শীতে কানের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

শীত আসার সঙ্গে সর্দি-কাশির সমস্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই কানের ব্যথায় ভুগছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে এমন ব্যথা হয়। পাশাপাশি তরল জমা ও প্রদাহও কানের ব্যথার একটি সাধারণ কারণ। তবে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি ব্যবহার করে সহজেই এই যন্ত্রণা কমানো সম্ভব।

আদার জাদু

আদা একটি প্রাকৃতিক প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। কানের চারপাশে আদার রস বা আদার সঙ্গে মিশ্রিত অলিভ অয়েল হালকা গরম করে প্রয়োগ করলে ব্যথা কমে যায়। তবে খেয়াল রাখুন, কানের ভেতরে যেন আদার রস না ঢুকে।

অলিভ অয়েলের ব্যবহার

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্সের মতে, অলিভ অয়েল হালকা গরম করে কানের মধ্যে দু-এক ফোঁটা দিলে ব্যথা তৎক্ষণাৎ কমে যেতে পারে। তবে তেল ব্যবহারের আগে অবশ্যই তা ঠান্ডা করে নিতে হবে।

টি ট্রি অয়েলের কার্যকারিতা

টি ট্রি অয়েলে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিসেপটিক, এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা কানের সংক্রমণ রোধে সহায়তা করে। এটি হালকা গরম করে কানের চারপাশে ম্যাসাজ করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। তবে যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে, তাহলে এই তেল এড়িয়ে চলুন।

রসুনের শক্তি

রসুন কানের সংক্রমণ নিরাময়ে একটি কার্যকরী ঘরোয়া প্রতিকার। এতে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। কাঁচা রসুন খেলে বা রসুনের তেল ব্যবহার করলে ব্যথা কমে। তবে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শেষ কথা

উল্লেখিত প্রতিকারগুলো ব্যবহার করে দ্রুত কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শীতকালে নিজের যত্ন নিন এবং সুস্থ থাকুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মোটরসাইকেল না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের বেদগর্ভ গ্রামে সৌদি প্রবাসী ভাষাই খানকে দাবিকৃত মোটরসাইকেল না দেওয়ার অভিযোগে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আহত প্রবাসীর ছেলে টুটুল খান জানান, তার বাবা ভাষাই খান সম্প্রতি ছুটিতে দেশে আসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট থেকে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে যুবদল নেতা পলাশ মৃধা তাদের পরিবারের কাছে তিনটি পালসার মোটরসাইকেল কেনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

টুটুল খান বলেন, “আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবিকৃত মোটরসাইকেল কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, পলাশ মৃধা ও তার ৮-১০ জন সহযোগী আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার বাবাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আমার মা বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়।”

এ বিষয়ে সরিকল ইউনিয়নের বিএনপি আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে যুবদল নেতা পলাশ মৃধা বলেন,“ভাষাই খান সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনে লিপ্ত ছিলেন। এখন আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

এদিকে, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন,“এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে সরিকল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে যেভাবে প্রস্তুত করবেন

সন্তানের বয়স তিন বছর পার হলেই বাবা-মা ভালো স্কুল খুঁজতে শুরু করেন। কারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু শিশুর জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সঠিক বয়সে স্কুলে ভর্তির আগে কিছু প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। এটি শিশুর সামাজিক, মানসিক, এবং শারীরিক বিকাশে সহায়তা করে।

শিশুকে নতুন পরিবেশ, বন্ধু, এবং লেখাপড়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত করতে হবে। স্কুলে যাওয়ার আগে বাড়িতেই কয়েকটি বিষয়ের চর্চা করলে শিশুর জন্য এই পথচলা সহজ হয়ে ওঠে।

প্রথমত, বাচ্চাকে প্রি-স্কুল বা প্লে স্কুলে পাঠানোর মাধ্যমে নিয়মিত বাইরে থাকার অভ্যাস করান। প্রথম দিকে মা-বাবাকে না দেখলে শিশুরা কান্নাকাটি করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস তাদের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সহজ করে।

যা শেখানো জরুরি:

১. অন্যের সঙ্গে মানিয়ে চলা: শিশুকে শেখান, কীভাবে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হয়। তাদের অনুভূতিকে সম্মান করা, মজা করে গায়ে হাত না তোলা এবং নিজেদের আবেগ প্রকাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. ভাগ করে নেওয়া শিখুন: চকোলেট বা খেলনা ভাগ করার পাশাপাশি, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে এই চর্চা চালু রাখুন।

৩. শ্রদ্ধা করার মানসিকতা তৈরি করুন: মা-বাবা, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানোর চর্চা ছোট থেকেই শুরু করুন।

৪. দ্রুত শেখার অভ্যাস গড়ে তুলুন: শিশুকে কেবল মুখস্থ নয়, বিষয়বস্তুকে বোঝার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করে।

৫. দায়িত্বশীলতা শিখুন: নিজের জিনিস গুছিয়ে রাখা, নিজে খাবার খাওয়া, এবং নিজের পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব নিতে শেখান।

শিশুর জীবনের প্রথম স্কুলে যাত্রা একটি বড় পদক্ষেপ। সঠিক প্রস্তুতি শিশুর জন্য এই যাত্রাকে আনন্দময় এবং ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনাকে ফেরাতে বরগুনায় গোপন শপথ, ভিডিও ভাইরাল

মহান বিজয় দিবসে বরগুনার একটি অজ্ঞাত স্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও জামায়াত-বিএনপিকে উৎখাতের শপথ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
প্রায় ২ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের কিছুসংখ্যক নেতাকর্মী গোপনে একত্রিত হয়ে বেলুন উড়ানো ও শপথ পাঠ করছেন। তাদের হাতে একটি ব্যানার ছিল, যেখানে লেখা—“শেখ হাসিনার হাত ধরে জঙ্গি জামায়াত খতম করো, মুক্তিযুদ্ধ আঁকড়ে ধরো।”

ভিডিওতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে তারা জঙ্গি ও অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রাণ উৎসর্গের শপথ নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বিঘ্ন স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।

ভিডিওতে শপথ পাঠে বলা হয় “গৌরবময় মহান বিজয় দিবস ২০২৪। সৃষ্টিকর্তার নামে আমরা শপথ করছি যে, জঙ্গি জামায়াত ও বিএনপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গরীব, দুঃখী, মেহনতি মানুষের সাথে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিব। নেত্রীর নির্দেশে প্রয়োজনে গণতন্ত্রের যোদ্ধা হিসেবে জীবন উৎসর্গ করব। জয় বাংলা।”

এ ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বরগুনা সদর সার্কেল) মোঃ আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, “বরগুনার বিভিন্ন স্থানে গোপনে এটি আয়োজন করা হয়েছে। ভিডিওতে তিন-চারজনকে বেলুন উড়াতে দেখা গেছে। তবে কোন স্থানে এটি অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটির তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ একে গোপন কর্মসূচি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, আবার কেউ ঘটনাটির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িক বন্ধ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের (৬৬০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এর আগে, গত ৯ নভেম্বর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য পায়রার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ম্যানেজার (তদন্ত) শাহ মনি জিকো জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।

জানা গেছে, পায়রার ধানখালী এলাকায় নির্মিত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট (আরএনপিএল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। আমতলী উপজেলায় নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচিং স্টেশনের সঞ্চালন লাইন স্থাপন কাজের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ম্যানেজার শাহ মনি জিকো বলেন, “৯ নভেম্বর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এরপর সঞ্চালন লাইন স্থাপনের নির্দেশে প্রথম ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।”

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সুইচিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে।”

পটুয়াখালীর এই বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুর প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রদের ওপর হামলা, আহত ৬

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সোমবার পিরোজপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ছাত্রদের ওপর দুই দফায় দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মূসা খানসহ গণিত বিভাগের দুই ছাত্র ইসতিয়াক ও তৌহিদ খলিফাসহ অন্তত ৫-৬ জন আহত হন।

সোমবার সকালে শহরের বলেশ্বর নদের তীরে অবস্থিত শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দল ব্যানার ও পুষ্পমাল্য নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছিল। হঠাৎই কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং ব্যানার, পুষ্পমাল্য ও মাথার ক্যাপ ছিনিয়ে নেয়। এ সময় কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, মাল্যদান শেষে প্রক্টর, শিক্ষক ও ছাত্ররা টাউন ক্লাব সড়কের নীরব হোটেলে সকালের নাস্তার জন্য গেলে শ্রমিক দলের একটি খণ্ড মিছিল তাদের লক্ষ্য করে আবারও হামলা চালায়। এতে প্রক্টরসহ অন্তত ৫-৭ জন ছাত্র আহত হন।

ভিসি ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, সদর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন।

এ ঘটনায় জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন টিপু জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক দলের ৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন-
১. পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি রাজ্জাক ফকির
2. পৌর সহ-প্রচার সম্পাদক বাদশা সেখ
3. সদস্য সোহাগ সেখ
4. সদস্য মো. মোস্তফা

এ হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে নাগরিক কমিটির ­কর্মসূচিতে হামলা

হামলায় বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক কমিটি বরিশালের কর্মসূচি পণ্ড হয়ে গেছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় নগরের সোহেল চত্বরের কাছে অ্যানেক্স ভবনের জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে সড়কে দায়িত্ব পালনরত পুলিশের হস্তক্ষেপে দুপক্ষকে আলাদা করা হয়।

জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু অভিযোগ করে বলেন, আমরা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলাম। শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে নিচ্ছিলাম। হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা করে অনুষ্ঠান পণ্ড করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বারবার জানিয়েছি, আমরা জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য। আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। কিন্তু কৃষক দলের লোকজন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে।

জাতীয় নাগরিক কমিটির সংগঠক শাকিল মৃধা জানান, আমাদের আলোচনা সভার মধ্যে একদল লোক এসে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ বলে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আমাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলে এবং হামলা করে আয়োজন পণ্ড করে দেয়। হামলাকারীরা পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল মহানগর কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান বলেন, আমরা মিছিল নিয়ে আসার পথে দেখি, জাতীয় নাগরিক কমিটির ব্যানারে আওয়ামী লীগপন্থিরা সড়ক আটকে প্রোগ্রাম করছে। তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে উপস্থিত লোকজন তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, জাতীয় নাগরিক কমিটি আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে কর্মসূচি করতে এলে কিছু লোকজন তাদের মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের দুপক্ষকে দুদিকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরে নাগরিক কমিটির লোকজন কোতোয়ালী মডেল থানায় যায়। সেখানে তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা ছিলেন।

থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল মহানগরের সদস্য সচিব মো. শাহাদাত বলেন, ‘নাগরিক কমিটির ভাইদের ওপর হামলা হয়েছে, তাদের নেত্রীসহ কিছু ভাই আহত হয়েছেন। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই, সে সঙ্গে যারা এ হামলা চালিয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্তব্যের জায়গা থেকে আমরা এখানে (থানায়) প্রতিবাদ জানাতে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় সে জন্য এখানে এসেছি।

তিনি বলেন, যারা হামলার শিকার হয়েছেন তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, প্রশাসনের ভূমিকা ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, কারণ তারা প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার পরেও তারা সাহায্য করেনি। কৃষক দল, শ্রমিক দল এবং যুবদলের পরিচয় দিয়ে বিএনপির স্লোগান দিয়ে কোনো কারণ ছাড়াই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা চালিয়েছে।

উপস্থিত পুলিশ সদস্য রাশেদ জানান, আচমকা এক পক্ষ এসে ব্যানার ছিড়ে ফেলেছে। কোনো সমস্যা হলে আমাদের বলতে পারত। আমরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলাম; কিন্তু না বলে আইন নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে। পরবর্তী সময়ে উভয়পক্ষকে ওই স্থান থেকে আমরা সরিয়ে দিয়েছি।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা শেষে নাগরিক কমিটির সদস্য সালমান জানান, আমরা হামলাকারীদের বিচারের পাশাপাশি উপস্থিত পুলিশ সদস্য যারা হামলাকারীদের নিবারণ করেনি তাদেরও শাস্তি দাবি করেছি।

বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীতে পেশির টান ও গাঁটের ব্যথা কমানোর সহজ উপায়

শীতের কনকনে ঠান্ডায় পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেশিতে টান ধরা কিংবা গাঁটের ব্যথা খুবই সাধারণ সমস্যা। অনেকেরই ঘুমের মধ্যে পায়ের রগে টান ধরে ব্যথা শুরু হয়। আবার সকালে হাঁটতে গেলে শিরায় টান লাগতে পারে। পায়ের আঙুল হঠাৎ বেঁকে যাওয়া কিংবা ব্যথার কারণে চলাফেরা করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতের আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে শরীরে নানা সমস্যার প্রকোপ বাড়ে। তার মধ্যে প্রধান কারণ হলো শরীরে পানির ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন। অনেকেই শীতে অলসতার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। চলাফেরা কমিয়ে দেওয়াও গাঁটের ব্যথা ও পেশির টান বাড়াতে পারে।

শীতে পেশির টান ও গাঁটের ব্যথা কমাতে যা করবেন

১. নিয়মিত শরীরচর্চা:
শীতকালে আলস্যের কারণে শরীরচর্চা এড়িয়ে গেলে সমস্যা বাড়ে। তাই নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। হাঁটা-চলা, সাঁতার কাটা, জগিং কিংবা সাধারণ যোগব্যায়াম পেশিকে শিথিল রাখে এবং গাঁটের ব্যথা কমায়।

২. গরম সেঁক ও গরম পানিতে গোসল:
শীতকালে গরম পানিতে গোসল করলে এবং ব্যথার স্থানে গরম সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। এটি পেশির শক্তভাব কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে।

৩. পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ:
ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। এসব খাবার পেশিকে শিথিল করে, হাড়কে মজবুত রাখে এবং ব্যথা-যন্ত্রণা কমাতে সহায়তা করে।

৪. পানি পানের অভ্যাস:
শীতকালে অনেকেই পানি কম খান। শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে পেশিতে টান ধরার ঝুঁকি বাড়ে এবং গাঁটের ব্যথা তীব্র হয়। তাই শরীরে পানির ঘাটতি হতে দেবেন না।

৫. ওষুধ গ্রহণে সতর্কতা:
যদি ব্যথা বাড়তে থাকে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করুন। নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

শীতকালে এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে পেশির টান এবং গাঁটের ব্যথার ঝুঁকি সহজেই কমানো সম্ভব। সুস্থ ও সচল থাকতে নিয়মিত শরীরচর্চা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালির গৌরবের দিন। বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টায় তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।




জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ১২ মিনিটে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা, অন্য কয়েকজন উপদেষ্টা ও তিন বাহিনীর প্রধান।

পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন।

মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নিয়েছিল। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হন এ লড়াইয়ে। সেই ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেটির উদয় ঘটে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে, বহু শতাব্দীর স্বপ্ন-স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের মাধ্যমে। অবর্ণনীয় দুর্যোগে লন্ডভন্ড হওয়া বাংলাদেশের বঞ্চিত ও শোষিত মানুষ রুখে দাঁড়ায় সর্বশক্তি দিয়ে। আত্মবিস্মৃত বাঙালি আত্মপরিচয় অনুসন্ধানে উৎসর্গ করে নিজ ও স্বজনকে। ছিনিয়ে আনে বিজয়, লাল-সবুজ পতাকা সংবলিত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আজ সেই ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৫৩তম বর্ষ। হাজার বছরের গর্বিত বাঙালি জাতির বীরত্বের অবিস্মরণীয় দিন আজ।