বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবার উদ্ভোদন করলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী শ্রী গুরু সঙ্ঘ আয়োজনে ৫০তম তিরোভাব শুক্লাদশমী ও বুলন পূর্নিমা উপলক্ষে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও স্থানীয় অপারেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম।

১লা সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকাল ১০টায় শ্রী শ্রী মদনমোহন জিঁউর মন্দির, আখড়াবাড়ি, পুরান বাজারে বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন হয। মাননীয় জেলা প্রশাসক নিজে তার চক্ষু পরীক্ষা করে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

বরিশালের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এর সহযোগিতায় এবং শ্রী গুরু সঙ্ঘ এর বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম কাউখালী পিরোজপুর এর অনুপ্রেরণায় ১৩৪ তম চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম স্থাপন করা হয়।

আরো পড়ুন : ১৬ বছর পর পটুয়াখালীতে প্রকাশ্য জনসভায় আলতাফ হোসেন চৌধুরী

আয়োজিত চক্ষু চিকিৎসা সেবা কার্যক্রমে রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রশিক্ষিত (এমবিবিএস) চক্ষু ডাক্তারের মাধ্যমে চক্ষু পরীক্ষা চোখের পাওয়ার নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এছাড়াও চোখের সানি অপারেশন ও বিদেশি লেন্স সংযোজন, বিনামূল্যে ঔষধ ও চশমা পাওয়া যাবে। ক্যাম্পের দিনে ভর্তির রোগীদের ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এবং এর সঙ্গে যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার ফ্রি ব্যবস্থা করা হবে।

এদিন বেলা ১১টার মধ্যে সকল ধর্মের অন্তত ৩০০ নারী পুরুষ ফ্রিতে চিকিৎসা সেবা পাওয়ার জন্য উপস্থিত হয়ে ফ্রি রেজিস্ট্রেশন করেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ নুর কুতুবুল আলম বলেন, ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়ার মত মহতী উদ্যোক্তাদের সাধুবাদ জানাই। ক্যাম্পের এত সুন্দর আয়োজন দেখে আমি মুগ্ধ।

এসময় শ্রীগুরু শঙ্ঘের পটুয়াখালী শাখার সভাপতি এ্যডঃ কমল দত্ত বলেন, শ্রী গুরু সংঘ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রম এর অনুপ্রেরণায় সারা বছর সকল ধর্মের মানুষের বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদানের ব্যবস্থা করে থাকে। আগামী পাঁচদিন পর্যন্ত এ কার্যক্রম এখানে চলবে। আমরা আগত রোগীদের জন্য বিশ্রামের ব্যবস্থা রেখেছি। একদিনে যত রোগী আসুক না কেন সকলকে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করেছি।




বরিশালে বিএনপি নেতার নামে চাঁদা না দেওয়ায় থ্রি-হুইলার চালকদের মারধর

বরিশাল অফিস :: বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারীদের চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাসহ থ্রি-হুইলার চালকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বেশ কয়েকটি থ্রি-হুইলার ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে পুরো এলাকায়।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নগরীর রূপাতলী বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে।

থ্রি-হুইলার চালকরা জানিয়েছেন, বিগত সময়ে একটি সিন্ডিকেট থ্রি-হুইলার প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা এবং বাস থেকে ৮০ থেকে ১২০ টাকা চাঁদা তুলতো। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থ্রি-হুইলার চালকরা চাঁদা দেওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের অনুসারী কালাম চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক বাস টার্মিনালে প্রতিটি বাস থেকে ১০০/১২০ টাকা চাঁদা উত্তোলন শুরু করেন। শুধু বাস টার্মিনাল নয় তারা রূপাতলী গোল চত্বর থেকে বিভিন্ন জেলায় যাত্রী পরিবহন করা সিএনজি প্রতি ১০০ ও মাহিন্দ্রা থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলতে শুরু করেন।

থ্রি-হুইলার চালক সাগর বলেন, আমরা বিএনপি নেতা রাজীব মোল্লার মার্কেটের সামনে থেকে গাড়ি ছাড়ি। শ্রমিক ইউনিয়ন দখল করে নিজেকে শ্রমিক নেতা বলা কালাম, রাজ্জাক এসে চাঁদা চাইতো। আমরা বিষয়টি রাজীব মোল্লাকে জানালে তিনি চাঁদা না দিতে বলেন। আমরা চাঁদা দিতে অপারগতা দেখাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নাতি কালামের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা করা হয়।

আরেক মাহিন্দ্রা শ্রমিক মনির হোসেন বলেন, নাতি কালাম, রাজ্জাক আমাদেরকে এসে বলতো আগে আওয়ামী লীগকে চাঁদা দিয়েছ, এখন জিয়া সিকদার দায়িত্ব নিয়েছে। তার নেতৃত্বে বাস টার্মিনাল চলবে। তোমরা টাকা না দিলে সংগঠন চলবে কীভাবে?

২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রাজীব মোল্লা বলেন, মহানগরের আহ্বায়ক কমিটির এক নেতার অনুসারীরা বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি করছে। আওয়ামী লীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার পরে তাদেরকে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কোনো কথা না শুনে চাঁদাবাজি চালিয়ে যান। সর্বশেষ শুক্রবার সিএনজি, মাহিন্দ্রা চালকরা আমার কাছে আসলে আমি চাঁদাবাজি যেন না করে সেজন্য শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে যাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রমিক ইউনিয়ন দখলে নেওয়া কালাম, রাজ্জাকের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ১২ জনকে মারধর করেছে। এরমধ্যে সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ৮/১০টি গাড়ি ভাঙচুর করেছে হামলাকারীরা। যারা হামলা করেছে, তারা আগে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করতো। এখন বিএনপির এক নেতার অনুসারী হয়ে বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজি করছেন।

হামলায় আহত এক মাহিন্দ্রা শ্রমিক বলেন, আমরা চাঁদা দিবো না এই কথা জানানোর পরই শ্রমিক ইউনিয়নের শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে আমাদের মারধর করেন। ওখানকার দোকানদারদেরও মারেন। এমনকি আজকে সকালে অনেকের গাড়ির চাবি নিয়ে গেছে।

হামলার পরপরই থ্রি-হুইলার চালকরা এক হয়ে সড়কে এবং বাস শ্রমিকরা টার্মিনালে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে জিয়া উদ্দিন সিকদারের ব্যক্তিগত অফিসে রাতে বৈঠকও করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা কালাম চৌধুরী বলেন, শ্রমিকরা যোগ্য নেতৃত্ব চায়। তারা আমাকে শ্রমিক ইউনিয়নের দায়িত্ব দিয়েছেন। এর বিপরীতে কয়েকজন আরেকটি কমিটি গঠনের চেষ্টা চালিয়েছে। সাধারণ শ্রমিকরা গতকাল রাতে তাদের নিষেধ করে এসেছে।

তিনি বলেন, বাস টার্মিনাল থেকে বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের নামে কোনো চাঁদা তোলা হয় না।

বাস মালিক সমিতির সদস্য ও ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আকতারুজ্জামান দোলন জানিয়েছেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা পরিচয় দিয়ে কালাম, রাজ্জাকসহ একটি সিন্ডিকেট চাঁদাবাজি করছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর হওয়া উচিত।

এসব বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরে লাইন কেটে দেন। এরপর আর কল রিসিভ করেননি।




বন্যার্তদের পাশে বরিশালের মুসলিম, হিন্দু ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বাংলাদেশ

বরিশাল অফিস :: ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লহ্মিপুর, খাগড়াছড়িসহ বন্যা দুর্গত এলাকায় জরুরী খাবার, ঔষধসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ ও বিধ্বস্ত এলাকার মানুষদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বন্যা মোকাবেলায় ৫০টির বেশি নৌকা ও স্প্রিডবোট নিয়ে দূর্গত এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছেন বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীসহ আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন ও মানবিক জনগণ। তারই ধারাবাহিকতায় ছাত্র জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মাঠে নেমেছে বরিশালের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, মন্দিরের পূজারী, পুরোহিত ও আলেম সমাজ এক সকল সকল শ্রেণী পেশার মানুষ হিন্দু, মুসলিম,খ্রীষ্টান কোন ভেদাভেদ নাই । সবাই যে যার অবস্থান থেকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছে।

বরিশালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক নাভিদ নাসিফ জানিয়েছেন, গত ২২ আগস্ট সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ হয়েছে ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪০ টাকা। শুক্রবার আমরা ১২ জনের গ্রপে বিভক্ত হয়ে বরিশালের ৭০টির বেশি মসজিদের সামনে চাঁদা তুলেছি। তবে টাকা পরিমাণ এখনো হিসাব করা হয়নি এক সাথে করে সকলের কাছে জানানো হবে।

এদিকে শুক্রবার বরিশালের সড়কে বাজারে মসজিদের সামনে দানবাক্স হাতে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ আলেম সমাজের অনেককেই। ইসলামি আন্দোলন যুব আন্দোলন নেতা মোঃ সানাউল্লাহ জানান, তাদের চরমোনাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ইসলামি আন্দোলনের সদস্যরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের সব মসজিদ ও বাজার থেকে দান সংগ্রহ করছেন।

এদিকে বরিশালের বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, শুধু কথায় নয়, ওরা কাজেও সবাই বৈষম্য বিরোধী। জাত-ধর্ম নির্বিশেষে ওরা কিশোর যুবকরা এসে দাঁড়িয়েছে মসজিদের সামনে। সকলের হাতে দানগ্রহণের বাক্স। ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লা, লহ্মিপুর অঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সাহায্য চাচ্ছে ওরা। শুক্রবার (২৩ আগস্ট)জুম্মার নামাজের আগমুহূর্তে বরিশাল নগরীর প্রায় সব মসজিদের সামনে ছিলো বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের এই দানগ্রহণ দৃশ্য। তাদের মধ্যে মাদ্রাসার ছাত্র যেমন আছে, তেমনি আছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বিএম কলেজ এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর শিক্ষার্থী। আবার হিন্দু, খ্রিস্টান এবং মুসলমান ঘরের সন্তান ওরা সম্প্রীতির এক অনন্য বন্ধন তৈরি করেছে এই বন্যার্তদের ঘীরে। জুম্মার আগমুহূর্তে বরিশালের আমতলা মোড়ের খান সড়কে খান বাড়ি জামে মসজিদের সামনে দাঁড়ানো ৭-৮ জনের একটি টিম।

টিমের একজন নাম আলবার্ট গোমেজ জয় তিনি জানান, তোরা যা, নামাজ পড়ে আয়। আমি এগুলো পাহারা দিচ্ছি। যে বলছে, সে একজন খ্রিস্টান শিক্ষার্থী। ওর পাশেই এসে বসলো তন্ময় নামের হিন্দু শিক্ষার্থী। বললো, তুই একা না আমিও আছিতো। আর মুসলিম বন্ধুরা হেসে ওদের মাথায় দান বাক্স বসিয়ে মজা করার চেষ্টা করে নামাজে চলে গেলেন। পাশে বসে কথা বলে জানা গেল, গতদিন সন্ধ্যায় ওরা মন্দিরের সামনে এভাবে দান নিয়েছে। আর আগামী রবিবার চার্চে বা গীর্জায় যাবে সবাই।

এদিকে তখন মসজিদের ঈমাম মাওলানা আবুল কাসেম বিন নুর ঠিক আযানের পরপরই তার জুম্মার বয়ান শুরু করে দিয়েছেন। মিথ্যাবাদী আর জালেম কখনো মুসলমান হতে পারেনা। আল্লাহ যুগ যুগ ধরে এদের সুযোগ দিয়েছেন এবং যখন পাকড়াও করেছেন তখন তার পরিণতি হয়েছে ভয়াবহ। তিনি এ সময় ভারতের নোটিশ না দিয়ে বাঁধ খুলে দেয়ার নিন্দা জানান।
ঈমাম আবুল কাসেম তার খুতবা শেষে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীদের দানগ্রহন করতে আসার তথ্য জানিয়ে, মুসল্লীদের কাছে বন্যার্তদের সহযোগিতায বেশি বেশি দান করার আহ্বান জানান।

এ সময় আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের ভূমিকার প্রশংসা করে ঈমাম বলেন, বরিশাল ঈমাম সমিতির পক্ষ থেকেও দানগ্রহণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে জরুরী মিটিং ডেকেছেন মহানগর ঈমাম সমিতি। নামাজ শেষ হতেই বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে গেলেন দানবাক্স হাতে নিয়ে। সাতজনের হাতে সাতটি দানবক্স। পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে আরো কয়েকজন সহপাঠী। কারো মুখে কোনো কথা নেই। বাক্সের গায়েই লেখা আছে – “ফেনী, নোয়াখালী ও কুমিল্লাসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহযোগিতায় দান করুন। ” প্রতিটি মসজিদে ছিলো বাংলাদেশের জন্য এবং বন্যার্ত মানুষের জন্য বিশেষ দোয়া মোনাজাত।

সুন্দর সুশৃঙ্খল তাদের এই দানগ্রহণ শুক্রবার নগরীর প্রায় সব মসজিদের প্রবেশপথে দেখা গেছে বলে জানালেন বরিশাল জেলা ঈমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, মসজিদের ভিতরে ঈমাম সমিতির সদস্যরা দান তুলেছে, বাহিরে শিক্ষার্থীরা দানবাক্স হাতে দান তুলেছে। আল্লাহর রহমতে এই দুর্যোগ বেশিদিন স্থায়ী হবে না। বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ ও সয়ংসম্পুর্ন একটি দেশ হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, আগামী সোমবার মিটিং এর পর ঈমাম সমিতির দানও দূর্গত এলাকায় পৌঁছে যাবে বলে জানান মাওলানা আব্দুল মান্নান।

এদিকে থেমে নেই বরিশালের হিন্দু সমাজও। তারাও তাদের মতো করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন। মুসুলমান-হিন্দু থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চাঁদা উত্তোলন করছেন। পাশাপাশি অনেকে আবার যা চাঁদা উঠেছে তা নিয়েই বন্যার্তদের পাশে ছুটে গিয়েছেন।

এর আগে ২২ আগস্ট বৃহস্পতিবার নগরীর শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটিসহ ৫টি মন্দিরের পক্ষ থেকে ৭ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক দল বন্যার্তদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে। দুর্গোৎসবের জন্য উত্তোলনকৃত চাঁদার একটি অংশ তাদের মাধ্যমে বন্যার্তদের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তন্ময় দাস।

এছাড়া নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণারঞ্জন চক্রবর্তীর স্মৃতি দুর্গা মন্দির কমিটিও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা দিয়েছে। শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উৎযাপন কমিটির সভাপতি লিমন কৃষ্ণ সাহা কানু ও সাধারন সম্পাদক আকাশ দাশ বলেন, প্রতি বছর দূর্গোৎসব ঘিরে বড় আয়োজন থাকে তাদের মন্দিরে। এ জন্য বছরের শুরু থেকেই উৎসবের আয়োজনে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ বছর কুমিল্লা ও ফেনীসহ ৮টি জেলায় যেভাবে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তাতে করে উৎসব আগে না মানবতা আগে। সেই বিবেচনার দিক থেকেই শ্রী শ্রী শংকর মঠ এবং নগরীর আরো বেশ কিছু মন্দিরের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা বন্যার্তদের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে প্রেরণ করা হয়েছে।

তারা আরো বলেন, কারন এ ধরনের দুর্ভোগ সব সময় থাকবে না। কিন্তু এ দুর্ভোগ থেকে আমাদের দেশকে বাঁচানোর দায়িত্বও আমাদের। সেই স্থান থেকেই মন্দিরের পক্ষ থেকে বণ্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা। তাছাড়া নগরী এবং জেলার সকল মন্দির কমিটির সদস্যদের তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে চাঁদা দিয়ে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। সকলেই তাতে সাড়া দিয়ে প্রতিটি মন্দিরের সভাপতি ও সম্পাদক সেই টাকা এক জায়গা করে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে বন্যাদুর্গদের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানা গেছে।

বরিশাল নগরীর দক্ষিণারঞ্জন চক্রবর্তীর স্মৃতি দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক অয়ন চক্রবর্তী বলেন, উৎসব প্রতি বছর করা যাবে। এ বছর প্রয়োজনে ছোট আকারে করা হবে। কিন্তু যারা মারাত্মক দুর্ভোগে রয়েছেন তাদেরকে আগে রক্ষা করতে হবে। এ জায়গা থেকেই আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের জন্য উত্তোলনকৃত চাঁদা প্রেরন করা হয়েছে। এছাড়া তাদের গোত্রের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সকারি বিএম কলেজ, ইসলামি আন্দোলন, ছাত্রদল বরিশাল থেকে শুরু করে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জুম্মা বাদ মসজিদের সামনে বন্যার্তদের জন্য চাঁদা উত্তোলন করেন। এ সময় তাদের সাথে মুসুলমান, হিন্দু ও খ্রীষ্টান সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা এ চাঁদা আদায়ে অংশগ্রহন করে। যা ছিলো সম্প্রীতির বাংলাদেশ এর অনন্য উদাহরণ।




ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশালে জলাবদ্ধতা নিত্যসঙ্গী

সংকট উত্তরনে বরিশালে দীর্ঘ মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ

বরিশাল অফিস :: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘প্রাচ্যের ভেনিস’বরিশাল নগরীর ভঙ্গুর পয়.নিষ্কাশন ব্যবস্থা বার বারই মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। ‘ধান-নদী-খাল এই তিনে বরিশাল’এ জলাবদ্ধতাকে নিত্যসঙ্গী করেই চলতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

বরিশাল নগরীতে এ দৃশ্য পুুরনো হলেও তা থেকে উত্তরনে জোরালো কোন পদক্ষেপ নেই। এমনকি নগরীর পাশের বহমান কীর্তনখোলা নদীর পাড়ের নৌ বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় প্রতিবছরই শুষ্ক মৌসুমে পলি অপসারন করে তা নদীতেই ফেলায় নগরীর অভ্যন্তরের খালগুলো মুখ ক্রমাগত ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে এ বরিশাল নগরীর পানি সুষ্ঠভাবে নদীতে পড়ছে না। বরিশাল নগরীর অনেক এলাকাতেই জলাবদ্ধতা এখন ১২ মাসের সঙ্গী। বিষয়টি নিয়ে আজ পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে কোন বৈঠক বা আলাপ আলোচনা পর্যন্ত করেনি।

তবে দেশের সব সিটি করপোরেশনের মত বরিশাল সিটি করপোরেশনেও প্রশাসক নিয়োগের পরে সোমবারই বিভাগীয় কমিশনার কাজে যোগদানের দিনই জলাবদ্ধতার বিপত্তি তার জন্যও ছিল বিব্রতকর। অতিরিক্ত এ দায়িত্ব গ্রহন করেই বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী নগর ভবনে বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছাড়াও সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের এক সভায় চলমান সব উন্নয়নমূলক কাজ ছাড়াও পয়.নিস্কাশন সহ সেবামূলক কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্বারোপের ঘোষনা দিয়েছেন।

১৮৬৯ সালে গঠিত বরিশাল টাউন কমিটি ১৮৭৬ সালে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার জনসংখ্যা সম্বলিত ৭ বর্গমাইল এলাকার দুটি ওয়ার্ড নিয়ে বৃটিশ-ইন্ডিয়ার ‘মিউনিসিপালিটি অ্যাক্ট’ অনুযায়ী ‘বরিশাল মিউনিসিপালিটি’ গঠন করা হয়েছিল। সে সময়ে এ শহরে সরকারী খাস খতিয়ানভুক্ত অর্ধ শতাধিক খালের অস্তিত্ব থাকলেও নানা মহলের দখল প্রক্রিয়ায় এখন তার অর্ধেকও খুজে পাওয়া যাচ্ছেনা।

২০০৩ সালে প্রায় ৬০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশন গঠিত হবার পরে বেশ কিছু খালে অরসিসি স্লাব সহ পাকা ড্রেনে রূপান্তর হলেও পয়.নিস্কাশন ব্যবস্থা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ১০ ফুট গভীর ও ১০ ফুট প্রশস্ত এসব খালের তীরের বাসিন্দাদের বিবেকহীন কর্মকান্ডের পাশাপাশি নগর ভবন থেকে নিয়মিত ও যথাযথ পরিস্কার না করায় পাকা ড্রেনগুলোর তলদেশ থেকে প্রায় উপরিস্তর পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ঘন্টায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই এ নগরী সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এমনকি গত প্রায় এক দশক পর্যন্ত মাঝারী বৃষ্টিতেও নগরীর নবগ্রাম রোডের বটতলা বাজারের পশ্চিম পাশ থেকে হাতেম আলী কলেজের পূর্ব পাশের ১ কিলোমিটার এলাকা বৃষ্টির পানিতে থৈ থৈ করছে। বছর জুড়েই এ অংশে ড্রেনের পানি রাস্তা ছুই ছুই করে। অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার এ অংশের ড্রেনের অভ্যন্তরে বিপুল পরিমান ইট-বালু ও খোয়া সহ মাটির আস্তরনে ড্রেনের কোন অস্তিত্বই নেই।

গত দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে এ নগরীর খালগুলো খননে কোন প্রকল্প অনুমোদন করেনি পরিকল্পনা কমিশন। ২০১৪-১৫ সালে তৎকালীন নগর পরিষদ ২২টি খাল সংস্কার, উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে প্রায় সোয়া ২শ’ কোটি টাকার একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তবনা-ডিপিপি’ দাখিল করলেও তা অনুমোদন লাভ করেনি। এরইমধ্যে ২০১৮ সালের শেষভাগে বিগত নগর পরিষদ পূর্বের প্রকল্প বাদ দিয়ে প্রায় সাড়ে ১১শ কোটি টাকার একটি ভিন্ন ডিপিপি দাখিল করে। কিন্তু মন্ত্রণালয় থেকে ‘পরমার্শক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা রিপোর্ট সহ প্রকল্প ব্যয় কমিয়ে ডিপিপি’টি পুনর্গঠন’র দিক নির্দেশনা দিয়ে তা ফেরত দেয়া হয় । কিন্তু নগর ভবন থেকে পরামর্শকের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকার একটি সংশোধিত ডিপিপি দাখিল করলেও মন্ত্রণালয় তা অনুমোদন না করে ছোট আকারের প্রকল্প-প্রস্তাবনা পেশ করার নির্দেশনা দেয়। ফলে সে প্রকল্প আর অনুমোদিত হয়নি। তবে বর্তমান নগর পরিষদের সদ্য বিদায়ী মেয়রের সময়ে নগরীর একাধিক খাল খনন ও সংস্কারে প্রায় সাড়ে ৯শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প-প্রস্তাবনা প্রী-একনেক-এর অনুমোদনের পরে একনেক’এর চুড়ান্ত অনুমোদন পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল বাশার জানিয়েছেন, নগরীর সবগুলো খাল সংস্কার ও উন্নয়ন সহ দৃষ্টিনন্দন করার লক্ষ্যে আমরা প্রায় সাড়ে ৯শ’ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ একটি প্রস্তাবনা পেশ করেছি।
অপরদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সরকারী তহবিলে প্রায় সোয়া ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর ৭টি খাল সংস্কার করা হলেও দুইপাশের জমি দখলের কারণে সে কাজও নির্বিঘ্ন সম্পন্ন করা যয়নি বলে জানা গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৪ বছর আগে ১০.৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মহানগরীর পলাশপুর খাল, আমানতগঞ্জ খাল, জেল খাল, ভাটার খাল, চাঁদমারী খাল, সাগরদী খাল ও রূপাতলী খালগুলোর প্রায় ১৮ কিলোমিটার অংশ সংস্কার সহ এর দু পাশে ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্য বর্ধনের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিলেও বিগত নগর পরিষদের বাঁধার মুখে তা আটকে ছিল। তবে বর্তমান নগর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহনের পরে এ বছরের শুরুতে কাজ শুরু হলেও ৩০ জুনের মধ্যে তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করতে গিয়ে মাত্র সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটোর খাল সংস্কার সম্ভব হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ সহ খালগুলোর পাশের জমি বেদখল হয়ে যাওয়ায় দু পাশের ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা যায়নি বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। এমনকি কয়েকটি খালের পাশের জমি বেদখর থাকায় তা সুষ্ঠুভাবে খননও সম্ভব হয়নি।

বরিশাল নগর পরিকল্পনাবীদগন লাগাতর জলাবদ্ধতার দূর্ভোগ থেকে রক্ষায় বরিশাল মহানগরীর জন্য স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিটি করপেরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, জনস্বার্থে সব কিছুই করা হবে। নতুন প্রশাসক জনস্বার্থে কাজ করতে নগর ভবনের সবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় নিয়েই সম্ভব সবকিছু করছি।

বৃষ্টিপাতের প্রবনতা হ্রাসের সাথে ফুসে ওঠা সাগর অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করায় বরিশাল অঞ্চলের নদ-নদীগুলোর পানি বিপতসীমার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বরিশাল সহ সন্নিহিত উপকূলীয় এলাকায় প্লাবন পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হলেও দৌলতখান সহ কয়েকটি এলাকায় মেঘনা, সুরমা ও তেতুলিয়ায় এখনো পানি বিপদ সীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

উজান থেকে সাগরমুখি প্রবাহের প্রায় ৭০ ভাগ পানিই মেঘনা নদী বহন করে সাগরে নিয়ে যাচ্ছে। ভাদ্রের পূর্ণিমার ভরা কাটাল কেটে যাওয়ায় ফুসে ওঠা সাগর প্রায় স্বাভাবিকের কাছে নেমে আসায় উজানের পানি গ্রহন করতে শুরু করেছে। ফলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই উজানের বণ্যা পরিস্থিতিরও উন্নতি আশা করছেন পানি বিশেষজ্ঞগন।

শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। যা আগের ২৪ ঘন্টায় ছিল প্রায় ৭০ মিলিমিটার। বরিশাল কৃষি অঞ্চলে রোপা আমনের প্রায় আড়াই লাখ হেক্টর জমি ক্রমে প্লাবনমূক্ত হতে শুরু করেছে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকেও পানি নামতে শুরু করেছে। তবে ভঙ্গুর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার কারনে নগরীর বেশীরভাগ ড্রেন এখনো আটকে থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি বিলম্বিত হচ্ছে। বিশেষকরে নবগ্রাম রোডের একটি বড় এলাকার ড্রেনে ময়লা আবর্জনা আটকে থাকায় নগরীর পশ্চিম অংশের পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা চরম বিপর্যয়ের কবলে।

বরিশাল সহ উপকূলীয় এলাকার নদী বন্দরগুরোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। মৌসুমী বায়ু বরিশাল সহ সন্নিহিত এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। যা বরিশাল সন্নিহিত উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারী অবস্থায় রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

 




পটুয়াখালী, দুমকি উপজেলা উন্নয়নের একজন রুপকার শ্রদ্ধেয় এম কেরামত আলী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জনাব এম কেরামত আলী একজন কিংবদন্তি একজন মহানায়ক একজন আদর্শ ও সাদামনের মানুষ ছিলেন।

তার সম্পর্কে অজানা কিছু মূল্যবান তথ্য :

জনাব এম. কেরামত আলী পটুয়াখালী জেলাধীন দুমকি উপজেলার দুমকি গ্রামে ০১ জানুয়ারী ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম আইজ উদ্দিন মৃধা, মাতার নাম মরহুমা আপতুন নেছা খাতুন।

শিক্ষাজীবন :

অত্যন্ত মেধাবী ও সৃজনর্ধমী মননশীলতার অধিকারী মোহাম্মদ কেরামত আলী ছাত্রজীবনে ক্লাশে প্রথম স্থান লাভ করতেন। বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যায়নকালে তিনি শিষ্টাচারের জন্য “রানীগুপ্ত র্স্বনপদক” এবং ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় বাংলায় পথম স্থান অধিকারের জন্য “যোগেশচন্দ্র” পদক লাভ করেন। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমগ্র বাংলা ও আসামের মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ৫টি লেটারসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। চাকুরী জীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও লাহরে উচ্চতর প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি ওয়াশিংটন, মস্কো, টোকিও ও টগোতে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ আয়োজিত সেমিনার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোর্সে অংশ গ্রহন করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে ফেলোশীপ লাভ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষন কোর্সে তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।

চাকুরী জীবন :

১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্থানের প্রথম ব্যাচের সি এস পি অফিসার হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন।
চাকুরী জীবনে তিনি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রনালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির মূখ্য সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ
প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সিভিল সার্ভিসের সবোর্চ্চপদ মন্ত্রীপরিষদ সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন। চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর তিনি বার্মা ও
ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্টদূত হিসাবে
দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন :

ছাত্র জীবনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। কলকাতায় অধ্যায়নকালে
তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাস “জিন্নাহ হল” এর নির্বাচিত জি এস ছিলেন।
১৯৯১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি যথাক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড:

তিনি ১৯৬৯ সালে ১ জানুয়ারী পটুয়াখালী মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করেন, বরিশাল শের- ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, বরিশাল বিমান বন্দর, ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক, খেপুপাড়া রাডার স্টেশন, পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ টেলিভিশন রিলে স্টেশন, পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল, লঞ্চঘাট, পুলিশ লাইন ,পটুয়াখালী সার্কিট হাউজ,সোনালী ব্যাংক ভবন ও পটুয়াখালী কালেক্টরেট ভবন স্থাপন করেন। দুমকীতে কৃষি কলেজ (বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) , জনতা কলেজ, দুমকি নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুমকী আপতুননেছা খাতুন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,দুমকী আপতুননেছা খাতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, টি এন্ড টি, সাব-পোস্ট অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, মডেল পাঠাগার এবং দুমকি থানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় তার অবদান রয়েছে । তিনি শিক্ষানূরাগী, প্রশাসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে সকলের প্রিয়পাত্র ছিলেন।

মোহাম্মদ কেরামত আলী স্যার ৪ জুন ২০০৪ খ্রীস্টাব্দে পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেনি কেউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাকে করে নৌকা-স্পিডবোট নিয়ে বন্যায় প্লাবিত এলাকার মানুষজনকে উদ্ধারে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী মানুষজন। অনেকে কভার্ড ভ্যান, ট্রাক, পিক-আপ ভরে নিয়ে যাচ্ছেন শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ, নিরাপদ পানি, চাল-ডাল। কিছু জায়গায় বানভাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। আবার বন্যার্তদের সহযোগিতায় অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মীরা একদিনের বেতন দান করেছেন। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে দাতা প্রতিষ্ঠানে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পৌঁছে দিতেও দেখা গেছে। অর্থাৎ যে যার জায়গা থেকে যেভাবে পারছেন সেভাবেই দাঁড়াচ্ছেন বানভাসি মানুষদের পাশে। অনেকেই বলছেন, দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেননি তারা।

মূলত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে ফেনীতে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার জেলাও বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ মারা যাওয়ার পর কবর দেওয়ার জায়গাও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে  সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষজনও। এর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দল, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফান্ড সংগ্রহ করছেন।

অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা ৫০০ টন ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তাৎক্ষণিক ১০ টন খেজুর, ১০ টন চিড়া, ৫ টন চিনি, ৫ টন লবণ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আমাদের তিনটি ট্র্যাক ফেনী পৌঁছেছে। সেসব মালামাল পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করার কার্যক্রম চলছে। ত্রাণের ব্যাগে প্রতিটি পরিবারকে এজন্য প্রথম ধাপে ২ কেজি খেজুর, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবণ ও ১ কেজি চিনি দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে আবারও আরও ৩৫ হাজার পরিবারের জন্য শুকনো ও ভারী ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। যার জন্যে ৫০০ টন মালামাল কেনা হয়েছে।

টিএসসিতে ‘গণত্রাণ সংগ্রহ’ কার্যক্রম

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে  চলছে গণমানুষের গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে প্রথমদিনেই অসংখ্য মানুষ সাড়া দিয়েছেন।

এখানেও অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে নজির স্থাপন করছেন। গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ৬ বছর ছোট্ট ইহান নিয়ে এসেছেন ৩ বছর ধরে জমানো সব টাকা। পুরো প্লাস্টিকের ব্যাংকই তুলে দিয়েছেন বানভাসি মানুষের সহযোগিতার জন্য। এমন অনেকেই যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়িয়েছেন।

দুর্গোৎসবের বাজেট থেকে বন্যার্তদের জন্য অর্থ সহায়তা

এবার বন্যা ঘিরে সম্প্রীতির এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও। তাদের দুর্গোৎসব আয়োজনের বাজেট থেকে বন্যাদুর্গতদের অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে বরিশালের বেশ কয়েকটি মন্দির কমিটি। আরো কয়েকটি কমিটি সহায়তা পাঠাতে তহবিল প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে।

বরিশালের সবচেয়ে বড় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দাস বলেছেন, ফেনী-কুমিল্লাসহ ১০টি জেলায় বন্যায় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের শংকর মঠের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবের জন্য যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বড় একটি অংশ বন্যাদুর্গতদের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমাদের মন্দিরের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলও পাঠানো হয়েছে। আরো কয়েকটি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি পাঠানো হয়েছে। আমরা আরও কিছু কমিটির সাথে যোগাযোগ করেছি এবং সকলের প্রতি আহ্বান রেখেছি দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য।

সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ, সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী

বন্যা দুর্গত সাধারণ মানুষজনের সহযোগিতায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা। উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি রান্না করা খাবারও বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া এরকম এলাকাগুলোতেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ১ দিনের বেতন দিচ্ছেন অনেকেই

আকস্মিক বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষজন।

বন্যার্তদের জন্য ফ্রি মিনিট ও ইন্টারনেট দিয়েছে অপারেটররা

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ফ্রি টকটাইম এবং ইন্টারনেট সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অপারেটররা। সবার আগে তারাই বন্যার্তদের জন্য সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৪টি বেসরকারি অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেল এবং সরকারি অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের পক্ষ থেকে এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে জুমার নামাজে বয়ানে ইমামদের আহ্বান

ভয়াবহ ও আকস্মিক এই বন্যায় ১৫টিরও বেশি জেলায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এমন অবস্থায় বানভাসি ও বন্যাকবলিত মানুষদের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিবরা। এক্ষেত্রে অনেক মসজিদে কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করার উদ্যোগ।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী অনেক মানুষ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহায়তা করার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আর বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহতী আগ্রহকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারবেন।

dhakapost

◑ হিসাবের নাম : ‘প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’

◑ ব্যাংক : সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

◑ হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩

এ তহবিলের অর্থ ত্রাণ ও কল্যাণ কাজে ব্যয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।




অবশেষে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেলেন লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের জার্সিতে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির ফুটবলার হামজা চৌধুরী। বাংলাদেশও তাকে খেলানোর ব্যাপারে সদিচ্ছা জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হামজা চৌধুরী পাসপোর্টের আবেদন করে বিড়ম্বনায় পড়েছেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছিলো।

অবশেষ বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আর বাধা থাকছে না হামজা চৌধুরীর। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ ফুটবলারের বাংলাদেশের পাসপোর্ট পেয়েছেন। শুক্রবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হামজা চৌধুরীর বাবা মোরশেদ দেওয়ান।

এর আগে হামজা বাংলাদেশি পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন গত জুন মাসে। লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনে তাঁর পাসপোর্ট এসে গিয়েছিল মাসখানেক আগেই। কিন্তু লেস্টার সিটির হয়ে প্রাক্‌–মৌসুম প্রস্তুতিতে ব্যস্ত থাকার কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্টটা গ্রহণ করতে পারছিলেন না হামজা। অবশেষে শুক্রবার হামজার পক্ষে পাসপোর্টটি গ্রহণ করেছেন তাঁর মা রাফিয়া চৌধুরী।

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশের হয়ে খেলবেন—এ কথা আগেই জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও (বাফুফে) হামজাকে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলে খেলানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এ প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হামজার বাংলাদেশি পাসপোর্ট করানো। এখন ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এফএ) অনুমতির প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরপর লাগবে তাঁর ক্লাব লেস্টার সিটির অনুমতি।




বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : শেখ মুজিব ছাড়াও বিশ্বে যে ক্ষমতাবানদের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার এবং জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বাংলাদেশে যে চিত্র দেখা গিয়েছে তা বিরল নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য বা মূর্তিকে এভাবে নিশানা করা হয়েছে যাদের কোনো এক যুগে সেখানকার মানুষ অত্যন্ত সম্মান করতেন বা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর মানুষজনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তাদের ভাস্কর্য বা মূর্তির ওপরে।

ইউক্রেনে ভূলুণ্ঠিত লেনিনের মূর্তি

২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের খারকিভে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী ভ্লাদিমির লেনিনের একটা মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পুরো কাজটা করতে তাদের সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি যার নকশা করেছিলেন আলেকজান্ডার সিডোরেঙ্কো।

লেনিনের মূর্তি ভেঙে ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়ার পর সেখানে জড়ো হওয়া জনতা মূর্তির টুকরোগুলো স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতে শুরু করে। সেখানে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরই শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া।

ইথিওপিয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

লেনিনের ভাস্কর্যের অনুরূপ পরিণতি দেখা গিয়েছে ইথিওপিয়ায়। সেখানকার রাজধানী আদিস আবাবার পৌরসভার একটা গ্যারেজে রুশ নেতা লেনিনের একটা মূর্তি রয়েছে। পিঠের ওপর ভর করে পড়ে আছে সেই মূর্তি। তার চারপাশে অসংখ্য মাকড়সার জাল আর পেট্রোলের খালি করা পিপে। খুব কম মানুষই সেই মূর্তি দেখতে আসেন। আর যারা আসেন তাদের সেখানে উপস্থিত কর্মীরা লেনিনকে ‘না জাগানোর’ জন্য সতর্ক করেন।

প্রসঙ্গত, লেনিনের এই মূর্তি শুধু বড়ই নয়, ভারীও। সেটা টেনে নামাতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। দড়ি বেঁধে এই মূর্তিকে সরানো সম্ভব হয়নি। এই মূর্তিকে তার জায়গা থেকে সরানোর জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বারেবারে ভেঙে ফেলা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছিল আলবেনিয়ায়। সেখানে ৪০ বছর ধরে ওই দেশ শাসন করা এনভার হোক্সার বেশ কয়েকটা মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়।

ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা

১৯৯১ সালে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মস্কোর লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘চেকা’র প্রতিষ্ঠাতা ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। কমিটি অফ স্টেট সিকিউরিটি যার রুশ ভাষায় সংক্ষিপ্তকরণ ‘কেজিবি’, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

১৯৯১ সালের ২২ আগস্টের সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে অবস্থিত কেজিবি ভবনের সামনে জড়ো হয়। তারা জেরনস্কির মূর্তির গায়ে লিখে দেন ‘খুনি’। সেখানে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা মূর্তির উপরে উঠে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূর্তিকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে টান দিয়ে উপড়ে ফেলা। কিন্তু পার্শ্ববর্তী লুবিয়ানকা মেট্রো স্টেশনের ইমারতের পক্ষে তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মস্কো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান সের্গেই স্টানকেভিচ উপস্থিত জনতাকে জানান তিনি নিজেই মূর্তিটি অপসারণে নেতৃত্ব দেবেন। এরপর ক্রেনের সাহায্যে সেখান থেকে ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। সেই মূর্তির স্থান হয় ‘ফলেন মনুমেন্ট পার্কে’।

তৃতীয় জর্জের লোহার মূর্তি ভেঙে বুলেট

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিউইয়র্কে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের একটা লোহার মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল আমেরিকানরা এই মূর্তিকে ব্রিটিশ অত্যাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করতেন। এই মূর্তি শুধুমাত্র ভেঙে ফেলাই হয়নি তারপর সেটা গলিয়ে ৪২০০০ বুলেটও বানানো হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বুলেটই ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে।

ব্রিটেনের অনুগত কিছু ব্যক্তি অবশ্য ভেঙে ফেলা সেই মূর্তির কিছু অংশ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। মূর্তির ভাঙা অংশ তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলেন। আজও খননকার্যের সময় সেই মূর্তির কিছু অংশ বেরিয়ে আসে।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি

১৯৪৫ সালে ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনির পতন হয়। সেই সময় তার মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা গিয়েছিল। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার কিছু সমর্থক এবং তার বান্ধবী ক্লারা পিটাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একটা ভ্যানে করে তাদের মৃতদেহ মিলানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটা খুঁটি থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের দেহগুলো। এরপর শুরু হয় মুসোলিনির মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া। স্বৈরাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হওয়া সমস্ত স্মারক, ভবন এবং মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক মাস ধরে চলেছিল এই একই প্রক্রিয়া।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা যায়।

সরানো হয় পঞ্চম জর্জের মূর্তি

১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন দিল্লির অনেক জায়গায় ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তা ব্যক্তিদের মূর্তি ছিল। এই মূর্তিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং কিছু স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লিতে। উত্তর দিল্লির করোনেশন পার্কে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল সেই মূর্তিগুলো। যে কয়টা মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে পঞ্চম জর্জের মূর্তি। ৭০ ফুট উঁচু ছিল এই মূর্তি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কিন্তু ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি তার পুরানো জায়গাতেই ছিল। কিন্তু পরে বিবেচনা করে স্থির করা হয়, দিল্লির এমন এক বিশিষ্ট স্থানে এই মূর্তি থাকার কোনও যুক্তি নেই। তাই তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চম জর্জের মূর্তি ধ্বংস করা হয়নি বরং রাখা হয়েছিল ঠিক সেই স্থানে যেখানে ১৯১১ সালে তিনি দিল্লি দরবারে গিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া গেটের কাছে যেখানে পঞ্চম জর্জের মূর্তি আগে রাখা ছিল, সেখানেই ২০২২ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসানো হয়।




বন্যার্তদের সহায়তায় রাজনৈতিক-ধর্মীয় পরিচয় না দেখার আহ্বান তারেক রহমানের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার দেশে মানুষে মানুষে হিংসা-বিভেদ তৈরি করেছিল উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেছেন, এক ভিডিও বার্তায় ‘আপনাদের প্রতি একান্ত অনুরোধ, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবেন না। ব্যক্তিগত ও দলীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বন্যার্তদের সহায়তার জন্য সরকার ও প্রশাসন আপনাদের সহযোগিতা চাইলে সাধ্যমতো সহায়তা করবেন।’

দেশবাসীর উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই তাহলে আল্লাহর রহমতে অবশ্যই এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যাবে।’

বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যার জন্য ভারতকে দায়ী করে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের এই বন্যা দেশের অভ্যন্তরে উদ্ভূত কোনো কারণে নয়। বন্যাকবলিত অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হলেও তা দেশের পূর্বাঞ্চলের বন্যার মূল কারণ নয়। বরং এবারের বন্যার মূল কারণ উজানের দেশ প্রতিবেশী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও খামখেয়ালিপনা।




বন্যাদুর্গত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিয়েছেন মসজিদে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত একটি গ্রাম চান্দেরবাগ। এটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী একটি গ্রাম। ওই গ্রামে ২৩০-২৫০ লোকের বসবাস, যার মধ্যে শুধু দু’টি পরিবার মুসলিম। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামটি ডুবে যায়। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এখানকার হিন্দুরা পার্শ্ববর্তী পিপড্ডা গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা থেকে আলাদা হওয়ায় গ্রামের লোকজন একটু অবহেলিত। তাদের পেশা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। টানা বৃষ্টি ও ডাকাতিয়া নদীর  পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামটি ডুবে যায়। গ্রামের লোকজন আশেপাশে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র না পেয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসজিদে অবস্থান করছে। আর কিছু লোক বিভিন্ন বাড়ির ছাদে রয়েছেন। সরকারি কোনো সহায়তা এখনো পাননি তারা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা গিতা রানী বলেন, সংসার জীবনে ডাকাতিয়া নদীতে পানি বাড়ে আবার চলে যায়। ওই গ্রামে রাস্তা সমান পানি হয়। কিন্তু কখনো ঘরে পানি ঢুকেনি। এবার পুরো গ্রাম ডুবে গেছে। কোনোরকম জীবন নিয়ে এই মসজিদে অবস্থান করছি। আশেপাশের কয়েকজন মানুষ শুকনো কিছু খাবার দিয়েছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি।

তিনি বলেন, আগ থেকে আমাদের গ্রামটি অবহেলিত। কিছুই বের করতে পারিনি। সব  পানিতে ডুবে গেছে। বাকিরা অন্যান্য স্থানে ছাদে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক পিপড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মজুমদার বলেন, বন্যা হলেই সবার আগে আমাদের এই গ্রাম ও চান্দেরবাগ পানিতে ডুবে যায়। এবারের বন্যা আমার বয়সে দেখিনি। পুরো তালাঘর সমান সমান পানি হয়ে গেছে। আমি ঘর নির্মাণ করার জন্য ইট, সিমেন্ট, বালু এনে রেখেছি। সব তলিয়ে গেছে। কিছুই রইল না। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে চান্দেরবাগ গ্রামের কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে মসজিদে থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি।