বরগুনায় ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বড় ভাইয়ের

বরগুনার আমতলীতে ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক বড় ভাই। তার দাবি, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে ওই দুই ভাই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। ওই সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বড় ভাই মফিজ উদ্দিন হাওলাদার সোমবার এমন অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মফিজ জানান, গত বছর উপজেলার তিনি তার পুকুর সেচ দেন। ওই পুকুরের মাছ ধরে ছোট ভাই মিলন হাওলাদারের পুকুরে রাখেন তিনি। সবশেষ এক বছর ধরে ওই পুকুরেই মাছগুলো রেখেছেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মফিজ ভাইয়ের পুকুরে রাখা মাছ শিকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ছোট দুই ভাই মিলন ও আব্দুর রব এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছোট দুই ভাই বড় ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মফিজের ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষায় স্ত্রী হেলেনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে।

খবর পেয়ে মফিজের ছেলে রিয়াজ হাওলাদার বাড়িতে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। মেয়ে মাহফুজা ও জামাতা শিবলী শরীফ আসলে তাদেরও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার পর সন্ত্রাসীরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে শিবলী, মাহফুজা ও রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মফিজ বলেন, ‘গত বছর ভাইয়ের পুকুরে মাছ রেখে আমি চাষাবাদ করছি। মাছ ধরতে গেলে দুই ভাই আমাকে বাধা দেয়। এর জেরে তারা আমাকে হত্যা করতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিল। গত বুধবার বাড়িতে একা পেয়ে সন্ত্রাসীসহ আমার দুই ভাই আমাকে মারধর করেন। আমি আমার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করে।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ছোট ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, ‘বড় ভাই মফিজ আমার পুকুরে গত একবছর ধরে মাছ চাষাবাদ করছেন। এ নিয়ে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার বড় ভাই আমাকে মারধর করেছে।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার পাঁচজনকে আনা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুত্বর দেখে তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ঝালকাঠিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সারাদেশে ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ঝালকাঠিতে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১১টায় ঝালকাঠি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রেসক্লাবের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

বিক্ষোভে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় তারা ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাইয়ান বিন কামাল, ইয়াসিন ফেরদৌস ইফতি, মাইশা মেহজাবীনসহ আরও অনেকেই বক্তব্য দেন। তারা ৪৭ ঘণ্টার মধ্যে ধর্ষণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের দাবি জানান এবং সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, “যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করবো।”

এ প্রতিবাদী মিছিলের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার দাবি জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাছ হবে এমন কলম উদ্ভাবন করলেন বরগুনার আমিরুল ইসলাম

বরগুনার আমতলী উপজেলার ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম পরিবেশবান্ধব কলম উদ্ভাবন করে আলোচনায় এসেছেন। তার তৈরি এই কলম ব্যবহারের পর মাটিতে পুঁতে দিলে গাছের চারা জন্মাবে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে আমিরুলের এই উদ্যোগ ইতিমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।

আমিরুল ইসলামের তৈরি কলমটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা, যেখানে শক্ত কাগজের ভিতরে বিভিন্ন ফলদ গাছের বীজ রাখা হয়। কলমের কালি শেষ হলে সেটি মাটিতে পুঁতে দিলে গাছের চারা জন্ম নেয়। এই উদ্ভাবন শুধু পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক নয়, বরং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও সৃষ্টি করতে পারে। তিনি জানান, এই কলমের দাম রঙিন কাগজে মোড়ানো হলে ১০ টাকা, আর সাদা কাগজে মোড়ানো হলে ৫ টাকা।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে চিন্তা করতে করতে এই ধারণা তার মাথায় আসে। দুই মাসের পরিশ্রমের পর, গত বছরের নভেম্বরে তিনি সফলভাবে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করতে সক্ষম হন। ইতিমধ্যে, তিনি দুই হাজার কলম বিক্রি করেছেন এবং তার কলমের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এম ইউ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এ হান্নান বলেন, “আমিরুলের উদ্যোগটি শুধু পরিবেশবান্ধব নয়, এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে সাহায্য করছে।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জানিয়েছেন, “এমন সৃজনশীল উদ্যোগকে উৎসাহিত করা উচিত এবং এই প্রকল্পকে বড় পরিসরে সম্প্রসারণে সহায়তা প্রদান করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকিতে স্কাউটসের প্রতিষ্ঠাতার জন্মদিন উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালীর দুমকিতে বাংলাদেশ স্কাউটস্ দুমকি উপজেলা কর্তৃক স্কাউটসের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিফেনসন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েলের ১৬৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় দুমকি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন:

✅ উপজেলা স্কাউটসের সাবেক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান

সঞ্চালনা করেন:

✅ উপজেলা স্কাউটস্ এর সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুল ইসলাম

উপস্থিত অতিথিরা:

✔ উপজেলা স্কাউটের গ্রুপ কমিটির সহ-সভাপতি নুর মোহাম্মদ
✔ মোসা. মাকসুদা আক্তার
✔ সাবেক কমিশনার আ. খালেক হাওলাদার
✔ সাবেক স্কাউট লিডার মো. আসলাম হাওলাদার
✔ অর্থ সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম
✔ স্কাউট লিডার মো. ফরহাদ হোসেন খান
✔ কাব লিডার মো. শাকিবুর রহমান সজীব
✔ রোভার স্কাউটার রুবেল গাজী

স্কাউটিংয়ের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনায় বক্তারা বলেন:

স্কাউটিং একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন
✅ এটি আত্মমর্যাদাবোধ, আত্মনির্ভরশীলতা ও পরোপকারিতার শিক্ষা দেয়
সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য স্কাউটিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কাব ও স্কাউট সদস্যরা উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় বিলুপ্তির পথে রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতি

বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কুয়াকাটার অন্যতম পুরনো অধিবাসী রাখাইন জনগোষ্ঠী। শত শত বছরের ঐতিহ্য, নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তারা এ অঞ্চলে বসবাস করলেও আধুনিকায়ন, অভিবাসন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির প্রভাবে রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার পথে।

এক সময় কুয়াকাটার রাখাইনরা নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বললেও বর্তমানে তাদের শিশুদের মধ্যে ভাষার ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি বাধ্যতামূলক হওয়ায় এবং রাখাইন ভাষার পাঠ্যক্রম না থাকায় শিশুরা ধীরে ধীরে মাতৃভাষা ভুলে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রবীণ রাখাইনদের মতে, আধুনিক শিক্ষা, প্রযুক্তির বিস্তার এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে মিশতে গিয়ে নতুন প্রজন্ম বাংলার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। ফলে রাখাইন ভাষার ব্যবহার দিন দিন কমে যাচ্ছে।

গোরা আমখলাপাড়ার পুরোহিত উসুছিথ মহাথেরো বলেন, “রাখাইন ভাষার নিজস্ব বর্ণমালা থাকলেও তা চর্চার সুযোগ নেই বললেই চলে। কুয়াকাটায় কোনো রাখাইন ভাষার স্কুল নেই, ফলে ভাষাটি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”

স্থানীয় মাতব্বর ম্যা থুইন বলেন, “আমাদের এলাকায় একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করা গেলে রাখাইন শিশুরা মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পেত। মিয়ানমারে এমন উদ্যোগ থাকলেও বাংলাদেশে নেই। সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে আমাদের ভাষা রক্ষা করা সম্ভব হবে।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা ও যোগাযোগ বিভাগের অধ্যাপক মো. মেহেদী হাসান বলেন, “রাখাইন ভাষা সংরক্ষণে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। ভাষার স্কুল ও পাঠ্যক্রম চালু, সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রচার, ডিজিটাল ফরম্যাটে ভাষার সংরক্ষণ এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। সরকারি অনুদানের মাধ্যমে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করাও গুরুত্বপূর্ণ।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম জানান, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় পরিচালিত বুড্ডিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ৪টি পাঠদানকেন্দ্র রয়েছে। আমরা রাখাইন ঐতিহ্যকে সামাজিক অনুষ্ঠানে তুলে ধরছি। কুয়াকাটায় একটি রাখাইন ভাষার স্কুল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নেব।”

রাখাইন ভাষা ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নইলে দ্রুতই হারিয়ে যেতে পারে এই ঐতিহ্যবাহী জনগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বিলুপ্তির পথে বাঁশ ও বেতের কুটির শিল্প

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিনির্ভর জেলা পটুয়াখালী, যেখানে ধান প্রধান ফসল। জেলার কৃষকেরা যখন মাঠে ব্যস্ত, তখন কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা তৈরি করতেন বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী—সাজি, ডালা, কুলা, চালনি, চাটাইসহ নানা কৃষি উপকরণ। তবে সময়ের পরিবর্তনে প্লাস্টিক পণ্যের দাপটে বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকের আন্দুয়া গ্রামের নরেশ মিস্ত্রি জীবনের বেশিরভাগ সময় বাঁশের পণ্য তৈরির কাজেই ব্যয় করেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার কাজে সহায়তা করতেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এবং কম দামে বিক্রির ফলে বাঁশের তৈরি পণ্য ক্রেতাদের আগ্রহ হারাচ্ছে।

সদর উপজেলার ছোট বিঘাই এলাকার আরেক শিল্পী অবনি দাস বলেন, “আগের তুলনায় পণ্যের চাহিদা কমেছে, উৎপাদন খরচ বেড়েছে, ফলে লাভও কমে গেছে। ফলে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন, আমিও পেশা বদলানো নিয়ে চিন্তায় আছি।”

বাজারে বাঁশ ও বেতের পণ্যের বিক্রি কমে যাওয়ায়, নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আসতে চাইছে না। উৎপাদন খরচ বেশি হলেও লাভজনক না হওয়ায় অধিকাংশ শিল্পী অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। ফলে কুটির শিল্পের ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালী বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, “সারা বিশ্বে বাঁশ ও বেতের সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে। এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে পণ্যের আধুনিকায়ন করতে হবে। সরকার শিল্পীদের জন্য সহায়তার পরিকল্পনা করছে।”

পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা শুধু কুটির শিল্পের ক্ষতি করছে না, পরিবেশকেও দূষিত করছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বাঁশ ও বেতের পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো দরকার।”

কুটির শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিকায়ন এবং বাজার সম্প্রসারণ জরুরি। নতুবা, সময়ের সঙ্গে হারিয়ে যাবে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতশিল্প।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরে খালে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, রহস্যময় মৃত্যু

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে একটি খাল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সুটিয়াকাঠী গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকার কেরানি বাড়ির সামনে খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়।

পিরোজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ সার্কেল) সাবিহা মেহেবুবা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় বাজারে যাওয়ার পথে পথচারীরা খালে ভাসমান মরদেহটি দেখতে পান। এর পর স্থানীয় চৌকিদারকে জানালে তিনি নেছারাবাদ থানায় খবর দেন। পুলিশ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় চৌকিদার মো. কাজী সবুজ মিয়া বলেন, “সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পেরে থানায় জানাই। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।”

পিরোজপুরের সহকারী পুলিশ সুপার সাবিহা মেহেবুবা বলেন, “অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

এটি একটি রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা, যার তদন্ত চলছে এবং অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে নারীদের সেলাই প্রশিক্ষণ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ১৫ জন অস্বচ্ছল নারীকে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চার মাসব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষক জেসমিন বেগম জানান, ৩৫টি আইটেমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা নারীদের আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান মিরাজ, সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল জামান জয়, বাংলাদেশ প্রতিদিনের কলাপাড়া প্রতিনিধি উত্তম কুমার হাওলাদার, কালের কণ্ঠের কলাপাড়া প্রতিনিধি জসীম পারভেজ ও দৈনিক ভোরের কাগজের কলাপাড়া প্রতিনিধি এস কে রঞ্জন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পারুল রানী বলেন, “আমার স্বামী অসুস্থ, সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। শুভসংঘ আমার নাম তালিকাভুক্ত করায় কৃতজ্ঞ। প্রশিক্ষণ শেষ হলে সেলাই মেশিন পেলে পোশাক তৈরি করে আয় করতে পারব।”

ধুলাসার ইউনিয়নের রাখাইন নারী মাখেন বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হওয়ায় সেলাই মেশিন পাওয়া আমার জন্য খুবই দরকার ছিল। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমি কাজ শিখে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারব। বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

নারীদের স্বাবলম্বী করতে বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিল, পটুয়াখালী জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা জামায়াতের আমির এডভোকেট মো. নাজমুল আহসান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে পৃথকভাবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়া হয়। বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ৬টি এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের পক্ষ থেকে ৯টি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

মনোনয়নপত্র জমাদানের সময় আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হলেও সিনিয়র আইনজীবীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উভয় পক্ষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নির্ধারিত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এবং আইনজীবীদের ঐতিহ্যগত সৌহার্দ্য বজায় থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন—

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উপদেষ্টা সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট আব্দুল হক ফরাজি

জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মোশারেফ হোসেন হাওলাদার

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আরিফুল রহমান

লইয়ার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সাইদুর রহমান শামীম খান

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শরীফ মো. সালাহউদ্দিন

সভাটি সঞ্চালনা করেন এডভোকেট শরীফ মো. সালাহউদ্দিন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় জেলের জালে ১০ কেজি ওজনের লাক্ষা মাছ

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ১০ কেজি ওজনের একটি বিরল লাক্ষা মাছ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বঙ্গোপসাগরে মাছটি ধরা পড়ে। বিশাল আকৃতির এই মাছটি বাজারে আসার পর ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাদশা নামে এক জেলের জালে মাছটি ধরা পড়ে। পরে চাপলিবাজার সংলগ্ন ধোলাই মার্কেটের রবিউল ফিস থেকে কুয়াকাটার মেসার্স হাসান ফিস অ্যান্ড ফ্রিজারের স্বত্বাধিকারী মো. হাসান এটি ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজি দরে ১৬ হাজার টাকায় কিনে নেন। এরপর ১ হাজার ৭৫০ টাকা কেজি দরে মোট ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী রেজাউল করিম জানান, এত বড় লাক্ষা মাছ সচরাচর দেখা যায় না। এই মাছের স্বাদ অসাধারণ, এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় এর চাহিদা বেশ ভালো। মাছটি বাজারে আনার পর এক নজর দেখার জন্য বহু মানুষ ভিড় জমায়।

জেলে মমিনুল ইসলাম বলেন, “ছোট-বড় বিভিন্ন মাছ ধরতে সাগরে বেড়জাল ফেলি। জাল তুলতে গিয়ে দেখি বিশাল লাক্ষা মাছ ধরা পড়েছে। এত বড় মাছ ধরতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।”

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন,
“লাক্ষা একটি দামি ও সুস্বাদু মাছ। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ মাছের সংখ্যা দিন দিন কমছে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে আমরা বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম