ভোলার বাজারে আকাশছোঁয়া ইলিশের দাম, এক কেজি বিক্রি ২৮০০ টাকায়

ভোলার বাজারগুলোতে শীত মৌসুমে মাছের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও ইলিশসহ নদীর মাছের দামে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ ক্রেতাদের। জেলার বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ইলিশ কেনা থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে ভোলার বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, নদীর মাছের জোগান থাকলেও দাম কমার বদলে আগের তুলনায় আরও বেড়েছে। স্থানীয় নদী থেকেই আহরণ করা হলেও ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

ইলিশসহ নদীর মাছের চড়া মূল্য

খুচরা বিক্রেতাদের তথ্যমতে, বর্তমানে বাজারে—

  • ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা
  • ৭০০–৯০০ গ্রাম ইলিশ ২,০০০ থেকে ২,৪০০ টাকা
  • ৪৫০–৬০০ গ্রাম ইলিশ ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা

অন্যান্য নদীর মাছের মধ্যেও দাম বেশ চড়া। কোড়াল প্রতি কেজি ৮৫০ থেকে ১,০০০ টাকা, আইড় ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা এবং নদীর পাঙ্গাস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকায়।

চাষের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি

অন্যদিকে, শীত মৌসুমে পুকুর ও চাষের মাছের সরবরাহ বাড়ায় এসব মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।

  • রুই ও কাতলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা
  • চাষের পাঙ্গাস ১৬০ টাকা
  • চাষের কই মাছ কেজিপ্রতি প্রায় ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে

ক্ষোভ ও হতাশা ক্রেতাদের

বাজারে আসা ক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, “দেশের বেশিরভাগ ইলিশ ভোলায় পাওয়া যায়, অথচ আমাদেরই এত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক।”

আরেক ক্রেতা সুমাইয়া ইসলাম জানান, আত্মীয় আপ্যায়নের জন্য ইলিশ কিনতে এসে বাজেটের বাইরে চলে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে রুই মাছ কিনে ফিরেছেন।

সাধারণ ক্রেতা মো. মিলন মিঝিমো. হাসনাইন বলেন, “নদীর মাছ কিনতে এলেও দাম শুনে ইলিশ ছোঁয়াই যায় না। কোড়াল বা আইড়ও কিনতে সাধ্যের বাইরে।”

বিক্রেতাদের বক্তব্য

ইলিশ বিক্রেতা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “ঘাট থেকেই আমাদের বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাজারে কেজিতে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”

পুকুরের মাছ বিক্রেতা মো. জসিম জানান, “শীতের কারণে চাষের মাছের সরবরাহ বেড়েছে। তাই এসব মাছের দাম কিছুটা কমেছে। তবে বেশিরভাগ ক্রেতার আগ্রহ নদীর মাছের দিকেই বেশি।”

প্রশাসনের নজরদারি

ভোলার জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা সোহেল বলেন, বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা অতিরিক্ত দাম নিলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে নষ্ট হচ্ছে বোরো বীজতলা, চরম দুশ্চিন্তায় ভোলার কৃষকরা

ভোলায় কয়েকদিন ধরে চলমান শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে ধানের চারা লাল, হলুদ ও সাদা রঙ ধারণ করে শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে বোরো আবাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে জেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতেই এমন পরিস্থিতিতে পড়ায় তারা বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। কয়েকদিনের মধ্যেই চারা রোপণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীত সেই সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।

বীজতলা নষ্ট হয়ে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কা

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়নগর গ্রামের কৃষক সাইদুল রহমানমো. ইসমাইল জানান, তারা প্রত্যেকে ১৬ শতাংশ জমিতে বোরো বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েকদিনের শৈত্যপ্রবাহে তাদের বীজতলার অধিকাংশ চারাই নষ্ট হয়ে গেছে। চারাগুলো বিবর্ণ হয়ে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ বলেন, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিনি বীজতলা তৈরি করেছিলেন। তবে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে দুই দফা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। পাঁচ-ছয় দিন আগে তৃতীয়বারের মতো বীজতলা তৈরি করেছেন তিনি। “এবারও যদি নষ্ট হয়, তাহলে ঋণের টাকা শোধ করাই অসম্ভব হয়ে যাবে,”—বলেছেন তিনি।

চারা সংকটে আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের কৃষক আনিছ ফরাজীমো. সবুজ জানান, এভাবে যদি বীজতলা নষ্ট হতে থাকে, তাহলে সামনে ধানের চারার মারাত্মক সংকট দেখা দেবে। এতে অনেক জমিতে বোরো আবাদ করা সম্ভব হবে না এবং কৃষকরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ

এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ভোলাসহ সারাদেশেই বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বোরো বীজতলা না করার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যেসব জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলা রয়েছে, সেগুলো রক্ষায় রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভোলার সাত উপজেলায় ৩ হাজার ৯০৫ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের প্রায় ৮৭ হাজার প্রবাসীর ভোট পোস্টাল ব্যালটে

প্রবাসে অবস্থান করেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন বরিশাল বিভাগের বিপুলসংখ্যক নাগরিক। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলা থেকে মোট ৮৬ হাজার ৭১৬ জন প্রবাসী ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।

এই সংখ্যার মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬৭ হাজার ৯১৫ জন এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৮০১ জন। এছাড়া নিবন্ধন করেও যাচাই ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন আরও ৩৭৫ জন প্রবাসী

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এটি দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ব্যালট চালু হওয়ায় ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “প্রথম অভিজ্ঞতা হিসেবে অংশগ্রহণ সন্তোষজনক। প্রবাসীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।”

জেলা ভিত্তিক নিবন্ধনের চিত্র

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী—

  • বরিশাল জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ২৯ হাজার ৪৭৭ জন প্রবাসী। এর মধ্যে পুরুষ ২১ হাজার ৮২৮ জন এবং নারী ৭ হাজার ৬৪৯ জন
  • ভোলা জেলা থেকে নিবন্ধন করেছেন ১৪ হাজার ৮২৩ জন, পুরুষ ১২ হাজার ৮৫৪ জন, নারী ১ হাজার ৯৬৯ জন
  • পিরোজপুর থেকে নিবন্ধন ১১ হাজার ৮৩৪ জন,
  • পটুয়াখালী থেকে ১১ হাজার ৭৫৪ জন,
  • বরগুনা থেকে ১১ হাজার ৩২৭ জন,
  • ঝালকাঠি থেকে ৭ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

সংসদীয় আসনভিত্তিক হিসাব

বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে—

  • বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া): ৪,৫১৬ জন
  • বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া): ৫,১০৯ জন
  • বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী): ৪,৬৭২ জন
  • বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ): ৪,৪৭৮ জন
  • বরিশাল-৫ (সদর): ৬,৭৩৭ জন
  • বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ): ৩,৮৮৬ জন প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন।

অন্যান্য পোস্টাল ভোটার

এছাড়াও পোস্টাল ব্যালটের আওতায় রয়েছেন ৫৭ হাজার ২৯৩ জন সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি কর্মকর্তা, কারাবন্দি এবং আনসার ও ভিডিপি সদস্য। এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৪৩ হাজার ৭১৬ জন, নির্বাচনি কর্মকর্তা ১২ হাজার ৪৭৭ জন, আনসার ও ভিডিপি সদস্য ৭৫৪ জন এবং কারাবন্দি ৩৪৬ জন

নির্বাচন কমিশন জানায়, পোস্টাল ভোটে নিবন্ধিত ভোটারদের ঠিকানায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানো হবে। ভোট প্রদান শেষে নির্ধারিত ফিরতি খামের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনা মোতায়েন, ফিরেছে শৃঙ্খলা ও স্বস্তি

বরিশাল মহানগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর পুরো এলাকায় যান চলাচল ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল থেকে সেনাবাহিনী ওই এলাকার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করে।

সেনা সদস্যরা দিনভর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এর ফলে স্থানীয় ও দূরপাল্লার বাস চলাচল ছিল স্বাভাবিক ও সুশৃঙ্খল।

সেনা মোতায়েনের কারণে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে দিনভর কোনো উল্লেখযোগ্য যানজট দেখা যায়নি। যাত্রী ও সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে বাসে ওঠানামা করতে পেরেছেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা অতিক্রম করেছেন।

বাসযাত্রী ও পথচারীরা জানান, সেনাবাহিনীর উপস্থিতির কারণে চালক ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর এই এলাকায় ভোগান্তিহীন চলাচল করতে পেরে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণত কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও তাদের উদাসীনতা এবং কিছু চালকের আইন অমান্যের কারণে এলাকাটি প্রায়ই যানজট ও বিশৃঙ্খলার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতো। এতে নগরবাসী ও যাত্রীদের প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত থাকলে বরিশালের অন্যতম ব্যস্ত এই টার্মিনাল এলাকায় স্থায়ীভাবে শৃঙ্খলা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন তারেক রহমান

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দলটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিএনপির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ঘোষণায় বলা হয়, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষাপটে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় গঠনতন্ত্রের বিধান অনুসারেই তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানানো হয়।

ঘোষণার আগে একই দিন রাত সাড়ে নয়টার দিকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, তারেক রহমানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এতে আগামী দিনের রাজনৈতিক কৌশল ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছেলেকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার, গৌরনদীতে দোকান বন্ধ রেখে ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের সাদ্দাম বাজার এলাকায় এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ছেলেকে না পেয়ে তার বাবাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে—এমন অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে বাজারের অন্তত ১৫টি দোকান বন্ধ রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ছাত্রলীগ সমর্থিত শামীম হাওলাদারকে আটক করতে পুলিশ বাজারে অভিযান চালায়। তবে তাকে না পেয়ে তার বাবা ৭০ বছর বয়সী শাজাহান হাওলাদার খোকনকে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তার হওয়া শাজাহান হাওলাদার খোকন সাদ্দাম বাজার কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি চার্চ অব বাংলাদেশ সাধু ফিলিপ গির্জার নৈশপ্রহরী হিসেবেও কর্মরত রয়েছেন।

সাদ্দাম বাজারের সাধারণ সম্পাদক মো. হাফিজুর রহমান বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকন কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। শুধু তার ছেলে ছাত্রলীগ সমর্থিত—এই কারণে পুলিশ তাকে খুঁজতে এসে বাবাকে ধরে নিয়ে গেছে। আমাদের জানামতে, তার কিংবা তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। একজন নিরীহ ব্যবসায়ীকে এভাবে গ্রেপ্তার করায় আমরা ক্ষুব্ধ।”

তিনি আরও জানান, শাজাহান হাওলাদার খোকন বার্থী ইউনিয়নের ধুরিয়াইল গ্রামের শাহেব আলী হাওলাদারের ছেলে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ ধরনের ঘটনায় বাজারে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। তাই তারা দোকান বন্ধ রেখে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিখ হাসান রাসেল বলেন,
“শাজাহান হাওলাদার খোকনকে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছে। দোকান বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করা ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়রা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিষয়টির নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, ফিরল প্রাথমিক সদস্যপদ

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নীতি-আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বহিষ্কৃত বরিশাল মহানগর বিএনপি ও মহিলা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১২ জন নেতাকর্মীর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদ পুনর্বহাল করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা দলীয় ফোরামে আবেদন জানালে তা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে আপাতত কেবল প্রাথমিক সদস্যপদই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন—
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ,
২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সৈয়দ হাবিবুর রহমান ফারুক,
২৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির,
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সৈয়দ হুমায়ুন কবির লিংকু,
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী জাহানারা বেগম,
২৪ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী সেলিনা বেগম,
৩০ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের সভানেত্রী রাশিদা পারভীন,
মহানগর মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি মোসা. জেসমিন সামাদ শিল্পী,
১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. সিদ্দিকুর রহমান,
মো. কামরুল আহসান রুপন এবং
১৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. জাবের আব্দুল্লাহ সাদী।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ভবিষ্যতে দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ কঠোরভাবে অনুসরণ করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বানারীপাড়ায় অস্ত্রসহ আ.লীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন তারিকুল ইসলাম। তিনি সৈয়দকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে বানারীপাড়া উপজেলার সৈয়দকাঠী ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পুলিশ ঘর তল্লাশি করতে চাইলে তারিকুল ইসলাম নিজেই আলমারি থেকে একটি অবৈধ পাইপগান, ৮ রাউন্ড কার্তুজ, দুটি দেশীয় ধারালো ছেনা ও একটি রামদা বের করে দেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি আত্মরক্ষার জন্য এসব অস্ত্র নিজের কাছে রাখতেন বলে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র বহন ও সংরক্ষণের অভিযোগে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে ওলামা লীগ ও যুবলীগের সাবেক দুই নেতা আটক

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে ওলামা লীগ ও যুবলীগের সাবেক দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতের পৃথক অভিযানে উপজেলার দুটি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঁঠালিয়া উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে উপজেলা ওলামা লীগের সাবেক সভাপতি মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন (৫৬) এবং ঝোড়খালী বাজার এলাকা থেকে পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহারাজ মল্লিক (৪৪)-কে আটক করা হয়।

আটক মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন উপজেলার মশাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় চিংড়াখালী সিনিয়র মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অপরদিকে মহারাজ মল্লিক পাটিখালঘাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং তিনি দীর্ঘদিন যুবলীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

কাঁঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাছের মোহাম্মদ রায়হান জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, এলাকায় নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাগরে নিখোঁজ ১৭ জেলে, দুই বছর পর ফেরার আশায় পরিবার

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনো বাড়ি ফেরেননি বরগুনার ১৭ জেলে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের পরিবারগুলো। তবে সম্প্রতি নিখোঁজ জেলেদের ভারতের একটি কারাগারে আটক থাকার তথ্য পাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন স্বজনেরা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র কবলে পড়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকা থেকে সাগরে যাওয়া ‘এফবি এলাহী ভরসা’ নামের একটি মাছধরা ট্রলার নিখোঁজ হয়। ওই ট্রলারে থাকা ১৭ জন জেলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা গেছে, তারা ভারতের গুজরাট রাজ্যের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।

বরগুনা পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) জেলা গোয়েন্দা কর্মকর্তা (ডিআইও-১) কামরুজ্জামান জানান, নিখোঁজ জেলেদের পরিবার থেকে ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে রাজধানীর এসবি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলেরা ঘূর্ণিঝড়ের সময় দিকভ্রান্ত হয়ে আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করায় ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজ ১৭ জেলের মধ্যে ১৬ জন বরগুনা সদর উপজেলার বাসিন্দা। নলটোনা ইউনিয়নের গাজী মাহমুদ গ্রামের সাতজন এবং ঢলুয়া ইউনিয়নের নয়জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। অপর একজন পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেংরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের জীবন কাটছে চরম দুর্ভোগে। ঢলুয়া ইউনিয়নের মরখালী এলাকার বাসিন্দা ইউনুস সরদারের মা তারাবানু (৭০) ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলেন, দুই বছর ধরে ছেলের ফেরার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ছেলেকে ভারতের কারাগারে থাকার খবর পেয়ে আবার নতুন করে বেঁচে থাকার শক্তি পেয়েছেন। তিনি শুধু চান, জীবিত অবস্থায় ছেলেকে একবার বুকে জড়িয়ে ধরতে।

একই গ্রামের আরেক নিখোঁজ জেলে আল আমিনের স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারটি চরম দুশ্চিন্তায় ছিল। সম্প্রতি স্বামী জীবিত আছেন—এই খবর পাওয়ায় তারা সরকারের সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে আছেন।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে আটক থাকার বিষয়টি তারা নিশ্চিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, নিখোঁজ জেলেদের স্বজনদের আবেদন পাওয়ার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান থাকায় কিছুটা সময় লাগলেও জেলেদের দেশে ফেরানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দুই বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া—রাষ্ট্রের কার্যকর উদ্যোগে প্রিয়জনদের দ্রুত নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