বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।
চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।
বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।
বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।
: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম“












