দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশ যাচ্ছে ঝালকাঠির আমড়া

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির পেয়ারার সুখ্যাতি ছিল। এবার যোগ হলো আমড়ার নাম। জেলার ২ শতাধিক গ্রামে আমড়া গাছ লাগিয়ে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন সেখানকার চাষিরা। দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও যাচ্ছে ঝালকাঠির আমড়া, দাবি আমড়া চাষিদের।

ঝালকাঠি শহরতলির কীর্তিপাশা মোড় থেকে দুটি যাত্রীবাহী বাসের বাংকারে প্রতিদিন প্রায় অর্ধশতাধিক বস্তা আমড়া চট্টগ্রাম হয়ে নৌপথে যাচ্ছে বিদেশে। ভীমরুলি, শতদশকাঠি, খেজুরা, আতাকাঠিসহ প্রায় অর্ধশত গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে এখন আমড়া চাষ হয়। অন্য জেলার আমড়ার তুলনায় মিষ্টি হওয়ায় এই জেলার আমড়ার চাহিদা বাড়ছে।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর ৬০০ হেক্টর জমিতে আমড়া চাষ করা হয়েছে। হেক্টরপ্রতি প্রায় ১২ টন আমড়া পাওয়া গেছে। অর্থকরী ফসল হওয়ায় কৃষকরা আমড়া চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতি বছর ফলনও বাড়ছে।’

ঝালকাঠির কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলির চাষি রিপন চৌধুরী। ২০১৭ সালে ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে আমড়া গাছ লাগান তিনি। জানালেন, এবার প্রায় ৫০ মণের বেশি আমড়া বিক্রি করেছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন মাস আমড়ার ভরা মৌসুম। তাই ওই সময়ে দামও ভালো থাকে। কিছু গাছে সারা বছর আমড়া ধরে।’ আফসোস করে তিনি বলেন, ‘কুড়িয়ানা, আটঘর, ভীমরুলি, ডুমুরিয়া, বেতরায় বিপুল পরিমাণ আমড়া হয়। তবে সেসব সংগ্রহের মতো পর্যাপ্ত ব্যবসায়ী ও আড়তদারের অভাব রয়েছে। তৃণমূলে, অর্থাৎ বাগান থেকে সংগ্রহ করা আমড়া প্রথমদিকে ৩০০-৩৫০ টাকা মণ বিক্রি হয়েছে। সেটা এখন সাড়ে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার কাছাকাছি। পেয়ারার মতো দ্রুত পচনশীল নয় বিধায় আমড়া চাষে লাভ বেশি।’

নৌকায় করে ভীমরুলি ভাসমান হাটে আমড়া নিয়ে যাচ্ছিলেন চাষি মলয় হালদার। তিনি বলেন, ‘ঝালকাঠির আমড়া ভীমরুলি থেকে যায় ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে। এমনকি দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে। গুণ-মান ভালো বলেই এখানকার আমড়ার চাহিদা আছে সারাদেশে। যারা আমড়া কেনেন, সবাই চান এ অঞ্চলের আমড়া কিনতে।’ তবে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের আরও সহযোগিতা দাবি করেছেন মলয় হালদার।

আমড়া চাষের রয়েছে নানা সমস্যাও। বর্ষা মৌসুমে এক ধরনের লেদাপোকা পাতা খেয়ে গাছকে করে ফেলে পাতাশূন্য। এতে আমড়ার ক্ষতি হয়। যদিও চাষিরা কীটনাশকমুক্ত আমড়া চাষে আগ্রহী, তবু এসব পোকা দমনে স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তা প্রয়োজন চাষিদের। অনেক সময় তাদের সাড়া পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

ভীমরুলিতে আড়ত আছে ছোট-বড় মিলিয়ে ডজনখানেক। সবাই মূলত পেয়ারা কেনেন। তবে পেয়ারার শেষ সময়ে শুরু হয় আমড়ার ভরা মৌসুম। সেজন্য আড়তদাররা থেকে যান। চলে আমড়া বিকিকিনির হাঁকডাক। বর্তমানে আমড়া বিক্রি হচ্ছে আটঘর, পিরোজপুরের কুরিয়ানাসহ ঝালকাঠির ভীমরুলির ভাসমান বাজারে। সবচেয়ে বড় ভাসমান বাজার ভীমরুলি। এখানকার জৌলুসই আলাদা। সকাল ৮টার মধ্যে বাজার বসে, বেচাকেনা চলে দুপুর পর্যন্ত। ছোট ডিঙি বা নৌকায় করে চাষি-বাগানিরা সেখানে হাজির হন। ট্রাক বা ট্রলারে করে আড়তদাররা সেসব কিনে নেন। পুরো আশ্বিন-কার্তিক মাসজুড়েই এসব হাট জমজমাট থাকবে। তবে পেয়ারার হাটের মতো গমগমে হবে না।

ভীমরুলির আড়তদার লিটন বলেন, ‘শ্রাবণ মাস শেষ হলেই আমড়ার ভরা মৌসুম। প্রতিদিন ৫০-৬০ মণ আমড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চাঁদপুর যাচ্ছে বস্তা ভরে। দাম মণপ্রতি ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে।’ আড়তদাররা জানান, চট্টগ্রাম থেকে জাহাজে করে কাঁচা আমড়া ও প্রক্রিয়াজাত আমড়া ভারত ও আশপাশের দেশে যাচ্ছে। এ ছাড়া গত বছর থেকে এ অঞ্চলের আমড়া লন্ডনেও রপ্তানি হচ্ছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিএম মেহেদী হাসান সানি বলেন, ‘আমড়ায় আছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন সি, এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাসসহ আনেক পুষ্টিগুণ। আঁশ থাকায় আমড়া হজমে সহায়তা করে। তাই মৌসুমে নিয়মিত আমড়া খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কাঁচা তো বটেই, সরষে মাখা দিয়ে, রান্না করে ও মোরব্বা করেও আমড়া খাওয়া যায়।’

কৃষকদের প্রত্যাশা, সরকারিভাবে যদি সরাসরি আমড়া কেনা হয়, বড় ব্যবসায়ীরা যদি সেখান থেকে সরাসরি আমড়া নিয়ে যান, তাহলে আমড়ার ব্যবসাটা আরও বাড়তো। বিদেশে রপ্তানিও বাড়তো।




সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আড়াইশ’ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বরিশাল অফিস :: ২০১৪ সালে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোট কেন্দ্র দখল, বোমার বিস্ফোরন ঘটানোসহ ব্যালটে সিল পিটিয়ে নৈরাজ্যে সৃষ্টির ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং রিটানিং কর্মকর্তাসহ আড়াইশ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রোববার দিনগত গভীর রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা করেনপ্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক। মামলার বিষয়টি মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন কোতয়ালী মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ছাড়াও নামধারী অপর আসামীরা হলেন তার চাচাতো ভাই ও বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু, আক্তার হোসেন আকেজ, বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আবুয়াল হোসেন অরুন ও নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা এবং বর্তমানে কুমিল্লার আঞ্চলিক কর্মকর্তা মো. দুলাল তালুকদার। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ২৫০ জনকে আসামী করা হয়েছে।

মামলার বাদী মনিরুজ্জামান জামাল অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন এ্যাড. কাজী এনায়েত হোসেন বাচ্চু। এছাড়াও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের চাচাতো বাই সাইদুর রহমান রিন্টু। তাই অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে নির্বাচনী এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। তারা বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান-ভাইস-চেরয়াম্যান ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীকে হত্যা জখমের হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়। পরে উপজেলায় রিন্টুর প্রতিটি নির্বাচনী অফিসে আগুন দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে কারাগারে পাঠিয়ে দিয়ে ভোট ডাকাতি করে।

ভোটের পূর্বে যে ভোটারের জানাজা নামাজ আদায় করেন প্রার্থী রিন্টু। সেই ভোটারের ভোট কেন্দ্রে শতভাগ ভোট গ্রহন দেখানো হয়েছে। রির্টানিং কর্মকর্তা দুলাল তালুকদারের সাথে সভা করে ৩০ টি কেন্দ্রে বোমা ও অস্ত্রের ব্যবহার করে ব্যালটে সিল দিয়ে বাক্স ভর্তি করেছে।

দেশে মামলা করার পরিবেশ না থাকায় এতদিন মামলা করা হয়নি। বর্তমানে আইনের শাসন ও জীবনের নিশ্চয়তা তাকায় ন্যায় বিচার পেতে মামলা করা হয়েছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন




বিদায়ের বেলায় গলাচিপাবাসীকে কাঁদিয়ে গেলেন ইউএনও মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বিদায়ের বেলায় গলাচিপাবাসীকে কাঁদিয়ে গেলেন ইউএনও মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল। সোমবার (৩০ সেপ্টেস্বর) রাতে সরকারি বদলিজনিত কারণে তিনি সবার মাঝ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যান ঢাকার উদ্দেশ্যে।

গলাচিপা উপজেলায় ইউএনও মহিউদ্দিন আল হেলাল ২০২২ সালে যোগদানের পর থেকেই এলাকার মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান তৈরি করে নেন। তাঁর নেতৃত্বে গলাচিপায় সমাজসেবামূলক কার্যক্রম এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাঁর যত্ন ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তাঁকে একটি আদর্শ শিক্ষকের রূপে তুলে ধরে।

মহিউদ্দিন আল হেলাল শুধু একজন উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছিলেন না; তিনি ছিলেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রতীক। গরিব, দুঃখী এবং অসহায় মানুষের প্রতি তাঁর সহানুভূতি ও সাহায্য সহযোগিতা এলাকার জনগণের কাছে তাঁকে একজন সত্যিকারের বন্ধু করে তুলেছিল। স্থানীয়রা তাঁর সেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে কখনোই পিছপা হননি।

তাঁর বিদায়ের দিন গলাচিপাবাসী অশ্রু ফেলে তাঁকে বিদায় জানায়, তিনি নিজেও অশ্রু ফেলেন, এ যেন এক আপনজন হারানোর বেদনা। বিদায়ী বক্তব্যে তিনি গলাচিপাবাসীর প্রতি তাঁর আন্তরিক ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা আমার পরিবারের মতো।” তাঁর কথা এবং কাজ ভবিষ্যতে গলাচিপার মানুষের মনে রয়ে যাবে।

মহিউদ্দিন আল হেলালের এই বিদায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা, তবে গলাচিপার ইতিহাসে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবেন। তাঁর অসাধারণ অবদানগুলি মানুষের মনে চিরকাল প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতে নতুন নেতৃত্বের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।




হর্ন বাজানোর অভ্যাস পরিবর্তনে মানুষকে সচেতন করা হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, হর্ন বাজানোর দীর্ঘদিনের অভ্যাস পরিবর্তনের জন্য প্রথমে মানুষকে সচেতন করা হবে। এরপর আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, কাজটি শুরু করাই সফলতা। প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে, পরে পুরো ঢাকা শহর এবং ধীরে ধীরে বিভাগীয় শহরগুলোতেও শব্দদূষণ বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উপদেষ্টা আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে  এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকাকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করে ১ অক্টোবর থেকে যানবাহনে হর্ন বাজানো বন্ধ করার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমার গাড়িতে হর্ন বাজানো হয় না। আশা করি, সবাই চালকদের হর্ন না বাজাতে উৎসাহিত করবেন। তিনি বলেন, লাইসেন্স নবায়নের শর্ত হিসেবে হর্ন বাজানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। প্রথমবার আইন ভঙ্গ করলে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে। অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে, ডিসেম্বর থেকে জরিমানা কার্যকর করা হবে।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, শব্দদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও স্নায়ুরোগ সৃষ্টি করতে পারে। ঢাকায় যানবাহনের হর্নের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি কমছে। তাই ‘নীরব এলাকা’ কর্মসূচি শব্দদূষণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই উদ্যোগ সফল করতে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি দেশের অন্য এলাকাতেও বাস্তবায়িত হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব তপন কুমার বিশ্বাস, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবদুল হামিদ, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে পরিবেশ উপদেষ্টার নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী, পুলিশ প্রশাসন, বেসরকারি সংস্থা গ্রীন ভয়েস, ক্যাপসসহ শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।




অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে আইএমএফ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাম্প্রতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বন্যার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

বাংলাদেশের জন্য আইএমএফ মিশন চিফ ক্রিস পাপেজর্জিউ বাসসকে বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া হিসাবে ক্রমাগত আর্থিক কৃচ্ছ্রতা ও অপ্রধান মূলধন ব্যয়কে যুক্তিপূর্ণভাবে সমন্বয় শুরু করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও কর্তৃপক্ষের সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে পাপেজর্জিউ’র নেতৃত্বে আইএমএফ মিশন টিম ২৪-৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা সফর করে।
আইএমএফ মিশন চিফ বলেন, যথাসময়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন, অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে সহায়ক হয়েছে।

