বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের 

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।

বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখকে ঘিরে হালখাতার প্রস্তুতি, ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে বৈশাখ মাস মানেই নতুন বছরের শুরু, পুরনো হিসাব-নিকাশ শেষ করে নতুন খাতা খোলার সময়। এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই হালখাতা নামে পরিচিত। বরিশালের ব্যবসায়ীরাও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে চৈত্র মাসের শেষ সময়টিতে হালখাতা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বরিশালের বাজার রোড, পোর্ট রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে তৈরি হচ্ছে হালখাতার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা—জবেদা, খতিয়ান, হাচ্ছিটা, চাপাটালি, বন্ডবুক, পাকাটালি ইত্যাদি। যদিও কাগজের মূল্য এবং শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে খাতার দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ব্যবসায়ীদের মতে এটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, “বৈশাখে হালখাতা খোলা বাঙালি ব্যবসায়ীদের শত বছরের ঐতিহ্য। প্রযুক্তির যুগে আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও হালখাতার গুরুত্ব অটুট। এটি ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনে।”

আরেক দোকান মালিক শাহ আলম জানান, “হালখাতা শুধু হিসাব রাখার খাতা নয়, এটি আমাদের সততা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার প্রতীক। কাগজের দাম বাড়লেও এর গুরুত্ব কমেনি।”

বাজার রোডের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সরকার হয়তো ডিজিটাল পদ্ধতিকে উৎসাহ দিচ্ছে, তবে আমাদের মাঝে এই ঐতিহ্য আজও জীবিত। হালখাতা শুধু হিসাব নয়, এটি আস্থা, সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির অংশ।”

এ বছর বরিশালে প্রায় ১০ হাজার হালখাতার চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতাব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নতুন খাতায় পুরনো দেনার হিসাব লিখে রাখার মাধ্যমে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা এবং সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব হয়।

হালখাতা এখন শুধু একটি হিসাব খাতাই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে বরিশালের ব্যবসায়িক সমাজের সংস্কৃতি, মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিটনেসবিহীন বাসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বিআরটিসির ফিটনেসবিহীন, পুরনো ও ভাঙাচোরা বাস। বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর আওতাধীন এসব বাসের অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হলেও নিয়মিত সড়কে চলছে, যার ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াত বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বাসের মান। বরং যাত্রী চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ রাস্তায় নামিয়েছে বছরের পর বছর পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ বাস। অনেক বাসের দরজা-জানালা ভাঙা, কোথাও পলিথিনে মোড়া, এমনকি এসি বাস হলেও এসি ও ফ্যান অকেজো। এতে পরিবার নিয়ে যাতায়াত করাও হয়ে উঠছে কঠিন।

এমনকি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত একটি দোতলা বিআরটিসি বাসও এখন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব বাস লোকাল বাস থেকেও নিন্মমানের।

একজন ভুক্তভোগী যাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, “বাসে উঠলেই মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। দরজা ঠিকমতো খোলে না, জানালা বন্ধ করা যায় না, আর গরমে তো শ্বাস নেয়াই কষ্ট। এসি বাসে এসি চলে না, ফ্যানও চলে না। এটা কীভাবে সরকারি সেবা?”

অন্য যাত্রী ইলিয়াস হাওলাদার অভিযোগ করেন, “প্রতিবছর সরকার গাড়ি মেরামতের জন্য বাজেট দেয়। কিন্তু তার কোনো বাস্তব প্রয়োগ দেখি না। সামান্য মেরামত দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মোঃ জামিল হোসেন বলেন, “২০১৯ সালের পর নতুন কোনো বাস বরাদ্দ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে পুরনো বাসগুলোই মেরামত করে চালানো হচ্ছে।”

তবে যাত্রীদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। তারা দ্রুত নতুন, ফিটনেসযুক্ত ও নিরাপদ বাস সরবরাহের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নামাজরত নারীর গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণ ও টাকা লুট, আতঙ্কে বানারীপাড়া

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাগরিবের নামাজরত এক নারীর গলায় ছুরি ধরে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ তিন লাখ টাকা লুট করেছে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্দার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গৃহকর্তা আ. সত্তার মোল্লা নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে গেলে, তার স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০) ঘরে মাগরিবের নামাজে মগ্ন ছিলেন। সে সময় মুখোশ পরা তিনজন দুর্বৃত্ত টিনশেড ঘরে ঢুকে তাকে জবাই করে হত্যার ভয় দেখিয়ে গলায় ছুরি ধরে, মুখ চেপে ধরে কাঠের বাক্স থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে নেয়।

ঘটনার সময় ঘরের অন্য একটি কক্ষে গৃহিণীর ছয়জন নাতি-নাতনি অবস্থান করলেও তারা কিছু বুঝতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে স্বামী আ. সত্তার মোল্লা তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। জ্ঞান ফিরে এলে তহমিনা বেগম ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। ছুরির চাপে তার গলায় ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান,“ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে শিশুরাও ছিল, অথচ তারা কিছু টের পায়নি। বিষয়টি ঘোলাটে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখী মেলার অনুমতি নেই, তবুও চলছে প্রস্তুতি

বরিশালে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবছর বৈশাখী মেলার অনুমতি দিচ্ছে না নগর পুলিশ। তবে জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী জানাচ্ছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেলার প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে।

শহরের বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজনের কথা জানিয়েছে উদীচী বরিশাল জেলা সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাশ মুন্সি বলেন,আমরা বৈশাখী মেলা করতে চাই এবং সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

তবে,ভিন্ন কথা জানালেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন,আমি কোন অনুমতি দিবো না। শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, ঘোড়া, হাতি তৈরির কাজ চলছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উপকরণ ও উপস্থাপনায় কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশাখ ঘিরে বরিশালের ইলিশের বাজারে আগুন। শহরের পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও, মাছের দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকায়, দেড় কেজির মাছ ৪০০০ টাকা, আর ছোট ইলিশ (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ২৭০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা অনেক, তবে সরবরাহ কম। এই সুযোগেই দাম বাড়াচ্ছে কিছু সিন্ডিকেট। ক্রেতাদের অভিযোগ, পালাপার্বণে বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়।

বর্ষবরণে মেলা হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকলেও বরিশালের মানুষ প্রস্তুত নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। এখন দেখার বিষয় উদযাপন কতটা পূর্ণতা পায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আলোকে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ঝালকাঠিতে গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক কর্মসূচি

ঝালকাঠিতে জলবায়ু সুরক্ষা ও টেকসই ভবিষ্যতের দাবিতে অনুষ্ঠিত হলো ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচি। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ফ্রাইডেস ফর ফিউচার-এর তত্ত্বাবধানে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি (ইয়াস) এর নেতৃত্বে আয়োজিত এ মানববন্ধন ও সমাবেশে অংশ নেয় সহযোগী সংগঠন ব্রাইটাস, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল, এবং স্থানীয় যুব সংগঠনের সদস্যরা।

কর্মসূচির মূল দাবি:

  • জীবাশ্ম জ্বালানিতে অর্থায়ন বন্ধ
  • নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসারণ
  • টেকসই কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি

বক্তৃতায় অংশ নেন:

  • মাহিদুল ইসলাম রাব্বি (আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক, ইয়াস)
  • সত্যবান সেনগুপ্ত (সভাপতি, সনাক)
  • সাজিদ মাহমুদ (জেলা সমন্বয়কারী, ইয়ুথ নেট গ্লোবাল)
  • স্নিগ্ধা ভৌমিক
  • শাকিল হাওলাদার রনি (সাধারণ সম্পাদক, ধ্রুবতারা ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট – বরিশাল বিভাগ)
  • সাব্বির হোসেন রানা (সাংগঠনিক সম্পাদক, ইয়াস)

বক্তারা বলেন:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন ভবিষ্যতের আশঙ্কা নয়—এটা বর্তমান সময়ের কঠিন বাস্তবতা। উপকূলীয় জনপদ, কৃষি ব্যবস্থা, জনস্বাস্থ্য সবকিছুই হুমকির মুখে।

তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান— পরিবেশবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, এবং জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের তরুণ সমাজ একটি বৈশ্বিক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে—জলবায়ুর প্রশ্নে সময়ক্ষেপণের অবকাশ নেই। এখনই প্রয়োজন টেকসই সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




সহনশীলতার অনন্য নজির: হযরত মু‘য়াবিয়া (রা.) এর উদারতা

ইসলামের ইতিহাসে হযরত মু‘য়াবিয়া (রাযিয়াল্লাহু আনহু) একজন প্রজ্ঞাবান ও সহিষ্ণু শাসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর উদারতা, দূরদর্শিতা ও সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

একবার মদিনায় হযরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর একটি ক্ষেতের পাশে ছিল মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর একটি ক্ষেত। হঠাৎ করে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর ক্ষেতের শ্রমিকরা ভুলবশত ইবনু যুবাইর (রাযি.) এর জমিতে প্রবেশ করে। এতে ইবনু যুবাইর (রাযি.) ক্ষিপ্ত হয়ে সরাসরি একটি চিঠি পাঠান মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর কাছে।

চিঠিতে তিনি লিখেন:“আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইরের পক্ষ থেকে কলিজা-খেকো হিন্দের সন্তান মু‘য়াবিয়ার নামে। পর সমাচার, তোমার শ্রমিকগুলো আমার ক্ষেতে ঢুকে পড়েছে। জলদি তাদের সরাও, নতুবা আল্লাহর কসম! যা হবার তা হবেই।”

চিঠি পড়ার পর তাঁর পুত্র ইয়াযিদ প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বাহিনী পাঠিয়ে তাঁকে দমন করা উচিত।” কিন্তু মু‘য়াবিয়া (রাযি.) শান্ত কণ্ঠে বলেন, “না, বরং এমন কিছু করি যাতে আত্মীয়তাও বজায় থাকে এবং উত্তম পথও অবলম্বন হয়।”

এরপর মু‘য়াবিয়া (রাযি.) ইবনু যুবাইর (রাযি.) কে একটি চিঠি পাঠান। এতে তিনি লেখেন:“আল্লাহর কসম! যদি আমার ও তোমার মাঝে গোটা দুনিয়াও থাকতো, সেটিও আমি তোমাকে দিয়ে দিতাম। আমার ক্ষেত যদি মদিনা থেকে দেমশক পর্যন্ত হতো, তাও তোমার করে দিতাম। এখনই আমার ক্ষেত তোমার সঙ্গে মিশিয়ে নিও, এমনকি শ্রমিকরাও তোমার হয়ে গেল।”

চিঠিটি পেয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রাযি.) আবেগে কেঁদে ফেলেন। পরে তিনি দেমশকে গিয়ে মু‘য়াবিয়া (রাযি.) এর মাথায় চুমু দিয়ে বলেন:“আপনার এই মহত্ত্ব ও সহিষ্ণুতার কারণে আল্লাহ যেন আপনাকে তাঁর দয়ার দরজা থেকে বঞ্চিত না করেন। এটাই তো আপনার মর্যাদার আসল রহস্য।”

এই ঘটনা ইসলামি ইতিহাসে ক্ষমা, উদারতা ও আত্মমর্যাদাবোধের চমৎকার দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডাকাতি: গুলিবিদ্ধসহ আহত ৮, লুট ৮০ লাখ টাকার মালামাল

বঙ্গোপসাগরের ঢালচর ও হাতিয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় বরগুনার চারটি মাছ ধরার ট্রলারে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশধারী জলদস্যুদের হামলায় অন্তত আটজন জেলে আহত হয়েছেন, এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। ডাকাতরা প্রায় ৮০ লাখ টাকার জাল, মাছ, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত ট্রলারগুলোতে একে একে হামলা চালায় প্রায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী জলদস্যু। তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং সবার হাতেই দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

লুটকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মাছ ধরার জাল, ২০-২২ লাখ টাকার মাছ, নগদ প্রায় ৫০-৬০ হাজার টাকা এবং জেলেদের ব্যবহৃত ৩০টি মোবাইল ফোন।

ডাকাতির সময় বাধা দিলে দস্যুরা সাত জেলেকে মারধর করে এবং একজনকে শটগান দিয়ে গুলি করে। ডাকাতির পর ট্রলারগুলোর ইঞ্জিন বিকল করে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়।

পরে কোস্ট গার্ডের পাথরঘাটা দক্ষিণ জোনের একটি দল চারটি ট্রলারসহ জেলেদের উদ্ধার করে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা দুজন—বেল্লাল (৪০) ও মোস্তফা (৬০)—কে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয় এবং দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান খান বলেন, আমরা সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করেছি এবং জেলেদের সুরক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

তবে হামলার এলাকা অন্য থানার আওতায় হওয়ায় স্থানীয় পুলিশ সরাসরি মামলা নিচ্ছে না। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন লুকে বাংলাদেশ পুলিশ: লোগোতে শাপলা, ধান, গম ও পাটপাতা

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন লোগো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান লোগো পরিবর্তন করে এবার যুক্ত করা হয়েছে দেশের জাতীয় পরিচয়ের প্রতীকসমূহ—শাপলা ফুল, ধান ও গমের শীষ এবং পাটপাতা। পাটপাতার উপরে উজ্জ্বলভাবে লেখা হয়েছে ‘পুলিশ’ শব্দটি।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি (লজিস্টিকস) নাছিমা বেগম স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, নতুন লোগোর নকশা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেয়েছে এবং এখন কেবল প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায়। প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন লোগোটি দেশের সব পুলিশ ইউনিট, জেলা অফিস, ইউনিফর্ম, পতাকা, সাইনবোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সামগ্রীতে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, খুব শিগগিরই পুরো বাহিনীতে নতুন লোগো ব্যবহার কার্যক্রম একযোগে শুরু হবে।

নতুন এই লোগোতে ব্যবহার করা প্রতীকগুলো দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও জনগণের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্ককে আরও গভীরভাবে তুলে ধরবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হাডসন নদীতে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত: একই পরিবারের ৫ জনসহ নিহত ৬

 

যক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় তিন শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন স্পেনের নাগরিক এবং অপরজন হেলিকপ্টারটির পাইলট।

দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে, ম্যানহাটনের স্কাইপোর্ট থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণ পর। নিউ জার্সির উপকূল ধরে জর্জ ওয়াশিংটন ব্রিজে বাঁক নেওয়ার মুহূর্তে হেলিকপ্টারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হাডসন নদীতে উল্টে পড়ে যায়।

নিউইয়র্কের মেয়র এরিক অ্যাডামস জানান, ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয় এবং বাকি দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে জানানো না পর্যন্ত পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।

ফায়ার কমিশনার রবার্ট টাকার জানান, বিকেল ৩টা ১৭ মিনিটে প্রথম দুর্ঘটনার খবর আসে। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী নৌকা এবং ডুবুরি দল নদীতে অভিযান শুরু করে।

দুর্ঘটনার তদন্ত করছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ড (NTSB)। হেলিকপ্টারটি ছিল দুই ব্লেড বিশিষ্ট বেল ২০৬ মডেল।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিউইয়র্ক শহরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম