নারীর শ্রমে ঘুরছে বরগুনার প্রান্তিক অর্থনীতি

কৃষি, মৎস্য ও তাঁতশিল্পে প্রান্তিক নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বদলাতে শুরু করেছে উপকূলীয় জেলা বরগুনার অর্থনৈতিক চিত্র। সংসারের চার দেয়ালের গণ্ডি পেরিয়ে মাঠ, নদী ও তাঁতঘরে নারীদের অবিরাম শ্রম আজ পরিবার ও সমাজে স্বাবলম্বিতার নতুন দিগন্ত তৈরি করছে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার পাথরঘাটা সদর ও চরদুয়ানী ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের গৃহবধু নারীরা দলবদ্ধভাবে কৃষিকাজে যুক্ত হয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। পুরুষের সহায়তা ছাড়াই তারা ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যশস্য ও মৌসুমি ফসল উৎপাদন করছেন। ধান কাটা, মাড়াই, সিদ্ধ ও শুকানো থেকে শুরু করে চাল ভাঙানো পর্যন্ত সব কাজ নিজেরাই সম্পন্ন করছেন তারা। বলেশ্বর নদীসংলগ্ন গাববাড়িয়া গ্রামে ধান কাটার মৌসুমে নারীদের দলবদ্ধ শ্রম এখন নিয়মিত দৃশ্য।

স্থানীয় নারী কৃষক রোকেয়া বেগম, আলেয়া বেগম ও জোছনা বেগম জানান, কৃষিকাজে সফল হওয়ায় তারা এখন নিজেরাই আয় করছেন এবং সংসারের ব্যয় নির্বাহ করছেন। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি আর্থিকভাবে কারও ওপর নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করে এসব নারী কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছেন। তাদের উদ্যোগ টেকসই করতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

মৎস্য খাতেও বরগুনার নারীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ছয় উপজেলায় পায়রা, বিষখালী ও বলেশ্বর নদী তীরবর্তী এলাকায় প্রায় ৫০ হাজার জেলের বসবাস। এর মধ্যে অন্তত ১০ হাজার জেলেবধূ সরাসরি মাছ আহরণে যুক্ত। তালতলী উপজেলার জয়ালভাঙ্গা গ্রামের জেলে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী আলেয়া বেগম প্রতিদিন ভোরে স্বামীর সঙ্গে নদীতে গিয়ে জাল তোলা, মাছ সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের কাজে অংশ নেন। একই সঙ্গে ঘরের কাজ ও সন্তানদের দেখভালের দায়িত্বও তাকেই সামলাতে হয়।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, উপকূলীয় জেলে পরিবারের নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানতালে কাজ করলেও তাদের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হয়নি।

অন্যদিকে তালতলী উপজেলার রাখাইন পল্লীগুলোতে হস্তচালিত তাঁতে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাখাইন নারীরা। মায়ানমার থেকে আনা সুতা দিয়ে তারা শীতের চাদর, শার্ট পিস, লুঙ্গি, গামছা ও ব্যাগ তৈরি করছেন। শীত মৌসুম ও ঈদকে কেন্দ্র করে এসব পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। তালতলীর ১৭টি রাখাইন পল্লীতে দুই শতাধিক হস্তচালিত তাঁত রয়েছে। কোনো কোনো পরিবারে একাধিক তাঁত পরিচালিত হচ্ছে।

ছাতনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অংতেন তালুকদার বলেন, তাঁতশিল্প রাখাইন নারীদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। এই শিল্প তাদের আত্মমর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার প্রতীক।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মো. সালেহ বলেন, নারী-পুরুষের সম্মিলিত উদ্যোগই উপকূলীয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে পারে। দারিদ্র্য বিমোচনে এসব কর্মঠ নারী অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নারীদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি মিললে বরগুনার এই প্রান্তিক নারীরাই ভবিষ্যৎ টেকসই উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডুবোচর ও নাব্য সংকটে ঝুঁকিপূর্ণ ঢাকা–বরিশাল নৌরুট

ঘন কুয়াশা, ডুবোচর ও তীব্র নাব্য সংকটের কারণে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–বরিশাল নৌরুট চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। শীত মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে অন্তত ২২টিতে পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ নৌপথজুড়ে সংকেতবাতি, ভাসমান বয়া ও মার্কারের অভাব। ফলে কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চালাতে গিয়ে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন চালকরা, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি শীত মৌসুমেই ঘন কুয়াশার মধ্যে মেঘনা নদীতে একাধিক লঞ্চ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ২৫ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে চাঁদপুরের হাইমচর সংলগ্ন নীলকমল বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকাগামী এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চের সঙ্গে ঝালকাঠিগামী অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হন।

একই রাতে সদরঘাট থেকে চাঁদপুরগামী ইমাম হাসান-৫ লঞ্চটি প্রায় ৫০০ যাত্রী নিয়ে যাত্রা করে। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় মেঘনা নদীতে নোঙর করা একটি বালুবাহী বাল্কহেডের সঙ্গে লঞ্চটির সজোরে সংঘর্ষ হয়। পরদিন ডুবুরিরা ডুবে যাওয়া বাল্কহেড থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।

সদরঘাট নৌ-পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ওইদিন ছোট-বড় মিলিয়ে ১৪টি নৌযানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর কিছুদিন আগেও একই নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে বরিশালগামী এম খান-৭ঈগল-৪ লঞ্চের সংঘর্ষ হয়, যদিও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলের নদীপথে কুয়াশাজনিত সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর, ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে। সেদিন ঢাকা থেকে বরগুনাগামী অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডে ৪৭ জনের মৃত্যু এবং ৩১ জন নিখোঁজ হন। ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চটি তীরে ভেড়াতে না পেরে মাঝনদীতে ভাসছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

লঞ্চযাত্রীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বরিশাল নৌযাত্রী ঐক্য পরিষদ–এর আহ্বায়ক দেওয়ান আবদুর রশিদ বলেন, রাতের বেলায় নদীপথে চলাচলের জন্য বাঁক, চর ও ডুবোচর এলাকায় বয়া, সংকেতবাতি ও মার্কার থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এসব অবহেলিত। নিয়মিত সংরক্ষণ ও নজরদারি থাকলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

ঢাকা–বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চ ও কার্গো জাহাজের চালকরাও অভিযোগ করে বলেন, শীত এলেই নাব্য সংকট ও ঘন কুয়াশা এই নৌপথকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে। বিশেষ করে ডুবে থাকা বা অর্ধডুবন্ত বাল্কহেড বড় ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। কুয়াশার মধ্যে বয়া ও বিকন বাতির অভাবে নৌযান প্রায়ই চরে আটকে যাচ্ছে।

চালকরা জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী, মেহেন্দীগঞ্জ, গলাচিপা, রাঙ্গাবালী, চরফ্যাশন, বাউফল, হিজলা ও মুলাদীসহ বহু নৌপথে বর্তমানে তীব্র নাব্য সংকট ও ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। অনেক স্থানে বয়া থাকলেও তাতে সংকেতবাতি জ্বলে না।

এমন পরিস্থিতিতে গত ১ নভেম্বর রাতে চাঁদপুর থেকে ছেড়ে আসা বোগদাদিয়া-৭ লঞ্চটি মেঘনা নদীর একটি ডুবোচরে আটকা পড়ে। এর আগে ২০২৩ সালের ৮ জানুয়ারি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় এমভি অথৈ-১ লঞ্চ এক সপ্তাহ ধরে ডুবোচরে আটকে ছিল।

ঢাকা–বরিশাল রুটে চলাচলকারী এমভি মানামী লঞ্চের পরিদর্শক বেলাল হোসেন বলেন, শীতকালে পানি কমা স্বাভাবিক হলেও এবার শীত শুরুর আগেই পানি নেমে গেছে। আগে নভেম্বর মাসে লঞ্চ ডুবোচরে আটকাত, এবার অক্টোবর থেকেই সেই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে।

নাব্য সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেরি চলাচলেও। বরিশালের মীরগঞ্জ–মুলাদী ফেরি রুটে নির্ধারিত চ্যানেল ব্যবহার করা না যাওয়ায় বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ঘুরে ফেরি চলাচল করতে হচ্ছে, এতে জ্বালানি খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ’র ড্রেজিং বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী নবনীতা বিশ্বাস জানান, হিজলা এলাকায় নাব্য সংকট নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। হাইড্রোলজি বিভাগের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক (নৌপথ) আব্দুস সালাম বলেন, চাঁদপুর ও বরিশাল বিভাগের প্রয়োজনীয় স্থানে বয়া, মার্কার ও সংকেতবাতি স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে নিউমোনিয়ায় প্রাণ গেল ঠিকাদারের

বরিশালে তীব্র শীতের মধ্যে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এক ঠিকাদারের মৃত্যু হয়েছে। নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে রাশেদুল শেখ (৫৫) নামের ওই ব্যক্তি মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটার দিকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহত রাশেদুল শেখ বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের ঠাকুরমল্লিক এলাকার বারোকানি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুস সালাম শেখের ছেলে এবং পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে তিনি বাসায় অবস্থানকালে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শ্বাসকষ্টসহ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে তার মৃত্যু হয়।

তার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার বাদ আসর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে চলমান তীব্র শীত ও উত্তর দিকের হিমেল বাতাসে বরিশালের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ, রিকশাচালক, অটোরিকশাচালক, দিনমজুর ও হকাররা। জীবিকার তাগিদে শীত উপেক্ষা করে অনেককেই রাস্তায় নামতে হচ্ছে।

শীত থেকে বাঁচতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। যদিও কুয়াশার প্রভাব কিছুটা কমেছে, তবে উত্তরের হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। দিনের বড় অংশে সূর্যের দেখা না মেলায় ঠান্ডার অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার জেলায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত বছরের একই দিনে বরিশালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ ডিগ্রি, অর্থাৎ চলতি বছর তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি কম।

শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক ক্ষেত্রে এক বেডে একাধিক রোগী কিংবা মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

চিকিৎসকরা জানান, শীতের এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। উষ্ণ পোশাক ব্যবহার, ঠান্ডা এড়িয়ে চলা, বিশুদ্ধ পানি পান এবং অপ্রয়োজনে ভোর বা গভীর রাতে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে শীতের মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের উপপরিচালক এস এম রাশেদুর রেজা মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মামলাটি দায়ের করেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারা অনুযায়ী সাদিক আবদুল্লাহকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা না দেওয়ায় একই আইনের ২৬(২) ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে মর্মে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

দুদক সূত্র জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে সাদিক আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করা হয়। অনুসন্ধানকালে প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ১৬ অক্টোবর সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য নোটিস জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২৬ অক্টোবর দুদকের এক কনস্টেবল ঢাকার কলাবাগান এলাকায় তার ঠিকানায় গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর ৪ নভেম্বর বরিশাল শহরের ঠিকানায় গিয়েও তাকে না পাওয়ায় একই দিন আগৈলঝাড়া উপজেলার সেরাল এলাকার ঠিকানায় বাড়ির দরজায় সম্পদ বিবরণীর ফরমের মূল কপি টাঙিয়ে নোটিস জারি করা হয়। নোটিস জারির পর নির্ধারিত ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

সাদিক আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন স্থানের মতো বরিশালেও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় বরিশাল মহানগরীর কালীবাড়ী সড়কে সাদিক আবদুল্লাহর পৈতৃক বাড়িতেও হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হামলার কিছুক্ষণ আগে তিনি বাড়িটি ছেড়ে যেতে সক্ষম হলেও তার তালাবদ্ধ শয়নকক্ষে আটকা পড়ে সিটি করপোরেশনের এক সাবেক প্যানেল মেয়রসহ তিনজনের মৃত্যু হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুমকিতে পাগল কুকুরের তাণ্ডব, ৩৫ জন হাসপাতালে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় হঠাৎ করে একটি পাগল কুকুরের হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। অল্প সময়ের মধ্যে একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা একে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন।

সোমবার সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দুমকির বিভিন্ন এলাকায় কুকুরটি বেপরোয়া ভাবে ছুটে বেড়িয়ে পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কেউ কিছু বোঝার আগেই কুকুরটি একের পর এক মানুষকে কামড়াতে থাকে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এলাকা থেকে শুরু করে শ্রীরামপুর, রাজাখালী, পীরতলা বন্দর, দুমকি বাজার ও জলিশা গ্রাম পর্যন্ত কুকুরটির তাণ্ডব ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকায় চলাচলকারী মানুষজন হঠাৎ আক্রমণের শিকার হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আবদুল্লাহ (১৯), ইউসুফ, মফিজুর রহমান (৭০), তানিয়া (সাড়ে ৩ বছর), মাহিনুর বেগম (৩৮), জব্বার ঘরামী (৬০), রিমা (২০), মনোয়ারা বেগম (৫৫), ফরিদা বেগম (৫০), নাইমুল (২), মাধবী রানী (৪০), জান্নাতুল ফেরদৌস (১৮), খোকন (৪০), আবদুল লতিফ মৃধা (৮০)সহ আরও অনেকে। আহতদের বয়সের পরিসর দুই বছরের শিশু থেকে শুরু করে আশি বছরের বৃদ্ধ পর্যন্ত।

আহতদের দ্রুত দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি লুথারন হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক রোগী আসায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অধিকাংশ আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে কুকুরটির হামলা থামাতে প্রশাসনের নির্দেশে পবিপ্রবির নিরাপত্তাকর্মী, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা একসঙ্গে অভিযান চালান। পরে গ্রামীণ ব্যাংক সড়কের একটি বাড়িতে কুকুরটিকে আটকে ফেলতে সক্ষম হন তারা। এতে এলাকাবাসী কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান।

দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহিদুল হাসান শাহীন জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই মুহূর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন মজুত নেই। আহতদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এ ঘটনার পর স্থানীয়রা এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুর নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নতুন বছরের প্রথম সূর্যোদয় হোক আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজকের সূর্যোদয় নিয়ে এসেছে নতুন বারতা, নতুন স্বপ্ন এবং নতুন চ্যালেঞ্জ।

২০২৫ সালের যত না পাওয়া, যত ভুল, হতাশা, দুঃখ, গ্লানি মুছে দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন যাত্রা। ২০২৬ সালের এই প্রথম সূর্যোদয়ে আছে অন্ধকার কেটে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। একটি গণতান্ত্রিক দেশ গড়ার আশা এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা।

সকালে খ্রিষ্টীয় নতুন বছরের সূর্যোদয় হলেও বুধবার রাত ১২টায় ঘড়ির কাঁটা শূন্যের ঘর অতিক্রমের সঙ্গে সঙ্গেই গণনা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। নতুন বছর মানেই নতুন প্রত্যাশা। উদ্যম আর সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আবারও পথচলা শুরুর দৃঢ় প্রত্যয়। খ্রিষ্টীয় নতুন বছর-২০২৬ উপলক্ষ্যে দেশবাসী এবং প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

 

নতুন বছর উপলক্ষ্যে দেওয়া প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নববর্ষ মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন আশা ও নতুন সম্ভাবনার সূচনা। নতুনের এ আগমনী বার্তা আমাদের উদ্বেলিত করে। সব গ্লানি ভুলে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য জোগায় নবোদ্যম ও অনুপ্রেরণা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে নতুন বছর আমাদের জাতীয় জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্রুটিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে যে যাত্রা আমরা শুরু করেছি, নতুন বছরে একটি জাতীয় নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তা পূর্ণতা পাবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন বছরে সব চ্যালেঞ্জ একসঙ্গে মোকাবিলা করে একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

তারেক রহমান তার বাণীতে বলেছেন, ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমি কামনা করি দেশ-বিদেশের সবার অনাবিল আনন্দ, শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি। নতুন বছরে আমরা নতুন করে স্বপ্ন দেখি একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে। আমরা এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করছি, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।

পৃথক বাণী দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুভেচ্ছা বার্তায় গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও হতাশা পেছনে ফেলে নতুন বছর আমাদের জীবনে শান্তি, ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এটাই আমাদের কামনা। একটি বছর আমাদের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও ব্যর্থতার স্মৃতি বহন করে। নতুন বছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করে। এদিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনীতিসহ নানা কারণে ২০২৬ সালটি গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতিসহ সব ক্ষেত্রে দেশ আরও এগিয়ে যাবে-এমন প্রত্যাশা সবার। গত বছর যে আশা নিয়ে পথচলা শুরু হয়েছিল তার অনেকখানি হয়তো পূরণ হয়নি। কিন্তু তাতে কি, নতুন উদ্যম নিয়ে এগিয়ে গেলে সাফল্য আসবেই। আজকের দিনে দেশবাসীর এ প্রত্যয়। ২০২৪-এ গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র শাসন ব্যবস্থার বিলুপ্তির মধ্য দিয়ে দেশকে পুনরায় গঠনের এক মহান সুযোগ এসেছিল জাতির জন্য। মানুষের কথা বলার অধিকার ফিরে এসেছে।

ভোটের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ নতুন এক সুশাসনের অপেক্ষা করছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে মোতাবেক ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে নিখুঁত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষ সব মিলিয়ে এক সুদিনের অপেক্ষায় আছে। যেখানে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্নীতি কমবে, মানুষের সব অধিকার সংরক্ষিত হবে। সর্বোপরি মানুষের উন্নতি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে।

দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষও চান ভোটের অধিকার ফিরে আসুক। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যার মধ্য দিয়ে অতীতের সব ভুলভ্রান্তি মুছে দিয়ে নতুনভাবে এগিয়ে চলবে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালটি দেশের অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেছে। ব্যাংক খাতে ছিল নানা সংকট। দেশের মানুষের প্রত্যাশা ২০২৬ সাল অর্থনৈতিক খাতের সব সূচক লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে। স্থায়ীভাবে ফিরে আসবে সব শ্রেণির মানুষের সচ্ছলতা। উন্নতি হবে জীবনমানের। মূল্যস্ফীতির হার সহনীয় মাত্রায় নেমে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম হাতের নাগালে আসবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি বড় নিয়ামক বিনিয়োগ। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ। যার সঙ্গে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হওয়ার পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয় জড়িত। ২০২৬ সালে বিনিয়োগ বেড়ে নতুন নতুন আরও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে-এমন আশাবাদ দেশের মানুষের।

২০২৬ সালে প্রতিবেশী ভারতসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আয় বাড়ানো, আরও রেমিট্যান্স আনার বিষয়ে নানা উদ্যোগ প্রত্যাশা করে মানুষ। রাজনৈতিক হানাহানি, সংঘাত, লড়াই, সহিংসতা চান কেউই। সবার প্রত্যাশা-স্থিতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক অবস্থার মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আরও সুদৃঢ় এবং ত্বরান্বিত হবে। সে সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, আবাসনসহ মৌলিক চাহিদা পূরণের নানা জায়গায় দেশে আজও অরাজকতা বিরাজমান। দেশবাসী চান এসব অরাজকতা বন্ধ হয়ে প্রকৃতপক্ষেই দেশে শান্তি, স্বস্তি ফিরবে।

 




খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিলেন ৩২টি দেশের কূটনীতিকরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রি দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনৈতিক ,রাস্ট্রদুত ও উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা  যোগ দেন।

জানাজায় অংশ নেয়া  কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত মেগান বোল্ডিন, ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারসহ অন্তত ৩২ জন কূটনীতিক ও প্রতিনিধি।

এছাড়া রাশিয়ার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত একাতেরিনা সেমেনোভা, জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা সিনচি, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল ও সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো সিগফ্রিড রেংলিও জানাজায় অংশগ্রহণ করেন।

নেদারল্যান্ডস, লিবিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, ফিলিস্তিন, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, ইতালি, সুইডেন, স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, মরক্কো, ইরান, আলজেরিয়া, ব্রুনাই, থাইল্যান্ড, কাতার, ডেনমার্ক ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনাররাও জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।

কূটনীতিকদের পাশাপাশি বিমসটেকের মহাসচিব ইন্দ্র মনি পান্ডে ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ সিমোন লসন পার্চমেন্টও জানাজায় অংশ নেন।




রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে যাত্রাপথজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ সংসদ ভবনে নেওয়ার পর জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন করা হবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রায় ১০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিএনপিকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, জানাজা অনুষ্ঠান বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো সরাসরি সম্প্রচার করতে পারবে। তবে দাফন কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের দায়িত্ব থাকবে কেবল বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ওপর।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে বিশেষ স্থান অধিকার করে আছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য: শেখ হাসিনা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান ছিল অপরিসীম।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে পাঠানো এক শোকবার্তায় এসব কথা বলা হয়। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক কার্যক্রমের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ওই বার্তায় শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেন।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় জীবনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং বিএনপির নেতৃত্বে এক বড় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

শেখ হাসিনা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।

এছাড়া শোকবার্তায় তিনি খালেদা জিয়ার পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। বিশেষ করে তাঁর ছেলে তারেক রহমান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের রাজনীতিতে এক পরম মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব, যিনি গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে তিনি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। এই দুঃখজনক সময়ে তিনি মরহুমার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং অসংখ্য কর্মী-সমর্থকের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় উল্লেখ করা হয়, বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক অনন্য ও শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহনশীলতা এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন অবস্থান বারবার জাতিকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার প্রেরণা জুগিয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশ ও জাতির প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণমুখী নেতৃত্ব এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল অবস্থান ছিল অনন্য। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই শোকাবহ সময়ে সবাই যেন মহান আল্লাহর দরবারে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং ধৈর্য ও সংযমের পরিচয় দেন। একই সঙ্গে শোকের সুযোগে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখে দিতে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

শোকবার্তায় আরও জানানো হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। পাশাপাশি তাঁর জানাজার নামাজের দিনে এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। জানাজাসহ সব শোকানুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

শেষে প্রধান উপদেষ্টা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন তিনি জাতিকে এই গভীর শোক কাটিয়ে ওঠার শক্তি, ধৈর্য ও ঐক্য দান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