বাংলাদেশে দ্রুততম লাইসেন্সিং পেতে পারে স্টারলিংক : গ্রিফিথস

স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারে, এমনটি জানিয়েছেন স্পেসএক্স এবং কাতারের রাজপরিবারের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজার রিচার্ড এইচ গ্রিফিথস।
শুক্রবার, ১৪ মার্চ, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্টারলিংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে, যা বিশ্বের দ্রুততম লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া হতে পারে।”
সম্প্রতি নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে স্টারলিংক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস স্টারলিংকের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং এর লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন।
স্টারলিংক মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্টারনেট সংযোগ উন্নয়নে কাজ করবে। রোহিঙ্গা শিবিরের মতো মানবিক সংকটপূর্ণ এলাকায়ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হতে পারে।
গ্রিফিথস বলেন, “স্টারলিংক প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করবে, যা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য হবে। তবে, সরকার যেন অতিরিক্ত ফি ধার্য না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, গ্রাহকদের জন্য টার্মিনাল ভাড়ার মডেল চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।”
বাংলাদেশে স্টারলিংকের নিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, “প্রথম ধাপ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। একবার এটি থাকলে বাকিটা সহজেই হয়ে যায়। বাংলাদেশের সরকার কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে না বরং তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, যা থেকে বোঝা যায় যে এটি দ্রুত সম্পন্ন হবে।”
স্টারলিংক তথ্য নিরাপত্তা বিষয়েও বলেছে, “বর্তমানে বিশ্বের ১১৪টি দেশে নিরাপদে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”
এদিকে, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী গ্রিফিথস। তিনি বলেন, “স্টারলিংকের আগমনের ফলে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে নতুন সরকারের আগমনের পর পরিস্থিতি আরও ইতিবাচক হয়েছে।”
ইলন মাস্কের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি সম্ভাবনা, তবে সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে। যদি স্টারলিংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে, মাস্ক সরেজমিনে দেখতে আগ্রহী হবেন। অধ্যাপক ইউনূসের আমন্ত্রণে মাস্ক আগ্রহ দেখিয়েছেন, এবং একসঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
বাংলাদেশে স্টারলিংকের সফল কার্যক্রম কেবল ইন্টারনেট সংযোগই উন্নত করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম










