ট্রাক-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে একই পরিবারের ৪ জন নিহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ট্রাক-প্রাইভেট কার সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৯ আগস্ট) ভোরে উপজেলার ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার নরসিংহপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৬৫), তার স্ত্রী ময়না খাতুন (৬০) এবং তাদের দুই ছেলে জামাল উদ্দিন (৪৫) ও কামাল উদ্দিন (৪০)।

উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সাব অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বাবু বলেন, ভোর রাতে আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করি। স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পেরেছি, প্রাইভেট কারে এক পরিবারের চারজন ঢাকা থেকে আসছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী একটি ট্রাক প্রাইভেট কারটিকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমরা খবর পেয়ে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করি। আহত কারচালককে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে কেউ একজন অসুস্থ ছিলেন। ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন তারা। গাড়ির ভেতরে প্যাথলজিক্যাল বিভিন্ন কাগজপত্র পাওয়া গেছে। হাটিকুমরুল গোলচত্বর হাইওয়ে থানা পুড়িয়ে দেওয়ার পর থেকেই মহাসড়কে পুলিশ নেই। ফলে দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত ট্রাকটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। সলঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসার পর নিহতদের মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সলঙ্গা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. তাজ উদ্দিন জানান, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনেছি। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা আসার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 




ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না বিতর্কিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) উপাচার্য হিসেবে যোগদানের ৬ মাসের মাথায় একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়া। যোগদানের পর চেয়ে চেয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা নেওয়া, প্রথম নিয়োগেই অনিয়ম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাকারী ও ফ্যাসিজমের সমর্থন করাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীরা তাকে ২১ দফা দাবি দিয়ে তা না মানলে পদত্যাগের দাবি জানান। পরে তিনি এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটা ঘটনাগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

সেসময় ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা হলে আমার পরিবার। পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় লজ্জার কিছু নেই, বরং আন্তরিকতা আরও বাড়ে। এটা আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।’

এদিকে উপাচার্যের ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও এরইমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় : চন্দ্রদ্বীপ নিউজ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় : চন্দ্রদ্বীপ নিউজ

এদিকে সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্ৰাউন্ড ফ্লোরে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ মার্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা নেন তিনি। পরে সেই রুমভর্তি ফুলের মাঝে বসে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। যেখানে ক্যাপশনে লেখা ছিলো, ‘মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়’।

এরপর মুহূর্তেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে শুরু হয় সমালোচনার। বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্কিত কমেন্টসের পর তিনি পোস্ট সরিয়ে ফেলেন।

বদরুজ্জামান ভুইয়া উপাচার্য হওয়ার পর গত ৫ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রথম শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে যা চাপের মুখে পড়ে বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, আস্থাভাজন একজন শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিতে পিএইচডিধারী দুই প্রার্থীকে ইন্টারভিউ কার্ড দেননি উপাচার্য। এ ঘটনায় তাকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আবু সালেহ উকিল নোটিশ দেন। পরবর্তীতে সে ঘটনায় অনিয়ম হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করা হয়।

সবশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় তাকে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ২১ দফা দাবিতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। পরে এক সভায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা গ্রাহ্য না করে সোমবার তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের করলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।




বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের আনন্দ-উল্লাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈরী আবহাওয়ার মাঝেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে ভিড় করছেন পর্যটকরা। সাগরের পানিতে গোসলে নেমে আনন্দ-উল্লাসে সময় পার করছেন তারা। এক মাস পর সৈকতে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, পর্যটকদের ভিড় বেড়েই চলেছে কুয়াকাট সমুদ্র সৈকতে। সাগরের বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে সৈকততীরে। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠেছেন পর্যটকরা। কেউ গোসলে, কেউবা স্মৃতিগুলো ধরে রাখতে মুঠোফোনে ব্যস্ত।

একই সঙ্গে কর্মচঞ্চল হয়ে ওঠেছে সৈকত সংলগ্ন হোটেল-মোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গত এক মাসের বেশি সময় চলা রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে যেন প্রাণ ফিরেছে প্রতিটি স্পটে। ব্যস্ততা বেড়েছে ফটোগ্রাফার ও ট্যুর গাইডসহ বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেরও।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর গত সপ্তাহে কাজে যোগ দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। পর্যটন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অন্যদিকে, দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত এক মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার আশা ব্যবসায়ীদের।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, ‘পর্যটকরা আগের মতোই কুয়াকাটায় আসবে বলে প্রত্যাশা করি। সেই সঙ্গে আমরাও পর্যটন সেবা নিশ্চিত করবো।’

কুয়াকাটা জোনের পুলিশ সুপার মো. আনসার উদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছি। পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি।’

দর্শনার্থীদের জন্য সাগরকন্যা কুয়াকাটায় ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক হোটেল-মোটেল রয়েছে।




‘আমার ময়নার রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন হইছে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে ৫ আগস্ট বিজয় মিছিল নিয়ে গণভবনে যাওয়ার পথে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বগুড়ার নন্দীগ্রামের ভুস্কুর গ্রামের সোহেল রানা (৩০)। একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি।

রোববার (১৮ আগস্ট) নিহত সোহেল রানার বাড়িতে গেলে তার ভাই সিহাব উদ্দিন জানান, ঢাকায় একটি ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন সোহেল। গ্রামের বাড়িতে বাবা-মাসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চলতো সোহেল রানার উপার্জনে।

সোহেল রানার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার মা মাবিয়া বেগম ছেলের জন্য বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। লোকজন দেখলে আহজারি করছেন। তিনি বলেন, বাড়ির ভিটা ছাড়া কোন জমি নাই আমাদের। স্বামী অসুস্থ, বড় ছেলে বেকার। এতগুলো মানুষের খরচ বহন করতো সোহেল। সেই ছেলেটাকে গুলি করে মেরে ফেললো পুলিশ? এখন আমাদের সংসার চলবে কি করে?

আমার ময়না দেশ স্বাধীন করেছে। ময়নাক পুলিশ গুলি করে মারছে। আমার ময়নার রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন হইছে। পুলিশ কেন আমার ময়নাক গুলি করলো? আমাক কেন করলো না। আমার ময়নাক ছাড়া আমি কেমনে বাঁচমো। আমার সোনা বুকের সঙ্গে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে ছিলো আর ছোট একটি ব্যাগ ছিল। গুলি ব্যাগ ভেদ করে তার বুক ক্ষতবিক্ষত হইছে। আমি ময়নার এই পতাকা বুকত জড়িয়ে ধরে থাকমু। ময়না আমার দেশ স্বাধীন করছে। আমার ময়না শহীদ হইছে, এমন ভাবেই বিলাপ করছিলেন সোহেলের মা মাবিয়া বেগম।

সোহেল রানা ভুস্কুর গ্রামের ফেরদৌস রহমানের ছেলে। উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে সংসারের অভাব অনটনের কারণে ঢাকায় চলে যায় ৮-৯ বছর আগে। দেড় বছর আগে বিয়ে করে স্ত্রীসহ বসবাস করতেন ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায়। ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে সাত মাসের গর্ভবতী স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন শ্বশুরবাড়ি গাইবান্ধা জেলার ঢোলভাঙ্গা গ্রামে।

বড় ভাই সিহাব উদ্দিন বলেন, আমি গরুর ব্যবসাতে লোকসান করে বর্তমানে বেকার। আমার স্ত্রী, সন্তান, বাবা- মা’র ভরণ পোষণ চলতো ছোট ভাইয়ের পাঠানো টাকায়। কিছুদিন পর ছোট ভাই ব্যবসার জন্য আমাকে টাকা দিতে চেয়েছিল।কিন্তু তার আগেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেল ভাইয়ের।

তিনি বলেন, ৩ আগস্ট (শনিবার) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ছোট ভাইয়ের সাথে ফোনে কথা হয়। বাজার খরচের টাকা চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বিকাশে ১০০০ টাকা পাঠায়। তাকে আন্দোলনে যেতে নিষেধ করলে বলে, এলাকার কেউ ঘরে নেই, সবাই মাঠে নেমেছে, আমি একা ঘরে থেকে কি করবো?

সিহাব উদ্দিন বলেন, পরদিন ৪ আগস্ট সোহেল রানা নিজেই কয়েকবার ফোন করে বাবা, মাসহ অন্যদের সাথে কথা বলে। সোমবার বিকেলে ফোন করতেই রিসিভ করেন অপরিচিত একজন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বলেন সোহেল রানা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বাড়িতে এ খবর শুনে আজাহারি শুরু হয়। ঢাকায় বসবাস করা চাচাতো ভাইকে সংবাদ দিলে তিনি সোহেল রানার লাশ নিয়ে আসেন বাড়িতে। পরদিন জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

সোহেল রানার মোবাইল ফোনে বেশ কিছু ভিডিও পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায় ৫ আগস্ট দুপুরে সোহেল রানা হাতে লাঠি, বুকে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে বিজয় মিছিলে লোকজনকে সংগঠিত করছেন। তিনি সবাইকে গণভবনের দিকে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছেন। হাসাপাতালের মৃত্যু সনদ অনুয়ায়ী সোমবার বিকেল পৌনে তিনটায় সোহেল রানার মৃত্যু হয়।




শরীরে দুই শতাধিক বুলেটের যন্ত্রণা, নিভে যাচ্ছে হাবিবের দৃষ্টি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানী ঢাকার খেটে খাওয়া মানুষ মো. হাবিব খান। পেশায় স্যানিটারি মিস্ত্রী হাবিব কাজের পারিশ্রমিক আনতে গিয়েছিলেন। তখনই পড়ে যান সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন দমাতে হামলে পড়া পুলিশের সামনে। দুই হাত ওপরে তুলে আকুতি করে যাচ্ছিলেন, তিনি আন্দোলনকারী নন। কিন্তু সেকথায় কান দেয়নি পুলিশ। সরাসরি ছররাগুলি ছুড়ে দেয় তাকে লক্ষ্য করে। তাতে ঝাঁঝরা হয়ে যায় হাবিবের শরীর।

হাসপাতালের এক্সরে রিপোর্টে দেখা গেছে, হাবিবের শরীরে দু্ই শতাধিক ছররা গুলি রয়েছে। একটি গুলি বাম চোখে বিদ্ধ হওয়ায় দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছেন হাবিব। আন্দোলন না করেও পুলিশের গুলি খাওয়া হাবিব পাঁচ হাসপাতাল ঘুরেও পাননি চিকিৎসা সেবা।

হাবিব দেশের দক্ষিণের জেলা বরগুনা সদর থানার ৭ নং ডালভাঙ্গা ইউনিয়নের মরাখালী এলাকার মান্নান খানের ছেলে। একটা সময়ে পায়েচালিত রিকশা চালালেও গত চার বছর ধরে স্যানিটারি মিস্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। বাস করছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। সেখানেই এই চরম বিপদের মুখে পড়তে হয়েছে তাকে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেড এলাকার ২ নম্বর সড়কে হাবিবের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, জীর্ণশীর্ণ একটি টিনের ঘরে শুয়ে আছেন হাবিব। চার পাশে সুউচ্চ ভবনের মাঝে একটি খালি প্লটের ছাউনি ঘরে হাবিব তার দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাস করেন। স্যানিটারি মিস্ত্রী হিসেবে যা আয় করতেন তাতে ভালোই চলত সংসার। কিন্তু পুলিশের হামলা আর ছররাগুলির দুই শতাধিক বুলেট তার শরীরসহ সংসারটিকেও ঝাঁঝর করে দিয়েছে। গুলি ঢুকে পড়েছিলেন তার চোখেও। যার যন্ত্রণায় তার নির্ঘুম জীবন। আর চোখের দৃষ্টিশক্তিও নিভতে বসেছে অসহায় হাবিবের। কর্মক্ষম ব্যক্তিটি বিছানায় পড়ে থাকায় বন্ধ হয়েছে আয়ের পথ। ফলে দুই শিশু সন্তানের মুখে দু-বেলা দু-মুঠো খাবার তুলে দেওয়াই এখন অনিশ্চিত। আর চিকিৎসা? ব্যয়বহুল সে চিকিৎসা পাওয়ার ভাবনা ছেড়েই দিয়েছেন হাবিব!

গত ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় হাবিব এই পরিস্থিতির শিকার হন। তিনি বলেন, আমি আন্দোলনে যাই নি। ঘটনার আগের দিন (১৮ জুলাই) চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকার একটা বাড়িতে কাজ করি। পরের দিন কাজ ছিলো না তাই বাসায় শুয়ে ছিলাম। বিকেলের দিকে কন্ট্রাক্টর রাকিব আমাকে ফোন করে চাঁদ উদ্যান গেটে টাকা আনতে যেতে বলে। ফোন পেয়ে আমি ও আরও দুই মিস্ত্রী চাঁদ উদ্যান গেটে যাই। যাওয়ার পরে পরিস্থিতি থমথমে দেখে রাকিবকে ফোন দেই। রাকিব জানায়, চাঁদ উদ্যান গেট থেকে সে আল্লাহ করিম মসজিদের গেটে গেছে। ওখানে আমাকেও যেতে বলে। মেইন রাস্তায় আন্দোলন চলে দেখে আমরা তিনজন চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের ভেতর দিয়ে মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডের কাছাকাছি যাই। এই সময়ে ওই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ চলছিলো। তাই আমরা চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের গেটে দাঁড়িয়ে থাকি। তখন রাকিবকে ফোন দিলে সে জানায়, তার শরীরে গুলি লেগেছে। সে টাউনহলের দিকে চলে গেছে। আমার পাওনা টাকা সে পরে দিবে। এই ফোন পেয়ে আমরা যখন চলে আসবো তখন হঠাৎ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সামনে পড়ে যাই। আমি পুলিশ দেখে দুই হাত উচু করে দাঁড়াই। কিন্তু কোনো কথা না শুনেই পুলিশ আমাকে গুলি করে দেয়। তারা যে কতগুলো গুলি করেছে তার হিসাব নেই। একটা গুলিও বাইরে যায় নাই। সব আমার শরীরে লাগে।

এক চিকিৎসকের মানবিকতার কারণে বেঁচে ফিরেছেন উল্লেখ করে হাবিব বলেন, যেখানে আমাকে গুলি করা হয় তার পাশের বাসায় একজন চিকিৎসক থাকেন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কাছে আসেন। আমাকে তিনি চিনতে পারেন। বিভিন্ন সময়ে আমি তার বাসায় কাজ করেছি। তিনি আমাকে উদ্ধার করে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে যাওয়ার পরে তার চেষ্টায় আমাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু হাসপতালে ভর্তি থাকার প্রথম দুই দিন কোনো চিকিৎসা পাইনি। নাপা ছাড়া কোনো ওষুধ দেয় নাই, স্যালাইনসহ সব ওষুধ কিনে আনতে হয়েছে। দুই দিন পরে চিকিৎসা শুরু হয়। ছয়দিন চিকিৎসা নেই হাসপাতালে। এই সময়ের মধ্যে বাম চোখে গুলি লাগায় অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো। পরবর্তীতে আমাকে আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান হাসপতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসা তো পেলামই না বরং অপারেশনের নামে আমার চোখটাই নষ্ট করে দিয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ছাড়াও বেশ কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছি কিন্তু সুরাহা হয়নি। চোখের অপারেশন করাতে হবে। যার জন্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমার সেই সামর্থ না থাকায় অপারেশন করাতে পারছি না। আর অপারেশন করালেও চোখ ঠিক হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা।

গত এক মাস ধরে বিছানায় পড়ে আছেন হাবিব। শরীরে দুই শতাধিক গুলি নিয়ে বেঁচে থাকলেও যন্ত্রণায় কাটছে প্রতিটি রাত। হাবিব বলেন, রাতে ঘুমাতে পারি না। শরীরে যন্ত্রণায় উঠে বসে থাকতে হয়। সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকটা হাসপাতাল ঘুরে মাত্র চার থেকে পাঁচটা গুলি বের করা গেছে। আরও অন্তত ২০০ গুলি শরীরে ভেতরে রয়েছে। এই গুলির যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না। বাম চোখে দেখতে পাচ্ছি না। এখনই ভালো চিকিৎসা না করালে ডান পাশের চোখে সমস্যা হতে পারে বলে ডাক্তাররা বলেছে। কি করবো, কার কাছে যাবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

হাবিবের স্ত্রী সুখী বেগম বলেন, একটা নিরাপরাধ মানুষকে রাস্তায় পেয়ে গুলি করে দিলো। স্বামী কাজ করতে পারছে না। দুই সন্তান নিয়ে কি ভাবে চলবো? কি ভাবে চিকিৎসা চালাবো সেটাই বুঝতে পারছি না। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকা খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্তত ৪০ হাজার টাকা ঋণ করা। অনেকেই সহযোগিতার আশ্বাস দিলেও কেউ আর খোঁজ রাখে নি। আমরা সরকারের সহযোগিতা চাই। না হলে আমার স্বামী অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ তার ভালো চোখটিতেও সমস্যা হতে পারে।




ছোটপর্দায় আজকের খেলা

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: ফুটবল

লা লিগারে য়াল ভাইয়াদলিদ-এস্পানিওল, রাত ১১টা
ভিয়ারেয়াল-আতলেতিকো মাদ্রিদ, রাত ১:৩০

র‍্যাবিটহোল, স্পোর্টস ১৮

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

লেস্টার সিটি-টটেনহ্যাম হটস্পার, রাত ১টা

স্টার স্পোর্টস সিলেক্ট ১




থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন পেতংতার্ন

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ৩৭ বছর বয়সী পেতংতার্ন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ধনকুবের থাকসিনের মেয়ে।

গতকাল রবিবার ব্যাংককের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার পর এক অনুষ্ঠানে পেতংতার্নের হাতে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক চিঠি দেন রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন। এরপর তিনি দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

আলজাজিরার এ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এর আগে শুক্রবার থাইল্যান্ডের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন। তিনি দেশটির পার্লামেন্টের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেয়েছেন।

পেতংতার্ন দেশটির দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তার ফুফুও দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বৃহস্পতিবার থাকসিনের দল ফেউ থাই পার্টি পেতংতার্নকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নেয়। জোটের অন্য ১০ দলের কেউ কোনো প্রার্থী দেয়নি।

২০২২ সালে রাজনীতিতে প্রবেশের আগে পেতংতার্ন তার পরিবারের হোটেল ব্যবসা দেখভাল করতেন। গত বছরের সাধারণ নির্বাচনে দলীয় কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। ওই নির্বাচনে প্রগতিশীল মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি (এমএফপি) সবচেয়ে বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করে। তারা অঙ্গীকার করে, দেশে রাজতন্ত্রের প্রভাব কমাবে এবং দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকা একচেটিয়া ব্যবসা ও শিল্পখাতগুলোকে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

দীর্ঘ সময় ধরে থাইল্যান্ডে সামরিক বাহিনী, রাজতন্ত্রের প্রতি অনুগত রাজনৈতিক দল ও থাকসিনের সমর্থক এবং সংস্কারবাদী দলগুলোর মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত আগের প্রধানমন্ত্রী শ্রেত্থা থাভিসিনকে বরখাস্ত করার পর নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে বাধ্য হয় দেশটির পার্লামেন্ট।

শ্রেত্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার মন্ত্রিসভায় এমন একজনকে স্থান দিয়েছিলেন, যিনি এর আগে ফৌজদারি অপরাধে ছয় মাস কারাদণ্ড ভোগ করেছেন।




‘হাসিনার মতো ভুল মমতা করেননি’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আরজি কর-কাণ্ডের প্রেক্ষিতে যারা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করছেন, তাদের আঙুল ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তিনি এই আন্দোলনকে বাংলাদেশের বিক্ষোভের তুলনা করেছেন। তিনি বলেন, হাসিনা যে ভুল করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই ভুল করবেন না, করেননি।

কলকাতার মাল্টি সুপার স্পেশালিটি সরকারি হাসপাতাল আরজি করে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখছে ভারত। দোষীদের শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কলকাতার তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দিল্লিতেও পালিত হয় ‘মেয়েরা রাত দখল করো’কর্মসূচি।

গতকাল শনিবার দোষীদের ফাঁসির দাবিতে কোচবিহার জেলায় পথে নেমেছিল তৃণমূল। কোচবিহারের সাগরদিঘিতে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন বলেন, ‘‘এই ঘটনায় যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলছেন, যাঁরা সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে গালাগালি করছেন, যাঁরা আঙুল তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ চাইছেন, সেই আঙুলগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে। না-হলে এরা বাংলাকে বাংলাদেশ তৈরি করবার চেষ্টা করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভাঙচুর করার পরেও পুলিশ গুলি চালায়নি। পুলিশ এখানে বাংলাদেশ করতে দেবে না। সরকার এখানে বাংলাদেশ করতে দেবে না। তৃণমূলের কর্মীরা সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বাংলাকে বাংলাদেশ করতে দেবেন না।’

উদয়নের এই বক্তব্যের পর কটাক্ষ করেন জেলা বিজেপির সভাপতি সুকুমার রায়। তিনি বলেন, ‘হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ এখন মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইছেন রাস্তায় নেমে। রাত দখল করেছেন নারীরা। ওই কর্মসূচিতে কত লোক হয়েছিল! তিনি (উদয়ন) কয়টা হাত ভাঙবেন? কার আঙুল ভাঙবেন। এমন যেন না হয়। আগামী দিনে ওর (উদয়ন) আঙুলও যেন ঠিক থাকে।’




দক্ষ ও যোগ্য উপাচার্য খুঁজছে শিক্ষা প্রশাসন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল রাজনৈতিকভাবে। দক্ষতা ও যোগ্যতার চেয়ে উপাচার্যদের রাজনৈতিক অবস্থানকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো এতদিন। অনেক সম্মানের পদ হওয়ার পরও এই উপাচার্যরা সরকারের মদদে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বছরজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যাহত হয়েছে পড়ালেখা। গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ^বিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের পদত্যাগের কারণে অনেকগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ এই পদটি শূন্য হয়ে গেছে। এক সঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়াটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগের ধারা ভেঙে এ পদে অরাজনৈতিক একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের খুঁজছে শিক্ষা প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য প্রসঙ্গে গতকাল রবিবার নিজ দপ্তরে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকশূন্য। আমরা চাইব সত্যিকারের শিক্ষানুরাগী, যোগ্য ব্যক্তি যেন আসেন। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক- এটাও দলীয়করণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এখন অনেক বড় বড় পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু তার মধ্যেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শৃঙ্খলার সঙ্গে আমরা যেন আবার ওই পরিবেশটা নিয়মমাফিক ফিরিয়ে আনতে পারি, সেই চেষ্টা করব।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করা উপচার্যদের মূল পদে (বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) যোগদানের অনুমতিও দিয়েছেন। উপাচার্যবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতার দিকে নজর দেব।

জানা গেছে, দেশের পুরনো ও বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সেখানে সিনেটে উপাচার্য নিয়োগের প্যানেল নির্বাচনের বিধান আছে। এ বিধান অনুসারে সিনেট সদস্যদের ভোটে উপাচার্য পদের জন্য তিনজনের প্যানেল নির্বাচিত হয়। নির্বাচিতদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য যে কোনো একজনকে নিয়োগ দেন। এ চারটি বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারের সরাসরি পছন্দে উপাচার্য নিয়োগ করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, একাডেমিক স্কলার ও প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সততার অতীত ট্র্যাক রেকর্ড না দেখে উপাচার্য নিয়োগ করায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নীল, সাদা, গোলাপি রঙের নানা ধারায় বিভক্ত। উপাচার্য নিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বিধান থাকা প্রয়োজন। সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমেও উপাচার্য নিয়োগ করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বাদ দিয়ে একাডেমিক দক্ষ ও প্রশাসক হিসেবেও যে দায়িত্ব নিতে পারবে- এমন ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা দেখে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।




সাড়ে ১৬ বছরেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ

চন্দ্রদ্বীপ চাকরি সংবাদ :: জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বাহিনীটিতে ৯৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে জনবল নেওয়া হবে। আগ্রহীরা আবেদন করতে পারবেন অনলাইনে।

প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পদের নাম: ৯৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স

শিক্ষাগত যোগ্যতা: এসএসসি ও এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় যে কোনো একটিতে জিপিএ ৫.০০ ও

অন্যটিতে জিপিএ ৪.৫০ থাকতে হবে। ইংরেজি মাধ্যমে ও লেভেলের ৬টি বিষয়ের মধ্যে ৩টিতে এ গ্রেড ও ৩টিতে বি গ্রেড থাকতে হবে। এ লেভেলে দুটি বিষয়ে বি গ্রেড থাকতে হবে।

শারীরিক যোগ্যতা: পুরুষের উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, বুকের মাপ ৩০-৩২ ইঞ্চি, ওজন ৫৪ কেজি। নারীর জন্য উচ্চতা ৫ ফুট ২ ইঞ্চি, বুকের মাপ ২৮-৩০ ইঞ্চি, ওজন ৪৭ কেজি।

বয়স: ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাড়ে ১৬-২১ বছর। সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরতদের ক্ষেত্রে ১৮-২৩ বছর।

জাতীয়তা: বাংলাদেশি

বৈবাহিক অবস্থা: অবিবাহিত

আবেদনের নিয়ম: আগ্রহীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন ফি: টেলিটক/ভিসা/মাস্টার কার্ড/টিএপি/বিকাশ,নগদ/রকেট ইত্যাদির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ ১০০০ টাকা এবং অনলাইনে আবেদন ফি বাবদ ১০০০ টাকা জমা দিতে হবে।

আবেদনের শেষ সময়: ১৯ অক্টোবর ২০২৪

স্বাস্থ্য ও মৌখিক পরীক্ষা: ২৭ অক্টোবর ২০২৪ হতে ৭ নভেম্বর ২০২৪

লিখিত পরীক্ষা: ১৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ সকাল ৯টায়।

লিখিত পরীক্ষার ফলাফল: ডিসেম্বর ২০২৪ মাসের প্রথম সপ্তাহে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।