শেখ হাসিনার বিচারের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল

বরিশাল অফিস :: বিগত ১৫ বছরে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের কয়েক হাজার নেতাকর্মীকে গুম, খুন-জখম, শাপলা চত্বরে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা ও জখমের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা ও তার দানবীয় বাহিনীর বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বরিশাল জেলা দক্ষিণ ও মহানগর যুবদলের আয়োজনে বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সদররোডস্থ জেলা ও মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয় বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলের শুরুতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন রেজা খান।

বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট এইচএম তছলিম উদ্দিন, সালাউদ্দিন নাহিদ, যুগ্ম সম্পাদক নুরুল আমিন কায়েস, মহানগর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাকসুদুর রহমান, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাযহারুল বাসলাম জাহান প্রমুখ।

 

অপরদিকে একই দাবিতে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সবুজ আকনের নেতৃত্বে নগরীর জেলখানা মোড় এলাকা থেকে কালো পতাকার মিছিল বের করে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয়। অন্যদিকে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলের আয়োজনে দলীয় কার্যালয় থেকে অনুরূপ বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

 




নবম-দশম শ্রেণিতে আবারও আলাদা বিভাগ হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নবম শ্রেণি থেকে আবারও বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ মানবিক, বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগ আলাদা থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

১৯৫৯ সালে নবম শ্রেণি থেকে বিভাগ বিভাজন চালু হয়েছিল। ৬৫ বছর ধরে এ নিয়মে চলেছে শিক্ষা পদ্ধতি। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দফায় দফায় শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হলেও এ প্রথা কখনো ভাঙা হয়নি। অবশেষে চলতি বছর তা পরিবর্তন করা হয়। ৬৫ বছর পর চলতি শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সবাই একই বিষয় পড়ছে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার বিভাজন নেই। সবার এক বইয়ে লেখাপড়া করছে।

নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর পক্ষে বিপক্ষে মত দেন অনেকে। অনেকে বিভাগ বিভাজনের বিপক্ষে মত দিলেও আবার কেউ কেউ একমুখী পদ্ধতিকে ভালো বলছেন।

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, নবম শ্রেণি থেকে আবারও বিষয়ভিত্তিক বিভাগ আলাদা থাকবে।

এবার বই ছাপাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি হবে না জানিয়ে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব বই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, তা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বই ছাপার মান ও কাগজের মান ভালো হবে। কারণ, এবার দুর্নীতি হবে না।’

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তকের মলাটসহ ভেতরের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হবে। শিক্ষাক্রম সংস্কারের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে। যতটুকু সময় পাওয়া যায় আমরা এই শিক্ষাক্রম সংস্কারে পদক্ষেপ নেব।




শাকিল ও ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার দেখাল পুলিশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ৭১ টেলিভিশনের সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক শাকিল আহমেদ ও প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার বিকালে উত্তরা পূর্ব থানার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাদের। এর আগে বুধবার তারা বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশে বিমানবন্দরে আসলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাদেরকে আটক করে ডিবিতে হস্তান্তর করে।

জানা যায়, একাত্তর টিভির প্রধানবার্তা সম্পাদক শাকিল, তার স্ত্রী উক্ত চ্যানেলের প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপিকা রুপা এবং তাদের মেয়েকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করে। পরবর্তীতে তাদের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তারা তার্কিশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে (TK-713) ইস্তানবুল হয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে যাওয়ার উদ্দেশ্য বিমানবন্দরে যান।  সিটি এসবির ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেয়নি।

গত ৮ আগস্ট একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে মুস্তফা আজাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনা অনুযায়ী ৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে শাকিল আহমেদ- হেড অব নিউজ, ফারজানা রুপা- প্রিন্সিপাল করেসপন্ডেন্ট ও প্রেজেন্টারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।




কুয়াকাটায় যুবককে পিটিয়ে হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় রহমান গাজী, নাসির গাজী ও মিরাজ গাজীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

তাঁদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের ডংকুপাড়া বটতলা এলাকায় এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগীরা বলেন, সন্ত্রাসী মিরাজ গাজী আওয়ামী লীগ পরিচয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১০ সালে রুবেল হাওলাদার (৩২) নামের এক মোটরসাইকেল চালককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেন। শাহিন নামের আরেক মোটরসাইকেল চালককে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাই করেন। সন্ত্রাসী মিরাজ গাজীর বাবা রহমান গাজী ও চাচা নাসির গাজী একই এলাকার রফেজ মুসল্লি নামের বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। তাঁদের হামলায় মৃত্যুশয্যায় আছেন নুরজাহান নামের এক বৃদ্ধা।

তা ছাড়া এলাকার বহু মানুষ গাজী গ্রুপ নামে পরিচিত সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে। মিথ্যা মামলায় নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এত দিন অতিষ্ঠ ছিল এলাকার সাধারণ মানুষ। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেনি। দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছেলেকে প্রকাশ্যে হত্যা করে তারা। আজও আমি এর বিচার পাইনি। সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।




ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান : ইসলামী আন্দোলনের ১৮ নেতাকর্মী নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের ১৮ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নৃশংস আওয়ামী দুঃশাসন উৎখাতের সংগ্রামের সূচনা করেছে আমাদের ছাত্রসমাজ। তাদের অসীম সাহস, ত্যাগ ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আমাদের গর্বিত করেছে। শুরু থেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৮ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি। গুরুতর আহত ১৫০ জনেরও বেশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আমিনুল ইসলাম, কেএম আতিকুর রহমান প্রমুখ।




পাকিস্তানের সংসদে ইঁদুর নিধনে বিড়াল মোতায়েন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পাকিস্তানের পার্লামেন্ট ভবনে বেড়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। ইঁদুরের কারণে নষ্ট হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ। আর তাই সংসদে ইঁদুর নিধনে শিকারি বিড়াল মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

আর এই প্রকল্পের জন্য ১২ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিডিএ। গতকাল সোমবার সিডিএ এর বরাতে এ খবর জানিয়েছে পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পার্লামেন্ট ভবনে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় দক্ষ শিকারি বিড়াল মোতায়েনের উদ্দেশ্যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পার্লামেন্টের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ ইঁদুরের ফাঁদও পেতে রাখা হবে।

পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি এবং উচ্চকক্ষ সিনেট ভবনে অনেক দিন ধরে ইঁদুরের উপদ্রপের কারণে নানা ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। এছাড়া দেশটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ইঁদুরের কারণে নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাই এ পরিস্থিতিতে ইঁদুর নিধনে ব্যতিক্রমী প্রকল্প হাতে নিল দেশটি।




আদালতে কাঁদলেন দীপু মনি, ফাঁসির দাবিতে স্লোগান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ টানা চার দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে তিন বারই ছিলেন মন্ত্রী। দলেরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সদ্য সাবেক সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি এবার গ্রেফতার হয়েছেন একটি হত্যা মামলায়। আদালত তার চার দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে তিনি আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। এতে আরও ভেঙে পড়েন সাবেক প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ডা. দীপু মনি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে।

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দীপু মনির চার দিনের এবং আরিফ খান জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানির জন্য তাদের আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে দীপু মনি ও আরিফ খান জয়কে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের আদালতের গারদখানায় রাখা হয়। গারদখানা থেকে সিএমএম আদালতের দুই তলায় ২৮নং কোর্টে আনা হয়। এসময় দীপু মনি কাঁদছিলেন। তবে জয় ছিলেন চুপচাপ। এসময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আদালতে শুনানিকালেও দীপু মনির কান্না থামেনি। এসময় জয় কিছু বলতে চান। তবে আদালত কথা বলার অনুমতি দেননি।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ভিকটিমকে হত্যার ঘটনার বিষয়ে এ দুই আসামি জ্ঞাত আছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ভিকটিমকে হত্যায় হুকুমদাতা, উসকানিদাতাদের নামসহ মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামির নাম ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন, এজাহারে বর্ণিত সহিংস ঘটনার বিষয়ে এবং মামলার ভিকটিমকে হত্যাকারী, হত্যার হুকুম দানকারী, উসকানিদানকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিদের নাম ও ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেফতারের নিমিত্তে ডা. দীপু মনি (৫১) এবং আরিফ খান জয়কে (৫৩) দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশদানে আদালতের সদয় মর্জি হয়।’

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে ডা. দীপু মনিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আরিফ খান জয়কে।




এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ঢুকে পড়লো হাজারো শিক্ষার্থী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছেন প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন তারা। দাবি আদায়ে দুপুরের দিকে তারা সচিবালয়ে ঢুকে পড়েন।

এসময় শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি এবং আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান।

এদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দেন বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দেড় মাসের পরীক্ষা আমরা কয়েক মাস ধরে ঝুলে আছি। তারা আমাদেরকে কয়েকদিন আগেও জানিয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে পরীক্ষা হবে। তাহলে আরও এক মাস লাগবে পরীক্ষার জন্য। এরপর একমাসব্যাপী পরীক্ষা হবে। এত সময় নিলে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করবে কখন? আর আমরা ভর্তি হব কবে?

তারা আরও বলেন, একটা বোর্ড পরীক্ষা কিভাবে ৬-৭ মাস পর্যন্ত ঝুলে থাকে? সেজন্য আমরা এটা মানি না। আমরা চাই যেসব পরীক্ষা হয়েছে সে অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হোক। দাবি না মানলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।




ত্বকের সমস্যায় উপকারী পুঁইশাক




বরিশালে বাকেরগঞ্জের সাঁকো এখন মরণফাঁদ

বরিশাল অফিস :: বাকেরগঞ্জ উপজেলার সীমানায় নিয়ামতি ইউনিয়নের খাশ মহেশপুর গ্রামে ভাড়ানিখালের ওপর নড়বড়ে সাঁকোটি পার্শ্ববর্তী উপজেলা বেতাগীর বিবিচিনি গ্রামের সঙ্গে সংযোগ হয়েছে। দুই উপজেলার সঙ্গে সংযোগ সাঁকোটির কঙ্কাল এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গত ১৬ বছর ধরে সাঁকোটি দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাঁকোটিতে দীর্ঘ ২৩ বছরেও সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি। চরম দুর্ভোগে রয়েছে দুই উপজেলার হাজারো মানুষ। ঘটছে প্রায়ই দুর্ঘটনা।

জানা গেছে, সাঁকোর দক্ষিণপাশে ডিসিরবাজার, বেগম লুৎফুন্নেছা ব্রিট মেমোরিয়াল স্কুল, দেশান্তরকাঠী খ্রিস্টান পল্লি, মিশনারি স্কুল, একাধিক মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। অপরদিকে উত্তরপারে মহেশপুর কমিউনিটি ক্লিনিক, ডোরখালী দাখিল মাদ্রাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী, কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হচ্ছে। বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সাঁকো পারাপারে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রসূতিদের। তা ছাড়া সাঁকোর একদম সন্নিকটেই রয়েছে একটি জামে মসজিদ। স্থানীয় কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত পণ্য ও ব্যবসায়ীদের মালামাল মাথায় করে বাজারে নিতে-আনতে চরম কষ্টে ভোগেন।

স্থানীয়রা জানায়, ২০০১ সালে সাঁকোটি বেতাগী এলজিইডি নির্মাণ করে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে একটি নড়বড়ে সাঁকো নির্মাণ করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন সাঁকো নির্মাণ হলে ২০০৭ সালে সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া স্লিপারের বেশিরভাগই খালে ভেঙে পড়ে। অথচ দেড়যুগ পার হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাঁকোটি সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা সাঁকোটির ওপর সুপারিগাছ ও বাসের সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থ নড়বড়ে ও ভেঙে যাওয়া সাঁকোর সিমেন্টের ঢালাই দেওয়া স্লিপারগুলো ভেঙে গেছে। ক্রস এ্যাঙ্গেলগুলো মরিচা ধরে ভেঙে গিয়ে সাঁকোটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মানুষ নিরুপায় হয়ে সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।

বাকেরগঞ্জ এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া জানায়, গুরুত্বপূর্ণ এই সাঁকোটি নির্মাণে প্রকল্প প্রস্তাবিত আছে। বরাদ্দ সংকটে সাঁকো সংস্কার হচ্ছে না। অপরদিকে বেতাগী উপজেলা এলজিইডি কর্তৃপক্ষ জনকণ্ঠকে জানান, সাঁকোটি বেতাগী উপজেলার আওতায় কিনা আমার ভালো জানা নেই। সরেজমিন পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।