আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা। দ্রুত বাজারজাত করতে পারায় এই তরমুজের দামও তুলনামূলক বেশি, যা চাষিদের বাড়তি লাভের আশা দিচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১০,৪৫০ হেক্টর, কিন্তু ১০,৭৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ড্রাগন, ড্রাগন সুপার, গ্লোরি, জাম্বু ও বাংলা লিংক জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।
আগাম তরমুজ চাষে কৃষকদের সাফল্য::
কৃষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা তরমুজ কিনতে আসতে শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন ১০ থেকে ১৩ কেজি। চাষিরা আশা করছেন, রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহেই তারা রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় তরমুজ সরবরাহ করতে পারবেন।
নুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. ছালেম মাল জানান, “এই বছর চার একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছি। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮-৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে।”
আহাম্মদপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. জালাল মৃধা বলেন, “ধার-দেনা করে তিন একর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররাও আসতে শুরু করেছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১৩ কেজি হয়েছে।”
কলমি ইউনিয়নের চাষি জুলহাস বেপারী জানান, “আমি ১১ বছর ধরে তরমুজ চাষ করছি। এবার ২৪০ শতাংশ জমিতে গ্লোরি ও জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেছি। সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ২০ দিনের মধ্যে বিক্রি করতে পারবো।”
মুজবিনগর ইউনিয়নের চাষি মো. জাকির হোসেন ইতোমধ্যে তরমুজ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং তিনি আশা করছেন বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আশাবাদ:: চরফ্যাশন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস বলেন, “প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষে কৃষকদের হেক্টর প্রতি দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে।”
চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, “চরফ্যাশন তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত। কৃষকরা রমজানের বাজারকে লক্ষ্য করে আগাম চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি, যাতে কৃষকরা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হন।”
আগাম তরমুজ চাষ করে ভোলার কৃষকরা রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন। পাইকারদের আনাগোনা এবং ভালো ফলনের কারণে তারা সন্তুষ্ট। তবে, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের বর্ধিত দাম কৃষকদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা এবার ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম