বরিশালে ‘ফ্রি’ পার্কে টিকিট, ভাসমান দোকান থেকেও অর্থ আদায় করলো বিসিসি

উদ্বোধনের প্রায় নয় বছর পর বরিশালের গ্রিন সিটি পার্কে প্রবেশ এবং রাইড ব্যবহারে শুরু হয়েছে ‘সেবামূল্যের’ নামে টিকিট সংগ্রহ। একইসঙ্গে বেলস পার্ক সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকেও অর্থ আদায় করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।
২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামালের হাত ধরে গ্রিন সিটি পার্কটি উদ্বোধন হয়। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নির্মিত এক একর আয়তনের এ পার্কে রয়েছে ১৪টি রাইড, ১০টি বসার বেঞ্চ, দুটি খাবার ঘর এবং একটি বিশ্রামাগার। সেসময় পার্কে প্রবেশ কিংবা রাইড ব্যবহারে কোনও ফি নির্ধারণ করা হয়নি।
তবে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের দিন (৩১ মার্চ) থেকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে পার্কে জনপ্রতি ১০ টাকা করে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি গার্ড বসিয়ে দেওয়া হয় টিকিট ব্যবস্থা। একই সময় থেকে বেলস পার্ক এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা প্রায় দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকেও প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করছে বিসিসি। দোকানের ধরন অনুযায়ী ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
এ নিয়ে অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সামান্য টাকার বিনিময়ে পার্কের পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। তবে দরিদ্র শিশুরা এতে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পূর্বে যে সুবিধাগুলো বিনামূল্যে ছিল, সেটি হঠাৎ অর্থের বিনিময়ে দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, পার্কে কর্মরত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে অর্থ আদায়কে ‘অবৈধতা কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সদস্যসচিব রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘‘সিটি করপোরেশন অবৈধ দোকান থেকে টাকা তুলে তাদের আরও উৎসাহিত করছে। এতে জনভোগান্তি বাড়বে, ফুটপাত ও সড়ক দখল আরও বাড়বে।’’
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এসব উদ্যোগ শহর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকে স্পষ্ট করছে। নগরবাসীর স্বস্তির চেয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও মত তাদের।
“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম“








