গলাচিপায় বজ্রপাতে ৩ গরু নিহত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বজ্রপাতে এক দরিদ্র কৃষকের ৩টি গরু মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) আনুমানিক ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নলুয়াবাগীর বাদুরা গ্রামের কৃষক মজিবার খানের তিনটি গরু মারা যায়।

এ বিষয়ে দরিদ্র কৃষক মজিবার খান বলেন, গরুগুলো আমার নিজ গোয়াল ঘরে বাঁধা ছিল।আনুমানিক ভোর ৫ টার দিকে বজ্রপাতের কারণে গরুগুলো মারা গেছে।

তিনি আরও বলেন, এতে আমার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এ দিকে গোলখালী ইউপি চেয়ারম্যান মো.নাসির উদ্দিন জানান, খোঁজ নিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। দেখি পরবর্তীতে উনার জন্য কিছু করা যায় কিনা।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা.সজল দাস বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে খবরটি জানলাম। আমার অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে খবর নিচ্ছি। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যা : দুমকিতে গ্রেপ্তার সেই আনিছ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী ও শিশু কন্যাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি নুরুজ্জামান আনিছকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার রাতে পটুয়াখালীর দুমকি থানাধীন আঙ্গারিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে নুরুজ্জামানকে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

বিষয়টি নিশ্চিত হতে রূপগঞ্জ থানার যোগাযোগ করলে ওসি লিয়াকত আলী জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার তেতলাবো এলাকায় পরকীয়া সন্দেহে স্ত্রী রোকসানার সাথে ঝগড়া হয় স্বামী গার্মেন্টসকর্মী নুরুজ্জামান আনিছের। এর জের ধরে ৭ সেপ্টেম্বর ভোররাতে স্ত্রী রোকসানাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে তার স্বামী। এসময় পাঁচ বছরের শিশু জান্নাত কান্নাকাটি করলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে ওইদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশু কন্যা জান্নাত। এ ঘটনায় নিহত রোকসানার বাবা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই পলাতক ছিলেন ঘাতক নুরুজ্জামান আনিছ।

সোমবার রাতে র‌্যাব-৮ ও ১১ যৌথ অভিযান চালিয়ে পটুয়াখালীর দুমকি থানাধীন আঙ্গারিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তার নুরুজ্জামান আনিছকে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।




রাষ্ট্র পূণর্গঠনের বার্তা নিয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের পটুয়াখালী সফর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: রাষ্ট্র পূণর্গঠনের বার্তা নিয়ে পটুয়াখালী সফর করেছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের প্রতিনিধি দল।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহীদদের কবর জিয়ারত শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দেশ পূণর্গঠন, রাষ্ট্র সংস্কার, ঐক্য প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস মোকাবেলায় পটুয়াখালী জেলার সকল উপজেলার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের সাথে মত বিনিময় করেন তারা।

মত বিনিময় সভায় কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ, সানজানা আফিফা অদিতি, এমএ সাঈদ সহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং রাষ্ট্র পূণর্গঠন, সংস্কার ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় তাদের মতামত গ্রহণ করেন।

এসময় সমন্বয়কারীরা দেশ পূণর্গঠনে শিক্ষার্থীদের মাঠে থাকার অনুরোধ জানান। তাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে সোচ্চার হবার নির্দেশনা দেন।

সমন্বয়করা বলেন, শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে তাদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেশ পূর্ণগঠন ও রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে। এক ফ্যাসিবাদীকে হটানো হয়েছে অন্যকোন ফ্যাসিবাদীকে ক্ষমতায় আনার জন্য নয়। বিকেলে জেলার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে মত বিনিময় করবেন তারা।




পটুয়াখালীর চরকাজলে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপার চরকাজলে গভীর নলকূপ বসাতে গিয়ে ভূগর্ভস্থ প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। অনবরত বের হচ্ছে গ্যাস। খবরটি ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন এলাকার উৎসুক জনতা।

ঘটনাটি ঘটে গলাচিপা উপজেলার চরকাজলের ছোট শিবা গ্রামে বসবাসরত ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য মো. মনির হোসেন প্যাদার নিজ বাড়িতে। তিনি গত ১৫ দিন পূর্বে গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শেষ করেন। পরে নলকূপের পাইপের উপরে টিউবওয়েল বসানোর জন্য কলমিস্ত্রি আসলে তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন পাইপ দিয়ে গ্যাস বের হচ্ছে। বিষয়টি তখন কারও বিশ্বাস হচ্ছিল না।

তখন মিস্ত্রিরা পাইপের বাহিরের অংশে পেপের ডাটা বসিয়ে ডাটার মাথায় ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন জ্বালালে তা তৎক্ষণাৎ জ্বলে উঠে। এরপর সেখানে লোহার পাইপ দিয়ে গত ৫ দিন যাবত সেখানে বের হওয়া গ্যাস দিয়ে তাদের পরিবারের যাবতীয় রান্নার কাজ সারছেন। মূল পাইপ আটকানো অবস্থায় পাইপের গায়ে কান পাতলে ভিতরে বুঁদ বুঁদ শব্দ শুনতে পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সদস্য মনিরসহ এলাকাবাসীর অভিমত, সরকার এ বিষয়টি নজরে নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে যদি এখানে ব্যাপকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত থাকে তাহলে অচিরেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।

এ বিষয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, গ্যাস ওঠার ব্যাপারটি জেনে গণস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে অবগত করেছি। ওপর মহলে বিষটি অবগত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




গলাচিপায় ক্লাস চলাকালীন মাদ্রাসা শিক্ষকসহ ৮ ছাত্রী হটাৎ অসুস্থ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক মাদ্রাসায় মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪) ক্লাশ চলাকালীন শিক্ষকসহ ৮জন শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিক ভাবে ছাত্রী সাবরিনা ও লামিয়া বেশি অসুস্থ হওয়ায় দ্রুত গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এখন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা চলছে।

জানা গেছে, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের বোয়ালীয়া ছালেহিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মঙ্গলবার ১২টার দিকে গণিত এর শিক্ষক মো. হামিদুল ইসলাম অষ্টম শ্রেণির পাটিগণিত ক্লাশ করার জন্য ক্লাসে প্রবেশ করে। এ সময় ক্লাসে ছাত্র ছাত্রী সংখ্যা ছিল প্রায় ৪৫জন। ক্লাশ করার কিছুক্ষণ পর একটি মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণের মধ্যে সাবিনা (১৪), বর্না(১৪) সাবরিনা(১৪), সাকিলা, মারিয়া, লামিয়া সুমাইয়া ও শিক্ষক মো. হামিদুল ইসলাম হঠাৎ ক্লাসে অসুস্থ হয়ে পড়ে যায়। এতে ওই প্রতিষ্ঠানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন।

এ ব্যাপারে গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নোমান পারভেজ জানান, ভর্তি হওয়া সাবরিনার রক্তের পরিমাণ অনেক কম আজকের মধ্যে রক্ত দেয়া প্রয়োজন। তবে মাদ্রাসার শ্রেণি কক্ষে দুর্গন্ধ জাতীয় কোন বস্তুর কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে চিকিৎসক আশঙ্কা করেন।

এদিকে কি কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ জানা যায় নি এখনো। মাদ্রাসাটি অরক্ষিত সীমানা প্রাচীর না থাকার ফলে যত্রতত্র বহিরাগতদের যাতায়াত রয়েছে সেখানে।




পটুয়াখালীতে অন্ধ কল্যাণ সমিতির দখল নিতে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী অন্ধ কল্যাণ সমিতির দখল পেতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে দুই গ্রুপ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অন্ধ কল্যাণ সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৭ নতুন কমিটি।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে পটুয়াখালী অন্ধ কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে জবরদখল মুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবিতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন- এডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন তপন, কমিউনিস্ট পার্টির নাসির উদ্দীন তালুকদার প্রমুখ। মানব বন্ধনে অংশগ্রহণ করেন অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বক্তারা অন্ধ কল্যাণ সমিতিকে জবরদখল মুক্ত করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অপরদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর গঠিত বিএনপি নেতা মোশতাক আহম্মেদ পিনু ও যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটনের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যের ব্যানারে সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অকার্যকর কমিটির কারণে অন্ধ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল তথা অন্ধ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি চক্র নতুন কমিটির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে তাদের প্রতিহত করতে হবে।




পটুয়াখালীতে অন্ধ কল্যাণ সমিতির দখল নিতে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী অন্ধ কল্যাণ সমিতির দখল পেতে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালন করেছে দুই গ্রুপ। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে অন্ধ কল্যাণ সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৭ নতুন কমিটি।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে পটুয়াখালী অন্ধ কল্যাণ সমিতির নতুন কমিটিকে অবৈধ ঘোষণা করে জবরদখল মুক্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবিতে মানব বন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন- এডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন তপন, কমিউনিস্ট পার্টির নাসির উদ্দীন তালুকদার প্রমুখ। মানব বন্ধনে অংশগ্রহণ করেন অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যবৃন্দসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বক্তারা অন্ধ কল্যাণ সমিতিকে জবরদখল মুক্ত করে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অপরদিকে গত ৫ সেপ্টেম্বর গঠিত বিএনপি নেতা মোশতাক আহম্মেদ পিনু ও যুবদল সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটনের কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে অন্ধ কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যের ব্যানারে সোনালী ব্যাংক চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলন, জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিপলু খান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অকার্যকর কমিটির কারণে অন্ধ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরে। বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল তথা অন্ধ কল্যাণ সমিতির কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি চক্র নতুন কমিটির কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছে তাদের প্রতিহত করতে হবে।




৫০ দিন পর মারা গেলেন বুকে গুলিবিদ্ধ বাবলু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনার বাবলু মৃধা পেশায় ছিলেন রাজমিস্ত্রি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন রাজধানীর শনিরআখড়ায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে যখন পুরো দেশ উত্তাল, তখন নিজেকে ঘরে আটকে রাখতে পারেননি চল্লিশোর্ধ্ব এ দিনমজুর। ঝাঁপিয়ে পড়েন আন্দোলনে। সঙ্গে নেন কিশোর বয়সী ছেলেকেও। গত ২০ জুলাই পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মিছিলে নির্বিচারে গুলি করলে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে যান। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর ছেলে ও সহযোদ্ধারা। সেই থেকে কাতরাচ্ছিলেন হাসপাতালের বিছানায়। অবশেষে সোমবার ঢাকা সিএমএইচে মারা গেছেন বাবলু।

দশমিনার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের রামবল্লব গ্রামের মফিজ মৃধার ছেলে বাবলু। তাঁর ছেলে আবু তালেব সজিব দনিয়া কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর বাবলুর লাশ গ্রামের বাড়ি নেওয়া হয়। মঙ্গলবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হবে।

নিহতের স্ত্রী সীমা বেগম বলেন, গত ২০ জুলাই যখন চারদিকে শুধু গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল, তখন ঘরে বসে থাকতে পারেননি বাবলু। বড় ছেলে সজিবকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন রাজপথে। শনিরআখড়া এলাকায় গুলিবিদ্ধ হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকার সিএমএইচে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর বাঁচানো গেল না।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষ তিন পদসহ ২২ পদই শূন্য

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) খোলা রয়েছে। বিভাগ অনুযায়ী নিচ্ছে পাঠদান ও পরীক্ষা।প্রশাসনিক কার্যক্রমও চলছে। তবে নিয়মিত উপাচার্য ও ট্রেজারার থাকতে যে গতিশীলতা থাকে সেটি থমকে গেছে বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার এই শীর্ষ তিন পদই শূন্য রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।

উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকেই শূন্য। তবে নিয়মিত একজন উপাচার্য থাকলেই বিশ্ববিদ্যালয় আরো বেশি গতিশীলতা বাড়বে বলছেন বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।এছাড়া প্রক্টরিয়াল বডি, চার হলের প্রাধ্যক্ষ, আবাসিক শিক্ষক, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক ও লাইব্রেরিয়ানসহ ১৯ টি পদই রয়েছে শূন্য। ফলে তৈরি হয়েছে অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যা ও জটিলতা। কমেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের গতি।এদিকে নিয়মিত বা পুর্নাঙ্গ উপাচার্য ছাড়া এই পদগুলোর নিয়োগও দিতে পারেন না বলে জানান আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. মোঃ মুহসিন উদ্দীন।

তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব দেখার বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।সেক্ষেত্রে পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা নিয়োগ দেওয়ার ব্যাপারে আমরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। চিঠি অনুযায়ী আমরা ডিনদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছি।একজন পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য আসলে তিনি বিষয়টি দেখবেন। একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আমরা চালিয়ে নিচ্ছি। যেহেতু ওই ২২টি পদ শূন্য রয়েছে সেক্ষেত্রে স্ব স্ব দপ্তরের কাজের গতিশীলতা বা ব্যাহত হবে এটা স্বাভাবিক। উন্নয়নমূলক কাজের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, অর্থবছরের কাজ গত ৩০ জুন পর্যন্ত আগের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যে কাজ করেছেন সেটিতে আমাদের হাত নেই। ২০২৪-২৫ অর্থবছর আসলে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে আমরা কাজ করতে পারবো।

উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোঃ মুরশীদ আবেদীন জানান, পূর্বে অনুমোদনের কিছু কাজ চলমান রয়েছে। তবে ভোলা রোডের গেইটের রাস্তার কাজটি আবহাওয়ার কারণে বন্ধ আছে।

গত ২০ আগস্ট মঙ্গলবারে দুপুরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে উপাচার্য থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া। তার কিছুক্ষণ আগে পদত্যাগ করেন প্রক্টর ও শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ। পরে একে একে মোট ১৭ জনই পদত্যাগ করেন।

রেজিস্ট্রার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, বিভাগের আন্তরিকতায় একাডেমিক ও পরীক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবেই চলছে। তবে পূর্নাঙ্গ উপাচার্য না থাকলে সার্বিক গতিশীলতা কমে যায়। এছাড়া বিভিন্ন দপ্তরের দায়িত্বশীল ব্যক্তি না থাকার কারণে সেই দপ্তরের কাজ ব্যাহত হবে স্বাভাবিক ব্যাপার।

বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার ৩০০ জন।শিক্ষক রয়েছে ২১০ জন। তারমধ্যে পাঠদান নিচ্ছে বর্তমানে ১৬৭ জন। বাকি শিক্ষকরা রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রি নিতে শিক্ষা ছুটিতে।গড়ে ৫৫ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র একজন শিক্ষক। কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে মোট ২৭৩ জন।হিসাব করে দেখা যায় শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা বিভাগ ও শিক্ষার্থীর সংখ্যানুযায়ী খুবই নগণ্য। যেখানে অর্গানোগ্রামভুক্তে ৪৫৩ জন শিক্ষক থাকার কথা সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ছাড়কৃত ২১০ জন।আবার শীর্ষ তিন পদ সহ ২২ টি পদই শূণ্য রয়েছে।যার কারণে সবকিছু গতিশীলতা আনা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।এত শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষক-কর্মকর্তা কম আবার অভিভাবক শূন্য।

একটি সূত্র বলছে, অর্গানোগ্রামের হিসাব অনেক আগের। এখন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে,তাই শিক্ষক সহ জনবলের চাহিদাও বাড়বে। দ্রুত পূর্নাঙ্গ উপাচার্য নিয়োগ পেলে এগুলো বাস্তবায়ন করে সংকট মোকাবেলা করতে পারবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক জানান, আমাদের শিক্ষক সংকট রয়েছে,অধ্যাপক রয়েছে একজন।এজন্য বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন জানান, আমাদের শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি।প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক এ ব্যাপারে আন্তরিক।তবে নিয়মিত উপাচার্য ও অন্যান্য দপ্তরের পদ পূরণ না হলে কিছুটা দাপ্তরিক কাজ ব্যাহত হয়।

শীর্ষ পদ পূরণ ও গতিশীলতার বিষয়ে মতামত জানতে কথা হয় অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীর সাথে।তারমধ্যে ইংরেজি বিভাগের মোঃ তারিক হোসেন বলেন,আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র একজন অধ্যাপক। তাই আমরা দ্রুত পূর্নাঙ্গ একজন উপাচার্য চাই।যিনি ঢাকা বা অন্য যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসবেন।আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা দেখবেন ও সমাধান করবেন। সাথে উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ পদের নিয়োগ দিলে আরো বেশি এগিয়ে যাবে বিশ্ববিদ্যালয়টি।যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক কোরাম রয়েছে,তাই বাহির থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হোক।




বাউফলে প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলের দাশপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বখতিয়ার উদ্দীনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পাওয়া তিনটি অভিযোগের বিষয় তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো পৃথক দুইটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এরআগে রবিবার রাতে দুইটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. বশির গাজী।

একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, প্রধান শিক্ষক মো. বখতিয়ার উদ্দীনের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারায় তিনটি অভিযোগ করা হয়েছে এবং এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে। অসন্তোষজনক উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে বর্ণিত প্রবিধান অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

অপর প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, অভিযোগের তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিতে এসিল্যান্ড প্রতীক কুমার কুন্ডুকে আহ্বায়ক, উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার নুরনবীকে সদস্য সচিব এবং উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মাসুম বিল্লাহকে সদস্য করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধও জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।

এদিকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, তার পুত্রবধূকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য কয়েক ধাপে ৯ লাখ টাকা ঘুষ নেন প্রধান শিক্ষক বখতিয়ার উদ্দীন। ২০১৭ সালে টাকা নিলেও এখনও চাকরি দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে তিনি আদালতে মামলাও করেছেন। তিনি ছাড়াও এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৭ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন এই প্রধান শিক্ষক। এসব ঘটনাতেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলমান আছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাশপাড়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সদ্য বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক মো. বখতিয়ার উদ্দীন জানান, উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত চলমান তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না তিনি।

ঘুষ লেনদেন ও এ সংক্রান্ত মামলার বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই টাকা আমি ধার নিয়েছিলাম। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলায় আমি দোষী প্রমাণিত হলে দোষী, নির্দোষ হলে নির্দোষ।