স্বাভাবিক উৎপাদনে পোশাক কারখানা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : তৈরি পোশাক কারখানা ফিরছে স্বাভাবিক চেহারায়। দুই সপ্তাহের শ্রমিক অসন্তোষ কাটিয়ে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে গতকাল রোববার দেখা যায় কর্মচাঞ্চল্য। ভারী বৃষ্টি উপেক্ষা করে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। দিনভর চলে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম।

গত শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা, কারখানা মালিক ও শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পরই পরিস্থিতির নতুন মোড় নেয়। ওই বৈঠকে শ্রমিকদের দাবি জেনে ব্যবস্থা এবং কারখানায় বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে গতকাল কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। সরকারের পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্যরা আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানা পরিদর্শন করেন।




ভারতে পালানোর সময় সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু, শ্যামল দত্তসহ আটক ৪

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা থেকে একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল হক বাবু, দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকার সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার মাহবুবুর রহমান ও প্রাইভেটকার চালক সেলিমসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ও পোড়াকান্দুলিয়া সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ সময় তাদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে স্থানীয়রা।

একাত্তর টিভির সিনিয়র রিপোর্টার মাহাবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘আমার বাড়ি ময়মনসিংহ সদরে। মোজাম্মেল হোসেন বাবু ভাই আমাকে বলার পর আমি তার সঙ্গে যোগ দেই। পথে ১০টি মোটরসাইকেল পথরোধ করে আটকিয়ে আমাদেরকে কিলঘুসি দিয়ে টাকা চায়। এক পর্যায়ে আমার মানিব্যাগ চেক করে ৩০০ টাকা পায়। টাকা নিয়ে মানিব্যাগটি ফকিন্নি বলে আমার মুখের উপর ফেলে দেয়। পরে আমাদের সবার কাছে চেক করে যা ছিল সব নিয়ে যায়। এরপর কি হইছে আমি বলতে পারবো না।’

ধোবাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চান মিয়া সমকালকে বলেন, আজ সোমবার ভোর ৬টার দিকে দক্ষিণ মাইজপাড়া ও পোড়াকান্দুলিয়া সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। এ সময় তাদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকার জব্দ করে স্থানীয়রা। আটক চারজন বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, আটকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মামলায় তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব‍্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




পটুয়াখালী জেলায় কোনো সিন্ডিকেট চলবে না

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার বাজার ও দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর নবাগত জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম এবং প্রাধান উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। দেশের কোথায় কি হচ্ছে তা শোনার সুযোগ নেই, আমার পটুয়াখালীতে কোনো সিন্ডিকেট চলবে না। যারা সিন্ডিকেট করবে তারা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা তো পাবেই না বরং জেলা প্রশাসন তাদের জন্য কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আহমাদ মাঈনুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাত্তলাদার।

এ ছাড়াও সভায় ব্যাবসা সমিতির প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্যবসায়ীবৃন্দ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছত্র প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




বরিশালে লঞ্চ চলাচল শুরু

বরিশাল অফিস :: বৈরী আবহাওয়ায় কারণে বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটের লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।

রবিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টা ১০ মিনিট থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা (নৌনিট্রা) বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াদ হোসেন।

তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে রবিবার সকালে বৃষ্টি হলেও আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে।

আর গত রাতে বরিশাল থেকে ঢাকা রুমে এমভি পারাবত ১৮ লঞ্চ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে, যা নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছেছে এবং ঢাকা থেকেও লঞ্চগুলো বরিশালে এসে নিরাপদে পৌঁছেছে।

এদিকে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করলেও কোন নদ-নদীর পানি এখনও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি। তবে রোববার সকাল ৯ টা পর্যন্ত গেল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশালে ১৩৭ মিলিমিটার, ভোলায় ১৫০ মিলিমিটার, ঝালকাঠিতে ১৩৯ মিলিমিটার, পিরোজপুরে ১৫৭ দশমিক ২ মিলিমিটার, বরগুনায় ১২৯ মিলিমিটার ও পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ ১৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

আর বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক রুবেল হাওলাদার জানান, গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার কারণে বায়ু চাপের তারতম্য হয়েছে। এ কারণে বরিশাল বিভাগের বিভিন্নস্থানে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টি হচ্ছে। যা আরো ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকবে।




বরিশালের সাবেক এমপি শাহে আলম আটক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদারকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে জনতা।

শনিবার রাতে মারধরের পর তাকে গুলশান থানায় সোপর্দ করা হয়।

গুলশান থানার ওসি তৌহিদ আলম জানান, সাবেক সংসদ সদস্য মো. শাহে আলম তালুকদার গুলশান থানায় আটক আছেন। তাকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর চাঁদার দাবিতে হামলা মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে সাবেক এমপি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বাদী হয়ে মামলাটি করেন সৈয়দ আতিকুর রহমান। তিনি বানারীপাড়া উপজেলার চাখার গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত সৈয়দ জিল্লুর রহমানের ছেলে।

মামলায় শাহে আলমের সঙ্গে তার তিন ভাই ও এক ভাগ্নেসহ ১৪ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

শা‌হে আলম তালুকদার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ করেন এবং সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।




আমি কখনো হিজবুত তাহরির-শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না : মাহফুজ আলম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হয়েছেন মাহফুজ আলম। বলা হচ্ছে কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি পিছনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা মাঠে বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সহকারী হওয়ার পর থেকে তার অতীতের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় অনেক কথা উঠেছে। সেই সমালোচনার বিষয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন।

ইকোনমিক টাইমস-এর এক সাংবাদিক আমার হিযবুত তাহরীরের সাথে মিথ্যা সম্পৃক্ততা নিয়ে লিখেছেন, যা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাকে ভারতীয় রাষ্ট্রের ন্যারেটিভে ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে।
আমি আগে যেমন, এখনও তেমন হিযবুত তাহরীরের মতাদর্শের বিরুদ্ধে এবং যেকোনো অগণতান্ত্রিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধেই আছি।

আমি ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথেও জড়িত ছিলাম না। আমি তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করি নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে তারা আমাকে তাদের প্রোগ্রামে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, কিন্তু তাদের বাংলাদেশ নিয়ে তাদের মতাদর্শ আমাকে আকৃষ্ট করতে পারে নি।

আমি জামায়াতে ইসলামকে অনুসরণ করি নি এবং এখনও করি না। সেই কারণে আমি তামিরুল মিল্লাত বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যান্য শিবিরকর্মীদের মতো কোনো সুবিধা বা অধিকার পাইনি। বরং আমাকে ক্যাম্পাসে ইসলামোফোবিয়া এবং শিবির ট্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে।

আমাকে বেছে নিতে হয়েছে নির্জন পথ— মুজিববাদ, ইসলামোফোবিয়া এবং ইসলামী মতাদর্শের বিরুদ্ধে, বাঙালি মুসলমানদের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষার অভিমুখে। পরে আমি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং রাজনৈতিক অধ্যয়ন চক্রের সাথে জড়িত হয়ে জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে আমার রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভূমিকা গ্রহণ করি।

আমি মাস্টারমাইন্ড ছিলাম না। তবে নয় দফাসহ ৫ জুন থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আমার সাথে পরামর্শ করে এবং আমার ‘অনুমোদন’ক্রমে। গত পাঁচ বছরে প্রায় সব প্রোগ্রাম ও ন্যারেটিভ আমার হাত দিয়েই লেখা হয়েছে। সবই আপনার জানতে পারবেন যদি আমি বা আমার সঙ্গীরা বর্তমানের চ্যালেঞ্জগুলো পার করতে পারি। দোয়া করবেন যেন আমরা সম্মানজনক জীবন যাপন করতে পারি অথবা শহীদ হতে পারি।

আমি একজন বিশ্বাসী এবং বাঙালি মুসলমান। আমি ইসলামী বা সেক্যুলার কোনো মতাদর্শকেই সমর্থন করি না। আমি এই অঞ্চলে  সভ্যতাগতভাবে পরিবর্তিত একটি রাষ্ট্র ও সমাজের রূপকল্প পোষণ করি, যা গড়ে উঠবে দায় ও দরদের আদর্শের ভিত্তিতে। নির্যাতিত জনগণের ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষাগুলো রাষ্ট্রনীতিতে রূপান্তরিত হবে।

ঢাকা হবে বঙ্গোপসাগর অঞ্চলের সভ্যতাগত মেলবন্ধন এবং বেণী লেনাদেনার কেন্দ্র। ইনশাআল্লাহ!

দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেন, আমি ইসলামী বা অন্য কোনো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের বিরোধী নই। আমি মনে করি রাষ্ট্রগঠনে সম্প্রদায়গুলোর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশসমূহের  সহাবস্থান করার সুযোগ থাকা দরকার। রাষ্ট্রের সেক্যুলার প্রকল্প যেন কোনো সম্প্রদায়েরই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অভিপ্রকাশের জায়গাকে সংকুচিত করে না ফেলে। তবে এই অভিপ্রকাশগুলো যেন আবার ফ্যাসিবাদী মতাদর্শের দিকে না যায়।

একদম ঠিক ঠিক করে বললে, আমি লালন বা মার্কসের অনুসারী নই, তাই আমি ফরহাদ মজহারের ইসলাম ও মার্কসবাদ গ্রহণ করি না। লালনকে আমি বাংলার আত্ম-অন্বেষণ চর্চা ও আচার-অনুষ্ঠানের একটি সমন্বিত প্রকাশ হিসেবে দেখি। আর যতদিন পুঁজিবাদ থাকবে ততদিন প্রাসঙ্গিক থাকবেন মার্কস। তবে, বাঙালি মুসলমানদের প্রশ্নটি প্রধানত নদীমাতৃক ইসলাম ও বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের ফ্রেমওয়ার্কে আলোচনা করা উচিত। বাঙালি মুসলমানদের উচিত হীনমন্যতার শেকল ভেঙে ফেলে তাদের পূর্বপুরুষদের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্বদরবারে ব্যাখ্যা করা।

আমি মাজার/কবর পূজারী নই। আমি বিভিন্ন তরিকার সুফি এবং আলেমদের শ্রদ্ধা করি। কৈশোরকাল এবং পরবর্তী সময়ে আমি অনেক আলেম ও পীরদের সাথে সংযুক্ত ছিলাম। এবং এখনও তাদের সাথে আমার সম্পর্ক আছে। তারা আমাকে নবীর (সা.) প্রতি ভালোবাসায় অভিষিক্ত করেছেন। আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আবার, আমি আপোষকামী এবং ফ্যাসিবাদ সমর্থনকারী সুফিবাদ পছন্দ করি না। আমি সেই সুফি ও আলেমদের ভালোবাসি, যারা নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়ান।

আমি মনে করি, যারা মাজার ভাঙছে তারা আসলে বাঙালি মুসলমানদের সাধারণ আকাঙ্ক্ষা এবং বাংলার ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ঐতিহাসিক সম্প্রদায় হিসেবে বাঙালি মুসলমানদের জোট গঠন করতে হবে দক্ষিণ এশিয়ার মজলুম হিন্দু, বৌদ্ধ, ও মুসলমানের সাথে। এভাবেই দূর করতে হবে মুজিববাদ, ইসলাম-আতঙ্ক, হিন্দুত্ববাদ, এবং ফ্যাসিবাদ-সমর্থনকারী সুফিবাদ ও ইসলামিজমকে। আমরা অনেক বার দেখেছি কীভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী ইসলামিজমও মুজিববাদ ও হিন্দুত্ববাদের বাঁচার উপায় হয়ে উঠেছে।

আমি আমার বাঙালি মুসলমান পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করি, যারা ত্যাগ ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে একটি সম্প্রদায় গড়ে তুলেছিলেন। এই সম্প্রদায় এ অঞ্চলে তাদের ন্যায্য হিস্যা পাবে এবং তাদের রূপকল্প বাস্তবায়িত হবে। আমি পশ্চাদপদ জাতীয়তাবাদগুলোর বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের ভেতরে এবং বাইরে আরও আরও মানুষের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য দরকার নতুন ভাষা ও শব্দভাণ্ডার।

পুনশ্চ: আমার লেখাগুলোতে কেউ আহত হলে, আমি অন্তর থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমি আপনাদের সকলকে সহনাগরিক হিসেবে এবং ভাই ও বোন হিসেবে ভালোবাসি। দয়াল দরদি নবিজিকে সালাম!




মহানবীর যুগে যেমন ছিল ধর্মীয় সহাবস্থান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: প্রিয় নবী (সা.) মদিনায় হিজরতকালে (সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রি.) পাঁচ ধরনের মানুষের সংশ্লেষের এক নতুন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। যথা—মুহাজির, আনসার, ইহুদি, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক। তখন তাঁর প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হয় ভ্রাতৃবিরোধ-বিদ্বেষ ও বিগ্রহের অবসান ঘটানো। প্রিয় নবী (সা.)-এর দর্শন—‘সহজ করো, জটিল কোরো না। সুসংবাদ দাও, ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দিয়ো না। ’ (বুখারি)

এই নীতিতে ‘শান্তি ও আনুগত্য-আত্মসমর্পণ’ তথা Peace & Submission-এর শিক্ষায় তিনি Social contract বা সামাজিক চুক্তির মতো সম্প্রীতিমূলক ‘মদিনা সনদ’ প্রণয়ন করেন।

মদিনা সনদের প্রধান অর্জন—

(ক) তাওহিদভিত্তিক লিখিত সনদের আলোকে সংঘাতের স্থলে সর্বজনীন নিরাপত্তা।

(খ) প্রিয় নবী (সা.)-এর নেতৃত্বে শান্তি ও রাজনৈতিক ঐক্য।

গ) সাম্য ও মানবাধিকারের নিশ্চয়তা। মদিনা সনদের ফলে অসাম্প্রদায়িকতা ও সহিষ্ণুতার পরিবেশ গড়ে ওঠা সহজতর হয়। মদিনা সনদকে বলা হয়, মানব ইতিহাসের প্রথম লিখিত সংবিধান Written constitution.

সনদের সারসংক্ষেপ

(ক) মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান ও পৌত্তলিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করবে।

(খ) রাসুলুল্লাহ (সা.) হবেন নব গঠিত ‘মদিনা প্রজাতন্ত্রে’র প্রধান ও সর্বোচ্চ বিচারালয়ের Court of Appeal-এর সর্বময় কর্তা।

(গ) সবার পরিপূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকবে, এতে কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না।

(ঘ) কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে তার সম্প্রদায়কে দায়ী করা যাবে না।

(ঙ) দুর্বল, অসহায়কে সাহায্য ও রক্ষা করতে হবে।

(চ) সনদ স্বাক্ষরকারী পক্ষগুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ দেখা দিলে রাসুল (সা.) তা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী মীমাংসা করবেন।

মদিনা সনদের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ (সা.) ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব বৃদ্ধি পায়, ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি রচিত হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মদিনার পুনর্গঠন সম্ভব হয়। মদিনা সনদের ধারাবাহিকতায় প্রিয় নবী (সা.) গোত্রপ্রধান শাসিত ২৭৬টি দেশীয় রাজ্যকে একত্র করেন। মদিনাকেন্দ্রিক এ ব্যবস্থার বিস্তৃতি ছিল ১০-১১ লাখ বর্গমাইলেরও বেশি এলাকা। পরবর্তী সময়ে প্রিয় নবী (সা.) সংঘাতের স্থলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যই ষষ্ঠ হি./ ৬২৮ খ্রি. ‘হুদাইবিয়া’র সন্ধি স্বাক্ষর করেন।

হুদাইবিয়ার সন্ধির ফলে মক্কা-মদিনার মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহ স্থগিত থাকার সুবাদে প্রিয় নবী (সা.) ইসলাম প্রচারে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন। ফলে প্রিয় নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় ইসলাম আন্তর্জাতিকরূপ পরিগ্রহ করে। যার ভিত্তি হলো—

উম্মাহ (অভিন্ন জাতীয়তাবোধ ও অখণ্ডতা),

উখওয়াৎ (বিশ্বজনীন ইসলামী ভ্রাতৃত্ব),

তাবলিগ (ধর্মীয় প্রচার) ও

খিদমতে খালক (সৃষ্টির সেবা-সংরক্ষণ)।

এই চেতনাবোধের সার্থকতায় প্রিয় নবী (সা.) পত্রাবলি অনন্য কিংবদন্তি ও প্রিয় নবী (সা.)-এর চলন্ত-জীবন্ত মুজিজা। মিসরীয় গবেষক ড. হামিদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (স.) যাঁদের কাছে পত্র পাঠিয়েছিলেন তাঁদের সংখ্যা দু-আড়াই শর কম নয়। তাঁদের অন্যতম হলেন—

রোম সম্রাট (কায়সার) হিরাক্লিয়াস,

ইয়ামামার গভর্নর হাওয়া বিন আলী,

বাহরাইনের গভর্নর মুনজির বিন সাওয়া,

ওমানের গভর্নর জাফর বিন জুলান্দি,

দামেস্কের গভর্নর হারিস বিন আবি শামর গাসসানি,

আবিসিনিয়া বা হাবশার বাদশাহ নাজ্জাসি আসহাম,

মিশররাজ মাকাওকাস এবং ইরানের শাহানশাহ কিসরা খসরু পারভেজ।

রোম সম্রাটের কাছে লিখিত পত্রের ভাষ্য—

প্রিয় নবী (সা.)-এর পবিত্র পত্র পাঠে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের মনোজগতে ঝড় বইতে শুরু করে। তিনি প্রিয় নবী (সা.)-এর নবুয়তের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে বলেছিলেন—‘হায়! আমি যদি তাঁর কাছে পৌঁছাতে পারতাম! তবে আমি তাঁর পা ধুয়ে দিতাম। ’ (বুখারি)

শুধু তাই নয়, তিনি রাজপ্রাসাদে রোমের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সামনে ঘোষণা করলেন : ‘হে রোমবাসী। তোমরা কি কল্যাণ, হিদায়াত এবং তোমাদের রাষ্ট্রের স্থায়িত্ব চাও? তাহলে এই নবীর আনুগত্য (বাইআত) গ্রহণ করো…’ (বুখারি)

বস্তুত এভাবেই ইসলাম ‘বিশ্ব বিজয়ী ধর্ম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়, এতেও আল-কোরআনের বাণীর নিত্যতা প্রমাণিত হলো : ‘তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে, অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ…। ’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১০৩)




‌পরিস্থিতির কারণে নাহিদের বোন পরিচয় দিয়েছিলাম – বললেন সেই ফাতিমা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বোন ফাতিমা তাসনিম কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে চাকরি পেয়েছেন’— সম্প্রতি এমন একটি খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সেখানে বলা হয়, নাহিদের জন্যই এ চাকরি পান তিনি। এর আগে গত জুলাইয়ে ফাতিমা একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে নিজেকে নাহিদের বোন পরিচয় দেন।

এ বিষয়ে ফাতিমা জানান, নাহিদ ইসলাম তার ভাই নন, পরিস্থিতির কারণে তখন নিজেকে তার বোন হিসেবে গণমাধ্যমে পরিচয় দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমি যখন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ছিলাম তখন নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা ছিলেন। তখন আমাদের মধ্যে ভাই-বোনের একটা সম্পর্ক হয়। সে আমাকে বোন হিসেবে শ্রদ্ধা করে, আমি তাকে ভাই হিসেবে শ্রদ্ধা করি।

ফাতিমা আরও বলেন, ২১ জুলাই গুম থেকে নাহিদ ফিরে আসার পর তার সঠিক সময় চিকিৎসা শুরু না হলে তার প্রাণের শঙ্কা ছিল। তখন আমি গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ছিলাম (যেখান থেকে নাহিদকে তুলে নেয় ডিবি পুলিশ)। দেশের ওই সময়কার পরিস্থিতিতে হাসপাতাল রোগীর ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়া ভর্তি নিচ্ছিল না।
‘কিন্তু আমি যেহেতু প্রয়াত ডা. জাফরুল্লাহ স্যারের (গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে ট্রাস্টি ছিলেন) সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছি, সেই হিসেবে হাসপাতালে চিকিৎসক থেকে নার্সরা আমাকে চিনতেন। তাই আমি নাহিদের লিগ্যাল গার্ডিয়ান বোন পরিচয় দিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। তখন সঙ্গে তার স্ত্রী থাকলেও তিনি কিছুটা অসুস্থ ও আতঙ্কে ছিলেন। তাছাড়া আমি তার বোন পরিচয় না দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি নিতে চাচ্ছিল না।

হাইকমিশনে চাকরি পাওয়ার খবর সত্য নয় দাবি করে ফাতিমা তাসনিম বলেন, ‘আমি পটুয়াখালী-৪ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আমাকে হেনস্তা করার জন্য এটা করে থাকবে বলে আমি মনে করি।’

অন্যদিকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, ফাতিমা তাসনিমের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগ নেই, তবে ‌‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বোন হিসেবে তিনি আমাদের অনেক হেল্প করেছিলেন।

উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের একান্ত সহকারী মুনতাসির মাহমুদও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ফাতিমা তাসনিম নামে স্যারের (নাহিদ ইসলামের) কোনো বোন নেই। শুধু তাই নয়, স্যারের কোনো বোন নেই। তবে তার একটি ভাই আছে।




রাবনাবাদ নদীতে দূষণ বন্ধে নৌ র‍্যালি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নদী রক্ষা ও নদীতে দূষণ বন্ধের দাবিতে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন রাবনাবাদ নদীতে নৌ র‍্যালি ও উপজেলার মধুপাড়া সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা ১১টায় এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) ও আমরা কলাপাড়াবাসী এ কর্মসূচির আয়োজন করে। নৌ র‍্যালি ও মানববন্ধনে বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি, স্থানীয় জেলেসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ওয়াটারকিপার্স কলাপাড়া উপজেলা সমন্বয়ক মেজবাহ উদ্দিন মাননু, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমরা কলাপাড়াবাসীর সভাপতি নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় জেলেনেতা শহীদ সিকদার।




ফিরেছে স্বাধীনতা – ফেরেননি দশমিনার বাবলু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বাবলু মৃধাকে (৪৮) হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার। স্বামীর ছবি বুকে চেপে কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী। পাগলপ্রায় বাবা-মা। বাবাকে হারিয়ে আর্তনাদ করছে কলেজ পড়ুয়া ছেলে আবু তালিব। অবাক বিস্ময়ে ফ্যাল ফ্যাল করে তাঁকিয়ে মায়ের বুকফাঁটা আর্তনাদ দেখছে পিতৃহারা দুই বছরের শিশু মাহিম।

বাবলু পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড খারিজা বেতাগি গ্রামের বৃদ্ধ মফিজ আলী মৃধা ও হনুফা বেগম দম্পতির ছেলে। রাজধানীতে রাজমিস্ত্রীর কাজ করে যা বেতন পান তাই দিয়ে চলে সংসার ও ছেলের পড়ালেখার খরচ। দুই ছেলে তার। বড় ছেলে রাজধানীর দনিয়া কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আবু তালিবকে (১৭) নিয়ে তিনি রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায়

একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। ছোট ছেলে মাহিমকে (২) নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বাবলুর বাবা মায়ের সঙ্গে থাকেন স্ত্রী সীমা বেগম (৩৫)। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরু থেকেই ছেলে তালিবের সঙ্গে রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

জানা যায়, গত ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে শনির আখড়া এলাকায় হঠাৎ পিছনের দিক থেকে গুলিবিদ্ধ হন বাবলু। তাৎক্ষণিক তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে কয়েকজন আন্দোলনকারী তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অপারেশন করে গুলি বের করা হলেও গুরুতর আশংকাজনক অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সহায়তায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক থেকে প্রথমে পিলখানায় বিজিবি হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন গত ৯ সেপ্টেম্বর সকালে তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে নিহত বাবলুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, স্বামীকে হারিয়ে বারবার অজ্ঞান হয়ে পড়ছেন স্ত্রী সীমা। বৃদ্ধ বাবা-মা পাগল প্রায়। নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে মায়ের আর্তনাদ দেখছে শিশু মাহিম।

বাবলুর বড় ছেলে আবু তালিব বলেন, ‘আমার বাবা ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আমার সাথে স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করে জীবন দিয়েছেন। পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন বাবা। আমার পড়াশুনার খরচসহ সবকিছইু বাবার আয়ে চলতো। বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।’

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা নাজ নীরা বলেন, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ বাবলু মৃধার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা বাবদ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতের জন্য তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করে ইতোমধ্যে ওই তালিকা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিকভাবে শহীদদের পরিবারের পাশে থাকব।