অস্ট্রেলিয়ায় ফাইনালে হারলেন আফিফ-তানজিদরা

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: শিরোপার একদম কাছে গিয়েও হতাশ হতে হলো বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দলকে। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার দলঅ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আফিফ হোসেন-তানজিদ হাসান তামিমদের।

রবিবার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির ফাইনাল ম্যাচে অ্যাডিলেডের কারছে আকবর আলীরা হেরেছেন ৩২ রানে। প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য দেয় অ্যাডিলেড। জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ থামে ১৩৭ রানেই। ফলে সন্তুষ্ট থাকতে হয় রানার্স আপ হয়েই।

১৭০ রানের লক্ষ্যে শুরুটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। ৩২ রান যোগ করেন দুই ওপেনার তানজিদ ও জিশান আলম। ১৮ রান করে আউট হন জিশান। ইমন রান না পেলেও তানজিদের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল বাংলাদেশ। ৭৩ রান তুলে ফেলে ওই ২ উইকেট হারিয়েই। তবে এরপরই যেন আকস্মিক এক ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বাংলাদেশ ইনিংস।

৭৩ রানে তানজিদের উইকেটের মাধ্যমে পতন শুরু বাংলাদেশের। ২৯ বলে ২টি চারও ১ ছক্কায় ৩৫ রান করেছেন তিনি। ৯২ রান তুলতেই ৭ উইকেটে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। উইকেটে সেট হওয়ার আগেই ফিরে যান অধিনায়ক আকবর আলী ও শামীম হোসেন। সাতে নেমে ১৯ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলেন মাহফুজুর রহমান রাব্বি। এরপর ব্যাটে আর কেউ চমক দেখাতে না পারলে নির্ধারিত ২০ ওভারের ১ বল বাকি থাকতেই ১৩৭ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ এইচপি।

এর আগে টম ও’কনেলের ব্যাটে ১৬৯ রানের লড়াকু পুঁজি পায় অ্যাডিলেড। ৩৩ বলে ৫৩ রান করেন ও’কনেল। এছাড়া অধিনায়ক লিয়াম স্কটের ব্যাটে ৩০ (১৮ বলে) ও ছয়ে নামা রায়ান কিংয়ের ব্যাটে আসে ৩৫ (১৯ বলে) রান। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নেন সেমিফাইনালের ম্যাচসেরা রিপন মন্ডল। তবে ফাইনালে ৩৭ রান দিয়ে বেশ খরুচেই ছিলেন রিপন। রাকিবুল হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বি এবং আফিফ হোসেন ধ্রুব পান একটি করে উইকেট।




নির্বাচন কখন হবে, জানালেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের আইন থেকে শুরু করে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা পুনর্গঠনের পর নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে চায় নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার।

 রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের ব্রিফ করে এ বার্তা দেন অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান।পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

ড. ইউনূসকে উদ্ধৃতি করে প্রেস সচিব বলেন, ‘তিনি খুব দ্রুত নির্বাচনের কথা বলেছেন। অবাধ, সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেটটা হচ্ছে- নির্বাচনটা তখনই করবেন যখন রিফর্মগুলো ক্যারি আউট করা যায়। যেটা জুডিশিয়ারি থেকে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে, সিকিউরিটি রিফোর্সে, মিডিয়াতে। সমস্ত কিছু উনি রিফর্ম অ্যাড্রেস করার পর অন্তর্বর্তী সরকার যত দ্রুত নির্বাচন করতে পারে, এটা হচ্ছে ওনাদের মূল কাজ।’

ড. ইউনূস বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে শেখ হাসিনা সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। দেশের বিচার ব্যবস্থাকে ভেঙে দিয়েছে। দেশের মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছেন। নতুন প্রজন্ম তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ব্যাংক ডাকাতি করা হয়েছে।’

কূটনীতিকদের ড. ইউনূস বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনা। ছাত্র আন্দোলনে শত শত মানুষ মারা গেছে। অনেক ছাত্র চোখে গুলি খেয়েছে, আমি তাদের দেখতে গিয়েছিলাম। আমরা জানি না, ওদের কি হবে। পৃথিবীর কোনো দেশের ছাত্রদের এত ত্যাগ করতে হয়নি। পৃথিবীর কোথাও নাগরিকরা এতটা মানবাধিকার বঞ্চিত হয়নি। আমরা চাই, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যা করা হয়েছে, এটার গ্রহণযোগ্য ও পক্ষপাত অবলম্বন না করে একটা তদন্ত হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার জাতিসংঘকে পূর্ণ সমর্থ দেবে।’

