পরিবারতন্ত্র আর আত্মীয়তাই বরগুনা বিএনপির পতনের কারণ?

বরগুনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকারের পতনের পরও দলটি সেখানে তেমন কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বরং বরগুনার রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের একতরফা দাপটই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ দলীয় নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তাপূর্ণ সম্পর্ক। বরগুনায় বিএনপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের হাতে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব পদেই নিয়োজিত রয়েছেন মোল্লা পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিএনপির জেলা অফিসের একাংশ বলছে, এই পরিবারতন্ত্রের ফলে দলের মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং পদ বিক্রির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা কমিটি। সেই সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তাজনিত দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে পরিবারের অনেক সদস্যই সরাসরি আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষান্তর ঘটেছে নিঃশব্দে, কার্যত আওয়ামী লীগেরই ছায়ায় সক্রিয় রয়েছেন অনেকে।

২০২৫ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বরগুনায় যে মিছিল-সমাবেশ হয়, তা আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা এবং বিএনপির নীরবতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির পরে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পান। ফেসবুক লাইভে ঈদ উপহার বিতরণ, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়া, গান প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রাখলেও বিএনপি বরাবরই ছিল নিষ্ক্রিয়। এমনকি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে—বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দুর্বল তদন্ত ও প্রমাণের অভাবে বারবার জামিনযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। বরগুনা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন একপক্ষের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মোল্লা পরিবারের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় বিএনপি মানেই মোল্লা পরিবার। আমরা দলের শেল্টার দিই, আত্মীয়ের রাজনৈতিক মতামতের দায় আমরা নিই না।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়তার জাল থেকে বের হতে না পারলে বরগুনা বিএনপি কখনোই পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাছের ঘাটের ইজারা দ্বিগুণ, দুশ্চিন্তায় বরিশালের বাজার

বরিশালের শহীদ জিয়া পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের ইজারার মূল্য হঠাৎ দ্বিগুণ করায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

রবিবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির সিকদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালে ঘাটটির ইজারার সর্বনিম্ন দর ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ দর ছিল ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫ সালের জন্য নতুন করে সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তারা মনে করছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ঘাটে মাছের আনয়ন কমে যাবে, যার প্রভাব পড়বে বরিশালের বাজারে। এতে মাছের সরবরাহ সংকট এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ইজারা নীতিমালায় থাকা সরকারি রেট অনুযায়ী টনপ্রতি আদায় হওয়ার কথা ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ মণপ্রতি প্রায় দেড় টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মণপ্রতি ১০০ টাকা—যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইজারা মূল্যের এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুধু ইজারাদারের মুনাফা নিশ্চিত করে না, বরং মাছের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বরিশালের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ হয়। তাই ইজারার বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে নেবেন সাধারণ ভোক্তার কাছ থেকে, ফলে বাড়বে মাছের দাম।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তারা বিকল্প ঘাট ব্যবহারের দিকে যেতে বাধ্য হবেন, যা শহীদ জিয়া মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ইজারার মূল্য নির্ধারণ হয় বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইজারাদারদের প্রতিযোগিতার কারণেও মূল্য বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, কেবল মূল্য বৃদ্ধিই নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতার অভাব ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন। তাই তারা চায়, ঘাট ইজারায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং সরকারি রেট সিস্টেম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হোক।

এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী কবির কাজী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইসলামী ব্যাংকের ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বরিশাল জোনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বরিশাল জোনাল অফিসের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু নোমান মো. সিদ্দিকুর রহমান।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জোনপ্রধান মো. সারোয়ার হোসাইন। এতে জোনের আওতাধীন সব শাখা ও উপশাখার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, সেবা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




গরমে রাস্তার পাশের শরবতে সর্বনাশ!

গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়, যা শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণে পানি ও শরবত পান করা খুবই জরুরি। তবে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে পাওয়া শরবত অনেকেই খেয়ে থাকেন, কিন্তু এই শরবত আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

রাস্তার পাশে শরবত: বিপদ কি না?

গরমের সময় রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় লেবু, বেল, কাঁচা আমের শরবতসহ নানা রকম শরবত। সস্তা হওয়ায় এগুলো তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা এসব শরবতকে বিপদজনক বলে দাবি করেছেন। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এসব শরবত তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার না করা, বরফের অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার এবং অপরিষ্কার উপকরণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ফল এবং চিনি ব্যবহার করে যদি শরবত তৈরি করা হয়, তবে তা উপকারী। কিন্তু ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবতগুলিতে এই স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাব থাকে। ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর বরফ

অনেক জায়গায় দেখা যায়, শরবত তৈরির জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয়, তা মাছের বাজার থেকে আনা হয়। মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বরিশালের সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর শরবত ও খাবার খেয়ে মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, বমি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি সকলকে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গরমে শরীরে পানি ঘাটতি পূরণের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি পান করার কথা বলেছেন।

রিক্সাচালক ও পথচারীরা জানান, তারা তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের শরবত পান করে থাকেন। তবে তারা কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না, শরবতের পানি ও বরফ কতটা নিরাপদ। এক রিক্সাচালক বলেন, “তৃষ্ণা পেলে শরবত খাই, ভালো-মন্দ চিন্তা করার সময় নেই।”

গরমের সময়ে শরবত পান করতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, তবে আমাদের সকলেরই উচিত এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত থেকে দূরে থাকা। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা, ব্যস্ত জেলেরা 

ভোলার জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন, কারণ খুব শীঘ্রই শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার জন্য দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চললে তারা আবার নদীতে নামবেন এবং জাল-নৌকা মেরামত করছেন গত কয়েকদিন ধরে। এই সময়ের মধ্যে অনেক কষ্টে জীবন কাটানোর পর, তারা আশা করছেন ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হলে ঋণ শোধ করার সুযোগ পাবেন।

মার্চ এবং এপ্রিল মাসে, সরকার জাটকা সংরক্ষণ লক্ষ্যে ভোলার নদীর ১৯০ কিলোমিটার জলসীমায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল। নিষেধাজ্ঞার সময়কালে প্রায় ৩ লাখ জেলে, যার মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন নিবন্ধিত জেলে, বেকার হয়ে পড়ে। এই সময় সরকার ৮৯ হাজার ৬০০ হতদরিদ্র জেলের জন্য চাল বরাদ্দ করেছিল, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে বেশিরভাগ জেলে সেই চাল পাননি।

ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের চরফ্যাশনের সামরাজ এলাকায় জেলেরা একত্রিত হয়ে জাল মেরামত ও নৌকা সংস্কার করছেন। পুরোনো নৌকা পুনরায় সংস্কার এবং নতুন নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকার নতুন আলকাতরা মাখানোর সময় এক ঝাঁজালো গন্ধ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে, অনেক জেলে পুরোনো জাল তুনছেন, আর অন্যদিকে নতুন সুতায় শক্তপোক্ত করার কাজ চলছে।

জেলেরা জানাচ্ছেন, ১ মে থেকে তারা ইলিশ ধরতে নদীতে নামবেন এবং নিজেদের নতুন জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলে ভালো মাছ ধরতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ঋণ শোধ করতে পারবেন। অনেক জেলে জানিয়েছেন, গত দুই মাস বেকার থাকার কারণে তারা ঋণের বোঝা বাড়িয়ে ফেলেছেন।

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বরাদ্দ করা চালের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রভাবশালী নেতারা তা আত্মসাৎ করেছেন এবং স্থানীয় কিছু কর্মীকে প্রদান করেছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার দেব এসব অভিযোগের বিষয়ে জানান, “যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোলার জেলেরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের চাল বরাদ্দ আশা করছিলেন, কিন্তু তাতে অনিয়মের কারণে তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য আড়তদার শাহাবউদ্দিন ফরাজি বলেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি হওয়া উচিত ছিল।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




শীর্ষ ২ কার্ডিনালের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভ্যাটিকানের শীর্ষ দুই কার্ডিনাল, সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং জ্যাকব কুভাকাদ। পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন, কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাদ, পৃথকভাবে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা পোপ ফ্রান্সিসের জীবনব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন, যুদ্ধবিহীন ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের প্রচার এবং দরিদ্রবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের জন্য ড. ইউনূসের অবদানকে গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।

পোপের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ

ড. ইউনূস তার দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ, যার সঙ্গে আমি বহুবার সাক্ষাৎ করেছি। একবার ভ্যাটিকান ব্যাংকের সংস্কার নিয়ে একটি কঠোর চিঠি লিখেছিলাম, যা ভ্যাটিকানের অফিসিয়াল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।” তিনি আরও জানান, পোপ তাকে ভ্যাটিকান ব্যাংক সংস্কার এবং চার্চের দরিদ্রবান্ধব উদ্যোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন, যার ফলস্বরূপ গত নভেম্বর মাসে রোমে ‘পোপ ফ্রান্সিস-ইউনূস থ্রি জিরো ক্লাব’ চালু হয়।

ভিয়েতনামের উন্নয়ন মডেল ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর করে ভিয়েতনামের দ্রুত উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময়, ড. ইউনূস ভিয়েতনামের উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করার পরিকল্পনার কথা জানান।

এছাড়া, কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাদ, ভ্যাটিকানের ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়ালগের প্রধান, আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে একটি আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ড. ইউনূস এ বিষয়ে বলেন, “বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সংলাপ আমাদের ঐতিহ্য, এবং সরকার এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ, ভ্যাটিকানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুল ইসলাম, এবং ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান ও বোনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার কবলে

বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান মল্লিক ও তার ছোট বোন সুরাইয়ার জীবন এখন সীমাহীন অনটনে বিপর্যস্ত। শৈশব থেকেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও তারা কখনোই পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। সুলাইমান, যিনি ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিল, বর্তমানে জিপিএ-৫ সহ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর স্বপ্ন, মেরিন টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজে কাজ করে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করা। তবে এখন তাঁর সামনে এক কঠিন বাস্তবতা—অর্থনৈতিক অভাব।

সুলাইমানের শিক্ষা জীবন

সulaiমানের মা হাসিনা বেগম ও নানা মোমিন আলী, তাদের দুটি সন্তানকে নিজের সীমিত আয়ের মধ্যে বড় করেছেন। সুলাইমানের বাবা এক অজ্ঞাত কারণে পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, যা তাদের জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। সেসব অভাব-অনটনের মধ্যেও মেধাবী সুলাইমান কখনো পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েননি। তার ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি বর্তমানে শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজে পড়াশোনা করছেন, তারও একই রকম পরিস্থিতি।

বৈরি পরিস্থিতির পরেও দুই সন্তানই দারুণ কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলাইমানের একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার খরচে সাহায্য পাওয়া গেলেও, তার সেমিস্টার ফি এবং আবাসিক হোস্টেলে থাকার খরচ পরিশোধ করার মতো কোনও ব্যবস্থা এখনও করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় সুলাইমানের জন্য আগামী দিনের পথ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কলেজে যান, একাধিক শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।

মা হাসিনা বেগমের সংগ্রাম

মা হাসিনা বেগম, যিনি শুরু থেকেই সন্তানদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন, এখনো একে একে তাদের পড়াশোনার খরচ যোগানোর জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ্য সীমিত হওয়ায়, সংসারের খরচ আর দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের স্বপ্ন যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হাসিনা এবং নানা মোমিন আলী তাদের সন্তানদের একটি ভালো জীবন দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে অভাবের কারণে তাদের স্বপ্ন প্রায়ই ভেঙে পড়ছে।

সহায়তার প্রয়োজন

এই মেধাবী ভাই-বোনদের জন্য এখন সহায়তার প্রয়োজন। যদি তারা অর্থনৈতিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা তাদের পড়াশোনায় আরও ভালো করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে সক্ষম হবে। সুলাইমানের শিক্ষার দিকে সমাজের মানুষের সহানুভূতির হাত বাড়ানো গেলে, তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।

বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর কুশুরিয়া এলাকায় রবিবার দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে ইয়ানুর বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে আরও একটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হিজলা থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইয়ানুর বেগম উপজেলার মান্দ্রার চর কুশুরিয়া গ্রামের হাবিব মাঝির স্ত্রী। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতে ইয়ানুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, একই দিন দুপুরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন জেলে জাকির হোসেন (২৪)। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে, অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। জাকির হোসেন বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার খলিল হাওলাদারের ছেলে।




বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফলে তারা সরকার নির্ধারিত বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারার বিধান মতে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জন স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এবং ইউপি সচিব রুহুল আমিন সরকারি বরাদ্দ এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোন ধরণের যোগাযোগ না করে এসব টাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যদের বেতন প্রায় ২৪ লাখ টাকা আটকে রয়েছে এবং চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে অন্যান্য প্রকল্পের টাকা, যেমন টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকার অনেকাংশই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যদের লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন:
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম হাওলাদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহাদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইসমাইল হোসেন হীরা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এফএম বাবুল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন খলিফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. গিয়াস খান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মীর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানা বেগম এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম।

অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এই অভিযোগগুলো মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, অধিকাংশ ইউপি সদস্যরা ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউপি সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়েছে, যার প্রকৃত তদন্তে সত্যতা প্রকাশ পাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /