এআর রহমানের গিটারিস্ট হয়ে বিশ্বজয় করলেন বরিশালের নীলাঞ্জনা!

সংগীতজগতে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উঠেছেন কলকাতার জনপ্রিয় বেজ গিটারিস্ট নীলাঞ্জনা ঘোষ দস্তিদার। জন্ম কলকাতায় হলেও তার শেকড় বাংলাদেশে, বিশেষ করে ঢাকা ও বরিশালে। বর্তমানে তিনি অস্কারজয়ী সুরকার এআর রহমানের ব্যান্ডে বেজ গিটার বাজাচ্ছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবনের গল্প শেয়ার করেছেন নীলাঞ্জনা। তিনি জানান, প্রথমে বিভিন্ন গান কভার করে ফেসবুকে আপলোড করতেন। এতে ভালো সাড়া পান। এরপর এআর রহমানের ড্রামার রঞ্জিতের এক ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হয় তার।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে, রঞ্জিতের মাধ্যমে নীলাঞ্জনাকে এআর রহমানের ব্যান্ডে কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে তিনি বেশ অবাক হলেও সুযোগটি লুফে নেন

প্রথম দিকে বেশ নার্ভাস থাকলেও, ধীরে ধীরে নিজেকে মানিয়ে নেন তিনি। একদিন প্র্যাকটিস চলাকালীন প্রায় ৪০টি গান বাজানোর পর ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তখন এআর রহমান নিজে এসে তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলেন, ‘ওয়েলকাম টু দ্য টিম’!

নীলাঞ্জনা বলেন, “তিনি শুধু একজন সুরকার নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান”। রহমান নতুন প্রজন্মের কাজগুলো বিশ্লেষণ করেন ও বোঝার চেষ্টা করেন। তার মতো একজন কিংবদন্তির সঙ্গে কাজ করতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার

পরিবারের পরিচয় দিতে গিয়ে নীলাঞ্জনা জানান, “আসলে আমি বাংলাদেশের মেয়ে”। তার বাবা-মা ঢাকা ও বরিশালের মানুষ। শাশুড়ির বাড়িও কুমিল্লায়। তাই বাংলাদেশ তার কাছে অন্যরকম আবেগের জায়গা


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মারা গেছেন ঢাবির সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৬ মার্চ, দুপুরে ঢাকা ক্লাবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিউরোসার্জন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের দায়িত্ব শেষ করে তিনি আবারও বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২০ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।

অবসরের পর, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই, তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না : রহমাতুল্লাহ

বরিশালের সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল সদর উপজেলা শাখার ১ নম্বর সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর সদর রোডস্থ হোটেল কিং ফিশারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশালের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

ইফতার মাহফিলে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের নিয়ে ইফতার করার ইচ্ছে থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এবার সেই সুযোগ পেয়েছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ মুজিব তার শাসনামলে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। চারটি পত্রিকা বাদে বাকি সব বন্ধ করে দেন, যা ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করেন। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার আবারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে। সাংবাদিকদের হয়রানি, গুম, খুন ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে সমাজে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেই সমাজ গণতান্ত্রিক হতে পারে না। গণমাধ্যম কর্মীরা সব মানুষের খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।”

ইফতার মাহফিলে বরিশালের সিনিয়র ও নবীন সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, সমকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী, সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, পারভেজ রাসেল, অপূর্ব অপু, মুশফিক সৌরভসহ আরও অনেকে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বরিশালের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহর সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রমজানে যে চার আমল বেশি বেশি করবেন

রমজান মাসের পবিত্রতা ও মর্যাদা অনেক বেশি। এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেগুলি আমাদের জন্য একান্তভাবে উপকারী। এখানে জানানো হলো সেই চারটি আমল, যা রমজানে বেশি বেশি করা উচিত।

১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা। এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল। যার দ্বারা ঈমানদারদের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্পষ্ট হয় এবং কুফর থেকে পার্থক্য তৈরি হয়। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) এক হাদিসে বলেছেন, “যার সর্বশেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ৩১১৬)

২. ইস্তেগফার পড়া
রমজানে বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা সফল মুমিনের অন্যতম গুণ। ইস্তেগফার দ্বারা শয়তানের প্ররোচনা এবং গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।” (সুরা নুহ: ১০)

৩. জান্নাত চাওয়া
রমজানের এই পবিত্র সময়ে আল্লাহর কাছে জান্নাত চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জান্নাত মুমিনের চিরস্থায়ী সুখের আবাস এবং এটি সব মুসলমানের একান্ত আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা আমাদের মনের শান্তি ও পরকালীন সুখের পথ।

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
যদিও সবাই জানে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা সত্ত্বেও মানুষ প্রায়ই তার কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ জাহান্নামের দিকে চলে যায়। সুতরাং, রমজানে আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রমজান হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাওয়ার মাস। চারটি আমলের মধ্যে তিনটি চাওয়ার এবং একটিতে ধ্যান স্থাপন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো বেশি বেশি করার তওফিক দান করুন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




মাগুরায় শশিু আছয়ার মৃত্যুর পর ২ দফা জানাজা, শায়িত হলেন চরিনদ্রিয়ায়

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শশিু আছয়ার মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় বৃহস্পতিবা (১৩ মার্চ) মাগুরার নোমানী ময়দানে। সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত জানাজায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশের খলফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির হাসনাত আব্দুল্লাহ, সারজসি আলমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় একই দিন রাতে, সোনাইকুন্ডি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। পরে সোনাইকুন্ডি সম্মিলিত কবরস্থানে শশিু আছয়িকে দাফন করা হয়।

এর আগে, সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে শশিু আছয়ার মরদেহ মাগুরা স্টেডিয়ামে আনা হয়। এই সময় শশিুর সঙ্গে ছিলেন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং শশিুর মা আয়শো আখতার। মাগুরা স্টেডিয়ামে মরদেহ গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ অহিদুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার মাহমুদা মনি।

শশিু আছয়া বুধবার (১২ মার্চ) ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার শরীরে চারবার ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ (হৃৎস্পন্দন বন্ধ) হওয়ায় তার অবস্থা গুরুতর হয়ে যায়।

শশিু আছয়া ৫ মার্চ মাগুরার বোনের বাড়িতে গভীর রাতে ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ফরিদপুর মডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে ঢাকার সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনায় শশিু আছয়ার মা বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এই মামলায় শশিু আছয়ার ভগ্নপতি সজবি (১৮), ভাই রাতুল (১৭), বাবা ময়িয়া (৪২) এবং মা জাবদো বেগম (৪০)কে গ্রেফতার করেছে।

এ ঘটনার পর, মাগুরা শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে এমন জঘন্য ঘটনা আর কোনো পরিবারে না ঘটে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধর্ষণ মামলায় খালাস পেলেন সাবেক উপসচিব রেজাউল




বরিশালে ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি, সময় বাড়িয়েও অগ্রগতি কম

বরিশালে ক্যান্সার, কিডনি এবং হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি, যদিও এর জন্য দু’বার সময় বাড়ানো হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজের মাত্র ৬৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যন্ত্রপাতি আমদানির জটিলতা এবং নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালের ২৩ জুলাই, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে আড়াই একর জমিতে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগীদের জন্য ৪৬০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের জুনে। তবে নানা জটিলতায় কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজে বিলম্বের ফলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দিতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী পরিচালক রেজওয়ানুর আলম জানান, এই বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা একই জায়গায় আধুনিক চিকিৎসা পাবেন।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, “নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার প্রধান কারণ যন্ত্রপাতি আমদানির জটিলতা এবং নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে। তবে ৩০ জুনের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।”

বর্তমানে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হলে শেবামেক-এর ওপর রোগীদের চাপ অনেক কমে যাবে।

মো: তুহিন হোসেন 
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সী সেই শিশুটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকালে জানানো হয়, শিশুটির আজ আরও দু’বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে (হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দন বা হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়া); দ্বিতীয়বার প্রায় ৩০ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পর রিভার্স করেছে। ব্রেন ফাংশন করছে না; জিসিএস (কোমা) লেভেল ৩। তার রক্ত চাপ ও অক্সিজেন লেভেল অনেক কম।

শিশুটি গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার সিএমএইচ-এ ভর্তি হয়। তার চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গত ৬ মার্চ মাগুরার শহরতলী নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছর বয়সি শিশুটি। ওই সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।

ধর্ষণের ঘটনার পর গত ৮ মার্চ শনিবার শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এতে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের স্বামী সজিব, সজিবের বড় ভাই রাতুল ও বোনের শাশুড়ি জাহেদাকে আসামি করা হয়। মামলায় সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মাগুরা কারাগারে রয়েছেন।




এখনো গুরুতর অসুস্থ শিশু আসিয়া, আছে পিআইসিইউতে

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু আসিয়া ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচে) পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউতে) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রোববার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

পিআইসিইউ হলো হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। সেখানে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ঢামেকে আনা হয়। পরে তাকে হাসপাতালটির পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) নেওয়া হয়। পরেরদিন শুক্রবার রাতে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে নির্মম ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এ শিশুটি। এরপর থেকে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে সে। আসিয়ার ধর্ষকসহ সকল ধর্ষকের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে।

মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



“বরিশালে সয়াবিন আবাদ বাড়লেও বিপণন ব্যবস্থার ঘাটতি”

সয়াবিন আবাদে বিপণন ব্যবস্থার অভাব: কৃষকদের দোড় গোঁড়ায় উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছানোর তাগিদ

বরিশালে সয়াবিন তেলবীজের আবাদ বৃদ্ধি পেলেও, কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাবে এই কৃষি পণ্যটি সঠিকভাবে ব্যবহার কিংবা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছে না। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সয়াবিন তেলবীজের বেশিরভাগই হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবার তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না।

বরিশাল অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে, যা দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ যোগান দিচ্ছে। তবে, সয়াবিনের প্রধান ব্যবহার হিসেবে তেল উৎপাদন নয়, বরং এটি প্রধানত পশু খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা যেহেতু সয়াবিনের উন্নত জাতের বীজ এবং আবাদ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না, সেহেতু তাদের জন্য এর সম্ভাব্য লাভজনক ব্যবহার এখনও একটি অজ্ঞাত বিষয়।

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% তেল রয়েছে। এটি ডাল বা শুটি জাতীয় শষ্যের তুলনায় অনেক বেশি আমিষ সরবরাহ করে। যেহেতু সয়াবিন তেলবীজ বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরশীল, সেহেতু দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের অধিকাংশই সরাসরি হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবারে চলে যাচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, সঠিক প্রযুক্তি এবং বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে সয়াবিন তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে, এটি দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ইতোমধ্যে সয়াবিনের উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল প্রায় ৬টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলন হেক্টর প্রতি ১.৮০ টন থেকে সোয়া ২ টন পর্যন্ত হতে পারে। বরিশালের চরাঞ্চল এবং অন্যান্য কৃষি অঞ্চলগুলিতে এ ধরনের প্রযুক্তি ও বীজ প্রদান করলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলে অন্তত ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব।

যদি সঠিকভাবে সয়াবিনের আবাদ প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের বীজ কৃষকদের হাতে পৌঁছানো যায়, এবং স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তবে এটি শুধু বরিশালের কৃষকদের আয়ের উৎসই নয়, বরং দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম