সংসদের মেয়াদ হবে চার বছর, এমপি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২১

সংবিধান সংস্কার কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে একটি কক্ষ হবে জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এবং অন্যটি হবে উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর। পাশাপাশি, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে দুবারের বেশি থাকতে পারবেন না এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হতে পারবেন না। আর সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার সুপারিশও করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনটি বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর নির্ধারিত রয়েছে।

কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, সংবিধানের প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়াও, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ নামের পরিবর্তে, এটি ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি’ হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় দাদনের শেকলে বন্দী জেলে জীবনের কষ্ট

বরগুনার পাথরঘাটায় জেলেরা এখনও দাদনের শেকলে বন্দী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এই অঞ্চলের জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করে সংসার চালানোর চেষ্টা করলেও, তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ এবং স্বপ্ন সবই জড়িয়ে থাকে মহাজনের দেওয়া দাদনের দুষ্টচক্রে। বছরের পর বছর মাছ শিকার করে যে অর্থ তারা অর্জন করেন, তা পুরোটাই চলে যায় ঋণের মাধ্যমে মহাজনের কাছে।

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন অঞ্চল এবং এখানকার বেশিরভাগ মানুষই জীবিকা নির্বাহ করেন মাছ শিকার করে। তবে, এই পেশার সঙ্গে একাধিক দুঃখজনক ঘটনা জড়িত। শিকার করা মাছের বেশিরভাগই নির্ধারিত দামে আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। তাদের জন্য একদিকে যেমন উপার্জন সীমিত, অন্যদিকে পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত ঋণভারও বেড়েই চলেছে।

পাথরঘাটার পদ্দা এলাকার ৭২ বছর বয়সী আলম ফিটার জানান, তিনি ৬২ বছর ধরে মাছ শিকার করছেন। তিনি বলেন, “যখন মাছ বেশি ধরতাম, তখন আমি খুশি হতাম, কিন্তু বাবার মুখে কখনও হাসি দেখতাম না। আমি তখন বুঝতাম না, কিন্তু এখন জানি কেন। দাদন শোধ না করলেই তো কিছুই পেতাম না।”

বরগুনার কালমেঘা এলাকার এক ট্রলার মালিক মোবাস্বের মিয়া তার ট্রলার নির্মাণে ১.৫ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন, কিন্তু মাছের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কম থাকার কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “মাছের দাম না পাওয়া পর্যন্ত মহাজনের কাছে আমরা আমাদের মাছ বিক্রি করতে বাধ্য। ফলে, লাভের আশায় অনেকটা লোকসানেই পড়ি।”

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, মাছ কম ধরার কারণে ট্রলার মালিকরা দাদন নেওয়ার পথে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের লাভের আশা পূর্ণ হয় না।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, “জেলেদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকার সহায়তা প্রদান করি, কিন্তু ঋণমুক্তি বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে আরও বড় পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা দাদনের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে  সবক্ষেত্রে পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন করতে হবে : শায়খে চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই বলেছেন,আমরা সব ক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাই। ৩শত বা ৪শত আসন যাই হোক সব জায়গায় পিআর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন না হলে কোন অবস্থাতেই পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পিআর পদ্ধতি হলে কোন ব্যক্তিকে নয় প্রতিকে ভোট হবে ।যে প্রতিক যত ভোট পাবে সে অনুযায়ী তাদের প্রতিক সংসদে আসন পাবে । এমন পদ্ধতি নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।

আজ সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের হোটেল পুস্পদম এ ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কে এম বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ৫০৫টি আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০৫ আসন আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ, ৩০০ আসন নিম্নকক্ষ ও ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম কোন সংরক্ষিত থাকবে না। তাই মহিলাদের জন্য সংসদে কোন সংরক্ষিত আসন চাই না। মহিলাদের জন্য আমরা সাধারণ নির্বাচন চাই। মহিলাদের সমান অধিকারের কথা বলে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা মানে তাদেরকে অপমান করা। শায়খে চরমোনাই বলেন, মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করে এটা করা হয়। মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করবেন না। তাদেরকে লড়তে দিন, সংরক্ষিত আসন আমরা চাই না। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন করার অর্থ তাদেরকে দুর্বল করা। কোন মহিলা লড়াই করতে পারবে না এমন প্রস্তাব আমরা করলে প্রশ্ন করা যেত আমি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন চাই না। আমি চাই সকলে সরাসরি ভোটে লড়াই করবে।

তড়িঘড়ি করে নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, সংস্কারের পূর্বে কোন নির্বাচন দেওয়া হলে সে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। ছাত্র জনতা ও আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়েছিলাম।আমাদের রক্ত ও ত্যাগের উপরে ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশ থেকে হটতে বাধ্য হলেও এখন আবার নব্য ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশকে দখল করেছে। এক চাঁদাবাদ তাড়িয়ে আরেক চাঁদাবাজকে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শায়েখে চরমোনাই বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন দিলে সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মানুষ আবারো ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

আমরা অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে সকল ভোটাররা তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সকল ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেখানে পেশীশক্তি থাকবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না। ভোটাররা যাতে তাদের আদর্শ, নীতিবান মনের মত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ চাই।

তিনি বলেন, বিগত সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এগুলোকে সচল করার মতো কার্যকরী সংস্থার চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার বিভাগে কেউ কেউ খালাস তো দূরের কথা জামিন ও পায়নি। এখন এমন কি হলো ? ফ্যাসিস্ট যাবার সাথে সাথে বড় বড় মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলো ।সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তার অর্থ হচ্ছে বিচার বিভাগে স্বাধীনতা নাই। কোন কোন দলের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের ইঙ্গিত চলছে। এজন্য আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই।

তিনি বলেন, একটি ভালো রাষ্ট্রের বড় প্রমাণ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণ করতে এটা কোন ফ্যাসিস্ট বা কোন রাষ্ট্র না প্রমাণ করবে এটা কোন ফেসিস্ট বা করাপ্টেট কোন রাষ্ট্র না। স্বাধীন বিচার বিভাগ হলে বিচারকরা আইন অনুযায়ী বিচার করবে। কোন সরকারের পেসারে তারা বিচার করবে না। কারো ইঙ্গিতে তারা বিচার করবে না। আমি চাই এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের কারো বিচার হলে সেখানে যাতে কোনো চাপ প্রয়োগ করা না হয় । আবার যদি আইনের মাধ্যমে আমাকেও আটকে দেওয়া হয় সেখানে যাতে পেশার ক্রিয়েট করা না হয়।
বিচারকরা রায় লিখতে গিয়ে মনের মধ্যে চাকরি থাকা বা না থাকা নিয়ে যাতে ব্রিটিশ সৃষ্টি না করে পদোন্নতি নিয়ে টেনশন না থাকে। বিচারকদের মনে চাকরি থাকা না থাকা ও পদোন্নতি হওয়া না হওয়া টেনশন থাকলে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার হওয়া সম্ভব হবে না।

কমপক্ষে এক জায়গায় নিরপেক্ষ থাকা উচিত তা হলো বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা কামনা করি কারো ইঙ্গিতে বিচার হবে না, বরং তার বিবেক বুদ্ধির মাধ্যমে ইনসাফের সাথে বিচার হতে হবে। বিচারকদের আদেল ও ন্যায় বিচারক হতে হবে। বিচারকরা মানিক মার্কা বিদ্বেষ ও ঘৃনায় ভরপুর থাকলে তার পক্ষে ন্যায় বিচার করা সম্ভব হবে না। আমি বিচারকদের নিরপেক্ষতা চাই। আদল ও ইনসাফগার বিচারক হোক এটা চাই।
তিনি বলেন, বিচারক ও বিচারালয় স্বাধীনতা চাই। দেশের বিচারালয় স্বাধীন না থাকলে, সে দেশে কোন মানুষ বসবাস করতে পারে না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলে পাঠাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইনের পরিকল্পনা

সরকার ভোলা থেকে খুলনা পর্যন্ত ৪,৫০০ কোটি টাকার একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, এটি গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভূমিকা রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর এক বৈঠকে এই পাইপলাইন তৈরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ইতোমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি মূলত ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, তবে পরে খুলনা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পাইপলাইন দিয়ে ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা উত্তর এবং ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে আগামী ১৯ বছরে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পোন্নত এলাকায় পরিণত হতে পারে। নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

ভোলা একটি দ্বীপ হওয়ায় সেখানে পাইপলাইন নির্মাণ চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ ভোলা একাধিক নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এর কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তবে, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

জিটিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে এবং এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ।

এছাড়া, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি নতুন কূপ খনন এবং ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোলায় গ্যাস মজুত বাড়ানো সম্ভব হবে এবং দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি ভোলার বিশাল গ্যাস মজুতকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন মূল্য নির্ধারণ, ১২ কেজি এলপিজি ১৪৫৯ টাকা

ভ্যাট বৃদ্ধির কারণে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস) এর দাম ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১৪৫৯ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গত ২ জানুয়ারি ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ১৪৫৫ টাকা।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিইআরসি ভ্যাট সমন্বয় করে নতুন এলপিজি দর ঘোষণা করেছে। এখন ১২ কেজি এলপিজির দাম কেজিপ্রতি ১২১.৫৬ টাকা, যা আগে ছিল ১২১.১৯ টাকা। পাশাপাশি, অটো গ্যাসের দাম লিটার প্রতি ৬৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৭.২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

যদিও চলতি জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমেছে, তবুও ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিইআরসি প্রথমে দাম অপরিবর্তিত রাখে। ডিসেম্বরে প্রোপেন ও বিউটেনের গড় দাম টন প্রতি ১৩.৩৩ ডলার কমলেও, ডলারের দর বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়াতে হয়েছে।

এলপিজির দাম ঘোষণা করার সময় বিইআরসি জানিয়েছিল, সৌদি আরবের বাজারে দাম ওঠানামা করলে ভিত্তিমূল্যও পরিবর্তিত হবে। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে এলপিজির দর ঘোষণা শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত প্রতিমাসে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে, বাজারে কখনও বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এখন উত্তেজনা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বর্তমানে কোনো উত্তেজনা নেই এবং পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণও বন্ধ রয়েছে এবং এখন সবকিছু স্থিতাবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ বিভাগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কৃষি অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের শাহাবউদ্দিন মিলনায়তনে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী মাসে বিজিবি এবং বিএসএফ’র ডিজি পর্যায়ের একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এই আলোচনায় কিছু অসম চুক্তির বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং সমস্যাগুলো সমাধান করার পথ খুঁজে বের করা হবে। এর আগে, মন্ত্রণালয় থেকে বিএসএফকে চিঠি পাঠানো হবে, যাতে অসম চুক্তি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া যায়।

এছাড়া, সারের কোনো সংকট নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যদি কেউ কৃত্রিম সারের সংকট তৈরি করার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ডিলার যদি এর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে এবং তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “কৃষকরা আমাদের দেশের প্রাণ, তারা অবশ্যই ন্যায্য মূল্যে সার পাবে।”

তিনি আরও জানান, পুলিশ বাহিনী সংকট কাটিয়ে তাদের কার্যক্রম পুনরায় ত্বরান্বিত করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ২৪৫ বছরের পুরোনো মারবেল মেলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় ২৪৫ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী মারবেল মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামে মেলার আয়োজন করা হয়। প্রতিবছরের মতো এবারও মেলায় হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন, শুধু আগৈলঝাড়া নয়, পাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার মানুষও এতে যোগ দেন।

মেলা কমিটির সভাপতি নির্মল মণ্ডল জানান, ২৪৫ বছর আগে রামানন্দের আঁক গ্রামের সোনাই চাঁদের বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির একটি নিমগাছের গোড়ায় শিবের আরাধনা শুরু করেন। পরবর্তীতে এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং ওই স্থানে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির দিনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈষ্ণব সেবা, নবান্ন উৎসব এবং মারবেল মেলার আয়োজন করা হতে থাকে।

এ বছরেও মেলা উপলক্ষে বৈষ্ণব সেবা, নাম সংকীর্তন, কবিগান ও মারবেল খেলার আসর বসে। বিশেষত, মেলার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে ৫০ কেজি চাল, আখের গুড়, নারকেলসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে তৈরি নবান্নের আয়োজন। এই মেলা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।

প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অনুষ্ঠিত মারবেল খেলা এবং দোকানপাট মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। মারবেল বিক্রেতা ত্রিমুখী গ্রামের প্রদীপ বল্লভ জানান, প্রতি বছর এ দিনটি বিশেষ করে মারবেল বিক্রির জন্য অপেক্ষা করেন। এবার বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। একশত পিস মারবেল ২০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি।

মেলায় শিশু, কিশোর, কিশোরী, যুবক-যুবতী সহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ মারবেল খেলার আনন্দে মেতে ওঠেন। বাকাল গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মিরাজ ফকির বলেন, “আমি সারাবছর টাকা জমিয়েছি যাতে মারবেল খেলার জন্য মেলায় আসতে পারি।”

এছাড়া, আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক জানান, মেলা উপলক্ষে আগত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রশাসন আগেই ব্যাপক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে মেলায় অংশ নিতে আসেন, তাদের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য ‘প্লে উইথ এ পারপাস’ কর্মশালা

শুধু স্বাভাবিক সময়ে নয়, দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়ের পরিস্থিতিতেও শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা সমান জরুরি। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কক্সবাজারে বসবাসরত মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সিসেমি ওয়ার্কশপ, ব্র্যাক, আইআরসি এবং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির সহযোগিতায়। সিসেমি ওয়ার্কশপ হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ টেলিভিশন সিরিজ সিসিমপুরের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) কক্সবাজারে আয়োজন করা হয় একটি কর্মশালা, যার শিরোনাম ছিল ‘প্লে উইথ এ পারপাস’। সরকারি-বেসরকারি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শতাধিক প্রতিনিধি কর্মশালায় অংশ নেন। দিনব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এবং সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।

কর্মশালায় আলোচনা হয়, যেকোনো দুর্যোগ বা মানবিক বিপর্যয়ের সময় শিশুদের প্রারম্ভিক বিকাশকে অতি জরুরি সেবা হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে। এতে উল্লেখ করা হয়, সিসেমি ওয়ার্কশপ দুটি রোহিঙ্গা শিশু চরিত্র—নূর ও আজিজ তৈরি করেছে, যা রোহিঙ্গা শিশুদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই দুটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষামূলক ভিডিও কন্টেন্ট রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেগুলো ক্যাম্পে ব্র্যাকের প্লেল্যাব, ইউএনএইচসিআর এবং অন্যান্য সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে প্রদর্শন করা হচ্ছে।

এছাড়া, প্রকল্পটি ১২টি গল্পের বই বার্মিজ, ইংরেজি এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশ করেছে, যা কক্সবাজারের ১৪টি সংস্থার শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে বিতরণ করা হয়েছে। প্রায় দুই লক্ষ শিশু এসব বই ব্যবহার করছে। সেই সঙ্গে শিশু বিকাশের জন্য বিশেষ হোমকিট এবং অভিভাবক ও শিশু যত্নকারীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

ছয় বছর ধরে চলমান ‘প্লে টু লার্ন’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা শিশু, অভিভাবক ও শিশু যত্নকারী সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এই প্রকল্পের আওতাধীন ৭০ শতাংশ শিশুদের সার্বিক বিকাশ সাধিত হয়েছে, ৯১% শিশুর মানসিক বিকাশ হয়েছে এবং ৯৬% শিশু যত্নকারী ও অভিভাবকরা শিশুদের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া সাবেক ওসি শাহ আলম

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়ে গেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর, আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কর্তব্যরত উত্তরা পূর্ব থানার সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ডিএমপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সাবেক ওসি শাহ আলম গত ২ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। গত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি পালিয়ে যান।

উল্লেখযোগ্য, শাহ আলম ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এবং গত আগস্টে তিনি উত্তরা পূর্ব থানায় যোগদান করেছিলেন। পালানোর পর পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা হওয়ার কারণে উত্তরা পূর্ব থানার এএসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে তার নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাজার ছেড়ে সড়ক দখল, ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

বরিশাল নগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পোর্টরোডে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা সড়ক দখল করে বসে আছেন, ফলে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পোর্টরোড, বাংলা বাজার ও চৌমাথা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এ ধরনের অস্থায়ী বাজার বসানোর ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বরিশাল নগরীর পোর্টরোডে মূল সড়কে প্রায় ২০০ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মাছ, সবজি, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। এসব ব্যবসায়ী সড়কটির দুই পাশে দোকান স্থাপন করলেও, বাজারের মূল জায়গায় বসার পরিবেশ না পাওয়ায় তারা রাস্তার উপরে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সড়কটি দখল হয়ে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে যাত্রীদের।

নগরীর বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক দখল করে বসা বাজারের কারণে শুধু যানজটই নয়, সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছি, কিন্তু সড়কে বাজার বসানোর কারণে আমাদের ব্যবসা করতে পারছি না।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, পোর্টরোডের ঘাট ইজারা দারদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা এই ভ্রাম্যমাণ বাজার বসিয়ে লাভবান হচ্ছে। ২০২৩ সালে সিটি নির্বাচনের পর পোর্টরোড ঘাটের ইজারা পরিবর্তিত হয় এবং বর্তমানে ইজারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা খান হাবিব।

বরিশাল সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের মতে, ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে কিছু সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, “আমরা পোর্টরোডের সড়ক দখল নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। তবে বিআইডব্লিউটিএরও এখানে সক্রিয় হতে হবে।”

এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএর উচিত সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে জনগণের চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম