জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব ছাড়লেন সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া একটি পোস্টে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।

তিনি জানান, ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে এর গঠনতন্ত্র, কাঠামো এবং কাজের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, পুরো অফিস পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে ‘এক্সিকিউটিভ কমিটি’। এছাড়া চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) পদে মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের নীতি নির্ধারণে কাজ করবে ‘গভর্নিং বডি’, যেখানে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরও চারজন উপদেষ্টা যুক্ত রয়েছেন।

সারজিস আলম ফাউন্ডেশনে তার কাজের সময়কাল সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১ অক্টোবর আর্থিক সহযোগিতা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ১৫ অক্টোবর অফিস চালু করা হয় এবং ২১ অক্টোবর তিনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনকালে, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ৮২৬ জন শহীদ পরিবারের মধ্যে ৬২৮ জনকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করে। পাশাপাশি ১১ হাজার আহতের মধ্যে ২ হাজার আহতকেও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

নিজ দায়িত্ব ত্যাগ প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “যতদিন পর্যন্ত আমি আমার সর্বোচ্চ সময় দিতে পেরেছি ততদিন দায়িত্ব পালন করেছি। যখন মনে হয়েছে ফাউন্ডেশনে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া সম্ভব নয়, তখন দায়িত্ব ছেড়েছি। সীমাবদ্ধতা স্বীকার করা দুর্বলতা নয় বরং সৎ সাহসের পরিচায়ক। আমি চেষ্টা করেছি দায়িত্বের প্রতি সৎ থাকতে।”

ফাউন্ডেশনের নতুন কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং ফাউন্ডেশনের অগ্রগতি কামনা করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জাগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে শ্রেণিকক্ষের সংকটসহ পাঠদান কার্যক্রমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বরাদ্দে চারতলা ফাউন্ডেশনের একতলা নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করে ঠিকাদার বারবার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন।

ঠিকাদার মো. সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, “নির্মাণকাজের অগ্রগতির তুলনায় বিল পাওয়া যায়নি। ২৭ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে, যা যথাযথ বরাদ্দের অভাবে পর্যাপ্ত নয়। তবে ভবনটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করছি।”

বিদ্যালয়ের একমাত্র পুরোনো ভবনের তিনটি কক্ষই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দশম শ্রেণির একটি ক্লাস চলাকালীন সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে দুজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। বর্তমানে নবম ও দশম শ্রেণির মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষার ক্লাস মাঠে নিতে হচ্ছে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারুফা আক্তার বলেন, “শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে আমরা মাঠে বসে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছি। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন জানান, “শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।”

পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোশফিকুর রহমান বলেন, “ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ ও বিলে সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি তদারকি করা হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার চরমানিকায় কোস্টগার্ডের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ বিতরণ

ভোলার চরফ্যাশনের চরমানিকা এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোঃ সিয়াম-উল-হক জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে কোস্টগার্ড। এ ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দক্ষিণ জোনের বিসিজি আউটপোস্ট চরমানিকা কর্তৃক আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে ৩ শতাধিক অসহায়, গরীব, দুস্থ এবং শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ প্রদান করা হয়।

ক্যাম্পেইনে নেতৃত্ব দেন সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আরবা মোঃ শাওন মুরসালিন এলমান, এএমসি। তার তত্ত্বাবধানে রোগীদের সঠিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হয়।

কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে তাদের এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। এছাড়া, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও কোস্টগার্ড তাদের সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা কোস্টগার্ডের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মেডিকেলে চান্স পাওয়া পটুয়াখালীর আল আমিন কাজ করেন বাবার ভাতের হোটেলে

অভাব-অনটনের সংসারে বড় হয়ে, নিজের কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছেন মো. আল আমিন হাওলাদার। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আল আমিন ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় ২০০ নম্বরের মধ্যে ১৮৬.২৫ নম্বর পেয়ে মেধাতালিকায় ১১৭তম স্থান অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্যে পরিবারের সবাই আনন্দিত। আল আমিন ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছেন।

আল আমিনের বাবা মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, তিনি নিজের জীবনসংগ্রাম ভুলে গেছেন, কারণ তার ছেলে এখন ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চলেছে। তিনি বলেন, “ছেলেকে মানুষ করার জন্য অনেক কষ্ট করেছি। রিকশা চালিয়েছি, রাতে শ্রমিকের কাজও করেছি। আজ আর সেসব মনে নাই, কারণ আমার ছেলে ডাক্তার হবে।”

আল আমিনের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র হলেও তিনি পড়াশোনায় অদম্য। তার বাবা জানালেন, তাদের বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। তারপরেও ছেলে আল আমিন পড়াশোনা করতে গিয়ে কখনও দমে যাননি। এ প্রসঙ্গে আল আমিন বলেন, “পঞ্চম শ্রেণিতে যখন বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারিনি, তখন থেকেই আমি ঠিক করে নিয়েছিলাম, আমাকে পড়াশোনা করে বড় হতে হবে।”

এক সময় নিজের দুঃখ কষ্ট ভুলে তিনি বাবা-মায়ের সহযোগিতায় হোটেল পরিচালনা করেছেন। তবে, তার মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষা অর্জন এবং ভবিষ্যতে মানুষের উপকারে আসা। আল আমিন জানান, “আমি ভবিষ্যতে মেডিসিন পড়তে চাই এবং অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।”

এছাড়া, তিনি নিজের জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছিলেন। পরবর্তীতে বরিশাল সরকারি কলেজে ভর্তি হলেও অর্থের অভাবে কলেজে ক্লাস করতে পারেননি। কিন্তু তিনি পড়াশোনা থামাননি। বাড়িতে বসে এক বছর পড়াশোনা করে অনলাইনে ক্লাস করেন এবং আজ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়ে বড় সাফল্য অর্জন করেন।

আল আমিনের বাবা-মা তার পরিশ্রম এবং মেধা দেখে গর্বিত। এখন তার জন্য সবাই দোয়া করছেন যাতে সে আরও বড় হয়ে দেশের সেবা করতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাক্ষস, বিচার হবেই: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার রাক্ষস হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালিয়েছে। এমন দল আর কোনো দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গণহত্যাকারীদের প্রত্যেকের বিচার হবে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে গণহত্যার বিচার হতে হবে। তারপর জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকার আছে কি না। আওয়ামী লীগের শাসন দেশকে গণতন্ত্র ও ইনসাফ থেকে বঞ্চিত করেছে। এটি আর চলতে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, এটি কেবল শুরু। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ আজ সত্যিকারের পরিবর্তন চায়। বৈষম্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে।

বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বরিশালকে দেশের অন্যতম উন্নত বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে যোগাযোগের আওতায় এনে ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের সম্পদ নিজেদের জন্য ব্যবহার করছে, মানুষকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা সকল শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুযোগ দেব।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিম, মুয়াজ্জিন হোসাইন হেলাল, এবং জেলা আমির আব্দুল জব্বার।

স্মরণকালের বৃহত্তম এই কর্মী সম্মেলনে উপচে পড়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি ইনসাফ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকের প্রজন্ম বৈষম্যের শিকল ভাঙতে প্রস্তুত। ক্ষমতা নয়, আমরা শান্তি চাই। জামায়াতকে সুসংগঠিত রাখতে প্রতিটি কর্মীকে নিষ্ঠা ও ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা চাই গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হোক, তাদের দলের বিচার হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা তো নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করেন; তো দেশপ্রেমিক হলে আসেন না। বিচার মোকাবেলা করুন। আমাদের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দিয়েছেন। আপনারা তো প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হাতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার চারদিন পর তারা নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়েছে।

দলটির প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর থকে বিভেদ তৈরি করে দেশটাকে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেকেই জীবন দেয়। কিন্তু এভাবে বুক পেতে জীবন দেয়া আবু সাঈদের ঘটনা বিরল। আবু সাঈদ মুক্তির মহানায়ক। জুলাই-আগস্টে শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছে সেই লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন; তারা এখন জিন্দা শহীদ।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস সারাদেশে যাক; তবে সবার আগে বরিশালে আসুক। আর একটি সেতু বরিশাল থেকে ভোলায় যাক। ভোলাসহ পুরো বরিশাল বিভাগকে উন্নত দেখতে চাই। আমাদের যদি আল্লাহ সুযোগ দেন তাহলে বরিশালবাসীর সকল দাবি পূরণের চেষ্টা করবো। আর যদি বিরোধী আসনেও থাকি তবে আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরবো।

কর্মী সম্মেলনের সভাপতি বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ঈদগাঁ মাঠে যাতে সম্মেলন হতে না পারে তার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বিগত সময়ে বাতিল হওয়া সকল প্রকল্পসমূহ চালু করার দাবি জানান।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। তারপরও জামায়াত নেতারা পালিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা এখনো চক্রান্ত করছে। আর কোনো ফ্যাসিবাদকে এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরসমূহে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটার তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বিভেদ নয়, ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জনমত তৈরি করে ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে হবে। আগামী নির্বাচন ফেয়ার পদ্ধতিতে হতে হবে। যারা পালিয়ে গেছে তারা ছাড়া এ বিষয়ে দেশের সব দল এক মত হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ডাঃ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। সেই বাংলাদেশ গড়তে জানমাল দিয়ে পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করার আহবান জানান ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর মনজুরুল ইসলাম ভূইয়া।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বরিশাল থেকে নতুন করে ইসলামী আন্দোলন শুরু হয়ে তা দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ছড়িয়ে যাবে। নতুন এই বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যারা ত্যাগের রাজনীতি করে তাদের দেশ ত্যাগ করতে হয় না। আর যারা ভোগের রাজনীতি করে তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, পালিয়ে যাওয়া সরকার মনে করেছিল হত্যা করে, জেলে দিয়ে, খুন করে, ফাঁসি দিয়ে আর আয়না ঘর দিয়ে ইসলামী আন্দোলন দমন করা যাবে। এতোকিছু করেও তা সম্ভব হয়নি। তারা ভুলে গিয়েছিল এই জমিন এই দেশ আল্লাহর। যারা ১৭ বছর অত্যাচার নির্যাতন করেছে তারা পালিয়ে গেছে। এ দেশের মানুষ নিশ্চয়তা চায়, যাতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় না আসে।

বৈষম্য বিরোধী আনদোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমাদের সন্তানেরা যে ইচ্ছা নিয়ে শহীদ হয়েছে, সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। তাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার আহবান জানান তিনি।

সনাতনী ধর্মের মানুষের পক্ষে বক্তব্য দেন অসিম কুমার হালদার। তিনি বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বেশি কিছু চায় না, তারা চায় শুধু শান্তি। ৫ আগষ্টের পর আমার এলাকায় হিন্দুদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। আমাদের খোঁজ রেখেছেন জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। এছাড়া তেমন কাউকে পাইনি। আমরা শান্তি চাই, আমরা কারো কাছে মাথা বিক্রি করবো না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা ফয়সাল মঞ্চে উঠে ছেলে হারানোর বেদনা থেকে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার সন্তানের রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ দেখতে চাই।

এছাড়াও বক্তব্য দেন জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জমায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার, বরগুনা জেলা আমীর মাওলানা মহিববুল্লাহ হারুন, পটুয়াখালী জেলা আমীর এডভোকেট নাজমুল আহসান, ভোলা জেলা আমীর মাস্টার জাকির হোসাইন, ঝালকাঠি জেলা আমীর এডভোকেট হাবিবুর রহমান, পিরোজপুর জেলা আমীর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি কামরুল আহসান হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বরিশাল অঞ্চল পরিচালক কবির আহমেদ, শিবিরের বরিশাল মহানগর সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, জেলা সভাপতি আকবর হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা সগির বিন সাঈদ প্রমুখ।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ট্রাম্পের অভিষেক ভাষণ: ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগের সূচনা’

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া অভিষেক ভাষণে বলেছেন, “আজ থেকে আমেরিকার স্বর্ণযুগের শুরু।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমেরিকান জনগণ কথা বলেছে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমার কাজ।”

ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয়

অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের জয় কেউ রুখতে পারবে না। আমরা ব্যর্থ হব না।”

মঙ্গল অভিযানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন মহাকাশচারীরাই প্রথম মঙ্গলের মাটিতে পা দেবেন। এটি হবে নতুন ইতিহাসের সূচনা।”

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শপথে ঐতিহ্যের প্রতিফলন

ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। একটি তার মায়ের দেওয়া বাইবেল, আরেকটি ঐতিহাসিক লিংকন বাইবেল। স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প বাইবেল দুটি ধরে রেখেছিলেন।

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা
ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরা

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা। তবে মিশেল ওবামা অনুপস্থিত ছিলেন। ক্যাপিটল হিলের এই অনুষ্ঠানে করপোরেট ও রাজনৈতিক জগতের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রবেশ

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মেলানিয়া। এই ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনা ‘টি মিটিং’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প
মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ফেসবুক রিলস থেকে আয় করার সহজ উপায়

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক এখন শুধু যোগাযোগ মাধ্যম নয়, আয়ের সুযোগও তৈরি করেছে। বিশেষ করে ফেসবুক রিলস অনেকের জন্য হয়ে উঠেছে আয়ের উৎস। আপনি যদি সঠিকভাবে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন, তবে রিলসের মাধ্যমে আয় করা সম্ভব।

ফেসবুক রিলসে আয় বাড়াতে হলে প্রথমেই দরকার গুণগত মানসম্পন্ন কনটেন্ট। আকর্ষণীয় ও তথ্যবহুল ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করুন যা দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ট্রেন্ডিং বিষয়বস্তু বেছে নিয়ে আপনার নিজস্ব স্টাইল যোগ করুন।

রিলসের ভিডিও সাধারণত ১৫-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বেশি কার্যকর। তাই কনটেন্টটি সংক্ষিপ্ত রাখুন। ভিডিওতে ট্রানজিশন, সাউন্ড এফেক্ট, বা ট্রেন্ডিং মিউজিক ব্যবহার করে আরও আকর্ষণীয় করে তুলুন।

কনটেন্টের জন্য সঠিক টার্গেট অডিয়েন্স নির্ধারণ করুন। আপনি যদি ফ্যাশন, ভ্রমণ, বা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন, তবে সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট ন্যাশ বেছে নিন। অডিয়েন্সের বয়স, অঞ্চল, এবং পছন্দ বিবেচনা করে কনটেন্ট তৈরি করুন।

ফেসবুকের মনিটাইজেশন অপশন সক্রিয় করে ইনকাম শুরু করতে পারেন। ইন-স্ট্রিম অ্যাডস চালু করুন, যা ভিডিওর মাঝখানে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আয় করতে সাহায্য করবে। এছাড়া ভক্তদের কাছ থেকে সরাসরি স্টারস ফিচারের মাধ্যমে ইনকাম করতে পারবেন।

আপনার কনটেন্টে ইনগেজমেন্ট বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিন। ভিউ বাড়ানোর পাশাপাশি লাইক, শেয়ার, ও কমেন্ট বাড়ানোর চেষ্টা করুন। দর্শকদের কনটেন্ট শেয়ার করতে বা পেজ ফলো করতে উৎসাহিত করুন।

ফেসবুক অ্যালগরিদমে ভালো এক্সপোজার পেতে নিয়মিত কনটেন্ট পোস্ট করুন। ট্রেন্ডিং মিউজিক ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি করে রিলসকে আকর্ষণীয় করে তুলুন।

আপনার রিলসের প্রচারণার জন্য অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও ব্যবহার করুন। ফেসবুক রিলসের লিংক শেয়ার করুন এবং ফেসবুক পেজ বা গ্রুপে কনটেন্ট প্রচার করুন।

ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে আপনার কনটেন্টের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করুন। কোন কনটেন্ট বেশি ভিউ পাচ্ছে এবং কোন সময়ে পোস্ট করলে বেশি দর্শক পাচ্ছেন, তা জানুন।

স্পন্সরশিপ ও অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকেও আয় করতে পারেন। ব্র্যান্ডের সঙ্গে স্পন্সরশিপ চুক্তি করে পণ্য বা সেবার প্রচারণা করুন। পণ্য বিক্রয়ের ওপর কমিশন পান।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কপিরাইটের নিয়ম মেনে চলা। ফেসবুক রিলস কপিরাইট ভঙ্গের বিরুদ্ধে কঠোর। কপিরাইট মুক্ত মিউজিক ও নিজস্ব কনটেন্ট ব্যবহার করুন। অন্যের কনটেন্ট কপি করা থেকে বিরত থাকুন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে নির্মাণ কাজের অব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা, নারী গুরুতর আহত

বরিশাল নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায় নির্মাণ কাজে অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটলো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে নিহেলয় কুঞ্জ ভবনের নির্মাণাধীন পানির ট্যাংকির কাছে অন্ধকারে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নাসরিন বেগম (৪০) নামের এক নারী।

স্থানীয়রা জানান,আহত নাসরিন বেগম, স্বামী হেমায়েতউদ্দিন শিকদার, পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা কমলা বেগমের বাড়িতে যাওয়ার সময় পানির ট্যাংকির খোলা স্থানে অন্ধকারে পড়ে যান। প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর স্থানীয় ভাড়াটিয়ারা তাকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারীদের মধ্যে কমলা, মিদুল, তহমিনা, এবং মৌ জানান, তারা তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহত নাসরিনকে দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, নাসরিন বেগমের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের করা হয়েছে।

এদিকে পাশের ভাড়াটিয়া কমলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগেও রেহানা নামে এক নারী একই জায়গায় পড়ে চার দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বারবার বলার পরও ভবন মালিকপক্ষ কাজের জায়গায় পর্যাপ্ত আলো কিংবা সুরক্ষা ব্যবস্থা নেননি। এর ফলেই আজ আবারও দুর্ঘটনা ঘটলো।

ভবনের মালিক এ বিষয়ে জানান, দুর্ঘটনার কথা আমি পরে জেনেছি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত আলো ছিল না, যা বড় একটি ভুল হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্মাণ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজমিস্ত্রি মিলন বলেন,আমি মালিকপক্ষকে আলোর ব্যবস্থা করার জন্য বলেছিলাম, কিন্তু তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকতা ওসি মো: মিজানুর রহমান জানান,নির্মাণকাজে এমন অব্যবস্থাপনা দুঃখজনক। আহত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।

শাকিল শিকদার , স্টাফ করেসপন্ডে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ বরিশাল।




আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাড়িবাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম

আজ সোমবার (২০ জানুয়ারি) থেকে দেশে সপ্তমবারের মতো শুরু হচ্ছে বাড়িবাড়ি ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম। এবারের এই কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম, নাসির উদ্দিন, এবং সাভারের কার্যক্রমটি উদ্বোধন করবেন তিনি নিজে।

এ নির্বাচনী কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. শরিফুল আলম সংবাদে জানান, সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন। এছাড়া, অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকবেন।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন, ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, তথ্য সংগ্রহের পর ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে ছবি তোলা এবং নিবন্ধন কার্যক্রম, যা চলবে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, ছয় মাসের মধ্যে ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করা হবে। প্রায় ৬৫ হাজার লোকবল নিয়োজিত থাকবে এই প্রক্রিয়ায়, এবং লক্ষ্য হচ্ছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা।

এদিকে, ২০২২ সালে নেওয়া তিন বছরের তথ্যের হালনাগাদ কার্যক্রমের শেষ ধাপ চলমান রয়েছে। এতে প্রায় ১৮ লাখ নতুন ভোটার আগামী মার্চে ভোটার তালিকায় যুক্ত হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ৪০ থেকে ৪৫ লাখ ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে দ্বৈত ভোটার, মৃত ভোটার বাদ দেওয়ার পাশাপাশি নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যাতে একটি নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা যায়।

২০০৭-২০০৮ সালে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর, ইসি এখন পর্যন্ত ছয়বার ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ২০০৯-২০১০, ২০১২-২০১৩, ২০১৫-২০১৬, ২০১৭-২০১৮, ২০১৯-২০২০ এবং ২০২২-২০২৩ সালের হালনাগাদ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নতুন ভোটার হওয়ার জন্য যে কাগজপত্র প্রয়োজন:

১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্মসনদের কপি

জাতীয়তা/নাগরিকত্ব সনদের কপি

নিকট আত্মীয়ের এনআইডির ফটোকপি (পিতা-মাতা, ভাই-বোন প্রভৃতি)

এসএসসি/দাখিল/সমমান, অষ্টম শ্রেণি পাশের সনদের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

ইউটিলিটি বিলের কপি (বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি/চৌকিদারি রশিদের ফটোকপি)

ভোটার হওয়ার সময় সতর্কতার বিষয়:

নিজের নাম, পিতামাতার নাম, জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখতে হবে

জন্ম তারিখ অবশ্যই জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষা সনদ অনুযায়ী হতে হবে

স্থায়ী ঠিকানা লেখার ক্ষেত্রে ভোটারের প্রকৃত স্থায়ী ঠিকানা লিখতে হবে

কোনো অবস্থাতেই দ্বৈত বা দুইবার ভোটার হওয়া যাবে না

এছাড়া, ইসি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, একাধিকবার ভোটার হওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কেউ যদি একাধিকবার ভোটার হন, তবে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে তা সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৪ সালে ভারতীয় অপতথ্যের বন্যা: বাংলাদেশ নিয়ে ১৪৮টি ভুল তথ্য প্রচার

২০২৪ সাল বাংলাদেশের জন্য একটি ঘটনাবহুল বছর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন—সবই ঘটেছে এই বছরে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের এ সময়ে বাংলাদেশকে ঘিরে ভারতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের প্রচারও ছিল নজিরবিহীন।

তথ্য যাচাইকারী সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত ১৪৮টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি আড়াই দিনে একটি করে ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এর মধ্যে ৭২টি ভারতীয় গণমাধ্যম এবং অসংখ্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট বাংলাদেশকে নিয়ে ভুল তথ্য প্রকাশ করেছে।

আগস্ট-ডিসেম্বর: অপতথ্যের উচ্চ প্রবাহ

২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে ১২টি অপতথ্য প্রচার হলেও, আগস্ট মাসে ৫৩টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এরপর ডিসেম্বরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের ঘটনায় ফের ৫৩টি অপতথ্য ছড়ায়।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে প্রকাশিত ১৪৮টি অপতথ্যের মধ্যে ১০২টি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, ৪২টি ছিল বিভ্রান্তিকর, এবং ৪টি ছিল বিকৃত তথ্য।

সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের প্রভাব

ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সাম্প্রদায়িক অপতথ্য, যার সংখ্যা ১১৫টি। এসব অপতথ্যের বেশিরভাগই প্রচারিত হয় মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে (সাবেক টুইটার)। রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, এক্সে ছড়ানো এসব অপতথ্য অন্তত ২৫ কোটি বার দেখা হয়েছে।

অগাস্ট মাসে সাম্প্রদায়িক অপতথ্যের মাত্রা ছিল চরমে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লুটপাটের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপকভাবে সাম্প্রদায়িক অপতথ্য ছড়ানো হয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্যের প্রসার

২০২৪ সালে ভারতীয়দের ছড়ানো অপতথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচার হয়েছে এক্সে (১০৭টি)। এছাড়া, ফেসবুকে ছড়ানো হয়েছে অন্তত ৫০টি অপতথ্য, যা ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমেও ছড়িয়ে যায়।

রিউমর স্ক্যানারের তথ্যমতে, ৫ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে এক্সে এমন ৫০টি অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়, যেগুলো থেকে বাংলাদেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক পোস্ট করা হয়েছে।

অপতথ্যের ধরন

ভারতীয় অপতথ্যের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে:

1. মুসলিমকে হিন্দু বানিয়ে অপপ্রচার: অন্তত ৩৬টি ঘটনায় মুসলিমদের হিন্দু দাবি করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়।

2. ভিন্ন দেশের ঘটনা বাংলাদেশে ঘটেছে বলে প্রচার: ১৩টি ঘটনায় ভারতের ভেতরকার ঘটনাকে বাংলাদেশের বলে উপস্থাপন করা হয়।

3. রাজনৈতিক সহিংসতাকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে দেখানো: এসব ঘটনা ব্যবহার করে ভারতের গণমাধ্যম বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা

ভারতের ৭২টি গণমাধ্যম ২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ১৩৭টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার অধিকাংশই অপতথ্য ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য প্রচার করেছে:

রিপাবলিক বাংলা (১০টি প্রতিবেদন)

হিন্দুস্তান টাইমস

জি ২৪ ঘণ্টা

আজত

ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে অপতথ্য

২০২৪ সালে অপতথ্যের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যক্তি:

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস: ৪টি অপতথ্য

ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ২টি অপতথ্য

শেখ হাসিনা: ২টি অপতথ্য

এছাড়া, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিমান বাহিনীকে নিয়েও বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় অপতথ্যের প্রবাহ রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিভ্রান্তি তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে মনে করা হয়। রিউমর স্ক্যানারের গবেষণা থেকে স্পষ্ট যে, এসব অপতথ্য শুধু সামাজিক অস্থিরতা নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।

 

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”