২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও মেয়র পদপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়খে চরমোনাই) বরিশাল নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল ২০২৫) দুপুরে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতসহ মোট ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলায় ফয়জুল করিম দাবি করেন, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভয়ভীতি, হামলা, প্রভাব বিস্তার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল বিকৃত করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিদর্শনে গেলে তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো আইনগত সহায়তা পাননি।
এছাড়াও মামলায় উল্লেখ করা হয়, জাগুয়া কলেজ কেন্দ্র থেকে হাতপাখা প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং ওই ঘটনায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এমনকি ভোটারদের ভয় দেখাতে বাইরের জেলা থেকে অস্ত্রধারী বহিরাগতদেরও আনা হয়।
ফয়জুল করিম মামলায় দাবি করেন, প্রকৃত ফলাফলে তিনি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে তাকে ৩৩,৮২৮ ভোটে পরাজিত দেখানো হয় এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ৮৭,৮০৮ ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, “ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে এই নির্বাচন মৌলিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আমার বিজয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে।”
সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী, ফয়জুল করিম ১ নম্বর প্রতিপক্ষের প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বৈধ মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির বলেন, “আমরা আদালতকে জানিয়েছি, একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অধীনে প্রকৃত বিজয়ীকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততায় ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি। এখন আদালতের মাধ্যমে সেই প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রশাসনের মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু নগরবাসী কোনো কার্যকর নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। তাই জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন ফল বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।