কলাপাড়ায় এক দফা দাবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ১২ তম গ্রেড প্রস্তাবনা প্রত্যাখান করে “১০ম গ্রেড আমাদের দাবি নয়, আমাদের অধিকার” এ একদফা দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে উপজেলায় কর্মরত শতশত সহকারী শিক্ষকরা।

আজ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১০ টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, দেশের মানুষ গড়ার কারিগররা আজ অবহেলিত, নিস্ফেশিত। যে শিক্ষকরা একজন প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তা তৈরির কারিগর, তাদের ১২ তম গ্রেডের প্রস্তাবনা করা হয়েছে। যা আমাদের জন্য লজ্জার। যে বৈষম্যের জন্য আজ নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে, সেখানে শিক্ষকরা কেন বৈষম্যের শিকার হবে।

শিক্ষকদের দাবি, দেশ সংস্কারের যে নতুন দায়িত্ব বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার শুরু করেছে, সে সংস্কার শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করা হোক। সহকারী শিক্ষকদের এ দাবি মানা না হলে আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে শিক্ষকরা ঘোষনা দেন।

সহকারী শিক্ষক গাজী মো. জামাল ও বদরুদ্দোজা সৈকতের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক মোসাঃ সুমী,শাহিনুর বেগম, মিজানুর রহমান, আখতারুজ্জামান, আরিফুর রহমান,মো. জুয়েল, রেজাউল করিম, ইউসুফ আলী, হুমায়ুন কবির, মীর আলামিন, ইমাম হোসেন প্রমুখ।




জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরবেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন। সেখানে তিনি দেশে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র মেরামতের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার গৃহীত সংস্কার কার্যক্রম বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবেন।

ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করেন। ৮ আগস্ট তিনি দায়িত্ব নেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকার প্রধান হিসেবে এবারই প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা যে বক্তব্য দেবেন, সেখানে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হবে। ছাত্ররা প্রাণের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে কীভাবে সফল অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে এবং মানুষের মধ্যে নতুন স্বপ্নের বীজ বপন করেছে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে তার প্রতিফলন থাকবে।

এছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বিজয়ের নতুন যাত্রায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সুশাসন এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে যেসব সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ড. ইউনূসের বক্তব্যে সেসব তুলে ধরা হবে বলে জানান শফিকুল আলম।

পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার একনায়কতান্ত্রিক শাসনের অবসানের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের দর্শন বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করবেন অধ্যাপক ইউনূস। নিজেদের গর্বিত ও মর্যাদাশীল দেশের জনগণ হিসেবে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ কীভাবে নিজেদের তুলে ধরবে, সেটিই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাবেন প্রধান উপদেষ্টা।

শফিকুল আলম জানান, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করে তিনি ভূরাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হতে উদাত্তভাবে আহ্বান জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বেশ কয়েকটি দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। এছাড়া তিনি আরও কিছু সাইড ইভেন্টেও অংশ নেবেন।




দিল্লিতে ৪৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতাগ্রহণের পর ভারতে ইলিশ রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে চলমান উৎসবে ইলিশের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ভারতীয় মাছ ব্যবসায়ীদের। তাই তারা অবৈধভাবে ইলিশ আমদানি অথবা মজুদকৃত হিমায়িত ইলিশ আকাশচুম্বী দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে কলকাতা, দিল্লি, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে প্রতিকেজি ইলিশ ৪ হাজার টাকার বেশিতে বিক্রি হচ্ছে। যার ফলে, ভোজনরসিক ভারতীয়দের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লিতে এক কেজি বাংলাদেশি ইলিশ ৩ হাজার রুপিতে (৪ হাজার ২৯৫ টাকা) বিক্রি হচ্ছে। এরপরই রেস্তোরাঁ মালিকরা তাদের উৎসবের মেনুর দাম বাড়ানোর কথা ভাবছেন, যা ভারতীয়দের কপালের চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

