আধুনিক বরিশালের রূপকার,শওকত হোসেন হিরনের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজ, ৮ এপ্রিল ২০২৫, বরিশালের প্রিয় সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য শওকত হোসেন হিরনের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। শওকত হোসেন হিরন, যিনি আধুনিক বরিশালের রূপকার হিসেবে পরিচিত, ২০১৪ সালের এই দিনে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে।

শওকত হোসেন হিরন ২০১৪ সালের ২২ মার্চ রাত ৯টায় বরিশাল ক্লাব মিলনায়তনের মেঝেতে পড়ে গিয়ে মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাকে প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে ২৪ মার্চ তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৪ এপ্রিল তাকে ঢাকা ফিরিয়ে এনে এ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসকদের প্রচেষ্টার পরও ৯ এপ্রিল, ২০১৪, সকাল ৭টায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার মৃত্যুতে বরিশালে শোকের ছায়া নেমে আসে। ১১ এপ্রিল, বরিশাল শহরের বেলস পার্ক মাঠে জানাজা শেষে মুসলিম গোরস্তানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।

শওকত হোসেন হিরন ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর বরিশাল শহরের দক্ষিণ আলেকান্দা এলাকার নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। লেখাপড়ার সুবাধে ছোটবেলা থেকেই তার বসবাস ছিল বরিশাল শহরে। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে বরিশালে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়, যা আজও তার স্মৃতিরূপে মানুষের মনে জাগ্রত।

শওকত হোসেন হিরনের অবদান আজও বরিশালের জনগণের মনে জীবন্ত। তার রেখে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকা- ও স্মৃতিরা আজও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ভাস্বর।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তামিমের পর এবার মাঠে অসুস্থ আম্পায়ার গাজী সোহেল

কিছুদিন আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া তামিম ইকবালের পর এবার মাঠে অসুস্থ হয়ে পড়লেন অভিজ্ঞ আম্পায়ার গাজী সোহেল। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংকের মধ্যকার ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনের সময় গরমের কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি।

মাথা ঘোরা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ নিয়ে দ্রুত তাকে বিকেএসপির হাসপাতালে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ম্যাচ শুরুর আগেই সোহেল দুর্বলতা অনুভব করেন, কারণ আগের রাতেই তার ঘুম হয়নি এবং চৈত্রের প্রচণ্ড গরম তাকে আরও বিপদে ফেলে। এর ফলে, তিনি মাঠে নামার আগে অসুস্থ হয়ে পড়েন।

বিকেএসপির জরুরি বিভাগে বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন গাজী সোহেল। বিসিবির একজন কর্মকর্তা জানান, ম্যাচ শুরুর আগে সোহেল তার শারীরিক অবস্থার কথা জানিয়ে ছিলেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ডিপিএলের সমন্বয়কারী সাব্বির আহমেদ রুবেল জানিয়েছেন, “গাজী সোহেলের প্রেশার হাই হয়ে গিয়েছিল। এখন মোটামুটি ভালো আছেন, তবে পালস একটু বেশি।” এদিকে, রিজার্ভ আম্পায়ার দিয়ে ম্যাচটি চালানো হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পোর্টস রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঈদের ছুটিতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ১৮৫ রোগীর মৃত্যু

ঈদের ছুটির আট দিনে বরিশাল শের-ই-বংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনা, বিভিন্ন রোগ ও অন্যান্য কারণে ১৮৫ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ১ হাজার ৮৫০ জন রোগী ভর্তি আছেন। তবে ঈদের ছুটিতে কিছু রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সের সংকটের কারণে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা পাননি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগের দিন ৩০ মার্চ হাসপাতালে ২১ জন রোগীর মৃত্যু হয়। এদিন হাসপাতালে ১ হাজার ৭৯৯ জন রোগী ভর্তি ছিল। এদিন ৪০৫ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়, এবং ৩৬৪ জন রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে যান।

ঈদের পরের দিন ৩১ মার্চ হাসপাতালে ১৯ জন রোগী মারা যান, এবং ৪৪৬ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়। পরবর্তী দিন, ১ এপ্রিল মৃত্যু হয় ১৮ জন রোগীর। একইভাবে ২ এপ্রিল, ৩ এপ্রিল, ৪ এপ্রিল, ৫ এপ্রিল ও ৬ এপ্রিল দিনগুলোতে যথাক্রমে ২৮, ২৩, ২৮, ২৫, ২৩ জন রোগী মারা যান।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ঈদের সময় হাসপাতালে প্রায় ২ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেওয়ার জন্য ৩০ থেকে ৩৫ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হলেও চিকিৎসা সেবায় কোনো ত্রুটি ছিল না, কারণ এখানে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন রোগীর মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মাহামুদ হাসান জানিয়েছেন, প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী ভর্তি হয়ে থাকে, এবং ছুটির দিনগুলোতে যেসব রোগী ভর্তি হন, তারা প্রায়ই মুমূর্ষু অবস্থায় আসেন। তাঁর মতে, এই পরিমাণ মৃত্যু স্বাভাবিক এবং কোনো বিশেষ অস্বাভাবিকতা নেই।




পটুয়াখালীতে হত্যা মামলায় ২৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পটুয়াখালীর বাউফলে প্রায় সাত বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে পটুয়াখালী অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. এনামুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ কালিশুরী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দিন আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর এজেন্ট সাইদুর রহমান সোহেল মল্লিকের বাড়িতে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালায়। হামলায় তার বাবা আব্দুল ওহাব মল্লিক গুরুতর আহত হন এবং পরদিন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ঘটনার পর নিহতের ছেলে সোহেল মল্লিক বাউফল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১৮ সালে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। এরপর দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সোমবার ২৩ আসামিকে যাবজ্জীবন সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্তরা সবাই কালিশুরী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন—হাফিজুর রহমান, তোফায়েল সরদার, শামীম সরদার, এলমাছ সরদার, সোহরাব সরদার, নাঈম মল্লিক, আব্দুর রাজ্জাক সরদার, মুসা সরদার, সামসু সরদার, মাওলা সরদার, ইউসুফ সরদার, ফরিদ আহম্মেদ, জসিম সরদার, বাবলু, ডালিম তালুকদার, ফিরোজ সিকদার, হাসান গাজী, সেকান্দার সরদার, জামাল, শামীম হাওলাদার, জহিরুল ইসলাম বাবুল, মন্টু সরদার ও দুলাল সরদার ওরফে ভয়।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাদী সোহেল মল্লিক জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে তার বাবার আত্মা শান্তি পাবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফরিদ হোসেন বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি, অপরাধ করে কেউ পার পায় না। এটি ন্যায়বিচারের একটি উদাহরণ।”

তবে আসামিপক্ষ রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তারা দাবি করেন, এই রায় একপেশে ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৬০, আহত শতাধিক

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও অন্তত ৬০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই বর্বর হামলায় আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং সোমবার ভোর থেকে নিরলস হামলায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হয়েছেন।

এ হামলার পর গাজার নিহতের মোট সংখ্যা ৫০,৭৫০ জন ছাড়িয়ে গেছে। গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল পুনরায় হামলা শুরু করার পর থেকে ৪ লাখেরও বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

হামলার মধ্যে দেইর আল-বালাহতে একটি বাড়িতে হামলায় ৯ জন এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের কাছে একটি তাঁবুতে বোমা হামলায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।

পৃথক এক প্রতিবেদনে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানায়, ইসরায়েলি হামলায় গাজা উপত্যকায় কমপক্ষে আরও ৫৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের গণহত্যামূলক আগ্রাসনে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫০,৭৫২ জনে পৌঁছেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আক্রমণে আহত হওয়া আরও ১৩৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যার ফলে আহতের সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৫ জনে পৌঁছেছে। তবে অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন এবং উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারেননি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু, আহত ২

ভোলা সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন বিএনপি নেতা মো. হুমায়ুন কবির (৫০)। এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা আরো দুইজন আহত হয়েছেন।

আজ, মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট এলাকার হেতনারহাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দৌলতখান থানার ওসি মো. জিল্লুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত হুমায়ুন কবির ছিলেন দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়ন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে হুমায়ুন কবিরসহ তিনজন বরিশালে মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ি থেকে ভেদুরিয়া লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময়, লঞ্চঘাটের কাছাকাছি হেতনারহাট বাজারের কাছে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় স্থানীয়রা মোটরসাইকেলে থাকা হুমায়ুন কবিরসহ তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হুমায়ুন কবিরকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সঙ্গে থাকা বাকি দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভোলা সদর হাসপাতালের দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য মো. মামুন জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মোবাইল দেখানোর প্রলোভনে সাড়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ

ভোলার তজুমদ্দিনে সাড়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৭ এপ্রিল) ভিকটিম শিশুটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা বাদী হয়ে তজুমদ্দিন থানায় মামলা করেছেন।

এরআগে রোববার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শম্ভুপুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় মোবাইল ফোন ও টাকার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ফরিদ উদ্দিন তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে তার মা রাতেই তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

সোমবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে তার ডাক্তারি পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় দোষী ফরিদ উদ্দিনের বিচার চেয়েছেন ভিকটিম পরিবার।

২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম জানান, ভিকটিমের চিকিৎসার পাশাপাশি পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। ডিএনএ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়া হবে।

তজুমদ্দিনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাব্বত খান জানান, শিশুর চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি অভিযুক্তকে গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ৩৫ বছর বয়সী কৃষক ফরিদ উদ্দিন ও ভিকটিম একই বাড়ির বাসিন্দা। ফরিদ বিবাহিত হলেও ঘটনার সময় তার ঘরে কেউ ছিলেন না।




 পিরোজপুর-নাজিরপুর সড়ক যেন মরণ ফাঁদ

পিরোজপুর সদর থেকে রায়েরকাঠী হয়ে নাজিরপুর-শ্রীরামকাঠী সড়কটি বর্তমানে যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং পরিণত হয়েছে মৃত্যুর ফাঁদে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাত্রীদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঠিকাদার রাস্তার কাজ না করেই টাকা তুলে নিয়েছে এবং বর্তমানে তারা পলাতক।

এ সড়কটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী এলাকা শ্রীরামকাঠী পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। এক সময় এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করত, তবে বর্তমানে জরুরি প্রয়োজনে ছাড়া কোন যানবাহনই চলাচল করতে সাহস পাচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষ বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের জন্য বাড়তি খরচের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

রায়েরকাঠী এলাকার বাসিন্দা ফজলু শিকদার বলেন, “এই সড়কটির অবস্থা ছয় বছর ধরে খারাপ। আগে রাস্তাটি দিয়ে শত শত গাড়ি চলত, কিন্তু এখন রাস্তায় গাড়ি চলে না বললেই চলে। আমরা শুনেছি, ঠিকাদার রাস্তার কাজ না করেই টাকা তুলে নিয়েছে। এখন তারা পলাতক। আমরা সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে আছি, আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। আমরা চাই দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হোক।”

স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইফতি ইটিসিএল এই কাজের দায়িত্ব পায়, তবে তারা রাস্তার কাজ না করেই পুরো টাকা তুলে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার এলজিইডির পিরোজপুর অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত দে’র সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে, পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান জানান, “এলজিইডির গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর মধ্যে অনেকগুলোর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেও কাজ হয়নি। দুর্নীতির মাধ্যমে ঠিকাদার টাকা তুলে নিয়েছে। এসব প্রকল্প আবার কীভাবে শুরু করা যায়, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

পিরোজপুর সদর উপজেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার পাকা ও আধাপাকা সড়ক রয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৪০০ কিলোমিটারই বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। জনগণের অভিযোগ, যেহেতু এই সড়কগুলি মূল যোগাযোগের মাধ্যম, সেগুলি দ্রুত সংস্কার না হলে সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ আরো বাড়বে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজায় রক্তক্ষয়ী হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে উত্তাল জনতা

ইসরায়েলের নিষ্ঠুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী শহরে রবিবার সকালে হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণের রক্তপাত ও গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি পালন করেন জেলার সাধারণ জনগণ, ধর্মপ্রাণ মুসলমান, বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও আলেম-উলামারা।

সকাল ১১টায় পটুয়াখালীর সার্কিট হাউজ চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তা মোড়ে গিয়ে শেষ হয় বিক্ষোভ মিছিলটি। হাতে ফিলিস্তিনের পতাকা, প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ধরে থাকা মানুষগুলো সোচ্চার কণ্ঠে উচ্চারণ করে একের পর এক প্রতিবাদী স্লোগান— “গাজা তুমি একা নও”, “ইসরায়েলি সন্ত্রাসের বিচার চাই”, “Free Free Palestine”, “Where is the United Nations?”, “Stop Killing Innocents” ইত্যাদি।

এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্যে উঠে আসে গভীর বেদনা ও ক্ষোভ। এক শিক্ষার্থী বলেন, “গাজার শিশুরা যখন বোমায় ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, তখন বিশ্ব মোড়লরা নির্বিকার। আমরা আজ এখানে বলছি—তারা একা নয়, আমরা গাজার পাশে আছি।”

মিছিল শেষে চৌরাস্তা মোড়ে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল। দোয়া পরিচালনা করেন পটুয়াখালী জেলা ইমাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আবদুল কাদের। তিনি বলেন, “গাজায় যে ভয়াবহতা চলছে, তা কেবল মুসলমান নয়, গোটা মানবজাতির বিবেককে নাড়া দেওয়ার কথা। মুসলিম বিশ্ব এখনই ঐক্যবদ্ধ না হলে এই নির্যাতনের সীমা থাকবে না।”

সমাবেশে বক্তারা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিকভাবে ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো সমর্থন ও মানবিক সহায়তা প্রদর্শনের দাবি জানান। বক্তারা আরও বলেন, “আমাদের প্রতিবাদ চলবে, কারণ গাজার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার পাশে দাঁড়ানো।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গাজায় হামলার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘটের ডাক

ইসরায়েলের বর্বর হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানিয়েছে ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ও ইসলামিক ফোর্সেস গ্রুপ। আগামীকাল সোমবার, ৭ এপ্রিল এই ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে বিশ্বের প্রতিটি দেশের বিবেকবান মানুষকে এই প্রতিবাদে শরিক হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘ওয়াফা’কে উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর চলমান হত্যাযজ্ঞকে বিশ্ববাসীর সামনে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সময় এখন। এ লক্ষ্যে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চাপ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে বিবৃতিতে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা সংগ্রামকে বেগবান করার পাশাপাশি ইসরায়েলি আগ্রাসনের আন্তর্জাতিক জবাবদিহিতার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ফিলিস্তিনি ন্যাশনাল ও ইসলামিক ফোর্সেস একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট, যারা দেশটির স্বাধীনতা ও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সক্রিয়। জোটটি কারাবন্দি নেতা মারওয়ান বারগুতিকে তাদের নেতা হিসেবে মান্য করে এবং তার নির্দেশনায় আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, আজ রোববার গাজায় ইসরায়েলের চালানো হামলায় আরও ৪৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। এ নিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ সংঘর্ষে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গাজায় প্রতিদিন যেভাবে নিরস্ত্র মানুষদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্ব শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত দুই সপ্তাহেই ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৩০০-রও বেশি শিশু। এই নিষ্ঠুরতা ও ধ্বংসযজ্ঞে গাজা শহর এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের বসতবাড়ি।

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ধর্মঘটের আহ্বান বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম