গলাচিপায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন ও চেক বিতরণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঘূর্ণিঝড় রিমেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ ও নগদ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ৩৭৯ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে এক বান করে ডেউটিন বিতরণ এবং প্রতি পরিবারকে নগদ ৫ হাজার টাকার চেক ও যাতায়াত খরচ বাবদ ২৫০ টাকা প্রদান করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজু আক্তার, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খোকন চন্দ্র দাস প্রমুখ।

এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও উপকারভোগীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।




হাসপাতালে নিতে রিকশায় তুলতেই দেখেন সন্তানের লাশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ২১ জুলাই বিকেল ৫টা। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন ওবায়দুল। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি এসে আহত দুজনকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যাওয়ার জন্য ওবায়দুলের গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়িতে আহতদের উঠাতেই হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন তিনি। কারণ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য যে দুজনকে তার গাড়িতে তোলা হয়েছে এর একজন তার একমাত্র সন্তান আমিনুল (১৬)।

ঘটনাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীর দনিয়া এলাকার। নিহত আমিনুল পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের অটোরিকশাচালক ওবায়দুল খানের ছেলে।

অভাবের সংসারে পরিবারের বাড়তি আয়ের জোগানদাতা আমিনুল মা-বাবার সঙ্গে ঢাকায় পাড়ি জমায় ২০২২ সালে। বসবাস করত দনিয়া এলাকায়। কাজ নেয় একটি বৈদ্যুতিক সুইচ নির্মাণ কারখানায়। পরিবারের হাল ধরতে কাজে যোগ দেওয়া এই শিশুশ্রমিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে পুলিশের গুলি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা ওবায়দুল খান।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই আমিনুল সারাদিন বাসায় ছিল। বিকেল ৫টার দিকে বাসার সামনে রাস্তায় গেলে মানুষের দৌড়াদৌড়ি দেখে ভয়ে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকে। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি হঠাৎ এসে তার বুকের বাম পাশে ঢুকে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আমিন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয় দুজন তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেই হাসপাতালের সামনে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিলেন ওবায়দুল খান। হঠাৎ দুই ব্যক্তি তাকে ডেকে আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেলে যাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি রাজি হন। আহতদের নিয়ে ওই দুজন রিকশায় ওঠার সময় ওবায়দুল দেখতে পান আহতদের একজন তারই একমাত্র ছেলে আমিনুল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সংজ্ঞা হারান। অচেতন অবস্থায় তাকেসহ তার সন্তান গুলিবিদ্ধ আমিনুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক আমিনুলকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার।

সম্প্রতি ভরিপাশা গ্রামে আমিনুলদের বাড়িতে গেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার বাবা বলেন, ‘সন্তানের লাশের বোঝা যে বাবা কাঁধে নেন তিনিই বোঝেন সন্তান হারানোর বেদনা। সন্তান হারানো এতটা কষ্টের, যা কাউকে বলে বোঝানো যায় না। যতদিন বাঁচি, এই বেদনা বয়ে যেতে হবে।’ ছেলেকে যারা হত্যা করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবিও করেন তিনি।

একমাত্র নাতির মৃত্যুতে পাগলপ্রায় আমিনুলের দাদি লাভলী বেগম। নাতির স্মৃতি মনে হলে এখনো কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

ভরিপাশা গ্রামে আমিনুলের কয়েক বন্ধুর (মনিরসহ) সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, আমিনুল ভালো ছাত্র ছিল। অভাবের কারণে লেখাপড়া করতে না পারলেও সে খুব শান্ত ও নম্র প্রকৃতির ছিল। আমিনুল হত্যার বিচার দাবি করেন তারা।




বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ধুঁকছে কলকাতা, বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ : বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

বাংলাদেশি পর্যটক না থাকায় ধুঁকছে কলকাতা, বিক্রি কমেছে ৬০ শতাংশ

  • বাংলাদেশি পর্যটক কমায় কলকাতার নিউ মার্কেটে বিক্রি কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ
  • গত এক মাসে আগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে রোগির সংখ্যাও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই মাসের আগেও বাংলাদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখর ছিলো পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিটসহ বিভিন্ন স্থানগুলো। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই ভাটা পড়েছে কলকাতার পর্যটনে। খবর বিবিসি বাংলা।

বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন পর থেকে ভারতে কমে গেছে বাংলাদেশি পর্যটক। জুলাই মাস থেকে ভারতে বাংলাদেশিদের যাওয়া কমে গেলেও আগস্ট থেকে তা একরকম বন্ধই হয়ে গেছে।

আগস্ট জুড়ে যারা কলকাতায় গেছেন তার অধিকাংশই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। শেখ হাসিনার মতো তারাও নিজেদের রক্ষা করতে দেশটিতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে ৫ আগস্টের পর থেকে কলকাতা একরকম বাংলাদেশি পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে শুধু মাত্র মেডিক্যাল ভিসা নিয়ে অথবা আগে থেকে যাদের ভিসা নেওয়া ছিল সেসব বাংলাদেশি কলকাতা যেতে পারছেন। বাংলাদেশি পর্যটক একেবারে কমে যাওয়ায় বিশাল ধাক্কা খেয়েছে কলকাতার কিছু এলাকার ব্যবসা। এসব এলাকায় হোটেল রুম প্রায় ফাঁকা থাকছে, ব্যবসায় ভাটা পড়েছে, কমেছে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যাও। এতে হুমকির মুখে পড়েছে এসব খাতের সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবিকা। নিউ মার্কেট এলাকায় বিক্রি কমে গেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

ভারতে বাংলাদেশিদের যাওয়া কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় ভিসা সেন্টার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর এখনও বাংলাদেশে ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ চালু করেনি। সে কারণে যারা আগে থেকে ভিসা নিয়ে রেখেছেন এবং জরুরি চিকিৎসা করাতে যাচ্ছেন, তারাই ভারতে যাওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন।

হোটেলের ঘর প্রায় ফাঁকা

মার্কুইস স্ট্রিট এলাকাটি বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে অতি পরিচিত এলাকা। এই এলাকার বহু হোটেল রেস্তোরাঁ মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপরে নির্ভর করেই ব্যবসা করে থাকে। তবে জুলাই মাস থেকে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতে বাংলাদেশিদের আসা কমে গিয়েছিল। আর অগাস্ট থেকে তা একরকম বন্ধই হয়ে গেছে।

মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেল মালিকদের সংগঠনের নেতা মনোতোষ সরকার বলেন, “কয়েক মাস আগেও কলকাতার হোটেলগুলির ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ অকুপেন্সি রেট ছিল। এখন সেটা নেমে এসেছে মাত্র ৩০ শতাংশে। অর্থাৎ হোটেলগুলিতে ১০০টি ঘর থাকলে এখন মাত্র ৩০টি ঘরে পর্যটক থাকছেন।

কতদিন এই অবস্থা চলবে, তা অনিশ্চিত। তাই অন্য কোনও অঞ্চলের ক্রেতাদের আকৃষ্ট করা যায় কী না, সে ব্যাপারে ভাবনা চিন্তা শুরু করছেন মার্কুইস স্ট্রিটের হোটেল ব্যবসায়ীরা।

ফাঁকা নিউ মার্কেট, বিক্রিতে মন্দা

কলকাতার এসএস হগ মার্কেট, যা মূলত নিউ মার্কেট বলে পরিচিত। এই মার্কেটের এবং আশপাশের দোকানগুলোতে সারা বছরই বাংলাদেশি পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। বেড়াতে গেলে বা চিকিৎসার জন্য গেলে, যে কারণেই হক বেশিরভাগ বাংলাদেশি পর্যটকই কলকাতায় গেলে নিউ মার্কেটে কেনা কাটা করতে যান

কিন্তু এক মাস ধরে বাংলাদেশি পর্যন্ত প্রায় না আসায় এসব দোকানগুলোর ৬০ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে বলে জানিয়েছেন নিউ মার্কেটের দোকান মালিকদের সংগঠনের প্রধান অশোক গুপ্তা।

নিউ মার্কেটের কাছাকাছি আরও যে কয়টি বড় শপিং মল বা বড় বড় দোকান আছে, সেখানেও একই পরিস্থিতি বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কমেছে পর্যটক। আবার কলকাতায় আরজি করের ঘটনার পর থেকে সেখানেও চলছে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ। যার ফলে স্থানীয় ক্রেতার সংখ্যাও কম। যার কারণে এবারের কেনাকাটার মৌসুম পুরোই লস বলে জানান তিনি।

রোগী কমেছে হাসপাতালেও

বাংলাদেশ থেকে একটা বড় অংশই ভারতে যান চিকিৎসার কারণে। কলকাতা, ভেলোর, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, দিল্লি, মুম্বাইয়ের অনেক বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের বহু মানুষ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যান। এমনকি এসব হাসপাতালে বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা সার্ভিস-ডেস্কও থাকে।

তবে কলকাতার যেসব বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীরা বেশী সংখ্যায় আসেন, সেই হাসপাতালগুলো বলছে গত একমাসে খুব কম রোগী সেদেশ থেকে এসেছেন। যদিও ভারতের হাইকমিশনগুলোতে মেডিক্যাল ভিসা দেওয়া হচ্ছে, তা সত্ত্বেও আগের তুলনায় অনেক কম সংখ্যক রোগী যাচ্ছেন কলকাতার হাসপাতালগুলিতে।

মনিপাল হসপিটালসের অধীনস্থ হাসপাতালগুলোতে প্রতি মাসের গড়ে ২১০০ জন বাংলাদেশি রোগী আসেন। কিন্তু গত এক মাসে সেই সংখ্যা প্রায় এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। গত দু মাস আগে যত রোগী আসতেন এই সংখ্যাটা তার থেকে অনেক কম বলে জানিয়েছে হাসপাতালটির কর্মকর্তারা।

কলকাতার ইস্টার্ন বাইপাস সংলগ্ন এলাকার হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশি রোগীদের ভিড় সবথেকে বেশি দেখা যায়। সেখানে বাংলাদেশীদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে থাকা-খাওয়ার হোটেল, ওষুধের দোকান– সব মিলিয়ে প্রায় লাখ খানেক মানুষের রোজগার চলে ওই হাসপাতালগুলিকে কেন্দ্র করে।

কলকাতার রোগীদের ভিড় সেখানে স্বাভাবিক থাকলেও এদের একটা বড় অংশ নির্ভর করে বাংলাদেশি রোগীদের ওপরে। তাই বাংলাদেশ থেকে পর্যটক বা রোগী আসা যতক্ষণ না স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন এই বিরাট সংখ্যক মানুষের অনিশ্চয়তা কাটছে না।




অসন্তোষের মধ্যেই খুলছে ৯৮ শতাংশ গার্মেন্টস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সপ্তাহব্যাপী শ্রমিক অসন্তোষের মধ্যেই গতকাল শনিবার খুলেছে দেশের ৯৮ শতাংশ পোশাক কারখানা। পাশাপাশি জুলাই মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯.৩২ শতাংশ কারখানায়। গতকাল ২ হাজার ১০৮টি পোশাক কারখানা খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭টি কারখানা থেকে শ্রমিক বের হয়ে গেছে। প্রায় শতভাগ কারখানায় বেতন পরিশোধের পরও কিছু প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, আজ রবিবার থেকে আশুলিয়া অঞ্চলের সব পোশাক কারখানা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। গতকাল আশুলিয়ার হা-মীম গ্রুপের ‘দ্যাটস ইট ফ্যাক্টরি’ অফিসে সেনাবাহিনী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, কারখানার মালিকদের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

অন্যদিকে, পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিক নেতারা দাবি করছেন, যেসব এলাকায় এখনো আন্দোলন হচ্ছে তাতে শ্রমিকরা নেতৃত্ব দিচ্ছে না। অন্য একটি পক্ষ শ্রমিকদের উসকে দিচ্ছে। পরাজিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে চায় বলে অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের।

জানা গেছে, দেশে বিজিএমইএর সক্রিয় সদস্য পোশাক কারখানা রয়েছে ২ হাজার ১৫২টি। এর মধ্যে গতকাল খোলা ছিল ২ হাজার ১০৮টি। অর্থাৎ ৯৮ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। এদিন কারখানা বন্ধ ছিল ৪৪টি অর্থাৎ ২ শতাংশ।

জানা গেছে, গতকাল গাজীপুর এলাকায় কারখানা খোলা ছিল ৮৮২টি। বন্ধ ছিল ১টি। অর্থাৎ ৯৯.৮৯ শতাংশ কারখানা খোলা ছিল। সাভার-আশুলিয়া এবং ধামরাই এলাকায় খোলা ছিল ৪০৮টি। বন্ধ ছিল ৪৩টি। সে হিসাবে খোলা ছিল ৮৯.৪৬ শতাংশ। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় শতভাগ কারখানা (২০৯টি) কারখানা খোলা ছিল। ঢাকা মেট্্েরাপলিটন (ডিএমপি) এলাকায়ও সব কারখানা (৩০২টি) খোলা ছিল। এ ছাড়া চট্টগ্রাম এলাকায়ও (৩৫০টি) শতভাগ কারখানা খোলা ছিল।

গতকাল নাসা গ্রুপের ৫টি এবং নিট এশিয়া লিমিটেড, ইয়াগি বাংলাদেশ লিমিটেডে, পার্ল গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেড, ইউফোরিয়া, জন রোন সোয়েটার ও নিওএজ গ্রুপের ৪টি কারখানা বন্ধ ছিল।

জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল আমাদের সময়কে বলেন, পোশাক কারখানা মালিকরা সব কারখানাই চালু রাখতে চান। কারণ কাজ বন্ধ থাকলে ক্রেতাদের অর্ডার অনুযায়ী পণ্য পাঠানো যাবে না। এতে ক্রেতা হারানোর শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের প্রায় শতভাগ বেতন (জুলাই মাস) দেওয়ার পরও কারা এই অসন্তোষ সৃষ্টি করছে তা সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে শ্রমিকরা জড়িত নয়। বহিরাগতরা এই অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করছে।

শ্রমিক দলের সমম্বয়ক ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেয সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস গতকাল বলেছেন, অনেক চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসী আবার সক্রিয় হয়েছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। পরে দেখা যায় এরা বিএনপির কেউ নয়। ধরা পড়ার পর তদন্তে দেখা যায় যুবলীগ অথবা ছাত্রলীগ। বিএনপিতে কোনো চাঁদাবাজ এবং দখলবাজের স্থান নেই। গতকাল বিকালে দখল-চাঁদাবাজ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিল্পকারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে ঢাকা জেলা শ্রমিক দল আয়োজিত আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে শ্রমিক-কর্মচারী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শিমুল বিশ্বাস বলেন, পরাজিত শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা-নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবিপ্লব ঘটাতে চায়। ওই মহল বিএনপির সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, কেউ যদি অপকর্ম করেন, জানমালের জন্য হুমকি হন, তা হলে যত বড় নেতাই হোক; ছাড় পাবেন না।




বানবাসী মানুষদের পূনর্বাসন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে কনসার্ট

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বানবাসী মানুষদের পূনর্বাসন সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পটুয়াখালীতে শেকল ভাঙ্গার শব্দ শিরোনামে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের শেখ রাসেল শিশুপার্কের অ্যাম্ফ থিয়েটারে অনুষ্ঠিত কনসার্টের আয়োজন করে সাধারন শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন- পটুয়াখালীর স্থানীয় ব্যান্ডদল রেনিগেট, শব্দ মিউজিক্যাল, দ্য রেভেন, আশ্চর্য, রেইনস্পার্ক, প্রমটার, রাফি এ্যান্ড ফ্রেন্ডস, ম্যানিকুইন সহ দেশের বিভিন্ন ব্যান্ড দলে কর্মরত পটুয়াখালীর শিল্পীবৃন্দ।

কনসার্ট উপলক্ষ্যে বিক্রিত টিকিটের অর্থ বানভাসী মানুষদের পূণর্বাসনে ব্যায় করবেন আয়োজকরা।




বরগুনায় ঝুঁকিপূর্ণ ২৫৪ সেতু ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

বরিশাল অফিস :: দীর্ঘদিন ধরে মেরামত ও সংস্কারের অভাবে বরগুনা জেলায় ২৫৪টি সেতু চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে ১৮টি সেতু। ভাঙা ও ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে প্রতিদিন পার হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ ও যানবাহন।

চলতি বছরের জুন মাসে বরগুনার আমতলী উপজেলায় পার হওয়ার সময় সেতু ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে নিহত হন ৯ জন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বরগুনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে এলজিইডির আওতায় হালকা যান চলাচল (কম খরচে) প্রকল্পের অধীনে এসব সেতু নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৭০, বেতাগীতে ১৬, বামনায় ২৫, তালতলীতে ২৯, আমতলীতে ৯৮ ও পাথরঘাটায় ১৬টি সেতু পারাপারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বরিশাল জেলার ছয়টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোহার কাঠামোর এই সেতুগুলো নির্মাণের পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় বন্যায় অধিকাংশ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোনো কোনো সেতুর সিমেন্টের স্লিপার, হাতল ও অবকাঠামো ভেঙে পড়ে আছে। কোনো কোনো স্থানে সেতুর বিভিন্ন লোহার অংশ চুরি হয়ে গেছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, আমতলী উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামে ২০০৬ সালে এলজিইডি ১ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করে। নির্মাণের তিন বছরের মাথায় ২০০৯ সালে এটি মাঝখানে দেবে যায়। ২০২১ সালের জুন মাসে সেতুটির ভেঙে পড়ে। ওই ভাঙা সেতু নিজেদের উদ্যোগে কোনোরকম মেরামত করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা।

একই অবস্থা চাওড়া ইউনিয়নের উত্তর টেপুরা সেতুর। সেতুটির লোহার বিম ভেঙে গেছে সাত বছর আগে। স্থানীয়রা সেতুর পাশে কাঠের সেতু নির্মাণ করে চলাচল করছেন। ইউনিয়নের তক্তাবুনিয়া সেতু তিন বছর আগে মাঝখানে ভেঙে যাওয়ায় আমতলী পৌর শহর ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের সঙ্গে এলাকাবাসীর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জয়নাল, সজীব, সাগর, আফজালসহ কয়েকজন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় যেমন যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে, তেমনি কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরগাছা গ্রামে বাদুরগাছা খালের ওপর নির্মিত একটি সেতু প্রায় ১০ বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। পারাপারের জন্য সেতুর পাশেই খালে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ব্যাহত হচ্ছে সেচব্যবস্থা।

শারিকখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ১১টি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বারবার মেরামত ও সংস্কারের জন্য এলজিইডি অফিসে গিয়েছি। কিন্তু তারা কিছুই করেনি।

বরগুনা সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের পাজরাভাঙ্গা এলাকার সেতুটির দুই পাশের হাতল ভেঙে গেছে। গৌরিচন্না ইউনিয়নরে বিবেক চত্বর ও খাজুর তলা এলাকার লোহার দুটি সেতু দেবে ও হাতল ভেঙে গিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বরগুনার ছয়টি উপজেলার ২৫৪টি লোহার সেতু এখন গলার কাঁটা হয়ে রয়েছে। এসব সেতু পারাপারের সময় যেকোনো দিন ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা।

এলজিইডির আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমতলীতে ৯৮টি লোহার সেতু চলাচলের অনুপযোগী। এগুলোর একটি তালিকা করে আমরা জেলা অফিসে পাঠিয়েছি। এসব ব্রিজ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

এলজিইডি বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান খান বলেন, বরাদ্দ না থাকায় আমরা মেরামত অথবা সংস্কার করতে পারিনি। তবে, ব্যবহারের অনুপযোগী ও ধসে পড়া সেতুর তালিকা তৈরি করে প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধান কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলেই আমরা এ বিষয়ে কাজ শুরু করব।’




বাবা দিনমজুরি করে নিহত রাসেলকে পড়াশুনার খরচ দিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘জন্ম নেয়া ভাগ্যের ব্যাপার মৃত্যু হওয়া সময়ের ব্যাপার কিন্তু মৃত্যুর পরে মানুষের মনে বেঁচে থাকা কর্মের ব্যাপার’ এমন কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেইজবুকে লিখে গেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) অনার্সের ছাত্র রাসেল মাহমুদের (২১) মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হলো।

তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চরশিবা গ্রামে।

‘মরলে শহিদ বাঁচলে গাজি, মা তোমার তিন ছেলের মধ্যে আমি যদি দেশের জন্য চলে যাই তুমি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকবা, অনুমতি দাও মা। দাবি রাখবা না কথাগুলো বলল ৪ আগস্ট রাতে।’ এটাই তার শেষ কথা বলে জানান তার মা রাশেদা বেগম।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন রাসেল মাহমুদ আন্দোলনে নামলে পুলিশের এলোপাথারি গুলি তার মাথায় লাগে। যাত্রাবাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে। বিকেলের কোনো এক সময় মায়ের কাছে ফোন আসছে, রাসেল আপনার কি হয়? সাথে সাথে ফোনটি মা রাসেলের বড় ভাইর কাছে দেয়, মা বলে রাসেলের কোনো এক বন্ধু ফোন দিয়েছিল। রাসেলের বুকে ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ড ও মাথায় বাংলাদেশী পতাকা ছিল। রাসেলের বড় ভাই খবর পেয়ে সাথে সাথে খালাত ভাই আজিজুল ও মামা আলমগীর হোসেনকে খবর দেয়। রাসেলকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে, বিভিন্ন হাসপাতাল তথা কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পরের দিন ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে তার লাশ পড়ে আছে। রাসেলের মাথায় পেছন থেকে গুলি লেগে কপাল দিয়ে ভেদ করে বের হয়ে যায়। ততৎক্ষণে মার বুঝতে বাকি রইল না যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই।

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলা থেকে সম্পূর্ণ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরকাজলের চর শিবা আব্দুস ছালাম আকন আইডিয়াল স্কুল থেকে ২০২০ সালে মেধাবী রাসেল এসএসসি পাস করে। পরবর্তীতে ঢাকার শ্যামপুর বহুমূখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাস করে।

পাশের পরেই সে সোনার গাঁ ইউনির্ভাসিটিতে বাংলা বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়। রাসেল মাহমুদ ঢাকার যাত্রবাড়ীর শনির আখড়ায় থাকত। রাসেল মাহমুদের তিন ভাই ছিল। বড় ভাই মিরাজ হাং ছোট ভাই মো: শাওন। বাবা ও বড় ভাই মানুষের বাড়িতে কাজ করে রাসেল মাহমুদকে পড়াত। এমনকি মা-ও কাজে সহযোগিতা করে ছেলেকে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করত। নিজেদের সামান্যটুকু জমি থাকলেও অন্যের জায়গায় ঘর উঠিয়ে রাসেলের বাবা, মা ও ভাইসহ বসবাস করে।

মা বলেন, আমার ছেলেকে লেখা পড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে ছিলাম মানুষের মতো মানুষ হওয়ার হবার জন্য। শয়তানরা মানুষ হতে দিল না, বাড়িতে ফিরে এলো লাশ হয়ে। বাবাকে কত কষ্ট করে টাকা পাঠাইতাম মানুষ করার জন্য, মানুষ হয়ে অভাবী সংসারে হাল ধরবে, মৃত্যুর পর রাসেলকে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে বাবারে কৈ পামু, কত মানুষ দেখতে পাই কিন্তু আমার বাবার মতো কাউকেও তো দেখতে পাই না। আমার রাসেলের সাথে শেষ কথা হয় ৪ আগাস্ট । আন্দোলনে নামার জন্য বাবা আমার কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি, ওকে কেন মারা হলো, যারা আমার ছেলেকে মারছে তাদের যেন বিচার হয়। আমি যেন বিচার দেখে যেতে পারি। এমনকি আমার বাবা তো বিজয়ের হাসি দেখত পেলো না বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশেদা বেগম।

বাবা আবুল হোসেন জানান, আমার ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ছিল। আমরা ওর কথামত চলতাম। টাকা পাঠাতে না পারলে রাসেল একটি প্রাইভেট পড়াত, নিজে ফল বিক্রি করত, এমনকি কাঁচা বাজারের সবজিও বিক্রি করত। মাঝে মাঝে টাকা দিলে নিত, না পারলে বলতো আর লাগবে না। আমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করি। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করছে তার যেন বিচার হয়।

ভাই মিরাজ হাং জানান, ৬ আগস্ট রাতে গ্রামের বাড়ি চরশিবায় রাসেলের লাশ নিয়ে আসা হয়। এলাকায় লাশ আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৭ আগস্ট তাকে সকাল ১০টার সময় নামাজের জানাজা শেষে সোমবাড়িয়া বাজার ঈদ গা মাঠে সমাহিত করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিহত রাসেলের বাবার হাতে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গলাচিপায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলেই নিহতদের দেয়া হবে।




কুমিল্লায় মা-ছেলেসহ ৩ জনকে হত্যা, নেপথ্যের কারণ জানাতে পারেনি পুলিশ

শাহরিয়ার ইমন জয়,কুমিল্লা: কুমিল্লার হোমনায় বসতঘর থেকে এক নারী এবং তার ছেলে ও ভাতিজির মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার ঘাগুটিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে। সকালে খবর পেয়ে ৩ জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন- স্থানীয় মো. শাহপরানের স্ত্রী মাহফুজা (৩৫), তার ছেলে সাদ (৯), মাহফুজার ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ে তিশা মনি (১৬) । নিহত তিশা মনি দুলালপুর চন্দ্রমনি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, বড় ঘাগুটিয়া গ্রামের মো. শাহপরান ঢাকায় একটি চাকরি করেন। সে সুবাদে তিনি ঢাকায় থাকেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে একা থাকায় ফুফাতো ভাইয়ের মেয়ে তিশাও তাদের সাথে থাকতেন। রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাদেরকে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

পুলিশের সুরতহাল অনুযায়ী, প্রাথমিক ভাবে তাদের মাথায় ও মুখে জখম পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে স্থানীয় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে আসে।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদিন জানান, ধারণা করছি তাদেরকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। যে ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে সেটির সামনের দরজা বন্ধ ছিল। কিন্তু পেছনের দরজা খোলা ছিল। তদন্ত সাপেক্ষে বিস্তারিত বলা যাবে।




দুমকিতে গরু চুরি হওয়ায় নিঃস্ব দরিদ্র শফিক হাওলাদার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দুমকি উপজেলার পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের কৃষক শফিক হাওলাদারের তিনটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে গেছে।

৪ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দিবাগত গভীর রাতে গোয়াল ঘরের শিকল কেটে একত্রে তিনটি গরুই চুরি হয়ে যায় যার আনুমানিক মূল্য ৩ লক্ষ টাকা।

অতি যত্নে লালন-পালন করা গরুগুলো হারিয়ে শফিকের পরিবারের নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আইনি সহায়তা পাওয়ার জন্য এ নিয়ে দুমকি থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন।

জানা যায়, অন্যের জমি চাষ করে জীবন যাপন করা শফিক হাওলাদার অবসরের নির্মান শ্রমিকের কাজ করেন। পরিবারে তার একটি প্রতিবন্ধী ছেলে সন্তান সহ মোট ৫জন। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম শফিক পরিবারের খরচ মিটিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে ৩ বছর পূর্বে প্রথমবারের মতো একটি গরু কিনে। সেখান থেকে আরো দুটি গরু বেড়ে তিনটি গরু হয়। কিছুদিন পূর্বে স্থানীয় এনজিও থেকে লোন নিয়ে গোয়াল ঘর তৈরি করেন। গরু তিনটি লালন পালন করার জন্য শফিকের স্ত্রী ও সন্তানরা প্রতিদিন প্রতিবেশীদের ঘর থেকে ভাতের মার ও পতিত জমি থেকে ঘাস খেতে এনে খাওয়াতেন। শখের গরুগুলো হারিয়ে এখন তা শুধুই স্মৃতি।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কৃষক শফিক হাওলাদার প্রিয় গরুগুলো হারিয়ে কান্নায় বিলোপ করছেন। তার জরাজীর্ণ বসত ঘরের পাশেই গোয়াল ঘরের অবস্থান। প্রতিদিনের মতো এদিন রাতেও সে ঘুমানোর পূর্বে গোয়াল ঘরের তালা লাগানো নিশ্চিত করে। রাত তিনটার দিকে গোয়াল ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখতে পায় শিকল কাটা এবং গোয়ালঘর পুরো খালি। দিশেহারা হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরাও তখন খোঁজাখুঁজি শুরু করে। ধারণা করা হয় চোরেরা গরু গুলো নিয়ে ঘর থেকে ২০০ মিটার দূরে নদীতে ট্রলারে করে দক্ষিণ দিকে পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে দুমকি অফিসার ইনচার্জ তারেক মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, চুরির ঘটনা একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। আমরা আন্তরিকতার সহিত ব্যাপারটিতে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা নেব।




গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিল সরকার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাইয়ে গণহত্যার স্মৃতি সংরক্ষণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনকে জাদুঘর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।