কলকাতার বিখ্যাত গড়িয়াহাট বাজারের এক মাছের পাইকারি বিক্রেতাও একই সুরে বলেন, তিনি দেড় কেজি ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ২ হাজার রুপিতে বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, ভারত বাংলাদেশের ইলিশের সবচেয়ে বড় আমদানিকারক। নিষেধাজ্ঞার আগে কলকাতা ও দিল্লিতে টাটকা ইলিশ ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হত। এখন গোপন চ্যানেলের মাধ্যমে ইলিশ অবৈধভাবে ভারতে আসছে।




তেঁতুলিয়া নদীর বেদে সম্প্রদায় জীবনযাত্রায় লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদী কুলে বসবাস করছে ভাসমান জেলে বেদে সম্প্রদায়। শতাধিক নৌকায় প্রায় সহস্রাধিক মানুষের পানি বসতি। পেশা নদীতে মাছ ধরা। আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। মধ্যমেয়াদীদেশ হিসাবে বাংলাদেশ পরিচিতি লাভ করছে। যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং জীবন জীবিকায় দেশ উন্নয়ন হচ্ছে। প্রতি বছর আর্থিন বাজেট হতোদরিদ্র ও প্রান্তিকপেশার উন্নয়ন জন্য বাজেট সহ বিভিন্ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এই উন্নয়নের প্রকল্প বাস্তবায়নের বাইরে রয়েছে প্রান্তিক পেশাজীবি বেদে সম্প্রদায়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, দক্ষিণাঞ্চলের উপকুলীয় এলাকায় তেতুঁলিয়া নদীতে স্বাধীনতার পর থেকেই বেদে সম্প্রদায় বাস করছে। পেশা হচ্ছে, সারাদিন নদীর মধ্যে মাছ ধরা। সন্ধার পুর্বে কালাইয়া বন্দরের পাশে এসে নৌকার পাড়ি জমানো। নেই নাগরিকতার ভোটার অধিকার। ভোটের সময় আন্ত ইউনিয়ন (নাজিরপুর-কালাইয়া) সীমানা বিরোধ কারনে ভোটার হতে পারেনি।

উপজেলার কালাইয়া ও নাজিরপুর ইউনিয়ন মধ্যেবতী হচ্ছে তেঁতুলিয়া নদীর পাড় সরকারি সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রায় অর্ধশত নৌকার বহরে ২৫০ জন বাসিন্দা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধশত শিশু কোনো স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি।

দেখা গেছে, প্রতিটি নৌকার স্বামী ও স্ত্রী দুজনেই মাছ ধরার কাজে ব্যস্ত। স্যানিটেশন অবস্থা নাজুক। নৌকার ঢালিকে বসে প্রাকৃতিক কাজটি সম্পন্ন করেন। আবার ওই নদীর পানি দিয়েই রান্না বান্না সহ সকল কাজ করেন।

সরেজমিন চিত্রে দেখা গেছে, বেদে সম্প্রদায় মধ্যে রয়েছে ইউনিটি। নেতার ছাড়া কথা বলতে নারাজ। বেদে সম্প্রদায় কয়েকজন জানান, তাদের ভিতর দাম্পত্য জীবন নিয়ে কোনো ঝগরা বিবাদ বা কলহ বাদলে নেতার স্বরনা পন্ন হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাই মুসলমান দাবি করেন। তবে তাদের বিবাহ কার্যটি তাদের মধ্যেই থেকেই করে থাকে। বাল্যবিবাহ আইন সর্ম্পকে তারা বেশি সচেতন না। ১২ বছর পা দেয়ার সাথে সাথেই ছেলে মেয়ের বিবাহ হয়ে যায়। বিবাহ বছর শেষ হতে না হতেই নব দম্পতির কুল জুড়ে আসে নতুন শিশু। এটাই তাদের বিনোদন একমাত্র মাধ্যম।

বেদে সম্প্রদায় আয় ব্যয় সর্ম্পকে জানতে চাইলে উপস্থিত কয়েকজন বলেন, কোনো আয় ব্যয় বুঝি না। মাছ ধরি বিক্রি করি। বাজার সদায় করে খেয়ে ফেলি।
ঋন সর্ম্পকে জানা যায়, মেইন ল্যান্ড বন্দর কোনো ব্যক্তি তাদের ধার দেয় না। নৌকার বহরের নিজেদের মধ্যে ধার-দেনা করতে হয়।
মৃত্যু ব্যক্তির দাফন সর্ম্পকে জানতে চাইলে মুখ আড়াল করে বলেন, মাটি নেই দাফন করব কোথায় তাই নদীর পাড়ে কোপে রাখতে হয়। ধান কাটা মৌসুমে তাদের নৌকার বহর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় অন্যান্য এলাকা থেকে কালাইয়া বন্দরে এসে যোগ দেয়।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, হতোদরিদ্র প্রান্তিক পেশাজীবীর উন্নয়ন জন্য বেসরকারি সংস্থা কাজ করার লক্ষ্য উদ্দেশ্য থাকলেও তারা প্রদর্শনীয় হিসাবে উপজেলার সদর এলাকায় কাজ করে থাকে। দাতা সংস্থার কোটি কোটি টাকা খরচ করার জন্য প্রশিক্ষন, সেমিনার সভা সমাবেশ, ক্রসলার্নিং ভিজিট কর্মসূচী মধ্যে দিয়ে বছর শেষ করেন। পক্ষান্তরে দরিদ্র মানুষকে উন্নয়নের কথা বলে নিজেদের কর্মসংস্থান নিয়ে ব্যস্ত থাকে। উপজেলার সদরের জাতীয় পর্যায়ে একাধিক এনজিও থাকলেও বেদে সম্প্রদায় নিয়ে তাদেও কোনো পরিকল্পনা নেই।

একাধিকসূত্রে জানা গেছে, বাউফলের তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে বেদে সম্প্রদায় মতো কলাপাড়া, গলাচিপা, পটুয়াখালী জেলার লোহালিয়া নদীর মধ্যে বেদে সম্প্রদায় আছে। দক্ষিণাঞ্চলে কালাইয়া বন্দর। ঢাকা থেকে আসা যাওয়া যাত্রাপতিকদের দেখার নিদর্শন এ বেদে সম্প্রদায়। নারী পুরুষ একসাথে কাজ করছে। রান্নাবান্নাসহ সম্পুন্ন নদীর মধ্যে। বিনোদন বলতে প্রায় নৌকায় রেডিও ও ট্যাপ শোনা। আর্থিক স্বচ্ছল ২/১টি নৌকায় সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে টিভি দেখা যাচ্ছে।




পটুয়াখালীতে এক ট্রলারেই মিলল ১০২ মণ ইলিশ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এক ট্রলারে মিলেছে ১০২ মণ ইলিশ মাছ। যার বাজারমূল্য ১৯ লাখ টাকারও বেশি।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে এসব মাছ আলীপুরে মেসার্স কামাল ফিশ নামের একটি মৎস্য আড়তে নিয়ে আসা হয়। পরে মাছগুলো নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয় ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩শ টাকায়।

মাছগুলো বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা থেকে পূর্ব-দক্ষিণ দিকে ৯৫ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে ধরা পড়ে।

জানা গেছে, এফবি নাহিদা আক্তার নামের মাছ ধরা ট্রলারটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর আলীপুর ঘাট থেকে সমুদ্রে যায়। তিন দিন সমুদ্রের বিভিন্ন এলাকায় জাল ফেলে কাঙ্ক্ষিত মাছ পায়নি। বৃহস্পতিবার জাল ফেলে ১০২ মণ মাছ পেয়েছে। মাছগুলো আলীপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে এসে তিনটি সাইজে আলাদা করা হয়।

তবে মাছের সাইজ ছোট হওয়ায় দাম কম পেয়েছে। ৬০০ গ্রাম থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের মাছ প্রতি মণ ২৫ হাজার টাকা, ৪০০ গ্রাম থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ মাছ ২০ হাজার টাকা এবং ছোট সাইজের প্রতি মণ মাছ ১৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৯ লাখ ২০ হাজার তিনশ টাকা হয়েছে।

এফবি নাহিদা আক্তার ট্রলারের মালিক আব্দুল মন্নান বেপারি বলেন, অনেক দিন ধরে সাগরে খুব কম মাছ ধরা পড়ছে। আমাদের লোকসান গুনতে হচ্ছিল। এই মাছ বিক্রি করে আগের লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারব।




জলবায়ু তহবিলের দাবিতে কলাপাড়ায় সাইকেল র‌্যালি অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় জলবায়ু তহবিলের দাবিতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় “সাইকেল র‌্যালি” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ফাতেমা হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের স্কুলের প্রাঙ্গণে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, ধরিত্রী রক্ষায় আমরা(ধরা), এশিয়ান এনার্জি নেটওয়ার্ক, এপিএমডিডি এর উদ্যোগে এই র‌্যালির আয়োজন করা হয়। সাইকেল র‌্যালিটি বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু হয় এবং বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সাইকেল র‌্যালি শেষে বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ এর আঞ্চলিক সমন্বয়ক মেজবাহ উদ্দিন মান্নু বলেন, বিশ্বব্যাপী অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ হিসাবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন সমগ্র বিশ্বের সমস্যা হলেও বাংলাদেশের মতো দরিদ্র দেশগুলো এর ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করছে সবচেয়ে বেশি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণকে রক্ষা করা তাদের নৈতিক দায়িত্ব। আমরা প্রত্যাশা করি, উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

ফাতেমা-হাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, কয়লাভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ২০২১ সালের পর কয়লানির্ভর নতুন কোনো বিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থায়ন না করার ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান। জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর একটি আলাদা তহবিল সৃষ্টির দাবি করছি।

আরও উপস্থিত ছিলেন আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক নাজুস সাকিব, সিপিপি টিম লিডার ওমর পাটোয়ারীসহ অন্যান্য পরিবেশ কর্মী বৃন্দ।

সাইকেল র‌্যালিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আমরা কলাপাড়াবাসী, কুয়াকাটা বয়েজ ক্লাব, কুয়াকাটা ট্যুর গাইড এবং কুয়াকাটা তরুন ক্লাবের সহযোগিতায় সাইকেল র‌্যালিটি অনুষ্ঠিত হয়।




১০ম গ্রেডের দাবিতে পটুয়াখালীতে প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় মানববন্ধন করেছেন প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা পরিষদের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন করেন শিক্ষকেরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক বিভাগে সহকারী শিক্ষকরা এখন পর্যন্ত তৃতীয় শ্রেণি পদমর্যাদা সম্পন্ন ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। জাতি গঠনে শিক্ষার প্রথম স্তরে শিশুদের শিক্ষা দিচ্ছেন এ বিভাগের শিক্ষকরা।

অথচ কঠোর পরিশ্রম করেও তারা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদায় রয়েছেন। যা ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তাই ১৩তম গ্রেড পরিবর্তন করে ১০তম গ্রেড দিতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি জানান শিক্ষকরা।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, সহকারী শিক্ষক লিমন আনসারী, ইসমাইল হোসেন, গাজী শফিকুল ইসলাম, লাভলী ইয়াসমিন প্রমুখ।




১ দফা দাবিতে পটুয়াখালীতে নার্সদের অবস্থান কর্মসূচি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক এবং বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের, প্রেসিডেন্ট এবং রেজিস্টার পদ থেকে নন-নার্স প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপসারণ, এসব পদে নার্সদের পদায়নের ১ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদ, পটুয়াখালী জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত নার্সগন কর্ম বিরতি নিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ব্লক ই এর সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

এসময় বক্তব্য রাখেন এসিস্ট্যন্ট নার্সিং সুপার ভাইজার মোসা আয়শা বেগম, সিনিয়র স্টাফ নার্স ফাতেমা শরীফ, সিনিয়র স্টাফ নার্স মাখনূন প্রমুখ বক্তারা বলেন, প্রতিটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নার্সগন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিনভর রোগীদের সেবা দেন। কিন্তু নার্সদের বিষয়ে বলার মত কেউ নেই।

নার্সদের জন্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর রয়েছে কিন্তু সেখানে নন নার্সগন দায়িত্বে রয়েছেন এবং ব্যবসা কেন্দ্র খুলে বসেছেন। এর প্রতিকারে মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের, প্রেসিডেন্ট ও রেজিস্টার পদ থেকে নন-নার্স প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাদের অপসারণ এবং এসব পদে নার্সদের পদায়নের দাবি জানান তারা।




ভারত ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল রাখার চেষ্টা করেছে!

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শেখ হাসিনার শাসনামলে ভারত গোপনে  প্রভাব খাটিয়ে  বাংলাদেশের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করে রেখেছে বলে অভিযোগ। লক্ষ্য একটাই বাংলাদেশের সেনা ভারতের দিকে যাতে কোনো স্ট্র্যাটেজিক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে না পারে। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করছে- সামরিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। ১৭০ মিলিয়ন জনসংখ্যার দেশটির হাতে রয়েছে মাত্র ৮ টি মিগ্, ২৯ টি ফাইটার জেট। 

যা প্রমাণ করে হাসিনার আমলে স্পষ্টতই দেশের সামরিক ক্ষেত্রকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও সামরিক দিক থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী পাকিস্তান। গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্স ২০২৪ এর মতে , পাকিস্তানের মিলিটারি বাহিনী বিশ্বরাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বরে রয়েছে।

বিশেষ করে পাকিস্তানের বিমান বাহিনী উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী – তাদের হাতে রয়েছে   জেএফ-১৭ , ২৫ টি জে-১০সি ফাইটার জেট।  জিম্বাবুয়েকে ১২-এমএফআই-১৭ সুপার মুশশাক প্রশিক্ষক বিমান সরবরাহ করার জন্য পাকিস্তান আরেকটি বহু মিলিয়ন ডলারের চুক্তি পেয়েছে। এখানেই শেষ নয় । পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে প্রায় ৬৫,০০০ পূর্ণকালীন কর্মী (যার মধ্যে ৩,০০০ জন পাইলট) রয়েছেন এবং তারা বর্তমানে প্রায় ৮৮৩টি উড়োজাহাজ পরিচালনা করে। চীন পাকিস্তান বিমান বাহিনীকে (পিএএফ) জে-৩১ স্টিলথ ফাইটার অফার করেছে। পাকিস্তানের অস্ত্রসম্ভারে  রয়েছে তুরস্কের অত্যাধুনিক বন্দুকও । এখানে আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে চলবে না মুসলিম বিশ্বে একমাত্র পাকিস্তানের হাতেই রয়েছে নিউক্লিয়ার পাওয়ার বা পারমাণবিক শক্তি।

নিজের নিরাপত্তার স্বার্থে ভারত সবসময় চেয়ে এসেছে বাংলাদেশের মিলিটারি বাহিনী দুর্বল হয়েই থাকুক। আর তাই সামরিক বিভাগে বরাদ্দ না বাড়িয়ে ভারতকে সাহায্য করে  এসেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  ভারত জানে যদি বাংলাদেশের মিলিটারি বাহিনী শক্তিশালী হতে শুরু করে তাহলে এই অঞ্চলে ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশের অর্থনৈতিক এবং সামরিক খাতকে শক্তিশালী করা। পাকিস্তানের থেকে সামরিক সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজের মিলিটারি বাহিনীকে শক্তিশালী এবং উন্নত করতে পারে, যে সহায়তা তারা ভারতের থেকে পায়নি। যে কোনো বিদেশী শক্তির বিপরীতে বিশেষ করে ভারতকে টেক্কা দিতে পাকিস্তান -বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে একটি নতুন শক্তি  হিসেবে উদ্ভুত করে l




চাকরি থেকে অবসরের বয়স নির্ধারণ করে প্রস্তাব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ এবং অবসর ৬৫ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ)’। প্রস্তাবটি যাছাই-বাছাইয়ের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। 

চাকরি ও অবসরের বয়সের বিষয়টি নির্ধারণের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে সেখানেও পাঠনো হয়েছে এই চিঠি।

বিএএসএ মহাসচিব মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চাকরিপ্রার্থীদের পক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ প্রস্তাব পাঠান। এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসনে পাঠানোর সময় সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাওয়া পত্র প্রেরণ করা হলো। বর্ণিত বিষয়ের সঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিধির সম্পৃক্ততা থাকায় সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।