শেরপুরে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৬

শেরপুর সদর উপজেলায় একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৬ জন নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শেরপুর-ঢাকা মহাসড়কের শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের পিটিআই’র সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

শেরপুর সদর থানার এসআই আনসার আলী জানান, রিফাত পরিবহন নামের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। আহত একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।

এদিকে, এসআই আনসার আলী আরও জানান, নিহতদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তারা। পুলিশ দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এটি একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা, যার মধ্যে অটোরিকশার যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। শেরপুরের মহাসড়কে এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের আকাশে ডানা মেলল হিমালয়ান শকুন, স্যাটেলাইট ট্যাগ সংযুক্ত করে মুক্তি

প্রায় ২৩ দিন আটকে থাকার পর বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার উত্তর দাড়িয়াল গ্রামে হিমালয়ান প্রজাতির এক শকুন মুক্ত আকাশে ডানা মেলেছে। রবিবার দুপুরে এই শকুনটিকে স্যাটেলাইট ট্যাগসহ আকাশে অবমুক্ত করা হয়, যা এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে সহায়ক হবে।

গত ৩০ নভেম্বর, শকুনটি উত্তর দাড়িয়াল গ্রামে মুদি দোকানি মো. সোলায়মানের ঘরের ছাদে এসে পড়ে। সোলায়মান শকুনটিকে উদ্ধার করে একটি পরিত্যক্ত দোকান ঘরে রেখে তাকে যত্ন দেন। শকুনটির খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যা নিশ্চিত করা হয় বন বিভাগের পক্ষ থেকে। সোলায়মান প্রতিদিন শকুনটিকে মুরগি খেতে দেন।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বন কর্মকর্তা মনিন্দ্র নাথ হালদার জানান, শকুনটি হিমালয়ান গৃধিনী প্রজাতির এবং এটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শকুনটির পক্ষে সেবা দেওয়া হলে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠেছে।

ঢাকা থেকে আসা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংঘের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম অ্যাসিস্ট্যান্ট কাজী জেনিফার আজমিরি বলেন, “শকুনটি সম্পূর্ণ সুস্থ। এটি হিমালয়ান গৃধিনী প্রজাতির এবং এর ওজন সাড়ে সাত কেজি। এটি পুরোপুরি প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি।” তিনি আরও বলেন, শকুনগুলো সাধারণত হিমালয় থেকে মাইগ্রেট করে বাংলাদেশে আসে। তবে, দক্ষিণাঞ্চলে খুব কমই দেখা যায়। শীতের শেষে শকুনগুলো আবার ফিরে যায়।

জেনিফার আজমিরি আরও বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে খাবার সংকট রয়েছে, কারণ মরা গরু মাটিতে চাপা দেওয়া হয়। এর ফলে শকুনগুলোর খাবারের অভাব দেখা দেয়, এবং তারা মানুষের কাছে আসতে বাধ্য হয়। এই শকুনটি সুস্থ অবস্থায় ফিরে যাবে, আর তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য স্যাটেলাইট ট্যাগ লাগানো হয়েছে।”

মুক্তি পাওয়ার পর শকুনটি আকাশে উড়তে শুরু করে, এবং এখন তার চলাচল পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সম্পর্কিত নির্দেশনা

বাংলাদেশ সচিবালয়ের ৭ নং ভবনে সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, এর আওতাধীন দপ্তর এবং সংস্থাগুলোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা  ও পর্যালোচনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রথমত, সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় একটি কার্যকর নিরাপত্তা কমিটি গঠনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যদি কোন কমিটি না থাকে, তাহলে আগামীকালই একটি নতুন কমিটি গঠন করে তার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির সদস্যরা নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং কোনো ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করবেন।

দ্বিতীয়ত, সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো কার্যকর অবস্থায় আছে কিনা তা পরীক্ষণ করা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সেটি সচল করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নিয়োজিত জনবলের উপর মনিটরিং বাড়ানো এবং প্রবেশ পথে এন্ট্রি রেজিস্টার বাধ্যতামূলকভাবে পূরণ করার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয়ত, কেপিআই স্থাপনা গুলো পরিদর্শন করা এবং অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা যেমন ফায়ার এলার্ম, স্প্রিংকলার সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা গ্রহণ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান, ফায়ার এক্সিটের সঠিক অবস্থান ও যোগাযোগের নাম্বার সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উপস্থিতিতে মহড়া আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অফিস সময়ের পরে ভবন সঠিকভাবে লক করা হচ্ছে কিনা, চাবী কার কাছে রয়েছে এবং নাইটগার্ডের ডিউটি সঠিকভাবে পালন করা হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই সমস্ত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং কার্যকর করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“ক্যাডার-নন-ক্যাডার বৈষম্য দূর করার আহ্বান”

বৈষম্যবিরোধী গণকর্মচারী পরিষদের নেতারা সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘‘ক্যাডার ও নন-ক্যাডার নির্বিশেষে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যে মৌলিক বৈষম্য বিদ্যমান, তা দূর করা অত্যন্ত জরুরি।’’ তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, বৈষম্য না কমালে প্রশাসনে আরও বিশৃঙ্খলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সংগঠনের আহ্বায়ক জিন্নাত আলী সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাশেদুল আলম ও মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। লিখিত বক্তব্যে তারা জানান, জনপ্রশাসনে সংস্কারের জন্য বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যেই সাবেক সচিব আব্দুল মুয়ীদ চৌধুরীকে প্রধান করে একটি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। কিন্তু, কমিশনে বিভিন্ন সরকারি সার্ভিসের প্রতিনিধিত্বকারী অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করা হলেও বিশালসংখ্যক নন-ক্যাডার কর্মকর্তাদের কোনো প্রতিনিধিত্ব রাখা হয়নি।

তারা আরও উল্লেখ করেন, ‘‘যদিও কমিশন নাগরিকদের মতামত সংগ্রহ করছে, কিন্তু সরকারি জনবল কাঠামোর বৃহত্তম অংশ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এর কোনো বৈঠক হয়নি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।’’ তারা মনে করেন, জনগণের সরাসরি সেবা প্রদানকারী নন-ক্যাডার কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর না হলে জনপ্রশাসন কখনোই জনকল্যাণমুখী হতে পারবে না।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী ‘‘রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি’’তে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মের শ্রেণিবিভাগে ‘নন-ক্যাডার’ নামে এক ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছে, যার ফলে দক্ষ ও মেধাবী সরকারি কর্মচারীরা প্রশাসনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন দফতরের নন-ক্যাডার কর্মচারীদের সমস্যাগুলোর দিকে আঙ্গুল তুলে বলেন— ‘‘সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পরিচিতি, মর্যাদা, প্রেষণ, পদোন্নতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা-প্রশিক্ষণসহ নানান ক্ষেত্রে বৈষম্য বিদ্যমান। এসব বৈষম্যের ফলে শুধু একটি অস্থির প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হয় না, বরং একটি পক্ষপাতমূলক সমাজের জন্ম নেয়।’’

তারা আরও উল্লেখ করেন, চাকরি জীবনের শুরুতেই একই গ্রেডে একজনকে ক্যাডার এবং অন্যজনকে নন-ক্যাডার হিসেবে তকমা দেওয়া হয়, যা চরম বৈষম্যমূলক। ‘‘গেজেটেড অফিসার্স রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৭৮’’ ও ‘‘পাবলিক সার্ভিস কমিশন (কনসালটেশন) ১৯৭৯’’ অনুযায়ী সরকারি পদগুলো বিভক্ত করা হয়, যেখানে নবম গ্রেডকে ‘গেজেটেড’ এবং ১০ম-২০তম গ্রেডকে ‘নন-গেজেটেড’ পদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তারা মনে করেন, ‘‘একই গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা হলেও, তাদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করার কারণে সরকারি সুযোগপ্রাপ্তি ও মর্যাদায় বড় ধরনের অমিল রয়েছে।’’ তাই তারা প্রস্তাব দিয়েছেন, ‘‘সরকারি কর্মে ক্যাডার-নন-ক্যাডার বিভাজন বিলুপ্ত করে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হোক।’’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে যে কারণে ২০২৪ ছিলো আলোচনার বছর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ভারসাম্যহীন বাজারদর, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ ও সড়ক পথের দুর্ঘটনা নিয়ে ২০২৪ সাল ছিলো বরিশালের আলোচনার বছর।

সরকার পতনের আগে জুলাই মাসে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশালে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে সময়ের সাথে সাথে যৌক্তিক এ আন্দোলনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশালের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে, যাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

যদিও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের মহড়া ও একাধিক হামলার ঘটনা রাজপথে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলো। তবে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম কোনোভাবেই দমাতে পারেনি। কৌশলী আন্দোলনে পুলিশের বুলেট, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্য দিয়ে বরিশালে কোনো নিহত হওয়ার ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখে ৫ আগস্ট বরিশালের রাজপথসহ সর্বত্র বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন ছাত্র-জনতা।

এরইমধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে নগরবাসী কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পরেছিলেন।

রাজনৈতিক মামলা :
বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন নিয়ে বিএনপির বরিশালের নেতাকর্মীরা যেমন মামলার শিকার হয়েছেন, তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পাশে থাকায় হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি জুলাইয়ে মামলার শিকার হন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় ২২ আগস্ট প্রথম মামলা দায়ের করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

যে মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সাবেক সিটি মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এফবিসিআই’র পরিচালকসহ ১ হাজার ৮১ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়াকার্স পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওইসব মামলার অধিকাংশ আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

যারমধ্যে বরিশাল-২, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের হিমশিম খেতে হয় নির্বাচন নিয়ে।

বিদ্রোহীদের দমাতে বরিশাল সদর আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, বরিশাল-২ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেন নৌকার কর্মী-সমর্থকরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা ও পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবির ঘটনাও ছিলো বরিশালজুড়ে আলোচিত।

এছাড়াও বছরজুড়ে আলোচনার মধ্যে ছিলো-বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে বা গোপনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড না চালানো এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা ছিল উল্লেখযোগ্য।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




সাংবাদিক হত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘‘প্রতিটি সাংবাদিক হত্যার জন্য শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’’ তিনি এ মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ফ্রি প্রেস ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে, যা শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস সচিব জানান, ‘‘ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সুষ্ঠু এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’’ তিনি বলেন, ‘‘কোনো ধরনের ফ্যাসিস্ট শাসন যেন আবারও তৈরি না হয়, তার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’’

শফিকুল আলম আরো বলেন, ‘‘হাসিনার মতো একজন শাসকের উত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল। তিনি বললেন, সাংবাদিকরা তার অপকর্মকে সাপোর্ট করার কারণে হাসিনা এখন ‘গুম জননী’তে পরিণত হয়েছেন।’’

এছাড়া, মিডিয়ার মালিকদের সমালোচনা করে প্রেস সচিব বলেন, ‘‘অনেক সাংবাদিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে নিহত হয়েছেন। তাদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘গণমাধ্যমের মালিকদের উচিত সাংবাদিকদের উপযুক্ত বেতন দেয়া, শুধু কার্ড ধরিয়ে দিলে কাজ চলবে না।’’

এই সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই বিপ্লবে নিহত হওয়া সাংবাদিকদের স্বজনরাও।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য নতুন সংযোজন ‘তাঁবুঘর’

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা, যা প্রকৃতি, সমুদ্র, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগের জন্য দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের প্রিয় স্থান। এবার এই পর্যটন শহরে পর্যটকদের বাড়তি আনন্দ দিতে চালু হলো ‘তাঁবুঘর’। এই অভিনব উদ্যোগটি নিয়েছে ‘নোনা জলের ভেলা’ নামের একটি ইকো ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১১টায় কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ঝাউবন সংলগ্ন তালবাগানে অস্থায়ী তাঁবু স্থাপনের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এমএ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষারসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট অনেক বিশিষ্টজন।

‘নোনা জলের ভেলা’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম মিরন জানান, তাঁবুঘরের বিশেষ প্যাকেজে পর্যটকরা সমুদ্র ও আশপাশের দ্বীপগুলোতে ঘুরে তাঁবুতে রাত্রিযাপন, ক্যাম্প ফায়ার, সামুদ্রিক মাছের বারবিকিউ পার্টি এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান লক্ষ্য।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “এটি কুয়াকাটায় পর্যটকদের জন্য অত্যন্ত চমৎকার উদ্যোগ। পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ বাড়াতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি গ্রহণ করা উচিত।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “নোনা জলের ভেলা পর্যটকদের জন্য ইকো ট্যুরিজমের মাধ্যমে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করবে।”

তাঁবুঘরের এ উদ্যোগ কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে। এটি কেবল কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্যই নয়, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকারে বাসের ধাক্কায় ৫ জন নিহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে একটি প্রাইভেটকারকে বাসের ধাক্কায় ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা এলাকায়।

প্রাথমিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি, তবে দুর্ঘটনার ফলে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সকালে মাওয়াগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে, প্রাইভেটকারটির সাথে একটি মোটরসাইকেলও দুর্ঘটনায় পড়ে।

মুন্সীগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ সহকারী পরিচালক সফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দুর্ঘটনায় বাইকে থাকা এক শিশুর মৃত্যু হয়, আর হাসপাতালে পাঠানোর পথে আরও ৪ জন মারা যান। মোট ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্ধার কাজে দ্রুত সহায়তা করে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রাথমিক উদ্ধার কাজ শেষে, দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো সরিয়ে নেওয়া হলে এক সময় সেখানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যায়।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




নির্বাচন-অভ্যুত্থানে টালমাটাল বরিশাল

বরিশালে ২০২৪ সাল ছিল উত্তাল ও রকমের এক বছর, যেখানে একাধিক ঘটনা সমান্তরালভাবে ঘটেছে, যার মধ্যে ছিল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এসব ঘটনায় বরিশাল এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নানা চাপ সৃষ্টি হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকারের পতন .

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়, যেখানে সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আন্দোলনটি দ্রুত পুরো দক্ষিণাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, এবং সেখানে শিক্ষক ও অভিভাবকরা আন্দোলনকারীদের সমর্থন জানাতে রাজপথে নামেন। আন্দোলনের সময় পুলিশি নির্যাতন, অস্ত্রধারীদের হামলা, এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার মধ্যেও শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি। ৫ আগস্ট, আন্দোলনের ফলস্বরূপ, সরকার পতন এবং আওয়ামী লীগের সভাপতির দেশ ত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা জনমনে বড় ধরনের আলোচনার সৃষ্টি করে।

রাজনৈতিক সহিংসতা ও মামলা

অন্যদিকে, ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করায় বরিশাল মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে হামলা ও মামলা দায়ের হয়। ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি অফিসে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে সেরনিয়াবাত ভবনে তিনজনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ ওঠে। ২২ আগস্ট, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে সাবেক মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরাও আসামি হন।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ

২০২৪ সালে বরিশালবাসী বিশেষভাবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দুর্বিষহ জীবনযাপন করেছে। বিশেষত সয়াবিন তেল, ডিম, চাল, পেঁয়াজ, আলু, এবং সবজির বাজারে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। তবে ডিসেম্বরের শেষের দিকে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগও বরিশালের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রিমাল দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে, এবং বিশেষজ্ঞরা এর কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। এছাড়া বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, ও বাকেরগঞ্জ অঞ্চলে নদী ভাঙনের ফলে হাজারো মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে।

নির্বাচন এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা

২০২৪ সালের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন ও অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। বরিশালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ এবং বাগবিতণ্ডা ঘটে, যেখানে পুলিশি সংঘর্ষের কারণে বেশ কয়েকজন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরই মধ্যে বরিশালে বিদ্রোহী প্রার্থীদের হামলা, পুড়িয়ে ফেলা মোটরসাইকেল, এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সাংবাদিক নির্যাতন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের বদলি বিষয়ক আলোচনা ছিল এবছরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা চলতে থাকে, বিশেষ করে নির্বাচনকালে।

বিশেষ উল্লেখযোগ্য ঘটনা

বরিশালের জিলা স্কুলের ছাত্র মাহাথির রহমান ক্যান্সার জয় করে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছে, যা সবার মধ্যে আশা ও অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে ব্যবসা শুরু করেছে, এবং বরিশালের বিভিন্ন সামাজিক আন্দোলনও আলোচনায় আসে।

২০২৪ সাল ছিল বরিশালের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, এবং প্রাকৃতিকভাবে চ্যালেঞ্জের বছর। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও বরিশালের জনগণ তাদের সংগ্রাম চালিয়ে গেছে, এবং কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মস্তিষ্কের ক্ষতি করে যেসব অভ্যাস

মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শরীরের সব কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। চিন্তা-ভাবনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণসহ দৈনন্দিন জীবনের সব কাজই মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল। তবে কিছু অভ্যাস মস্তিষ্কের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দেই না। মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এসব ক্ষতিকর অভ্যাস দ্রুত ত্যাগ করা জরুরি।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া

সকালের খাবার শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টি এবং গ্লুকোজের অভাবে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়, যা মানসিক চাপ বাড়ায় এবং মনোযোগ ও স্থিরতায় সমস্যা তৈরি করে। তাই প্রতিদিন পুষ্টিকর সকালের খাবার গ্রহণ করা উচিত।

একসাথে অনেক কাজ করা

একই সঙ্গে একাধিক কাজ করলে মস্তিষ্কের উপর চাপ বৃদ্ধি পায়। এতে মনোযোগ বিভক্ত হয় এবং গভীর চিন্তা বা জটিল কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখতে কাজের সময় একমুখী মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহার

উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে কানে এবং মস্তিষ্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এতে শ্রবণ ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং স্মৃতিভ্রমসহ মানসিক ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘ সময় উচ্চ আওয়াজে হেডফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত।

ঘুমের অভাব

ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ক্ষতিপূরণ করে এবং তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শেখার ক্ষমতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

নীল আলোতে অতিরিক্ত সময় ব্যয়

মোবাইল ও কম্পিউটারের নীল আলো মস্তিষ্ক ও চোখের জন্য ক্ষতিকর। এটি ঘুমের রুটিন নষ্ট করে, যা সরাসরি মনোযোগ ও স্মৃতি সংরক্ষণ ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। তাই নীল আলোর এক্সপোজার সীমিত রাখা উচিত।

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এই অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ত্যাগ করা প্রয়োজন। মস্তিষ্ককে যত্নে রাখলেই শরীরের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম