স্ত্রীর অভিমানে বিষপান, তালতলীতে স্বামীর মর্মান্তিক আত্মহত্যা

 

বরগুনার তালতলীতে স্ত্রীর উপর অভিমান করে মো. জহিরুল ইসলাম (২৪) নামের এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত জহিরুল ইসলাম উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের জাকিরতবক গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আট মাস আগে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চন্দনতলা গ্রামের সবুজ মৃধার মেয়ে লামিয়া আক্তার (১৯) এর সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল।

সম্প্রতি ঈদুল ফিতরের সময় স্ত্রী লামিয়া বাবার বাড়িতে চলে যান। এ নিয়ে জহিরুল মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ ঘটনার কিছুক্ষণ পর রাত ৮টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে তিনি বিষপান করেন।

পরিবারের সদস্যরা বিষপানের বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। তবে বরিশাল নেয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্জালাল জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্ত্রীকে নিয়ে মানসিক চাপে পড়ে যুবকটি আত্মহত্যা করেছে। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচিতে মানুষের ঢল, রাজপথ মুখরিত শ্লোগানে

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ভোলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল গণজমায়েত ও মিছিল। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভোলা শহরের হাটখোলা জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার

সমাবেশে ভোলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে যোগ দেন। শহরের প্রতিটি রাস্তায় ছিল মানুষের স্রোত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ইসরায়েল নিপাত যাক, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করো’—এই সব শ্লোগানে মুখরিত করে রাখেন গোটা শহর।

আয়োজক সংগঠন প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা জানায়, কর্মসূচিকে সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে তারা জেলার ২৫টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে মসজিদ ও পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তাদের একত্র প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি রূপ নেয় একটি স্মরণকালের সেরা জনসমাবেশে।

শহরের প্রতিটি সড়কে মানুষের ঢল, হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, ফিলিস্তিনের পতাকা—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটি পরিণত হয় এক গণআন্দোলনের রূপে। বক্তারা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু একটি রাষ্ট্রের দাবি নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।”

এই সমাবেশ ভোলা জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ ৬ জন যুবক কারাগারে

বরগুনার সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাদকসেবী সন্দেহে আটক ছয় যুবকের ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আদালত পরবর্তী নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। বরগুনা সদর থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা পরিষদের ভেতর থেকে ৬ জনকে আটক করে। রাতেই তাদের ডোপ টেস্ট করা হলে সকলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—

  • মোহাম্মদ মিঠুন (২৭), পিতা: মো. দেলোয়ার হাওলাদার, ঠিকানা: ঢলুয়া, সদর
  • মাহমুদুল হাসান (৪৩), পিতা: মৃত আব্দুল মালেক মিয়া, ঠিকানা: শাহাপট্টি
  • মো. সোহাগ (৪৪), পিতা: মো. আলি আকবর, ঠিকানা: পশ্চিম বরগুনা
  • মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), পিতা: তোফায়েল মিয়া, ঠিকানা: ডিকেপি রোড
  • মো. ফারুক (৩৮), পিতা: মৃত আবুল হোসেন
  • শহিদুল ইসলাম (৩৬), পিতা: মৃত শানু মিয়া, ঠিকানা: কলেজ রোড

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “ছয়জনের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

এ ঘটনায় বরগুনায় আবারও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখের প্রথম দিনে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি, স্বস্তি ফিরলো জনজীবনে

বৈশাখের প্রথম দিনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে বরিশালের মানুষ। রোদের খরতাপ আর ধুলা-ধোঁয়ার ক্লান্তিকর পরিস্থিতির পর সোমবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে থেকে শুরু হয় এই হালকা বৃষ্টি।

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানায়, আজ দুপুর ২ টার দিকে নগরীর বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়া অনেকটাই মনোরম হয়ে ওঠে।

বরিশাল আবহাওয়াবিদ মো. জাহিদ হাসান বলেন, বৈশাখের শুরুতেই গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি বরিশালের জন্য ইতিবাচক একটি ইঙ্গিত। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এমন বৃষ্টি হচ্ছে এবং আগামী ১-২ দিন মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বৃষ্টিতে নববর্ষ উদযাপনে কোনো বড় বাধা না এলেও অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, এই বৃষ্টি যেন প্রকৃতির নববর্ষের উপহার।

বৈশাখের দাবদাহের শুরুতেই এই বৃষ্টিপাত বরিশালের কৃষকসহ সর্বসাধারণের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




বরিশালে বৈশাখের প্রথম দিনে বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনেই বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছিল উৎসবের ঢল। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমিয়েছে বরিশাল নগরীর বিনোদন কেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন, এড্যামস পার্ক, বেলস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, এবং রূপাতলী আবদুর রব সেতু এলাকায়। সকাল থেকেই এসব স্থানে মানুষের ঢল নামে। বিকেল গড়াতেই বেড়ে যায় ভিড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নগরীর ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা স্কুলছাত্রী তানিশা বলে, আমরা প্রতি বছর বৈশাখে বের হই। এই বছর বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। খেতে পেরেছি পান্তা-ইলিশ, আর চুড়ি-ফিতা কেনাকাটাও করেছি।

রূপাতলীর বাসিন্দা এবং সরকারি কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন,সারা বছর কাজের ব্যস্ততা থাকে। আজ পরিবারকে সময় দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারা অনেক মজা করছে। প্রশাসনের নিরাপত্তাও ভালো ছিল।

নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও স্বেচ্ছাসেবকদের টহল ছিল দিনভর।

বরিশালে এমন প্রাণবন্ত নববর্ষ উদযাপন অনেকদিন পর দেখা গেল। তারা চান, প্রতিবছরই যেন এমন নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বৈশাখ পালন করা যায়। পহেলা বৈশাখের আনন্দে এদিন যেন পুরো বরিশালই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে।




আসল রিজিক কী? হিকমাহ না অর্থ?

ডেস্ক রিপোর্ট:: আল্লাহ তা’আলা যাকে চান, তাকেই অঢেল ধন-সম্পদ দান করেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তিনি তাকে ভালোবাসেন। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে দেন হিকমাহ—অর্থাৎ প্রজ্ঞা। আর যার মধ্যে হিকমাহ আছে, তার অন্তরে থাকে সাকিনা—শান্তি, ধৈর্য ও আত্মতৃপ্তি।

আমরা অনেক সময় দেখি, টেবিল ভর্তি খাবার থাকলেও কারো মন ভরে না। কারণ, সেখানে হিকমাহ নেই, নেই সাকিনা। অন্যদিকে কেউ কেউ আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়, কারণ সে পেয়েছে হিকমাহ, সে জানে সন্তুষ্ট থাকার মানে।

একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত ও সুন্দর জীবনসঙ্গী পেয়েও অসুখী থাকতে পারে, আবার বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েও দুঃখী হতে পারে—কারণ তার মধ্যে হিকমাহ নেই, সাকিনা নেই।

আল্লাহ যাকে হিকমাহ দেন, সে সব অবস্থায় তৃপ্ত ও প্রশান্ত থাকে। নিজের অবস্থা ও সীমাবদ্ধতাকে সে মানিয়ে নেয়। আর এটিই রিযিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

রিযিক মানে শুধু টাকা-পয়সা না। এর বিস্তৃতি অনেক বেশি—

সর্বনিম্ন স্তর: সম্পদ ও অর্থ

সর্বোচ্চ স্তর: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা

সর্বোত্তম স্তর: নেককার স্ত্রী ও সন্তান

পূর্ণতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি

রিযিক নির্ধারিত—কে কত টাকা আয় করবে, কে কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে, কবে কোথায় মারা যাবে—সবই পূর্বনির্ধারিত। এমনকি কে কতটা খাবার খাবে, কোন ফল খাবে, তাও নির্দিষ্ট।

যে ফলটি আজ আপনি খাচ্ছেন, তা হয়তো হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আপনার কাছে এসেছে। কারণ, এটি আপনার রিযিক। যত বাধা আসুক না কেন, যদি তা আপনার জন্য নির্ধারিত হয়—তবে তা আপনাকেই পৌঁছাবে।

এমনকি কোনো আত্মীয় যদি আপনার বাসায় এসে খায়, তবে সে আপনার খাবার খাচ্ছে না—সে নিজের রিযিকই গ্রহণ করছে, আর আপনি হচ্ছেন কেবল মাধ্যম।

আল্লাহ বলেছেন—“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নেননি।”

(সুরা হুদ: আয়াত ৬)

আরও বলেছেন—“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ খুলে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”

(সুরা ত্বালাক: আয়াত ২-৩)

আমরা যেন হালাল পথে আস্থাশীল থাকি, হিকমাহ অর্জন করি, রিযিকের সঠিক অর্থ বুঝে তাতে সন্তুষ্ট থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিযিক দান করুন, হারাম থেকে রক্ষা করুন।

(আমিন)




শহীদ মাদ্রাসাছাত্র রাব্বির মরদেহ ৯ মাস পর নিজ গ্রামে গলাচিপায় দাফন

ঢাকায় পুলিশ গুলিতে নিহত ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র শহীদ মো. রাব্বি মাতব্বরের মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ৯ মাস পর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুর রহমান।

রাব্বি ঢাকার মিরপুরের তা’লীমুল ইসলাম মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগের ছাত্র ছিল এবং ইতোমধ্যে ১০ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল। সে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জুয়েল মাতব্বরের ছোট ছেলে।

রাব্বির বাবা জুয়েল মাতব্বর জানান, গত বছরের ১৯ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুরে ঢাকা মডেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার একটি গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। রাব্বি ওই সময় দৌড়ে একটি ভ্যানগাড়ির নিচে আশ্রয় নিলেও পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও জনতার বাধায় তা ব্যর্থ হয়।

তবে ওই রাতেই রাব্বির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার বাধা ও হুমকির মুখে পড়ে তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন জুয়েল মাতব্বর। বাধ্য হয়ে ছেলেকে মিরপুর গোরস্থানে দাফন করেন।

পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আদালতের নির্দেশে রাব্বির মরদেহ উত্তোলনের আবেদন জানায় পরিবার। বিচারিক আদেশে ১০ এপ্রিল তার মরদেহ উত্তোলন করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। ১৩ এপ্রিল ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতে মরদেহ গলাচিপার উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং ১৪ এপ্রিল সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাব্বির পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. বাশার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নব সূর্যে, নব প্রত্যয়ে—বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা

নতুন বছর, নতুন সূচনা। বঙ্গাব্দ ১৪৩২-এর প্রভাতে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ পরিবার সকল পাঠক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে জানায় প্রাণঢালা বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

“শুভ নববর্ষ”।

পহেলা বৈশাখ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চেতনার প্রতীক। বছরের প্রথম দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় নতুন করে স্বপ্ন দেখার, পুরনো গ্লানি ঝেড়ে ফেলে জীবনে আশার আলো ফেরানোর সময় এসেছে।

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ সবসময়ই সত্য ও সাহসিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকারে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন বছরেও আমরা সেই দায়িত্ব আরও আন্তরিকভাবে পালন করে যাবো বলে অঙ্গীকার করছি।

এই নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা—দেশে সমৃদ্ধি আসুক, সমাজে ফিরে আসুক সম্প্রীতি আর মানবতা। সবাই সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।

শুভ হোক বাংলা ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
শুভ নববর্ষ।

 




বরিশালে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার

বরিশালের বানারীপাড়ায় ভয়ঙ্কর প্রতারকচক্র ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’-এর এক সক্রিয় সদস্য খোকন শিকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে বানারীপাড়া বন্দর বাজার এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে বানারীপাড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোসাম্মৎ নয়ন বেগমকে কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে খোকন শিকদার। তিনি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে নয়ন বেগমের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং কানের দুলসহ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে নয়ন বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শনিবার দুপুরে নয়ন বেগম নিজেই অভিযুক্ত খোকনকে বন্দর বাজারে চিনে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোকন শিকদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে খোকন স্বীকার করেন যে, তিনি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে একটি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া ৬নং ওয়ার্ডে। তিনি ওই এলাকার গণি শিকদারের ছেলে।

রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তফা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দূর্যোগ জয় করে বরিশালে প্রায় ৩ লাখ টন আলু উৎপাদন, তবু হতাশ কৃষকরা

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও খরার মাঝেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এবার প্রায় ৩ লাখ টন গোলআলু উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু মৌসুম জুড়ে দাম কম থাকায় হতাশায় ভুগছেন এখানকার কৃষকরা। উৎপাদন বাড়লেও বাজারে গোলআলুর দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা বেশি, তবুও গড় ফলন কমেছে সামান্য—২৪.৭৮ টনের জায়গায় এবার হয়েছে ২৪.৭৬ টন।

বরিশাল অঞ্চলে গত বছরের মতো এবারও রবি মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। বরং নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০-৯০ শতাংশ কম। এর ফলে রবি মৌসুমে অধিকাংশ ফসলের ফলনেই প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠে আলুর ফলন ভালো হলেও পাইকারি বাজারে তারা ৭-১০ টাকার বেশি দরে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। এতে খরচের টাকা উঠে আসছে না, উল্টো লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে এবং সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগে হেক্টরপ্রতি ৩০ টন পর্যন্ত আলু উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে বারি উদ্ভাবিত ‘হিরা’, ‘আইলসা’, ‘ডায়মন্ট’, ‘কার্ডিনাল’, ‘চমক’, ‘ধীরা’, ‘গ্রানোলা’, ‘বিনেলা’সহ একাধিক উন্নত জাত মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষিত হয়েছে।

২০১০-১১ অর্থবছরে বরিশাল অঞ্চলে ১০ হাজার ৬০৫ হেক্টরে আলুর আবাদ হয়েছিল। ২০১১-১২ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে উৎপাদন গিয়ে দাঁড়ায় ২.৩৬ লাখ টনে। চলতি বছর ১২ হাজার হেক্টর আবাদ করে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএই কর্মকর্তারা। তবে কৃষক পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ায় প্রকৃত আয় কমে গেছে।

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এবং উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হলে বরিশাল অঞ্চলেই আলু উৎপাদন দেড়গুণ বাড়ানো সম্ভব।


প্রতিবেদন: মো. তুহিন হোসেন,