ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে নৃশংস হত্যা

ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলায় সুদেব হালদার (২৮) নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে রামপুর জোড়াপোল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত সুদেব হালদার উপজেলার বেতরা গ্রামের সুব্রত হালদারের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাউকাঠি বাজারে একটি মোবাইলের দোকান চালাতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সোমবার রাত ১২টার দিকে সুদেব তার মোবাইলের দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী রাস্তার পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, মাথায় গুরুতর কুপের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহটি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কল্যাণ রাষ্ট্রের অভাবে মানুষ অমানবিক কষ্টে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে : পীর সাহেব চরমোনাই

শীতার্ত অসহায় মানুষের সহায়তায় দলীয় নেতাকর্মী এবং দেশের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।

তিনি বলেন, “অল্প উপার্জনকারী ও গরীব অসহায় মানুষেরা এই শীতে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে তীব্র কষ্টে দিনযাপন করছে। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী বর্তমানে দিশাহীন অবস্থায় রয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ অতীতের মতোই এসব শীতার্ত মানুষের পাশে থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে মানুষকে এভাবে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করতে হতো না। শীতের এই কষ্ট লাঘবে প্রত্যেক বিত্তবান এবং সংগঠনের কর্মীদের মানবিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।”

পীর সাহেব চরমোনাই পুরানা পল্টনের দলীয় কার্যালয়ে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন,
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান (সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব),ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম (যুগ্ম মহাসচিব),আলহাজ্ব মুহাম্মদ মনির হোসেন (ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক),শহিদুল ইসলাম কবির (সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক),মুফতি মোস্তফা কামাল (কেন্দ্রীয় সদস্য)

সামর্থ্যবান সকল ব্যক্তিকে শীতবস্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে এই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে পীর সাহেব বলেন,মানবিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবে শীতার্ত মানুষের সেবায় ব্রত হওয়া উচিত। ইনশাআল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পরিচয় গোপন করে সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থীরা!

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বেলা ১২টায় একটি সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরিচয় গোপন করে তাবলীগ জামাতের সাদপন্থীরা এই সংবাদ সম্মেলন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাবলীগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান জানান- সেখানে সাদপন্থীরা নিজেদের পরিচয় গোপন করে নিরপেক্ষ হিসাবে পরিচয় দিয়েছে।

সাংবাদিকরা তাদেরকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কারা বা আপনারা কোন পক্ষ?
উত্তরে ওনারা জানান, আমরা নিরপেক্ষ।

অথচ উনারা কট্টর সাদপন্থী। এর প্রমাণ ওনারা নিজেরাই রেখে গেছেন। (ছবি দুটো লক্ষ করলে বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে ওঠে)

গত ২৩ শে ডিসেম্বর ২০২৪, রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাদপন্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে যারা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তাদের ভেতরে প্রফেসর মঞ্জুর নামে পরিচিত এক সাদপন্থী ব্যক্তি আজও সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হন। এবং সাংবাদিক ভাইদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

এই মিডিয়া সমন্বয়ক প্রশ্ন রাখেন কেন তারা পরিচয় গোপন করছেন? কেন জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইদের সামনে ভুল তথ্য পেশ করলেন? তাহলে কি তারা অস্তিত্বহীনতায় ভুগছেন? উনারা কি নিজেদেরকে সাদপন্থী হিসেবে পরিচয় দিতে লজ্জাবোধ করছেন?

প্রসঙ্গত, প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে গত ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীরা নৃশংস হামলা ও হত্যাযজ্ঞ চালায়। এরপরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় শতাধিক তাবলীগের সাথী তওবা করে সাদ পন্থী থেকে শুরায়ী নিজামের অধিনে মেহনত শুরু করেন।

খবর প্রেসবিজ্ঞপ্তি’র




সন্তানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনুন অ্যাপ লক ফিচারের মাধ্যমে

স্মার্টফোন আমাদের জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা সন্তানদের হাতে ফোন তুলে দিই। এতে তারা না বুঝেই জরুরি মেসেজিং অ্যাপ বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকে পড়তে পারে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপগুলো লক বা হাইড করার সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। নিচে বিভিন্ন ফোনের জন্য অ্যাপ লক বা হাইড করার পদ্ধতি দেওয়া হলো:

শাওমি, রেডমি ও পোকো

১. সেটিংসে যান
ফোনের Settings > Apps > App Lock অপশনে ক্লিক করুন।
২. হিডেন অ্যাপ ফিচার ব্যবহার করুন
এখানে Hidden Apps নামে একটি অপশন পাবেন। এটি চালু করে প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো হাইড করে রাখতে পারবেন।

ওয়ানপ্লাস

১. হোম স্ক্রিনে স্ট্রেচ করুন
দুটি আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে স্ট্রেচ করলে Hidden Space খুলে যাবে।
২. অ্যাপ হাইড করুন
প্লাস (+) সাইন ক্লিক করে যেসব অ্যাপ হাইড করতে চান, সেগুলো সিলেক্ট করুন। একইভাবে আনহাইডও করতে পারবেন।

স্যামসাং

১. হোম স্ক্রিন লং প্রেস করুন
হোম স্ক্রিনে দীর্ঘক্ষণ চেপে ধরে Home Screen Settings এ যান।
২. অ্যাপ হাইড করুন
Hide Apps অপশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় অ্যাপগুলো লুকিয়ে রাখুন।

রিয়েলমি

১. সেটিংসে যান
ফোনের Settings > Security > App Encryption অপশনে ক্লিক করুন।
২. পাসকোড সেট করুন
Privacy Passcode তৈরি করে হাইড করতে চান এমন অ্যাপগুলো সিলেক্ট করুন।

আইফোন

১. স্ক্রিন টাইম ফিচার ব্যবহার করুন
Settings > Screen Time > Use Screen Time Passcode এ গিয়ে একটি পাসকোড সেট করুন।
২. অ্যাপ লিমিট সেট করুন
App Limits এ গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ সিলেক্ট করে টাইম লিমিট (যেমন ১ মিনিট) সেট করুন। সময় পার হলে অ্যাপটি লক হয়ে যাবে।

উপকারিতা

সন্তানের ডিভাইস ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে।

প্রয়োজনীয় অ্যাপ লুকিয়ে ফোন স্টোরেজ বা মেসেজ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমানের ৪ মামলা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চারটি মামলা বাতিল রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৫ জানুয়ারি, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুনানির জন্য আসন্ন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হবে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাইকোর্টের ২৩ অক্টোবরের রায়টি সঠিক ছিল না। ওই রায়ে, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি চাঁদাবাজির মামলা বাতিল করে দেন।

২০০৭ সালে গুলশান, কাফরুল, শাহবাগ ও ধানমন্ডি থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (ক) ধারায় মামলা দায়েরের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে না পারলেও জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছেন রাহুল

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলি বালুর মাঠ এলাকার সন্তান আয়মান হোসেন রাহুল (২২) জীবন দিয়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাহুল, সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা যান ছয় মাস আগে। রামপুরা এলাকায় একটি জুতার দোকানে কাজ নেন। তবে, তার জীবনের গল্পটা অন্যরকম, তিনি দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৮ জুলাই, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন রাহুল। সেখানে টিআরশেল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর তাকে বাড়ি আনা হয়, তবে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে, ৮ আগস্ট নরসিংদী সদর এলাকায় রাহুল মৃত্যুবরণ করেন।

রাহুলের পিতা, ট্রলার চালক মো. মিজান (৪৫) এবং মা, গৃহিণী রুমা আক্তার (৩৭)। রাহুলের একটি ছোট পরিবার রয়েছে, ছোট ভাই মো. রাতুল (১৭), ছোট বোন রুবাইয়া (১৪), এবং সবার ছোট বোন সুরাইয়া (৬)। রাহুলের অবর্তমানে পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তার মা, কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলে ছিল খুব ভালো, দেশ ও পরিবারের জন্য কাজ করছিল। তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারী অনুদান পাওয়া যায়নি।”

রাহুলের মা আরও জানান, তিনি হত্যার বিচার চান এবং সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রাহুলের দাদি, লালবানু বলেন, “আমার নাতি কোনোদিন খারাপ কাজ করেনি, কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

রাহুলের আত্মত্যাগ শহিদদের তালিকায় স্থান পেয়ে, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাহুলের মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার আত্মত্যাগ দেশবাসীর মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“শহীদরা শহীদ, তাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না: আদিলুর রহমান”

গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, শহীদরা শহীদ এবং তাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না। তিনি শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে জুলাই স্মৃতি উদ্যান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, শহীদদের সম্মান দেওয়া আমাদের সম্মানের বিষয় এবং এটি আমাদের দায়িত্ব। তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দৃশ্যমান করার কাজটি মেয়রদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য আন্ডারপাসও নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা অন্যায়, অবিচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণ আমাদের কর্তব্য।” আদিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন শহীদদের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা মনে রাখতে পারে, সেজন্যই এই উদ্যান ও উড়াল সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্মৃতিস্তম্ভগুলো জনগণের মনে একটি শক্তিশালী প্রেরণা সৃষ্টি করবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো গোষ্ঠীর একক ব্যবহারের জন্য নয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করা হবে এবং সবার সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়েও মন্তব্য করেন এবং বলেন, “এটি আমাদের নজরে আছে এবং আমরা এ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কাজ করছি।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পাঁচলাইশ এলাকার ঐতিহ্যবাহী পার্কটি এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে এবং এটি বর্তমানে একটি নান্দনিক জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একসাথে কাজ করছি এবং চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, ক্লিন ও গ্রিন সিটি করতে চাই। পতেঙ্গাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, এবং এই প্রকল্পের জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।”

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “যারা জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের নয়জন শহীদদের জীবন দিয়েছেন, তাদের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য সরকার কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে পার্কগুলো অবৈধ দখলদারদের হাতে ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা হবে এবং ইতিমধ্যে ডিসি পার্কের ১৯৪ একর জায়গা মাদকের আস্তানা থেকে রক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, পতেঙ্গার জৌলুস ফিরে আনার জন্য সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।

এর আগে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা পতেঙ্গায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 কৃষি বিভাগের অবহেলায় বিপাকে সরিষা চাষিরা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সরিষা চাষিরা সঠিক সময়ে বীজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণে তাদের চাষাবাদে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরিষার মৌসুমে, নভেম্বর মাসে বীজ বপনের সময় ছিল, যখন মাটি ছিল নরম এবং ফলনের সম্ভাবনা ছিল ভালো। কিন্তু এবছর মনপুরা উপজেলা কৃষি বিভাগ সরিষার বীজ বিতরণ শুরু করেছে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যা চাষিরদের জন্য বড় এক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা এখনো সরিষা বপন করছেন, কিন্তু দেরিতে বপনের কারণে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং লোকসানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কৃষকরা অভিযোগ করছেন, যাদের প্রকৃতেই প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। পাশাপাশি, কিছু কৃষকের নাম রয়েছে যারা যোগ্য নয়, কিন্তু তারা প্রণোদনা পেয়েছেন।

হাজির হাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের কৃষকরা জানান, তারা নভেম্বর মাসের মধ্যে সরিষার বীজ বপন করতে পারলেই ফলন ভালো হতো এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের দেরিতে বীজ বিতরণের কারণে এখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

মনপুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আহসান তাওহীদ বলেন, তারা ২০০ কৃষকের মধ্যে সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করছেন, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সময়মতো বীজ বিতরণ করেনি।

এ বছর মনপুরা উপজেলায় প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, এখন পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিমতলী এলাকায়, যখন মাওয়ামুখী আব্দুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের হেলপার মো. জীবন (৪৪) নিহত হন। তাঁর বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কল্লিগাঁও গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি ছিলেন বাসযাত্রী মো. রায়হান (২৭), সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের দেবিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে হাসাড়া এলাকায়, যেখানে আরও একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি দুর্ঘটনাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির গাড়ির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন

উত্তরের কনকনে হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার চাঁদরে বৃহস্পতিবার বরিশালের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচে নেমে যায়, যার ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি, আর শিশুরা ও বয়োবৃদ্ধদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই বরিশালে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রার পারদ আরও হ্রাস পেতে পারে।

শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের শীতের প্রচণ্ডতা থেকে রক্ষা পেতে ঘরের মধ্যে নিরাপদভাবে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম