দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে বাউফলের মৃৎশিল্প

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বাউফলের পালপাড়ার উৎপাদিত মৃৎশিল্প পণ্য গুণে ও মানে উন্নত হওয়ায় যাচ্ছে দেশের নামিদামি শোরুম ও শপিংমলে। দেশের দক্ষিণ উপকূলে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ শিল্প এখন সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। তাদের তৈরি পণ্য বিক্রি হচ্ছে অনলাইন মার্কেটেও। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকার অর্ধশত দেশে রপ্তানি হচ্ছে মাটির তৈরি এসব পণ্য।

স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মন্দা ভাব থাকলেও গত দুই দশকে পালদের ব্যবসায় সুবাতাস বইছে। ফলে দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে বাউফলের মৃৎশিল্প।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছরের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে একসময় মাটির তৈরি পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে এখন সারা বছরই এ পণ্য উৎপাদন হয়। একসময় শুধু শোপিস ও ফুলের টব তৈরি করা হতো। বর্তমানে প্লেট, গ্লাস, বাটি, চায়ের কাপ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সাইজের বাটিসহ ডিনার সেট তৈরি হচ্ছে। গুণগত মান সম্পন্ন এবং নান্দনিক হওয়ায় এসব পণ্য উৎপাদন করে সারা দেশে তাক লাগিয়েছেন তারা।

বরুন মৃৎ শিল্পের স্বত্বাধিকারী বরুন পাল বলেন, ১৯৮৪ সালে থেকে আমার এ কাজের অভিজ্ঞতা। আড়ংয়ের সাথে আমি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত কাজ করেছি, এখন আড়ংয়ের সাথে কাজ করি না। আমার নিজের পণ্য নিজেই দেশে-বিদেশে বিক্রি করতে পারি। গ্রামের ভেতরে আমি গরিব-মধ্যবয়স্ক মহিলাদের নিয়ে ফ্যাক্টরিটি করেছি।

তিনি আরও বলেন, কিছু বাংলাদেশি বায়ার আছেন তারা আমার এখানে অর্ডার দিয়ে পণ্য নিয়ে যান। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছে, সেজন্য ফরেনার আসতে হয় না। বাংলাদেশি বায়ারের মাধ্যমে প্রচুর পণ্য দেশের বাইরে যাচ্ছে।

মৃৎশিল্পের শ্রমিক সঞ্জয় দেবনাথ বলেন, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আমরা কাজ করি। যারা কাজ জানি তারা প্রতি মাসে ৩০-৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকি। আর যারা হেলপার রয়েছে তারা ১২-১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করে। এখানে নারী শ্রমিক যারা রয়েছে তাদের প্রতিদিনের বেতন ১৫০ টাকা পর্যন্ত থাকে। আর যারা নকশার কাজ জানেন তাদের ২৫০-৩০০ টাকা পর্যন্ত থাকে।

মৃৎশিল্পের শ্রমিক শিবানী রানী বলেন, আমরা এই কারখানায় ৮-১০ জন মহিলা কাজ করি। আমি এখানে ডিজাইনের কাজ করি, প্রায় ২০ পদের ডিজাইনের কাজ করতে পারি।

মৃৎশিল্পের তরুণ উদ্যোক্তা হ্রদয় রয় বলেন, এক বছর যাবত এই পণ্য নিয়ে অনলাইনে কাজ করছি। আগে অন্য পণ্য নিয়ে কাজ করতাম। এই এলাকায় (পালপাড়া) আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। এই পণ্যগুলো নিয়ে এক বছর ধরে কাজ করতে গিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ এই পণ্যগুলো অনেক বেশি পছন্দ করে। এটি যেমন ব্যবহারের জন্য শৌখিন একটি পণ্য, তেমনি মানসম্মত। আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি এবং চেষ্টা করছি এটা নিয়ে বৃহৎ আকারে কাজ করার।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বশির গাজী বলেন, বাউফলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প পণ্য ঢাকার আড়ংসহ দেশের বাইরে রপ্তানি হয়। এঁটেল মাটি দিয়ে এ শিল্পের কাজ করা হয়। এ মাটি বাউফলে পাওয়া যায় না। পার্শ্ববর্তী এলাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলা থেকে উদ্যোক্তারা নিয়ে আসে। মৃৎশিল্পের মাটি কিনতে গিয়ে যাতে হয়রানির শিকার না হয় এজন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি।




গলাচিপায় ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বেইজ বিল্ড ডিজিটাল একাডেমি, গলাচিপা, পটুয়াখালী এর প্রধান উপদেষ্টা মো. মহিউদ্দিন আল হেলালকে সরকারি বদলিজনিত কারণে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

বেইজ বিল্ড ডিজিটাল একাডেমির আয়োজনে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় গলাচিপা পৌর শহরের ফিডার রোডে অবস্থিত বিদ্যালয়ের হল রুমে ফুলেল শুভেচ্ছা ও ক্রেস্ট প্রদানের মাধ্যমে তাঁকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

ইউএনও মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল বলেন, বিধি অনুযায়ী সরকারি বদলিজনিত কারণে আজ আমি আপনাদেরকে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছি। দীর্ঘ দিন আপনাদের সঙ্গে থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে অনেক পরামর্শ দিয়েছি ও নিয়েছি। আপনাদের ভালবাসা পেয়েছি। কখনো আমাকে প্রয়োজন মনে করলে সাধ্যমত সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। এই বিদায়ক্ষণে বেশি কিছু বলার নেই। যদি কোন কারণে কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকি তবে ক্ষমা করে দিবেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, উপজেলা জনস্বাস্থ্য উপসহকারী আবদুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা সহকারী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সাইয়ুম, মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আবু কালাম মোহাম্মদ সাঈদ, বেইজ বিল্ড ডিজিটাল একাডেমির সাবেক প্রধান শিক্ষক ও উপদেষ্টা আবুল কালাম আজাদ, পরিচালক কাওসার নাঈম শুভ্র, মো. রিয়াদ হোসাইন ও মো. তারিকুজ্জামান তাজ, সহকারি প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান সুমন প্রমুখ।

এ ছাড়াও বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক রেদওয়ান করিম তালাল। সঞ্চালনা করেন সহকারি শিক্ষক লুৎফর রহমান আওলাদ।




বাউফলে ১১ সদস্যের ভূমিহীন পরিবার পলেথিন ছাপড়ায় জীবনযাপন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে ধানদী গ্রামে পারভীন বেগম ১১ সদস্য পরিবার নিয়ে পলিথিন ছাপড়ায় মধ্যে জীবন যাপন করেছে। উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ধান্দী গ্রামের ৫নং ওয়ার্ড বসতী তার। ধান্দী বাজার দক্ষিন দিকে কালাইয়া-ধান্দী পাকা সড়ক তেতুঁলিয়া নদীর কুলে পানির ডোবা মধ্যে পলেথিন ছাপড়া চারদিকে হোগল পাতা বেড়া নিচে কাঠের তক্তার পাটাতন। স্বামী, স্ত্রী, ছেলে, ছেলে বউ এবং নাত-নাতনী নিয়ে একই ছেড়াকাথায় রাত কাটাচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিন ধান্দী গ্রামে গেলে প্রতিনিধিকে নিয়ে পারভীন তার পরিবারকে নদীর কুলে যায়। হাতের ইশারা দেখান সেই পূর্বে বসতবাড়ী যা নদীর মধ্যে লঞ্চ নৌকা চলাচল করছি। নদী বিলীন দেখিয়ে বারবার দাবি করেন একটি টুকরো জমির।

বজলু হাওলাদার সাথে আলাপ চারিতায় জানা যায়, ৪ বছর আগে তেতুঁলিয়া নদীতে বিলীন হয়ে যায় ৩০ শতক বসতবাড়ি ও কৃষি জমি। ৩ ছেলে মেয়ে ও নাত-নাতনী নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, পারভীন বসতবাড়ি তেতুঁলিয়া নদীতে বিলীন হওয়ার পরে চর রায়সাহেব আদর্শগ্রামে একটি থাকার ঘর পেলেও ওই এলাকায় কাজের সংকট দেখা দেয়। ওই চরে যেখানে যায় সেখানে কাজের বাঁধা। আদর্শ গ্রামে ২ মাস থাকার পরে কাজ না পেয়ে নিজ ধানদী গ্রামে আসতে বাধ্য হয়।

স্পিড ট্রাস্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী সালমা বেগম বলেন, স্টার ফর হারল্যান্ড ক্যাম্পেইন প্রকল্পের ভূমিহীন দলের একজন সদস্য। ভূমিহীন দলের মাধ্যমে স্থানীয় চেয়ারম্যান মাধ্যমে ভূমিহীন সনদ গ্রহন করে থাকে। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সহকারারী কমিশনার (ভুমি) সচেতনতামূলক সভায় খাসজমি দাবি করেন। এ সময় প্রতীক কুমার কুন্ডু বর্তমান খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান বন্ধ তবে গুছ্চগ্রামে বন্দোবস্ত প্রদান রয়েছে। বাউফল উপজেলা ও জেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

নাজিরপুর ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান সহিদুল আলম জানান, ধান্দী গ্রামের মধ্য সবচেয়ে হচ্ছে বজলু হাওয়ালাদার ও পারভীন পরিবার। বর্তমানে তেতুঁলিয়া নদীর পাড়ে ডোবার মধ্য ডেড়াবাধ দিয়ে জীবন যাপন করেছে।




বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা পাবেন ভিআইপি সুবিধা: আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, “দেশের বিমানবন্দরে সেবার মান ইতোমধ্যে উন্নয়ন করা হয়েছে। আরেকটি সেবা আমরা চালু করতে যাচ্ছি সেটি হচ্ছে, বিমানবন্দরে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশে আসলে ভিআইপি সেবা পাবেন। একজন ভিআইপি এয়ারপোর্টে যেসব সুবিধা পান, লাউঞ্জ ব্যবহার ছাড়া সব সুবিধা তাদের দেবো।”

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “একজন ভিআইপি যখন এয়ারপোর্টে যান তখন তার লাগেজ নিয়ে একজন সঙ্গে থাকেন, চেকইন করার সময় সঙ্গে একজন থাকেন, ইমিগ্রেশন করার সময় পাশে একজন থাকেন। প্রাথমিকভাবে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের কর্মীদের টার্গেট করেছি। ইউরোপের কর্মীদের পড়ে করবো। প্রথম স্তরে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়া এবং ফেরত আসা একজন কর্মী ভিআইপি ট্রিটমেন্ট পাবেন। লাউঞ্জ ব্যবহার করতে দেওয়ার বিষয়ে আমরা পরে চিন্তা করছি, এটা অনেক পরের কাজ। আগামী দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে আমরা যেটা করবো, বিমানবন্দরে যাওয়ার পর একজন কর্মীর যে অসহায় অবস্থা তৈরি হয় সেটি দূর করবো।”

তিনি আরও বলেন, “কর্মী কোন গেট দিয়ে প্রবেশ করবেন, চেক ইন কীভাবে করবেন, ফর্ম পূরণ করা লাগলে কীভাবে করবেন, ইমিগ্রেশনে কোনো কাগজ চাইলে কীভাবে সেটি করবেন এসব কাজে নিয়োজিত থাকবে বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক। দরকার পড়লে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ট্রেনিং দিয়ে নতুন লোক নিয়োগ করবো। আমরা এটি দুই সপ্তাহ থেকে এক মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করবো। একজন প্রবাসী যেন কোনো অবস্থাতেই এয়ারপোর্টে হয়রানির শিকার না হন, অপমানিত বোধ না করেন এই ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স থাকবে। আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করে ছাড়বো।”




ডিসির পদায়নে ‘তিন কোটি টাকার চেক’, সত্যতা খুঁজতে কমিটি

চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন : একটি জাতীয় দৈনিকে ‘তিন কোটি টাকার ক্যাশ চেক দিয়ে ডিসির পদায়ন’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার অতিরিক্ত সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. লিয়াকত আলী এ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবেন।

তদন্ত কমিটিকে চেকের সত্যতা যাচাই করে আগামী তিন দিনের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সোমবার একটি দৈনিকে ‘তিন কোটির ক্যাশ চেক দিয়ে ডিসির পদায়ন’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বিতর্কিত ডিসি নিয়োগকাণ্ডের অন্যতম হোতা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিবের (এপিডি) কক্ষ থেকে ৩ কোটি টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে। পদায়ন হওয়া এক জেলা প্রশাসকের পক্ষে ওই যুগ্ম সচিবকে চেকটি দেন এক ব্যবসায়ী। তবে কাঙ্ক্ষিত জেলায় পদায়ন না হওয়ায় চেকের বিপরীতে টাকা জমা দেননি ডিসি।

অন্যদিকে, সব কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চেকদাতা ওই ব্যবসায়ী। বিষয়টি নিয়ে সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে বলে দাবি করা হয় ওই সংবাদে।




বাউফলে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলেকে নিয়ে বিপাকে মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নিলুফা বেগম (৫৫)। তার স্বামী ২০ বছর আগে সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে চলে গেছেন। তার অবর্তমানে ছেলে শাফিনকে নিয়ে বিপাকে পরে যান মা নিলুফা। ছেলে শাফিন লেখাপড়ায় ভালো হওয়ায় অনেক আশা ছিল তার। ছেলের পড়াশুনার খরচ মেটাতে নিলুফা বেগম বাধ্য হয়ে অন্যের বাসায় কাজ করেন। তার স্বপ্ন ছেলে বড় হয়ে চাকরি করলে সব দুঃখ-কষ্ট শেষ হয়ে যাবে। ২০১৫ সাল থেকে হঠাৎ অজানা কারণে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে শাফিন। তার মা বিভিন্ন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে ডাক্তার দেখালে শাফিন মানসিক ভারসাম্য কিছুটা ঠিক হলে আবারও ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

অন্যদিকে, তার মা নিলুফা বেগমের এখন মেরুদন্ড ও পায়ের হাড়ে ক্ষয় রোগ হয়েছে। যার কারণে এখন আর তিনি অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পারেন না। সোজা হয়ে ঠিকভাবে দাঁড়াতে পারে না নিলুফা। মানুষের ধারে ধারে হাত পেতে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে কোনোরকম দিন পার করছে মা-ছেলে।

নিলুফা বেগম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা।

সরেজমিনে নিলুফা বেগমের বাড়িতে দেখা যায়, মাথা গোজার জন্য পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে পাওয়া একমাত্র টিন দিয়ে বানানো ছোট ঘরে দুই মা-ছেলে বসবাস করেন। এছাড়া, তাদের বাসায় যাওয়ার জন্য নেই কোনো রাস্তা, যেতে হয় কাদা-মাটি পার হয়ে।

নিলুফা বেগম বলেন, ‘আমার অনেক আশা আছিলো। সবাই বলছে ও রেজাল্ট ভালো করে ওরে (শাফিন) পড়াও। আমি কষ্ট কইরা, কাজ কইরা ছেলেরে পড়াইছি। আইএ পাশ করছে। এ প্লাস পাইছে। ঢাকা দিছিলাম এরপর ব্রেন্টে সমস্যা হইছি। দেশের বাড়িতে আনার পর ডাক্তার দেখাইছি ফকির দেখাইছি। দেখানোর পর কিছু বুঝি নাহ। ছেলের বন্ধুরা টাকা পয়সা দিছে হেইয়া দিয়া মানসিক হাসপাতালে ডাক্তার দেখাইছি। এহন ঔষধ চলে পুরাটা ঠিক হয় নাই। এহন ওই আল্লাহ উপর ভরসা।’

কান্নাজড়িত কন্ঠে নিলুফা বেগম আরও বলেন, ‘আমি এহন কি করমু? মানষের কাজ করছি, এহন মেরুদন্ড সমস্যা হইছে। ডাক্তারে বলছে আপনি কোনো কাজ করতে পারবেনা, ভাড়ি জিনিস লইতে পারবেন নাহ। এহন কি কইরা চলমু আমার তো কোনো লোহা লক্কর নাই। আমার কোনো অর্থ সম্পদ নাই, কিচ্ছু নাই একমাত্র মালিক ছাড়া।

তিনি আরো বলেন, ‘আমার বাবার কাছে যৌতুক চেয়েছিলো আমার স্বামী, যৌতুক না দেওয়ায় আমাকে ডিভোর্স এর কাগজ দিয়া চইল্লা গেছে। আমি এই ছেলে (শাফিন) লইয়া হাবুডুবু করছি। সে বিয়া করছে, আমি বিয়া করি নাই। আমি আল্লাহরে ভাইব্বা এই ছেলে দেইখা রইছি। সে ছেলের কোনো খোঁজ খবর নেয় না, ছেলেকে পাত্তা দেয় নাহ। কোনো খরচও দিতে চায় না।’

মানসিক ভারসাম্যহীন শাফিনের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তখন তিনি অদ্ভুত কিছু কথা বলেন। এছাড়া কিছুতেই যেন কথা ঘুছিয়ে বলতে পারছিলেন নাহ শাফিন।

এলাকাবাসীরা জানান, নিলুফা বেগম খুবই অসহায়। অনেক আগেই তার স্বামী চলে গেছে। খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছে। তার ছেলে শাফিনের দীর্ঘদিন ধরে ব্রেন সমস্যা। ওর মা অনেক ট্রিট মেন্ট করছে, বর্তমানে এখন যে ট্রিটমেন্ট করবে এজন্য কোনো টাকা পয়সা নাই। বৃত্তবানদের এই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন স্থানীয়রা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বশির গাজী বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নাই, আমি খোঁজ খবর নিবো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’




অমিত শাহ’র বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো করে ঝুলিয়ে সোজা করা হবে’— ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র এই বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ ক‌রে‌ছে বাংলা‌দেশ।

সোমব‌ার (২৩ সে‌প্টেম্বর) ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা প্রতিবাদ নোটে এ কথা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হ‌য়ে‌ছে, সম্প্রতি ভারতের ঝাড়খন্ড সফরে গি‌য়ে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি নাগরিকদের নি‌য়ে অত্যন্ত অশোভন মন্তব‌্য ক‌রে‌ছেন। তার এমন বক্তব্যের কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলা‌দেশ।

সোমবার ঢাকায় ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা প্রতিবাদ নোটের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব‌্য নিয়ে অস‌ন্তোষ প্রকাশ ক‌রে‌ছে। একই স‌ঙ্গে ভারত সরকারকে রাজনৈতিক নেতাদের এ ধরনের আপত্তিকর ও অগ্রহণ‌যোগ‌্য কাজ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শের আহ্বান জানানো হ‌য়ে‌ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে আসা এই ধরনের মন্তব্য দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার মনোভাবকে ক্ষুণ্ন করে।

এর আগে শুক্রবার ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করবেন বলে হুমকি দেন।

তিনি বলেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারলে প্রত্যেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বের করে উল্টো ঝুলিয়ে রাখা হবে।

দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে বিজেপিকে সরকার গঠনে সহায়তা করার জন্য জনতার প্রতি আহ্বান জানান অমিত শাহ। এ সময় তিনি বাংলাদেশি অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

ঝাড়খণ্ডের সাঁওতাল পরগণা জেলায় উপজাতি জনগোষ্ঠীর লোকজনের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা সম্পর্কে অতীতে বিজেপির বিভিন্ন নেতার করা মন্তব্যের সঙ্গে সুর মেলান তিনি।




পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে ইয়ামিনের মরদেহ ফেলার দৃশ্য ভাইরাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) কম্পিউটার সাইন্স বিষয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিন। খবর বাসস।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তখন নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছিল পুলিশ। জোহরের নামাজ পড়ে বের হয়ে বাসায় ফিরছিলেন ইয়ামিন। ঠিক তখনই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে উঠায়। একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনের নিথর দেহ পুলিশের সাঁজোয়া যান থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। আর এ দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এই বর্বরোচিত ঘটনা দেখে দেশের মানুষ বিস্মিত ও হতবাক হয়ে যায়। পুলিশের বর্বর নির্মমতার শিকার গুলিবিদ্ধ ইয়ামিন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ইয়ামিনের বাবা-মা বর্তমানে সাভার ব্যাংক টাউনে বসবাস করলেও তাদের গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী।

মহিউদ্দিন ও নাসরিন সুলতানা দম্পতির একমাত্র ছেলে ইয়ামিন। অত্যন্ত মেধাবী শান্তশিষ্ট ছিল ইয়ামিন। এমআইএসটির হলে থেকেই পড়াশোনা করত ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ১৭ জুলাই তার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ ঘোষণা করা হয় আবাসিক হলও। ১৭ জুলাই সাভার নিজ বাসায় চলে যান ইয়ামিন। পরদিন স্থানীয় মসজিদে জোহরের নামাজ পড়তে গিয়ে পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হন ইয়ামিন।