পাপেজর্জিউ আরো বলেন, তবু অর্থনৈতিক কর্মকা- কিছুটা মন্থর গতিতে চলছে। যদিও সাম্প্রতিক অস্থিতিশীলতা ও বন্যা সত্ত্বেও মুদ্রাস্ফীতি দুই অঙ্কের স্তরে রয়েছে। অর্থপ্রদানের ভারসাম্যের অবনতি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। এটা বাণিজ্য ঋণের বহিঃপ্রবাহ প্রতিফলিত করে।
তবে অর্থনৈতিক ইস্যুতে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিগত সরকারের আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে পাপেজর্জিউ বলেন, বাজেটটি আশাবাদী কর রাজস্ব ও উচ্চাভিলাষী মূলধন ব্যয়ের অনুমানসহ একটি উচ্চাকাক্সক্ষী বাজেট হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ঐতিহাসিকভাবে, দুর্বল রাজস্ব সংগ্রহের কারণে সরকারকে পুনরাবৃত্ত ব্যয় ও বড় বিনিয়োগ উভয়ই কমাতে হয়েছিল।

আইএমএফ মিশন চিফ বলেন, বাজেট ঘাটতি তাদের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাখতে এটি (রাজস্ব সংগ্রহ) গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘এ প্রেক্ষাপটে ক্রমাগত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বাহ্যিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যকর ক্ষমতা বিবেচনা করে এবং অ-অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলো কমিয়ে মূলধন ব্যয়কে যুক্তিযুক্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করছি।’
তিনি বলেন, উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে কর্তৃপক্ষের লক্ষ্যকে আইএমএফ সমর্থন করে। এ লক্ষ্যগুলোকে অবশ্যই নিখুঁত রাজস্ব-উৎপাদনমূলক ব্যবস্থা দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
পাপেজর্জিও বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাতের সামান্য উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, টেকসই রাজস্ব সংগ্রহের জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন। যার মধ্যে কর নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন ব্যবস্থা উভয়ই রয়েছে।

তিনি বলেন, কর নীতিতে সংস্কারের মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য থেকে করের বোঝা সরিয়ে আয়কর ও ভ্যাটের দিকে নিয়ে যাওয়ার কৌশলের অংশ হিসাবে ব্যাপক কর ছাড় কমানো, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থাকে সরল করা ও করের ভিত্তি প্রসারিত করা।

তিনি বলেন, কর প্রশাসনের উন্নয়নের জন্য অগ্রাধিকার সংস্কারের মধ্যে ট্যাক্স সংগ্রহের প্রক্রিয়াগুলির ডিজিটালাইজেশন ও আরও ভাল কর কমপ্লায়েন্স ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের সাক্ষাৎ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আজ এখানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সিএ’র প্রেস উইং জানায়, ‘আজ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সাক্ষাৎ করেছেন।




রেকর্ড জয়ে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল ভারত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: কানপুরে ৮২ রানের বেশি রান তাড়া করে জিততে পারেনি কোনো দল। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে সেই চ্যালেঞ্জেই সফল হলো ভারত। বৃষ্টির কারণে আড়াই দিনের কম সময়ে নেমে আসা দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। এর ফলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হলো বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার গ্রিন পার্কে ৯৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত। বাংলাদেশ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ যদিও ভারতের দুই টপঅর্ডারকে দ্রুত তুলে নেন। তিনি ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও শুভমান গিলকে আউট করেন।

এ দুজন আউট হলেও মারমুখী ব্যাট করেন যশস্বী জয়সোয়াল। এই বাঁহাতি ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নেন। তবে জয় থেকে খুব কাছে থাকতে তাইজুল ইসলামের বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন। তিনি ৪৫ বলে ৮টি চার ও একটি ছক্কায় ৫১ করেন। এছাড়া বিরাট কোহলি ৩৭ বলে ২৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এর আগে সাদমান ইসলাম ছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং লাইনআপ যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে মুশফিকুর রহিম কিছুটা চেষ্টা করলেও বাংলাদেশ ৪৭ ওভার শেষে মাত্র ১৪৬ রানে অলআউট হয়েছে। ফলে ভারতকে ৯৫ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে সফরকারীরা।

টেস্টের পঞ্চম দিন বাংলাদেশের ব্যাটাররা রীতিমতো উইকেট বিলিয়ে দেন। আগের দিন ২ উইকেট হারিয়ে ২৬ রানে শেষ করা টাইগাররা দিনের শুরুতে মুমিনুল হককে হারায়। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে ২ রানে ফেরেন প্রথম ইনিংসের এই সেঞ্চুরিয়ান।

এরপর একে একে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসাস মিরাজরা আসা-যাওয়ার মিছিলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাদের উইকেট নিয়ে উৎসবে মাতে অশ্বিন-জাদেজারা।

ব্যতিক্রম ছিলেন ওপেনার সাদমান। তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি করে আকাশ দীপের বলে আউট হন। সাদমান ছাড়া আর কেউই ফিফটির দেখা পাননি। এছাড়া মুশফিকুর রহিম ৩৭ করেন। শান্তর ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে তিনটি করে উইকেট পান জসপ্রিত বুমরাহ, অশ্বিন ও জাদেজা।

এর আগে বৃষ্টি বিঘ্নিত কানপুরে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অলআউট হয়। জবাবে ভারত ৯ উইকেট হারিয়ে ২৮৫ রানে ইনিংস ঘোষণা করে। বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে টেস্টর দ্বিতীয়ও তৃতীয় দিন কোনো খেলা হয়নি।

চেন্নাই টেস্টে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ।




জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনি গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  ::গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিবি)। তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) রেজাউল করিম মল্লিক।

রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মাহবুব আরা বেগম গিনিকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। আজ মধ্যরাতে তাকে ধানমণ্ডি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুইটি মামলা রয়েছে।




আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী: মাসুদ সাঈদী

বরিশাল অফিস ::আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী। শুধু আল্লামা সাঈদীকেই নন, অসংখ্য আলেমকে গ্রেপ্তার করে প্রমাণ করেছেন তিনি (হাসিনা) তার পিতার মতোই ইসলাম বিদ্ধেষী, আলেম বিদ্বেষী।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরকারি ইন্দুরকানী কলেজে সিরাতুন-নবী (স.) উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, বিগত জোট সরকারের সময় পিরোজপুর-১ আসনের এমপি আমার পিতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আহ্বানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল এই কলেজ মাঠেই জিয়ানগর নামে নতুন উপজেলা ঘোষণা করেন। আমি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকা কালে আমার স্বাক্ষর জাল করে জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী উপজেলা রাখে আওয়ামী লীগ সরকার। তারপরও এই উপজেলার দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে কিন্ত তার অনুসারীরা আত্মগোপন করে আছেন। তারা যে কোনো অপকর্ম ঘটিয়ে ইসলাম তথা মুসলমানদের ওপর দোষ চাপাতে পারে। সে জন্য সবাইকে চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাই মিলে হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পতিত স্বৈরাচারের দোষরদের কেউ যেন কোনো প্রকার সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়াতে না পারে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সভায় সরকারি ইন্দুরকানী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সঞ্জিত কুমার সাহার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জাল হোসাইন ফরিদ, টগড়া দারুণ ইসলাম কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. আব্দুল্লাহীল মাহমুদ, জিয়ানগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আলী হোসেন, প্রভাষক আল আমিন হোসেন ও উপজেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।




পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক

বরিশাল অফিস :: বরিশালের আগৈলঝাড়ায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে। আটককৃত নারী মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বরিশাল  আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, রোববার রাতে মাদক বিক্রির সংবাদ পেয়ে  সেনাবাহিনীর সার্জেন্ট মো. হাসানুর ইসলাম এর নেতৃত্বে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কালুপাড়া গ্রামের রাজ্জাক সরদারের ভাড়াটিয়া মৃত মতি সরদারের ছেলে আলিম সরদারের বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে আলিম সরদার, তার স্ত্রী রোকসনা বেগম, ছেলে নাফিজ ইসলাম, ছোট ছেলে পিয়াল সরদার পালিয়ে যায়। অভিযানের সময় ঘরে থাকা ৪ বোতল ফেন্সিডিল ও মাদক বিক্রির নগদ ৩৩ হাজার ২৯০ টাকা উদ্ধার করা হয়।  ঘরে থাকা আলিমের পুত্রবধু নাফিজ ইসলামের স্ত্রী মেঘা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

বরিশাল আগৈলঝাড়া থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অভিযুক্ত ৫ জনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করেছেন।