রাজশাহীতে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সোমবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক জুয়েলের পরিচয় পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোদাগাড়ী হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। রাজাবাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে দুই কর্মকর্তার যোগদানে বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধা

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তা উপবিদ্যালয় পরিদর্শক হাসান মাহমুদ ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামান যোগদান করতে গিয়ে বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়েছেন।

তালাবদ্ধ কক্ষে বিক্ষোভ

রোববার (২ মার্চ) দুপুরে দুই কর্মকর্তা যোগদান করতে গেলে বোর্ডের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা তাঁদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন।

কে এই দুই কর্মকর্তা?

বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, হাসান মাহমুদ যশোরের একটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং মো. কামরুজ্জামান বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং হাসান মাহমুদ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন।

বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া

বোর্ডের কর্মচারী নেতা ও মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, “ওই দুই কর্মকর্তা কলেজে কর্মরত থাকাকালীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই আমরা তাঁদের নিয়োগ মানি না।”

শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে?

বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত কয়েকজন বিএনপিপন্থী নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাঁরা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলীর কক্ষের তালা খুলে দেন এবং যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।

বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “দুই সহযোগী অধ্যাপককে মন্ত্রণালয় বোর্ডে পদায়ন করেছে। বিধি অনুযায়ী তাঁদের যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“এনসিপি’র রাজনৈতিক দর্শন পাইনি: রিজভী”

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে নানা ইতিবাচক বক্তব্য হলেও, সেখানে রাষ্ট্র নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দর্শন পাওয়া যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শনিবার (১ মার্চ) ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ত্যাগ ও নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন (এনআরএফ) এবং অনুষ্ঠিত হয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটের (আইডিইবি) মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে।

বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “কিছু বুদ্ধিজীবী দাবি করেন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছেন, বিএনপি একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছে।” তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান তার সময়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যা অন্যদের থেকে ভিন্ন।”

রিজভী আরও বলেন, “শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা জাতীয়তাবাদ এবং বাঙালির স্বায়ত্তশাসনের একটি ন্যারেটিভ তৈরি করেছিলেন, কিন্তু স্বাধীনতার পর যে রাজনৈতিক দর্শন প্রয়োজন ছিল, তা দিয়েছেন জিয়াউর রহমান। তিনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভেঙে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা কোনো গণতান্ত্রিক শাসককেই করতে হতো।”

তিনি বলেছিলেন, “বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শেখ মুজিব গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিলেন, আর জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে সেই অন্ধকার গুহা থেকে গণতন্ত্রের আলোর মশাল জ্বালিয়েছিলেন।”

রিজভী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন এবং বলেন, “গণতন্ত্র সংকটের মুখে পড়লে খালেদা জিয়া তার প্রেরণায় ৯০-এর দশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।” তিনি তার জীবনের নানা সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন নির্যাতিত হয়েছি, কিন্তু আমাদের প্রেরণার উৎস ছিল বেগম খালেদা জিয়া।”

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিবউননবী খান সোহেল, বিশিষ্ট রসায়ন বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. তাজমেরী এস এ ইসলাম, ছাত্র সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বকুল, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন রুনু, এবং আরও অনেকে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভুয়া রশিদে এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বরিশালে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার

বরিশাল শহরসহ দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েই চলছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি। চক্রগুলি রশিদ দিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে, অথচ বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। কিছু এলাকা ও রাস্তা ঘাটে এমন চাঁদাবাজির ঘটনা এখন দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে, ভুয়া রশিদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বেশ কিছু চক্র, যা মসজিদ-মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করছে, মাইকের মাধ্যমে ধর্মীয় বাণী প্রচার করে পথচারীদের সহানুভূতি আদায় করছে। তাদের মধ্যে অনেকের কাছে রশিদ রয়েছে, তবে তদন্তে অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিশেষভাবে, ছোট দুই কামরার ঘরে কিছু শিশুকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া হলেও, সেখানে আসলে কোনো এতিম শিশু নেই এবং স্থানীয় মানুষদেরও অভিযোগ, এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সন্দেহজনক।

বরিশালে কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা দান সংগ্রহ করছে। যদিও তারা নিজেদের এতিমখানার পরিচালনাকারী হিসেবে পরিচয় দেয়, তবে বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠান কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি, দান সংগ্রহের কাজে শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অশোভন।

বরিশাল নগরী ও দক্ষিণাঞ্চলে এমন চক্রের মধ্যে জাহাঙ্গীর, রিফাত, রায়হানসহ কয়েকজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এসব চক্র শহরের বিভিন্ন এলাকা, বাস স্ট্যান্ড, বাজার, এবং অন্যান্য পাবলিক স্পেসে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা নামের সাথে মাদ্রাসা ও এতিমখানার কাগজপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করছে।

এই ধরনের চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি নিজে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার অনুদান বিষয়ক তথ্য যাচাই করছেন এবং ভূয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনাক্ত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছেন। এছাড়া, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের পরিচয় দিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।

এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রশাসনকে এই বিষয়ে আরও তৎপর হতে হবে। সাধারণ মানুষের সহজ বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণার এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালুর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র হজযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুন্দর করতে ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মহান আল্লাহ আমাদের এই সুযোগ দিয়েছেন, যেন কেউ হজযাত্রী কোন ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। তাই সঠিকভাবে সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।” এ ছাড়া, হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত হজ এজেন্সির সংখ্যা ১২৭৫টি, যার মধ্যে ৯৪১টি যোগ্য এজেন্সি এবং ৭৫৩টি হজযাত্রী নিবন্ধনকারী এজেন্সি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুকলেট আকারে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারকে সেগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে। “কেউ যদি হারিয়ে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে, বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তার করণীয় কী হবে, এবং কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে,” জানান তিনি।

এছাড়া, হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতর থেকেই হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হবে। একটি কল সেন্টার এবং ওয়েবসাইট চালু করার পরামর্শও দিয়েছেন, যেখানে হজযাত্রীরা তাদের সমস্যার তথ্য সরাসরি দিতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এজেন্সি গুলোর রিভিউ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হবে। যারা মান পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।”

তিনি ভবিষ্যতে হজ ক্রেডিট কার্ড চালু করারও পরামর্শ দেন, যাতে হজযাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এর সাথে লাগেজ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সিস্টেম চালু করারও কথা বলেন, যাতে হারানো লাগেজের তালিকা রাখা যায়।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন।

হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষত, হজ ব্যবস্থাপনা সেন্টার এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে মনিটরিং সেবা শুরু হলে হজযাত্রীরা আরও বেশি সুরক্ষিত এবং সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারবেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা সরকার গঠনের সময় থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করে এসেছি, কারণ আমরা চেয়েছি তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখন তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। বিভেদের ফলে গণতন্ত্র ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে, যাতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যায়।”

তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে, তাহলে মানুষ ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বিএনপির অতীত আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। আমরা সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, “নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। কুমিল্লাসহ সারাদেশে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের অনেক সহকর্মী গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রদানের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে এবং সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ গঠনের সময় এখনই। সবাই মিলে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কে দেশ পরিচালনা করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে আমাদের অটল থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি: শিল্প খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দেশের শিল্প খাত বর্তমানে নানা কারণে গভীর সংকটে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব, উচ্চ সুদের হার, ডলার সংকট এবং ঋণপত্র খোলার হার কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। এর ফলে কয়েক শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক কারখানা কার্যক্রম চালাতে পারছে না। অনেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এদিকে, সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা শিল্প খাতে আরও চাপ সৃষ্টি করবে। গত রবিবার রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলে বিনিয়োগ কমবে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। এভাবে গেলে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়বে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ জানান, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা প্রতিযোগিতা কমাবে। নতুন বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক খাতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিল্প খাতে আরও সংকট সৃষ্টি করবে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি শিল্প খাতে সহায়তা না করে, তবে বর্তমান শিল্পগুলোও টিকিয়ে রাখা যাবে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের শিল্প এলাকায় গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে সরবরাহ চেইনেও বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।

এ অবস্থায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে শিল্প খাতের বিপর্যয় নিশ্চিত। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জলবায়ুর রোষানলে পটুয়াখালী: দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

একসময় বরিশাল বিভাগকে বলা হতো ‘বাংলার শস্যভান্ডার’, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পটুয়াখালী। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেলার অর্থনীতি ও জনজীবন আজ কঠিন সংকটের মুখে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি ও জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দারিদ্র্য, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা, আর জনস্বাস্থ্য পড়ছে মারাত্মক হুমকির মুখে।

প্রকৃতির সঙ্গে অসম লড়াই

শীতের সকাল। দোচালা টিনের ঘরের বারান্দায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন মতলেব মল্লিক। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়ার এই প্রবীণ বাসিন্দা জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১৯৭০ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি এখনো তাঁকে শিহরিত করে। তিনি বলেন, “সে কি ভয়ংকর ঝড় ছিল! চারদিকে শুধু পানি আর পানি, কিছুই দেখা যায় না।”

এই দুর্যোগের ধাক্কা আজও পটুয়াখালীর বাসিন্দাদের পিছু ছাড়েনি। একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। মতলেব মল্লিকের মতো বহু কৃষক আজ জমিহারা। একসময় যে জমিতে ৫০০-৬০০ মণ ধান হতো, এখন সেখানে শুধুই পানি আর শূন্যতা।

দারিদ্র্যের করাল গ্রাস

একসময় কৃষিনির্ভর এই জেলা এখন দেশের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) জরিপে দেখা যায়, পটুয়াখালীতে দরিদ্র খানার হার ৬০.৬%। অথচ একসময় দেশের দরিদ্রতম জেলা ছিল কুড়িগ্রাম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, পটুয়াখালীর দারিদ্র্যের হার ২০.৮%।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। একশনএইড বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, জেলার ৪৫% মানুষ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি চর্মরোগ, ডায়রিয়া, ডায়াবেটিস, জ্বর, ফুসকুড়ি এখন নিত্যসঙ্গী।

পটুয়াখালীতে গত কয়েক দশকে ৭০টির বেশি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ২০০৭ সালের সিডর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখের বেশি পরিবার, নষ্ট হয়েছে হাজার কোটি টাকার ফসল ও মাছ।

নদীভাঙনের শিকার অসহায় মানুষ

রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজে নদীভাঙনে নিঃস্ব নূরুল হাওলাদার বলেন, “আমার ১৬ একর জমি নদীতে চলে গেছে। এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি।”

২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০২-২০১৬ সালের মধ্যে পটুয়াখালীতে ১,০০০ একরের বেশি চাষাবাদযোগ্য জমি, ২১০টি পরিবার, দুটি বাজার, তিনটি স্কুল ও ১০টি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় কৃষি ও জীবনযাত্রা

জেলার কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২২ সালে পটুয়াখালীতে গড়ে ৮৪ মিলিমিটার কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে মরিচসহ নানা শস্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কৃষক আলাউদ্দিন চৌকিদার বলেন, “গরমের সময় মাঠে কাজ করাই যায় না, মাটিতে যেন আগুন ধরে থাকে।”

বেঁচে থাকার লড়াই

জলবায়ুর সঙ্গে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। একসময় কৃষক বেল্লাল গাজী আজ অন্যের নৌকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবার সময় জমিতে কাজের লোক লাগত, আর এখন আমি নিজেই দিনমজুরি করি।”

সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পটুয়াখালীকে জলবায়ু সহনশীল করতে টেকসই বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

পটুয়াখালীর মানুষ বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সহায়তা প্রয়োজন। নাহলে এ জেলা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।


মো: আল-আমিন



নামাজি ছেলে চান আইশা খান, শর্ত জানালেন নিজেই

উপস্থাপনা ও মডেলিংয়ের মাধ্যমে শোবিজে প্রবেশ করার পর অভিনয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন আইশা খান। ছোট পর্দায় তার উপস্থিতি এবং অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জিতে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি নতুন নতুন নাটকে কাজ করছেন, যার ফলে তার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ বেড়েছে।

এ ধরনের জনপ্রিয় তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনও সমানভাবে আলোচিত হয়। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে আইশা খান তার জীবনসঙ্গী সম্পর্কে কিছু দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তার জীবনসঙ্গীর নামাজি হওয়া। আইশা বলেন, “আমার মাঝে মাঝে নামাজ কম পড়া হয়। তবে আমার পার্টনার অবশ্যই নিয়মিত নামাজ আদায়কারী হতে হবে। কারণ, নামাজের জন্যই আমি মা থেকে বেশ কিছু বকাঝকা শুনেছি। আমাদের পরিবারও নামাজে খুব সচেতন।”

এছাড়া, প্রেম সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে আইশা বলেন, “স্কুল জীবন থেকে আমার পার্সোনালিটি ছিল রাফ এন্ড টাফ। এতে হয়তো কেউ আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়নি। তবে যাদের প্রপোজাল এসেছে, তাদের সাথে কিছুটা কথা বলেছি। কিন্তু একসময় তাদের মধ্যে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় বুঝতে পেরে মনে হয়েছে, সম্পর্কের দূরত্ব বজায় রাখা ভালো।”

আইশা আরও বলেন, “লাইফ পার্টনারের মধ্যে ভালো ব্যবহার এবং চরিত্রের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। তাকে অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করতে জানতে হবে এবং ভালো আচরণ শিখতে হবে। আর যদি সে ট্রাভেল ফ্রিক হয়, তাহলেই হবে, কারণ আমি ঘুরতে পছন্দ করি।”

এছাড়া, আইশা তার বিয়ের তারিখও জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ২১ ডিসেম্বর আমার বিয়ে হবে। তবে কোন সাল, সেটা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আগে পাত্র খুঁজে পেলে, তারপর ২১ ডিসেম্বর বিয়ে করব।”

সমাপ্তি:

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় ভয়াবহ পরিস্থিতি: মারধর, ছিনতাই, আতঙ্কিত পর্যটকরা

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যা একসময় ছিল নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, এখন হঠাৎ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এখানে পর্যটকদের ওপর হামলা, মারধর, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা জানান, কুয়াকাটায় বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের অসক্রিয়তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অপ্রতুল তৎপরতা এই অরাজক পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় ট্যুরিস্ট সংগঠন ও বাসিন্দারা।

কুয়াকাটা, বরিশালের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। এখানকার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বিখ্যাত। কিন্তু বর্তমানে এখানে একটি ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যটকরা শুধু সাগরপাড়ে নয়, হোটেলেও নিরাপদ নন। সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যটক অপহরণ, মারধর, এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গঙ্গামতী এলাকায়, যেখানে এক পর্যটক দম্পতি তাদের মোবাইল হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য দুষ্কৃতকারীরা ওই দম্পতিকে ৫ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। টাকা দেওয়ার পর, স্বামীকে মোবাইল নিতে যাওয়ার সময় আরো এক মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করা হয়। এরপর, তাকে ছাড়িয়ে আনতে স্ত্রীকে ৩ জন ছিনতাইকারী ফোন করে এনে ঝাউবন এলাকায় ডাকে, কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করে। পরে, তাদের দেওয়া তথ্যে অপহৃত পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।

এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে কুয়াকাটায়, যার মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। একাধিক পর্যটক পরিবার তাদের অপহৃত মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, এবং অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও, অনেক পর্যটক এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে চায় না, কারণ তারা পুলিশের ঝামেলা এড়াতে চান এবং অভিযুক্তরা ভয়ে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কুয়াকাটায় বেশ কিছু সময় ধরেই ঘটছে। কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনার কথা সাধারণত জনসমক্ষে আসে না। অনেক পর্যটকই অভিযোগ জানান না, কারণ তারা ভাবেন না যে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে। ফলে, দুর্বৃত্তদের সাহস আরও বাড়ে।”

ট্যুর অপারেটরদের মতে, পর্যটক হয়রানির পাশাপাশি কুয়াকাটায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিকদার মোহাম্মদ আলমাস, যিনি ‘হৈমন্তী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, “এখনকার পরিস্থিতি কুয়াকাটার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পূর্বে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা কমে গেছে, যার ফলে ছিনতাইকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এছাড়া, কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় আগে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল, তা এখন নেই। এখানে পর্যটকরা নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এমন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। যদি তারা আরও তৎপর হতো, তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।”

এ বিষয়ে, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার অনির্বাণ চাকমা বলেন, “কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, এবং আমাদের কাছে সীমিত জনবল রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।”

গত কিছুদিনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছিনতাই হওয়া টাকাপয়সা এবং মোবাইল ফেরত দিয়ে সহায়তা করেছেন, কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করছে না এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পর্যটকরা জানায়, পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার না হলে কুয়াকাটার খ্যাতি এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষতি হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম