ফ্রিজে কতদিন পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বিভিন্ন ধরনের মাংস ফ্রিজে রাখার সময়সীমা নির্দিষ্ট। তবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে মাংস দীর্ঘদিন পর্যন্ত ভালো থাকে। গরু, খাসি কিংবা মুরগির মাংস ফ্রিজে রাখতে চাইলে আগে থেকে সংরক্ষণের নিয়মগুলো জেনে নেয়া জরুরি। কারণ নির্দিষ্ট সময়ের পর মাংসের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ হারানোর ঝুঁকি থাকে।

গরু ও খাসির মাংস: কাঁচা গরু বা খাসির মাংস সাধারণ ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন ভালো থাকে। যদি মাংস দীর্ঘ সময়ের জন্য রাখতে চান, তাহলে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। ডিপ ফ্রিজে গরু বা খাসির মাংস ৪ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। রান্না করা মাংস সাধারণ ফ্রিজে ৩ থেকে ৫ দিন ভালো থাকে এবং ডিপ ফ্রিজে ৬ মাস পর্যন্ত রাখা নিরাপদ।

মুরগির মাংস: কাঁচা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে ১ থেকে ২ দিন পর্যন্ত তাজা থাকে। তবে ডিপ ফ্রিজে রাখতে চাইলে সেটি ৯ মাস পর্যন্ত রাখা যায়। আস্ত মুরগির ক্ষেত্রে ডিপ ফ্রিজে এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ সম্ভব। রান্না করা মুরগির মাংস সাধারণ ফ্রিজে কয়েক দিন ও ডিপ ফ্রিজে ২ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

কিমা ও সসেজ: মাংসের কিমা সাধারণত ডিপ ফ্রিজে ৪ মাস পর্যন্ত নিরাপদে রাখা যায়। সসেজ সাধারণ ফ্রিজে দুই দিন এবং ডিপ ফ্রিজে ২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন।

ফ্রিজে মাংস রাখার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখুন যেন মাংস সম্পূর্ণ মুখবন্ধ পাত্রে রাখা হয়। এর মাধ্যমে মাংস থেকে আসা গন্ধ বা ব্যাকটেরিয়া ছড়ানো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যথাযথ সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার সংরক্ষিত মাংস দীর্ঘ সময় তাজা ও স্বাস্থ্যকর থাকবে।




নতুন ভোটারদের সমর্থন চাইলেন কমলা হ্যারিস

চন্দ্রদ্বীপ আন্তজাতিক :: যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় সোমবার নির্বাচনি প্রচারণার শেষ ভাষণটি দিয়েছেন কমলা হ্যারিস।

জনসমক্ষে ভাষণের শেষ পর্যায়ে তিনি বলেন, এ প্রচারণা আমেরিকার সব কোণের সব শ্রেণির মানুষকে এক জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য বড়- আমরা শক্তি, আশাবাদ ও আনন্দ নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু করেছিলাম। ঠিক সেভাবেই শেখ করছি এখন।

তিনি তরুণ ও নতুন ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তোমাদের আমি বিশেষভাবে বলছি, আমি তোমাদের শক্তি দেখি এবং আমি তোমাদেরকে নিয়ে গর্বিত। আমেরিকার বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জানেন যে এবারের নির্বাচনে জয়ী হতে হলে তাকে তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে হবে।

শেষ প্রচারণায় সংগীতশিল্পী ক্যাটি পেরি ও লেডি গাগা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হ্যারিসের আগমনের আগে উপস্থিত জনতাকে গান গেয়ে উজ্জীবিত করেন।

অন্যদিকে মিশিগানে ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্বনির্ধারিত ভাষণ। রিপাবলিকান দলের সমর্থকরা তার নির্বাচনী প্রচারণার এই সর্বশেষ ভাষণ শোনার জন্য কয়েক ঘণ্টা ধরে জড়ো হন।

দুই প্রার্থীই তাদের সমাপ্তি টানেন দেশটির বড় রাজ্যগুলোতে। দেশটির প্রেসিডেন্ট কে হবেন, তা নির্ধারণ করতে এই রাজ্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।




মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কৌশল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: প্রতিদিনের জীবনে রাগ বা মেজাজ হারানো স্বাভাবিক একটি বিষয়, তবে এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। রাগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক কিছু কৌশল রয়েছে, যা মেনে চললে মেজাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব।

প্রথমত, কোনো বিষয়ে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না জানানো গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক অনুভূতিটিকে নিজের মনে রেখে একটু সময় নিয়ে বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত। ধীরস্থির হয়ে প্রতিক্রিয়া জানালে পরিস্থিতি আরও সুন্দরভাবে সামাল দেওয়া যায়।

দ্বিতীয়ত, শ্বাস-প্রশ্বাসের ওপর নজর দিন। রাগের মুহূর্তে শ্বাস ধীরে ও গভীরভাবে নেওয়া মনের অস্থিরতা কমায় এবং দেহকে শান্ত রাখে। এতে হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

তৃতীয়ত, মনোযোগ পরিবর্তন করার কৌশলটি কার্যকরী। যদি কোনো বিষয় মেজাজ খারাপ করে দেয়, তবে সাময়িকভাবে সেই পরিবেশ থেকে সরে গিয়ে অন্য কাজে মনোযোগ দিন। একটু হেঁটে আসা, গান শোনা বা প্রিয় বইটি পড়া মেজাজকে ইতিবাচক দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে।

চতুর্থত, নেতিবাচক অনুভূতিকে ভালো কাজে প্রয়োগ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। যেমন, পরীক্ষায় খারাপ করলে সেই হতাশা থেকে শক্তি সংগ্রহ করে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ানো যায়। এতে ভবিষ্যতে ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

পঞ্চমত, রাগের সময় অন্যের বক্তব্য শোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এতে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ জানা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে রাগ কমে যায়।

সবশেষে, নিজেকে সংযত রাখতে হবে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজেকে শান্ত রাখা এবং সংযত আচরণ বজায় রাখা সমাধানের প্রধান পথ।




ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ: উপকূল জুড়ে কর্মচাঞ্চল্য

বরিশাল অফিস: ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ২২ দিনের জন্য ইলিশ ধরার উপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা গত মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণন বন্ধ রাখা হয়েছিল।

ফলে, বরিশাল উপকূল এলাকার জেলে পল্লী ও মৎস্য আড়তগুলোতে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মধ্যরাত থেকেই জেলেরা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নদী ও সাগরে যেতে শুরু করেছেন। আড়ৎদার ও মহাজনরা জেলেদের অগ্রিম টাকা দিয়ে সাগরে মাছ ধরতে পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছেন।

বরিশালের পোর্ট রোড মৎস্য আড়তে আজ থেকে ইলিশ আসা শুরু করবে। বরিশালের অন্যান্য মৎস্য আড়ত, যেমন আলীপুর-মহীপুর, হরিনঘাটা, পাড়েরহাট, চর মোন্তাজ, ঢালচর এবং চর কুকরী-মুকরী, ইতোমধ্যেই ইলিশ সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত। মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, দেশে আহরিত প্রায় ৫.৮০ লাখ টন ইলিশের ৭০% বরিশাল অঞ্চলে আহরণ ও উৎপাদিত হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে ভারতীয় কিছু জেলে নৌকা ও ট্রলার বাংলাদেশের উপকূল ও সমুদ্র সীমায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এবছর বাংলাদেশ নৌবাহিনী অন্তত ১০টি ভারতীয় ট্রলার আটক করেছে।

ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় দেশের উপকূলের ৭ হাজার ৩৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ১৩ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে দেশের দক্ষিণ উপকূলের ৩৭টি জেলার ১৫৫টি উপজেলার প্রায় ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৫৬৫ জন জেলেকে মানবিক সহায়তা হিসেবে ১৪ হাজার ১৬৫ টন চাল বিতরণ করা হয়।

এ বছর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মৎস্য আহরণ প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করেছে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল-জরিমানাসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এ সময়ে বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১০ হাজার অভিযান চালানো হয় এবং ২ হাজার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ হাজার জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৭০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয় এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত প্রায় ৬ কোটি মিটার জাল বাজেয়াপ্ত করে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, সারা বিশ্বের ৬০% এরও বেশি ইলিশ এখন বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয়, যা দেশের অর্থনীতিতে এককভাবে ১% এবং মৎস্য খাতে ১২.৫০% অবদান রাখছে। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষায় নিঝুম দ্বীপ সংলগ্ন ৩ হাজার ১৮৮ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে দেশের প্রথম ‘মেরিন রিজার্ভ এরিয়া’ ঘোষণা করা হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ৮ মাসের জন্য জাটকা আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

মৎস্য গবেষকদের মতে, ইলিশের জীবনচক্রে প্রজনন, বড় হওয়ার এবং প্রজননক্ষেত্রে ফিরে আসার নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে। তারা জানান, নজরদারি বৃদ্ধির ফলে ২০১৭ সালে ইলিশ পোনা বা জাটকার উৎপাদন ৪২,২৭৪ কোটিতে উন্নীত হয়। ২০২২ সালের প্রজনন মৌসুমে দক্ষিণ উপকূলের অভ্যন্তরীণ নদীতে প্রায় ৮৪% মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পায়, যা ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, পরিকল্পিত পদক্ষেপ ও নজরদারি বৃদ্ধির কারণে ইলিশের প্রজনন সাফল্য এবং উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলছে।




পাসপোর্ট নেই, ৩১ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় ছিন্নমূল জীবন বরিশালের সান্টুর

বরিশাল অফিস :: মালয়েশিয়ায় ছিন্নমূল হয়ে পথে পথে ঘুরছেন বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সান্টু মিয়া। বিদেশি নারীকে বিয়ে করে সেখানেই সংসার পাতা সান্টু সব হারিয়ে এখন ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মানুষের কাছে হাত পেতে যা পান, তা খেয়ে খোলা জায়গায় রাত্রি যাপন করছেন। দীর্ঘদিনেও তাঁর কোনো খোঁজ পাননি বাংলাদেশে থাকা পরিবারের লোকজন।

গত মঙ্গলবার কুয়ালালামপুর শহরের বুকিবিন্তান এলাকায় সান্টুর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন আগৈলঝাড়ার শাহিন ফকির। সেই ভিডিও দেখে তাঁকে চিনতে পারেন পরিবারের লোকজন। তাঁরা ৩১ বছর আগে মালয়েশিয়া যাওয়া সান্টুকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাগধা গ্রামের আবুল হোসেন মিয়ার ছেলে সান্টু ১৯৯৩ সালে মালয়েশিয়া যান। কিছুদিন পর ওই দেশের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। একপর্যায়ে স্ত্রীর ভাইয়েরা তাঁকে নেশা করার অভিযোগে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেয়। অন্যদিকে প্রথম কর্মস্থলে তাঁর পাসপোর্ট জমা থাকায় অন্য কোথাও কাজ পাননি।

এরপরই তাঁর ভবঘুরে জীবন শুরু হয়। কয়েকবার জেলেও যান। এর মধ্যে ওই দেশে রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া ইউএন কার্ডে নিজেকে তালিকাভুক্ত করায় দেশে ফেরার পথও বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার তাঁর ভিডিও দেখার পর দুজন প্রবাসী আত্মীয় বুধ ও বৃহস্পতিবার ওই এলাকাসহ আশপাশে খুঁজেও তাঁর সন্ধান পাননি।

সান্টুর বড় ভাই সেলিম মিয়া বলেন, ‘আমার ছোট ভাই সান্টু মিয়া ৩১ বছর আগে মালয়েশিয়া যায়। পাসপোর্ট না থাকা ও রোহিঙ্গা ইউএন কার্ড থাকার কারণে সে দেশে আসতে পারছে না।’

এ ব্যাপারে বাগধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাবুল ভাট্টি বলেন, ‘সান্টুকে মালয়েশিয়া থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর পরিবার আমার সহযোগিতা চাইলে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।’




চ্যাটজিপিটিতে চালু হলো নতুন এআই সার্চ ইঞ্জিন সুবিধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: চ্যাটজিপিটিতে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সার্চ ইঞ্জিন সুবিধা চালু করেছে ওপেনএআই। অর্থের বিনিময়ে (পেইড) ব্যবহারকারীদের জন্য এটি উন্মুক্ত করা হয়েছে, এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিনামূল্যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের জন্যও এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন এই সুবিধা চালু হওয়ার ফলে চ্যাটজিপিটির গ্রাহক এবং সার্চজিপিটি ব্যবহারকারীরা ওয়েব থেকে সরাসরি হালনাগাদ তথ্য পেতে পারবেন।

বর্তমানে, চ্যাটজিপিটির ওয়েবসাইট (chatgpt.com), আইওএস, অ্যান্ড্রয়েড, ম্যাকওএস এবং উইন্ডোজ প্ল্যাটফর্মে চ্যাটজিপিটি প্লাস এবং টিম ব্যবহারকারীরা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন। চ্যাটজিপিটি পূর্বে এআই সার্চ ইঞ্জিন আনার ঘোষণা করেছিল, তখন ধারণা করা হয়েছিল যে, সার্চ জিপিএ নামে আলাদা কোনো অ্যাপ্লিকেশন চালু করবে ওপেনএআই। কিন্তু অন্য কোনো অ্যাপ না এনে চ্যাটজিপিটিতেই নতুন সার্চ ইঞ্জিন যুক্ত করা হয়েছে।

এখন ব্যবহারকারীরা প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে চ্যাটজিপিটি নিজেই ওয়েব থেকে তথ্য খুঁজে বের করবে, অথবা ব্যবহারকারী ওয়েব সার্চ আইকনে ক্লিক করে সার্চ করতে পারবেন। এই নতুন সুবিধার ফলে চ্যাটের মধ্যেই প্রাসঙ্গিক তথ্য খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া, ব্যবহারকারী চাইলে ম্যানুয়াল সার্চ সুবিধাও ব্যবহার করতে পারবেন।

এই সার্চ প্রযুক্তিটি বিভিন্ন সার্চ মডেলের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি জিপিটি-৪–এর একটি বিশেষ উন্নত সংস্করণ। জুলাই মাসে প্রথমে প্রায় ১০ হাজার ব্যবহারকারীকে এই সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। নতুন এই সুবিধা ইন্টারনেটে কাঙ্ক্ষিত এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য আরও সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

চ্যাটজিপিটি পুরো কথোপকথনের পরিপ্রেক্ষিতে উত্তর দেবে, এবং প্রতি চ্যাটের সঙ্গে সংবাদ প্রতিবেদন ও ব্লগ পোস্টের লিংকও থাকবে। ব্যবহারকারী শুধুমাত্র সোর্স বাটনে ক্লিক করলেই তথ্যের প্রাসঙ্গিক উৎস দেখতে পারবেন।




ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামোর দাবি মাসুদ সাঈদীর

বরিশাল অফিস :: দেশের প্রথিতযশা আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেশের সব মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো ও চাকরি নীতিমালা তৈরির দাবি জানিয়েছেন জিয়ানগর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান, পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াত মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ সাঈদী।

দেশের ইমামগণের অর্থনৈতিক দূরাবস্থার কথা উল্লেখ করে সাঈদীপুত্র বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নীতি নৈতিকতার অধঃপতনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদিমগণ এক কঠিন সময় পার করছেন।

নিতান্ত অল্প বেতনে বর্তমান সমাজ ইমামগণের জীবন নির্বাহ করাই এখন দুঃস্কর। এর কারণ হলো আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ ইমাম মুয়াজ্জিনদের যেভাবে কোনো বেতন স্কেল নেই, তেমনিভাবে নেই ধর্মীয় ব্যক্তি হিসেবে তাদের মান-সম্মানের নিরাপত্তার জন্য আলাদা কোনো আইন, নেই মসজিদ পরিচালনার শক্তিশালী কোনো নীতিমালা।

এমতাবস্থায় দেশের প্রথিতযশা আলেমদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে দেশের সকল মসজিদের ইমাম মুয়াজ্জিনদের জন্য বেতন কাঠামো ও চাকরির নীতিমালা তৈরি করার জন্য আমি বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।

পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি কর্তৃক আয়োজিত উপজেলা ইমাম সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মাসুদ সাঈদী বলেন, ইসলামের দৃষ্টিতে ইমামতি কোনো পেশা নয়, বরং এটা হচ্ছে একটি মহান দায়িত্ব। ইমামের কাজের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে নবী করীম (স) ইমাম ও মুয়াজ্জিনের জন্য এই বলে দোয়া করেছেন, ‘ইমাম হচ্ছেন জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন হচ্ছেন আমানতদার।

যেহেতু ইমামতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তাই ইমামকে এ কাজের জন্য যেমন যোগ্য হতে হবে তেমনি তাকে মহৎ গুণের অধিকারীও হতে হবে। তাকে হতে হবে সৎ নিষ্ঠাবান তাকওয়াধারী আল্লাহওয়ালা আলেম। একজন ইমাম শুধু মসজিদের ইমামই নন; বরং তিনি সমাজেরও ইমাম। একজন ইমাম হলেন মানবতার পথপ্রদর্শক।

ইমামদের দ্বায়িত্ব সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, সম্মানিত ইমামগণ জনসাধারণকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দানের পাশাপাশি তাদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।

মসজিদে নববিতে আখেরি নবী সাইয়্যেদুল মুরসালিন ইমামুল আম্বিয়া মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (স) আজীবন ইমামের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। মসজিদে নববীকে তিনি শুধু নামাজের জন্য সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং সমাজ উন্নয়নের যাবতীয় কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি তা উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন। আমরা যদি প্রতিটি মসজিদকে নবীজির দেখানো সেই মসজিদে নববীর রোল মডেল রূপে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আমাদের সমাজ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে, সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর হবে, সমাজে ব্যাপকভাবে জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, মসজিদের ইমামগণ যেমন জাতির আমলগত সংস্কারের জিম্মাদার, তেমনি আক্বীদাগত সংস্কার ও দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করারও পুরাপুরি দায়িত্বশীল। বাতিল আক্বীদা ও মতবাদকে খণ্ডন করা এবং ভ্রান্ত চিন্তাধারার মূলোৎপাটন করা তাদের প্রধান দায়িত্ব। যদি আল্লাহ তা’আলার একত্ববাদ পরিপন্থী কোন আওয়াজ রাষ্ট্রে ওঠে অথবা রাসূল (সা)-এর রিসালাতের অবমাননা করা হয় তাহলে বাতিল শক্তির এইসকল ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জাতিকে সতর্ক করা ও প্রতিবাদ প্রতিরোধ করা ইমামদের কর্তব্যও বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপজেলা ইমাম সম্মেলনের প্রধান অতিথি মাসুদ সাঈদী আরো বলেন, আল্লাহর স্বার্বভৌমত্ব ও রাসুল (সা) এর আনুগত্যের পরিবর্তে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর থেকে এ যাবৎ দলের স্বার্বভৌমত্ব ও দলীয় নেতাদের আনুগত্য, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব চলছে। যার কারণে মানুষ সুশাসন ও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, গুম-খুন, ধর্ষণ, মাদক ইত্যাদি মানবতা বিরোধী অপরাধের সয়লাবে জাতীয় জীবনে চরম দুর্ভোগ ও অশান্তি চলছে।

আল্লাহর ভয় ও ধর্মীয় শিক্ষা না থাকার কারণে শেখ হাসিনা সমাজসেবক থেকে দানবে পরিণত হয়েছেন উল্লেখ করে মাসুদ সাঈদী বলেন, ক্ষমতার মোহে দেড় দশক ধরে শত শত মানুষকে গুম, খুন ও নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়েছে খুনি হাসিনা।

কুণ্ঠাবোধ করেনি দেশের স্বার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে। বন্ধুত্বের নামে ভারতের দাসত্বের জিঞ্জিরে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে আবদ্ধ করে রেখেছিল। দেশের প্রতিটি সেক্টরকে শেখ হাসিনা দুর্নীতি, লুটপাট এবং হাজারো অনিয়মে ধ্বংস করে দিয়েছে। হাসিনা জুলাই অভ্যুত্থানের বীরদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। ৫ আগষ্টের গণবিপ্লবের পর আমরা বাংলাদেশে আর কোনো দানব, আর কোনো স্বৈরাচার, আর কোনো খুনিকে দেখতে চাই না। দানব স্বৈরাচারদের হাত থেকে বাঁচতে আল্লাহভীতি সম্পন্ন সত্যিকারের জনগণের খাদেম ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মী যাকে যেখানে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করতে হবে।

একটি শান্তিময় ইনসাফপূর্ণ ইসলামী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বেশি বেশি করে আলেম নির্বাচিত করে পার্লামেন্টে পাঠাতে হবে।

সময়ের দাবি অনুযায়ী খুৎবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করার আবেদন জানিয়ে উপস্থিত ইমামদের উদ্দেশ্যে মাসুদ সাঈদী বলেন, ধরাবাঁধা ছাপানো বারো চান্দের একই খুৎবা বছরের পর বছর পড়া উচিত নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট, সমসাময়িক অবস্থা ও ঘটনাবলি এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামনে রেখে খুৎবার ভাষণ প্রস্তুত করা প্রয়োজন। পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে খুৎবা প্রদান প্রয়োজন। খুৎবায় আকীদার বিষয়বস্তুকে সর্বাধিক প্রাধান্য দেওয়া প্রয়োজন। কারণ আকীদা শুদ্ধ হলে ইবাদত শুদ্ধ, আর তা ভুল হলে ইবাদতও ভুল হয়ে যায়। আকীদার বিভ্রান্তিতে একজন মুমিন কখনো কখনো ঈমান থেকেও খারিজ হয়ে যায়।

বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির জিয়ানগর উপজেলার সভাপতি মাওলানা আব্দুল জলিল হাওলাদারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা জামাল হোসেনের সঞ্চালনায় উপজেলা ইমাম সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমাম সমিতির পিরোজপুর জেলা সভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল হালিম। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন টগড়া দারুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসার সাবেক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হারুন অর রশিদ, ওলামা বিভাগের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা শওকত আলী, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা ইয়াহইয়া হাওলাদার, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির পিরোজপুর জেলার উপদেষ্টা মোঃ হাবিবুর রহমান, ইমাম সমিতির জিয়ানগর উপজেলার প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মোঃ আলী হোসেন, উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদুর রহমান রাতুল, উপদেষ্টা মাওলানা মোঃ ছারোয়ার হোসেন মোল্লা।

বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ২নং শুক্তাগড় ইউনিয়নে স্থানীয় কেওতা ঘিগড়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত সহযোগী সদস্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাঈদীপুত্র মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের শহীদ নেতৃবৃন্দের সততার সাথে মন্ত্রী ও এমপির দায়িত্ব পালনের উদাহরণ টেনে বলেন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাদের ত্যাগ আমাদের জন্য অনুসরণীয় হয়ে থাকবে। মন্ত্রী বা এমপির দায়িত্ব পালনের সময় তাদের কারো একবিন্দু দুর্নীতি খুঁজে পায়নি তখনকার সরকার।

মাসুদ সাঈদী সহযোগী সদস্যের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের ৫টি কাজ করতে হবে। যথা- কুরআন পড়তে শেখা ও কুরআন বুঝে পড়ার চেষ্টা করা, প্রত্যেক গ্রাম ও মহল্লার ইউনিটে সাপ্তাহিক বৈঠকে উপস্থিত থাকা, সংগঠনের তহবিলে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা করা, আত্মীয়- স্বজন পাড়াপ্রতিবেশিদের দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে শরিক হওয়ার দাওয়াত দেয়া। এই কাজগুলি আঞ্জাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে জামায়াতের কর্মী ও রুকন হিসেবে শপথ নিয়ে নিজেকে সংগঠনের সাথে একাকার হয়ে যেতে হবে।

সহযোগী সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলা সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মোঃ জহিরুল হক, জেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, রাজাপুর উপজেলা আমীর মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি মোহাম্মাদ কবির হোসেন, ঝালকাঠি পৌরসভা আমীর মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামান, ঝালকাঠি জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবু বকর মোঃ সিদ্দিক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঝালকাঠি জেলা সভাপতি মোঃ সায়েম, জেলা সেক্রেটারি এনামুল হাসান, বরিশাল জজ কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী মোঃ শাহ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 




বরিশালে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন

বরিশাল অফিস :: নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে পাকা সড়কের পাশ দিয়ে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। তবে বালু উত্তোলণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া-সরিকল সড়কের বছার নামক এলাকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পাকাসড়কের পাশের একটি ডোবা থেকে গত কয়েকদিন থেকে উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব মনির হোসেন আকন অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলণ করে আসছেন। ফলে হুমকির মুখে পরেছে পাকা সড়ক।

এ বিষয়ে মনির হোসেন আকন বলেন, ডোবার মালিকের কাছ থেকে বালু কিনে তা উত্তোলণ করা হচ্ছে। যা পাকা সড়ক থেকে অনেক দুরত্বে।

বরিশাল গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।




বরগুনায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান পরিষদের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও সাম্প্রতিক সময়ে সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জাতিসংঘ কর্তৃক তদন্ত, হিন্দু নেতা রাদাশগুপ্ত, চিন্ময় প্রভুসহ সমগ্র দেশব্যাপী সনাতনী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে বরগুনা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ ও সংখ্যালঘু সকল সংগঠন ঐক্যমোর্চার উদ্যোগে সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা আখড়াবাড়ী প্রাঙ্গণে সমাবেশে বক্তব্য দেন, বরগুনা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিবু সিকদার, সাধারণ সম্পাদক মানিক কুমার পঙ্কজ, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুশান্ত বেপারী, সাধারণ সম্পাদক জয়দেব রায়, বামনা উপজেলা পূজা পরিষদ সভাপতি অঞ্জন চ্যাটার্জী, শ্রীগুরু সংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পরিমল কর্মকারসহ বিভিন্ন সনাতনী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল সনাতনী বিক্ষোভ মিছিল আখড়াবাড়ী থেকে শুরু হয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।




জনগণের রায়েই নির্ধারিত হবে আগামী সরকারের গঠন: হাসনাত আবদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, দেশে আর ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “পরবর্তীতে সরকারে কে আসবে, সেটা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।” শুক্রবার (১ নভেম্বর) দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১২ শহিদ পরিবারের সদস্য ও ৪০ জন আহতদের মধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ যোগ করেন, “আপনারা যদি এমন কাউকে নির্বাচিত করেন যারা পূর্বের মতো ফ্যাসিবাদের প্রতিষ্ঠা করবে, তাহলে এর দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।” তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, “এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন, কাকে আগামীতে ক্ষমতায় আনবেন।”

তিনি শহিদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব সরকারের বলে উল্লেখ করে বলেন, “আজকে যে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে দেয়া হচ্ছে। তবে একটি পরিবারও পুনর্বাসন ছাড়া থাকবে না।”

দেবিদ্বার উপজেলা নিয়ে তিনি বলেন, “এখানে কোনভাবেই চাঁদাবাজিকে স্থান দেওয়া হবে না।” এছাড়া, দেবিদ্বারের যানজট নিরসনে রোড ডিভাইডার নির্মাণ এবং বাজার স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, “পৌর ব্যবসায়ী সমিতিকে ঢেলে সাজিয়ে নতুন ব্যবসায়ীবান্ধব কমিটি গঠন করা হবে যাতে সিন্ডিকেট করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে।”

অন্যদিকে, বিকেলে “ফ্যাসিবাদ পরবর্তী আগামী দেবিদ্বার” বিষয়ে জনগণের ভাবনা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় বক্তব্য রাখেন বুয়েটের শিক্ষক ড. খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবিদ্বার উপজেলা শাখার আমীর অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর পারভেজ সরকার, জাতীয় গণ অধিকার পরিষদের কুমিল্লা জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, এবং ভিপি ময়নাল হোসেন প্রমুখ।