যৌক্তিক সময়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙা হবে: নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ‘যৌক্তিক সময়ে’ নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। যৌক্তিক সময়ে কতটুকু এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যৌক্তিক সময়ে হাটে হাঁড়ি ভাঙা হবে। দেরি করবো না।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় একটি হোটেলে দায়িত্বশীল সমাবেশে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন জামায়াতের আমির।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আবেগের বশে জাতির প্রত্যাশার বাইরে যেন কাজ না করা হয়। জাতির চেতনাকে তারা যেন ধারণ করেন। ২৪ বিপ্লবের চেতনাকে তারা যেন সম্মান করেন। আবেগবশত দু-একটা কাজ হয়ে যাচ্ছে। এটা হওয়া উচিত নয়।

ভারতনীতি নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ভারতের ব্যাপারে আলাদা করে বলার কিছু নেই। ভারত যেমন একটি দেশ, আমরাও একটি দেশ। ভারত ছাড়াও আমাদের প্রতিবেশী আছে এবং বিশ্বসভায় আরও অনেকগুলো দেশ আছে। বিশ্ব সভার সব সদস্যরা আর আমরা মিলেমিশে পারস্পারিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নেব।

দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভক্তি নয়, ঐক্যই হোক এ জাতির সৌন্দয্য এবং শক্তির প্রতীক।

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলার এ দায়িত্বশীল সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোবারক হোসাইন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির আবুল হাশেম, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. আজিজুর রহমান, মেহেরপুর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাও. মাহবুবুর রহমানসহ প্রমুখ।




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত বাকেরগঞ্জের সাজিদ ও রাসেলের পরিবারে কান্না থামছেইনা

এস এস টি তুহিন :: মায়ের চোখের জল শুকিয়ে গেছে। সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার পর থেকে নির্বাক বাবা। পৃথিবীর সব ভার এখন তাকে ঋজু করে দিয়েছে। ছোট্ট শিশুটিকে বুকে আঁকড়ে ধরে নিহতের স্ত্রীর আহাজারিতে আকাশ-পাতাল ভারী হয়ে ওঠে। শিশুটি আজো ডাকে বাবা বাবা বলে। শিশুর ডাকের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ে মায়ের কান্না। ওকে কি করে বোঝাবে মা? ওর বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। সদ্য বিধবা হওয়া মায়ের আকুতি ‘আমার কি হবে? এই বয়সে কি আমার বিধবা হওয়ার কথা ছিলো? আমার এই শিশু সন্তানের কি হবে।

বরিশালের একই গ্রামে দু’জন শহীদ পরিবারে এই চিত্র যেন সারা বাংলাদেশের ৭০৮ জন শহীদ পরিবারের কান্নার প্রতিনিধিত্ব করছে। ছাত্র জনতার গণ-অভ্যুত্থানের দিন ৫ ই আগস্ট ঢাকার সাভারে ও বাড্ডায় পুলিশ-ছাত্রলীগের গুলিতে বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার মোট ছয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন একই ইউনিয়নের বাসীন্দা। তাদের মধ্যে আবার দু’জনের বাড়ি একই গ্রামে।

সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত শহীদের যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে সেখানে দেখা যায় বাকেরগঞ্জ উপজেলাতেই ৬ জন।

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া খেয়াঘাট থেকে বাসে গোমা ফেরীঘাট। ফেরী বা খেয়া পার হলেই ওপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়ন। গোমা বাজার থেকেই ব্যবসায়ীদের মুখে মুখে শোনা গেল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ তিনজনের কথা। তবে শহীদদের নাম জানা নেই বেশিরভাগ মানুষের। হোটেল ও চা দোকানের ব্যবসায়ী মঈনউদ্দীন জানালেন, দুধল ইউনিয়নের কবিরাজ ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন এক বাড়িতে একজন এবং এই সড়ক ধরে সোজা সামনের স্টেশনে সুন্দরকাঠী গ্রামে দুজন শহীদ এর বাড়ি। একজন তালুকদার বাড়ি আর অন্যজন একটু ভিতরে হাওলাদার বাড়ি। গোমা বাজার থেকে ইজিবাইকে সুন্দরকাঠী বাজার মাত্র ১০ মিনিটের পথ।

এখান থেকে আবার অটোভ্যানে প্রায় ২০ মিনিট চলার পর পূর্ব সুন্দরকাঠী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গরুর হাট। থেমে থেমে বৃষ্টি চলমান থাকায় সড়কে ও গরুর হাটে মানুষের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এখানে খালের উপর সেতু পার হয়ে ওপারে হেরিংবন অর্থাৎ ইটা বিছানো পায়েচলা পথ। বৃষ্টির কারণে পিছলে যাচ্ছে পা। মাঝেমধ্যে আবার কাঁদামাটি। এভাবে কিছুদূর চলার পর ইট বিছানো পথ শেষে শুরু হলো কাঁদামাটির পিচ্ছিল পথ। এই পিচ্ছিল পথ ধরে ১০ মিনিট হাঁটার পর অনেকের কাছে জিজ্ঞেস করে করে অবশেষে যে করবটি পাওয়া গেল সেটি হাওলাদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থান।

পাশেই হাওলাদার বাড়ি। পলিথিন ব্যবহার করে ঢেকে রাখা এই কবরটি ঢাকার বাড্ডায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ সাজিদ হাওলাদার এর। তাঁর বড় চাচা মতি হাওলাদার এলাকায় খুব পরিচিত। তিনি জানালেন, সাজিদ এর বাবা আমার মেজ ভাই মিলন হাওলাদার পরিবার নিয়ে ঢাকাতেই থাকেন। সাজিদও ঢাকায় বড় হয়েছে তাই গ্রামের মানুষ তাকে চেনেনা। আমরা যতটুকু সাজিদকে দেখেছি বা জানি, সে অত্যন্ত নিরীহ, বিনয়ী ও ভদ্র একজন যুবক। বছর পাঁচেক হয়েছে বিয়ে করেছে। স্ত্রী ছাড়াও শিশু সন্তান রয়েছে। যার বয়ছ মাত্র দুই-তিন বছর। পরিবারের সবাই ঢাকায় থাকার কারণে সাজিদ এর কবরের পাশে কোনো স্মৃতিচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

একই পথে বহুকষ্টে আবার ফিরে আসা সুন্দরকাঠী বাজারে। এখানে বসতেই স্থানীয় যুবদলের নেতা সোহান তালুকদার এগিয়ে এসে পরিচিত হলেন। তার কাছেই জানাগেল, কবাই, পাদ্রী শিবপুর, চরাদিতে একজন করে মোট তিনজন এবং এই দুধল ইউনিয়নে তিনজনসহ মোট ছয়জন শহীদের কবর রয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। কবিরাজ গ্রামের ডিকিপি স্কুল সংলগ্ন খোন্তাখালি মোল্লা বাড়িতে ওদুদ নামে একজন শহীদের কবর রয়েছে। আর এই সুন্দরকাঠী গ্রামে দুজন। সোহান নিজেই পথ দেখিয়ে নিয়ে চললেন তারই আপন চাচাতো ভাই শহীদ রাসেল তালুকদার এর কবরের কাছে।

তালুকদার বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে স্পষ্ট সাইনবোর্ডে লেখা আছে। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দু মিনিট নিরবতা পালনের ফাঁকেই ঘরের ভিতর থেকে কান্না আর আহজারি স্পষ্ট হয়। শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায় একজন সদ্য বিধবা মা। যার বয়স মাত্র ২২-২৩ হবে। নিহত রাসেলের বড়ভাই সোহাগ তালুকদার পরিচয় করিয়ে দিলেন, শহীদ রাসেলের স্ত্রী ও শিশু সন্তানের সাথে। তারপর জানালেন, লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচিতে ঢাকার সাভারে পুলিশ ও ছাত্রলীগের গুলিতে নিহত হয়েছে আমার ভাই। ঐ দিন শিক্ষার্থীরা আহত অবস্থায় ওকে এনাম মেডিকেলে ভর্তি করে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা আমাকেই ফোন করে বিষয়টি জানায় আর বলে ‘রাসেলের বুকে ও পিঠে গুলি লেগেছে। আমরা দ্রুত ওর কাছে যাই। ৪০ মিনিট পর রাসেল মারা যায়।

এ সময় রাসেলের স্ত্রী চিৎকার করে ওঠেন, কান্নারত কণ্ঠে বলেন, এনাম মেডিকেল রাসেলকে সুচিকিৎসা দেয়নি। বিনা চিকিৎসায় ফেলে রেখেছিল। আমরা গিয়ে টাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার পর তারা আইসিইউতে নেয়। এর আগেই যদি তারা সুচিকিৎসার নিশ্চিত করতো তাহলে হয়তো আরো অনেক প্রাণহানি কমে যেত। সন্তানকে বুকে আঁকড়ে ধরে এই মা কান্নারত কন্ঠে প্রশ্ন তোলেন, ‘আমার এই সন্তানের ভবিষ্যৎ কি হবে বলতে পারেন।

রাসেলের বাবা খলিলুর রহমান এবং মা এসে দাঁড়িয়েছেন কবরের পাশে। হাত তুলে সন্তানের জন্য দোয়া করলেন মা। তারপর বললেন, বিধবা এই বড় মেয়েটি এবং তার কোলের ছোট মেয়েটির কথা ভেবে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো, এদের জীবনের নিশ্চয়তা দিন। শিশু সন্তানের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দিন।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বরিশালে শহীদ আবীর এর পরিবার সাথে সাক্ষাৎ শেষে জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন বলছিলেন, আন্দোলনে বরিশাল জেলায় এখন পর্যন্ত ৩০ জন শহীদের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাঁদের তালিকা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী এসব পরিবারের পাশে দাঁড়াবে সরকার। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁরা পর্যায়ক্রমে সবার পরিবারের কাছে যাবেন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সহায়তা দেবেন।

বাকেরগঞ্জের দুধল ইউনিয়নের সুন্দরকাঠী গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে এবং কবিরাজ গ্রামের শহীদ ওদুদ এর বাড়িতে এখনো সরকারের কেউ কোনো খোঁজ নেয়নি বলে জানা গেছে।




মোবাইল চার্জে দিয়ে ঘুম, বিস্ফোরণে চিকিৎসকের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ময়মনসিংহে বিছানায় চার্জে রাখা মোবাইল বিস্ফোরণ হয়ে তারিকুল আলম নোমান (৪২) নামে এক চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে ময়মনসিংহ নগরীর জমির মুন্সি লেন এলাকার তার নিজ বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

তারিকুল আলম নগরীর জমির মুন্সি এলাকার মৃত তাহের উদ্দিনের ছেলে। শুক্রবার ভোর রাত ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানায়, মুঠোফোনটি বিস্ফোরিত হয়ে দগ্ধ হন ঘুমন্ত তারিকুল। এতে ওই চিকিৎসকের দুই হাত, বুক, নাক-মুখ পুড়ে যায়। ভোর চারটার দিকে কক্ষ থেকে পোড়া গন্ধ আসে। এ অবস্থায় পরিবারের লোকজন দরজা খুলে তারিকুল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান।

নিহতের ভাই তাসরিকুল আলম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ নেওয়ার আবেদন করেন। চিকিৎসক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

 

 

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, রাত ১টায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিনের মতো অস্ত্রোপচার শেষে বাসায় ফেরেন চিকিৎসক। পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরক্ত না করে তিনি আলাদা রুমে ঘুমাতে যান। বিছানার পাশে রাখা মাল্টিপ্লাগে নিজের ফোন চার্জ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ওসি জানান, আমরা ধারণা করছি চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনটি বিস্ফোরণ হয়ে শরীরে আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কি কোম্পানির মোবাইল ছিল তা জানা যায়নি। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।




‘বিদেশি প্রভুদের নিয়ে বিপ্লবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে শেখ হাসিনা’

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পরাজিত ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা বিদেশি প্রভুদের নিয়ে ছাত্র জনতার বিপ্লবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। দীর্ঘ ৬ বছর পর তুরষ্ক থেকে শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময়টায় সবাইকে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান মাহমুদুর রহমান।

উদ্ভট মামলায় তাকে অন্যায়ভাবে ৭ বছরের সাজা দিয়েছে হাসিনা সরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শতাধিক মামলা রয়েছে আমার নামে। এসব মামলার আইনি মোকাবেলা করা হবে। ’

হাসিনার আমলে ৫ বছর জেল খাটার কথা উল্লেখ করে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘এ সরকারের আমলে আরও ৫ মাস জেল খাটলেও অসুবিধা নেই। জেল থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে কথা বলবো। ’

এ সময় যে বিপ্লব অর্জিত হয়েছে, তা যেন দীর্ঘমেয়াদি হয় এমন প্রত্যাশা করেন মাহমুদুর রহমান।




বাংলাদেশকে নতুন ঋণ দেওয়ার ইঙ্গিত আইএমএফের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাষ্ট্র সংস্কারে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ড. ইউনূস সরকারের ‘পাশে আছে’ বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তিনি বলেন, আইএমএফ এ সরকারের জন্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি দ্রুত অগ্রাধিকার দিয়েছে। তিনি বাংলাদেশে আইএমএফের একটি মিশন পাঠিয়েছেন এবং তারা এখন ঢাকায় রয়েছে। ঢাকা সফর শেষে মিশনটি আগামী অক্টোবর মাসে আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।

জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ পরিচালনা পর্ষদ  মিশনের  প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরু করতে পারে অথবা গত বছরের শুরুর দিকে চালু হওয়া বিদ্যমান সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আরও ঋণ দিতে পারে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনের ফাঁকে মঙ্গলবার আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান  ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।




ভারত থেকে এলো আলু, দাম কমতে পারে ৫ টাকা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারও আমদানি শুরু হয়েছে আলু। আড়াই মাস পর বুধবার ভারতের কোচবিহার থেকে দুই ট্রাকে ৫৭ টন কার্ডিনাল জাতের আলু আনা হয়েছে। এতে বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলবে, কেজিতে দাম কমতে পারে ৫-৬ টাকা। দেশের বাজারে দাম আরও কমিয়ে আনতে আলু আনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

জানা গেছে, ভারতে আলুর দাম বাড়ায় আমদানি করে খুব বেশি লাভ হতো না বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের। এ কারণে আড়াই মাস বন্ধ ছিল অতিপ্রয়োজনীয় এ সবজি আমদানি। তবে সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশটির অভ্যন্তরে দাম কমায় এবং বাংলাদেশ সরকার শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করায় লাভের আশায় আবারও আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা।

১৮০ ডলার ও ৩ শতাংশ হারে শুল্কায়নে যে মানের আলু আমদানি করে কেজিতে খরচ পড়ছে ৪০ টাকা। সেই মানের আলু দেশের বাজারে ৫০ টাকা। অর্থাৎ, কেজিতে ৫-৬ টাকা দাম কমতে পারে।

আমদানিকারক কুতুব উদ্দিন বলেন, আলু আমদানি অব্যাহত ছিল। গত জুলাই মাসে হঠাৎ করে ভারতে কেজিতে ১৫ রুপি দাম বাড়ে। তখন দেশের বাজারের তুলনায় প্রতিবেশী দেশটিতে দাম বেশি হওয়ায় সেগুলো কিনে আনলে লোকসান হতো। এ কারণে ৮ জুলাই আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি দেশটিতে কেজিতে ১৫ রুপি কমে আগের দামে ফেরায় লাভের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

[contact-form][contact-field label=”Name” type=”name” required=”true” /][contact-field label=”Email” type=”email” required=”true” /][contact-field label=”Website” type=”url” /][contact-field label=”Message” type=”textarea” /][/contact-form]




আজ যোগদান করছেন পবিপ্রবি’র নতুন ভিসি রফিকুল ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  আজ যোগদান করবেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নিয়োগ প্রাপ্ত উপাচার্য ডক্টর কাজী রফিকুল ইসলাম।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে গতকাল ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

১৯৭৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার সদর উপজেলায় জন্মগ্রহণ করা রফিকুল ইসলামের রয়েছে শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।

২০০৫ সালে তিনি অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট ফেলো-পিজিএফ অর্জন করেন।

২০০৭ সালে ডক্টর রফিকুল ইসলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা মেডিকেল সেন্টার থেকে ফার্মাকোলজিতে পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেইনিং- পিজিটি লাভ করেন।

২০১১ সালে তিনি জাপানের খ্যাতনামা কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োমেডিকেল সায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। শুধু তাই নয় সর্বোচ্চ কৃতিত্বের জন্য প্রেসিডেন্ট পদক লাভ করেন।

পরে পোস্ট ডক্টরাল গবেষক হিসেবে ডক্টর রফিকুল ইসলাম এই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি এবং ফার্মাকোলজি বিভাগে দুই বছর কাজ করেছেন। পরে তিনি জিএসপিএস পোস্ট ডক্টরাল গবেষক হিসেবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাপানের এই কাগাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন।

১৯তম বিসিএসে লাইভস্টক ক্যাডারে ভেটেনারি ডক্টর এন্ড ফিল্ড রিচার্সচার হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন এবং ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর গৌরবময় কর্ম-জীবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯টি সম্মাননা ও পুরস্কার পেয়েছেন। ১৪টা বিভিন্ন ফেলোশিপ, মেধাবৃত্তি ও অনুদান পেয়েছেন।

তাঁর ১০৮টা বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি কিংবা বক্তা হিসেবেও তিনি বেশ জনপ্রিয়।




ব্যস্ত সময় পার করছেন বরিশালে ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগররা

বরিশাল অফিস :: আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বরিশালে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক-ঢোলসহ বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগররা। তবে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব একটা লাভ না হওয়ায় ঋণ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ পেশার সাথে জড়িতদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানান, বরিশাল জেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা।

দুর্গাপূজা মানেই আনন্দ। আর এ আনন্দের অন্যতম উপকরণ ঢাক-ঢোলসহ নানা বাদ্যযন্ত্র। তাই এ সব বাদ্যযন্ত্র তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কারিগররা। ঠুক-ঠাক শব্দে ভোর হতে রাত পযর্ন্ত শক্ত কাঠ কেটে নানা রকমের ঢাক-ঢোল তৈরি করছেন কারিগররা। নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে এসব বাদ্যযন্ত্র যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলায়। তবে প্রয়োজনীয় উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ পেশার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেকে।

নগরীর বাকলার মোড় সংলগ্ন বাজার রোড ঢাক তৈরি করা দোকানগুলোতে ঘুরে দেখাগেছে, শারদীয় দুূর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে ঢাক। আর তাই ঢাক তৈরী ও মেরামত করতে বরিশালে ব্যস্ততম সময় পার করছেন ঢাক তৈরী কারিগর ও ঢাকিরা।

শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে ঢাক তৈরি কারিগররা ঢাক থেকে শুরু করে সকল প্রকার শব্দ যন্ত্র তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই হিন্দু ধর্মাবোলম্বীদের প্রধান ও সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে ঢাক বাজানো বাদ্যকার ও বিভিন্ন মিউজিক পার্টি থেকে অর্ডার নেয়া ঢাক সঠিক সময়ে সরবরাহ করার জন্য ঢাক তৈরীর কারিগর ও শ্রমিকদের এখন দিনরাত এককার হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে নগরীর বাজার রোড ‘তবলা ভূবন’-এর প্রো. শ্রী শম্ভু দাস ও ‘তাল তরঙ্গ’-এর প্রো. শ্রী মন্টু দাস জানান, যুগ যুগ ধরে ঢাক বাদ্য তৈরি ও ঢাক বাজিয়ে শতাধিক শ্রমিক বা কারিগর তাদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।

বর্তমান আধুনিকতার যুগও প্রাচীনকালের ঢাকের প্রথাকে আজো বিলুপ্তি ঘটাতে পারেনি। বিশেষ করে দুর্গাপূজা আসলেই ঢাকের চাহিদা অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই ঢাক তৈরীর কারিগর ও শ্রমিকেরা এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ১২ মাসের প্রায় প্রতিটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ঢুলীদের নাচ-ই হচ্ছে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ। আর ঢাকের বাদ্য (শব্দ) ছাড়া দুর্গপূজার অনুষ্ঠানসহ হিন্দু ধর্মাবোলম্বীদের কোন অনুষ্ঠানই তেমন জমে না।

শম্ভু দাস ও মন্টু দাস জানান, বংশ পরম্পরায় বিগত প্রায় ৫০ বছর যাবৎ তারা এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের পূর্ব পুরুষ ঢাকসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তৈরীর কাজ করে আসছেন। বর্তমান সময়ে একটি মাঝারী ধরনের ঢাক তৈরী করতে তাদের খরচ হয় প্রায় ৯ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। আর সেটি বিক্রি করছেন ১৪ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকায়। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ইতোমধ্যেই তাদের কাছে নতুন ঢাক তৈরী ও মেরামতের বেশ কিছু অর্ডার এসেছে।

শম্ভু দাস আরো জানান, চার সদস্যের সংসারে ঢাকসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামত করে তার পরিবার নিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দেই বসবাস করছেন। তবে বিগত দুই বছরের তুলনায় এ বছর ঢাক তৈরির অর্ডার অনেক ভালো।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল প্রেস ক্লাব-এর সাবেক সহ সভাপতি বীরেন সমদ্দার বলেন, শারদীয় দুূর্গোৎসবের প্রধান আকর্ষণই হচ্ছে ঢাক। সন্ধ্যা গড়ানোর সাথে সাথে ঢাকের বাদ্যে মুখরিত হয়ে ওঠে পূজামন্ডপগুলো। ঢাকের শব্দ শুনলেই বোঝা যায় মন্দিরের সম্মুখে ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়ে গেছে।

সাংবাদিক বীরেন সমদ্দার আরো বলেন, পূজায় ঢাক-ঢোলের বাদ্য অপরিহার্য হলেও বর্তমানে সাউন্ড সিস্টেমের দাপটে ঢাকের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। এছাড়া বেড়েছে কাঠ ও চামড়াসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম। ফলে এখন তেমন লাভের মুখ দেখছেন না বাদ্যযন্ত্র তৈরির কারিগররা।

এ প্রসঙ্গে আলাপকালে বরিশাল জেলা সহকারী সমাজ কল্যাণ পরিচালক জাবের আহম্মেদ বলেন, পূজা ছাড়াও বাংলা ও বাঙলির সংস্কৃতির সাথে মিশে আছে ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্র। তবে পূজায় এখনও ঢাক-ঢোলের কদর রয়েছে। পূজার আরতিতে ঢাক-ঢোলের কোনো বিকল্প নেই। তাই বছরের এ সময়টাতে ব্যস্ত সময় পার করেন ঢোল-ঢোলের কারিগররা। এসব কারিগর বা শিল্পীদের পাশে দাঁড়াতে সকল প্রকার সহায়তা প্রদান করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার চেষ্টা চলছে।




পটুয়াখালীর ১৭৬ মন্দিরে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি প্রায় শেষদিকে। এবার জেলায় ১৭৬টি পূজা মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গাপূজা। মন্দিরগুলোতে চলছে প্রতিমাসহ সাজ সজ্জা গোছানোর কাজ। তবে বেশির ভাগ পূজা মণ্ডপেই মাটির কাজ শেষ হয়ে শুরু হয়েছে রংয়ের কাজ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কারিগররা তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় ফুটিয়ে তুলছেন প্রতিমাকে। অনেক মন্দিরে আবার প্যান্ডেল সাজানো এবং লাইটিংয়ের কাজ চলছে। তবে দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি হলেও মজুরি আগের চেয়ে বাড়েনি বলে আক্ষেপ কারিগরদের। সার্বজনীন এ উৎসবকে সফল করতে সনাতনীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। এদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক স্থানে রয়েছে প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

পটুয়াখালী পৌর শহরের পুড়ান বাজার এলাকার সবুজ সংঘ সার্বজনীন পূজা মন্দিরের প্রধান পৃষ্ট পোষক সুবাস চন্দ্র বনিক বলেন, আমাদের এখানে ৭৫ বছর ধরে দুর্গাপূজা হচ্ছে। এবছরও আমরা ব্যাপক আয়োজন করেছি। আমাদের প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গা মাকে স্বাগত এবং বিদায় জানাতে পারবো।

কলাপাড়ার শ্রী শ্রী জগন্নাথ নাট মন্দিরে প্রতিমা তৈরি করতে আসা কারিগর তাপস চন্দ্র বলেন, সব কিছুর দাম অনেক বেড়েছে। যদিও আমাদের মজুরী কিন্তু বাড়েনি। এভাবে সব কিছুর সঙ্গে আমাদের মজুরী না বাড়লে তো এ পেশায় টিকে থাক দায় হয়ে যাবে।

পটুয়াখালী পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ বলেন, জেলার ১৭৬টি পূজা উদযাপন হলেও বিসর্জন হবে ১৩২টি পূজা মণ্ডপে। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। আশা করছি এ উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে।




ব্রিটিশ ক্রাইম এজেন্সিকে শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি তদন্তে দেশটির এমপির চিঠি চিঠি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপি আপসানা বেগম এবার সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতির তদন্তে।

মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির ডিরেক্টর জেনারেল গ্রীম বিগারকে একটি চিঠি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী যাদের বিরুদ্ধে ব্রিটেনে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে সেগুলো তদন্ত, ব্রিটেনে অর্জিত সম্পদ স্থগিত করা, অপরাধীদের আইনের আওতার আনার জন্য।

তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত ৫ আগস্টের আগে শত শত ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করে ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেশ থেকে পালান শেখ হাসিনা।

চিঠিতে শেখ হাসিনা সরকারের দুর্নীতি নিয়ে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমস, কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্যের সূত্র দিয়ে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদের বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে অবৈধভাবে অর্থ পাচার করে ব্রিটেনে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ অর্জন করার।

ব্রিটিশ ল্যান্ড রেজিস্টার তথ্য বলছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২৮০টি প্রপার্টি কিনেছেন।

আপসানা বেগম চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, খুব দুঃখজনকভাবে ৭১ বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে শুধু আমার নির্বাচনী এলাকা পপলার ও লাইম হাউজে।

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই বিষয়ে তদন্ত করছে। ব্রিটিশ সরকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাংলাদেশকে পূর্ণ সহায়তা করার।

আপসানা বেগম চিঠির শেষাংশে লিখেন, ব্রিটেন যদি বাংলাদেশের দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করতে না পারে তাহলে ব্রিটেনের মান সম্মান আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।