মিথ্যা ধর্ষণ মামলার অভিযোগে বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

বরিশালে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করার অভিযোগে মামলাকারী নারী সাবিনা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার বরিশালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহা. রকিবুল ইসলাম মামলাটি গ্রহণ করে এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী আজিবর রহমান।

বাদী নুর বানু, বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, তার ছেলে কামাল হোসেন গাজীপুরে অবস্থানকালে আসামি সাবিনা বেগমকে এক ব্যক্তির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে প্রতিশোধ নিতে সাবিনা বেগম ২০২৩ সালের ২৯ এপ্রিল বরিশাল বন্দর থানায় কামালসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুস্তাফিজুর রহমান তদন্ত শেষে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। সেই প্রেক্ষিতে নুর বানু আবার মামলা করেন, এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

অভিযুক্ত:

  • সাবিনা বেগম, পিতা বাবুল মিয়া
  • গ্রাম: চরলক্ষ্মীপুর, উপজেলা: মুলাদী, বরিশাল।

আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, মিথ্যা মামলা করে অপরাধীদের হয়রানি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।


মো. তানভীর হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে থ্রি-হুইলারের ভাড়া নির্ধারণ বিষয়ে ছড়ানো গণবিজ্ঞপ্তি ‘ভুয়া’ ঘোষণা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ব্যাটারিচালিত থ্রি-হুইলারের ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত একটি গণবিজ্ঞপ্তি ‘ভুয়া’ বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। সিটি করপোরেশন দাবি করেছে, তারা এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং নোটিশটিতে দেওয়া সই ও স্মারক নম্বরও জাল।

ভাইরাল হওয়া নোটিশে উল্লেখ ছিল:

  • ১৯টি রুটে নির্ধারিত ভাড়া, যেমন:
    • জেলখানা থেকে লঞ্চঘাট: ৫ টাকা
    • লঞ্চঘাট থেকে বেলস পার্ক: ৫ টাকা
    • লঞ্চঘাট থেকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৫ টাকা
    • লঞ্চঘাট থেকে রূপাতলী: ১০ টাকা
    • রূপাতলী থেকে নথুল্লাবাদ: ১০ টাকা
  • নির্দেশনা না মানলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি।

বিসিসির অবস্থান:

সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন রোমেল বলেন—

“এই গণবিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ও সই জাল। এমন কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবে নেয়া হয়নি।”

তিনি আরও জানান—

“নোটিশে দুটি ভিন্ন ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকেই স্পষ্ট এটি তৈরি করা হয়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশন নগরবাসীকে ভুয়া তথ্য ও গুজব থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে যাচাই করতে করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।


মো. তুহিন হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৬ লেনের ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক নির্মাণের দাবি বরিশালের নেতাদের

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের আরও কার্যকর সংযোগ স্থাপন ও জাতীয় অর্থনীতিতে বরিশাল বিভাগের অবদান বাড়াতে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন বরিশালের নেতৃবৃন্দ।

এই দাবি উঠে আসে ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত বরিশাল জেলা সমিতির ঈদ পুনর্মিলনী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. এনায়েত করিম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা:

  • প্রধান পৃষ্ঠপোষক এ কে এম আজিজুর রহমান
  • বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সারোয়ার
  • অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল
  • জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোয়াযযাম হোসেন হেলাল
  • সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম
  • প্রধান তথ্য কর্মকর্তা নিযামুল কবির
  • এক্সিম ব্যাংকের এমডি আক্তার হোসেন
  • অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহাসচিব আবু বকর সিদ্দিক সোহেল

নেতৃবৃন্দের মূল বক্তব্য:

  • ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লেন প্রকল্প না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন তারা।
  • বরিশালকে কেন্দ্র করে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্রামীণ উন্নয়ন একাডেমি স্থাপনের আহ্বান জানান।
  • বরিশালের মৎস্য ও কৃষি পণ্যজাত গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা; ২২% জিডিপি অবদান শুধু মৎস্য খাতেই
  • ভোলা থেকে গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইন সম্প্রসারণ এবং শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তারা।

বরিশালকে আবারও ‘বাংলার শস্যভাণ্ডার’ হিসেবে গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়নকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তিন দোকানে ভোক্তা অধিকার আইন ভাঙায় ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা

মেয়াদোত্তীর্ণ ও অতিরিক্ত দামে রং বিক্রির অপরাধে বরিশাল নগরীর তিনটি হার্ডওয়্যার দোকানকে মোট ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে লাইন রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক অপূর্ব অধিকারী।

জরিমানার তালিকায় রয়েছে:

  • নিউ কমান্ডার হার্ডওয়্যার: মেয়াদোত্তীর্ণ নিপ্পন পেইন্ট রাখায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা।
  • মেসার্স নাসির হার্ডওয়্যার: মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে ২০ হাজার টাকা জরিমানা।
  • জে অ্যান্ড জে টুলস সপ: একই অপরাধে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা।

অপূর্ব অধিকারী জানান, পণ্যের মোড়কে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ না থাকা এবং অতিরিক্ত দাম নেওয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের ভিত্তিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে আরও ছিলেন সহকারী পরিচালক ইন্দ্রানী দাস, সুমি রাণী মিত্র এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি দল। অভিযান চলাকালে সাধারণ মানুষের মাঝে ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়।

তিনি জানান, জনস্বার্থে নিয়মিত বাজার তদারকিমূলক এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাভীর সিজার অপারেশন, জন্ম নিলো বাছুর

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রথমবারের মতো সিজারিয়ান পদ্ধতিতে একটি গাভীর বাছুর প্রসব করানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাঘার গ্রামে।

স্থানীয় শংকর হালদারের স্ত্রী পারুল হালদার জানান, গত ১৩ এপ্রিল তার একটি গাভীর প্রসব বেদনা শুরু হলে এআই টেকনিশিয়ান হেলাল উদ্দিনকে খবর দেন। স্বাভাবিকভাবে প্রসব করাতে না পেরে ডাক্তার ডাকা হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ফরিদ তার বাড়িতে গিয়ে সিজার করেন।

সিজার অপারেশন ও ওষুধসহ আনুমানিক ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমানে গাভী ও বাছুর দুজনেই সুস্থ আছে।

এআই টেকনিশিয়ান হেলাল উদ্দিন জানান, ১৩ মাস আগে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গাভীটিকে গর্ভবতী করা হয়। সেদিন প্রসব বেদনার খবর পেয়ে অনেক চেষ্টা করেও স্বাভাবিকভাবে প্রসব সম্ভব হয়নি। তখন ডাক্তার সিজারের সিদ্ধান্ত নেন।

ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান ফরিদ বলেন, “তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর সফলভাবে সিজার করা হয়। গাভীর বয়স কম ও বাচ্চার আকার বড় হওয়ায় স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব ছিল না।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, তদন্তে পুলিশ

বরিশালের গৌরনদীতে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত সাগর মোল্লা (২২) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেলে তার মৃত্যু হয়।

নিহত সাগর গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের সিরাজ মোল্লার ছেলে।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সালতা গ্রামের আসিফ খানের বাড়িতে প্রবেশ করেন সাগর মোল্লা। বাড়ির লোকজন চিৎকার করলে এলাকাবাসী এসে তাকে ধরে ফেলে এবং গণপিটুনি দেয়। গুরুতর অবস্থায় সাগরকে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে দুইদিন পর তার মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা সিরাজ মোল্লা অভিযোগ করেন, “আমার ছেলে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ২০-২৫ জন মিলে পিটিয়ে হত্যা করেছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অন্যদিকে সালতা গ্রামের আসিফ খান বলেন, “রাত ১টায় বাড়িতে চোর প্রবেশ করলে আমরা চিৎকার করি। এলাকাবাসী এসে একজনকে আটক করে মারধর করে। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের নদীতে অভিযান, পুড়িয়ে ফেলা হলো হাজারো মিটার অবৈধ জাল

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার বিভিন্ন নদীতে যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ ও তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) দিনব্যাপী ও রাতে এসব অভিযান পরিচালিত হয়। পরে জব্দকৃত জাল ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম।

অভিযানে কী পাওয়া যায়?
বিকেলে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীতে কোস্টগার্ডের হিজলা কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. হুসনুর জামান সালামী ও সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে একটি পাই জাল জব্দ করে রাতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়।

একইদিন দুপুরে মেহেন্দীগঞ্জের লতা নদী ও হিজলার মেঘনা নদীতে যৌথ অভিযান চালায় মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ। অভিযানে ১২০টি চর ঘেরা জাল, ১৬শটি চর ঘেরা জালের খুঁটি, প্রায় ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও একটি কোনা জাল জব্দ করা হয়। সবগুলো অবৈধ সরঞ্জাম বিকেলে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম বলেন, “নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরা পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য ভয়াবহ হুমকি। নিয়মিত এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভুলভাবে সালাম দেওয়া বিপজ্জনক! জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

ইসলামে সালাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে দুঃখজনকভাবে, অনেকেই এই সালামকে ভুল উচ্চারণের মাধ্যমে অর্থ বিকৃত করে ফেলছেন, যা কখনো কখনো শান্তির পরিবর্তে অভিশাপ বা গজবের অর্থ বহন করে।

নিম্নে কিছু সাধারণ ভুল এবং তা থেকে পরিণতি তুলে ধরা হলো:

ভুল সালাম এবং তার অর্থ:

১. স্লামালাইকুম – অর্থ: উটের নাড়িভুঁড়ি আপনার জন্য!
২. আসসালামালাইকুম – অর্থ: আপনার মৃত্যু হোক!
৩. স্লামালিকুম – অর্থ: আপনার উপর গজব বর্ষিত হোক!
৪. সেলামালাইকুম / আসলা মালিকুম – এসবেও ভুল ও বিকৃত অর্থ বহন করে।

এসব ভুল উচ্চারণ কখনোই সালামের প্রকৃত তাৎপর্য বহন করে না। বরং এগুলো শান্তির বদলে গজব, অভিশাপ এবং অশান্তি কামনার ইঙ্গিত দেয় – যা এক মুসলমানের মুখে থাকা উচিত নয়।

ভুল উত্তরও বিপজ্জনক:

বিভিন্ন সময় সালামের জবাব দিতে গিয়ে এমন কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়, যা অর্থের দিক থেকে ভয়াবহ:

  • অলাইকুম সালাম
  • অলাইকুম আস-সালাম
  • আলিকুম সালাম

এসবও সালামের শুদ্ধ জবাব নয় এবং এর মাধ্যমে নেকি পাওয়ার পরিবর্তে।

মো: তুহিন হোসেন, বরিশাল অফিস।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মুহসিনকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ইংরেজি বিভাগের সম্মানিত অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অধ্যাপক মুহসিনকে তাঁর স্বপদে পুনর্বহালের দাবি জানান।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক মুহসিন একজন আদর্শবান শিক্ষক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র পূর্ণ অধ্যাপক। তিনি সবসময় ন্যায়ের পক্ষে কথা বলেছেন এবং বিশেষ করে ‘জুলাই আন্দোলন’-এর সময় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে চিহ্নিত করে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে বাদ দেওয়া সম্পূর্ণ অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে তারা মন্তব্য করেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিভাগের শিক্ষার্থী নাফিজ আল জাহাঙ্গীর বলেন, “ড. মুহসিন উদ্দীন ছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সাহসী কণ্ঠস্বর। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন ও ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত।”

নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিক আবদুল্লাহ বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের অবমূল্যায়ন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যদি অবিলম্বে তাঁকে পুনর্বহাল করা না হয়, আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইয়াসিন কাজী, রায়হান, রাকিনসহ আরও অনেকে। তাঁরা সবাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থান জানান।

জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের এক সভায় অধ্যাপক মুহসিন উদ্দীনকে “পতিত সরকারের সমর্থক ও দোসর” হিসেবে উল্লেখ করে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, “উপাচার্যের নির্দেশে অধ্যাপক মুহসিনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।” তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল সিটি ভোটে জালিয়াতির অভিযোগ, ট্রাইব্যুনালে মেয়র প্রার্থী ফয়জুল করিমের মামলা

২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও মেয়র পদপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়খে চরমোনাই) বরিশাল নির্বাচন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল ২০২৫) দুপুরে বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে সরাসরি উপস্থিত হয়ে তিনি মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতসহ মোট ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

মামলায় ফয়জুল করিম দাবি করেন, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি ‘হাতপাখা’ প্রতীক নিয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। কিন্তু নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভয়ভীতি, হামলা, প্রভাব বিস্তার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ফলাফল বিকৃত করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেরা খাতুন বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরিদর্শনে গেলে তার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন। বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে লিখিতভাবে জানালেও কোনো আইনগত সহায়তা পাননি।

এছাড়াও মামলায় উল্লেখ করা হয়, জাগুয়া কলেজ কেন্দ্র থেকে হাতপাখা প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয় এবং ওই ঘটনায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। এমনকি ভোটারদের ভয় দেখাতে বাইরের জেলা থেকে অস্ত্রধারী বহিরাগতদেরও আনা হয়।

ফয়জুল করিম মামলায় দাবি করেন, প্রকৃত ফলাফলে তিনি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে তাকে ৩৩,৮২৮ ভোটে পরাজিত দেখানো হয় এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে ৮৭,৮০৮ ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

তিনি বলেন, “ভোট কারচুপি, সহিংসতা ও প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে এই নির্বাচন মৌলিকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে আমার বিজয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হবে।”

সিটি কর্পোরেশন আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০ অনুযায়ী, ফয়জুল করিম ১ নম্বর প্রতিপক্ষের প্রার্থিতা বাতিল করে তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বৈধ মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির বলেন, “আমরা আদালতকে জানিয়েছি, একটি স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অধীনে প্রকৃত বিজয়ীকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়েছে। তৎকালীন নির্বাচন কমিশনারের মন্তব্য ও প্রশাসনিক নির্লিপ্ততায় ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি। এখন আদালতের মাধ্যমে সেই প্রতিকার চাওয়া হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রশাসনের মাধ্যমে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু নগরবাসী কোনো কার্যকর নাগরিক সেবা পাচ্ছে না। তাই জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বিজয়ী ঘোষণা করে নির্বাচন ফল বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।