ইয়ামিনের মামা মো. আব্দুল্লাহ আল মুন কাদির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, অত্যন্ত মেধাবী ও বিনয়ী ছিল ইয়ামিন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই জোহরের নামাজ পড়ে বাসায় ফেরার সময় সাভার ব্যাংক টাউন এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিতে শহীদ হয় ইয়ামিন। ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ নিথর দেহ পুলিশ তাদের সাঁজোয়া যান এপিসিতে তুলে নেওয়ার পর নির্মম ও বর্বরোচিত কায়দায় নিচে ফেলে দেয়। ইয়ামিনকে ফেলে দেওয়ার সেই ভয়াবহ দৃশ্য গণমাধ্যমে দেশবাসী দেখেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন নির্মূলে এমন নিষ্ঠুরতম আচরণে দেশের ছাত্র-জনতা তখন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে।

তিনি বলেন, এই বর্বরোচিত ঘটনা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। নির্মম এই ঘটনার বিচার চেয়ে ২২ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বরাবর অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ শাইখ আস-হা-বুল ইয়ামিনকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাধায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা যায়নি। মরদেহ নিয়ে গ্রামেও যেতে দেয়নি পুলিশ।

পুলিশের সাঁজোয়া যান এপিসি থেকে ইয়ামিনের গুলিবিদ্ধ দেহ রাস্তায় ফেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আবার মৃত্যুর কোনো সনদ না দিয়েই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইয়ামিনের মরদেহ হস্তান্তর করে। ঢাকা ও সাভার রেঞ্জের পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইয়ামিনের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের না করতে ভয়-ভীতি দেখান। সাভার তালবাগ পারিবারিক কবরস্থানে ইয়ামিনের মরদেহ দাফন করতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান বাধা দেন। পরে শহীদ ইয়ামিনকে সাভার ব্যাংক টাউন কবরস্থানে দাফন করা হয়।




রপ্তানীতে বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিল চীন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: চল‌তি বছরের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেবে বেইজিং।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় চীনা দূতাবাস এক বিবৃ‌তিতে এ তথ্য জা‌নিয়েছে।

চীনা দূতাবাস জানায়, গত ৫ সে‌প্টেম্বর প্রেসি‌ডেন্ট শি জিন‌পিং চীন-আফ্রিকান শীর্ষ সম্মেলনে স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশকে শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দি‌য়ে‌ছেন। আগামী ১ ডি‌সেম্বর ২০২৪-এ বাংলা‌দেশ ও চী‌নের কূট‌নৈ‌তিক সম্প‌র্ক স্থাপ‌নের দিন থে‌কে বাংলা‌দেশ শতভাগ শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পা‌বে।

জানা গেছে, ট্যারিফ কোটা ব্যবস্থাপনা সাপেক্ষে পণ্যের জন্য শূন্য-শুল্ক ব্যবস্থাপনা শুধু কোটার পরিমাণের মধ্যে থাকা পণ্যগুলোর জন্য প্রযোজ্য হ‌বে। কোটার পরিমাণ অতিক্রম করা পণ্যে মূল শুল্ক হারের অধীন হবে।

২০২২ সালে চীন ৯৮ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়, যার মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যসহ ৩৮৩টি নতুন পণ্য ছিল। ২০২০ সালে ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি পণ্য এ সুবিধা পেত।

২০২০ অর্থবছরে চীন দুই দশমিক চার ট্রিলিয়ন মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশ মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ। এই তথ্য এটাই নির্দেশ করছে যে, চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যান এমএ রাজ্জাক একটি গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন, চীনের আমদানি বাজেটের এক শতাংশও যদি বাংলাদেশ থেকে যায়, তাহলেও আমরা বছরে ২৫ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করতে পারব।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চীন থেকে ১৮ দশমিক ছয় বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। অপরদিকে, বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানি হয় ৬৭৬ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।




পাচারের অর্থ ফেরাতে সহযোগিতার আশ্বাস যুক্তরাজ্যের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় ফেরত আনতে যুক্তরাজ্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান।

সোমবার (২৩ সেপ্টেম্বর) শিল্প উপদেষ্টার নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ উপ-হাইকমিশনার ও উন্নয়ন পরিচালক জেমস গোল্ডম্যানের সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এ সময় পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান শিল্প উপদেষ্টা। এ ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেমস গোল্ডম্যান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে ব্রিটেন বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে।
একসঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে এ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উচ্চতর অবস্থায় উত্তরণ করা সম্ভব।শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এ সময় বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে যুক্তরাজ্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

এ সময় শিল্প উপদেষ্টার দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা ও অতিরিক্ত সচিব মো. সলিম উল্লাহসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে শিল্প মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে উপ-হাইকমিশনারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ব্রিটেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী।