১২ বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করার অভিযোগ ওঠা হাইকোর্টের ১২ জন বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

বুধবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান বিচারপতি তাদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের দপ্তরে চায়ের দাওয়াতে একে একে প্রবেশ করছেন অভিযোগ ওঠা হাইকোর্টের বিচারপতিরা। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চারজন বিচারপতি প্রধান বিচারপতির চায়ের দাওয়াতে এসেছেন। তারা হলেন- বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামান ও বিচারপতি শাহেদ মো. নুরউদ্দিন। তাদের ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।

এদিকে, বিতর্কিত ও আওয়ামীপন্থি বিচারকদের অপসারণের দাবিতে হাইকোর্ট চত্বরে আন্দোলন করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। তাদের স্লোগান, অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তাল পুরো হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছায়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই,’ ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ,’ ‘স্বৈরাচারের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান,’ ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকোর্ট ঘেরাও হবে,’ ‘দালালি না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ,’ ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা,’ ‘আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম,’ ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।




মেসির ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিসহ ৫ গোলে বলিভিয়াকে হারালো আর্জেন্টিনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৬–০ গোলে জয়ের নায়ক মেসি। নিজে করেছেন হ্যাটট্রিক, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন আরও দুটি।

দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় জয়ের এই ম্যাচে আসলে ৫ গোলে অবদান মেসির। দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি হ্যাটট্রিকের গৌরবও এখন ৩৭ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির। এই মহাদেশের বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে সর্বশেষ কোনো খেলোয়াড় হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ২টি গোল করিয়েছিলেন ১৫ বছর আগে। ২০০৯ সালের ১ এপ্রিল এই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেই হ্যাটট্রিকের সঙ্গে ২টি গোল করিয়েছিলেন হোয়াকিন বোতেরো। কোন দলের খেলোয়াড়? এই বলিভিয়ারই!

সে যা হোক, মনুমেন্তালে আর্জেন্টিনার ‘সিক্স স্টার’ ম্যাচে ফেরা যাক। গ্যালারির বেশির ভাগ দর্শকের আনন্দে ভেসে যাওয়ার শুরুটাও কিন্তু হয়েছে মেসির কল্যাণে। ১৯ মিনিটে মার্তিনেজের পাস পেয়ে কোনোকুনি দৌড়ে বলিভিয়া গোলকিপার গিয়ের্মো ভিসকারাকে একা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। গোল করতে ভুল করেননি। আর্জেন্টিনা এরপর প্রথমার্ধে আরও দুটি গোল পেয়েছে। সেখানেও উৎস সেই ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি।

১০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব টেবিলে শীর্ষে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কলম্বিয়া। ১০ ম্যাচ খেলা উরুগুয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয়। মন্টিভিডিওতে ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে উরুগুয়ে। চিলিকে ৪–০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার বিপক্ষে ২–১ গোলে জিতেছে প্যারাগুয়ে।

 




দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে পটুয়াখালীবাসীর নাভিশ্বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী পৌর নিউ মার্কেট, পুরাতন বাজার, কলাতলা বাজার এবং হেতালিয়া বাধঘাটসহ জেলাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত এক সপ্তাহে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। ফলে ক্রেতাদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ১৬ অক্টোবর (বুধবার) সকালে বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতারা চড়া দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদ ইব্রাহিম বলেন, “কাঁচামরিচের দাম শুনেই মাথা ঘুরে গেল। ২০০ গ্রাম কাঁচামরিচ কিনেছি ১৪০ টাকায়। আয়ের সঙ্গে খরচের সমন্বয় করতে পারছি না।”

পটুয়াখালীর পৌর নিউ মার্কেটে সবজির দাম বেশ চড়া। কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়, আলু ৬০ টাকায়, মিষ্টিকুমড়া ৬০ টাকায়, লাউ প্রতি পিস ১০০-১৩০ টাকায়, টমেটো ৩০০ টাকায়, করলা ১০০ টাকায়, বরবটি ১২০ টাকায়, লাউ শাক ৫০ টাকায়, কাঁকরোল ১০০ টাকায়, গাজর ২০০ টাকায়, বেগুন ১৩০ টাকায় এবং চিচিঙ্গা ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য সবজির দামও ১০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

শহরের গৃহবধূ শাহিদা বেগম বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যেই সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। সরকার যেন এ বিষয়ে দৃষ্টি দেয়।”

ব্যবসায়ীদের মতে, বর্ষার কারণে সবজি উৎপাদনে ভাটা পড়েছে এবং তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, উৎপাদন হ্রাস এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির ফলে এই মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার কারণে পটুয়াখালীর বাজারে মাছের সরবরাহও কমে গেছে, যার ফলে স্থানীয় মাছের দামও বেড়েছে। ক্রেতা মো. ওরম ফারুক বলেন, “মাছের দাম এত বেড়ে গেছে যে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য মাছ খাওয়া কঠিন হয়ে গেছে।”

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, মা ইলিশ রক্ষায় ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে, বাজারদর নিয়ন্ত্রণের জন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং টাস্কফোর্স গঠন করেছে। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “সরকারের মূল লক্ষ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ করা। পটুয়াখালীতে কোনো সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”




নিয়তের কারণে আমলের নেকি বৃদ্ধি পায়: ইসলামের আলোকে নিয়তের মহত্ব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, মানুষের কর্মের মূল ভিত্তি হচ্ছে তার নিয়ত বা ইচ্ছা। কোনো কাজের পিছনে থাকা নিয়তই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়। একজন মানুষ ভালো কাজ করার ইচ্ছা করলেও যদি কোনো কারণে সেই কাজটি করতে না পারে, তবুও তার নিয়তের জন্য সে আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত হয়। এই বিষয়টি ইসলামের বিশেষ এক মহত্বের উদাহরণ, যেখানে নিয়তের বিশুদ্ধতা ও সদিচ্ছার কারণে মানুষ অনেক নেকি অর্জন করতে পারে।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বরাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা তার ফেরেশতাদের বলেন, আমার বান্দা যদি কোনো গুনাহের কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা বাস্তবে না করে, তাহলে তার জন্য কোনো গুনাহ লেখা হবে না। বরং সে যদি আমার ভয়ে সেই কাজ থেকে বিরত থাকে, তাহলে তার জন্য একটি নেকি লেখা হবে। অপরদিকে, যদি কেউ কোনো ভালো কাজ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তা করতে না পারে, তাহলেও তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যদি সে সেই ভালো কাজটি করে, তাহলে তার জন্য ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত নেকি দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি)

এটি স্পষ্টভাবে বোঝায় যে, নিয়তের বিশুদ্ধতা ও আন্তরিকতার উপর ভিত্তি করে আল্লাহ মানুষকে পুরস্কৃত করেন। মানুষ যদি কোনো গুনাহের কাজ করার ইচ্ছা করেও আল্লাহর ভয় বা সংযমের কারণে তা না করে, তবে সে শুধু গুনাহ থেকে রেহাই পায় না, বরং নেকি অর্জন করে। এটি ইসলামের মহান দিকগুলোর মধ্যে অন্যতম, যা মানুষকে শুধু বাহ্যিক কর্মে সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তরিকতাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা দেয়।

**সদকার নিয়তের উদাহরণ:**

রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি গল্পের মাধ্যমে নিয়তের গুরুত্বের কথা বলেছেন, যেখানে এক ব্যক্তি রাতে সদকা দেওয়ার ইচ্ছা করেছিল। সে অজান্তে এক অসতী নারীর হাতে সদকা দিয়ে দেয়। সকালে মানুষজন এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু করে যে, “গত রাতে এক অসতীকে সদকা দেওয়া হয়েছে।” এ কথা শুনে সে আল্লাহর প্রশংসা করে এবং বলে, “হে আল্লাহ! অসতীকে সদকা দেওয়ার ব্যাপারেও আপনারই প্রশংসা।” এরপর সে আবার সদকা দেওয়ার নিয়ত করে এবং এবার তা এক ধনী ব্যক্তির হাতে দিয়ে দেয়। পরের দিন লোকজন আবারও আলোচনা করে, “গত রাতে ধনীকে সদকা দেওয়া হয়েছে!” এরপরও সেই ব্যক্তি আল্লাহর প্রশংসা করে এবং আবার সদকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শেষবারে সে একজন চোরের হাতে সদকা দেয়, এবং পরের দিন আবারও লোকজন বলে, “গত রাতে চোরকে সদকা দেওয়া হয়েছে!” তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে জানানো হয় যে, তার সদকা কবুল হয়েছে। সম্ভবত তার সদকার কারণে অসতী নারী অন্যায় থেকে ফিরে আসবে, ধনী ব্যক্তি তার সম্পদ ব্যয় করার গুরুত্ব বুঝবে, আর চোর তার চুরির পথ থেকে সরে আসবে। (মুসলিম, হাদিস: ২,২৫২)

এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, সদকা বা অন্য কোনো ভালো কাজের পিছনে নিয়ত থাকলে আল্লাহ তা কবুল করেন, এমনকি সেই সদকার প্রকৃত প্রাপক সম্পর্কে ভুল হলেও। আল্লাহ মানুষের অন্তরের অবস্থার উপর ভিত্তি করে তার পুরস্কার নির্ধারণ করেন, যা কর্মের বাহ্যিক ফলাফল থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

**নিয়তের বিশুদ্ধতা ও আল্লাহর পথে ইচ্ছা:**

নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সততার সঙ্গে আল্লাহর পথে শহীদ হওয়ার ইচ্ছা করবে, আল্লাহ তাকে সেই মর্যাদা দান করবেন, যদিও সে বিছানায় মৃত্যুবরণ করে। (মুসলিম, হাদিস: ৪,৮২৪) অর্থাৎ, একজন ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল লাভ করবে, যদিও সে বাস্তবিকভাবে সেই কাজ সম্পাদন করতে না পারে।

এছাড়াও, হাদিসে উল্লেখ আছে যে, যদি কেউ রাতে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার ইচ্ছা করে কিন্তু ঘুম তাকে ঘিরে ফেলে এবং সে উঠতে না পারে, তাহলেও তার জন্য তাহাজ্জুদের নেকি লেখা হয়। আর তার ঘুমকে আল্লাহ সদকাহ হিসেবে গণ্য করেন। (ইমাম নাসায়ি আস-সুনান, হাদিস: ১,৭৮৭)

ইসলামে নিয়ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা মানুষের আমলকে মহৎ করে তোলে। আল্লাহ তাআলা মানুষের বাহ্যিক কর্মের চেয়ে অন্তরের বিশুদ্ধতাকে বেশি প্রাধান্য দেন। তাই আমাদের উচিত সব সময় নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ভালো কাজ করা। আমাদের কর্মের উদ্দেশ্য যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়, তবে আমরা অবশ্যই সেই কাজের জন্য পুরস্কৃত হব, এমনকি তা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও।




কোটা আন্দোলনে নিহত গলাচিপার সাগর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ফলাফল দেখার সুযোগ হলো না কোটা আন্দোলনে নিহত সাগর গাজীর (২০)। তার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল জিপিএ ৩ দশমিক ৯২।

গত ৫ আগস্ট ঢাকার উত্তরার জসিম উদ্দিন ফ্লাইওভার এলাকায় এলোপাথারি গুলিতে নিহত হয় সাগর। তিনি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব পাড় ডাকুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

সাগরের ফলাফল শুনে বাবা ও পরিবারের সদস্যরা আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন। তার মা কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানা যায়, সাগরের বাবা সিরাজুল ইসলাম গাজী পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং মা সাহিদা বেগম গৃহিণী। সাগর তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। ২০২১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উলানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে উত্তীর্ণ হয়। ২০২৩ সালে একই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি বিষয়ে ফেল করে, কিন্তু এবারের পরীক্ষায় সেই বিষয়ে উত্তীর্ণ হন। নিহতের দুই মাস আগে সিটি অনলাইন কোম্পানিতে চাকরিতে যোগদান করে।

সাগর কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মৃত্যুর একদিন আগে তার ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্ট দিয়েছিলেন, “আজ যদি আমি মারা যাই, বিজয়ের পর আমার কবরে একটা পতাকা দিয়েন।” তার শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী, তার কবরের সামনে জাতীয় পতাকা টানানো হয়েছিল।

জানা যায়, ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে উৎসুক জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় সাগরসহ তার সহকর্মীরা উত্তরার জসীম উদ্দিন ফ্লাইওভার এলাকায় বের হন। উৎসুক জনতা র‌্যাব-১ দফতরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে র‌্যাব এলোপাথারি গুলি করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সাগরের মাথায় আঘাত লাগে। স্থানীয়রা সাগরকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। তার লাশ ৬ আগস্ট ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। একই দিন সকাল সোয়া ১০টায় উলানিয়া বন্দরের মাসজিদুল আয়শা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কোটা আন্দোলনে নিহত সাগর গাজীর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করেছেন উলানিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো: এমদাদ হোসেন।




বরগুনায় ১৯ মাসের কাজ শেষ হয়নি ৫ বছরেও, ঠিকাদার লাপাত্তা

বরিশাল অফিস :: বরগুনার আমতলীর গাজীপুর খালের ওপর সোয়া ৪ কোটি টাকার ১৯ মাসের সেতুর কাজ ৫ বছর ধরে ফেলে রেখে ঠিকাদার লাপাত্তা হয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের অধিকাংশ টাকা তুলে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। কাজ বাতিলের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও সাড়া নেই ঠিকাদারের। অসমাপ্ত অবস্থায় সেতুর কাজ এভাবে বছরের পর বছর পড়ে থাকায় ভোগান্তি পড়েছে এলাকাবাসী।

আমতলী উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের গাজীপুর বাজার সংলগ্ন গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার পূর্ব পাশে গাজীপুর খালের ওপর ২০১৯ সালে ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৮ টাকা ব্যয়ে ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৭ মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহবান করে এলজিইডি কার্যালয়। সর্ব নিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজটি পায় পটুয়াখালীর মেসার্স আবুল কালাম আজাদ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি কাজটি বিক্রি করেন পটুয়াখালীর আরেক ঠিকাদার তানভির আহম্মেদ দিপু নামের একজনের কাছে। কাজটির নির্মাণ সময় ধরা হয় ১ জানুয়ারি ২০১৯ সাল থেকে ২৯ সেপ্টম্বর ২০২০ সাল পর্যন্ত। ১৯ মাসে কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ঠিকাদার গাফিলতি করে ৫ বছরেও শেষ করেনি সেতু নির্মাণ কাজ। কাজটির ধীর গতির কারণে এ পর্যন্ত দু’দফা সময় বাড়িয়েছেন। সর্বশেষ গত জুন ২০২৪ সালে শেষ করার কথা। এর পর তিনি আর সময় না বাড়িয়ে কাজটি ফেলে রেখে লাপাত্তা হয়ে গেছেন।

কাজটি ফেলে রাখায় বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ১৫ সেপ্টম্বর ঠিকাদারকে কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়। এবং নোটিশে ৭ দিনের সময় বেঁধে দিয়ে কাজ শুরু করার জন্য বলা হয়। কাজ শুরু করা না হলে কার্যাদেশ বাতিল বলে গণ্য করা হবে। কিন্তু এ চিঠি প্রদানের সময় অতিবাহিত হলেও ঠিকাদার কোনো সাড়া দেয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদার দুই পাড়ের এপার্টমেন্টাল, দুটি পিয়ার ও ১টি স্লাবের কাজ করে বরাদ্ধের অধিকাংশ ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৭ হাজার ১৮ টাকা তুলে নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সেতু নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। সেতুতে নিম্ন মানের খোয়া, রড এবং পরিমাণের চেয়ে কম সিমেন্ট ব্যাহার করা হয়েছে।

গাজীপুর খালের পূর্বপাড়ে উত্তর দক্ষিণ পূর্ব ও পশ্চিম সোনাখালী গ্রাম। পশ্চিম পাড়ে গজীপুর গ্রাম। পশ্চিপাড়ে সেতু নির্মাণ স্থলের মাত্র ২০ ফুট দূরত্বে গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা। পূর্বপাড় থেকে প্রতিদিন আড়াইশ শিক্ষার্থী গাজীপুর বন্দর ঘুরে মাদরাসায় আসে। সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর আগে এখানে একটি লোহার সেতু ছিল। নতুন সেতু নির্মাণের সময় ওই সেতুটিও ভেঙে ফেলা হয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের আড়াই থেকে ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে অনেক কষ্ট হয়। কষ্টের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন আর নিমিয়ত মাদরাসায় আসেন না।

মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাম্মি আকতার বলেন, নতুন সেতুর কাজ শুরু করে ফেলে রাখা হয়েছে। তাই আমাদের অনেক পথ ঘুরে মাদরাসায় আসতে হয় এতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। কষ্টের কারণে শিক্ষার্থী প্রতিদিন মাদরাসায় না আসায় লেখা পড়ায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

গাজীপুর সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, নতুন সেতু নির্মাণের জন্য পুরাতন লোহার সেতুটিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এখন নতুন সেতুর নির্মাণ কাজও ৫ বছর ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদার। এতে মাদরাসায় অনেক শিক্ষার্থী আসা কমে গেছে। দ্রুত সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য দাবি জানাই।

সাব ঠিকাদার তানভির আহম্মেদ দীপু বলেন, আমি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি ২-৩ মাসের মধ্যে কাজটি শেষ করব। কাজে অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিষয় তিনি অস্বীকার করে বলেন, যথাযথভাবে কাজ করা হচ্ছে।

মূল ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কাজটি চুক্তি করে অন্য এক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তিনি কেন এখনও কাজটি সম্পন্ন করেননি তা তিনি জানেন না।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, সেতুর কাজ ফেলে রাখায় ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। এবং কাজ বাতিলের জন্য বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করা হয়েছে।

বরগুনার নির্বাহী প্রেকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, সেতুর কাজ না করে ফেলে রাখায় ঠিকাদারকে শোকজ করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার কোনো সাড়া না পাওয়ায় তার কার্যদেশ বাতিল কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। টাকা বেশি নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয়েছে। কাজের চেয়ে বেশি টাকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।




ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অবশেষে জানা গেল ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গত ১ অক্টোবর ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরান প্রায় ২০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। সোমবার ব্লুমবার্গ ও জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে ওই হামলায় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তবে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনও প্রকাশ করেনি ইসরায়েল সরকার।

জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আনুমানিক ৪ কোটি থেকে ৫ দশমিক ৩ কোটি ডলারের ব্যক্তিগত সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। এই হিসাব খোদ ইসরায়েলের কর কর্তৃপক্ষের। ফলে এক বছর আগে যুদ্ধ শুরুর পর এটি সবচেয়ে ব্যয়বহুল হামলায় পরিণত হয়েছে।

ইরানের হামলার পর দুই সপ্তাহে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির দাবি জমা দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। ক্ষয়ক্ষতির অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র উত্তর তেল আবিবে। সেখানে অ্যাপার্টমেন্ট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আক্রান্ত হয়েছে। তবে হামলার কেন্দ্রস্থল ছিল হড হাশারন শহর। সেখানে ১ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরেকটি হলো উত্তর তেল আবিবের উপকূলের কাছে একটি বাণিজ্যিক ও আবাসিক কমপ্লেক্স।  যেখানে কয়েক ডজন অ্যাপার্টমেন্ট এবং একটি রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলের অন্যান্য অংশেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে তেল নোফ এবং নেভাটিমের ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটির ক্ষতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

গত বছর গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরু হলে হামাসের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে হামলা শুরু করে লেবাবনের হিজবুল্লাহ। এর ফলে ৬০ হাজার ইসরায়েলি উত্তরাঞ্চলে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে গেছে।  কবে তারা বাড়িতে ফিরতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

বৈরুতে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ এবং তেহরানে হামাসপ্রধান ইসমাইল হানিয়াহকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরান গত ১ অক্টোবর চিরশত্রু ইসরায়েলে ২০০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর আগে গত এপ্রিলে ৩০০টি ড্রোন এবং ১০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালানো হয়। তবে ১ অক্টোবরের আঘাত ছিল ইসরায়েলের ওপর ইরানের দ্বিতীয় সরাসরি আঘাত।

ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ইরান উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করেছে এবং তার বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে। হামলায় পশ্চিম তীরের জেরিকো শহরের কাছে একজন নিহত এবং অন্যত্র বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রিসভা গত সপ্তাহে বৈঠকে মিলিত হয়। তবে ইসরায়েলের জবাব নিয়ে এখনও ভোটাভুটি হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি চান ইরানের তেল এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা থেকে ইসরায়েল বিরত থাকুক।




টানা ৪দিন ছুটির পর আজ খুলল অফিস-আদালত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : পূজা এবং সাপ্তাহিক ছুটি মিলে টানা চারদিন বন্ধ ছিল সরকারি অফিস-আদালত। ছুটি শেষে আজ সোমবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে নির্ধারিত সময়ে খুলতে শুরু করেছে অফিস-আদালত, ব্যাংক, বিমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ারবাজার।

সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারের তথ্য অনুযায়ী, রোববার (১৩ অক্টোবর) পূজার ছুটি। আর ১১ ও ১২ অক্টোবর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এ তালিকায় বৃহস্পতিবার যুক্ত হওয়া দুর্গাপূজায় মোট চার দিন ছুটি পেয়েছিল সরকারি চাকরিজীবীরা।

এদিকে দুর্গাপূজা, ফাতেহা ই-ইয়াজদাহম, লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে স্কুলকলেজ বন্ধ থাকবে ৯ দিন। তবে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ছুটি বর্ধিত হয়েছে ১১ দিন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক ক্যালেন্ডারের তথ্যমতে, শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটি শুরু হয় বুধবার (৯ অক্টোবর) থেকে, যা চলবে বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত। তবে পরবর্তী দুদিন শুক্র ও শনিবার হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে আগামী রোববার (২০ অক্টোবর)। এর মধ্যে আগামী ১৩ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটি, ফাতেহা ই ইয়াজদাহম এর ছুটি ১৫ অক্টোবর, লক্ষ্মীপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা ছুটি ১৬ অক্টোবর।




ভোলায় বিয়ের গেটে টাকার বিরোধে সংঘর্ষ, আহত ২৫

বরিশাল অফিস :: ভোলার চরফ্যাশনে কনের বাড়িতে বিয়ের গেটে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বরসহ উভয়পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া কনেপক্ষের বিরুদ্ধে বরপক্ষের স্বর্ণালংকার লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চর-মানিকা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নুরে আলমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এক মাস আগে দক্ষিণ আইচা থানার চর মানিকা ইউনিয়নের ভূঁইয়ার হালট এলাকার নুরে আলমের মেয়ে লিমা বেগমের সঙ্গে জাহানপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাসির উদ্দিনের ছেলে মনির হোসেনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর মনির হোসেন বলেন, “বিয়ের প্রায় এক মাস পর আনুষ্ঠানিকভাবে বউ আনতে কনের বাড়িতে যাই। গেটে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। আমাদের পরিবারের ১৫ জন আহত হয়েছেন।”

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, “এ সময় কনের জন্য নেওয়া স্বর্ণালংকারসহ বিয়ের যাবতীয় আসবাবপত্র ও ব্রিফকেসে থাকা সব মালামালসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় কনেপক্ষের লোকজন।”

এদিকে বিয়ের বাড়ির গেটে থাকা কনের মামাতো বোন আমেনা বেগম জানান, “বরযাত্রীকে স্বাগত জানাতে আমরা কয়েকজন গেটে টেবিল বসিয়ে অপেক্ষায় থাকি। দুপুর দেড়টার দিকে বরযাত্রী আসলে গেটে বর পক্ষের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বরপক্ষ ৩ হাজার টাকা দিলে উভয়পক্ষ বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। পরে বরপক্ষের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালালে ১০ জন আহত হন।”

দক্ষিণ আইচা থানার ওসি এরশাদুল হক ভূইয়া বলেন, “এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। লিখিতভাবে কিছু পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




মধ্যপ্রাচ্য এশিয়ার যেসব দেশ দখলে নিতে চায় ইসরায়েল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ সাম্প্রতিক এক ডকুমেন্টারিতে ইহুদি রাষ্ট্রের সীমানাবৃদ্ধির একটি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি সীমান্ত ভবিষ্যতে জর্ডান নদী পর্যন্ত বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেন। তার এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

স্মোট্রিচের মতে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ঘিরে রেখেছে যেসব অঞ্চল তা বৃহত্তর ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হবে। সে হিসেবে ইসরায়েল রাষ্ট্র সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডান এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

ফ্রান্স-জার্মান ভিত্তিক নিউজ ম্যাগাজিন আর্টে রিপোর্টেজ থেকে নির্মিত ‘ইন ইসরায়েল : মিনিস্টারস অব কেয়াস’ নামের ডকুমেন্টারিটি এই মাসে মুক্তি পেয়েছে। সেখানে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এবং অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ইহুদি রাষ্ট্রের বিস্তৃতি নিয়ে কথা বলেন।

ডকুমেন্টারিতে স্মোট্রিচ একটি ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ প্রতিষ্ঠার জন্য তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন এই বলে, ‘এটি লেখা আছে যে জেরুজালেমের ভবিষ্যৎ দামেস্কে প্রসারিত হবে।’ ‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ মতবাদ নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যাও দাঁড় করিয়েছেন চরম ডানপন্থি এই মন্ত্রী।

‘বৃহত্তর ইসরায়েল’ জায়নিস্ট ইহুদিদের একটি মতবাদ যেখানে তারা দাবি করে, তাদের পবিত্রভূমি ইসরায়েলের বিস্তার মিসরের নীলনদ থেকে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত। এই এলাকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সম্পূর্ণ ফিলিস্তিন, লেবানন, জর্ডনা এবং মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও সিরিয়ার বিশাল অংশ। জায়নিস্ট ইহুদিদের দাবি, পবিত্র বাইবেলে এই অঞ্চল ইহুদিদের ভূমি হিসেবে বর্ণিত আছে।

এই প্রসঙ্গে, ইসরায়েলি সাংবাদিক ওদেদ ইয়েনন বলেছেন, পশ্চিম এশীয় অঞ্চলের জন্য তেলআবিবের পরিকল্পনা ইহুদিবাদের প্রতিষ্ঠাতা থিওডোর হার্জলের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে যেটি ইসরায়েল লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান, ইরাক, মিসর এবং সৌদি আরবের বিশাল অংশকে সংযুক্ত করে গঠন করা হবে।

ডকুমেন্টারিতে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, অনেকের কাছে এই দৃষ্টিভঙ্গি চরমপন্থি বলে মনে হতে পারে। তবে এটি ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের জনসাধারণের বক্তৃতার অংশ হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং আনাদোলু এজেন্সি