পায়রা বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র, উন্নয়ন বৈষম্যে বঞ্চিত বরিশালবাসী

 

জাতীয় একনেকে অনুমোদিত ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে বরিশালের জন্য কোনো প্রকল্প না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পায়রা সমুদ্র বন্দর নিয়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

গত ২০ এপ্রিল একনেক বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পায়রা বন্দরকে “খাল বন্দর” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে একনেকে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ থাকলেও, বরিশাল বিভাগ পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এতে বরিশালবাসীর মনে সরকারের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়ছে।

পায়রা বন্দরের জন্য জমি হারানো ব্যবসায়ী রেহান উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের ভিটেমাটি হারিয়েছি। এখন যদি বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র চলে, তাহলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে।”

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, “যদি এই বন্দর খাল হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কিভাবে মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়ে? উপদেষ্টার উচিত এখানে এসে বাস্তবতা দেখা।” তিনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিবাদের ঘোষণা দেন।

উন্নয়ন চাহিদা:
বরিশালবাসী চায়—

  • ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা,
  • পায়রা বন্দরকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা,
  • ভোলার গ্যাস পাইপলাইন বরিশালে সরবরাহ নিশ্চিত করা,
  • বরিশাল বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ,
  • এবং চীনের প্রস্তাবিত তিন হাসপাতালের একটি বরিশালে স্থাপন।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জি এম আতায়ের রাব্বি বলেন, “উন্নয়নের বৈষম্য নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছি। বরিশালের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখনই সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

পায়রা বন্দরের অগ্রগতি:
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা পায়রা সমুদ্র বন্দরে ২০১৬ সালে প্রথম বিদেশি জাহাজ পণ্য খালাস করে। ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি মাদার ভেসেল এখানে পণ্য পরিবহন করেছে। প্রথম টার্মিনালের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং ৬ লেন সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পায়রা বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, “শুরু থেকেই এই বন্দর নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বরিশালের জনগণ তা সফল হতে দেবে না।”


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ববি শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি, দুই দিনের আল্টিমেটাম

চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’ নামক শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বৈরাচারী আচরণ, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদেই এ কর্মসূচি। তারা প্রশাসনকে আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আহ্বান জানায়, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।

চলমান দাবিসমূহ:
১. ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তাকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পুনর্বহাল করা।
২. আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট পদধারী রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে অপসারণ।
৩. ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সমর্থক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপসারণ।
৪. প্রশাসনিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের জন্য উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র রাকিন খান বলেন, “আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়েছিলাম যেখানে থাকবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে স্বৈরাচারের অভয়ারণ্য।”

তিনি আরও বলেন, “দাবিগুলো যৌক্তিক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে যা গোটা প্রশাসনকে নড়বড়ে করে দেবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যর্থতার উপাখ্যান ও শিক্ষার্থীদের হাহাকার’ শীর্ষক একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসহ ২০ দফা তুলে ধরা হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১ কোটির ঘরে ১০৯ নাটক, হিমির অভাবনীয় সাফল্য

ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি এককভাবে গড়েছেন এক অনন্য রেকর্ড। তার অভিনীত প্রতিটি নাটকই কেবল দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছে তা-ই নয়, ছুঁয়েছে কোটি দর্শকের মন। অভিনয়ের জগতে পথচলার শুরু থেকে আজ অবধি তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন ১০৯টিরও বেশি নাটক। আর বিস্ময়কর হলেও সত্যি—এই ১০৯টি নাটকের প্রতিটিই ইউটিউবে পেয়েছে এক কোটিরও বেশি ভিউ।

বাংলাদেশের নাট্য ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে এই অর্জন সম্ভবত প্রথম কোনো অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে। এমন এক ঐতিহাসিক সফলতায় সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশংসায় ভাসছেন হিমি। শুভকামনায় মুখর তার সহকর্মীরাও।

অভিনেতা নিলয় আলমগীর ফেসবুকে একটি ছবির মাধ্যমে অভিনন্দন জানিয়েছেন হিমিকে। ছবিতে লেখা—“অভিনন্দন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। নাটক ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে প্রথম অভিনেত্রী হিসেবে হিমি অভিনীত ১০৯টি নাটকের প্রতিটি ১ কোটি ভিউ পেয়েছে।”

শুধু সহকর্মীরাই নন, হিমির এই সাফল্যে তার অসংখ্য ভক্তরাও শুভেচ্ছা বার্তায় ভরিয়ে দিচ্ছেন কমেন্ট বক্স। একজন লিখেছেন, “আপনাদের দুইজনকে অভিনন্দন।” আরেকজন বলেছেন, “আপনার কাছ থেকে আরও ভালো নাটকের প্রত্যাশা করি।”

২০১৪ সালে ‘রঙ-আরটিভি টুয়েন্টি টুয়েন্টি কালারস মডেল সার্চ’-এ বিজয়ী হয়ে মিডিয়াতে পা রাখেন জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি। এরপর থেকে একে একে দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন তিনি। ছোটপর্দায় অভিনেতা নিলয় আলমগীরের সঙ্গে তার জুটিও দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অল্প সময়েই তার অভিনয় দক্ষতা, পরিশ্রম ও একাগ্রতায় নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন হিমি।

এই অসাধারণ সাফল্য শুধুই তার একার কৃতিত্ব নয়, বরং এটি পুরো নাট্য জগতের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মেয়র মামলার রায় পেছালো,থমথমে নগরী

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচন নিয়ে দায়ের করা মামলার রায় আজ (২৪ এপ্রিল) ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। ফলে সকালে থেকেই বরিশাল নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

মামলাটি করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম। তিনি নির্বাচন বাতিল করে নিজেকে মেয়র ঘোষণার দাবি জানান।

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সদর রোড ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অবস্থান নেন শতাধিক ইসলামি আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা আদালতের মূল ফটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

মামলার আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির জানান, “আদালত আজ কোনো আদেশ না দিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ঠিক করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই রায় দেবেন।”

এদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসও পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে নিজেকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর মামলায়ও নৌকা, হাতপাখা এবং অন্যান্য প্রার্থীদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত মামলাটিও পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিতার ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব

নিজের বাবার নামে সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যুর ঘটনায় ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।

পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, “প্রথমেই আমার বাবার ভুলের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একজন সাংবাদিক আমার বাবার নামে ইস্যুকৃত লাইসেন্স বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বিষয়টি যাচাই করি এবং নিশ্চিত হই, আমার বাবা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে একটি লাইসেন্স নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক, আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় এক ঠিকাদার তার পরিচয় ব্যবহার করে কাজ সহজ করতে চাওয়ায় বাবাকে লাইসেন্স করার পরামর্শ দেন। আমার বাবা হয়তো বিষয়টির গভীরতা বোঝেননি।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “যেহেতু আমি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে রয়েছি, তাই বাবার এই উদ্যোগ সরাসরি স্বার্থসংঘাত তৈরি করতে পারে। বিষয়টি তাকে বোঝানোর পর, আজই (২৪ এপ্রিল) তার আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বুধবার (২৩ এপ্রিল) এক পোস্টে দাবি করেন, উপদেষ্টার পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সরাসরি উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি যাচাই করে স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেকেই উপদেষ্টার জবাবদিহিতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়েট ভিসির অপসারণ দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ

কুয়েটের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বরিশালে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছে ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেওয়ার সময় উভয় পাশে অল্প পরিমাণ যান চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

বক্তব্য:
বিক্ষোভস্থলে বরিশাল মহানগরের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন,
“আমাদের ভাইয়েরা কুয়েটে অনশনে রয়েছেন। সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়েছে। মানুষের সমস্যার জন্য আমরা দুঃখিত, তবে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

প্রেক্ষাপট:
১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছাত্রদল ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আহত করে।

১৩ এপ্রিল কুয়েট সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার মধ্যে অন্তত ৭ জন একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মী বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ না করায় এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে ও উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন




বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণার দাবিতে জাপা প্রার্থীর মামলা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিজেকে বৈধ মেয়র ঘোষণার দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ ও বিসিসি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিচারক হাসিবুল হাসান মামলাটি আদেশের জন্য গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের বিসিসি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রার্থী তাপস, যে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাপসের দাবি, ভোট গ্রহণের দিন বহিরাগতদের এনে হোটেলে রাখা হয়, তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়, এবং তিনি নিজেও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।

তাপস অভিযোগ করেন, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর কিছু সদস্য ক্ষমতাসীন প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে কাজ করেন। ইভিএমে কারচুপি করে তার ভোট কমিয়ে দেখানো হয় এবং উপস্থিত ভোটারের তুলনায় ফলাফলে অতিরিক্ত ভোটগ্রহণ দেখানো হয়।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে তাঁকে (ইকবাল হোসেন তাপস) বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে মামলায়।

উল্লেখ্য, এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমও একই দাবিতে আদালতে মামলা করেছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এক যুবককে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে পিরোজপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—ভান্ডারিয়া উপজেলার গোলবুনিয়া গ্রামের মজিদ হাওলাদারের ছেলে হাচান হাওলাদার (৩৫) এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে প্রিন্স মোল্লা (৪২)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ মার্চ আসামিরা ভান্ডারিয়ার সাফা বন্দর এলাকা থেকে এমদাদুল ফরাজীর মোটরসাইকেলে ভাড়া নিয়ে চরখালী এলাকায় যান। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যান ভান্ডারিয়া-মঠবাড়িয়া সড়কের দারুল হুদা মাদ্রাসা এলাকায়। পরে সেখানে এমদাদুল ফরাজীকে হত্যা করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পরদিন ৪ মার্চ নিহতের বাবা খান জাহান আলী বাদী হয়ে ভান্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। একই বছরের ২৫ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলাউদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ওয়াহিদ হাসান বাবু জানান, মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণে সফল হয়। তবে রায় ঘোষণার সময় দুই আসামিই পলাতক ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ফয়জুল করিমকে মেয়র ঘোষণার দাবিতে ছাত্র-যুবদের পদযাত্রা

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবিতে ছাত্র ও যুব জনতা পদযাত্রা করেছে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) সকালে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের ছাত্র ও যুব সমাজের’ ব্যানারে এই সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম প্রকৃত বিজয়ী হলেও তাকে পরাজিত দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ এবং প্রশাসনের ‘সহযোগিতায়’ নির্বাচন প্রভাবিত করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছে। ভোটগ্রহণের দিন নানা অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

জনতার পক্ষ থেকে দাবি ওঠে—বরিশালের জনগণ প্রকৃত বিজয়ীকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। সেই দাবি থেকেই মুফতি ফয়জুল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয় সরকারের প্রতি।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ এপ্রিল বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও সিটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন মুফতি ফয়জুল করিম। সেখানে তিনি নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার আবেদন জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন যুব নেতা রেজাউল করিম, ছাত্রনেতা গাজী রেদোয়ান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এম হাসিবুল ইসলাম, বিএম কলেজের জিয়াউর রহমান নাঈম, হাতেম আলী কলেজের হাসিবুল ইসলাম শান্ত, গ্লোবাল ভিলেজ ইউনিভার্সিটির ইব্রাহীম মল্লিক, ইসলামিয়া কলেজের মুহাম্মদ রিয়াজ মীর ও বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের জহিরুল ইসলাম জিহাদ প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় পাওনা টাকার জেরে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের চর আনন্দ স্লুইজ গেট বাজার এলাকায় পাওনা টাকার জেরে মো. শাজাহান চৌকিদার (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শাজাহান চর আনন্দ এলাকার একজন ছোট ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্ত্রী মিলন বেগম জানান, শাজাহানের কাছ থেকে সিরাজ মাঝি নামে এক ব্যক্তি জমি বন্ধক রেখে চার লাখ টাকা নেন। এর মধ্যে এক লাখ টাকা শোধ করা হলেও বাকি তিন লাখ টাকা ঈদের পর পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই সিরাজ স্লুইজ গেট বাজারে শাজাহানের দোকানে তালা লাগিয়ে দেন।

এ খবরে শাজাহান দোকানে গেলে সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। এতে শাজাহান গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রিপন চন্দ্র সরকার জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দোকানে তালা লাগানো নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে এই ঘটনা ঘটে। শাজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছার আগেই তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিরাজ মাঝি পলাতক রয়েছেন।

শাজাহানের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম, এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম