তার, এম এন মামুন, আসিফ জিয়া, আব্দুর রাজ্জাক, মো. সিরাজুল ইসলাম, মোহাম্মদ মিরাজ, মো. আহাদ, ওমর ফারুক এবং আবু হানিফসহ অন্যান্যরা। তারা বলেন, মাছুমা বিন হাদি প্রার্থী হলে তিনি ইনসাফের পক্ষে ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে শহীদ হাদির স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করবেন।

এ বিষয়ে মাছুমা বিন হাদি সাংবাদিকদের বলেন, “শহীদ ওসমান হাদি সব সময় ইনসাফের কথা বলতেন। তার আদর্শের জন্য জীবন দিয়েছেন। সেই পথ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।”

শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদি ছিলেন দেশের রাজনীতিতে ইনসাফ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভীক কণ্ঠ, যিনি অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। তার প্রতিষ্ঠিত ইনকিলাব মঞ্চ ও ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার সেই আদর্শকে সাংগঠনিক ও সাংস্কৃতিক রূপ দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ডেভিল হান্ট অভিযানে রাজনৈতিক সাংবাদিক গ্রেপ্তার

বরিশালে ডেভিল হান্ট অভিযান চলাকালীন স্থানীয় এক সাংবাদিক ও উপজেলা রাজনৈতিক নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম নুরুল ইসলাম হাওলাদার, যিনি উজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার উজিরপুর প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

স্থানীয় সূত্র এবং উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে নুরুল ইসলাম হাওলাদারকে অভিযানকালে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর শনিবার দুপুরে তাকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারির বিষয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, নুরুল ইসলাম হাওলাদার উজিরপুরে সাংবাদিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। এই গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সিলেটে হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে প্রয়াত ঢাকা কোচ মাহবুব আলী জাকি

সিলেটে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) চলাকালীন ঢাকা ক্যাপিটালসের সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকি হঠাৎ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন।

ঘটনাটি ঘটে ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফরা অনুশীলনে ব্যস্ত থাকাকালীন তিনি আচমকাই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। উপস্থিতরা সঙ্গে সঙ্গে সিপিআর দিয়ে চেষ্টা করেন, এরপর দ্রুত তাকে সিলেটের আল হারামাইন হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মাহবুব আলী জাকি দেশের ক্রিকেটে বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফ ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘরোয়া ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ঢাকা ক্যাপিটালসের অধিনায়ক ও খেলোয়াড়রা সহকারী কোচের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিপিএলের মাঠে খেলোয়াড়রা খেলতে থাকলেও দলের সব সদস্যের মনে শূন্যতা ও বেদনা বিরাজ করছে।

মাহবুব আলী জাকির মৃত্যু সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেটাঙ্গনে ঘটে যাওয়া অন্য মর্মান্তিক ঘটনার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। এর আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগ চলাকালীন বরিশাল বিভাগের ফিজিও হাসান আহমেদ মাঠে অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।

ঢাকার প্রথম ম্যাচের আগেই অভিজ্ঞ কোচের আকস্মিক প্রয়াণ পুরো ক্রিকেট পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার প্রয়াণ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে এক শূন্যস্থান হিসেবে মনে রাখা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ভোটার তালিকায় যুক্ত হলেন তারেক রহমান

নির্বাচন কমিশনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) কেন্দ্রে ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ প্রদানের মাধ্যমে তার ভোটার নিবন্ধনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগ সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই শেষে তারেক রহমানের এনআইডি নম্বর সর্বোচ্চ এক দিনের মধ্যেই প্রস্তুত হবে। নিয়ম অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি স্মার্ট কার্ডও সংগ্রহ করতে পারবেন।

এর আগে শনিবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে বের হন তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেন।

এদিকে তারেক রহমানের কন্যা জায়মা জারনাজ রহমানও ভোটার নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হন। দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে জায়মাকে সঙ্গে নিয়ে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে যান তার মা ডা. জুবাইদা রহমান। জানা গেছে, ইটিআই ভবনের ১০৪ নম্বর কক্ষে জায়মার এনআইডি সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমানের পূর্বনির্ধারিত একটি কর্মসূচি অনুযায়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনের কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়।

তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। টিএসসি থেকে শহীদ ওসমান হাদির কবর পর্যন্ত এলাকায় দুই স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও টিএসসি এলাকায় অবস্থান নেন। সংগঠনটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




একই আসনে ভোটার হচ্ছেন তারেক রহমান ও তার কন্যা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার কন্যা জায়মা জারনাজ রহমান ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। বাবা ও মেয়ে—দুজনেই ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার হতে যাচ্ছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, গুলশান এলাকার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভোটার হওয়ার জন্য তারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করেছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুর কবীর সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, অনলাইনে আবেদন করার পর আবেদনকারীকে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ স্ক্যানের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে সার্ভারে যাচাই করবে—আবেদনকারীর তথ্য আগে কারও সঙ্গে মিল রয়েছে কি না। কোনো মিল না থাকলে ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর তৈরি হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এনআইডি বা স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী সকল আবেদনকারীর ক্ষেত্রেই একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং এতে ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরগুনায় আলু চাষে ভাটা, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

বরগুনা জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংরক্ষণের সমস্যা—জেলায় আলুর জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের মধ্যে আলু উৎপাদনে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। গত বছর যেখানে জেলায় ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এ বছর তা কমিয়ে ৯৪৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বরগুনা সদর উপজেলায় ১২০ হেক্টর, পাথরঘাটায় ৫৬২, বামনায় ৪২, বেতাগীতে ১৩২, আমতলীতে ১৯ এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৫ টন।

এদিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৫৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি ৩৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বাকি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ না পাওয়া এবং সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহ কমছে।

সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ মিলিয়ে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। পুরুষরা জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন, আর নারীরা বীজ বপনে যুক্ত রয়েছেন। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি।

কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান ফকির জানান, প্রতি বছর ধানের পাশাপাশি আলু চাষ করলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে সার ও ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

একই এলাকার নারী কৃষক হেনারা বেগম বলেন, সার সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সার না পাওয়ায় জমির সব অংশে আলুর গাছ সমানভাবে ওঠেনি। গত বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার ভালো দামের আশায় আবার চাষ করেছেন, তবে দাম না পেলে এবারও লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক মো. মুসা অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ না পাওয়ায় অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথায় চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক মো. রাহাত বলেন, উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে একসময় কৃষকরা বাধ্য হয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

কৃষকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী। আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা এগিয়ে এলে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বা কীটনাশক বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটা এলাকায় বেশি আলু চাষ হওয়ায় সেখানে সার বরাদ্দও তুলনামূলক বেশি দেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শুঁটকির স্বর্ণখনি চিথলিয়া, বছরে উৎপাদন শতাধিক টন

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে শুঁটকি উৎপাদনের এক ব্যস্ত কর্মভূমি। কচা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশের মাচায় সারি সারি শুকানো মাছ, বাতাসে শুঁটকির পরিচিত গন্ধ আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় শীত মৌসুম এলেই প্রাণ ফিরে পায় এই শুঁটকি পল্লী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। সেই বন্দরের আশপাশেই চিথলিয়া গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এই শুঁটকি পল্লী। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণ পাশে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসাকে কেন্দ্র করে এই পল্লী গড়ে উঠেছে। এখানে ৫ থেকে ৭ জন শুঁটকি ব্যবসায়ী এবং ১৫০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ মাছ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানিতে ভিজিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুকানো শুঁটকি বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে একটি বাসা থেকে এই শুঁটকি কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে তা বিস্তৃত হলেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসায় শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, চাপিলা, মধু ফ্যাপসাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ সাগরে বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে।

শুঁটকির মানভেদে প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় এখানকার শুঁটকি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরি করা হয়। ভালো মানের কারণে মোকামে আমাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।

অপর ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে জেলেরা সরাসরি মাছ নিয়ে আসেন। সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এখানকার শুঁটকি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, মৌলিক কিছু অবকাঠামো সুবিধা যেমন—টিউবওয়েল, ছোট সেতু ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই শুঁটকি পল্লী থেকে প্রতিবছর ১০০ টনেরও বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই খাতের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস শুঁটকি কার্যক্রম চলে। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এখানকার শুঁটকি দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরগুনায় নদীভাঙন: সরকারি আবাসন ও খাদ্যগুদাম ঝুঁকিতে

 

বরগুনার বামনা উপজেলায় পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর ভাঙনে সরকারি আবাসন প্রকল্প ও উপজেলার একমাত্র খাদ্যগুদাম বিলীন হওয়ার পথে। নদী ভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে ফসলি জমি, বসতঘর এবং ভিটেমাটি হারিয়েছে শত শত পরিবার। নদীর দুই তীরের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে দিনযাপন করছেন।

জেলার বামনা উপজেলার কলাগাছিয়া ও দক্ষিণ রামনা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের এক-তৃতীয়াংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, যেকোনো মুহূর্তে বাঁধটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এছাড়া বরগুনা জেলার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পথে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নদীর ভাঙনের কারণে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে অস্থায়ী রিং বাঁধ নির্মাণ করেছেন। তবে এটি স্থায়ী নয়। স্থানীয়রা দাবি করছেন, জিও বালুর বস্তা ফেলে দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা হোক।

বরগুনা পাউবো সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি পোল্ডারে ৮০৫ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে দুই কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত। ইতোমধ্যেই ৪৬ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার টেকসই বাঁধ নির্মাণকাজ আরএডিপি প্রকল্পের অর্থায়নে সম্পন্ন হচ্ছে। এছাড়া ১৪ দশমিক ১৬০ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ কাজ চলমান। আগামী দেড় বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বরগুনা জেলা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, ঝড় বা জোয়ারে নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। তাই বাঁধ মেরামতের পাশাপাশি উচ্চতা বাড়ানো প্রয়োজন।

পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবদুল হান্নান জানান, ভাঙনকবলিত স্থানে স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। অর্থ বরাদ্দ পেলে নতুন স্থানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কুমিল্লায় অস্ত্রসহ ৭ আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার গ্রেফতার

কুমিল্লায় ডিবি পুলিশ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারে অভিযান চালিয়ে ৭ জন আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দারকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও ডাকাতির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশ জানায়, দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ বাজারে ১৪–১৫ জনের একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ সময় ডিবির এসআই পবিত্র সরকার, এসআই তৌকিক হোসেন ও এসআই অর্ণব কুমার সঙ্গীয় ফোর্সসহ সেখানে অভিযান চালান। অভিযানে ৭ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের নাম ও মামলার সংখ্যা হলো—

  • মো. সাদ্দাম হোসেন (৩২), টামটা গ্রামের ৬টি মামলার আসামি
  • মো. সুমন (৩০), আলেখারচর এলাকার ৭টি মামলার আসামি
  • মো. নজরুল ইসলাম দুলাল (২৮), বুড়িচং উপজেলার ৫টি মামলার আসামি
  • মো. সোলেমান ওরফে রুবেল (৩৫), ফেনী সদর উপজেলার ৬টি মামলার আসামি
  • ফকির আহমেদ ওরফে আলাউদ্দিন (৫৫), নোয়াখালীর ৭টি মামলার আসামি
  • মামুনুর রশিদ সোহাগ (৩৫), লক্ষ্মীপুর জেলার ৭টি মামলার আসামি
  • মো. শাহীন (২৫), ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ৮টি মামলার আসামি

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১টি দেশীয় তৈরি এলজি (অস্ত্র), ২ রাউন্ড বারবোর কার্তুজ, ১টি লোহার কাটার, ১টি লোহার হাইড্রোলিক কাটার, ১টি কাঠের বাটযুক্ত লোহার ধামা, ১টি লোহার ছেনি, ১টি লোহার দা এবং ২টি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা ডিবির ওসি মোহাম্মদ শামছুল আলম জানান, গ্রেফতারকৃতরা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার। তাদের নেটওয়ার্ক অনেক বড়। বাকি ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ঝালকাঠির সন্ধ্যা নদীর আয়রন ব্রিজ ভেঙে, বিপাকে শিক্ষার্থী ও মানুষ

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সন্ধ্যা নদীর ওপর ছয় বছর ধরে ভাঙা পড়া আয়রন ব্রিজটির কারণে নদীর দুই তীরের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা তীব্র দুর্ভোগে পড়েছেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জেলা বার্তা পরিবেশক জানান, দীর্ঘ ছয় বছর আগে ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর শুক্তাগড় ইউনিয়নের তালুকদার হাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে গাছবাহী নৌকার ধাক্কায় ২২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের ব্রিজটির মাঝের অংশ ভেঙে যায়। এর ফলে রাজাপুর, কাউখালী ও ঝালকাঠি সদর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে গেছে যাত্রীবাহী গাড়ি, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল।

ভোগান্তিতে পড়েছে অন্তত ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। এছাড়া নদীর দুই তীরের সাতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থীও স্কুলে যাতায়াতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ব্রিজ সংলগ্ন তালুকদার হাট বাজারও বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ ও সুপারি গাছ দিয়ে সাময়িকভাবে যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা করছেন, তবে তা স্থায়ী সমাধান নয়।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ব্রিজটির পুনঃনির্মাণের জন্য দীর্ঘ ছয় বছর ধরে দাবি জানানো হলেও কাজটি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, সেতুটি পুনঃনির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা ডিপিপিতে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। তবে ঠিক কখন নতুন সেতু নির্মাণ হবে এবং দীর্ঘ বছরের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