‘তিন মাসের মধ্যে গণমাধ্যম সংস্কার সুপারিশ পেশ করা হবে’

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ বলেছেন, গণমাধ্যমকে আরও বস্তুনিষ্ঠ, শক্তিশালী এবং স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সংস্কারের জন্য দায়িত্বরত কমিশন আগামী তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করবে। তিনি জানান, এই সংস্কারের প্রক্রিয়ায় সাংবাদিকদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সাহসী ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রথম শর্ত হচ্ছে উপযুক্ত বেতনভাতা নিশ্চিত করা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৬ জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে আঞ্চলিক মতবিনিময় সভায় কামাল আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা ও ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের মধ্যে বেতন-ভাতার বৈষম্য বিদ্যমান, যা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা একটি সমস্যা। কমিশন একটি ন্যূনতম বেতন কাঠামো তৈরির সুপারিশ করবে, যাতে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।

সাংবাদিকরা কমিশনের কাছে তাদের বঞ্চনা ও বৈষম্য সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন, এবং কমিশন তাদের বিষয়গুলোর পর্যালোচনা করে যতটা সম্ভব সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

কমিশন প্রধান আরও বলেন, বিজ্ঞাপন বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন, যেখানে পত্রিকার মালিকরা তাদের সার্কুলেশন বাড়িয়ে সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য বেশি টাকা দাবি করেন, ফলে প্রকৃত সাংবাদিকরা বিজ্ঞাপন থেকে বঞ্চিত হন। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কমিশন সরকারকে সুপারিশ করবে।

এছাড়া, সাংবাদিকদের হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারের বুদ্ধি-বিবেকের সঙ্গে কাজ করা উচিত: ফয়জুল করীম

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকারের বুদ্ধি ও বিবেকের সঙ্গে কাজ করা উচিত এবং পরিস্থিতি কন্ট্রোল করতে সরকারকে বুদ্ধিবৃত্তিক উপায়ে কাজ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ-এর ৫ম নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফয়জুল করীম বলেন, “যদি সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এর ফলে শুধু সরকারই নয়, পুরো জাতি সমস্যায় পড়বে।” তিনি আরও বলেন, “কোনো অবস্থাতেই পেশি শক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি কন্ট্রোল করা উচিত হবে না। শক্ত হাতে দেশ পরিচালনা করতে হবে, দুর্বলভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “সরকার যদি দুর্বলতা প্রকাশ করে, তবে পুরো জাতি বিপদে পড়বে, আশা-আকাঙ্ক্ষা সব কিছু হারিয়ে যাবে।” তিনি প্রশাসনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন, কারণ “প্রশাসন কন্ট্রোল করতে না পারলে অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।”

ফয়জুল করীম আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দেশের তরুণ সমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে রাখতে এবং শিক্ষা, দক্ষতা ও আত্মোন্নয়নের মাধ্যমে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি সব তরুণদের আহ্বান জানান, “দেশের কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই আন্দোলনে সকল সচেতন যুবক ও নাগরিকদের এগিয়ে আসার।”

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মাদ আল-আমিন সোহাগের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ ওয়ালিউল্লাহ তালুকদারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মুফতী মানসুর আহমাদ সাকি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শিল্প ও কল কারখানা সম্পাদক এমদাদুল ফেরদৌস, এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল মজুমদার।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতের সামরিক শক্তিকে ভয় পাই না: পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির ভারতের সামরিক শক্তির প্রতি কোনো ভয় দেখাননি। তিনি বলেছেন, কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তান ইতোমধ্যে তিনটি যুদ্ধ করেছে এবং প্রয়োজনে আরও ১০টি যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

আজাদ কাশ্মিরের মুজাফফরাবাদের প্রবীণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে, জেনারেল আসিম মুনির আশ্বাস দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ভারতীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কাশ্মিরি জনগণের পাশে অবিচলভাবে থাকবে। তিনি বলেছেন, “কাশ্মির হচ্ছে পাকিস্তানের প্রধান শিরা, এই শিরা কেটে গেলে মৃত্যু ঘটে। কাশ্মির আমাদের জীবন, একদিন কাশ্মির স্বাধীন হবে এবং পাকিস্তানের অংশ হবে।”

তিনি আরও বলেন, ভারতীয় নৃশংসতা এবং ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা কাশ্মিরি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাকিস্তান রাষ্ট্র হিসেবে বর্তমানে বিশ্বে একটি শক্তিশালী দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, এমন মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের দ্রুত উন্নতির কথা উল্লেখ করে জেনারেল আসিম মুনির দাবি করেন, যারা পাকিস্তানকে খেলাপি দেশ হিসেবে দেখছেন, তারা ভুল বলছেন। মাত্র এক বছরের মধ্যে পাকিস্তান তার অর্থনৈতিক উন্নতি দিয়ে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংককেও অবাক করে দিয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তার কর্মজীবনের একটি অংশ আজাদ জম্মু ও কাশ্মিরের মনোরম নীলম উপত্যকা, চাকোথি এবং পান্ডুর মতো অঞ্চলে কাটিয়েছেন। তিনি এসময় আজাদ কাশ্মিরের পর্যটন প্রচারের প্রতি তার গভীর আগ্রহও প্রকাশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কনটেন্ট সরানোর নির্দেশনার খবর ভুয়া: তথ্য মন্ত্রণালয়

তথ্য মন্ত্রণালয় ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচারিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কনটেন্ট সরানোর নির্দেশনার দাবিকে ‘ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিহিত করেছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর ফ্যাক্ট চেক টিমের তদন্তে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কোনো কনটেন্ট সরানোর নির্দেশ দেননি।

সম্প্রতি কিছু ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রধান উপদেষ্টা সরকারি রেডিও ও টেলিভিশনে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সকল কনটেন্ট নিষিদ্ধ করেছেন। এতে বলা হয়, পাকিস্তানকে মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার জন্য দায়ী করা যাবে না এবং পাকিস্তানি নেতাদের সমালোচনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তদন্তে দেখা গেছে, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা সরকার দেয়নি। বরং একটি অভ্যন্তরীণ অফিস আদেশের তথ্য বিকৃত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতারের প্রশাসন ও আর্থিক বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২ ফেব্রুয়ারির অফিস আদেশে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ বেতারের সকল কেন্দ্র/ইউনিটের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ পর্যালোচনা করে সরকারি নীতির সঙ্গে বিরোধী সকল ছবি, তথ্য এবং কনটেন্ট সরানোর অনুরোধ করা হয়েছে।’ এতে মুক্তিযুদ্ধ বা পাকিস্তান সম্পর্কিত কোনো নির্দেশনা ছিল না।

কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে উত্থাপিত দাবির সমর্থনে কোনো তথ্য মেলেনি। ফলে ভারতীয় মিডিয়ায় প্রচারিত তথ্যকে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে উল্লেখ করেছে তথ্য মন্ত্রণালয়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সাদেক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে উত্তাল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শেখ হাসিনার ভাগ্নে হাসনাত আবদুল্লাহর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার পর নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবন ঘিরে হাজারো বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জড়ো হয়। ফেসবুকে আগেই এই হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয়।

প্রথমে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি নিয়ে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনা সদস্যদের “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সেনাসদস্যদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হলে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এরপরই ছাত্র-জনতা বুলডোজার চালিয়ে সেরনিয়াবাত ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে।

এই ভবন নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাদিক আবদুল্লাহ এই ভবনকে “টর্চার সেল” হিসেবে ব্যবহার করতেন। আওয়ামী লীগবিরোধী অনেককে এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,এই বাড়ি ছিল ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এখানে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, শোষিত হয়েছে। আমরা এই অভিশপ্ত বাড়ি আর বরিশালে থাকতে দেব না।

বিক্ষোভকারী ইয়াকুব মিয়া বলেন,সাদিক আবদুল্লাহর এই বাড়ি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির স্মারক। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করছি।

এর আগেও এই ভবনে হামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ তিনজন নিহত হন।

এরপর থেকেই বাড়িটি জনরোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার একটি ভাষণের পর ফের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুরের পর বরিশালে সেরনিয়াবাত ভবন গুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ এই হামলাকে ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য বলে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে ছাত্র-জনতা ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি ছিল গণঅভ্যুত্থান।

এদিকে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলছে। তাদের নিষ্ক্রিয় থাকা ও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের কাছে বুলডোজারের চাবি হস্তান্তর করাকে কেউ কেউ নতুন বাস্তবতা বলে দেখছেন।

এই ঘটনার পর বরিশালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বরিশালের সেরনিয়াবাত ভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। এটি শুধু একটি বাড়ি ছিল না, এটি ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক। এক সময়ের ক্ষমতাধর পরিবারের এই পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন দিক নির্দেশ করছে।




মধ্যরাতে ভাঙা হচ্ছে বরিশালের সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে ছাত্র জনতার হামলা, আগুন-ভাঙচুর

বরিশাল অফিস: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নগরীর কালীবাড়ি রোডের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার পর শতাধিক বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা “সেরনিয়াবাত ভবন” নামের ওই বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা বাড়ির গেটে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, পরে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একইসঙ্গে ভবনের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি উপেক্ষা করে “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরিষার ফলনে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন বরিশালের কৃষকরা

বরিশালের কৃষকরা এবার সরিষার ফলনে রঙ্গিন স্বপ্ন দেখছেন। জেলার মাঠে মাঠে ফোঁটানো হলুদ সরিষা ফুল কৃষকদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটিয়ে তুলেছে। দিন দিন কম খরচে বেশি লাভ হওয়ার কারণে এই চাষ বরিশাল অঞ্চলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির পর সরিষার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এই চাষে আরও বেশি ঝুঁকছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর সরিষার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করছেন তারা।

বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রাম, সায়েস্তাবাদ ইউনিয়নসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এবার সরিষার আবাদ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শীতকালীন কুয়াশাচ্ছন্ন সকালগুলোতে সরিষা ফুলের সৌন্দর্য যেন মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে প্রত্যেককে। মাঠের পর মাঠে সরিষা ফুলের সমারোহ এক অপরূপ দৃশ্য উপস্থাপন করছে।

বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে তাদের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সরিষার ফুলের মাঝখানে হিমেল হাওয়ায় দুলতে দুলতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটছে। এছাড়া, কৃষি প্রেমীরা সরিষার ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য উপভোগ করতে মাঠে আসছেন এবং সেলফি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করছেন।

এছাড়া, এবছর সরিষার বীজ আসতে শুরু করেছে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকলে কৃষকরা আরও ভালো ফলনের আশা করছেন। গত বছর সরিষার বাজার মূল্য ভাল থাকায়, এবছরও সরিষা চাষে কৃষকরা আগ্রহী।

বরিশাল সদর উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শামিমা আক্তার জানিয়েছেন, এবছর সরিষার ফলন আগের চেয়ে ভালো হয়েছে এবং তারা তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন।

বরিশাল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রেজাউল করিম আরো জানান, গত বছর বরিশাল জেলায় ৫,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। এ বছর তা বেড়ে ৬,৬২৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও বানারীপাড়া উপজেলায় সরিষার আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে। তিনি আশাবাদী যে, কৃষকরা লাভবান হওয়ায় ভবিষ্যতে সরিষার চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিদেশি পর্যটকরা ঢাকার যে মসজিদ দেখতে আসেন

ঢাকার পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় অবস্থিত তারা মসজিদ এখন একটি প্রধান পর্যটন স্থান হয়ে উঠেছে, যেখানে বিদেশি পর্যটকরা ধর্মীয় স্থাপত্য এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্য উপভোগ করতে আসেন। মসজিদের ভেতরে বিচিত্র নকশা এবং অলংকরণ যেমন, প্রাচীন টাইলস, রঙিন কাচের টুকরা, চিনামাটির ফলকসহ নানা উপকরণ ব্যবহৃত রয়েছে, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘চিনি টিকরি’ নকশা, যেখানে কাচের টুকরা দিয়ে মসজিদের দেয়াল এবং গম্বুজ সাজানো হয়েছে, একে অনন্য করে তোলে।

প্রথম দর্শনেই এই মসজিদটির ভেতরের গম্বুজ ও দেয়ালের ডিজাইন পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। বিকেলে বাতি জ্বালালে দেয়ালে কাচের টুকরোগুলোর রঙিন আলো এমনভাবে প্রতিফলিত হয় যে, মসজিদটি আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে।

তারা মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে কিছু মতপার্থক্য থাকলেও ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন তার বই ‘ঢাকা: স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’-তে এই মসজিদের নির্মাণকাল ১৮শ শতকের শেষ ভাগ বলে উল্লেখ করেছেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণকাল ১৯শ শতকের প্রথম দিকের। মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ধনাঢ্য জমিদার মীর্জা গোলাম পীর, যিনি মসজিদটি ওয়াকফ করে গিয়েছিলেন।

বর্তমানে, মসজিদটির আকর্ষণ শুধু স্থানীয় মুসল্লিদের জন্য নয়, বরং বহু বিদেশি পর্যটক এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা এখানে দর্শনীয় স্থান হিসেবে আসেন। ঢাকার প্রধান দর্শনীয় স্থান হিসেবে **তারা মসজিদ** বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ওয়েবসাইটেও উল্লেখ রয়েছে।

মসজিদটির সংস্কার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯২৬ সালে, যখন আরমানিটোলার ব্যবসায়ী আলী জান ব্যাপারী বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করে এটি সংস্কার করেন। ১৯৮৭ সালে মসজিদটি আবারো সংস্কার করা হয় এবং এর পর থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে।

তারা মসজিদটি একটি আকর্ষণীয় স্থাপত্য নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে পর্যটকরা ঢাকার ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য সম্মিলন দেখতে পান। পুরোনো ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশের মধ্যে মসজিদটি এক নিঃসঙ্গ শান্তির স্থান, যা সত্যিই দর্শনীয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামায়াতকে মুনাফিক বললেন রিজভী

ইসলামের নামে রাজনীতি করে জনগণের সঙ্গে মুনাফিকি করছে জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র হলো বিষমাখানো দুধের মাখনের মতো। নির্বাচনে যাবেন না বললেও, বিগত সময়ে শেখ হাসিনার আঁচল ধরে নির্বাচনে গেছেন। প্রতিটি সময় জামায়াত জনগণের সঙ্গে মুনাফেকি করছে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী ছাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘আপনারা ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ জানে কারা নিজেদের আঙ্গিকার রক্ষা করে। খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, তারেক রহমান দেশ ছেড়েছেন, তবুও দেশকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নির্যাতিত ও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগে ছিল একজন শত্রু পক্ষ, এখন অনেক শত্রু পক্ষ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা লিফলেট বিতরণ করেছে, অথচ আওয়ামী দোসরদের বিচারের আওতায় না আনার কারণে তারা এরকম কাজ করার সাহস পায়। বর্তমান সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স বসিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করব না?’’

সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে বিএনপি নির্যাতিত শহীদ পরিবার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া হয় শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়’

হাইকোর্টের বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের বেঞ্চ শরণার্থী হয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আদালত দাবি করেছে যে, বিচারিক আদালতের রায় ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, অমানবিক এবং বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত থেকে পরিচালিত। একই সাথে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রায়কে ‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বিচারকরা জানান, বিচারিক আদালতের রায়ে বিচারকের কোনো মনন প্রতিফলিত হয়নি, বরং এটি ছিল বিদ্বেষপূর্ণ। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়, কারণ প্রকৃতপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ৩৭ জন পক্ষপাতদুষ্ট সাক্ষী হাজির করা হয়েছিল। এই মামলার মূল অভিযোগ, যা ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে ঘটেছিল, তার কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও জানায়, বিচারিক আদালতের রায় ছিল অমানবিক, কারণ রায়ের প্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়নি। এবং, বিচারপতি মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই না তারা আর এক সেকেন্ডও কারাগারে থাকুক। এখনই তাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

এদিন, আদালত রায় ঘোষণা করার আগে আদালত জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসটি ভাষা আন্দোলনের মাস হিসেবে স্মরণীয়। সুতরাং, এই ঐতিহাসিক মাসে রায়টি বাংলায় দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম