পটুয়াখালীর তামান্নার মেডিকেল ভর্তি নিয়ে সঙ্কট, সাহায্যের প্রয়োজন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামের মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্নার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক সমস্যায় দিন কাটছে। তামান্না, যিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর টেস্ট স্কোর এবং ১৭৪.২ নম্বর মেরিট স্কোর পেয়ে মেধাতালিকায় ৪৭২৮তম স্থান অর্জন করেছেন, এখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে।

তামান্নার বাবা আলাউদ্দিন মুদি ব্যবসা করতেন। তবে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে তিনি নানা এনজিও থেকে ঋণ নেন এবং শেষপর্যন্ত ঋণগ্রস্ত হয়ে বছরখানেক আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তার এই অনুপস্থিতির ফলে তামান্নার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তামান্না অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

তামান্নার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল হরিদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১৫ সালে পিএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসি এবং ২০২১ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ জিপিএ পান।

তামান্নার জীবনে মেডিকেল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন পূরণের পথে এখনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তার এই সাফল্য দারিদ্র্য ও পারিবারিক সমস্যার মধ্যেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তার প্রয়োজন।

কেউ যদি তামান্নার জন্য সাহায্য পাঠাতে চান, তাহলে তার মায়ের নম্বরে (০১৭৮৭৫৯২২৪৬) যোগাযোগ করতে পারেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাষ্ট্র সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অন্তর্বর্তী সরকার : উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ চিরতরে নির্মূল করতে চায়।

অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয় ‘জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহত সাংবাদিক এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের কল্যাণ অনুদান ও সাংবাদিক সন্তানদের বৃত্তি প্রদান’ উপলক্ষে। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, ‘যে কাঠামো থেকে গেলে বারবার ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, সেই কাঠামোকে বদলাতেই হবে। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, তবে এই কাঠামো তৈরির পর যে কোনো সরকার ক্ষমতায় এলেও এর ভিত্তি অটুট থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি ধাপে ধাপে। রাষ্ট্র সংস্কার, কোটা সংস্কার, নির্যাতন ও হত্যার বিচার, এবং ফ্যাসিবাদের অবসান নিশ্চিত করতে হবে। যারা এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, বিশেষ করে সাবেক সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বিচার অবশ্যই হবে। আমরা দমন-পীড়ন চাই না, বরং আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র চলছে। আন্তর্জাতিক মহলে আমাদের গণমাধ্যম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা ছড়ানো হচ্ছে। বাস্তবে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করছে এবং সরকার কোনো চাপ প্রয়োগ করছে না। তবে ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে না।’

তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে দলীয়করণ সবখানে প্রবেশ করেছিল, গণমাধ্যমও ব্যতিক্রম ছিল না। তবে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রচার করেছেন। সেই যুগে ইন্টারনেট না থাকলেও প্রকৃত সত্য জনগণের কাছে পৌঁছেছে সাহসী সাংবাদিকদের কারণে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ছাত্র ও শ্রমিকদের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও লড়াই করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সরকার তাদের সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে, সেই উপলব্ধি থেকেই আমরা তাদের জন্য অনুদান দিচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুবা ফারজানা।

তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, ‘শহীদ ও আহত সাংবাদিকদের পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। সাংবাদিকরা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি জাতির ঋণ রয়েছে। এই অনুদান তাদের অধিকার, যা আইন অনুযায়ী নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, ‘তথ্য উপদেষ্টার আন্তরিক প্রচেষ্টায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দুই কোটি টাকা অনুদান অনুমোদিত হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রবীণ সাংবাদিকদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নিয়মিত বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।’

অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নেতা, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ, শহীদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুদানপ্রাপ্ত সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন তথ্য উপদেষ্টা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামালপুরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত, আহত ১

জামালপুরে ট্রাক এবং সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দিগপাইতে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থেকে জামালপুরে আসছিল একটি সিএনজি, আর ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সাথে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক আব্দুর রাজ্জাকসহ ৪ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মধ্যে এনাম ফকির, আরিফুল ইসলাম, আব্দুল করিম আলাল, আলম মিয়া মিলিটারি অন্তর্ভুক্ত। একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রী আমজাদ ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ট্রাকটি পালিয়ে যায় এবং সিএনজির বাকী দুই যাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। দুর্ঘটনা ঘটানোর পর ট্রাকটির চালক পালিয়ে যাওয়ায়, পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘জলবায়ুর পরিবর্তন জনগণকে সুরক্ষা দিতে কাজ করছে সরকার’

বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, এবং এরই মধ্যে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “বিদেশি অর্থায়ন থাকুক বা না থাকুক, জনগণের সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য জাতীয় বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ করে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।”

তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে “ক্যাটালাইজিং ক্লাইমেট অ্যাডাপ্টেশন অ্যাকশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড মোবাইলাইজিং ইনভেস্টমেন্ট” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা জলবায়ু অভিযোজনের বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তবে তিনি এর সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করেন। তিনি আইপিসিসির তথ্য উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ না হলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, “অভিযোজন জরুরি, তবে এর মানে এই নয় যে আমরা পরিবেশ বিধ্বংসী অর্থনৈতিক মডেল চালিয়ে যাব।”

আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিযোজন চাহিদা বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিরূপণ করা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক তহবিলের ধীর প্রবাহ ও ঋণ প্রদানের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সিওপি-২৯-এ আর্থিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও তা যদি দেরিতে আসে বা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়াবে বলে সতর্ক করেন।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু অর্থ ও প্রযুক্তি নয়, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “যারা জলবায়ুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া জরুরি। বিনিয়োগকারীদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে সংযোগ স্থাপন করা উচিত,” বলেন তিনি।

কর্মশালায় তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, টেকসই উন্নয়নও জরুরি। “ঢাকা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৃথিবীকে বুঝতে হবে—মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে,” বলেন তিনি।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়াং, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিনিয়র সাসটেইনেবিলিটি অ্যাডভাইজার ড. জন মার্টন, এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালার সমাপনীতে জোর দেওয়া হয়, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের উন্নতির জন্য অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন রাজনৈতিক দল আসছে, শীর্ষ পদে কে থাকছেন এখনো অনিশ্চিত!

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলের গুঞ্জন উঠেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনগুলো এক ছাতার নিচে আসতে চলেছে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই দলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন দলে শীর্ষ চার পদে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছাত্র উপদেষ্টারা যদি এই রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তবে তারা সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আখতার হোসেন। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দল গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তিনি সবার আগে পদত্যাগ করবেন। নতুন দলের আহ্বায়ক পদের জন্য আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ও মাহফুজ আলম। অন্যদিকে সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন, আরিফ সোহেল ও সামান্তা শারমিনের নাম শোনা যাচ্ছে। মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠকের দৌঁড়ে রয়েছেন সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, উমামা ফাতেমা ও আব্দুল হান্নান মাসউদ।

নতুন দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে কারা থাকবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি নতুন দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে সূত্র জানায়। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবেই থাকবে।

দলটির নাম ও প্রতীক কী হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালানো হবে। প্রায় এক লাখ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আখতার হোসেন। জাতীয় নাগরিক কমিটি জানুয়ারির মধ্যে ৪০০ থানা কমিটি গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত ৩০০টি কমিটি গঠন করতে পেরেছে। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক যাচাই-বাছাই করায় কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেসবুক থেকে শুরু, এখন ১৬ লাখ টাকার কেক বিক্রি!

পটুয়াখালীর দুই বন্ধু ইমাম হোসেন ও রুম্পা আক্তারের উদ্যোগ ‘সফট বাইট’ এখন কেকের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ব্যবসা এখন চারটি শাখা, ৩৫ জন কর্মী ও মাসিক ১৬-২০ লাখ টাকা বিক্রির প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ইমাম ও রুম্পা। রুম্পার জন্মদিনে ভালো কেক না পেয়ে তারা ভাবলেন, পটুয়াখালীতে ভালো কেকের ব্যবস্থা করা দরকার। ঢাকায় ফিরে শুরু করেন কেক প্রস্তুতির গবেষণা। ফেসবুকে ‘সফট বাইট’ নামে পেজ খুলে শুরু হয় তাদের ব্যবসার যাত্রা।

শুরুর দিকে ঢাকা থেকে লঞ্চে কেক পাঠিয়ে পটুয়াখালীতে বিক্রি করতেন তারা। ক্রেতাদের চাহিদা বাড়তে থাকলে ধীরে ধীরে প্রসারিত হয় ব্যবসা। বর্তমানে সফট বাইটের দুটি শাখা পটুয়াখালী ও দুটি বরগুনায়।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় ব্যবসা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগ থেকে পাওয়া জ্ঞান, মেন্টরশিপ ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অফার তাদের এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।

ইমাম বলেন, “চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখেছি। আমাদের টার্গেট, ২০২৬ সালের মধ্যে সব বিভাগীয় শহরে সফট বাইটের শাখা খোলা। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড হিসেবে সফট বাইটকে দেখতে চাই।” নতুনদের উদ্দেশে ইমাম বলেন, **”উদ্যোগ নিন, পথ চলতে চলতেই শিখবেন। নেটওয়ার্কিং বাড়ান, বই পড়ুন এবং স্বপ্ন দেখুন। নিজেদের এমনভাবে তৈরি করুন যাতে ভবিষ্যতে বিশ্ব আপনাদের চিনতে বাধ্য হয়!”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাত্ররা দল গঠন করবে: অধ্যাপক ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করছে এবং এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে জনগণকে সংগঠিত করছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সফরকালে তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকার গিডেয়েন র‌্যাচম্যানের উপস্থাপনায় ‘র‌্যাচম্যান রিভিউ’ নামের এক পডকাস্টে অংশ নেন। পরবর্তীতে এ কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়।

পডকাস্টে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্বের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে এবং তারা রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবছে। যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলাম, তখন তিনজন ছাত্রকে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। তারা দেশ ও জাতির জন্য ইতিবাচক কাজ করছে এবং এখন তারা নিজেরাই একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন আমি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করি না। আমি তাদের বলেছি, পুরো জাতি তোমাদের চেনে, তোমরা যা করতে চাও সেটার জন্য তোমাদের একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।’

অধ্যাপক ইউনূস সতর্ক করে বলেন, ‘রাজনীতি শুরু করলে নানা ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবে। এতে তারা বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে ছাত্ররা বর্তমানে সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগ্রহী।’

ভারতের কিছু বিশ্লেষকের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি এমন কোনো লক্ষণ দেখতে পাই না। বরং তরুণরা তাদের রক্ত দিয়ে অর্জিত অর্জনগুলো রক্ষা করতে চায় এবং দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তাদের স্বচ্ছ অভিপ্রায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে থেকে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলছে।’

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আর্থিক অনটনে অনিশ্চয়তায় মিমির মেডিকেলে ভর্তি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম গ্রামের মো. আফসারউদ্দিন সরদার, যিনি দিনমজুরের কাজ করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান, তাঁর বড় মেয়ে মিমি আক্তার এবার বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁর আনন্দের সঙ্গে যোগ করেছে দুশ্চিন্তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তির টাকার ব্যবস্থা এবং মিমির ভবিষ্যতের খরচের কথা চিন্তা করে তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠেছে।

মিমির মেধা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে, পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে তিনি চিন্তা করছেন, ভর্তির পর খরচ কীভাবে চালানো যাবে। মিমি আক্তার এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এবং পড়াশোনায় তার অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল।

আফসারউদ্দিন সরদার বলেন, “সব দিন কাজ পাওয়া যায় না, বাড়ির মধ্যে ছোট কিছু কাঠের গাছ ছিল, তা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। শীতের কাপড়ও কিনতে পারি না। শুনলাম মেডিকেলে ভর্তির জন্য ২৫ হাজার টাকা লাগবে, আমি কোথা থেকে পাব? এখন তো ভর্তির পর কীভাবে খরচ চালাবো, সেটাই চিন্তা করছি।”

মিমি আক্তার জানান, “ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হব, তবে অর্থের অভাবে সাইন্সে পড়ার কথা ভাবতে পারিনি। কিন্তু স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং মায়ের উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছি। এখন মেডিকেলে ভর্তির খরচ এবং পড়াশোনার খরচ চালানো আমাদের জন্য কঠিন। তাই চিন্তা করছি, ভর্তি হতে পারব কি না।”

নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, “মিমি আক্তার অত্যন্ত মেধাবী এবং পড়াশোনায় অনেক কষ্ট করে এগিয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা চালানো তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাকে সহায়তা করার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার, কারণ মিমির মতো মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আন্দোলনে আহত ইমাম হোসেনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করলেন পিরোজপুরের ডিসি

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার ইমাম হোসেন, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়ে শাহবাগে পুলিশের লাঠিচার্জে তার বাঁ হাত ভেঙে গিয়েছিলেন, এখন তিনি একটি মুদি দোকানের মালিক। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান তার কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

২৭ জানুয়ারি সোমবার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হান মাহমুদ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ইমাম হোসেনকে একটি মুদি দোকানের মালামালসহ ঘরের চাবি হস্তান্তর করেন। ইমাম হোসেন পিরোজপুরের আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের মাহমুদকাঠি গ্রামের মো. আফসার উদ্দিনের ছেলে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইমাম হোসেন ১১ জুলাই ঢাকার শাহবাগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে পুলিশের লাঠিচার্জে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং তার বাঁ হাত ভেঙে যায়। আহত হওয়ার পর তিনি পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে কর্মসংস্থানের জন্য আবেদন করেন। জেলা প্রশাসক তার আবেদন মঞ্জুর করে ইমামকে একটি দোকান ও মালামালসহ ঘরের ব্যবস্থা করে দেন।

এ বিষয়ে ইমাম হোসেন বলেন, “১১ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শাহবাগে পুলিশ বেপরোয়া হয়ে আমার ওপর লাঠিচার্জ করে। লাঠির আঘাতে আমি মারাত্মক আহত হই এবং বাঁ হাত ভেঙে যায়। এখন আমি ভারী কাজ করতে পারি না। জেলা প্রশাসক আমাকে একটি দোকান দিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন, এর জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রায়হান মাহমুদ বলেন, “ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে যে নতুন বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, তারই অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ইমাম হোসেনকে কর্মসংস্থানের জন্য একটি দোকান ও মালামাল দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘বাবা মৃত্যুর সময় অনেক কষ্ট পেয়েছে, তার মরদেহ উঠাতে দেবো না’

বরগুনা জেলার উরবুনিয়া এলাকায় নিহত রিয়াজুল ইসলামের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করতে বাধা দিয়েছেন তার স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়ে তাবাসুম ইসলাম তুবা। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন রিয়াজুল। তার মৃত্যুর পর গত বছরের ২৪ নভেম্বর হত্যা মামলা দায়ের করেন তার ভাই আলম। তদন্তের জন্য ৯ ডিসেম্বর আদালত রিয়াজুলের মরদেহ উত্তোলনের নির্দেশ দেন।

আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জানুয়ারি তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মরদেহ উত্তোলন করতে গেলে রিয়াজুলের পরিবার মরদেহ উত্তোলনে বাধা দেয়। রিয়াজুলের মেয়ে তাবাসুম ইসলাম তুবা জানান, “আমার বাবা মৃত্যুর সময় অনেক কষ্ট পেয়েছে। আমি বাবার মরদেহ উঠাতে দেবো না।”

রিয়াজুলের বড় ভাই আব্দুর রহমান নান্না জানান, “মরদেহ উত্তোলন না করে আইনিভাবে যে ব্যবস্থা নেওয়া যায় তাতেই আমরা রাজি। পারিবারিক সিদ্ধান্তেই মরদেহ উত্তোলনে রাজি হয়নি।” তবে তিনি যোগ করেন, “আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর বিচার চাই।”

রিয়াজুলের স্ত্রী মোসা. মরিয়ম বলেন, “আমার স্বামী বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করতে গিয়ে আশুলিয়াতে নিহত হন। আমরা চাই না তার মরদেহ আবার কাটছেরা হোক।” তিনি স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, “দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের অনেককেই ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলনের জন্য এসেছিলাম। তবে পরিবার মরদেহ উত্তোলন করতে রাজি না হওয়ায় তাদের লিখিত নিয়ে যাচ্ছি। বিষয়টি আদালতকে জানানো হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম