নারায়ণগঞ্জে শেখ হাসিনা-শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় নারায়ণগঞ্জে আবুল হাসান (২০) নামের এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দেড় থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

গতকাল শনিবার রাতে নিহত আবুল হাসানের বড় ভাই আবুল বাশার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ওই হত্যা মামলাটি করেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সাত্তার মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আবুল হাসান কোমল পানীয় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকরি করতেন। তিনি বন্দর উপজেলার কুশিয়ারা এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ, সাবেক জাতীয় পার্টির দলীয় সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, তার ভাতিজা আজমেরী ওসমান, অয়ন ওসমান, শামীম ওসমানের শ্যালক তানভীর আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল করিমসহ এজাহারনামীয় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দেড় থেকে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলাটি করা হয়।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট বেলা দেড়টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় মামলার বাদীর ভাই আবুল হাসানকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অপরাপর আসামির নির্দেশে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমান তাকে গুলি করে হত্যা করেন।

৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে শহরের মিশনপাড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন আবুল হাসান। সে সময় চাষাঢ়া এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের সংঘর্ষ চলছিল। ওই সময় গুলিবিদ্ধ হন আবুল হাসান। তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে তিনি মারা যান।

উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে তিনি দেশ ছাড়েন।




নগর থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে শিক্ষার্থীদের বাস ভাড়া ফ্রি

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরের রুপাতলী টার্মিনাল থেকে বাসযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আর ভাড়ার প্রয়োজন হবে না।

বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম চৌধুরীর সই করা এক নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ওই নোটিশের শুরুতে শ্রমিক ইউনিয়নের সব শ্রমিকদের (চালক, সুপারভাইজর, হেলপার) উদ্দেশে বলা হয়েছে দেশের চলমান পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে বিশেষ করে ছাত্র সমাজের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের পেশাদারি শ্রমিক নেতারা এবং সব পেশাদারি শ্রমিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জরুরি বৈঠকে আলোচনা, সমালোচনা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে সব বাস শ্রমিকদের (চালক, সুপারভাইজর, হেলপার) প্রতি নিম্নোক্ত নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালন করার জন্য বলা হলো।

নির্দেশনাগুলো হলো:

১. রুপাতলী বাস টার্মিনাল হইতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গাড়িতে থাকা সব ছাত্র/ছাত্রীদের বাস ভাড়া নেওয়া যাবে না।

২. রুপাতলী বাস টার্মিনাল হতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়া পার হওয়ার পরে সুপারভাইজাররা যাত্রীদের ভাড়া নেওয়া শুরু করবে।

৩. রুপাতলী বাস টার্মিনাল হতে কর্ণকাঠি ব্রিজ এরিয়া পর্যন্ত যাওয়া এবং আসায় বাস চালকরা কোনো অবস্থাতেই ওভারটেকিং করবেন না।

৪. সব ছাত্র/ছাত্রীদের সহিদ আপনি সম্বোধন করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের তুই/তুমি বলে ডাকা যাবে না।

৫. বাসস্ট্যান্ডে ছাত্র/ছাত্রী গাড়িতে উঠানোর সময় হেলপার ও সুপারভাইজাররা অবশ্যই বিনয়ের সহিত ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করতে বলবেন। আগে যাত্রীদের উঠিয়ে এরপর সব ছাত্র/ছাত্রীদের ওঠানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয় ওই নোটিশে।

নোটিশের শেষে বলা হয়েছে- সব পেশাদারি শ্রমিকরা যাত্রাপথে গাড়ি চালানোর সময় সব যাত্রীদের সহিদ এমনভাবে আচরণ করবেন যাতে পেশাদারি শ্রমিকদের সম্মান বাড়ে এবং শ্রমিক ইউনিয়নের সুনাম অক্ষুণ্ন থাকে।

অপরদিকে বিআরটিসি বাসে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ৩০ শতাংশ কম ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে বরিশালের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে এ সুবিধা চালু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিআরটিসির বরিশাল ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেন।

শুধু বরিশাল ডিপো থেকে এ সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। ফিরতি পথে দক্ষিণাঞ্চলের বিআরটিসি বাসের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা মিলবে। তবে টিকিট সংগ্রহের সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড প্রদর্শন করতে হবে। এর আগে বুধবার রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সমন্বয়ক সুজয় শুভসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা ডিপো ম্যানেজারের সঙ্গে মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে ভাড়া মওকুফের দাবি তোলা হলে তা মেনে নেয় বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ।

ববি সমন্বয়ক সুজয় শুভ বলেন, বরিশাল বিআরটিসির ডিপো ম্যানেজারের আহ্বানে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় যাত্রী হয়রানি বন্ধ করে সেবার মান আরও বাড়ানোসহ শিক্ষার্থীদের ভাড়ার কিছু অংশ মওকুফের দাবি করা হয়। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবি মেনে নিয়ে চাঁদাবাজি ও যাত্রী হয়রানি বন্ধে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। ভাড়া মওকুফের ফলে শিক্ষার্থীরা কম ভাড়ায় দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া-আসা করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিআরটিসির ডিপো ম্যানেজার জামিল হোসেন বলেন, বরিশাল বিআরটিসি টার্মিনাল থেকে সব শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড দেখালে ৩০ শতাংশ ভাড়া মওকুফের সুবিধা পাবেন। বরিশাল থেকে দেশের যেকোনো গন্তব্যে আসা যাওয়ার ক্ষেত্রে বরিশাল ডিপোর বাসগুলো এ সুবিধা দেবে। বর্তমানে দেশে ক্রান্তিকাল চলমান থাকায় যাত্রী সংকট চলছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভাড়া কমানোর দাবি জানিয়েছেন। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এ সুবিধা অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে।




বরিশালে ক্রেতারা ইলিশের বদলে ফিরছেন অন্যমাছ কিনে

বরিশাল অফিস ::‘ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধের’ খবরে দাম কমেছে আশায় বরিশালের মাছ বাজারে অনেক ক্রেতা ভিড় করছেন। কিন্তু তাদের মনখারাপ করে ফিরতে হচ্ছে। দামতো কমেইনি বরং গত মৌসুমের তুলনায় মণ প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা। পাইকাররা বলছেন, ইলিশ ধরা পড়ছে কম। তাই দাম কমা তো দূরে থাক, বেড়েছে অনেক।

পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ইলিশ কিনতে আসা গৃহিণী পুষ্পিতা মন্ডল বলেন, ‘ইলিশের দাম আমাদের সাধ্যের বাইরে। যে টাকা নিয়ে এসেছি, তার থেকে ইলিশের দাম অনেক বেশি। এসেছি ইলিশ কিনতে, কিন্তু কিনতে হচ্ছে অন্য মাছ।’

ব্যবসায়ী জগলু মিয়া বলেন, ইলিশ কেনার টার্গেট নিয়ে এসেছি, কিন্তু রুই মাছ কিনে ফিরছি। আমরা আশা করছি ইলিশের দাম কমবে।’

স্কুল শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, ‘যে মাছ ১২শ টাকায় কিনেছি, সেই মাছ ১৮শ টাকার নিচে দিবেই না। আমরা তো ভেবেছি ভারতে ইলিশ যাচ্ছেই না, দাম কমে গেছে। বাসা থেকে আসছি আশা নিয়ে, তবে বাজেট নেই তাই, একটা ইলিশই কিনতে হয়েছে।’

বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে পাইকারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশের বর্তমানে মণপ্রতি ৫৮ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, এক কেজি ওজনের মাছ মণ ৬৪ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকা, ১১শ গ্রামের উপরের ওজনের ইলিশ ৬৮ হাজার টাকা, ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫৪ হাজার টাকা এবং জাটকা ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২ হাজার টাকা দরে।

তবে গত মৌসুমে এই ৭শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের ইলিশের বাজার দর ছিল মণ প্রতি ৫৫ হাজার টাকা, এক কেজি ওজনের মাছ ৬০ হাজার টাকা, ১১শ গ্রামের উপরের ওজনের ইলিশ ৬৩ হাজার টাকা, ৫শ থেকে ৬শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫০ হাজার টাকা এবং জাটকা ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার টাকা দরে।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার এসোসিয়েশনের সদস্য ইয়ার হোসেন রব বলেন, ‘সাগরেও ইলিশ নেই, নদীতেও ইলিশ নেই। এখন যে পরিস্থিতি তাতে ব্যবসা বন্ধ করতে হবে, এই ব্যবসা করে স্টাফ চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

’একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে ৩ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু ট্রলার ফাঁকা আসছে, ইলিশ নেই। ব্যাংকে ঋণ রয়েছে ৬৫ থেকে ৭০ লাখ টাকা, বাইরে লোকালে ঋণ আছে, এখন ইলিশ ধরা না পরলে আমাদের পালাতে হবে। ৩ থেকে ৪ বার ট্রলার ফেরত এসেছে মাছ ছাড়া। এমন অবস্থায় ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।’

বরিশালের পোর্ট রোডে স্বাভাবিক মৌসুমে ইলিশ নিয়ে ১৫ থেকে ২০টি ট্রলার ভিড় করত। সেখানে এখন আসছে সর্বোচ্চ ৫টি ট্রলার। সব মিলিয়ে আসছে ৬০ মণের মত ইলিশ। এই কারণে দাম অনেকটা বেশি। চাহিদা অনেক থাকলেও সরবরাহ নেই।

ইয়ার হোসেন বলেন, ‘২৩ জুলাই ইলিশ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। এরপর প্রায় একমাস হতে চললেও জেলেরা নদী-সমুদ্রে আশানুরূপ ইলিশ পাচ্ছে না। তাই আড়তেও মাছ আসছে না। পানি দূষণ, বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীর মাছ আসছে না। তারপরও আমরা আশা করছি বৃষ্টি আরো বাড়লে মাছ বাড়তে পারে। মাছ না পাওয়া গেলে জেলেরা যেমন ঋণী হবেন তেমনি আমরাও লোকসান গুনবো।’

ইয়াছিন আরাফাত ফিশিং নামের আড়তের মালিক রেজাউল করিম ফোরকান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার পর এমন ইলিশ সংকট বরিশালে কখনোই হয়নি। ভারতে রপ্তানি বন্ধ হয়েছে তাতে আমাদের বাজারে কোনো প্রভাবই নেই। কারণ ইলিশ আমাদের নদী সাগরে নেই। আমরাই পাচ্ছি না ইলিশ, এর মধ্যে রপ্তানি বন্ধ হয়েছে বা না হয়েছে সেটা ভাবার বিষয় নেই। আমরা এখন পুরোপুরি লোকসানের মুখে।‘

মেসার্স এম আর ফিস আড়তের মালিক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, সবাই ইলিশের দাম কমছে বললে তো আর দাম কমে না। আমাদের মজুত করা যে মাছ রয়েছে সেটার দাম কিছুটা কম, তবে তাজা ইলিশের দাম অনেক বেশি। ভারতে রপ্তানি হতো এলসি সাইজের ইলিশ অর্থাৎ ৭শ থেকে ৯শ গ্রাম ওজনের। সেটার আজকে বর্তমান বাজার দর মণ প্রতি ৬০ হাজার টাকা এবং কেজি প্রতি ১৫শ টাকা। কেজি সাইজের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৬২৫ টাকা, ১২শ গ্রাম ওজনের কেজি ১ হাজার ৭৫০ টাকা।

নদীর ইলিশের দামটা বেশি, সাগরের ইলিশের দাম কম, কারণ স্বাদের তফাৎ রয়েছে। গত সিজনের তুলনায় এই সিজনে দামের পার্থক্য অনেক।

কামাল সিকদার ফিস আড়তের ম্যানেজার মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘তাজা ইলিশের বর্তমান দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বলা যায়। ভারতে রপ্তানি বন্ধের খবরে ইলিশের দাম কমার গুঞ্জনে বাজারে সবাই হুমড়ি খেয়ে পরেছে।

`আসলে ইলিশের দাম মোটেই কমেনি, বরং বেড়েছে অনেক। নদী ও সাগরে ইলিশ তো নাই আবার বরিশালে ঘাটে ট্রলার আসতেও চায় না। এখানে খরচ বেশি হওয়ায় চাঁদপুরে চলে যায় ট্রলার।’

ইলিশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বাদশা বলেন, ইলিশ শিকারে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞায় কড়াকড়ি ছিল না। নিষেধাজ্ঞার সময় জাটকা ইলিশ শিকার করার কারণে এখন ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। যদি ঠিকমত অভিযান হতো, তাহলে এখন ইলিশ পাওয়া যেতো।

ইলিশ ব্যবসায়ী মাসুম হাওলাদার বলেন, ‘ভরা মৌসুমে ইলিশ না পাওয়া আমাদের জন্য হতাশাজনক। বাংলাদেশে ভাটার সময় সব ইলিশ ভারতে চলে যায়, তবে যেসময় ভারতের নদীতে জোয়ার হয় তখন তারা বিভিন্ন পয়েন্ট জাল দিয়ে আটকে দেয়, যাতে ভারত থেকে ইলিশ বাংলাদেশে না আসতে পারে।

তবে বাংলাদেশের ইলিশ কিন্তু ভারতে যাচ্ছে ভাটায়, কিন্তু ভারতেরটা আসছে না জোয়ারে। এই বিষয়টির দিকে নজর দিলে আমরা ইলিশ খেয়ে শেষ করতে পারবো না।’

পোর্ট রোড বাজারে ইলিশ কিনতে আসা আবির মাহামুদ বলেন, ‘শুনেছি ইলিশের দাম কমেছে ভারতে রপ্তানি বন্ধ হওয়ায়। সেই খবরে বাজারে এসেছি নদীর ইলিশ কিনতে, তবে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছি।

`ইলিশের দামে আগুন লেগেছে। এত দাম দিয়ে ইলিশ কেনা সম্ভব নয়। মূলত সব সিন্ডিকেটের দরজা চিরতরে বন্ধ করা উচিৎ, তাহলে যদি মাছের দাম কমে।’

বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, `ভারী বর্ষণ হলে ইলিশও প্রচুর ধরা পরবে। জেলেদের হতাশ হওয়ার দরকার নেই। অপেক্ষা করতে হবে। সরকার ঘোষণা দিয়েছে ইলিশ বিদেশে পাঠানো কমিয়ে আনার জন্য। এতে করে স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশ পাওয়া যাবে, তবে সময়ের ব্যাপার।




প্রয়োজনে শহীদ হব’ – মাকে বলে এসে আন্দোলনে প্রাণ হারান ইমরান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন মো. ইমরান হোসেন (১৮)। বাসা থেকে বের হওয়ার আগে মা নাজনীন বেগমকে বলেছিল, ‘মা দেশ কিন্তু স্বাধীন হবেই, প্রয়োজনে ছাত্রসমাজের জন্য শহীদ হব।’ এই কথা শোনার পর ইমরানের মা হাত ধরে বলেছিলেন, ‘আজকে বাসা থেকে বের হইস নাহ বাবা।’ মায়ের কোনো কথা না শুনেই বাসা থেকে বের হয়ে যায় ইমরান। তবে আর বাসায় ফেরা হয়নি তার। শহীদ হয়েছেন তিনি।

নিহত মো. ইমরান হোসেনের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর বড় ডালিমা গ্রামের। ওই গ্রামের মো. কবির হোসেন জোমাদ্দার ছেলে তিনি। তিন ভাইয়ের মধ্যে ইমরান মেজো। দশম শ্রেণিতে লেখাপড়ার পর অভাবের কারণে আর লেখাপড়া সম্ভব হয়নি। ইমরান ঢাকার বায়তুল মোকারম মার্কেটে কার্পেটের একটি দোকানে চাকরি করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে উত্তপ্ত হয় পুরো ঢাকা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ও গুলি বর্ষণ করে পুলিশ। যাত্রাবাড়ি এলাকায় বেলা ১১টার দিকে পুলিশের একটি গুলি এসে ইমরানের গলায় লাগে। ইমরানের মা মোবাইল ফোনে কল করলে একজন রিসিভ করে জানায়, ইমরানের গুলি লেগেছে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন ইমরান মারা গেছে। এ খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ে ইমরানের মা। এখনও ছেলের শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি ইমরানের মা নাজনীন বেগম।

ঢাকার মীরহাজির বাগ পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন ইমরান। ৫ আগস্ট রাত ১১টার দিকে ইমরানের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী বাউফলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন ৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে জোমাদ্দার বাড়ি মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ৯ আগস্ট পরিবারের সবাই ঢাকায় ফিরে যান। ইমরানের বাবা কবির হোসেন বিভিন্ন দোকানে মালমাল সরবরাহের কাজ করেন। ইমরানের বড় ভাই তফিকুর রহমান লিমন (২৫) নবাবপুরে একটি ফ্যান কোম্পানিতে চাকরি করেন, ছোট ভাই মাহাদুর রহমান মাহিন (১১) চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ইমরানের চাচা মো. মিরাজ হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ইমরান কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত না। এর আগেও একটা রাবার বুলেট লাগছে তারপরও ইমরান বলছে প্রয়োজনে আমি ছাত্রদের জন্য শহীদ হব। ওর আম্মা অনেক নিষেধ করছে, বাসা থেকে যাইস নাহ। বাসা থেকে হওয়ার আগে ইমরান তার মাকে বলেছিল, মা দেশ কিন্তু স্বাধীন হবে প্রয়োজনে ছাত্রসমাজের জন্য শহীদ হয়ে যাব।

ইমরানের চাচাতো ভাই মো. জিদান বলেন, ইমরান তো চইল্লা গেছে। ভাইরে তো আর পামু নাহ। আমার ভাইরে যারা নির্মমভাবে মারছে, আমি তাদের বিচার চাই।

ইমরানের বাবা কবির হোসেন জোমাদ্দার বলেন, আমার এই ছেলেটা (ইমরান) দেশ প্রেমিক ছিল। দেশের জন্য পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছে। এই দুনিয়াতে আমার ছেলের হত্যার বিচার হবে কিনা আমি জানি নাহ। আমি আল্লাহ্ কাছে বিচার দিছি।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাউফলের শিক্ষার্থী মুনতাসির তাসরিপ বলেন, ছাত্র আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দেখা করেছি, কথা বলেছি। আমরা সবাই চাই এই হত্যাকাণ্ডের যথাযথ বিচার হোক।




পটুয়াখালীতে ট্রলার ডুবি, ১৫ জেলে জীবিত উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: লঘুচাপের প্রভাবে উত্তাল থাকা বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীতে এক‌টি ট্রলার ডোবার ঘটনা ঘ‌টে‌ছে।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের সোনারচর সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এ ঘটনা ঘটে।

তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সব জেলেকে জী‌বিত উদ্ধার করা হ‌লেও ট্রলারটি উদ্ধার করা যায়নি। বিষয়‌টি নিশ্চিত করেন ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক ‌মো. জাহাঙ্গীর মাতুব্বর।

তিনি জানান, সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় মাছ শিকারী জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে আসতে রওনা হয়। তবে প্রচণ্ড ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার এসে ট্রলা‌রের জেলেদের উদ্ধার করে।




সাবেক সচিবের বাসায় বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব শাহ কামালের বাসা থেকে ৩ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার ৮৭২ টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার মধ্যে ১০ লাখ ৩ হাজার ৩০৬ টাকার মূল্যমানের বিদেশি মুদ্রাও রয়েছে।

শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কয়েক ঘণ্টা রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার বাবর রোডের এফ ব্লকের ২৯/২ ও ৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি টিম।

সন্ধ্যায় ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ওবায়দুর রহমান এক ক্ষুদে বার্তায় এতথ্য জানান।

তিনি জানান, ২ ও ৫ টাকার নোট থেকে শুরু ১ হাজার টাকার নোট পাওয়া গেছে। সেখানে ৩ কোটি এক লাখ ১০ হাজার ১৬৬ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা দামের ১০০ টাকার প্রাইজ বন্ড এবং ১০ লাখ ৩ হাজার ৩০৬ টাকা মূল্যমানের বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।

এরমধ্যে বিদেশি মুদ্রার মধ্যে ৩ হাজার ইউএস ডলার, ১৩২০ মালয়েশিয়ার রিঙ্গিত, ২৯৬৯ সৌদি রিয়াল, ৪১২২ সিঙ্গাপুর ডলার, ১৯১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ৩৫ হাজার কোরিয়ান ইউয়ান ও ১৯৯ চায়না ইউয়ান পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ জুন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামালকে অবসরে পাঠায় সরকার।




দুমকি উপজেলা চেয়ারম্যানকে জনতার জুতাপেটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে উপজেলা চেয়ারম্যান কাওছার আমিন হাওলাদারকে জুতাপেটা করলেন স্থানীয় জনতা।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় উপজেলার দুমকি নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় দুমকি নতুন বাজার এলাকায় চায়ের দোকানে চা খেতে আসেন মাল্টা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান কাওসার আমিন হাওলাদার। পরে উপস্থিত জনতা তাকে দেখতে পেয়ে জুতাপেটা করেন। এরপর কোনোমতে তিনি দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এ বিষয় কাওসার আমিন হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমি সন্ধ্যায় দুমকি নতুন বাজার এলাকায় আবু বকরের চায়ের দোকানে চা খেতে যাই। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০/১২ জন যুবক আমাকে এলোপাথাড়িভাবে মারধর শুরু করেন।




ছাত্রদল নেতা হত্যার প্রধান আসামি ৯ বছর পর গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভোলার চরফ্যাশনে ২০১৫ সালে ছাত্রলীগের হাতে খুন হওয়া চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সভাপতি আ. রাজ্জাক হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. লোকমান মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মহিপুর মৎস্যবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লোকমান শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পরে মৎস্য বন্দর এলাকায় ঘোরাঘুরি করছিল লোকমান। এমন সময় ভোলার কিছু জনতা তাকে চিনতে পারলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে তাকে মহিপুর থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।

গ্রেপ্তার লোকমান মাতুব্বর চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ এলাকার নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। তিনি একই এলাকার জিন্নাঘর এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে তৎকালীন চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আ. রাজ্জাক হত্যার প্রধান আসামি।

চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বলেন, লোকমান মাতুব্বর চরফ্যাশন এলাকার আতঙ্ক। তিনি ২০১৫ সালে ঈদুল আজহার দিন চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যার উপহার হিসেবে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেন। তিনি এলাকায় মাদক, ইয়াবা সম্রাট হিসেবে পরিচিত। তার আতঙ্কে মানুষ ঘরে থাকতে পারত না।

মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) মো. নোমান হোসেন জানান, সন্ধ্যায় জনসাধারণ লোকমান মাতুব্বরকে আটক করে। পরে আমরা তাকে হেফাজতে নিয়ে আসি। আমরা তার নিজ এলাকা চরফ্যাশনের শশীভূষণ থানার সঙ্গে কথা বলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরবর্তী আইনানুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়েই লাপাত্তা দশমিনা কলেজের অধ্যক্ষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনায় আয়-ব্যয়ের হিসাব না দিয়েই লাপাত্তা হয়েছেন মো. মাহমুদ উল্লাহ নামে সরকারি কলেজের সাবেক এক অধ্যক্ষ। তিনি উপজেলার দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মেরও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দশমিনা সরকারি আবদুর রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজের আইসিটি বিভাগের প্রভাষক মো. মাহমুদ উল্লাহ ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২৪ জুন পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। পরে মাউশি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ওই কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আনিচুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৪ জুন নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সাবেক অধ্যক্ষ মো. মাহমুদ উল্লাহ লাপাত্তা রয়েছেন। কলেজের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব না দিয়ে তিনি আত্মগোপনে আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আনিচুর রহমান বলেন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মাহমুদ উল্লাহ ২৪ জুন থেকে একবারও কলেজে আসেননি। কলেজ খোলার পর থেকে তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠদানও করাচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি লাপাত্তা রয়েছেন। কলেজের আয়-ব্যয়সহ ব্যাংকের হিসাবও দেননি তিনি।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মাহমুদ উল্লাহর নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।




বিছানায় কাতরাচ্ছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গু*লিবিদ্ধ বেল্লাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুই পায়েই গুলি লেগেছে। পা দুটোর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা। ডান পায়ের হাটুর নীচের ক্ষত অনেক বড়। বাম পায়ের গোড়ালীর ক্ষতও কম নয়। ব্যাথায় কাতরাচ্ছে বিছানায়। ঢাকার এক হাসপাতালে পায়েবিদ্ধ গুলি বের করার পর বাড়ি এসে নিরাপত্তার ভয়ে অনেকটা আড়াল করে রাখলেও নিজেকে আর ঢেকে রাখকে পারছিলেন না কিছুতেই। ওষুধপত্র আর উন্নত চিকিৎসার সাধ্যও নেই তার পরিবারের। কথা বলতে চাইলে তাই ভেজাচোখে বেল্লাল (২০) নিজেই জানাচ্ছিল বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে যোগদান থেকে তার বর্তমান শারিরিক অবস্থার কথাগুলো।

পুরো নাম তার মো. বেল্লাল ইসলাম। বাবা মো. আলাউদ্দিন গাজী পেশায় সিইনজি চালক। মা সোসা. নাজমা বেগম গৃহিনী। পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া গ্রামে বাড়ি। নিজ গ্রাম লাগোয়া কালাইয়া বন্দরের ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাসের পর আর্থিক অনটনে বিএ ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। ইচ্ছে ছিল ছোটখাট উপার্জনে জড়িয়ে পরিবারের আয়ের সহোযোগি হওয়া আর সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের। তাই মাস ছয়েক আগে রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম চাকুরি নেয় সে। গত ৫আগস্ট (সোম বার) বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উল্টোদিকে প্রগতি সরনির মেরুলবাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় সে।

অন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিজয়ের কথায় সামান্য হাসির রেখা ফুটে উঠলেও ব্যাথায় আবার মলিন হচ্ছিল মুখাবয়ব। এমনি আনন্দ-বিষাদের শারিরিক পরিস্থিতি নিয়ে বেল্লাল জানায়, পরিবারের সহায়-সম্বল বলতে বসতঘরের জায়গাটুকু ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। সিএনজি চালক বাবার কামাই রোজগারেও খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না। তাই সংসারে আয়ের জোগান দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের ইচ্ছায় ছুটে যায় রাজধানী ঢাকায়। রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নেয় পার্টটাইম চাকুরি। ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে বেড়িয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে সড়কে। একই সময় গুলিবিদ্ধ হয় ইফাত নামে নরসিংদী এলাকার অপর একজন। চোখের সামনে মারা যেতেও দেখে সে ইফাতকে। এ সময় উপস্থিত বয়স্ক কয়েকজন মিলে তাকে আফতাব নগরের জহিরুল ইসলাম সিটির সি ব্লোকের নাগরিক স্পেসালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। তবে সেখানে রোগির ভিরে জায়গা মেলেনি। রাখা হয় হেলথ কেয়ার নামে একই এলাকারই ছোট পরিসরে সদ্য গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে। দুই দিন পরে খবর পেয়ে ছুটে আসেন নারায়নগঞ্জ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত বড় বোন আখি আক্তার। এরপর তার পায়ের গুলি বের করা হয় বাসাবো এলাকার মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে। গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) গ্রামর বাড়ি চলে আসেন বেল্লাল।

বেল্লাল জানায়, পায়ের ক্ষতে ব্যান্ডেস করে দেয় ডাক্তার। ১৫ দিনের আগে কোন কিছু করা যাবে বলে জানায়। ওষুধ নিতে হয় চার ঘন্টা পর পর। মাসে ১টি করে টিকা নেয়া আর এক মাসের আগে সুস্থ্য হওয়ার নয় বলেও ডাক্তার জানায় তখন। এখন পর্যন্ত দুপায়ে ভর করে কোন মতেই দাঁড়াতে পারছেন না সে। ব্যান্ডেসের ভেতরে তীব্র জ্বালাযন্ত্রনা। বিছানায় কাতরাচ্ছে সে। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ড্রেসিং করতে গেলে সেখানে গ্রাম্য ডাক্তার বেল্লালের অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও সামর্থ নেই তার পরিবারের। কয়েকদিন আগে ঘরগৃহস্থলীর কাজে গিয়ে পায়ে কারাতের আগাতে গুরুতর আহত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন বাবা আলাউদ্দিন গাজী। শারিরিক অসুস্থ্য মা নাজমা বেগমও।

বেল্লাল ইসলাম বলেন, ‘আমি হৃদয়ের টানেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাসায় থেকে বেড় হয়ে যাই। বসে থাকার উপায় ছিল না ওই দিন। পায়ে গুলি লাগলে সড়কে পড়ে যাই। ব্যাথায় জ্বলতেছিল। বয়স্ক কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডান পায়ে যে গুলি লেগেছে, তা রাবার বুলেট বা ছররা গুলি নয়। শরীরে ব্যাথা কিছু নয়। পঙ্গু হয়ে গেলে কেমনে চলমু।’

বেল্লালের বাবা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন গাজী বলেন, ‘দুইটা ছেলেমেয়ে। কামাই ভাল না। সারাটা জীবন কস্ট করে চলছি। একমাত্র ছেলে বেল্লালের সংসারে সাহায্য করার সঙ্গে পড়াশুনার ইচ্ছে ছিল। ঝামেলায় পড়তে চাই নাই। তাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কাউকে জানানোর ইচ্ছাও ছিল না। আমিও অসুস্থ। এখন ওর চিকিৎসা চালামু কিভাবে।’

শাড়ির আচলে চোখ মুছে মা মোসা. নাজমা বেগম বলেন, ‘অর গুলি লাগুনের কথা হুইনগ্যা যেন আসমান ভাইঙ্গা মাথায় পড়ছে। সংসারের দুরাবস্থা। ঋন কইর‌্যা ঘরের কাজ ধরছিলাম। সারাটা জীবন কস্ট কইরগ্যা চলছি। ওর বাপ আর আমিও অসুস্থ। বিছনায় ব্যাথায় কাতরাচ্ছে ছেলেডা। এ্যাহন অরে ভাল চিকিৎসা করানোর কোন টাহা-পয়সা আমাগো হাতে নাই।’