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব জানান, ব্রিফিংয়ে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন সংস্থার ৫০ এর বেশি কূটনীতিক উপস্থিত ছিলেন। কূটনীতিকরা কোনো প্রশ্ন করেছেন কিনা-জানতে চায় সাংবাদিকরা। জবাবে প্রেস সচিব বলেন, প্রশ্নের উত্তর ছিল না। উনি সমর্থন চেয়েছেন। বাংলাদেশকে পুনর্নির্মাণে পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন।

ড. ইউনূস বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে বাংলাদেশ চায় সেটা করার চেষ্টা করা হবে। এমন একটা বাংলাদেশ যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকবে, বাকস্বাধীনতা থাকবে, মানবাধিকার থাকবে। একইসঙ্গে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাও থাকবে




হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির আগে তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে রূপ নেয় সরকার পদত্যাগের এক দফায়। পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে একপর্যায়ে সারা দেশে সেনা মোতায়েন করে সরকার। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি, দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর আগে ২ আগস্ট এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ওই দিন এক বৈঠকে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। খবর ভারতীয় সাপ্তাহিক সংবাদ সাময়িকী দ্য উইকের।

প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য ওই বৈঠক ডেকেছিলেন সেনাপ্রধান। সেখানে তিনি সেনা কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রশমনে কিছু যুক্তি তুলে ধরেন। ওয়াকার-উজ-জামান তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হলে বাংলাদেশ কেনিয়া বা আফ্রিকার দেশগুলোর মতো হয়ে যেতে পারে।

এ সময় তিনি কর্মকর্তাদের সংযত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ১৯৭০ সালের পর আমাদের দেশে এমন গণবিক্ষোভ আর কখনো ঘটেনি। এটি একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।

তবে সেনাপ্রধানের বক্তব্যে আশ্বস্ত হননি কর্মকর্তারা। তরুণ কর্মকর্তাদের ক্ষোভ প্রকাশের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হয়। এর মধ্য দিয়ে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবি মানতে বাধ্য হন।

বৈঠকের তিন দিন পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা একটি সামরিক হেলিকপ্টারে চড়তে বাধ্য হন। ওই হেলিকপ্টার তাকে ভারতীয় সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলায় নিয়ে যায়। সেখানে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি সি১৩০ পরিবহন উড়োজাহাজ অপেক্ষমাণ ছিল, সেটা তাকে দিল্লির কাছে হিন্দন বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যায়।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের অবস্থা ছিল অস্বস্তিকর। কারণ, তাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। তা ছাড়া বৈবাহিক সূত্রে তিনি শেখ হাসিনার আত্মীয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিষয়টি সম্ভবত জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও সতর্ক করে তুলেছিল। বিশৃঙ্খলার মধ্যে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড মোকাবিলা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সেনা মোতায়েনকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরতে সেনাপ্রধান বলেছিলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করেছে। তারা ১ হাজার ৭১৯টি গুলি ছুড়েছে, ১৪ হাজার ফাঁকা গুলি ছুড়েছে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংস জনতার মুখোমুখি হয়ে ৩১টি উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

মতবিনিময়ে সেনাপ্রধানের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে তদন্তের আহ্বান আসে। তরুণ মেজর মো. আলী হায়দার ভূঁইয়া সেনা মোতায়েনকালে সেনাবাহিনী যে ভূমিকা রেখেছে, তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি পবিত্র কোরআন থেকে উদ্ধৃত করেন, তিনি দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আল্লাহর করুণা ভিক্ষা করেন এবং এতে যুক্ত না হওয়ার কথা বলেন। একজন কনিষ্ঠ কর্মকর্তার এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শুধু বলেন, ‘আমিন’।

নারী কর্মকর্তা মেজর হাজেরা জাহান এই ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানি ও এর ন্যায্য বিচার হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের অসন্তোষ বাড়তে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সেনাপ্রধান তার সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির এক কর্মকর্তা র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কয়েকজন কর্মকর্তার ‘অগ্রহণযোগ্য’ কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন। জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পরিস্থিতি ঠিক হলে এগুলো দেখা হবে।

সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের সমর্থন কমে যাওয়ার কথা তুলে ধরে সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন ৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্টের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুব। চট্টগ্রামের আরেক কর্মকর্তা আহত শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে কাজ করার পরামর্শ দেন।

সব শেষে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যে সামাজিক চাপ ও হয়রানির মুখোমুখি হচ্ছেন, তা তুলে ধরেন এবং নিজের হতাশা প্রকাশে আইয়ুব বাচ্চুর একটি গানের কথা তুলে ধরেন।




বরিশালে ক্লাসে ফিরেছে ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী

বরিশাল অফিস :: এক মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পরে খুলেছে বরিশালের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রোববার (১৮ আগস্ট) সারা দেশের সঙ্গে নির্ধারিত সময়েই চালু হয়, তবে প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ঘুরে দেখা গেছে, ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। তবে অনেকেই বলছেন, পাঠক্রমে পিছিয়ে পরার কথা।

বরিশাল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাহমিনা কবির মিম জানান, অনেক দিন পর স্কুলে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে। স্কুলে এসে বান্ধবীদের সঙ্গে দেখা করতে পেরে অনেক আনন্দ লাগছে। তবে এতদিন স্কুল বন্ধ থাকায় ঠিকভাবে পড়াশোনা করতে পারি নাই। যার ফলে অনেকটা পিছিয়ে গেছি। যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেকদিন বন্ধ ছিল, এখন আমাদের বাড়তি ক্লাস করিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে ভালো হবে।

বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. নেসার জানান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম। প্রথম দিন হওয়ায় হয়তো শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম ছিল। তবে সামনের দিনগুলোয় এর সংখ্যা আরও বাড়বে। যেহেতু অনেকদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল তাই পড়াশোনায় অনেক ঘাটতি পরেছে, যাতে করে বাড়তি ক্লাস করিয়ে শিক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করে দ্রুত পরিক্ষায় বসানো যায় সে ব্যবস্থা করা হবে।

বরিশাল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, বিদ্যালয় চালুর প্রথম দিনেই আশাব্যাঞ্জক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। আমি বিভিন্ন উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, গড়ে ৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রথম দিনেই ক্লাসে ফিরেছেন। বাকি শিক্ষার্থীরা দু-এক দিনের মধ্যে ফিরবেন। মাঝখানে ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা কিছুটা পিছিয়ে গেছেন। আমরা পরিকল্পনা করছি, কীভাবে সেই অবস্থা পূর্ণ করা যায় বলে জানান এই কর্মকর্তা।

এর আগে, বুধবার (১৪ আগস্ট) চালু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়।




বাউফলে সন্ত্রাসী বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খুনি ভূমি দস্যু কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুনি সন্ত্রাসী মাহমুদ হাসান বাহিনী সহ সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার সহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১০ টায় বগা বন্দরেব এলাকাবাসীর আয়োজনে এ কর্মসূচী পালিত হয়।

নির্জাতিত পরিবারের পক্ষ থেকে বত্তব্য রাখেন, গনি সিকদার উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, বাবুল সিকদার বগা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সস্পাদক, নজরুল মৃধা ইউপি সদস্য, আনিচ মৃধা শ্রমিক দল সদস্য, শফিক মৃধা সাংগঠনিক সম্পাদক বগা ইউপি, তোফায়েল আহম্মেদ, কালাম মৃধা উপজেলা বিএনপির সদস্য, জাকির হোসেন, জালাল ফকির, আ: রহমান মাস্টার ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, মিলন মুন্সি, আ: লতিফ ডা:, মজিবর, গোপাল কর্মকার, আ; রহমান ব্যাংকার অব: সহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে সন্ত্রাসী হামলায় আহত সফিক মৃদা ও তার পরিবারের সদস্যসহ এলাকার প্রায় দুই শতাধিক এলাকাবাসী মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খুনি সন্ত্রাসী মাহমুদ হাসান বাহিনীর অত্যাচারে এলাকা অতিষ্ঠ। দোকানদারদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা নিতো। আর চাঁদা না দিলে বিড়ম্বনায় পড়তো হতো দোকানীদের।
মোতালেব হাওলাদার ও তার পুত্র হাসান আওয়ামী লীগ নেতা হওয়ায় কাউকেই তোয়াক্কা করে না।

ভুক্তভোগী বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলে, মোতালেব হাওলাদার এবং তার পুত্র হাসাসকে মামলা থেকে বাদ দেয় থানা পুলিশ। ব্যবসায়ীরা ভয়ে ঠিকমতো ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না, মোতালেব ও তার পুত্র হাসাস এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানান এলাকাবাসী।




বরিশালে নিহত আ. লীগ নেতার খোয়া যাওয়া পিস্তল থানায় জমা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে সহিংসতায় নিহত আওয়ামী লীগ নেতার খোয়া যাওয়া লাইসেন্স করা নাইন এমএম পিস্তল শনিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৮ আগষ্ট) দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গত ৪ আগস্ট নগরীর হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা এলাকায় বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের সাথে সংঘর্ষ হয় আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের। এ সময় নগরীর ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি টুটুল চৌধুরীকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ওইসময় টুটুল চৌধুরীর লাইসেন্স করা পিস্তলটি খোঁয়া যায়।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আরও জানান, নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকার বাসিন্দা অভি খান পিস্তলটি কুড়িয়ে পায়। শনিবার অভি তার মা শাহিনুর বেগমকে সাথে নিয়ে সেনা ক্যাম্পে যায়। ক্যাম্পের কমান্ডার মেজর রাশেদ তাদের নিয়ে এসে থানায় সেই পিস্তলটি জমা দিয়েছেন।

ওসি জানান, টুটুল চৌধুরী হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে তার স্ত্রী মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার আলামত হিসেবে অস্ত্রটি দেখানো হবে।

 




ভারতে চিকিৎসক মৌমিতা হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: ভারতে চিকিৎসক মৌমিতা হত্যার প্রতিবাদে রোববার বেলা বারোটার দিকে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল বের করে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় বিক্ষোভ করেন।

পরে তারা চিকিৎসককে হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন। কর্মসূচিতে বরিশাল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালীন অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তারা, চিকিৎসক মৌমিতা হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি কর্মস্থলে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি করেন।




বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে বরিশালের আহত কলেজ ছাত্র রিয়াজের মৃত্যু

বরিশাল অফিস :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে গত ৪ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন জেলার মুলাদী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোঃ রিয়াজ হোসেন (২৩)। দুই সপ্তাহ মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ১৭ আগস্ট দিবাগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।

মৃত রিয়াজ হোসেন জেলার হিজলা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের মাহমুদুল হক রাঢ়ীর ছেলে এবং মুলাদী সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শেষবর্ষের ছাত্র ছিলেন। রোববার সকালে মৃত রিয়াজের বড় ভাই রেজাউল করিম মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হওয়ার পর রিয়াজ একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সামনের সারিতে অবস্থান করে। গত ৪ আগস্ট ঢাকার ঝিগাতলা এলাকায় মিছিল করার সময় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে রিয়াজ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়। ওইসময় তার থাকা আন্দোলনকারীদের কয়েকজনে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বরিশাল হিজলা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ মহসিন সিকদার জানান, রিয়াজ উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সভাপতি ছিলেন। গত ৩১ জুলাই থেকে সহপাঠীদের সাথে রিয়াজ ঢাকায় আন্দোলনে যোগদান করে ঝিগাতলা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। ৪ আগস্ট সকালে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন রিয়াজ। এরপর ১৭ আগস্ট রাত পৌনে আটটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বড়ভাই রেজাউল করিম আরও জানান, আন্দোলনে মাথায় গুলিবিদ্ধ হওয়ায় রিয়াজের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। কয়েকদিন ধরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউতে) রাখা হয়। শনিবার রাতে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রোববার দুপুরে মরহুমের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

 




শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ টি অনুষদের সবগুলো বিভাগে একযোগে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিটি বিভাগের শ্রেনীকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রায় ২ মাস পর ক্লাস শুরু হওয়ায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বেশ উৎফুল্ল।

দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার কারনে শিক্ষাক্রম পিছিয়ে পড়ায় বাড়তি ক্লাস নেয়ার মাধ্যমে তা পুরন করার সহ দ্রুত পরীক্ষা নেয়ার দাবি শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিক্সা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। ৬ আগষ্ট থেকে প্রতিষ্ঠানটি খুলে দেয়া হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।




আমাকে স্যার বলা ও ছবি প্রচারের দরকার নেই: উপদেষ্টা নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : স্যার ভাবতে ও স্যার না বলতে অনুরোধ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেছেন, আমাকে স্যার ভাবার দরকার নেই।

আমাকে স্যার বলারও দরকার নেই। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে আমার ছবি যত কম প্রচার করা যায় তো ভালো।
রোববার (১৮ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ অনুরোধ জানান।

তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, আমি আপনাদের সরকার হিসেবে এখানে এসেছি।

আমি জনগণের পক্ষ থেকে এসেছি। জনগণের দাবিদাওয়া নিয়ে এসেছি।

একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এসেছি। এখন আমি আপনাদের কাছে সেই সহযোগিতাটা কামনা করছি।

 

তিনি বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের খুবই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের পরিস্থিতি এ মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করে।

এছাড়া স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা প্রাথমিকভাবে ভাবা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এটি ঠিক করা হবে।

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, নিবর্তনমূলক আইন যেগুলো গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার জন্য অন্তরায়, সেগুলোর ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় গণহত্যার প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করে তদন্তে সহায়তা করতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সাংবাদিকদের মধ্যে দলাদলি চাই না, মানুষের জন্য নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার চর্চা হোক।