দুমকীতে মাদকের ছড়াছড়ি, ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা এখন মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদকদ্রব্যের অবাধ কেনাবেচায় উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মাদকের কবলে পড়ছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মাদক কেনার টাকা জোগাড় করতে তারা নানা অপকর্মেও জড়িয়ে পড়ছে।

মাদকের বিস্তার ও প্রশাসনের শৈথিল্য

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে মাদক ব্যবসা ভয়াবহভাবে বেড়েছে। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাদক কারবারিদের আটক করলেও তারা সহজেই জামিনে বেরিয়ে এসে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে দুমকী এখন অবৈধ মাদকের গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে।

যেসব এলাকায় মাদকের বিস্তার বেশি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। এর মধ্যে মুরাদিয়া ইউনিয়নের বোর্ড অফিস বাজার, তালতলি বাজার, রাজাখালী বাজার, উত্তর শ্রীরামপুর, দুমকী থানা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, পশ্চিম শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে, লাল খাঁ ব্রিজ সংলগ্ন সড়ক, আংগারিয়া বাজার, কদমতলা বাজার, লেবুখালি, পাংগাশিয়া ইউনিয়ন এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিভিন্ন পয়েন্টে মাদকের অবাধ বেচাকেনা চলছে। এসব স্থানে কিশোর, তরুণ এবং মধ্যবয়সীরা মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে পড়ছে।

শিক্ষার্থীদের বিপথগামী হওয়ার শঙ্কা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুল শিক্ষক জানান, মাদক সহজলভ্য হওয়ায় নতুন নতুন কিশোর-তরুণরা এতে জড়িয়ে পড়ছে। কেউ কেউ শুধু সেবন করেই থেমে থাকছে না, মাদক কারবারিতেও যুক্ত হচ্ছে। ফলে সমাজ ও পরিবারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

প্রশাসনের অবস্থান

এ বিষয়ে দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।” নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে, যেকোনো মূল্যে এটি নির্মূল করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদক নির্মূলে পুলিশের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গুগলের নতুন “আইডেন্টিটি চেক” ফিচার: ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার প্রক্রিয়া

বর্তমানে স্মার্টফোনে বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে আমাদের প্রতিদিনের কাজ চলে। লগইন করতে গিয়ে অনেকেই জানেন না, যে এসব অ্যাপ এবং সাইট হ্যাকারদের জন্য অযাচিত সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তারা ফিশিং লিঙ্ক পাঠিয়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে এবং আপনার ফোনও হ্যাক হয়ে যেতে পারে এক নিমিষে।

এমতাবস্থায়, গুগল নতুন একটি ফিচার চালু করতে যাচ্ছে, যার নাম “আইডেন্টিটি চেক”। এটি একটি অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যা ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করতে সাহায্য করবে। এই ফিচারটি বিশেষভাবে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, অনলাইন পেমেন্ট, অ্যাকাউন্ট সিকিউরিটি এবং অন্যান্য ডিজিটাল পরিষেবাগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। গুগল এই ফিচারটি ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে চালু করেছে, যাতে জালিয়াতি রোধ করা যায় এবং অনলাইন কার্যক্রম সুরক্ষিত থাকে।

আইডেন্টিটি চেক ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তাদের ফিঙ্গারপ্রিন্ট অথবা ফেসিয়াল রেকগনিশন দিয়ে নিজেকে অথেন্টিকেট করতে হবে। এটি ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি থেকে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে থাকবে থিফট ডিটেকশন লক এবং অফলাইন ডিভাইস লক-এর মতো টুলস, যা সুরক্ষাকে আরও বাড়াবে।

নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ রয়েছে:

প্রথমে ব্যবহারকারীদের তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স আপলোড করতে হবে। গুগল AI ও ম্যানুয়াল রিভিউর মাধ্যমে ডকুমেন্ট যাচাই করবে।

অনেক ক্ষেত্রে লাইভ ফটো তুলতে বলা হতে পারে, যা নিশ্চিত করবে যে, আপলোড করা পরিচয়পত্র আসল ব্যক্তিরই এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম ছবি নয়।

ব্যবহারকারীর নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য গুগলের ডাটাবেসের সাথে মেলানো হবে। যদি কোনো সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে পুনরায় যাচাইয়ের অনুরোধ করা হবে।

একবার পরিচয় নিশ্চিত হলে, ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট সেবাগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।

আইডেন্টিটি চেক ফিচারের বেশ কয়েকটি সুবিধা রয়েছে:

1. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং এবং অননুমোদিত প্রবেশ রোধ করে।

2. অনলাইন লেনদেন সহজ ও নিরাপদ: ডিজিটাল পেমেন্ট, গুগল অ্যাডস, এবং অন্যান্য অনলাইন সেবার ক্ষেত্রে সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

3. বিজ্ঞাপনদাতাদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি: গুগল অ্যাডস ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাই করে, যাতে ভুয়া বিজ্ঞাপনদাতারা প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে না পারে।

4. জালিয়াতি ও ভুয়া তথ্য প্রতিরোধ: গুগল সার্ভিসে ভুয়া তথ্য বা অ্যাকাউন্ট প্রতিরোধ করে, বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে।

 

এই ফিচারটি চালু করার মাধ্যমে গুগল নীতিমালা অনুসরণ করবে এবং দেশে দেশে প্রয়োগ করা কঠোর অনলাইন পরিচয় যাচাই আইন মেনে চলবে, যা তাদের বৈধতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চালতা কাটার কাজেই সংসার চলে ৬ মাস, হতদরিদ্র পরিবারদের জীবনের গল্প

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার হালদারপাড়ার আবদুল মমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবনের সংগ্রাম অনন্য এক উদাহরণ। বাড়ি নেই, ঘরও নেই—৫০০ টাকা মাসিক ভাড়ায় থাকেন একটি টিনের ছাপরায়। দরজাহীন এই ঘরেই স্ত্রী লাভলী বেগম ও তিন সন্তানকে নিয়ে বসবাস করেন আবদুল মমিন (৪৪)। নির্দিষ্ট কোনো পেশা না থাকলেও, তাদের সংসার চলে মূলত আচারের জন্য চালতা কাটার আয়ে।

আবদুল মমিন বলেন, “চালতা কাটার টাকায় ৬ মাস সংসার চলে।” তিনি আরো জানান, ১০০টি চালতা কুচি করার পর ৮০ টাকা আয় হয়, এবং রাত ১১টা পর্যন্ত কাজ করলে ৪০০টি চালতা কাটতে পারে। চালতার মৌসুম শেষে, গ্যাসের চুলা সারাইয়ের কাজ করতে হয় মমিনকে। তবে তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ এখনও চালতা কাটার কাজ, যেটি মজুরির দিক দিয়ে কম হলেও জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।

অন্যদিকে, উপজেলার অন্যান্য হতদরিদ্র পরিবারগুলির মতো, সেখানে ২০০ থেকে ২৫০ পরিবার একই কাজ করে সংসার চালায়। লাভলী বেগম ও মেয়ে মুক্তি খাতুন একত্রে দিনরাত চালতা কাটেন। শিরিষ থেকে আসা চালতার আড়তের ব্যবসায়ীরা তা কেটে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেন, আর এই সিস্টেমে মমিনের পরিবারে কাজ চলে।

চালতার এই ব্যবসা নিয়ে পাঁচ ধরনের উদ্যোগ চলে—মহাজনরা চালতা ট্রাকে নিয়ে আসেন, শ্রমিকরা কাটার জন্য পৌঁছে দেন, কারখানায় আচার তৈরি হয় এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা আচার বিক্রি করেন। একসময় চালতার আচার তৈরি হয়ে সারা দেশে চলে যায়।

এই প্রক্রিয়াটি এলাকার বিভিন্ন মানুষের জীবনধারার সাথে সংযুক্ত। যেমন, আচার বিক্রেতা আলিমুদ্দিন, যিনি একসময় তার পুঁজি না থাকলেও, চালতা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি বলেন, “মাসে ৫ হাজার টাকা আয় হয়, আবার কখনো তা বেশিও হতে পারে।”

প্রথম আলোতে প্রকাশিত এই সংবাদে, বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলির জীবনযাত্রা ও শ্রমের অমূল্য দিক উঠে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারি সমিতির ২০২৫-২৬ সনের কমিটি গঠন

বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারি সমিতির ২০২৫-২৬ সনের কার্যকরী পরিষদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ইউসুফ বক্তিয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মোঃ নুরুজ্জামান হাওলাদার মনোনীত হয়েছেন।

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সমিতির এক বিশেষ সভায় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সাবেক সভাপতি মোঃ একেএম মনিরুজ্জামান খান এবং নতুন কমিটি ঘোষণা করেন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ মিজান হাওলাদার।

সভায় সমিতির বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ, সদস্যরা এবং আইনজীবী সহকারিরা উপস্থিত ছিলেন। নব-নির্বাচিত সভাপতি ইউসুফ বক্তিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান হাওলাদারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দরা।

কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের নাম ও পদবী খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে।

নব-নির্বাচিত সভাপতি ইউসুফ বক্তিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুজ্জামান হাওলাদার সমিতির সকল সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমিতির কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তারা বলেন,আইনজীবী সহকারিদের অধিকার, সুযোগ-সুবিধা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাব।

এই নতুন কমিটির নেতৃত্বে বরিশাল জেলা আইনজীবী সহকারি সমিতি আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




অপারেশন ‘ডেভিল হান্ট’: কেউ রেহাই পাবে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাত থেকে কোনো শয়তান যেন পালাতে না পারে।

‘মানবাধিকার ও আইন প্রয়োগ’ কর্মশালায় বক্তব্য
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগ’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ফ্যাসিবাদ ও তাদের দোসরদের শাস্তির আওতায় আনতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ শুরু হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতিকারী, অর্থ পাচারকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা হবে এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ‘জয়েন্ট অপারেশন সেন্টার’ এর মাধ্যমে সমন্বয় করা হবে।

উপদেষ্টা আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রসিকিউটরদের নিয়মিত আদালতে উপস্থিত থাকতে হবে। কোনো সন্ত্রাসী যেন জামিন না পায়, সে বিষয়ে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের বিরোধীদের দমন করতে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে জেলে পুরেছিল। কিন্তু এখন দেশের জনগণ চায় প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত হোক।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর হতে বলবো। অপারেশন ডেভিল হান্ট-এ যেন কোনো অপরাধী পালাতে না পারে। সন্ত্রাসী, হেলমেট বাহিনী, দুষ্কৃতিকারী ও রাষ্ট্রদ্রোহীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কেমন কাটবে ‘প্রমিস ডে’; পারবেন কি মনের মানুষের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে?

মেষ (মার্চ ২১ – এপ্রিল ২০): আজ আপনি প্রেমের ক্ষেত্রে মনের মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করবেন এবং মনোযোগ দিয়ে সম্পর্কের বিষয়গুলো সামাল দেবেন। তবে কিছু পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হতে পারেন, তাই সেগুলোর দিকে নজর রাখুন। প্রেম এবং দাম্পত্যে কিছু আকর্ষণীয় পরিবর্তন ঘটতে পারে।

বৃষ (এপ্রিল ২১ – মে ২১): প্রেমের ক্ষেত্রে আপনি মনের মানুষের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে সক্ষম হবেন। তবে কিছু অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা রয়েছে এবং শারীরিকভাবে একটু অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। ধৈর্য ধরে চলুন, সময় এলেই আপনার প্রেমিকা বা প্রেমিক আপনার জন্য সাড়া দেবে।

মিথুন (মে ২২ – জুন ২১): প্রেমের ক্ষেত্রে আজ আপনি দুর্দান্ত পারফর্ম করবেন এবং আপনার মনের মানুষও প্রতিশ্রুতি রাখতে সক্ষম হবে। একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বেড়ে যাবে এবং সম্পর্কের গভীরতা বাড়বে। দিনের শেষে কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমবে।

কর্কট (জুন ২২ – জুলাই ২৩): আজ কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ রাখতে একটু সমস্যা হতে পারে, তবে প্রেমের ক্ষেত্রে চেষ্টা চালিয়ে যান। মনের মানুষের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার চেষ্টা সফল হবে, তবে কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে যা আপনার মনোভাবকে চঞ্চল করে তুলবে।

সিংহ (জুলাই ২৪ – আগস্ট ২৩): প্রেমে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ কিছু গোপন শত্রু আপনার সম্পর্কে নাক গলাতে পারে। মনের মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে কিছু সমস্যা হতে পারে, তাই সাবধানে চলুন।

কন্যা (আগস্ট ২৪ – সেপ্টেম্বর ২৩): আজ আপনি মনের মানুষের সাথে প্রমিস রাখতে পারবেন, তবে একে অপরের প্রতি প্রত্যাশা পূর্ণ হবে না। আপনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখুন, কিন্তু আপাতত সব কিছু গোপন রাখুন এবং নিজেকে সময় দিন।

তুলা (সেপ্টেম্বর ২৪ – অক্টোবর ২৩): প্রেমের ক্ষেত্রটিতে শুভ যোগ রয়েছে। আপনি ও আপনার সঙ্গী একে অপরের প্রতি প্রতিশ্রুতি রাখতে সক্ষম হবেন, এবং ভবিষ্যতের সম্পর্কও মজবুত হবে। পরিবারের সহায়তা পেতে পারেন।

বৃশ্চিক (অক্টোবর ২৪ – নভেম্বর ২২): প্রেমের ক্ষেত্রে আজ আপনাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনের মানুষের মন জয় করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যান, তবে বন্ধুদের সহায়তা নিয়ে এগিয়ে চলুন।

ধনু (নভেম্বর ২৩ – ডিসেম্বর ২১): মানসিক অস্থিরতা আপনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে, তবে প্রেমের বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়া না করে বুঝেশুঝে সিদ্ধান্ত নিন। খরচের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

মকর (ডিসেম্বর ২২ – জানুয়ারি ২০): প্রেমে আপনি আজ অধিকার বজায় রাখতে চাইবেন এবং আপনার মূল্যবান কিছু উপহার কিনে মনের মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতি রাখবেন। তবে নেতিবাচক চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।

কুম্ভ (জানুয়ারি ২১ – ফেব্রুয়ারি ১৯): প্রেমের সিদ্ধান্তে আপনি কিছুটা দ্বিধায় পড়তে পারেন, তবে আপনি নিজেই জানেন যে আপনার মনের মানুষ প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি ঠিকঠাক করতে সহকর্মী বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলতে পারেন।

মীন (ফেব্রুয়ারি ২০ – মার্চ ২০): প্রেমের প্রতিশ্রুতি নিয়ে তাড়াহুড়া করবেন না। সম্পর্কটি কোন প্রতিযোগিতা নয়, তাই নিজের সত্যিকারের অনুভূতি প্রকাশ করুন এবং শান্তভাবে সম্পর্কটিকে এগিয়ে নিয়ে যান। ভ্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পায়রা বন্দরের অদূরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলা, তিন জেলে গুলিবিদ্ধ

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার “এফবি মা”-তে জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এছাড়া লুট করা হয়েছে মাছ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল।

হামলার বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের শনিবার দুপুরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহতদের পরিচয়

গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলেন:

জালাল শরীফ (৫৫) – কলাপাড়ার মহিপুর থানার বাসিন্দা, অবস্থা সংকটাপন্ন

মো. শাহআলম (৪৫) – শরীরে গুলির চিহ্ন

মিজানুর রহমান (২৫) – শরীরে গুলিবিদ্ধ

চিকিৎসার অগ্রগতি

আহতদের প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত জালাল শরীফকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার বর্ণনা

এফবি মা ট্রলারের মাঝি সরোয়ার হোসেন জানান, ১৩ জন জেলে নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। ফেরার পথে জলদস্যুরা ট্রলারে হামলা চালায়, বন্দুক দিয়ে ছররা গুলি ছোঁড়ে, এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার ইলিশ, ১২টি স্মার্টফোন ও জ্বালানি তেলসহ মোট ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।

তিনি আরও জানান, জলদস্যুরা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ট্রলারটি নিয়ে যেতে চেয়েছিল। জেলেদের অনুরোধের পর মালামাল নিয়ে চলে যায় তারা।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, “এ ধরনের জলদস্যুদের হামলা আমাদের উদ্বেগে ফেলেছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নৌপথে নিরাপত্তার দাবি

জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করার দাবি উঠেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আইন মন্ত্রণালয়ের সংস্কার কার্যক্রম: ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

  1. নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে ৮ ফেব্রুয়ারি। এই সময়ের মধ্যে সরকার বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সংস্কারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে নেওয়া হয়েছে যুগান্তকারী উদ্যোগ।

বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয়ের উদ্যোগ

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়াবে।

গায়েবি’ মামলা চিহ্নিত ও প্রত্যাহারের উদ্যোগ

বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘গায়েবি’ মামলা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলছে। একইসঙ্গে হয়রানিমূলক ফৌজদারি মামলাগুলোও বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইন প্রক্রিয়ায় ডিজিটালাইজেশন

আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৬ ধরনের ডকুমেন্টের সত্যায়ন প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে, যা জনসাধারণের সময় ও খরচ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে উচ্চ আদালতে ই-ফাইলিং চালু হয়েছে এবং মডেল ই-কোর্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে।

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

৩ অক্টোবর বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং সম্প্রতি কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান সরকারের কাছে ২৮ দফা সুপারিশ সম্বলিত প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছেন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ অন্যতম।

অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তদন্ত সংস্থা পুনর্গঠন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত সংস্থার নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রসিকিউশন টিমকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

বিচারক ও আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগে ৫ জন, হাইকোর্ট বিভাগে ২৩ জন এবং অধঃস্তন আদালতে ১০৯ জন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এটর্নি জেনারেল অফিসে ২৩৯ জন আইন কর্মকর্তা ও দেশের বিভিন্ন জেলার আদালতে প্রায় ৪ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছেন।

বিচার ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন

২৩টি জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন, ৬টি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ভবন, ৫টি মহানগর দায়রা জজ ভবন ও ১০টি জেলা জজ আদালত ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২৩টি জেলা জজ আদালতের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

গুম বিরোধী তদন্ত কমিশন ও সনদ অনুসমর্থন

গুম বিরোধী আন্তর্জাতিক সনদ অনুসমর্থনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং অতীতে গুম হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধান ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে।

সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিদ্যমান আইনগুলো যুগোপযোগী করার পাশাপাশি সাইবার আইন সংশোধন বা বাতিলের বিষয়েও কাজ চলছে।

এই ছয় মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আইনি সংস্কারে যে অগ্রগতি দেখিয়েছে, তা ভবিষ্যতে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

মো: আল-আমিন




পটুয়াখালী ইপিজেড: অর্থনীতির নতুন দিগন্ত

উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে নির্মাণ করা হচ্ছে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পাঁচকোরালিয়া গ্রামে ৪১৮ একর জমির ওপর এই বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সম্পন্ন হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের অগ্রগতি

২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ২০২৬ সালের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১,৪৪৩ কোটি টাকা, যার মধ্যে ১,১০৫ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে এবং বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) দেবে ৩৩৮ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরো মাটি ভরাটের কাজ শেষ হবে। বর্তমানে ১৩০ একর জমিতে বালু ভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫৪টি পরিবারের জন্য আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে। পাশাপাশি ড্রেন, ফুটপাত, কালভার্ট, স্কুলসহ আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

কী থাকছে ইপিজেডে?

৩০৬টি শিল্প প্লট

৩ লাখ মিটার দীর্ঘ রাস্তা

৩০ হাজার মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা

১০টি অফিস ও আবাসিক ভবন

হেলিপ্যাড ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা

বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

ইপিজেডে প্লট বরাদ্দের আগেই দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের মূল দাবি, জ্বালানি ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করা হলে বিনিয়োগ আরও সহজ হবে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না জানান, ২০২৬ সালের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন হলে পটুয়াখালীর অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয়দের স্বপ্ন ও কর্মসংস্থান

এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা আশাবাদী যে, ইপিজেড চালু হলে বাসাভাড়া, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাসার বলেন, “আমাদের এলাকার অনেক তরুণ এখনো বেকার। ইপিজেড চালু হলে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।”

জমিদাতা পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধা

প্রকল্পের জমিদাতা ১২৬টি পরিবারের জন্য আশ্রয়ণ এলাকা নির্মাণ করা হবে, যেখানে থাকবে আধুনিক স্যানিটেশন, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।

পটুয়াখালী ইপিজেড শুধুমাত্র একটি শিল্প এলাকা নয়, এটি উপকূলীয় অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। বিনিয়োগকারীদের সঠিক সুবিধা দেওয়া হলে এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্প হাব হয়ে উঠতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা-ভাঙচুর, ছাত্রদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের পোড়া ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা ছাত্রদের ক্ষোভের এক প্রকৃত বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই হামলাকে শেখ হাসিনার বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তৌহিদ হোসেন গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জানান, সম্প্রতি ভারতের কাছে একটি লিখিত অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল যাতে শেখ হাসিনা উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকেন। তাছাড়া, ভারতের হাইকমিশনারকে তলব করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ব্যক্তিগত ফোন ব্যবহার করে অন্য দেশ থেকে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন।

এই ঘটনার পটভূমি হিসেবে উল্লেখযোগ্য যে, গত বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা অনলাইনে ভাষণ দেন, যা ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের দিকে একটি ‘বুলডোজার মিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। মিছিলের অংশ হিসেবে রাত ৮টার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হামলা চালায় এবং গভীর রাত পর্যন্ত ভাঙচুর চলে। এক পর্যায়ে সেখানে একটি এক্সকেভেটর আনা হয় এবং ভাঙচুর কার্যক্রম বৃহস্পতিবারও অব্যাহত ছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম