গলাচিপায় ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৬ জনের পরিবারকে অর্থ সহায়তা দিলো জামায়াত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ৬ জনের পরিবারের পাশে অর্থ সহায়তা নিয়ে দাঁড়ালো জামায়াতে ইসলামি সংগঠন।

শুক্রবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে গলাচিপা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের রুপনগর এলাকার টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার আতিকুল ইসলাম রুবেল (৩৪), আমখোলা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সিএনজি চালক মো. জাহাঙ্গীর খান (৪০), চিকনিকান্দি ইউনিয়নের পানখালী গ্রামের ব্যবসায়ী মামুন হাওলাদার(৪০), চরকাজল ইউনিয়নের বড় শিবা গ্রামের শিক্ষার্থী মো. রাসেল(১৮), ডাকুয়া ইউনিয়নের পারডাকুয়া গ্রামের শিক্ষার্থী মো.সাগর গাজী(২০) ও কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাশবাড়িয়া গ্রামের ছাত্র রাব্বি (১৩) এর পরিবারকে অর্থ সহায়তা দেয়া হয়েছে।

জামায়াত সংগঠনের নেতাকর্মীরা নিহতদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেন এবং কবর জিয়ারত করেন। প্রত্যেক নিহত পরিবাবরকে সান্ত্বনা দেন ও তাদের হাতে এক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি (দক্ষিণ) বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, কেন্দ্রীয় মজলিসের সুরা সদস্য মাওলানা ফকরুদ্দিন খান রাজী, ল”ইয়ার কাউন্সিলার সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক, পটুয়াখালী জামায়াতে ইসলামি আমির অধ্যাপক মো: শাহ আলম, গলাচিপা উপজেলা শাখার জামায়াতের আমির মো: জাকির হোসেন, ও সহকারী অধ্যাপাক ইয়া হিয়া খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




বন্যায় স্বাস্থ্য রক্ষার উপায় কী?

চন্দ্রদ্বীপ স্বাস্থ্য ডেক্স :: ভারি বৃষ্টি ও ভারতের উজানের পানিতে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যার কবলে দেশের ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ বিভিন্ন জেলা। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি উঠায় ও বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হবে অতি দ্রুত। আর বন্যায় স্বাস্থ্যসচেতনতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বন্যা পরিস্থিতি খারাপের দিকে গেলে উত্তেজিত না হয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কিছু বিষয় অনুসরণ করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থরক্ষার বিষয়টিও অনুসরণ করতে হবে।

১. বন্যার সময় পানির উৎস দূষিত হয়ে যায়। তাই পানি ভালোমতো ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করাসহ গৃহস্থালির অন্যান্য কাজেও ব্যবহার করতে হবে। বন্যার পানিতে টিউবওয়েল তলিয়ে গেলে এক কলস পানিতে তিন-চার চা চামচ ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে টিউবওয়েলের ভেতর এই পানি ঢেলে আধা ঘণ্টা রেখে এরপর একটানা আধা ঘণ্টা চেপে পানি বের করে ফেলে দিলে সেই পানি খাওয়ার উপযোগী হতে পারে। ব্লিচিং পাউডার না থাকলে এক ঘণ্টা টিউবওয়েলের পানি চেপে বের করে ফেলতে হবে।

২. বন্যায় প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা ডায়রিয়া। এ জন্য খাওয়ার আগে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। পায়খানা করার পর হাত একইভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা শুরু হলে পরিমাণমতো খাওয়ার স্যালাইন খেতে হবে।

৩. দুই বছরের কম শিশুকে প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর ১০-১২ চা চামচ এবং ২ থেকে ১০ বছরের শিশুকে ২০ থেকে ৪০ চা চামচ খাওয়ার স্যালাইন দিতে হবে। খাওয়ার স্যালাইন বা ওআরএস না থাকলে বিকল্প হিসেবে লবণ-গুড়ের শরবত খাওয়াতে হবে। পাশাপাশি ভাতের মাড়, চিঁড়ার পানি, ডাবের পানি, কিছু পাওয়া না গেলে শুধু নিরাপদ পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

৪. বন্যায় পচা-বাসি খাবার খেতে বাধ্য হয় অসংখ্য মানুষ। ফলে ছড়িয়ে পড়ে ডায়রিয়াসহ অন্যান্য আন্ত্রিক রোগ। খিচুড়ি খাওয়া এ সময় স্বাস্থ্যোপযোগী। খাবার প্লেট সাবান ও নিরাপদ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। পানি বেশি খরচ হয় বলে অনেকে প্রথমে একবার স্বাভাবিক পানিতে থালাবাসন ধুয়ে তারপর ফুটানো পানিতে ধুয়ে নেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এতে থালাবাসনে অনেক ধরনের জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে পরিষ্কার পানিতে ধুলেও দূর হতে চায় না। তাই খাবার গ্রহণের আগে থালাবাসন পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।

৫. বন্যার সময় মলত্যাগে সতর্কতা অবলম্বন খুব জরুরি। যেখানে-সেখানে মলত্যাগ করা উচিত নয়। এতে পেটের পীড়া ও কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে মলত্যাগ করতে হবে এবং মলত্যাগের পরে সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে।

৬. এ সময় সাধারণত বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা, পানিতে ডুবে যাওয়া, সাপ ও পোকামাকড়ের কামড়ের ঘটনাগুলো বেশি ঘটে। এ বছরের বন্যায় সাপের কামড়ে মারা গেছে অনেক মানুষ। এ ছাড়া পানির নিচে বহু বৈদ্যুতিক টাওয়ার, খুঁটি, ট্রান্সফরমার লাইনের তার ডুবে থাকে। এসব বৈদ্যুতিক লাইনের নিচ দিয়ে নৌকা বা ভেলা চালানোর ক্ষেত্রে বা চলাচলের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক হতে হবে।




নেপালে ভারতীয় পর্যটকবাহী বাস খাদে পড়ে ১৪ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: নেপালে নদীতে পড়ে গেছে যাত্রীবোঝাই একটি বাস।বাসে যে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন, তারা প্রত্যেকেই ভারতীয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যেই অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে ১৬ জন।

আজ শুক্রবার সকালে নেপালের তনহুঁ জেলার মারশিয়াংড়ি নদীতে বাসটি পড়ে যায় বলে নেপাল পুলিশকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএনআই। তবে বাসটি কিভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

পুলিশের তরফে জানা গেছে, বাসটি ভারতীয় যাত্রীদের নিয়ে পোখরা থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাচ্ছিল।

নেপাল পুলিশের তরফে তনহুঁ জেলার ডিএসপি দীপকুমার রায়া জানান, বাসটি উত্তরপ্রদেশ থেকে নেপালে গিয়েছিল। বাসটির নম্বরপ্লেটেও ‘ইউপি’ লেখা রয়েছে।

উত্তরপ্রদেশের এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর খতিয়ে দেখে সেটির মালিকের নাম এবং রাজ্যের কোনো বাসিন্দা দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বাসের ভারতীয় যাত্রীরা পোখরা শহরের একটি রিসোর্টে ছিল। শুক্রবার সকালে তাদের নিয়ে বাসটি কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। রাস্তাতেই ঘটে দুর্ঘটনা।

গত জুলাই মাসে নেপালের ত্রিশূলি নদীতে ভেসে গিয়েছিল দু’টি বাস। দু’টি বাস মিলিয়ে মোট ৬৫ জন যাত্রী ছিল। গত কয়েক দিন ধরেই ভারী বৃষ্টি হচ্ছে নেপালে। ফুঁসছে পাহাড়ি নদীগুলো। চলতি বর্ষার মৌসুমে নেপালে এখন পর্যন্ত ৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৯০ জন।




পানিবন্দী ফেনীর লাখো মানুষ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারত থেকে আসা পানিতে ডুবে গেছে ফেনীর সব উপজেলা। এতে পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ফায়ার সার্ভিস ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ শুক্রবার ফেনীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অথৈ পানিতে ডুবে আছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, চাষের জমি, সবকিছুই। অনেক গ্রামে বাড়ির পর বাড়ি পড়ে আছে খালি। আবার কিছু এলাকায় আটকে আছেন বাসিন্দারা। যতই সময় গড়াচ্ছে ততই তীব্র হচ্ছে সুপেয় পানির সংকট।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে কোথাও হাঁটু সমান, কোথাও বুকসমান পানি। এ কারণে যান চলাচল করতে পারছে না।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর ও দাগনভূঞা উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকার মানুষ বর্তমানে পানিবন্দি। সোনাগাজী উপজেলার সব ইউনিয়নেও বন্যার পানি ঢুকেছে। প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ দুর্ভোগে আছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

আরও জানা যায়, বন্যাকবলিত প্রায় সব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। বেশির ভাগ মোবাইল টাওয়ার অকেজো হয়ে পড়ায় যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের টিম কাজ করছে। ফেনীতে অন্তত এক লাখ মানুষ এখনো পানিবন্দি।’

টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে মঙ্গলবার থেকে ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরাম এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বেশির ভাগ এলাকার ঘর-বাড়ি প্লাবিত হয়। গত বুধবার থেকে ফেনী শহরের নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরের নিচতলায় পানি ঢুকে যায়। বৃহস্পতিবার শহরের বেশির ভাগ বাড়ির নিচতলা ডুবে যায়। ফেনীর সোনাগাজী, দাগনভূঞা এলাকার নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজ সকালে শহরে ঢুকতে চাইলেও পারা যায়নি। শহরের প্রধান সড়ক শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, ট্যাংক রোডসহ প্রধান প্রধান সড়কের কোথাও কোমর পানি, কোথাও গলা পরিমাণ পানি। শুক্রবার সকালে অনেকে পরিবার নিয়ে ফেনী শহর ছাড়তে দেখা গেছে।

এদিকে ফেনীর লালপোল এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পানি ওঠায় গতকাল থেকে চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ছাড়া সারা দেশের সঙ্গে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে ফেনীর লেমুয়া পর্যন্ত এ সড়কে চট্টগ্রাম অভিমুখে গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রামমুখী অনেক যাত্রী বিশেষ করে নারী, শিশুরা অসহনীয় কষ্টে আছে।

গতকাল থেকে অনেকেই ফেনীর মহিপাল এলাকার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে উঠেছেন। আবার কেউ কেউ রুম না পেয়ে হোটেলের বারান্দা, সিঁড়িতেও আশ্রয় নিয়েছেন। তবে গতকাল থেকে এসব হোটেলের পানির সংকট শুরু হয়েছে। এদিকে ফেনীতে সুপেয় পানির সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শুক্রবার মহিপালের বেশির ভাগ দোকানেই পানির সংকট দেখা গেছে। অন্যদিকে পানির কারণে শহরের দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।




সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিমেন্টবোঝাই ট্রাক খাদে পড়ে উল্টে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের সোনাপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন শাহবাজপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে মো ফানু (৪৫) এবং একই গ্রামের হেরাস আলীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক খুদু (৪৭)।

এলাকাবাসী জানায়, শাহাবাজাপুর ইউনিয়নের পিরোজপুর থেকে সিমেন্টবোঝাই ট্রাকটি বারিকবাজার যাওয়ার পথে সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি অপর আরেকটি নসিমন গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে পড়ে। এতে ওই ট্রাকে থাকা দুই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন জানান, সোনাপুর এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। তাতে ওই ট্রাকে থাকা ৬ শ্রমিকের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের টিম পাঠানো হয়। তার আগেই স্থানীয়রা নিহতদের উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক রয়েছে ওই ট্রাকের চালক ও হেলপার। আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর হবে।

 




পটুয়াখালীতে নিহত হৃদয় চন্দ্রের পরিবারকে অনুদান দিল জামায়াত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পটুয়াখালী সরকারি জুবলি স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পরিবারকে ১ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

আজ শুক্রবার সকালে পটুয়াখালী সরকারি জুবলি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এই অনুদান হস্তান্তর করা হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসেন হেলাল ওই পরিবারের সদস্যদের হাতে এককালীন অনুদানের টাকা হস্তান্তর করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া ও তাঁর মা, বোন, দুলাভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ফখরুদ্দিন খান রাজী, জেলা জামায়াতের আমির প্রফেসর মোহাম্মদ শাহ আলম, জেলা সেক্রেটারি এ বি এম সাইফুল্লা, জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান, শহর আমির আবুল বাশার, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া, জুবলি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন, করিম মৃধা কলেজের শিক্ষক অশোক দাস, গৌতম কুমার দাস প্রমুখ।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জামায়াতের নেতারা হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তা ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত পটুয়াখালীর ২২ জনকে ২২ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার কথা জানানো হয়।




পাকিস্তানে পুলিশের গাড়িতে হামলা, নিহত ১২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পাকিস্তানে একটি পুলিশ ভ্যানে চালানো রকেট হামলায় অন্তত ১২ জন পুলিশ নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। গতকাল বৃহস্পতিবার এই হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সম্ভাব্য ডাকাত দলের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় টহলে বের হয়। রহিম ইয়া খান এলাকার মাচকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ভ্যানে অন্তত ২০ জন পুলিশ ছিলেন। তারা বৃষ্টির পানিতে আটকা পড়েছিলেন। তখনই হামলা চালানো হয়।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ পুলিশ সদস্যদের শহীদ হিসেবে অভিহিত করে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশদের আত্মত্যাগ সর্বদা স্মরণ করা হবে। সে সঙ্গে ওই এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।



বন্যায় বিপর্যস্ত ত্রিপুরা, ২০ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ত্রিপুরা। এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

২১ আগস্ট থেকে ত্রিপুরায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ফলেত্রিপুরার বিভিন্ন জেলা বন্যায় আক্রান্ত। সরকারি হিসেব অনুযায়ী আক্রান্ত প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি মানুষ।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপের ফলে তাদের রাজ্য এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত তিনদিন অত্যধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এধরনের বৃষ্টিপাত আগে কখনো দেখিনি। বিশেষ করে গোমতী জেলা এবং তার আশপাশের এলাকায় গত তিনদিনে ৩৭৫ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। হঠাৎ এত বেশি বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়ঙ্কর বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে এবং আমরা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় ত্রাণকার্য চালিয়ে যাচ্ছি।’




আনন্দ মিছিলে গিয়ে গুলিবিদ্ধ মনিরুল – অভাব-অনটনে দিন কাটছে পরিবারে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আনন্দ মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন পটুয়াখালী ইসাহাক মডেল ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (১৯)। আনন্দ মিছিলে পুলিশের গুলিতে পিঠে গুলি লাগে মনিরুলের। এরপর থেকে হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। বাবার অসুস্থতায় পড়াশোনার পাশাপাশি সীমিত বেতনে সেলসম্যানের চাকরি করতেন মনিরুল। তার বেতনের টাকাতেই চলত পরিবার। বর্তমানে মনিরুল চিকিৎসাধীন থাকায় অভাব-অনটনে দিন কাটছে তার পরিবারের।

আজ সরেজমিনে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে দেখা যায়, মনিরুল পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ৪৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

মনিরুল পটুয়াখালী সদর উপজেলার জৈনকাঠি ইউনিয়নের ঠ্যাংগাই গ্রামের মোতালেব হাওলাদারের ছেলে। তিনি পটুয়াখালী এসহাক মডেল ডিগ্রি কলেজের ২০২৫ ব্যাচের দ্বাদশ শেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অভাব অনটনে বড় হওয়া একমাত্র ছেলে সন্তান মনিরুল পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরতে গত মে মাসে ঢাকা মিরপুর-১ এলাকার মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের আজাত এন্টারপ্রাইজে সেলসম্যান হিসেবে যোগদান করেন। মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে পরিবারের খরচ বহন করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সারা দিয়ে নেমেছিলেন রাজপথে।

টানা কয়েকদিন আন্দোলনের পর গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে গেলে মিরপুর-১ থেকে মিরপুর-২ নম্বর পর্যন্ত আনন্দ মিছিল বের হয়। এতে যোগ দেন মনিরুল। মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় পুলিশ। আশপাশের কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হলে মনিরুল পেছনে ফিরে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। ঠিক তখনই তার বাম পাঁজরে গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ মনিরুলকে উদ্ধার করে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন শিক্ষার্থীরা।

পরবর্তী সময়ে মনিরুল গত ৭ আগস্ট বিকেলে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিন পর, গুলিবিদ্ধ মনিরুলের চিকিৎসার সব খরচ বহন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গুলিবিদ্ধ মনিরুল বলেন, টানা কয়েকদিনের আন্দোলনে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আমরা খুশিতে বিজয় মিছিল নিয়ে মিরপুর-২ এর কাছাকাছি গেলে পুলিশ আমাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে থাকে। পিঠে গুলি লাগার পর আমি মাটিতে পড়ে যাই। পরে কয়েকজন ছাত্র ভাই আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি বিজয় মিছিলে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছি, সেটির বিচার চাই।

মনিরুলের বাবা মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করতাম। শারীরিক অসুস্থতার জন্য এহন ইনকাম করতে পারি না। এই ছেলের টাকায়ই সংসার চলে। গুলি খাইয়া পোলাডায় প্রায় ১৬/১৭ দিন যাবত হাসপাতালে। এ মাসে বাজারও হয় নাই। বিয়ার লাক দুইডা মাইয়া ঘরে, কী করমু বুঝতে পারতেছি না। সরকার যদি আমার পোলাডারে একটা কাম কাইজের ব্যবস্থা কইরা দেতে, তাহলে কয়ডা ডাইল ভাত খাইয়া বাঁচতে পারতাম।

মনিরুলের চিকিৎসার ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বলেন, তিনি গত ৭ আগস্ট থেকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। বর্তমানে তিনি আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। আমরা যখন জানতে পারি তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, আমরা তখন তার চিকিৎসার যাবতীয় খরচ ফ্রি করে দিয়েছি। হাসপাতালে থাকা সমাজসেবা কর্মকর্তার মাধ্যমে ওনার ওষুধ কেনার ব্যবস্থা করা হয়েছে।




আত্মগোপনে দুমকির তিন ইউপি চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানই আত্মগোপনে চলে গেছেন।

শ্রীরামপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আজাহার আলি মৃধা ও পাঙ্গাশিয়া ইউপি চেয়ারম্যান অফিস করলেও বৃহস্পতিবার (২২আগষ্ট) বেলা সাড়ে ১১ টায় বাকি তিন জনকে পাওয়া যায়নি।

তারা হলেন – মুরাদিয়ার চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান শিকদার, আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম মর্তুজা শুক্কুর, লেবুখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম তুহিন।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো শাহীন মাহমুদ বলেন, সবার সাথেই আমার যোগাযোগ(ফোনে) রয়েছে।
যেহেতু তিন জন (মুরাদিয়া, আঙ্গারিয়া, লেবুখালী ) অফিস করছে না তাই তাদের আইডি নিয়ে নিয়েছি। বাকি দুইজন (শ্রীরামপুর, পাঙ্গাশিয়া) অফিস করছেন।