আজ বিজয়ের দিন: বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশের প্রত্যাশা

চন্দ্রদীপ নিউজ : ১৬ ই ডিসেম্বর।  মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর আজকের দিনে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে। ৩০ শহীদ আর লাখ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত হ স্বাধীনতা।

৩০ লাখের অধিক প্রাণ আর লাখ লাখ মায়ের সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে নিজেকে মুক্ত করেছে দীর্ঘকালের নাগপাশ আর বঞ্চনা থেকে।

আজ থেকে ৫৩ বছর আগে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শেষে বাংলার শোষিত মানুষ পেয়েছিল মুক্তির স্বাদ, বিজয়ের আনন্দ। আজ সেই মহান বিজয় দিবস। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত গোটা জাতি- নেবে সাম্য ও মানবিক দেশ গড়ার অঙ্গীকার।

মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বিদেশি কূটনীতিকরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

বঙ্গভবনে অপরাহ্নে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারগুলোকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু সদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নত মানের খাবার পরিবেশন করা হবে।

চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ) ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসির ঘাটে এবং চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলো দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

দেশের সব শিশুপার্ক ও জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং সিনেমা হলে বিনামূল্যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে।

স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে : রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, লাখো শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে দেওয়া রোববার এক বাণীতে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরমতসহিষ্ণুতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তাই আসুন- ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি বৈষম্যমুক্ত দেশ গড়তে এবং মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি। দেশ ও জাতিকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, গড়ে তুলি উন্নত-সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ- মহান বিজয় দিবসে এ আমার প্রত্যাশা।

দেশকে আরও উন্নত ও স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর : প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশকে আরও উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল ভোগ করতে আমরা বদ্ধপরিকর। ‘মহান বিজয় দিবস’ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গৌরবময় এবং স্মরণীয় দিন। লাখ লাখ শহিদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়ে যাই আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। তিনি বলেন, বিজয় দিবস কেবল আমাদের গর্বের উৎস নয়, এটি আমাদের শপথের দিনও। শপথ আমাদের একতাবদ্ধ থাকার, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করার। তিনি বলেন, আজকের এদিনে, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহিদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাই। ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং সুশাসিত বাংলাদেশ গঠনে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করছে।

 




দাঁতের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া সমাধান

দাঁতের ব্যথা সাধারণত যে কোনো বয়সে হঠাৎ করেই দেখা দিতে পারে। এই ব্যথা সামলাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দৈনন্দিন কাজের ব্যাঘাত ঘটে। কিছু সহজ ও কার্যকর ঘরোয়া পদ্ধতি জানা থাকলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

দাঁতের ব্যথা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে নিচের উপায়গুলো অনুসরণ করুন:

লবঙ্গ ও অলিভ অয়েল: দুইটি লবঙ্গ থেঁতো করে কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে দাঁতে লাগান। এটি না থাকলে লবঙ্গ চিবিয়ে ব্যথার স্থানে চেপে ধরুন।

রসুনের ব্যবহার: এক কোয়া রসুন থেঁতো করে সামান্য লবণ মিশিয়ে দাঁতে লাগান। ব্যথা বেশি হলে রসুন চিবিয়ে খান।

লবণ ও গোলমরিচ: লবণ এবং গোলমরিচ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই মিশ্রণ দাঁতে লাগিয়ে রাখুন। কয়েকদিন এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফলাফল পাবেন।

পেঁয়াজ: এক টুকরা কাঁচা পেঁয়াজ চিবিয়ে খেয়ে ফেলুন। যদি ঝাঁঝ বেশি মনে হয়, তাহলে পেঁয়াজ দাঁতে চেপে ধরে রাখুন।

হিং ও লেবুর রস: আধা চা চামচ হিং গুঁড়ো ও দুই টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে দাঁতে লাগান। মাত্র দুই মিনিটেই ব্যথা দূর হবে।

লবণ পানি দিয়ে কুলকুচি: এক গ্লাস গরম পানিতে এক চা চামচ লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করুন। এটি দাঁত, মাড়ি ও গলার ব্যথা দূর করতে কার্যকর।

পেয়ারা পাতা: দুটি পেয়ারা পাতা চিবিয়ে ব্যথাওয়ালা দাঁতে চেপে রাখুন। দ্রুত আরাম পাবেন।

ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট: তুলায় কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা এক্সট্রাক্ট নিয়ে ব্যথার স্থানে চেপে ধরুন।

দূর্বা ঘাসের রস: দাঁতের ব্যথা কমাতে দূর্বা ঘাসের রস খুব উপকারী। এটি দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।

বরফ ব্যবহার: কোনো উপকরণ না থাকলে বরফ এক টুকরা তুলা বা কাপড়ে মুড়ে দাঁতে চেপে ধরুন। এটি দ্রুত ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে।

পরামর্শ: এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো সাময়িক স্বস্তি দেবে। তবে সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেরি না করে ডেন্টিস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশিদের জন্য নাসায় কাজের সুযোগ

এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) প্রযুক্তিতে দক্ষ হলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজের সুযোগ পেতে পারে বলে জানিয়েছেন নাসার প্রধান নভোচারী জোসেফ এম আকাবা। রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার প্লে পেন স্কুলে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাসার এই বিজ্ঞানী জানান, এআই প্রযুক্তি মহাকাশ গবেষণার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যদি এআই প্রযুক্তির উন্নয়নে সাফল্য অর্জন করে, তাহলে নাসায় কাজ করার সুযোগ থাকবে। নাসা এমন প্রতিভাবানদের খুঁজে বেড়ায় যারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ অনুসন্ধানে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসতে পারে।”

অনুষ্ঠানে তিনি মহাকাশ গবেষণার গুরুত্ব, নাসার বৈশ্বিক ভূমিকা এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মহাকাশ অনুসন্ধানে কীভাবে বাংলাদেশ উপকৃত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেন। শিক্ষার্থীরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তিনি তাৎক্ষণিক উত্তর দেন এবং মহাকাশ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন।

মহাকাশ প্রযুক্তিতে এআই ব্যবহার সম্পর্কে জোসেফ আকাবা বলেন, “এআই আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে এবং সিস্টেমের ত্রুটি চিহ্নিত করে। নাসার পরিকল্পনা হচ্ছে সবকিছুতেই এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা। ভবিষ্যতে মহাকাশ অনুসন্ধানের কাজে মানুষের ভূমিকা থাকবে শুধু পরিচালকের।”

আকাবা মনে করেন, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সম্ভাবনা অফুরন্ত। তিনি বলেন, “যারা এআই প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করবে, তারা নাসাসহ শীর্ষ মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবে। মহাকাশ ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও গভীর অধ্যয়ন প্রয়োজন।”

নিজের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে আকাবা জানান, আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে তার ছয় মাসের অভিজ্ঞতা ছিল রোমাঞ্চকর। মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফিরে আসার সময় শারীরিক চ্যালেঞ্জ এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, মহাকাশে আগুন, মিটিয়রয়েড আঘাত, কিংবা অ্যামোনিয়া লিকের মতো বিপদ মোকাবিলা নভোচারীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজ। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও মিশন কন্ট্রোল টিমের সহায়তায় তারা নিরাপদ থাকেন।

মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফোনকল করার অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে আকাবা বলেন, “নভোচারীরা মহাকাশ থেকে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় বিনামূল্যে ফোনকল করতে পারেন। তবে কেউ মহাকাশে ফোন করতে পারে না।”

আকাবা আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকেও মানুষ মহাকাশে যাবে। তিনি বলেন, “কঠোর পরিশ্রম এবং দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মহাকাশ অনুসন্ধানে বাংলাদেশের অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্লে পেন স্কুলের চেয়ারম্যান এ মান্নান খান, প্রিন্সিপাল শরাবন তহুরা, এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল অফিসার জেমস গার্ডিনার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




WASA Link 16162, An efficient Call Center




ভোলায় বাতাসে আমনের ঘ্রাণ, কৃষকের মুখে সোনালি হাসি

চলতি বছরের আগস্টে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় আমন ধানের চারা পচে যাওয়ার পরও হাসি ফুটেছে ভোলার কৃষকদের মুখে। জেলায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের সোনালি ধান দোল খাচ্ছে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে।

রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলন ভালো হওয়াতে খুশি কৃষকরা। আবাদের খরচ মিটিয়ে বিগত দিনের ধারদেনাও শোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। ধান পাকতে শুরু করায় কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) তথ্যমতে, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা মিলিয়ে মোট ৭ উপজেলায় কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার। তার মধ্যে আমন আবাদ করেছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার। চলতি বছর ভোলার সাত উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৬ হেক্টর। আমনের চারা পচে যাওয়ায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে। অনাবাদি আছে ৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর জমি।

ঘরে বসেই মিলবে কৃষি ও খাদ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি
কৃষকদের মূল্যায়ন করতে হবে: কৃষি উপদেষ্টা
এর আগে আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টি ও অতিজোয়ারের পানিতে দুই দফায় ১২ হাজার ৩৪১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার ভেতর ৩ হাজার ৪১১ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে আমনের চারা সংকটে জেলাজুড়ে ১৯ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা ছিল।

সরেজমিনে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার আমন ধানের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি ৫২, বিআর ২২, ২৩, স্বর্ণা, বিনা ১৭, ২০, ব্রি-৬৬, ৭০, ৭৮, ১০৩ সহ বেশ কয়েকটি আমনের জাত রয়েছে কৃষকের জমিতে। এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা। ইতোমধ্যে অনেকে তাদের জমির পাকা ধান কেটে নিয়েছেন। আবার অনেকে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা তাদের।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. মোসলেউদ্দিন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা জানিয়ে বলেন, সমিতি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ক্ষেতে (জমি) আমন ধানের চারা লাগিয়েছি। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমে আগস্ট মাসে ২ বার ক্ষেতের আমনের চারা পচে গেছে। এতে সমিতি থেকে নেওয়া পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে আবার টাকা ধার করে ঝুঁকি নিয়ে ক্ষেতে আবারও ধানের চারা লাগিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ ধান ভালো হয়েছে। আর কদিন পরেই কাটব। সবমিলিয়ে খরচাপাতি উঠে লাভ থাকবে।

ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ মাল বলেন, এ বছর ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে ১ হেক্টরের ধান, প্রায়ই ১২ মন ধান পেয়েছি। ক্ষেত থেকেই ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আবাদের হিসেবে এ বছর লাভবান হব।

মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার ২ হেক্টর জমিতে ৬০০ টাকা কেজিদরে প্রথমবার ১০ কেজি আমন ধানের চারা রোপণের পর অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সব চারা পচে গেছে, পরে আবার লাগিয়েছি। দ্বিতীয়বারও পচে গেছে, তৃতীয়বার আবার রোপণ করেছি। এতে চলতি সিজনে একই জমিতে আমন আবাদের জন্য ৩০ কেজি আমনের চারা রোপণ করতে হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি কীটনাশকসহ প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরেও আশা করছি ন্যূনতম ২৭ হাজার টাকার ধান পাব।

একই গ্রামের মো. আবু বলেন, আগেভাগেই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। একসঙ্গে সবার ধান কাটা শুরু হলে শ্রমিক সংকট হবে। অন্যান্য বছরের তুললায় এ বছর ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি, দুইবেলা ভাতসহ চা-নাস্তা করিয়ে ৬৫০ টাকা করে শ্রমিকদের দিতে হয়।

ধানের ব্যাপারী মো. মিজান বলেন, সরাসরি কৃষকের জমি থেকে ১০৭০ থেকে ১১০০ শত টাকা মণে আমন ধান কিনছি। পরে আমি আবার মণ প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা লাভে আড়তদারের কাছে বিক্রি করি।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ এ এফ এম শাহাবুদ্দিন বলেন, চলমান ক্ষরিক-২ মৌসুমে ভোলা জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও অতিজোয়ারের কারণের আমনের চারা পচে যাওয়ার পর অতিরিক্ত চারা সংগ্রহ ও কূশী ভেঙে রোপণের ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৯ টন করে ফলন হয়েছে। যে-সব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

বাতাসে আমনের ঘ্রাণ, কৃষকের মুখে সোনালি হাসি::

চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত ছাপিয়ে ভোলার কৃষকদের মাঠে ফিরেছে সোনালি হাসি। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে আমনের সোনালি ধান। বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা কাটা-মাড়াইয়ের ব্যস্ততায় সময় পার করছেন।

প্রাকৃতিক বাধা সত্ত্বেও সফলতা::

গত আগস্টে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় আমনের চারা পচে গিয়েছিল। এতে জেলায় ১৯ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এরপর কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি খরচে নতুন করে চারা রোপণ করেন। সেই প্রচেষ্টার সুফল পেয়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় এ বছর আমনের আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে। ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক সংকট দেখা গেলেও, ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের কষ্ট ধুয়ে গেছে।

কৃষকের স্বপ্নপূরণ::

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. মোসলেউদ্দিন জানান, দুই দফা ক্ষতির পর আবার ঋণ নিয়ে চারা রোপণ করেন। তাঁর ক্ষেত থেকে এবার বেশ ভালো ধান পাওয়ার আশা করছেন। তিনি জানান, “চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ধান বিক্রির পরিকল্পনা করেছি, যা দিয়ে বিগত ক্ষতির ঋণ পরিশোধ করব।”

চরসামাইয়া ইউনিয়নের রিয়াজ মাল বলেন, “৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করেছি। এর মধ্যে এক হেক্টরের ধান থেকে প্রায় ১২ মন ফলন পেয়েছি। আগাম ধান বিক্রি করেও লাভবান হয়েছি।”

পোকামাকড়ের আক্রমণ কম, ফলন আশাব্যঞ্জক::

জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ এ এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে মৌসুমের শুরুর সমস্যা সত্ত্বেও পরে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় প্রতি হেক্টরে ৪.৯ টন ফলন হয়েছে। এতে জেলার লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি উৎপাদন হয়েছে। কৃষকেরা বীজ সহায়তা ও প্রণোদনার সুবিধা পাওয়ায় তাদের উৎপাদন কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

ধানের বাজার দর::

ধান ব্যবসায়ী মো. মিজান জানান, জমি থেকে সরাসরি প্রতি মণ ধান ১০৭০ থেকে ১১০০ টাকায় কিনছেন। অন্যদিকে, শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের আগেভাগে ধান কাটতে দেখা গেছে। এ বছর ধান কাটার শ্রমিকদের দৈনিক ৬৫০ টাকা মজুরিতে নিয়োগ দিতে হচ্ছে।

স্বপ্নমাখা সাফল্যের গল্প::

ভোলার কৃষকদের একাধিক চেষ্টা, সরকারপ্রদত্ত সহায়তা ও তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এ বছর ধানের মৌসুমে সাফল্যের গল্প রচিত হয়েছে। মাঠভরা ধানের সুবাস এখন যেন তাদের মুখের হাসির প্রতীক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীতে জুবুথবু জনজীবন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গত কয়েক দিন তাপমাত্রার পারদ কমতে শুরু করে উত্তরাঞ্চলে। ফলে উত্তরের জেলাগুলোতে জেঁকে বসেছে শীত। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে তিন দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীত অনুভব হচ্ছে। সঙ্গে বিকাল থেকে শুরু হয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা পেতে বেলা গড়াচ্ছে ১০টা পর্যন্ত।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।




সিলেটে বাস-সিএনজির সংঘর্ষ: প্রাণ গেল ২ জনের

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালারগাঁওয়ে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার ভয়াবহ সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, এক নারীসহ চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি মিজানুর রহমান।

নিহতদের পরিচয়:
নিহতরা হলেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের রুহুল আমিন (২৬) এবং ববানিপুর গ্রামের আব্দুল মুকিত (৪০)। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সন্ধ্যার পর সিলেট নগরীর কিনব্রিজ এলাকা থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা জগন্নাথপুরের দিকে যাচ্ছিল। দক্ষিণ সুরমার লালারগাঁও এলাকায় পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং অটোচালকসহ চারজন আহত হন।

ওসি মিজানুর রহমান জানান, “দুর্ঘটনায় ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১০ বাস নিয়ে বিআরটি চালু হচ্ছে আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রকল্প শুরুর এক যুগ পর আজ চালু হচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত বিআরটি প্রকল্প। শুরুর দিকে চলবে ১০ টি বাস। যা পর্যায়ক্রমে বাড়ান হবে।

গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটিসি লেনে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের এই প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০টি বিআরটিসি এসি বাস গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটি টার্মিনাল থেকে বিআরটি লেনে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার এবং এয়ারপোর্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ২২ কিলোমিটারে ৪২.৫ কিলোমিটার পথ চলাচল করবে।

শিববাড়ী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ভাড়া ৭০ টাকা এবং শিববাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়া ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা এবং স্টেশনসমূহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসের সংখ্যা পরে বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া বিআরটি করিডরে বিআরটিসির এসি বাস সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

 




কারখানা নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল, কবাই ও ফরিদপুর এই তিন ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে কারখানা নদী। তবে এই নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার বসতবাড়ি, তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর ফসলি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে।

প্রথমত, নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং শিয়ালঘুনী ৭০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, যা অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দুধল, কবাই ও ফরিদপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম ভাঙনের মুখে। নতুন করে গড়ে উঠা কবাই বাজার, ৪নং দুধল ইউনিয়নের শতরাজ বাজারও হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষত, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফরিদপুর গ্রাম এবং চর রাঘুনদ্দি গ্রামও নদী ভাঙনের কবলে পড়ছে। ১২৮নং চর রাঘুনদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের ভেরি বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রতিবছর বর্ষাকালে নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা নদী গর্ভে হারিয়ে যায়। ভাঙন আতঙ্কে রাত জাগছেন নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার।

কবাই ইউনিয়নের বাসিন্দা বারেক খান জানান, গত বর্ষা মৌসুমে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমতে শুরু করলে তীব্র স্রোতের কারণে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি এবং দুই শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছে বাজার, নদীর পাড়ে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

ফরিদপুর গ্রামের শাহজাহান মল্লিক বলেন, “নদীর অব্যাহত ভাঙনে আমাদের সড়ক, বসত বাড়ি ও ফসলি জমি চলে যাচ্ছে। সরকারি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। অনেকেই ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসেছেন। বর্ষাকালে বেরিবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায় আমাদের বসতবাড়ি।”

কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল তালুকদার জানান, “আমরা অনেক আগেই আমাদের পূর্ব পুরুষের বাড়ি হারিয়েছি। এখন বাড়ির সামনে পারিবারিক গোরস্থানও নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”

ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস, এম, শফিকুর রহমান বলেন, “ভাঙন রোধে বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। অন্যথায় আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে।”

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ জানিয়েছেন, “আমরা কারখানা নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন বুদ্ধিজীবীদের ১৫ টাকায় কেনা গেছে: ববি উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস থেকে দূরে রাখার জন্যই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। তিনি জানান, এর ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছে নতুন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, যারা খুব অল্প টাকায় কেনা গেছে। “পনেরো টাকায় তাদের কেনা হয়েছে, এবং আরো অনেক বড় অঙ্ক দিয়েও তাদের কেনা হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি এও বলেন, আসল বুদ্ধিজীবীদের শনাক্ত করতে পেরেছে খুব কম মানুষ। আসল বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন সেই মানুষ, যাদের কথা শুনে সাধারণ মানুষের ভালো লাগা তৈরি হতো। এবং হয়তো এখনও দুই-একজন আছেন, যারা সেই মর্যাদায় আছেন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানি।

এ সময় উপাচার্য আরো বলেন, “বরিশালের যে ইতিহাস, যে সংস্কৃতি এবং বরিশালবাসীর শিক্ষা তা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। এখানে আসার পর আমি যা দেখেছি, তাতে আমার বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম। এখান থেকেই তৈরি হতে পারে নতুন বুদ্ধিজীবী, এমন মানুষ যারা শুধু বরিশালের জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।”

বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. ধীমান কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক এবং শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট আবদুল আলিম বছির। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শায়লা হক। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম